খুঁজুন
                               
, ,
           

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৭ জনের মৃত্যু, সবচেয়ে বেশি রোগী ঢাকায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৫ অপরাহ্ণ
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৭ জনের মৃত্যু, সবচেয়ে বেশি রোগী ঢাকায়

দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৮৭২ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪২ এবং হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার। শনিবার (১৭ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়  ,স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবরের প্রথম ১৬ দিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে রোগটিতে সর্বোচ্চ ১৪৮ জন মারা যান। মাসভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন এবং মে মাসে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়। সব মিলিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪২ জনে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১ হাজার ৮৭২ জন ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের নিয়ে চলতি বছরে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৩১২ জনে। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ হাজার ৯৯১ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন মোট ১ লাখ ৪ হাজার ৪৯১ জন। নতুন রোগী ভর্তি ও হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার এই পরিসংখ্যান ডেঙ্গু পরিস্থিতির ধারাবাহিক চাপের চিত্র তুলে ধরছে। রোগীদের চিকিৎসা দিতে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালকে নিয়মিত সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৮৬৫ জন।অন্যান্য বিভাগের মধ্যে চট্টগ্রামে ২৬০ জন, খুলনায় ২৩৩ জন, বরিশালে ১৯০ জন, রাজশাহীতে ১৭৩ জন, ময়মনসিংহে ৬৭ জন এবং রংপুরে ৫৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বিভাগভিত্তিক এই পরিসংখ্যানে ঢাকা বিভাগে রোগী ভর্তির সংখ্যা অন্য বিভাগগুলোর তুলনায় বেশি দেখা গেছে। তবে ডেঙ্গুর ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশের সব এলাকায় মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষার বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ি, কর্মস্থল ও আশপাশের এলাকায় জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা গুরুত্বপূর্ণ। ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, টায়ার কিংবা অন্য কোনো স্থানে পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশার লার্ভা জন্মাতে পারে। জ্বর, শরীরব্যথা বা ডেঙ্গুর অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা শ্বাসকষ্টের মতো সতর্কসংকেত দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

 

সত্যিই কি উড়ন্ত গাড়ি আনল টেসলা? ইলন মাস্কের প্রদর্শনী ঘিরে তোলপাড়

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪৬ অপরাহ্ণ
সত্যিই কি উড়ন্ত গাড়ি আনল টেসলা? ইলন মাস্কের প্রদর্শনী ঘিরে তোলপাড়
বিজ্ঞানের কল্পকাহিনিতে এত দিন যে উড়ন্ত গাড়ির দৃশ্য দেখা গেছে, তা কি এবার বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে? বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কের একটি প্রদর্শনী ঘিরে নতুন করে এই প্রশ্ন সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে স্পেসএক্সের একটি স্থাপনায় নতুন টেসলা রোডস্টার স্পোর্টস কার প্রদর্শন করেছেন তিনি। গাড়িটিতে বিশেষ থ্রাস্টার প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে শূন্যে ওঠা ও মাঝআকাশে ঘোরার সক্ষমতা দেখানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর ) আয়োজিত এই প্রদর্শনী প্রযুক্তিপ্রেমীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে ভবিষ্যতের পরিবহনব্যবস্থায় উড়ন্ত গাড়ির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। এবার টেসলার নতুন রোডস্টারকে ঘিরে সেই আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, গাড়িটি কি সত্যিই আকাশে উড়ে চলাচল করতে পারবে, নাকি প্রদর্শনীতে দেখানো হয়েছে সীমিত সময়ের জন্য শূন্যে ওঠার একটি প্রযুক্তিগত কৌশল?

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গাড়িটিতে স্পেসএক্সের মহাকাশ প্রযুক্তি থেকে অনুপ্রাণিত থ্রাস্টার ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। উচ্চচাপে সংরক্ষিত বাতাস দ্রুত নির্গত করে সাময়িকভাবে গাড়িটিকে ওপরে তোলা এবং ঘোরানোর ধারণা তুলে ধরা হয়েছে। তবে এই প্রদর্শনী থেকে গাড়িটির দীর্ঘ সময় আকাশে থাকার সক্ষমতা কিংবা সাধারণ উড়ন্ত গাড়ির মতো এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াতের কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়নি।

‘আজ রাতে অবিশ্বাস্য কিছু দেখতে যাচ্ছেন’—মাস্কের ঘোষণা

নতুন রোডস্টার প্রদর্শনের আগে ইলন মাস্ক দর্শকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আজ রাতে আপনারা কিছু অবিশ্বাস্য বিষয় দেখতে যাচ্ছেন।’ গাড়িটির প্রদর্শনী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি কোনো দৃশ্য নয়, সেটি প্রমাণ করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

মাস্কের বক্তব্যে প্রযুক্তিটির অভিনবত্ব তুলে ধরার চেষ্টা দেখা গেলেও, প্রদর্শনীর দৃশ্য এবং গাড়িটির বাস্তব কার্যক্ষমতা এক বিষয় নয়। কোনো গাড়িকে সাময়িকভাবে মাটি থেকে ওপরে তোলা সম্ভব হওয়া আর সেটিকে নিরাপদে আকাশপথে চলাচলের উপযোগী করে তোলা সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ।

নতুন রোডস্টার নিয়ে টেসলার পরিকল্পনা তাই শুধু একটি আকর্ষণীয় প্রদর্শনীতে সীমাবদ্ধ নয়। গাড়িটি কীভাবে কাজ করবে, কতক্ষণ শূন্যে থাকতে পারবে, কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে এবং বাস্তবে এটি ক্রেতাদের কাছে পৌঁছাবে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া এখনো বাকি।

থ্রাস্টার প্রযুক্তিতে কীভাবে শূন্যে উঠতে পারে গাড়ি?

থ্রাস্টার এমন একটি ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে দ্রুতগতিতে গ্যাস বা বাতাস নির্গত করে বিপরীতমুখী বল তৈরি করা যায়। মহাকাশযান ও রকেটের বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। টেসলার নতুন রোডস্টারেও স্পেসএক্সের মহাকাশ প্রযুক্তি থেকে অনুপ্রাণিত থ্রাস্টার ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।

প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, উচ্চচাপে সংরক্ষিত বাতাস দ্রুত নির্গত হলে গাড়ির ওপর ঊর্ধ্বমুখী বল সৃষ্টি হতে পারে। পর্যাপ্ত বল তৈরি করা গেলে গাড়িটি অল্প সময়ের জন্য মাটি থেকে ওপরে উঠতে পারে। একইভাবে থ্রাস্টারের দিক ও শক্তি নিয়ন্ত্রণ করে গাড়ির অবস্থান পরিবর্তনের ধারণাও তুলে ধরা হয়েছে।

তবে গাড়ির ওজনের বিপরীতে পর্যাপ্ত ঊর্ধ্বমুখী বল তৈরি করা, ভারসাম্য বজায় রাখা এবং নিরাপদে অবতরণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জটিল কাজ। শুধু থ্রাস্টার যুক্ত করলেই একটি গাড়ি দীর্ঘ সময় উড়তে পারবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। এ জন্য শক্তি সরবরাহ, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, কাঠামোগত নিরাপত্তা এবং একাধিক পরিস্থিতিতে পরীক্ষার প্রয়োজন হবে।

এ ছাড়া প্রদর্শনীতে গাড়িটি ঠিক কতটা উচ্চতায় উঠেছিল, কতক্ষণ শূন্যে ছিল এবং কী ধরনের প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছিল—এসব বিষয়ে বিস্তারিত যাচাইকৃত তথ্য ছাড়া এর পূর্ণ সক্ষমতা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

সাময়িকভাবে শূন্যে ওঠা আর উড়ন্ত গাড়ি এক নয়

উড়ন্ত গাড়ি বলতে সাধারণত এমন যানকে বোঝানো হয়, যা সড়কে চলাচলের পাশাপাশি আকাশপথেও নিরাপদে যাত্রী পরিবহন করতে পারে। এ ধরনের যানকে শুধু মাটি থেকে ওপরে উঠলেই চলে না; নিয়ন্ত্রিতভাবে উড্ডয়ন, দিক পরিবর্তন, নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছানো এবং নিরাপদে অবতরণের সক্ষমতাও থাকতে হয়।

টেসলার নতুন রোডস্টারের ক্ষেত্রে প্রদর্শনীতে সাময়িকভাবে শূন্যে ওঠা ও ঘোরার দাবি সামনে এসেছে। কিন্তু গাড়িটি দীর্ঘ সময় আকাশে থাকতে পারবে কি না, আকাশপথে দূরত্ব অতিক্রম করতে পারবে কি না কিংবা যাত্রী নিয়ে নিয়মিত চলাচল করতে পারবে কি না, তার প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

প্রকৃত উড়ন্ত গাড়ির জন্য আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিশ্চিত করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে যাত্রী ও আশপাশের মানুষের নিরাপত্তা, জরুরি পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার ব্যবস্থা, নির্ভরযোগ্য উড্ডয়ন প্রযুক্তি এবং সড়ক ও আকাশপথে চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন।

তাই টেসলার নতুন রোডস্টারকে এখনই সাধারণ মানুষের ব্যবহারযোগ্য পূর্ণাঙ্গ উড়ন্ত গাড়ি হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। বরং এটি থ্রাস্টার প্রযুক্তির সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে একটি পরীক্ষামূলক বা প্রদর্শনমূলক ধারণা হিসেবে দেখা অধিক যুক্তিযুক্ত।

২০২৮ সালে উৎপাদন শুরুর পরিকল্পনা, তবে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে

ইলন মাস্ক জানিয়েছেন, নতুন রোডস্টারের উৎপাদন ২০২৮ সালে শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে উৎপাদনের নির্দিষ্ট সময়সূচি, সরবরাহের সময়, চূড়ান্ত মূল্য এবং গাড়িটির বাস্তব কার্যক্ষমতা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।

কোনো প্রযুক্তি প্রদর্শনীতে দেখানো সম্ভব হওয়া আর সেটিকে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করে ক্রেতাদের হাতে পৌঁছে দেওয়া এক নয়। উৎপাদনের আগে গাড়িটির বিভিন্ন যন্ত্রাংশের নির্ভরযোগ্যতা, দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্ষমতা, নিরাপত্তা এবং বাস্তব পরিস্থিতিতে ব্যবহারের উপযোগিতা যাচাই করতে হবে।

বিশেষ করে থ্রাস্টার প্রযুক্তির ব্যবহার গাড়িটির নকশা ও নিরাপত্তাব্যবস্থাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। উচ্চচাপে সংরক্ষিত বাতাসের ব্যবস্থা, আকস্মিক শক্তি প্রয়োগ, ভারসাম্য রক্ষা এবং অবতরণের সময় গাড়ির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে।

এ ছাড়া গাড়িটি যদি সত্যিকার অর্থে আকাশপথে চলাচলের উপযোগী করে তৈরি করা হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও নিরাপত্তাবিধি মেনে চলার প্রশ্নও সামনে আসবে। ফলে ২০২৮ সালে উৎপাদন শুরুর পরিকল্পনা থাকলেও সব প্রযুক্তিগত ও নিয়ন্ত্রক বাধা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অতিক্রম করা সম্ভব হবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত নয়।

উড়ন্ত গাড়ির বাজারে নতুন সম্ভাবনা, সঙ্গে বড় চ্যালেঞ্জ

উড়ন্ত গাড়ির ধারণা নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এমন যান তৈরির চেষ্টা করছে, যা শহরের যানজট এড়িয়ে আকাশপথে যাতায়াত সহজ করবে। বৈদ্যুতিক উড্ডয়নযান, উল্লম্বভাবে ওঠানামা করতে সক্ষম যান এবং ছোট আকাশযানের প্রযুক্তি নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে গবেষণা ও উন্নয়ন চলছে।

তবে এই খাতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্যাটারি বা শক্তির সীমাবদ্ধতা, যাত্রী নিরাপত্তা, শব্দদূষণ, অবকাঠামো, রক্ষণাবেক্ষণ এবং আকাশপথে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ। শহরের মধ্যে নিয়মিত উড়ন্ত যান চালু করতে হলে উড্ডয়ন ও অবতরণের নির্দিষ্ট স্থান, প্রশিক্ষিত পরিচালনাকারী এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার ব্যবস্থাও প্রয়োজন হবে।

টেসলার মতো বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্পেসএক্সের মহাকাশ প্রযুক্তির সংযোগ নতুন উদ্ভাবনের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তবে প্রযুক্তির অভিনবত্বের পাশাপাশি বাস্তব প্রয়োগ কতটা নিরাপদ, কার্যকর ও সাশ্রয়ী হবে, সেটিই শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

তাহলে কি সত্যিই উড়ন্ত গাড়ি আনল টেসলা?

এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সরাসরি বলা যায় না যে টেসলা সাধারণ মানুষের ব্যবহারের উপযোগী পূর্ণাঙ্গ উড়ন্ত গাড়ি বাজারে নিয়ে এসেছে। নতুন রোডস্টারের প্রদর্শনীতে থ্রাস্টার প্রযুক্তির মাধ্যমে শূন্যে ওঠার ধারণা তুলে ধরা হলেও দীর্ঘ সময় উড্ডয়ন, আকাশপথে যাতায়াত এবং যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা প্রমাণিত হয়নি।

এ ছাড়া গাড়িটির চূড়ান্ত নকশা, বাস্তব পরীক্ষার ফলাফল, নিরাপত্তা অনুমোদন এবং বাণিজ্যিক উৎপাদনসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয় পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত প্রদর্শনীকে উড়ন্ত গাড়ির পূর্ণাঙ্গ সাফল্য হিসেবে দেখার সুযোগ সীমিত।

ইলন মাস্কের প্রদর্শনী ভবিষ্যতের পরিবহন প্রযুক্তি নিয়ে নতুন কৌতূহল তৈরি করেছে। কিন্তু কল্পবিজ্ঞানের উড়ন্ত গাড়ি বাস্তবে দেখতে হলে শুধু মাটি ছেড়ে ওপরে ওঠাই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন নিরাপদ, নিয়ন্ত্রিত ও নির্ভরযোগ্য আকাশপথে চলাচলের প্রযুক্তি। টেসলার নতুন রোডস্টার সেই লক্ষ্যে কতটা এগোতে পারবে, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যতের পরীক্ষা, উৎপাদন এবং বাস্তব কার্যক্ষমতার ওপর।

সূত্র: বিবিসি

কালের আলো/জেএন/এসএ

 

সাম্প্রদায়িকতার ঊর্ধ্বে মানবিক বন্ধন, দুর্গাপূজায় সম্প্রীতির বার্তা রিজভীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪৪ অপরাহ্ণ
সাম্প্রদায়িকতার ঊর্ধ্বে মানবিক বন্ধন, দুর্গাপূজায় সম্প্রীতির বার্তা রিজভীর

শারদীয় দুর্গাপূজা শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের উৎসব নয়, বরং সব ধর্মের মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করার উপলক্ষ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, কোনো উৎসবই মানুষকে সাম্প্রদায়িক ভেদরেখা বা সীমানার মধ্যে আটকে রাখে না; বরং সব বিভেদ অতিক্রম করে মানুষকে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে একত্র করে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) বেলা পৌনে ১১টার দিকে রাজধানীর মিরপুর কেন্দ্রীয় মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

‘দুর্গাপূজা সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে’

রুহুল কবির রিজভী বলেন, নবান্নের এই দেশে দুর্গাপূজা কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়। মানুষের ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু উৎসবের আনন্দ সবাইকে একসূত্রে বাঁধে। তিনি বলেন, উৎসবের মূল মর্মবাণীই হচ্ছে মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ জাগিয়ে তোলা এবং পারস্পরিক দূরত্ব কমিয়ে আনা। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিন্নতা যেন মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক ও সৌহার্দ্যের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেই বার্তাও তুলে ধরেন তিনি। রিজভীর মতে, দুর্গাপূজায় বিভিন্ন ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে, উৎসবের আনন্দ একটি সম্প্রদায়ের গণ্ডি পেরিয়ে সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

শৈশবের স্মৃতিতে দুর্গাপূজার মেলা

দুর্গাপূজাকে ঘিরে নিজের শৈশবের স্মৃতিও তুলে ধরেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। তিনি বলেন, ছোটবেলায় বাড়ির পাশে দুর্গাপূজার মেলা বসত। সেই মেলায় রঙিন বেলুন, খেলনা পিস্তল ও বিভিন্ন ধরনের মিষ্টান্নের প্রতি আকর্ষণ ছিল তাঁর। প্রতিবছর দুর্গাপূজার সময়টির জন্য অপেক্ষা করতেন তাঁরা। শৈশবের সেই স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে তিনি বোঝাতে চান, উৎসবের আনন্দ মানুষের ব্যক্তিগত স্মৃতি ও সামাজিক জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকে। এই আনন্দ ধর্মীয় পরিচয়ের সীমা ছাড়িয়ে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও সৌহার্দ্য গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখে।

প্রদীপের আলোয় সংকীর্ণতা দূর করার আহ্বান

প্রদীপ প্রজ্বালনের তাৎপর্য তুলে ধরে রিজভী বলেন, আগুন যেমন অনেক কিছুকে পরিশুদ্ধ করে, তেমনি আগুন মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করারও প্রতীক। এ প্রসঙ্গে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে’ গানের কথা উল্লেখ করেন তিনি। রিজভী বলেন, প্রজ্বলিত প্রদীপের প্রতীকী উত্তাপ যদি প্রতিটি প্রাণে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তাহলে মানুষ সব ধরনের ক্লেদ, গ্লানি ও সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে একই মানবিক বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে। তাঁর বক্তব্যে উৎসবের আধ্যাত্মিক তাৎপর্যের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে উদারতা, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

আতিথেয়তা ও উদারতার প্রশংসা

মিরপুর কেন্দ্রীয় মন্দিরের আয়োজকদের আতিথেয়তা ও উদারতার প্রশংসা করেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, অন্য সম্প্রদায়ের মানুষকে অভ্যর্থনা জানানো, শুভেচ্ছা বিনিময় করা এবং বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া উদারতা ও সম্প্রীতির প্রকাশ। তাঁর মতে, বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সৌহার্দ্য বাড়ানোর এমন উদ্যোগ সামাজিক ঐক্যকে শক্তিশালী করে। উৎসবের আয়োজন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকলে ভ্রাতৃত্ববোধ আরও দৃঢ় হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় আগাম উদ্যোগের কথা

শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক মাস আগে থেকেই বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদেরও এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। রিজভী আরও বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে এ উপলক্ষে জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং জেলায় জেলায় নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং তাদের প্রয়োজন ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন। উৎসব নিরাপদ রাখতে কী ধরনের ব্যবস্থা প্রয়োজন, তা নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পূজামণ্ডপ ও মন্দিরগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দলীয় পর্যায়ের উদ্যোগের পাশাপাশি প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ছুটি, চাল ও মন্দিরের বরাদ্দ নিয়ে বক্তব্য

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন দাবির প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, তিন দিনের ছুটির দাবির বিপরীতে পাঁচ দিনের ছুটি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি পূজামণ্ডপে ৫০০ কেজির পরিবর্তে ৬০০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি আরও জানান, প্রতিটি মন্দিরের জন্য মাসিক আট হাজার টাকা বরাদ্দ এবং পুরোহিত ও সেবায়েতদের সরকারি ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। রিজভী বলেন, মন্দিরে ভক্তরা তাঁদের ইষ্টদেবতার কাছে প্রার্থনা করেন এবং পরিবারের সদস্যদের মঙ্গল কামনা করেন। সেই প্রার্থনা যেন নির্বিঘ্নে করতে পারেন, সে জন্য মন্দিরে শান্তি ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। নিরাপত্তার অভাব থাকলে ভক্তদের প্রার্থনায় মনোযোগ বিঘ্নিত হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নিরাপদ ও আনন্দময় উৎসবের প্রত্যাশা

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, দলীয়ভাবে প্রতিটি পূজামণ্ডপ ও মন্দিরের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকার প্রশাসনের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়ে রিজভী প্রত্যাশা করেন, এবারের উৎসব সাফল্যমণ্ডিত ও আনন্দময় হবে। সবার জীবনে নতুন আনন্দের দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

 

হাম-ডেঙ্গুতে বিপর্যস্ত জনস্বাস্থ্য

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩৮ অপরাহ্ণ
হাম-ডেঙ্গুতে বিপর্যস্ত জনস্বাস্থ্য

দেশে একদিকে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যু পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। দুই রোগের সংক্রমণ সামাল দিতে হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর চাপ। বিশেষ করে হামের উপসর্গ নিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষের হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এবং ডেঙ্গুতে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়া জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রস্তুতি ও সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শুক্রবার বিকেল চারটা পর্যন্ত প্রকাশিত সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার তথ্য অনুযায়ী, হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন চারজন। এ সময়ে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ১ হাজার ১৬৪ জনের মধ্যে। পরীক্ষায় নতুন করে হাম শনাক্ত হয়েছে ৪৬ জনের শরীরে। ডেঙ্গুতে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ১৮১ জন।

  • হামের উপসর্গে মৃত্যু ১ হাজার ছাড়িয়েছে, ডেঙ্গুতে মৃত ৩৩৫
  • দুই রোগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর পরিসংখ্যানে উদ্বেগ
  • সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান ও মশা নিয়ন্ত্রণে জোর দেওয়ার প্রয়োজন

এই পরিসংখ্যান বলছে, হাম ও ডেঙ্গু এখন দুটি পৃথক স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে একসঙ্গে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। হামের ক্ষেত্রে শিশুদের সুরক্ষা, টিকাদান এবং দ্রুত জটিল রোগী শনাক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, সংক্রমণ নজরদারি ও সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি। শুধু রোগীর সংখ্যা প্রকাশ নয়, মৃত্যুর পেছনের কারণ চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

হামের উপসর্গে মৃত্যু বেশি, নিশ্চিত সংক্রমণের হিসাব আলাদা
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬১৫ জন। একই সময়ে হামের উপসর্গ দেখা গেছে ২ লাখ ১১ হাজার ৪০ জনের মধ্যে। পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ২২ হাজার ৯৭২ জনের।

এ সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ১৮৬ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছেন ১০৪ জন। বাকি ১ হাজার ৮২ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে। অর্থাৎ, হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম শনাক্ত হওয়ার পর মৃত্যুর সংখ্যার তুলনায় প্রায় ১০ গুণ। তবে উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া প্রত্যেকের মৃত্যুর কারণ হাম—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। পরীক্ষায় নিশ্চিত সংক্রমণ এবং উপসর্গভিত্তিক মৃত্যুর হিসাব আলাদা করে দেখা প্রয়োজন।

এই পার্থক্যটি জনস্বাস্থ্যের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি হলে সংশ্লিষ্ট রোগের পাশাপাশি অন্য সম্ভাব্য কারণও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে পর্যাপ্ত পরীক্ষা, চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ এবং প্রয়োজনে বিস্তারিত পর্যালোচনা জরুরি। একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগ শনাক্তকরণ ও পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরে।

ঢাকায় হামের উপসর্গে মৃত্যু সবচেয়ে বেশি
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ক্ষেত্রে ঢাকা বিভাগ সবচেয়ে এগিয়ে। এ বিভাগে মৃত্যুর সংখ্যা ৪৮৮। এরপর সিলেটে ১৮৯, চট্টগ্রামে ৯৮, রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৮২, বরিশালে ৬৫, খুলনায় ৪৯ এবং রংপুরে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ঢাকা বিভাগের মৃত্যুসংখ্যা অন্য বিভাগগুলোর তুলনায় বেশি হওয়ায় রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় রোগী শনাক্তকরণ, চিকিৎসা এবং শিশুদের সুরক্ষায় বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তবে শুধু মৃত্যুর মোট সংখ্যা দিয়ে কোনো এলাকায় সংক্রমণের প্রকৃত তীব্রতা নির্ধারণ করা যায় না। সংশ্লিষ্ট এলাকার জনসংখ্যা, রোগীর সংখ্যা, হাসপাতালে ভর্তি এবং চিকিৎসাসুবিধার তথ্যও বিবেচনায় নেওয়া দরকার। হামের ক্ষেত্রে শিশুদের সময়মতো টিকা দেওয়া এবং সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। জটিলতা দেখা দেওয়া রোগীদের দ্রুত শনাক্ত করে উপযুক্ত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে না পারলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে।

ডেঙ্গুতে মৃত্যু বাড়ছে, দুই মাসেই প্রাণহানি প্রায় ৭১ শতাংশ
হামের পাশাপাশি ডেঙ্গুর পরিস্থিতিও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৪৪০ জন। তাঁদের মধ্যে ১ লাখ ২ হাজার ২১০ জন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন। এ সময়ে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৩৩৫।

মাসভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বছরের শুরুর দিকে ডেঙ্গুতে মৃত্যু তুলনামূলক কম থাকলেও পরবর্তী সময়ে তা বেড়েছে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে এবং মে মাসে একজন মারা যান। জুনে মৃত্যু হয় ১৩ জনের, জুলাইয়ে ৩৬, আগস্টে ৪৩ এবং সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জনের। অক্টোবরে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৯০ জন। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের তথ্য মিলিয়ে দেখা যায়, এ দুই মাসেই চলতি বছরের মোট ডেঙ্গু মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশ ঘটেছে। অর্থাৎ বছরের শেষ ভাগে এসে ডেঙ্গুর প্রাণঘাতী প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

এই প্রবণতা ডেঙ্গু প্রতিরোধে আগাম প্রস্তুতি এবং দীর্ঘমেয়াদি নজরদারির প্রয়োজনীয়তা সামনে আনে। শুধু বর্ষাকালে মশা নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম জোরদার করলেই যথেষ্ট কি না, তা নতুন করে পর্যালোচনা করা দরকার। তবে মৃত্যুর মাসভিত্তিক পরিসংখ্যান একা দিয়ে সংক্রমণ বা মৃত্যুর বৃদ্ধির নির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করা যায় না। এ জন্য রোগীর বয়স, শারীরিক অবস্থা, হাসপাতালে আসার সময়, রোগের জটিলতা এবং চিকিৎসার তথ্য বিশ্লেষণ করতে হবে।

ডেঙ্গু আর ঢাকাকেন্দ্রিক নয়, বাড়ছে বিভাগীয় পর্যায়েও রোগীর চাপ
গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৬ জন এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে ১২৫ জন। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২১৯ জন।

বিভাগীয় হিসাবে চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ২৪২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। খুলনায় ১৪০, বরিশালে ১২৭, রাজশাহীতে ৯৯, ময়মনসিংহে ৯২ এবং রংপুরে ৭১ জন ভর্তি হয়েছেন। এই চিত্র থেকে বোঝা যায়, ডেঙ্গু মোকাবিলায় শুধু রাজধানীকে কেন্দ্র করে পরিকল্পনা করলে চলবে না। চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন অঞ্চলে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে চিকিৎসার প্রস্তুতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম, প্রশিক্ষিত জনবল এবং জটিল রোগীর ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা পর্যাপ্ত না হলে রোগীর চাপ সামলানো কঠিন হতে পারে। ডেঙ্গুতে মৃত্যুর কারণ পর্যালোচনাও জরুরি। রোগী দেরিতে হাসপাতালে আসছেন কি না, বিপৎসংকেত শনাক্তে কোনো ঘাটতি রয়েছে কি না কিংবা চিকিৎসা পেতে বিলম্ব হচ্ছে কি না—এসব বিষয় বিশ্লেষণ করলে মৃত্যুঝুঁকি কমানোর কার্যকর পথ বের করা সম্ভব।

দুই রোগ, দুই ধরনের চ্যালেঞ্জ
হাম ও ডেঙ্গু—দুই রোগের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি এক নয়। তাই একই ধরনের কর্মসূচি দিয়ে দুই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব হবে না। হামের ক্ষেত্রে টিকাদানের আওতা বাড়ানো, বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করা, আক্রান্ত ব্যক্তির দ্রুত পরীক্ষা এবং জটিল রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনাগুলো যথাযথভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন, যাতে হাম ও অন্য রোগের কারণে মৃত্যুর পার্থক্য স্পষ্ট হয়।

ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে বাড়িঘর, নির্মাণাধীন ভবন, ছাদ, পরিত্যক্ত পাত্র ও অন্যান্য স্থানে জমে থাকা পানি অপসারণের মাধ্যমে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে। নিয়মিত নজরদারি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং বিপৎসংকেত দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ। দুই রোগের ক্ষেত্রেই হাসপাতালের প্রস্তুতি, পর্যাপ্ত জনবল এবং সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা প্রকাশ করে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না; এসব তথ্যের ভিত্তিতে কোথায় ঘাটতি রয়েছে, কোন জনগোষ্ঠী বেশি ঝুঁকিতে এবং কোন পদক্ষেপে মৃত্যুহার কমানো সম্ভব—তা নির্ধারণ করতে হবে।

পরিসংখ্যানের পর এবার কার্যকর পদক্ষেপের সময়
হাম ও ডেঙ্গুর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার সামনে দুটি জরুরি কাজ তুলে ধরছে। প্রথমত, সংক্রমণ প্রতিরোধ ও রোগী ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়ানো। দ্বিতীয়ত, মৃত্যুর কারণ বিশ্লেষণ করে প্রতিরোধযোগ্য ঝুঁকিগুলো চিহ্নিত করা।

হামের উপসর্গ নিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষের অসুস্থতা এবং ডেঙ্গুতে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মৃত্যুর বড় অংশ কেন্দ্রীভূত হওয়া—দুটিই নিয়মিত নজরদারি ও সময়োপযোগী প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা দেখায়। বিশেষ করে শিশুদের টিকাদান, রোগী শনাক্তকরণ, বিভাগীয় পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা এবং ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাফল্য শুধু কতজন আক্রান্ত হলেন বা কতজন হাসপাতালে ভর্তি হলেন, তা দিয়ে বিচার করা যায় না। কতজনের মৃত্যু প্রতিরোধ করা গেল, ঝুঁকিপূর্ণ রোগীরা কত দ্রুত চিকিৎসা পেলেন এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কতটা অগ্রগতি হলো—এসব সূচকও সমান গুরুত্বপূর্ণ। হাম ও ডেঙ্গু মোকাবিলায় এখন সেই ফলাফল নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

কালের আলো/টিইকে/এমকে