খুঁজুন
                               
, ,
           

আইসিসির স্বীকৃতি পেল নেপাল প্রিমিয়ার লিগ

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৩ অপরাহ্ণ
আইসিসির স্বীকৃতি পেল নেপাল প্রিমিয়ার লিগ

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার পথে গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি পেয়েছে নেপাল প্রিমিয়ার লিগ (এনপিএল)। টুর্নামেন্টটিকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। এর ফলে এই লিগের ম্যাচগুলো স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হিসেবে গণ্য হবে। নেপালের ক্রিকেটের উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশটির অবস্থান শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এই স্বীকৃতিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্যও রয়েছে আগ্রহের বিষয়। এবারের নেপাল প্রিমিয়ার লিগে বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। ফলে আইসিসির স্বীকৃতি পাওয়া এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সের দিকেও নজর থাকবে সমর্থকদের।

১৬ অক্টোবর অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব নেপাল

গত ১৬ অক্টোবর নেপাল প্রিমিয়ার লিগকে আইসিসির অনুমোদন দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব নেপাল (সিএএন)। সংস্থাটির সচিব পারস খাড়কা স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

নেপালের ক্রিকেট বোর্ড মনে করছে, এই স্বীকৃতি দেশটির ক্রিকেটের বিকাশ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এর বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আইসিসির অনুমোদন পাওয়ায় লিগটির গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের কাছে প্রতিযোগিতাটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।

একটি ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগের জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে প্রতিযোগিতাটির ম্যাচগুলো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়। একই সঙ্গে বিদেশি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিতি বৃদ্ধি এবং প্রতিযোগিতার মান উন্নয়নের সুযোগও তৈরি হতে পারে।

২৬ অক্টোবর শুরু হচ্ছে এবারের আসর

আগামী ২৬ অক্টোবর শুরু হবে নেপাল প্রিমিয়ার লিগের এবারের আসর। প্রতিযোগিতা চলবে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত। উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন লুম্বিনি লায়ন্স ও সুদূরপশ্চিম রয়্যালস।

টুর্নামেন্টের সব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে নেপালের কীর্তিপুরে অবস্থিত ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট গ্রাউন্ডে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, লিগ পর্বের খেলা শেষে ১৭ নভেম্বর থেকে শুরু হবে প্লে-অফ পর্ব। এরপর ২১ নভেম্বর ফাইনালের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের প্রতিযোগিতা।

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন লুম্বিনি লায়ন্সের সামনে শিরোপা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ থাকবে। অন্যদিকে, বাকি দলগুলোও প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটের মধ্য দিয়ে শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামবে। আইসিসির স্বীকৃতির পর এবারের আসর নেপালের ক্রিকেটের জন্য বাড়তি গুরুত্ব বহন করছে।

বিদেশি তারকাদের অংশগ্রহণে বাড়বে প্রতিযোগিতার আকর্ষণ

এবারের নেপাল প্রিমিয়ার লিগে বিদেশি বেশ কয়েকজন তারকা ক্রিকেটারের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের উপস্থিতি টুর্নামেন্টের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও দর্শক আকর্ষণ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।

টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে বিদেশি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ স্থানীয় খেলোয়াড়দের জন্যও অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করে। বিভিন্ন দেশের ক্রিকেটারদের সঙ্গে একই দলে বা প্রতিপক্ষ হিসেবে খেলার মাধ্যমে স্থানীয় ক্রিকেটাররা নিজেদের দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ পান।

আইসিসির অনুমোদন পাওয়ার ফলে ভবিষ্যতে নেপাল প্রিমিয়ার লিগে আরও বেশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারের আগ্রহ তৈরি হতে পারে বলে আশা করছে দেশটির ক্রিকেটসংশ্লিষ্ট মহল। তবে এই স্বীকৃতি লিগটির দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করবে আয়োজনের মান, প্রতিযোগিতার ধারাবাহিকতা এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণের ওপর।

নেপালে আইসিসি এশিয়া কনফারেন্স, গ্যালারিতে থাকবেন প্রতিনিধিরা

আগামী ১৯ থেকে ২১ নভেম্বর নেপালে অনুষ্ঠিত হবে আইসিসি এশিয়া কনফারেন্স। ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব নেপাল জানিয়েছে, সম্মেলনে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা নেপাল প্রিমিয়ার লিগের এলিমিনেটর ও ফাইনাল ম্যাচ উপভোগ করবেন।

একই সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিদের নেপালে উপস্থিতি দেশটির ক্রিকেট আয়োজনের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এতে নেপালের ক্রিকেট অবকাঠামো, টুর্নামেন্ট আয়োজনের সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।

এশিয়া কনফারেন্স ও নেপাল প্রিমিয়ার লিগের প্লে-অফ পর্বের সময়সূচি কাছাকাছি হওয়ায় আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরা সরাসরি টুর্নামেন্টের পরিবেশ দেখার সুযোগ পাবেন। নেপালের ক্রিকেট বোর্ডের জন্য এটি নিজেদের ক্রিকেট আয়োজনকে আন্তর্জাতিক মহলের সামনে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।

সব মিলিয়ে আইসিসির অনুমোদন নেপাল প্রিমিয়ার লিগের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। আগামী ২৬ অক্টোবর শুরু হতে যাওয়া এই প্রতিযোগিতায় মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেপালের ক্রিকেট কতটা এগিয়ে যেতে পারে, সেটিও নজরে থাকবে ক্রিকেটপ্রেমীদের।

কালের আলো/এএন/এসএ

বাংলাদেশের পর্যটন খাতে ১২০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে চায় জাপান

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪১ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশের পর্যটন খাতে ১২০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে চায় জাপান

বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে প্রাথমিকভাবে ১ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ১২০ কোটি ডলার বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন জাপানি বিনিয়োগকারীরা। এ বিনিয়োগের প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে সরকার। পাশাপাশি সম্ভাব্য বিনিয়োগের ক্ষেত্র চিহ্নিত করতে জাপানি প্রতিনিধিদলকে দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র পরিদর্শনের ব্যবস্থা করবে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড।

রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে জাপানি বিনিয়োগকারী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ বিনিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

সভায় পর্যটনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পর্যটনের অপার সম্ভাবনাময় একটি দেশ। এ দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার মতো বৈচিত্র্যময় সম্পদ। সুন্দরবন, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত এবং সিলেটের চা-বাগানসহ দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দেশের পর্যটন খাতে বিদেশি বিনিয়োগকে স্বাগত জানায়। এ খাতের উন্নয়ন ও বিকাশে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কাজ করতে সরকার আগ্রহী।

জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়নে জাপান দীর্ঘদিন ধরে সহযোগিতা করে আসছে। বাংলাদেশের পর্যটন খাতের বিকাশেও জাপানি বিনিয়োগকারীদের সহযোগিতা ও অংশগ্রহণকে সরকার স্বাগত জানাবে। বিদেশি বিনিয়োগের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, সরকার এমন অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে চায়, যাতে উভয় পক্ষই লাভবান হয়। এ লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) মডেলে কাজ করতে আগ্রহী সরকার।

সভায় জাপানি বিনিয়োগকারী প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিষয়ে তাঁদের আন্তরিকতার কথা জানান। তাঁরা দেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার প্রস্তুতির কথা তুলে ধরেন। এ সময় প্রাথমিকভাবে ১ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়। বিনিয়োগকারীদের এ আগ্রহকে স্বাগত জানিয়ে পর্যটনমন্ত্রী বলেন, জাপানি বিনিয়োগকারীদের প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হলে সরকার দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এ ছাড়া জাপানি প্রতিনিধিদলের দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র পরিদর্শনের জন্য বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এর মাধ্যমে পর্যটন খাতে সম্ভাবনাময় বিনিয়োগের ক্ষেত্র চিহ্নিত করা এবং উন্নয়নের নতুন সুযোগ তৈরির পথ সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রস্তাবিত বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পর্যটনসেবার মান বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

চাকরির পরীক্ষায় পুড়ছে বেকারের সঞ্চয়

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৮ অপরাহ্ণ
চাকরির পরীক্ষায় পুড়ছে বেকারের সঞ্চয়

নিজস্ব আয় নেই, চাকরি পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই—তবু চাকরির লড়াইয়ে টিকে থাকতে বারবার টাকা খরচ করতে হচ্ছে লাখো তরুণকে। একেকটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন ফি, পরীক্ষায় অংশ নিতে দূরদূরান্ত থেকে ঢাকায় আসা, থাকা-খাওয়া—সব মিলিয়ে বেকার জীবনে বাড়তি আর্থিক বোঝা হয়ে উঠেছে চাকরির পরীক্ষা। প্রতিযোগিতা যত তীব্র হচ্ছে, ব্যয়ের চাপও তত বাড়ছে। ফলে মেধা ও যোগ্যতার লড়াইয়ে নামার আগেই অনেক প্রার্থীকে লড়তে হচ্ছে অর্থের সংকটের সঙ্গে।

লালমনিরহাটের নাহিদা হাসানের অভিজ্ঞতা সেই সংকটেরই প্রতিচ্ছবি। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পড়াশোনা শেষ করে এখন পরিবারের সঙ্গে থেকে চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। সরকারি চাকরির পরীক্ষায় অংশ নিতে প্রায়ই আসতে হয় ঢাকায়। সম্প্রতি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের একটি তৃতীয় শ্রেণির পদের পরীক্ষায় অংশ নিতে যাওয়া-আসা ও খাওয়া-দাওয়া মিলিয়ে তার খরচ হয়েছে সাড়ে তিন হাজার টাকা। সামনে আরও কয়েকটি পরীক্ষা। সেগুলো দিতে আবারও আলাদা সময়ে ঢাকায় আসতে হবে। অর্থাৎ চাকরি পাওয়ার আগেই শুধু পরীক্ষায় অংশ নিতে তাকে গুনতে হচ্ছে হাজার হাজার টাকা।

  • একাধিক নিয়োগে আবেদন ও বারবার ঢাকায় যাতায়াতে বাড়ছে ব্যয়
  • হিমশিম খাচ্ছেন আয়হীন তরুণেরা; নিয়োগব্যবস্থায় সংস্কারের প্রশ্ন
  • প্রার্থীবান্ধব নিয়োগব্যবস্থার দাবি

নাহিদার মতো দেশের বিভিন্ন জেলার অসংখ্য চাকরিপ্রার্থীকে একই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। যাদের নিয়মিত আয় নেই, তাদের জন্য প্রতিটি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া মানে নতুন করে অর্থের সংস্থান করা। একাধিক নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ আলাদা হওয়ায় বারবার যাতায়াতের খরচও বহন করতে হয়। আবেদন ফি ও প্রস্তুতির ব্যয়ের সঙ্গে এই বাড়তি চাপ দীর্ঘদিন বেকার থাকা তরুণদের অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২৪ সালের শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, দেশে বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ ২৪ হাজার। এর মধ্যে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী ২০ লাখ ৩২ হাজার। এই বিপুলসংখ্যক তরুণের কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তার মধ্যে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বাড়তি ব্যয় এখন গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়।

এক পদের বিপরীতে হাজারো প্রতিদ্বন্দ্বী
চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতার চিত্রও উদ্বেগজনক। সমাজসেবা অধিদপ্তরের ১ হাজার ৪৮৫টি পদের বিপরীতে আবেদন পড়েছে ২১ লাখ ২৩ হাজারের বেশি। অর্থাৎ প্রতি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রায় ১ হাজার ৪৩০ জন। ৫০তম বিসিএসের ২ হাজার ১৫০টি পদের বিপরীতে আবেদন করেছেন ২ লাখ ৯০ হাজার প্রার্থী। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের ২৪২টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন করেছিলেন প্রায় ৩ লাখ ১৯ হাজার জন।

এমন প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে একজন প্রার্থীকে একাধিক প্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে হয়, দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুতি নিতে হয়। অথচ চাকরি পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। আবেদন থেকে পরীক্ষা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে অর্থ ব্যয় করেও শেষ পর্যন্ত নিয়োগের সুযোগ না পাওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়। যাদের পারিবারিক আর্থিক সামর্থ্য সীমিত, তাদের জন্য এই লড়াই আরও কঠিন।

আবেদন ফি নিয়েও প্রশ্ন
সরকারি চাকরির আবেদন ফি পুনর্নির্ধারণ করে ২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়। এতে বিসিএস পরীক্ষা ছাড়া বিভিন্ন নন-ক্যাডার পদ এবং সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষার আবেদন ফি পদভেদে ৫০ থেকে ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তবে চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগে কয়েকশ থেকে এক হাজার টাকার বেশি আবেদন ফি দিতে হচ্ছে।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতেও তুলনামূলক বেশি ফি নেওয়ার নজির রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে প্রভাষকের দুটি পদের জন্য আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৫০ টাকা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পদে ফি ২০০ থেকে ৬০০ টাকা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে পদভেদে আবেদন ফি রাখা হয়েছে ৪০০ ও ৫০০ টাকা।

সুনামগঞ্জের রাজিব দের অভিযোগ, আবেদন করতেই যখন কয়েকশ থেকে হাজার টাকার বেশি খরচ হয়, তখন পরীক্ষায় অংশ নিতে যাতায়াতের জন্য আরও দুই থেকে তিন হাজার টাকা ব্যয় করা অনেক বেকারের পক্ষেই কঠিন। তার প্রশ্ন, আয়হীন তরুণদের চাকরির প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে এত ব্যয়ের বোঝা বহন করতে হবে কেন?

সমাধান কি বিভাগীয় শহরে পরীক্ষা?
ঢাকাকেন্দ্রিক নিয়োগ পরীক্ষার কারণে রাজধানীর বাইরে থাকা প্রার্থীদের বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। অন্যদিকে, রাজধানীতে প্রার্থীদের অতিরিক্ত সমাগমও চাপ বাড়াচ্ছে। অথচ বিসিএসের প্রিলিমিনারি ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা বিভাগীয় শহরগুলোয় আয়োজনের নজির রয়েছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষাও একাধিক কেন্দ্রে নেওয়া হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মজিবুর রহমান মনে করেন, বিভাগীয় পর্যায়ে নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে ঝুঁকি থাকলে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। তার মতে, লাখ লাখ প্রার্থীর ঢাকায় আসায় তাদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি রাজধানীর ওপরও চাপ বাড়ছে।

শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম খানও বেকারদের দুর্ভোগ বিবেচনায় নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তার মতে, শিক্ষাকে সেবা হিসেবে বিবেচনা করা হলে শিক্ষাজীবন শেষে চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে ফি নির্ধারণেও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকা প্রয়োজন।

চাকরিপ্রার্থীদের দাবি, বিভাগীয় শহরে পরীক্ষা আয়োজন, আবেদন ফি যৌক্তিক পর্যায়ে রাখা এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ার অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো গেলে তাদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে। এতে দূরবর্তী জেলা থেকে বারবার ঢাকায় আসার প্রয়োজনও কমবে।

চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা থাকবেই। কিন্তু সেই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সামর্থ্য যদি অর্থের ওপর নির্ভর করে, তাহলে যোগ্যতার সমান সুযোগ নিশ্চিত করা কঠিন। বেকার তরুণদের কাছে চাকরির পরীক্ষা এখন শুধু মেধা যাচাইয়ের ধাপ নয়, অনেক ক্ষেত্রে আর্থিক সামর্থ্যেরও পরীক্ষা। এই বাস্তবতা বদলাতে নিয়োগব্যবস্থাকে আরও সাশ্রয়ী, বিকেন্দ্রীকৃত ও প্রার্থীবান্ধব করার বিকল্প নেই।

কালের আলো/এমএসএএকে/এমকে

৫০ দেশের তারকার তালিকায় শাকিব খান, অবস্থান কত নম্বরে?

বিনোদন ডেস্ক; কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ
৫০ দেশের তারকার তালিকায় শাকিব খান, অবস্থান কত নম্বরে?

হলিউডের বাইরেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্রশিল্পে জনপ্রিয়তা ও প্রভাবের স্বাক্ষর রেখেছেন বহু তারকা। তাঁদের নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার অর্থনীতি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘ওয়ার্তা ইকোনোমি’র প্রকাশিত একটি তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশের ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খান। বিশ্বের ৫০ দেশের চলচ্চিত্র তারকাদের নিয়ে তৈরি এই তালিকায় তাঁর অবস্থান ২৫তম।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে বিভিন্ন দেশের পরিচিত ও প্রভাবশালী অভিনেতাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তালিকায় শাকিব খানের পাশাপাশি রয়েছেন ভারতের শাহরুখ খান, হংকংয়ের জ্যাকি চ্যান, যুক্তরাষ্ট্রের টম হ্যাঙ্কস এবং কানাডীয় অভিনেতা কিয়ানু রিভসের মতো আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত তারকারা। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে এই তালিকায় শাকিব খানের অন্তর্ভুক্তি ঢালিউডের তারকাদের আন্তর্জাতিক পরিচিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।

বিশ্বতারকাদের তালিকায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি
ওয়ার্তা ইকোনোমির তালিকায় বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্রশিল্পের জনপ্রিয় অভিনেতাদের স্থান দেওয়া হয়েছে। এতে আরও রয়েছেন হংকংয়ের ব্রুস লি, পাকিস্তানের ফাওয়াদ খান এবং তুরস্কের বুরাক ওজচিভিত। স্পেন, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সুইজারল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের তারকারাও রয়েছেন তালিকাটিতে।

শাহরুখ খান, জ্যাকি চ্যান ও কিয়ানু রিভসের মতো পরিচিত নামের সঙ্গে একই তালিকায় শাকিব খানের উপস্থিতি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের জন্য উল্লেখযোগ্য। তবে তালিকাটি তৈরির ক্ষেত্রে জনপ্রিয়তা, প্রভাব কিংবা অন্য কোন মানদণ্ডকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

দুই দশকের বেশি সময় ধরে ঢালিউডে শাকিবের রাজত্ব
দুই দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে নিজের জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছেন শাকিব খান। বাণিজ্যিকভাবে সফল একাধিক সিনেমায় অভিনয় করে তিনি ঢালিউডের অন্যতম প্রধান তারকায় পরিণত হয়েছেন। ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে তাঁর অভিনীত সিনেমা মুক্তি পেলে দর্শকদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ দেখা যায়। বড় পর্দায় তাঁর উপস্থিতি এবং বাণিজ্যিক সাফল্য দেশের চলচ্চিত্রশিল্পে তাঁর অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।

দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বাংলা সিনেমা
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শাকিব খানের অভিনীত সিনেমা দেশের বাইরেও মুক্তি পাচ্ছে। প্রবাসী বাঙালিদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলা সিনেমার দর্শক বাড়ানোর সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে এতে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তারকাদের নিয়ে প্রকাশিত তালিকায় শাকিব খানের অবস্থান তাই বাংলাদেশের চলচ্চিত্রশিল্পের আন্তর্জাতিক পরিচিতি নিয়ে আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে একটি তালিকায় স্থান পাওয়াকে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তার চূড়ান্ত পরিমাপ হিসেবে দেখার আগে এর নির্বাচনী মানদণ্ড ও মূল্যায়নপদ্ধতি বিবেচনা করা জরুরি।

কালের আলো/এমডিএইচ/এসএ