দুই দিনে চার অভিযান, কাস্টমসের জালে কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য
ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিমানবন্দর এবং ঢাকার ফরেন পোস্ট অফিসে টানা দুই দিন অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকার অবৈধ ও চোরাচালান পণ্য জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। গত ১৫ ও ১৬ অক্টোবর পরিচালিত পৃথক চারটি অভিযানে স্বর্ণবার, মদ, ডার্মাল ফিলার ও স্কিন বুস্টার ইনজেকশন, নিষিদ্ধ ক্রিম এবং ব্যবহৃত ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়। শনিবার (১৭ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এ তথ্য জানায়। এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আল আমিন শেখ অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে স্বর্ণবার আটক
চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুবাই থেকে আসা যাত্রী আবদুল্লাহ আল নোমানের কাছ থেকে ১১৭ গ্রাম স্বর্ণবার আটক করেন কাস্টমস গোয়েন্দারা। জব্দ করা স্বর্ণের আনুমানিক মূল্য ২১ লাখ ৬ হাজার টাকা। বিমানবন্দরে যাত্রীদের মাধ্যমে আনা পণ্যের ওপর নজরদারির অংশ হিসেবে এ স্বর্ণ আটক করা হয়। চোরাচালান প্রতিরোধ এবং প্রযোজ্য শুল্ক-কর নিশ্চিত করতে এ ধরনের তৎপরতা চালানো হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
শাহজালাল বিমানবন্দরে ৩০ লিটার মদ জব্দ
একই সময়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৬ লাখ টাকা মূল্যের ৩০ লিটার মদ জব্দ করা হয়। কাস্টমস গোয়েন্দারা একাধিক যাত্রীর কাছ থেকে এবং বিমানবন্দরের টয়লেটে পরিত্যক্ত অবস্থায় এসব মদ উদ্ধার করেন। যাত্রীদের বহন করা পণ্য ও বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্থানে নজরদারি চালিয়ে এসব মদ জব্দ করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, অবৈধভাবে পণ্য আনা-নেওয়া ঠেকানো এবং শুল্ক-সংক্রান্ত বিধিবিধান কার্যকর রাখা।
কলম্বোফেরত যাত্রীর ব্যাগে ১৫৫টি ইনজেকশন
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কলম্বো থেকে আসা যাত্রী মো. রাকিব হোসেনের ব্যাগেজ স্ক্যান করে ১৫৫টি ডার্মাল ফিলার ও স্কিন বুস্টার ইনজেকশন আটক করা হয়। এসব পণ্যের আনুমানিক মূল্য ৫৭ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। ডার্মাল ফিলার ও স্কিন বুস্টার সাধারণত ত্বকের সৌন্দর্যচর্চা ও প্রসাধনসংক্রান্ত কাজে ব্যবহৃত হয়। তবে এসব পণ্য আমদানি ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অনুমোদন ও নিরাপত্তাবিধি মানা জরুরি। অননুমোদিত পণ্য বাজারে প্রবেশ করলে ভোক্তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।
ফরেন পোস্ট অফিসে ১১০৪ কেজি নিষিদ্ধ ক্রিম
ঢাকার বিমানবন্দর এলাকার ফরেন পোস্ট অফিসে অভিযান চালিয়ে সবচেয়ে বেশি মূল্যের পণ্য জব্দ করা হয়। সেখানে ২ কোটি ৩৮ লাখ ৫ হাজার টাকা মূল্যের ১ হাজার ১০৪ কেজি নিষিদ্ধ গৌরী ক্রিম উদ্ধার করেন কাস্টমস গোয়েন্দারা। একই অভিযানে ২৩টি ব্যবহৃত কোর আইফাইভ (Core i5) ল্যাপটপও জব্দ করা হয়। বিদেশ থেকে ডাকযোগে আসা পণ্যের চালান পরীক্ষা করে এসব পণ্য আটক করা হয়। কাস্টমসের নজরদারির আওতায় থাকা এ ধরনের চালানে পণ্যের ধরন, পরিমাণ ও আমদানিসংক্রান্ত বিধিবিধান যাচাই করা হয়।
জনস্বাস্থ্য ও রাজস্ব সুরক্ষায় নজরদারি
কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এমন অননুমোদিত প্রসাধনসামগ্রী এবং ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক পণ্যের অবৈধ প্রবেশ ঠেকাতে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। অবৈধ পণ্য আমদানি ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, ভোক্তা অধিকার রক্ষা এবং সরকারের রাজস্ব আদায়ের বিষয়ও জড়িত। এ কারণে বিমানবন্দর ও ডাকযোগে আসা পণ্যের চালান পর্যবেক্ষণ এবং সন্দেহজনক পণ্যের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]