খুঁজুন
                               
, ,
           

মায়ের ছাগল বিক্রির টাকায় কেনা ফোন, সেই ছেলেই এখন জাপানে মাইক্রোসফটে

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০১ অপরাহ্ণ
মায়ের ছাগল বিক্রির টাকায় কেনা ফোন, সেই ছেলেই এখন জাপানে মাইক্রোসফটে

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক: ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য একটি মোবাইল ফোন কেনার সামর্থ্যও ছিল না পরিবারের। ছেলের শেখার আগ্রহ দেখে মা একটি ছাগল বিক্রি করে সেই ফোন কিনে দিয়েছিলেন। সেই ফোনকে মডেম হিসেবে ব্যবহার করেই প্রযুক্তির জগতে প্রবেশের পথ খুঁজে নেন কুষ্টিয়ার তরুণ মো. নাসিম আল আওয়াল। দীর্ঘ সংগ্রাম, অধ্যবসায় ও দক্ষতা অর্জনের মধ্য দিয়ে আজ তিনি জাপানে মাইক্রোসফটের ক্লাউড অবকাঠামো পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত কাজে যুক্ত হয়েছেন।

২০২৬ সালের ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত তাঁর সাফল্যের গল্পটি দেখিয়েছে, সীমিত সুযোগের মধ্যেও শেখার আগ্রহ ও ধারাবাহিক চেষ্টা একজন মানুষকে কত দূর এগিয়ে নিতে পারে।

ইলেকট্রনিক যন্ত্রের প্রতি ছোটবেলা থেকেই আগ্রহ

কুষ্টিয়ার আমলা-সদরপুর এলাকার নাসিমের ছোটবেলা থেকেই ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির প্রতি ছিল গভীর কৌতূহল। পরিচিতদের মোবাইল ফোন কিংবা টেলিভিশনের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতেন তিনি। এই আগ্রহই ধীরে ধীরে তাঁকে প্রযুক্তি বিষয়ে পড়াশোনা ও দক্ষতা অর্জনের পথে এগিয়ে দেয়।

নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় ডিনেটের কম্পিউটার লিটারেসি প্রোগ্রামে অংশ নিয়ে কম্পিউটার শেখার সুযোগ পান নাসিম। পরে ভর্তি হন কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার প্রযুক্তি বিভাগে। সেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের প্রযুক্তিগত জ্ঞান বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যান।

মায়ের কিনে দেওয়া ফোনেই শুরু প্রযুক্তি শেখা

নাসিমের শেখার পথে বড় সহায়তা হয়ে আসে মায়ের বিক্রি করা ছাগলের টাকায় কেনা মোবাইল ফোনটি। ওই ফোনকে মডেম হিসেবে ব্যবহার করে ইন্টারনেটে যুক্ত হতেন তিনি। অনলাইনে প্রযুক্তিবিষয়ক ভিডিও দেখতেন, বিভিন্ন ফোরামে প্রশ্ন করতেন এবং নানা সমস্যার সমাধান খুঁজতেন।

প্রযুক্তি শেখার জন্য তখন তাঁর হাতে ছিল না দামি কম্পিউটার কিংবা পর্যাপ্ত সরঞ্জাম। কিন্তু সীমিত সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অনলাইনে শেখার অভ্যাস গড়ে তোলেন তিনি। ধীরে ধীরে সেই চর্চাই তাঁর দক্ষতা ও পেশাগত জীবনের ভিত্তি তৈরি করে।

ডিনেটে কাজ, হাজারো শিক্ষকের সঙ্গে প্রযুক্তি নিয়ে অভিজ্ঞতা

২০১২ সালে ডিনেটে প্রোগ্রাম অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে যোগ দেন নাসিম। পরে প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট ও সহকারী পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় দেশের প্রায় ৩৫০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি। পাশাপাশি প্রায় তিন হাজার শিক্ষককে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজেও যুক্ত ছিলেন।

এই অভিজ্ঞতা তাঁকে শুধু প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জনেই সাহায্য করেনি, বরং বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে কাজ করা, সমস্যা সমাধান এবং দায়িত্ব পালনের দক্ষতাও বাড়িয়েছে।

জাপানে গিয়ে প্রথমে কাজ করেন গাড়ির কারখানায়

২০১৮ সালের শেষ দিকে জাপানে পাড়ি জমান নাসিম। তবে বিদেশে পা রেখেই প্রযুক্তি খাতে কাঙ্ক্ষিত চাকরি পাননি তিনি। প্রথমে নাগোয়ার একটি গাড়ি কারখানার উৎপাদন লাইনে কাজ শুরু করেন। নতুন দেশ, ভাষা ও পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি প্রযুক্তি খাতে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতিও চালিয়ে যান।

পরিশ্রমের পাশাপাশি নিজের দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। অনলাইনে বিভিন্ন কোর্স করে প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও ভাষাগত সক্ষমতা উন্নত করার চেষ্টা করেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল, সুযোগ পেলে নিজের শেখা বিষয়গুলো বাস্তব কর্মক্ষেত্রে কাজে লাগানো।

এনটিটি কমিউনিকেশনসে নতুন অধ্যায়

২০২০ সালের মে মাসে নাসিম জাপানের এনটিটি কমিউনিকেশনসে নেটওয়ার্ক অপারেশনস সেন্টার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেন। সেখানে সাবমেরিন কেবলের সিগন্যাল পর্যবেক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের প্রযুক্তিগত সহায়তাসংক্রান্ত কাজে যুক্ত ছিলেন তিনি।

এই অভিজ্ঞতা তাঁর পেশাগত যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আন্তর্জাতিক যোগাযোগ অবকাঠামো নিয়ে কাজ করার মাধ্যমে নেটওয়ার্ক পরিচালনা, সমস্যা শনাক্তকরণ এবং প্রযুক্তিগত সেবা দেওয়ার বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন নাসিম।

একবার প্রত্যাখ্যাত হয়েও থামেননি

বড় প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানে কাজ করার স্বপ্ন পূরণে একাধিকবার আবেদন করেছিলেন নাসিম। কিন্তু সব আবেদনেই সফলতা আসেনি। ২০২২ সালে মাইক্রোসফটে আবেদন করেও প্রত্যাখ্যাত হন তিনি।

তবে সেই ব্যর্থতাকে চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে দেখেননি। বরং কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা বোঝার চেষ্টা করেন। নিজের দক্ষতা আরও উন্নত করা, প্রয়োজনীয় বিষয়ে শেখা এবং পরবর্তী সুযোগের জন্য প্রস্তুত থাকার ওপর জোর দেন।

দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর নাসিম মাইক্রোসফট জাপানের ক্লাউড অপারেশনস অ্যান্ড ইনোভেশনস দলের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পান। সেখানে ক্লাউড অবকাঠামোর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যুক্ত হন তিনি।

‘আমি কখনো অসাধারণ ছাত্র ছিলাম না, কিন্তু হাল ছাড়িনি’

নিজের অর্জন সম্পর্কে নাসিমের বক্তব্য, ‘আমি কখনো অসাধারণ ছাত্র ছিলাম না। কিন্তু হাল ছাড়িনি।’

তাঁর এই বক্তব্য সাফল্যের পেছনে ধারাবাহিক চেষ্টা ও শেখার মানসিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে। সবকিছু অনুকূলে না থাকলেও নিজের লক্ষ্য ধরে রেখে দক্ষতা বাড়ানোর মাধ্যমে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি।

ভবিষ্যতে বাংলাদেশের তরুণদের সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে চান নাসিম। বিশেষ করে চাকরির আবেদনে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর হতাশ না হয়ে কীভাবে প্রস্তুতি চালিয়ে যেতে হয়, সে বিষয়ে তরুণদের উৎসাহিত করতে আগ্রহী তিনি।

সংগ্রাম থেকে সাফল্য, তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা

নাসিম আল আওয়ালের পথচলা শুধু একটি আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানে চাকরি পাওয়ার গল্প নয়। এটি সীমিত আর্থিক সামর্থ্য, শেখার আগ্রহ, পেশাগত অনিশ্চয়তা এবং বারবার ব্যর্থতার মধ্যেও চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার গল্প।

মায়ের বিক্রি করা ছাগলের টাকায় কেনা একটি ফোন তাঁর প্রযুক্তি শেখার যাত্রার সূচনা করেছিল। সেই যাত্রা তাঁকে নিয়ে গেছে জাপানের প্রযুক্তি খাতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কর্মপরিবেশে। তাঁর অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের তরুণদের মনে করিয়ে দেয়, সুযোগের সীমাবদ্ধতা বড় বাধা হতে পারে, কিন্তু শেখার আগ্রহ ও ধারাবাহিক প্রস্তুতি নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে।

কালের আলো/এএন/এএইচ

কারিগরি শিক্ষায় চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি

শিক্ষা ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৭ অপরাহ্ণ
কারিগরি শিক্ষায় চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি

কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করতে চীনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। এ উদ্যোগের আওতায় দেশের আটটি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আধুনিকায়ন, যৌথ শিক্ষা কর্মসূচি চালু, স্মার্ট শ্রেণিকক্ষ স্থাপন এবং শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) চীনের তিয়েনজিনের মেইজিয়াং কনভেনশন অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে ২০২৬ সালের বিশ্ব কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা উন্নয়ন সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে এসব উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়।

প্রকাশিত হলো ‘বেইজিং অ্যাগ্রিমেন্ট’

সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে ‘ফ্রেমওয়ার্ক অব ওয়ার্ল্ড ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন স্ট্যান্ডার্ডস’ বা ‘বেইজিং অ্যাগ্রিমেন্ট’ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার বৈশ্বিক মানদণ্ড প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নেওয়া এ উদ্যোগে সমর্থন জানিয়েছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের পক্ষে সমর্থনকারী দেশগুলোর প্রতিনিধি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

সম্মেলনে ৪০টির বেশি দেশের শিক্ষামন্ত্রী এবং ১০০টির বেশি দেশের সরকারি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। সেখানে বেইজিং অ্যাগ্রিমেন্টের পাশাপাশি চীনের বৃত্তিমূলক শিক্ষা বিষয়ক শ্বেতপত্র, লুবান ওয়ার্কশপের জাতীয় মানদণ্ড এবং আন্তর্জাতিক কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (টিভিইটি) খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশ-চীন সমঝোতায় যেসব উদ্যোগ থাকছে

সম্মেলনের যৌথ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় সহযোগিতা জোরদার করতে সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং চীনের শিক্ষা উপমন্ত্রী ওয়াং গুয়াংইয়ান এতে স্বাক্ষর করেন।

সমঝোতার আওতায় বাংলাদেশের আটটি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে চীনের কারিগরি শিক্ষাক্রম, পাঠদান পদ্ধতি ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ মডেলের আলোকে আধুনিকায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

চালু হতে পারে যৌথ শিক্ষা কর্মসূচি

বাংলাদেশ ও চীনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ২+২ ও ৩+১ মডেলে যৌথ কারিগরি শিক্ষা কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে দুই দেশের প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এ ছাড়া কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে স্মার্ট শ্রেণিকক্ষ এবং আধুনিক প্রশিক্ষণ সুবিধা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে শিক্ষার্থীরা আধুনিক প্রযুক্তি ও শিল্প খাতের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পেতে পারেন।

চীনে কর্মসংস্থান ও বৃত্তির সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা

সমঝোতা স্মারকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য চীনের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ। পাশাপাশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে চীনের গুয়াংডং, জিয়াংসি ও অন্যান্য প্রদেশের খ্যাতনামা কারিগরি ও উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অংশীদার হিসেবে কাজ করবে। ফলে দুই দেশের মধ্যে কারিগরি শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে যৌথ কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়

বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ উদ্যোগে দেশে একটি নতুন কারিগরি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও সমঝোতার আওতায় রয়েছে। তবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের বিস্তারিত সময়সূচি ও অন্যান্য শর্ত সম্পর্কে আরও তথ্য প্রয়োজন।

পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দক্ষ জনশক্তি তৈরির সুযোগ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা, বৃত্তি ও কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।

কালের আলো/এএন/এসএ

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ, কোন দিন কোন পরীক্ষা?

শিক্ষা ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৩ অপরাহ্ণ
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ, কোন দিন কোন পরীক্ষা?
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ২০২৬ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করেছে। আগামী ২০ ডিসেম্বর থেকে এ পরীক্ষা শুরু হবে। চার দিনব্যাপী পরীক্ষা চলবে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষার এ সময়সূচি জানানো হয়েছে।

কোন দিন কোন পরীক্ষা

প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, ২০ ডিসেম্বর বাংলা, ২১ ডিসেম্বর ইংরেজি এবং ২২ ডিসেম্বর প্রাথমিক গণিত বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। শেষ দিন ২৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং প্রাথমিক বিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হবে।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত সময়

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত ৩০ মিনিট বরাদ্দ থাকবে। ফলে এসব পরীক্ষার্থী অন্যদের তুলনায় বাড়তি সময় পাবেন।

যে সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে সময়সূচি

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গত ২৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৬-এর সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে সভার সিদ্ধান্তের ৩ নম্বর ক্রমিকের ‘খ’ ও ‘ঘ’ অনুযায়ী এ সময়সূচি নির্ধারণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রকাশিত সময়সূচি অনুসরণ করার অনুরোধ জানিয়েছে। পরীক্ষার্থীদের নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি পরীক্ষার সময় ও বিষয়ভিত্তিক রুটিন ভালোভাবে দেখে নেওয়া প্রয়োজন।

কালের আলো/এএন/এসএ

দুর্গাপূজায় সর্বোচ্চ সতর্কতায় দেশের ৫৩৮ ফায়ার স্টেশন

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
দুর্গাপূজায় সর্বোচ্চ সতর্কতায় দেশের ৫৩৮ ফায়ার স্টেশন

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সারা দেশের পূজামণ্ডপগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ৫৩৮টি ফায়ার স্টেশন। পূজামণ্ডপ পরিদর্শন, অগ্নিঝুঁকি পর্যবেক্ষণ এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিতে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সংস্থাটি। এ ছাড়া দুর্ঘটনা মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা হবে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর কাজী আলাউদ্দীন রোডে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ। সংবাদ সম্মেলনে ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মহাপরিচালক জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও দুর্গাপূজার সময় পূজামণ্ডপগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। পূজা চলাকালে সারা দেশে চালু থাকা ৫৩৮টি ফায়ার স্টেশন সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থেকে অগ্নিনিরাপত্তা তদারক করবে। এ সময় স্থানীয় প্রশাসন ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখবেন ফায়ার সার্ভিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পূজামণ্ডপে কোনো ধরনের অগ্নিঝুঁকি দেখা দিলে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতিও থাকবে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে সম্ভাব্য অগ্নিঝুঁকি পর্যবেক্ষণ করবেন। ঝুঁকি শনাক্ত হলে তা কমাতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হবে। পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত যোগাযোগের জন্য নিকটস্থ ফায়ার স্টেশনের তথ্য এবং সংস্থাটির ১০২ নম্বর হটলাইন প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। মহাপরিচালক জানান, শুধু মাঠপর্যায়ের কর্মীরাই নন, অস্থায়ী ফায়ার স্টেশনের পাশাপাশি বিভাগ, জেলা ও জোন পর্যায়ের কর্মকর্তারাও সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকবেন। এর মাধ্যমে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা তদারকি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

দুর্গাপূজার সময় অগ্নিদুর্ঘটনা বা অন্য কোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষসহ সব বিভাগীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে। ফলে দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন মহাপরিচালক। পূজামণ্ডপে অগ্নিকাণ্ডসহ যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মীদের প্রস্তুত রাখা হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। প্রতিমা বিসর্জনের স্থানগুলোতেও নিরাপত্তা ও জরুরি সহায়তার প্রস্তুতি রাখবে ফায়ার সার্ভিস। এসব স্থানে প্রয়োজন অনুযায়ী জনবল ও স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন করা হবে।

এ ছাড়া পরিস্থিতি বিবেচনায় রোড রেসকিউ সরঞ্জাম, অ্যাম্বুলেন্স এবং রাতে প্রয়োজন হলে লাইটিং ইউনিট প্রস্তুত রাখা হবে। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে যাতে দ্রুত উদ্ধারকাজ পরিচালনা এবং আহত বা বিপদে পড়া ব্যক্তিদের সহায়তা করা যায়, সে লক্ষ্যেই এ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ বলেন, ‘সচেতনতাই সুরক্ষা।’ অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফায়ার সার্ভিসের প্রস্তুতির পাশাপাশি সবার সচেতনতা ও আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি