খুঁজুন
                               
, ,
           

হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটের আস্থা ধরে রাখাই বিএনপির বড় পরীক্ষা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫২ অপরাহ্ণ
হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটের আস্থা ধরে রাখাই বিএনপির বড় পরীক্ষা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের সমর্থন বিএনপির বিজয়ে ভূমিকা রেখেছে—এমন মূল্যায়ন করছেন দলটির নেতাদের অনেকে। তাদের মতে, অতীতে যে সম্প্রদায়কে আওয়ামী লীগের নির্ভরযোগ্য ভোটভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হতো, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেই সমীকরণে পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। এই সমর্থন ভবিষ্যতেও ধরে রাখা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টিকে এখন গুরুত্ব দিচ্ছে ক্ষমতাসীন বিএনপি।

এই প্রেক্ষাপটে শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতা-কর্মীদের বিশেষভাবে সক্রিয় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পূজার আয়োজনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, স্থানীয় পর্যায়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার ওপর জোর দিয়েছে দলীয় নেতৃত্ব।

  • ভোটের মাঠে বদলে যাওয়া সমীকরণ ধরে রাখার লক্ষ্য
  • নির্বাচনী সমর্থনকে দীর্ঘমেয়াদি ভরসায় রূপ দিতে চায় ক্ষমতাসীন দল
  • দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি নিশ্চিতে এমপি-মন্ত্রীদের মাঠে থাকার নির্দেশ তারেক রহমানের

ভোটের সমীকরণে নতুন বাস্তবতা
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটকে আওয়ামী লীগের সমর্থনভিত্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হতো। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তন দেশের ভোটের হিসাব-নিকাশে নতুন বাস্তবতা তৈরি করে। এর ধারাবাহিকতায় গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলকে বিএনপির নেতারা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সমর্থন পাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচনা করছেন।

দলটির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রত্যাশা থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের একটি অংশ বিএনপির প্রতি আস্থা রেখেছেন। তবে এই সমর্থনের ব্যাপ্তি বা ভোটের পরিসংখ্যান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া পুরো সম্প্রদায়কে একটি দলের সমর্থক হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিএনপি এখন এই সমর্থনকে কেবল নির্বাচনী সাফল্যের অংশ হিসেবে দেখছে না; বরং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবেও ধরে রাখতে চাইছে। সে ক্ষেত্রে নির্বাচনের সময় তৈরি হওয়া আস্থাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া দলটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

তারেক রহমানের নির্দেশনায় নিরাপত্তা ও আস্থার বার্তা
সরকার গঠনের পর বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। গত ১১ অক্টোবরের বৈঠকে সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, নিরাপদ মনে করায় ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ এবার বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন বলে তিনি মনে করেন। তাই তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত খোঁজখবর রাখার দায়িত্ব জনপ্রতিনিধিদের।

দলীয় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে থাকার নির্দেশ দেওয়ার মধ্য দিয়ে বিএনপির নেতৃত্ব একটি রাজনৈতিক বার্তা দিতে চেয়েছে—নির্বাচনে পাওয়া সমর্থনের মর্যাদা রক্ষা করতে হবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে। দুর্গাপূজায় নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দলীয় নির্দেশনার লক্ষ্য শুধু উৎসবের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা নয়; বরং সংখ্যালঘুদের মধ্যে নিরাপত্তা ও আস্থার অনুভূতি জোরদার করা।

দুর্গাপূজাকে ঘিরে বাড়তি সতর্কতা
দীর্ঘ বিরতির পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ফিরে বিএনপির আমলে এটিই প্রথম শারদীয় দুর্গাপূজা। ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুক্রবার সারা দেশে শুরু হওয়া এই উৎসবকে কেন্দ্র করে সরকার ও ক্ষমতাসীন দল সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

বিএনপির আশঙ্কা, রাজনৈতিকভাবে পরাজিত কোনো পক্ষ কিংবা অন্য কোনো মহল দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করতে পারে। এমন আশঙ্কা থেকে দলীয় ও প্রশাসনিক পর্যায়ে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সংসদ সদস্য, জেলা পরিষদের প্রশাসক এবং স্থানীয় নেতাদের মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রীদেরও নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ নেওয়ার কথা রয়েছে। তবে এই সতর্কতার কার্যকারিতা নির্ভর করবে বাস্তব পরিস্থিতি মোকাবিলার ওপর। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, অপ্রীতিকর ঘটনার দ্রুত প্রতিক্রিয়া, গুজব প্রতিরোধ এবং সব সম্প্রদায়ের মানুষের সমান নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রধান দায়িত্ব।

মাঠপর্যায়ে সমন্বয়ের ওপর জোর
নেত্রকোণা-২ আসনের বিএনপি সংসদ সদস্য ও দলের জেলা সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুসারে স্থানীয় প্রশাসন ও পূজামণ্ডপ কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন তারা। উৎসব যাতে আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয়, সেটিই তাদের প্রধান প্রত্যাশা বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অন্যদিকে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিএনপির গঠিত কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণ কমিটির সদস্যসচিব ও দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের ভাষ্য, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যেন নির্বিঘ্নে দুর্গোৎসব উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য সরকার ও দল সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তারেক রহমান আগেই সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, প্রশাসক, দলীয় নেতা ও বিভিন্ন সাংগঠনিক ইউনিটকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। ইউনিট পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে অনলাইন বৈঠক করে বিষয়টি নিয়ে আলাদাভাবে আলোচনা করা হয়েছে।

বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুও বলেছেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের আস্থা ধরে রাখতে হলে তাদের পাশে থাকতে হবে। দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন করতে স্থানীয় প্রশাসন ও পূজামণ্ডপ কমিটির সঙ্গে সমন্বয়ের কথাও জানিয়েছেন তিনি।

রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি, নাকি দীর্ঘমেয়াদি আস্থার পরীক্ষা?
বিএনপির সামনে এখন দুটি বিষয় সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, দুর্গাপূজাসহ ধর্মীয় উৎসবগুলোতে নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত, নির্বাচনের বাইরেও হিন্দু সম্প্রদায়ের নাগরিক অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের প্রশ্নে ধারাবাহিক অবস্থান বজায় রাখা। শুধু উৎসবের সময় নেতাদের উপস্থিতি কিংবা নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি আস্থা অর্জন করা কঠিন। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় পরিচয় নির্বিশেষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নজির তৈরি করতে হবে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের একটি অভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী হিসেবে না দেখে তাদের স্বতন্ত্র মতামত, নাগরিক অধিকার ও রাজনৈতিক পছন্দকে সম্মান করা। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কোনো সম্প্রদায়ের সমর্থন স্থায়ীভাবে কোনো দলের একক সম্পদ নয়। সেই সমর্থন নির্ভর করে রাজনৈতিক আচরণ, সুশাসন ও জনগণের অভিজ্ঞতার ওপর। হিন্দু সম্প্রদায়ের সমর্থন ধরে রাখার রাজনৈতিক লক্ষ্য থাকতেই পারে। কিন্তু সেই লক্ষ্য অর্জনের সবচেয়ে কার্যকর পথ হবে নাগরিক হিসেবে তাদের সমান মর্যাদা, নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা। বিএনপি যদি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিকে নিয়মিত প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও জবাবদিহির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে পারে, তাহলে বর্তমান উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদি আস্থার ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।

কালের আলো/জেএন/এমকে

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ, কোন দিন কোন পরীক্ষা?

শিক্ষা ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৩ অপরাহ্ণ
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ, কোন দিন কোন পরীক্ষা?
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ২০২৬ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করেছে। আগামী ২০ ডিসেম্বর থেকে এ পরীক্ষা শুরু হবে। চার দিনব্যাপী পরীক্ষা চলবে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষার এ সময়সূচি জানানো হয়েছে।

কোন দিন কোন পরীক্ষা

প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, ২০ ডিসেম্বর বাংলা, ২১ ডিসেম্বর ইংরেজি এবং ২২ ডিসেম্বর প্রাথমিক গণিত বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। শেষ দিন ২৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং প্রাথমিক বিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হবে।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত সময়

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত ৩০ মিনিট বরাদ্দ থাকবে। ফলে এসব পরীক্ষার্থী অন্যদের তুলনায় বাড়তি সময় পাবেন।

যে সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে সময়সূচি

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গত ২৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৬-এর সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে সভার সিদ্ধান্তের ৩ নম্বর ক্রমিকের ‘খ’ ও ‘ঘ’ অনুযায়ী এ সময়সূচি নির্ধারণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রকাশিত সময়সূচি অনুসরণ করার অনুরোধ জানিয়েছে। পরীক্ষার্থীদের নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি পরীক্ষার সময় ও বিষয়ভিত্তিক রুটিন ভালোভাবে দেখে নেওয়া প্রয়োজন।

কালের আলো/এএন/এসএ

দুর্গাপূজায় সর্বোচ্চ সতর্কতায় দেশের ৫৩৮ ফায়ার স্টেশন

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
দুর্গাপূজায় সর্বোচ্চ সতর্কতায় দেশের ৫৩৮ ফায়ার স্টেশন

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সারা দেশের পূজামণ্ডপগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ৫৩৮টি ফায়ার স্টেশন। পূজামণ্ডপ পরিদর্শন, অগ্নিঝুঁকি পর্যবেক্ষণ এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিতে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সংস্থাটি। এ ছাড়া দুর্ঘটনা মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা হবে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর কাজী আলাউদ্দীন রোডে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ। সংবাদ সম্মেলনে ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মহাপরিচালক জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও দুর্গাপূজার সময় পূজামণ্ডপগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। পূজা চলাকালে সারা দেশে চালু থাকা ৫৩৮টি ফায়ার স্টেশন সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থেকে অগ্নিনিরাপত্তা তদারক করবে। এ সময় স্থানীয় প্রশাসন ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখবেন ফায়ার সার্ভিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পূজামণ্ডপে কোনো ধরনের অগ্নিঝুঁকি দেখা দিলে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতিও থাকবে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে সম্ভাব্য অগ্নিঝুঁকি পর্যবেক্ষণ করবেন। ঝুঁকি শনাক্ত হলে তা কমাতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হবে। পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত যোগাযোগের জন্য নিকটস্থ ফায়ার স্টেশনের তথ্য এবং সংস্থাটির ১০২ নম্বর হটলাইন প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। মহাপরিচালক জানান, শুধু মাঠপর্যায়ের কর্মীরাই নন, অস্থায়ী ফায়ার স্টেশনের পাশাপাশি বিভাগ, জেলা ও জোন পর্যায়ের কর্মকর্তারাও সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকবেন। এর মাধ্যমে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা তদারকি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

দুর্গাপূজার সময় অগ্নিদুর্ঘটনা বা অন্য কোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষসহ সব বিভাগীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে। ফলে দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন মহাপরিচালক। পূজামণ্ডপে অগ্নিকাণ্ডসহ যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মীদের প্রস্তুত রাখা হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। প্রতিমা বিসর্জনের স্থানগুলোতেও নিরাপত্তা ও জরুরি সহায়তার প্রস্তুতি রাখবে ফায়ার সার্ভিস। এসব স্থানে প্রয়োজন অনুযায়ী জনবল ও স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন করা হবে।

এ ছাড়া পরিস্থিতি বিবেচনায় রোড রেসকিউ সরঞ্জাম, অ্যাম্বুলেন্স এবং রাতে প্রয়োজন হলে লাইটিং ইউনিট প্রস্তুত রাখা হবে। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে যাতে দ্রুত উদ্ধারকাজ পরিচালনা এবং আহত বা বিপদে পড়া ব্যক্তিদের সহায়তা করা যায়, সে লক্ষ্যেই এ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ বলেন, ‘সচেতনতাই সুরক্ষা।’ অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফায়ার সার্ভিসের প্রস্তুতির পাশাপাশি সবার সচেতনতা ও আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৯ পদে নিয়োগ

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৯ পদে নিয়োগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও সহায়ক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির সংশোধনী প্রকাশ করা হয়েছে। ৬ষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডের বিভিন্ন পদে নিয়োগের এ সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি গত ১৩ অক্টোবর প্রকাশ করা হয়। এতে একটি পদের সংখ্যা কমানো হয়েছে এবং আবেদনের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। আগের বিজ্ঞপ্তিতে মোট পদ ছিল ১০০টি।

সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অনলাইনে আবেদন করার শেষ তারিখ ৩১ অক্টোবর ২০২৬। আগে এ সময়সীমা ছিল ১৮ অক্টোবর। অনলাইনে আবেদনের পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদনপত্রের হার্ডকপি জমা দিতে হবে ১ নভেম্বরের মধ্যে।

কোন পদে কত নিয়োগ

বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে সহকারী কম্পট্রোলার, সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ফিজিওথেরাপিস্ট, সেকশন অফিসার, সহকারী উদ্যানতত্ত্ববিদ, কালচারাল অফিসার, সায়েন্টিফিক অফিসার, মেডিক্যাল অফিসার, প্রশাসনিক অফিসারসহ বিভিন্ন পদ রয়েছে।

এ ছাড়া উপসহকারী প্রকৌশলী, ল্যাবরেটরি সহকারী, উচ্চমান সহকারী, ল্যাব টেকনিশিয়ান, ক্যাটালগার, গ্রন্থাগার সহকারী, ড্রাইভার, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার টাইপিস্ট, ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট, অফিস সহায়কসহ বিভিন্ন কারিগরি ও সহায়ক পদে নিয়োগ দেওয়া হবে।

উল্লেখযোগ্য কয়েকটি পদ ও বেতন

সহকারী কম্পট্রোলার পদে ২ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। এ পদের বেতন স্কেল ৩৫,৫০০ থেকে ৬৭,০১০ টাকা। সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে ১ জন নেওয়া হবে, যার বেতন স্কেল ২২,০০০ থেকে ৫৩,০৬০ টাকা।

একই বেতন স্কেলে ফিজিওথেরাপিস্ট, সেকশন অফিসার, সহকারী উদ্যানতত্ত্ববিদ, কালচারাল অফিসার ও সায়েন্টিফিক অফিসার পদেও নিয়োগ রয়েছে। এসব পদের প্রতিটিতে ১ থেকে ২ জন করে নিয়োগ দেওয়া হবে।

মেডিক্যাল অফিসার পদে নিয়োগের সংখ্যা আগের বিজ্ঞপ্তির ২ জন থেকে কমিয়ে ১ জন করা হয়েছে। এ পদের বেতন স্কেল ২২,০০০ থেকে ৫৩,০৬০ টাকা। প্রশাসনিক অফিসার পদে ১ জন এবং উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে ২ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। এ দুটি পদের বেতন স্কেল ১৬,০০০ থেকে ৩৮,৬৪০ টাকা।

অন্যান্য পদে নিয়োগ ও বেতন

ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৪ জন, উচ্চমান সহকারী পদে ৩ জন, ল্যাব টেকনিশিয়ান (প্যাথলজি) পদে ১ জন, ক্যাটালগার পদে ২ জন এবং গ্রন্থাগার সহকারী পদে ১ জন নেওয়া হবে। এসব পদের বেতন স্কেল ১১,০০০ থেকে ২৭,৩০০ টাকার মধ্যে।

ড্রাইভার (হেভি) পদে ২ জন এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার টাইপিস্ট পদে ১৪ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। এ ছাড়া ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট পদে ৬ জন, লিফটম্যান পদে ৫ জন, মালি পদে ৫ জন, ডাইনিং অ্যাটেনডেন্ট পদে ৮ জন এবং অফিস সহায়ক পদে ১১ জন নেওয়া হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি, প্লাম্বার মিস্ত্রি, বুক সর্টার, বাবুর্চি, বৈদ্যুতিক হেলপার, বাস হেলপার, বাস ক্লিনার, মাঠ সহকারী, সুইপারসহ বিভিন্ন কারিগরি ও সহায়ক পদও রয়েছে। এসব পদের বেতন স্কেল জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়েছে।

যেভাবে আবেদন করবেন

আগ্রহী প্রার্থীদের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগসংক্রান্ত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে নিজস্ব প্রোফাইল তৈরি করতে হবে। এরপর অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করে আবেদনপত্র ডাউনলোড করতে হবে। আবেদনপত্রের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও পেমেন্ট রশিদ সংযুক্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিসে হার্ডকপি জমা দিতে হবে।

প্রতিটি অফিসের জন্য পৃথকভাবে আবেদন করতে হবে। যেসব পদে পুনর্বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে, সেসব পদে আগে আবেদন করে থাকলে প্রার্থীদের নতুন করে আবেদন করার প্রয়োজন নেই। তবে সহকারী উদ্যানতত্ত্ববিদ পদে আগে আবেদনকারীদেরও পুনরায় আবেদন করতে হবে না বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবেদন ফি কত

পদ অনুযায়ী আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। ১ থেকে ১০ নম্বর পদের জন্য ৬০০ টাকা, ১১ থেকে ১৭ নম্বর পদের জন্য ৩০০ টাকা এবং ১৮ থেকে ৩৯ নম্বর পদের জন্য ২০০ টাকা ফি দিতে হবে।

আবেদনের শেষ তারিখ

অনলাইনে আবেদন করা যাবে ৩১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত। আবেদনপত্রের হার্ডকপি জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১ নভেম্বর ২০২৬।

নিয়োগের পদ, যোগ্যতা, বেতন ও আবেদনের বিস্তারিত শর্ত জানতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখুন। অনলাইনে আবেদন করতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ ওয়েবসাইটে।

কালের আলো/এএইচ/এসএ