দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা জোরদার, নারায়ণগঞ্জে মাঠে ৬২ বিজিবি
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ শহরের পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল শুরু করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গত ১৬ অক্টোবর থেকে নারায়ণগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (৬২ বিজিবি) সদস্যরা এ নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) ৬২ বিজিবির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। একই দিন নারায়ণগঞ্জ শহরের মিশনপাড়ায় রামকৃষ্ণ মিশনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মির্জা মোহাম্মদ আরাফাত।
বিজিবি জানায়, দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এ জন্য একটি সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।
পরিকল্পনার আওতায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) এবং পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
দুর্গাপূজা ঘিরে গুজব, অপতথ্য ও সাম্প্রদায়িক উসকানি প্রতিরোধেও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। প্রয়োজন অনুযায়ী স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা সহায়তা দেওয়া হবে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায়ও প্রস্তুত থাকবেন বিজিবি সদস্যরা।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মির্জা মোহাম্মদ আরাফাত বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সচেতনতা, সহযোগিতা এবং গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
তিনি সবাইকে গুজবে কান না দেওয়া, যাচাই না করে কোনো তথ্য প্রচার না করা এবং সন্দেহজনক কিছু নজরে এলে দ্রুত বিজিবি ব্যাটালিয়ন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’—এই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় করতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও আনন্দময় হয়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন ৬২ বিজিবির অধিনায়ক।
কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]