খুঁজুন
                               
, ,
           

ভারতের ওপর ১০০% শুল্কের হুমকি স্থগিত করলেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩২ অপরাহ্ণ
ভারতের ওপর ১০০% শুল্কের হুমকি স্থগিত করলেন ট্রাম্প
রাশিয়ার জ্বালানি বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে ভারত ও চীনের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের যে হুমকি দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, আপাতত তা স্থগিত করা হয়েছে। রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের বিধান কার্যকরের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক আগে শুক্রবার ( ১৬ অক্টোবর) রাতে এ সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ট্রাম্পের ভাষ্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ছাড় দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তবে শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞার বিধান স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়নি। আপাতত সেগুলোর প্রয়োগ স্থগিত রাখা হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে ট্রাম্প আবারও এসব ব্যবস্থা কার্যকর করার সুযোগ রাখতে পারেন। এতে ভারত ও চীনের ওপর সম্ভাব্য বাণিজ্যিক চাপ আপাতত কমলেও অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি।

জাতীয় স্বার্থের কথা বলে সিদ্ধান্ত স্থগিত

শুক্রবার ( ১৬ অক্টোবর) রাতে প্রকাশিত এক নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প জানান, সংশ্লিষ্ট আইনে নির্ধারিত নিষেধাজ্ঞা, বিধিনিষেধ ও শুল্কের প্রয়োগ আপাতত মওকুফ করা হচ্ছে। এ ধরনের ছাড় দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থে—এ মর্মে তিনি কংগ্রেসে একটি প্রত্যয়নপত্র জমা দিয়েছেন বলেও আদেশে উল্লেখ করেন।

এই সিদ্ধান্তের ফলে রাশিয়ার জ্বালানি কেনে এমন দেশগুলোর ওপর নতুন করে বড় অঙ্কের শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা আপাতত কার্যকর হচ্ছে না। তবে সিদ্ধান্তটি স্থায়ী নয়। পরিস্থিতি ও যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত অবস্থান অনুযায়ী ভবিষ্যতে আবারও শুল্ক আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

কী ছিল রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনায়?

গত মাসে রাশিয়া ও ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপসংক্রান্ত ‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ নামের একটি আইনে সই করেন ট্রাম্প। আইনটিতে রাশিয়ার জ্বালানি বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়।

আইনটির অন্যতম লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে রাশিয়ার অর্থনৈতিক সক্ষমতা কমানো। এ জন্য রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কেনে এমন দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দেওয়ার বিধান রাখা হয়।

আইন অনুযায়ী, রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের শীর্ষ পাঁচ ক্রেতা হিসেবে চীন, ভারত, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি ও আজারবাইজানের মতো দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। পাশাপাশি রাশিয়ার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা রুশ জ্বালানি পণ্যের ওপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের বিধানও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

আইনটির নির্ধারিত এক মাসের সময়সীমা ১৮ অক্টোবর শেষ হওয়ার কথা ছিল। এর আগেই ট্রাম্প শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞার প্রয়োগ স্থগিত করলেন।

ভারতের রপ্তানি খাতে কী প্রভাব পড়তে পারত?

ভারতের ওপর নতুন করে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দেশটির রপ্তানি বড় ধরনের চাপের মুখে পড়তে পারত। কারণ, নতুন শুল্কের সঙ্গে আগে থেকে কার্যকর থাকা শুল্ক যুক্ত হলে ভারতীয় পণ্যের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতো।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজার ভারতের রপ্তানিকারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর হলে পোশাক, শিল্পপণ্যসহ বিভিন্ন খাতের রপ্তানিকারকদের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হতে পারত। তবে নতুন শুল্ক কার্যকর না হওয়ায় আপাতত সেই তাৎক্ষণিক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে না।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর আগে ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতিতে একাধিক পরিবর্তন এসেছে। গত বছর রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কেনাকে কেন্দ্র করে ভারতীয় পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ পারস্পরিক শুল্কের পাশাপাশি আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। পরে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অতিরিক্ত ওই ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করা হয় এবং দুই দেশের বাণিজ্য কাঠামোর অংশ হিসেবে পারস্পরিক শুল্কের হার ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়।

এ পরিস্থিতিতে নতুন করে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি কার্যকর হলে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্কে আবারও চাপ তৈরি হতে পারত। আপাতত সেই আশঙ্কা কিছুটা কমেছে।

রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে ভারতের অবস্থান

ভারত বারবার জানিয়েছে, দেশের ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ কারণে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ অব্যাহত রাখার অবস্থানে রয়েছে দেশটি।

গত মাসে মার্কিন কংগ্রেসে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞাসংক্রান্ত বিল পাস হওয়ার পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, নিজেদের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত নয়াদিল্লি।

মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের তেল কেনার বিষয়টি উঠে এসেছে। ভারতের পক্ষ থেকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবের কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

ভারতের জন্য রাশিয়ার তেল গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এই বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। নতুন শুল্ক স্থগিত হওয়ায় আপাতত সেই চাপ এড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের যোগাযোগ, ইউক্রেন নিয়ে বাড়ছে টানাপড়েন

রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রস্তাবিত শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে, যখন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। একই সময়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সমালোচনাও বাড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

গত সপ্তাহে রাশিয়ার সঙ্গে একটি ডিজেল সরবরাহ চুক্তির কথা জানান ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, চুক্তির আওতায় রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রে তাৎক্ষণিকভাবে তিন লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে। পরবর্তী কয়েক মাসেও আরও জ্বালানি পাঠানোর কথা রয়েছে।

এই চুক্তির সমালোচনা করেছেন জেলেনস্কি। তাঁর মতে, চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারদের জন্য মর্যাদাকর নয় এবং এটি একটি দুর্বল সিদ্ধান্ত। রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানোর পরও মস্কোর সঙ্গে এমন চুক্তি হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

অন্যদিকে, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতায় পৌঁছাতে জেলেনস্কির সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ট্রাম্প বলেন, ইউক্রেনের নতুন নেতা পাওয়ার সময় এসেছে। তিনি ইউক্রেনকে এমন একজন নেতা খুঁজে নেওয়ার পরামর্শ দেন, যিনি একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারবেন।

স্থগিতাদেশে স্বস্তি, তবে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে

ট্রাম্পের সর্বশেষ সিদ্ধান্তে ভারত ও চীনের ওপর সম্ভাব্য ১০০ শতাংশ শুল্কের তাৎক্ষণিক ঝুঁকি আপাতত কমেছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার জ্বালানি বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য দেশও স্বস্তি পেতে পারে। তবে শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞার বিধান পুরোপুরি বাতিল না হওয়ায় ভবিষ্যতে আবারও এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রাশিয়ার তেল কেনা, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতির মধ্যে সম্পর্ক এখনো জটিল। ফলে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে স্থায়ী নীতিগত পরিবর্তন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং আপাতত শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা স্থগিত রেখে যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের সুযোগ রাখছে।

আগামী দিনে ওয়াশিংটন, মস্কো ও নয়াদিল্লির মধ্যে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক আলোচনা কোন দিকে এগোয়, তার ওপর এই সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নির্ভর করবে।

কালের আলো/এএইচ/এসএ

বাংলাদেশের পর্যটন খাতে ১২০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে চায় জাপান

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪১ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশের পর্যটন খাতে ১২০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে চায় জাপান

বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে প্রাথমিকভাবে ১ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ১২০ কোটি ডলার বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন জাপানি বিনিয়োগকারীরা। এ বিনিয়োগের প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে সরকার। পাশাপাশি সম্ভাব্য বিনিয়োগের ক্ষেত্র চিহ্নিত করতে জাপানি প্রতিনিধিদলকে দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র পরিদর্শনের ব্যবস্থা করবে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড।

রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে জাপানি বিনিয়োগকারী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ বিনিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

সভায় পর্যটনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পর্যটনের অপার সম্ভাবনাময় একটি দেশ। এ দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার মতো বৈচিত্র্যময় সম্পদ। সুন্দরবন, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত এবং সিলেটের চা-বাগানসহ দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দেশের পর্যটন খাতে বিদেশি বিনিয়োগকে স্বাগত জানায়। এ খাতের উন্নয়ন ও বিকাশে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কাজ করতে সরকার আগ্রহী।

জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়নে জাপান দীর্ঘদিন ধরে সহযোগিতা করে আসছে। বাংলাদেশের পর্যটন খাতের বিকাশেও জাপানি বিনিয়োগকারীদের সহযোগিতা ও অংশগ্রহণকে সরকার স্বাগত জানাবে। বিদেশি বিনিয়োগের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, সরকার এমন অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে চায়, যাতে উভয় পক্ষই লাভবান হয়। এ লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) মডেলে কাজ করতে আগ্রহী সরকার।

সভায় জাপানি বিনিয়োগকারী প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিষয়ে তাঁদের আন্তরিকতার কথা জানান। তাঁরা দেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার প্রস্তুতির কথা তুলে ধরেন। এ সময় প্রাথমিকভাবে ১ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়। বিনিয়োগকারীদের এ আগ্রহকে স্বাগত জানিয়ে পর্যটনমন্ত্রী বলেন, জাপানি বিনিয়োগকারীদের প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হলে সরকার দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এ ছাড়া জাপানি প্রতিনিধিদলের দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র পরিদর্শনের জন্য বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এর মাধ্যমে পর্যটন খাতে সম্ভাবনাময় বিনিয়োগের ক্ষেত্র চিহ্নিত করা এবং উন্নয়নের নতুন সুযোগ তৈরির পথ সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রস্তাবিত বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পর্যটনসেবার মান বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

চাকরির পরীক্ষায় পুড়ছে বেকারের সঞ্চয়

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৮ অপরাহ্ণ
চাকরির পরীক্ষায় পুড়ছে বেকারের সঞ্চয়

নিজস্ব আয় নেই, চাকরি পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই—তবু চাকরির লড়াইয়ে টিকে থাকতে বারবার টাকা খরচ করতে হচ্ছে লাখো তরুণকে। একেকটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন ফি, পরীক্ষায় অংশ নিতে দূরদূরান্ত থেকে ঢাকায় আসা, থাকা-খাওয়া—সব মিলিয়ে বেকার জীবনে বাড়তি আর্থিক বোঝা হয়ে উঠেছে চাকরির পরীক্ষা। প্রতিযোগিতা যত তীব্র হচ্ছে, ব্যয়ের চাপও তত বাড়ছে। ফলে মেধা ও যোগ্যতার লড়াইয়ে নামার আগেই অনেক প্রার্থীকে লড়তে হচ্ছে অর্থের সংকটের সঙ্গে।

লালমনিরহাটের নাহিদা হাসানের অভিজ্ঞতা সেই সংকটেরই প্রতিচ্ছবি। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পড়াশোনা শেষ করে এখন পরিবারের সঙ্গে থেকে চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। সরকারি চাকরির পরীক্ষায় অংশ নিতে প্রায়ই আসতে হয় ঢাকায়। সম্প্রতি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের একটি তৃতীয় শ্রেণির পদের পরীক্ষায় অংশ নিতে যাওয়া-আসা ও খাওয়া-দাওয়া মিলিয়ে তার খরচ হয়েছে সাড়ে তিন হাজার টাকা। সামনে আরও কয়েকটি পরীক্ষা। সেগুলো দিতে আবারও আলাদা সময়ে ঢাকায় আসতে হবে। অর্থাৎ চাকরি পাওয়ার আগেই শুধু পরীক্ষায় অংশ নিতে তাকে গুনতে হচ্ছে হাজার হাজার টাকা।

  • একাধিক নিয়োগে আবেদন ও বারবার ঢাকায় যাতায়াতে বাড়ছে ব্যয়
  • হিমশিম খাচ্ছেন আয়হীন তরুণেরা; নিয়োগব্যবস্থায় সংস্কারের প্রশ্ন
  • প্রার্থীবান্ধব নিয়োগব্যবস্থার দাবি

নাহিদার মতো দেশের বিভিন্ন জেলার অসংখ্য চাকরিপ্রার্থীকে একই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। যাদের নিয়মিত আয় নেই, তাদের জন্য প্রতিটি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া মানে নতুন করে অর্থের সংস্থান করা। একাধিক নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ আলাদা হওয়ায় বারবার যাতায়াতের খরচও বহন করতে হয়। আবেদন ফি ও প্রস্তুতির ব্যয়ের সঙ্গে এই বাড়তি চাপ দীর্ঘদিন বেকার থাকা তরুণদের অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২৪ সালের শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, দেশে বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ ২৪ হাজার। এর মধ্যে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী ২০ লাখ ৩২ হাজার। এই বিপুলসংখ্যক তরুণের কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তার মধ্যে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বাড়তি ব্যয় এখন গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়।

এক পদের বিপরীতে হাজারো প্রতিদ্বন্দ্বী
চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতার চিত্রও উদ্বেগজনক। সমাজসেবা অধিদপ্তরের ১ হাজার ৪৮৫টি পদের বিপরীতে আবেদন পড়েছে ২১ লাখ ২৩ হাজারের বেশি। অর্থাৎ প্রতি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রায় ১ হাজার ৪৩০ জন। ৫০তম বিসিএসের ২ হাজার ১৫০টি পদের বিপরীতে আবেদন করেছেন ২ লাখ ৯০ হাজার প্রার্থী। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের ২৪২টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন করেছিলেন প্রায় ৩ লাখ ১৯ হাজার জন।

এমন প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে একজন প্রার্থীকে একাধিক প্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে হয়, দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুতি নিতে হয়। অথচ চাকরি পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। আবেদন থেকে পরীক্ষা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে অর্থ ব্যয় করেও শেষ পর্যন্ত নিয়োগের সুযোগ না পাওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়। যাদের পারিবারিক আর্থিক সামর্থ্য সীমিত, তাদের জন্য এই লড়াই আরও কঠিন।

আবেদন ফি নিয়েও প্রশ্ন
সরকারি চাকরির আবেদন ফি পুনর্নির্ধারণ করে ২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়। এতে বিসিএস পরীক্ষা ছাড়া বিভিন্ন নন-ক্যাডার পদ এবং সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষার আবেদন ফি পদভেদে ৫০ থেকে ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তবে চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগে কয়েকশ থেকে এক হাজার টাকার বেশি আবেদন ফি দিতে হচ্ছে।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতেও তুলনামূলক বেশি ফি নেওয়ার নজির রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে প্রভাষকের দুটি পদের জন্য আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৫০ টাকা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পদে ফি ২০০ থেকে ৬০০ টাকা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে পদভেদে আবেদন ফি রাখা হয়েছে ৪০০ ও ৫০০ টাকা।

সুনামগঞ্জের রাজিব দের অভিযোগ, আবেদন করতেই যখন কয়েকশ থেকে হাজার টাকার বেশি খরচ হয়, তখন পরীক্ষায় অংশ নিতে যাতায়াতের জন্য আরও দুই থেকে তিন হাজার টাকা ব্যয় করা অনেক বেকারের পক্ষেই কঠিন। তার প্রশ্ন, আয়হীন তরুণদের চাকরির প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে এত ব্যয়ের বোঝা বহন করতে হবে কেন?

সমাধান কি বিভাগীয় শহরে পরীক্ষা?
ঢাকাকেন্দ্রিক নিয়োগ পরীক্ষার কারণে রাজধানীর বাইরে থাকা প্রার্থীদের বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। অন্যদিকে, রাজধানীতে প্রার্থীদের অতিরিক্ত সমাগমও চাপ বাড়াচ্ছে। অথচ বিসিএসের প্রিলিমিনারি ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা বিভাগীয় শহরগুলোয় আয়োজনের নজির রয়েছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষাও একাধিক কেন্দ্রে নেওয়া হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মজিবুর রহমান মনে করেন, বিভাগীয় পর্যায়ে নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে ঝুঁকি থাকলে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। তার মতে, লাখ লাখ প্রার্থীর ঢাকায় আসায় তাদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি রাজধানীর ওপরও চাপ বাড়ছে।

শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম খানও বেকারদের দুর্ভোগ বিবেচনায় নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তার মতে, শিক্ষাকে সেবা হিসেবে বিবেচনা করা হলে শিক্ষাজীবন শেষে চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে ফি নির্ধারণেও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকা প্রয়োজন।

চাকরিপ্রার্থীদের দাবি, বিভাগীয় শহরে পরীক্ষা আয়োজন, আবেদন ফি যৌক্তিক পর্যায়ে রাখা এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ার অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো গেলে তাদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে। এতে দূরবর্তী জেলা থেকে বারবার ঢাকায় আসার প্রয়োজনও কমবে।

চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা থাকবেই। কিন্তু সেই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সামর্থ্য যদি অর্থের ওপর নির্ভর করে, তাহলে যোগ্যতার সমান সুযোগ নিশ্চিত করা কঠিন। বেকার তরুণদের কাছে চাকরির পরীক্ষা এখন শুধু মেধা যাচাইয়ের ধাপ নয়, অনেক ক্ষেত্রে আর্থিক সামর্থ্যেরও পরীক্ষা। এই বাস্তবতা বদলাতে নিয়োগব্যবস্থাকে আরও সাশ্রয়ী, বিকেন্দ্রীকৃত ও প্রার্থীবান্ধব করার বিকল্প নেই।

কালের আলো/এমএসএএকে/এমকে

৫০ দেশের তারকার তালিকায় শাকিব খান, অবস্থান কত নম্বরে?

বিনোদন ডেস্ক; কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ
৫০ দেশের তারকার তালিকায় শাকিব খান, অবস্থান কত নম্বরে?

হলিউডের বাইরেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্রশিল্পে জনপ্রিয়তা ও প্রভাবের স্বাক্ষর রেখেছেন বহু তারকা। তাঁদের নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার অর্থনীতি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘ওয়ার্তা ইকোনোমি’র প্রকাশিত একটি তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশের ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খান। বিশ্বের ৫০ দেশের চলচ্চিত্র তারকাদের নিয়ে তৈরি এই তালিকায় তাঁর অবস্থান ২৫তম।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে বিভিন্ন দেশের পরিচিত ও প্রভাবশালী অভিনেতাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তালিকায় শাকিব খানের পাশাপাশি রয়েছেন ভারতের শাহরুখ খান, হংকংয়ের জ্যাকি চ্যান, যুক্তরাষ্ট্রের টম হ্যাঙ্কস এবং কানাডীয় অভিনেতা কিয়ানু রিভসের মতো আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত তারকারা। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে এই তালিকায় শাকিব খানের অন্তর্ভুক্তি ঢালিউডের তারকাদের আন্তর্জাতিক পরিচিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।

বিশ্বতারকাদের তালিকায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি
ওয়ার্তা ইকোনোমির তালিকায় বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্রশিল্পের জনপ্রিয় অভিনেতাদের স্থান দেওয়া হয়েছে। এতে আরও রয়েছেন হংকংয়ের ব্রুস লি, পাকিস্তানের ফাওয়াদ খান এবং তুরস্কের বুরাক ওজচিভিত। স্পেন, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সুইজারল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের তারকারাও রয়েছেন তালিকাটিতে।

শাহরুখ খান, জ্যাকি চ্যান ও কিয়ানু রিভসের মতো পরিচিত নামের সঙ্গে একই তালিকায় শাকিব খানের উপস্থিতি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের জন্য উল্লেখযোগ্য। তবে তালিকাটি তৈরির ক্ষেত্রে জনপ্রিয়তা, প্রভাব কিংবা অন্য কোন মানদণ্ডকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

দুই দশকের বেশি সময় ধরে ঢালিউডে শাকিবের রাজত্ব
দুই দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে নিজের জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছেন শাকিব খান। বাণিজ্যিকভাবে সফল একাধিক সিনেমায় অভিনয় করে তিনি ঢালিউডের অন্যতম প্রধান তারকায় পরিণত হয়েছেন। ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে তাঁর অভিনীত সিনেমা মুক্তি পেলে দর্শকদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ দেখা যায়। বড় পর্দায় তাঁর উপস্থিতি এবং বাণিজ্যিক সাফল্য দেশের চলচ্চিত্রশিল্পে তাঁর অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।

দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বাংলা সিনেমা
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শাকিব খানের অভিনীত সিনেমা দেশের বাইরেও মুক্তি পাচ্ছে। প্রবাসী বাঙালিদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলা সিনেমার দর্শক বাড়ানোর সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে এতে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তারকাদের নিয়ে প্রকাশিত তালিকায় শাকিব খানের অবস্থান তাই বাংলাদেশের চলচ্চিত্রশিল্পের আন্তর্জাতিক পরিচিতি নিয়ে আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে একটি তালিকায় স্থান পাওয়াকে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তার চূড়ান্ত পরিমাপ হিসেবে দেখার আগে এর নির্বাচনী মানদণ্ড ও মূল্যায়নপদ্ধতি বিবেচনা করা জরুরি।

কালের আলো/এমডিএইচ/এসএ