খুঁজুন
                               
, ,
           

মনোহরদী-বেলাবের ৮০ পূজামণ্ডপে অনুদান দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নরসিংদী সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৫ অপরাহ্ণ
মনোহরদী-বেলাবের ৮০ পূজামণ্ডপে অনুদান দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাধীনতার পর এবার শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনে সর্বোচ্চ আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি বলেছেন, পূজা উপলক্ষে অসহায় মানুষের মধ্যে শাড়ি বিতরণ করা হয়েছে। উৎসব নির্বিঘ্ন ও আনন্দমুখর করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পাশাপাশি বিএনপির নেতাকর্মীরাও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজা উদযাপনে সহযোগিতা করছেন।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার তামাকান্দা গ্রামে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপি একটি অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও অসাম্প্রদায়িক চিন্তা-চেতনায় বিশ্বাসী। তাঁর নেতৃত্বে সব ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার সব সময় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতি বজায় রেখে একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বেলাব উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আহসান হাবীব বিপ্লব। সঞ্চালনা করেন মনোহরদী উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আমিনুর রহমান সরকার দোলন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বেলাব উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব এম এ কাদের জলিল, মনোহরদী পৌর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল হান্নান মিয়া, উপজেলা বিএনপির সদস্য গোলাম মোস্তফা, মনোহরদী পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি রাজিব রায়, সাধারণ সম্পাদক সুকোমল মোধকসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

মতবিনিময় সভা শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাঁর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে মনোহরদী ও বেলাব উপজেলার ৮০টি পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের হাতে আর্থিক অনুদান তুলে দেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনায় বসছে ঢাকা

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২২ অপরাহ্ণ
শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনায় বসছে ঢাকা

ভারতের সঙ্গে আসন্ন পঞ্চম কনস্যুলার সংলাপে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার অভিযুক্ত ফয়সালকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করবে ঢাকা।

২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এটিই হতে যাচ্ছে প্রথম আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সংলাপ।

কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, অক্টোবরের শেষদিকে সংলাপ আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে দুর্গাপূজার কারণে নভেম্বরের শুরুতে বৈঠকটি আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে ভারত।

এর আগে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে কূটনৈতিক নোটের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছিল ঢাকা। পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণার পরও তাঁকে ফেরত চেয়ে ভারতকে নতুন করে অনুরোধ জানানো হয়।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের আগেই মহাপরিচালক পর্যায়ে এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি তিনজনকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রশ্নটি বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে।

দুই দেশের বর্তমান সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে আসন্ন সংলাপকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের অবস্থান এবং আলোচনার অগ্রগতি পরবর্তী সময়ে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কের গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এ বিষয়ে ভারতের চূড়ান্ত অবস্থান বা সংলাপের ফলাফল এখনো জানা যায়নি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

৩৩ হাজার পূজামণ্ডপে শান্তির বার্তা, গুজব নিয়ে সতর্ক করলেন আইজিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ণ
৩৩ হাজার পূজামণ্ডপে শান্তির বার্তা, গুজব নিয়ে সতর্ক করলেন আইজিপি

দেশব্যাপী ৩৩ হাজারের বেশি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা-অর্চনা চলার কথা জানিয়ে প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির বিপিএম। একই সঙ্গে পূজাকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা সম্পর্কে সতর্ক করে জনগণকে গুজবের বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইজিপি এসব কথা বলেন।

  • প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপনের প্রত্যয় মো. আলী হোসেন ফকিরের
  • নিরাপত্তায় সমন্বিত উদ্যোগ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর গুরুত্বারোপ

তাঁর বক্তব্যে দুর্গাপূজার নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে পূজা উদযাপন কমিটির সমন্বয়, গুজব প্রতিরোধ এবং ৫ আগস্ট-পরবর্তী পরিস্থিতি থেকে পুলিশের ঘুরে দাঁড়ানোর বিষয়গুলো উঠে এসেছে। বক্তব্যের সামগ্রিক তাৎপর্য হচ্ছে—ধর্মীয় উৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি ও জনআস্থা বজায় রাখতে সম্মিলিত উদ্যোগের বিকল্প নেই।

সমন্বিত প্রচেষ্টায় নিরাপত্তা, বিসর্জন পর্যন্ত সুষ্ঠু উদযাপনের প্রত্যয়
আইজিপি বলেন, ‘সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশব্যাপী ৩৩ হাজারের বেশি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা-অর্চনা চলছে। এটা সম্ভব হয়েছে পূজা কমিটির সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে, তারা আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা দিচ্ছেন।’ তিনি প্রকাশ করে বলেন, প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত সুষ্ঠু এবং সুন্দরভাবে পূজা উদযাপিত হবে।

আইজিপির বক্তব্যে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ ও আয়োজকদের পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ধর্মীয় উৎসবের মতো বড় আয়োজনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বয়, তথ্য আদান-প্রদান এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে আগাম সতর্কতা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

গুজব প্রতিরোধে সচেতনতার গুরুত্ব
পূজাকে কেন্দ্র করে কিছু মানুষের বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টার বিষয়ে সতর্ক করে আইজিপি বলেন, ‘পূজাকে কেন্দ্র করে কিছু মানুষ বিভ্রান্তি ছাড়ানোর চেষ্টা করছে। জনগণকে গুজব থেকে সচেতন থাকতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘দেবী দুর্গার মতোই অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে সবাইকে লড়াই করে যেতে হবে।’

ধর্মীয় উৎসবের সময় গুজব ও যাচাইবিহীন তথ্য সামাজিক উত্তেজনা তৈরির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ঘটনার অসম্পূর্ণ বিবরণ, পুরোনো ছবি বা ভিডিও কিংবা ভিত্তিহীন দাবি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও অবিশ্বাস তৈরি হতে পারে।

এ কারণে আইজিপির সতর্কবার্তার তাৎপর্য শুধু গুজব থেকে দূরে থাকার আহ্বানে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তথ্য যাচাই করে দায়িত্বশীল আচরণ করার প্রয়োজনীয়তাও এর সঙ্গে যুক্ত। কোনো তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত না হয়ে সেটি প্রচার না করা, সন্দেহজনক ঘটনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো এবং উত্তেজনামূলক বক্তব্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকা নাগরিক দায়িত্বের অংশ।

ধর্ম, মত ও বর্ণের ঊর্ধ্বে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান
জাতীয় ঐক্য ও সম্প্রীতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে আইজিপি বলেন, ‘আমরা যে ধর্মের, যে মতের, যে বর্ণের-ই হই না কেন; দেশটি আমাদেরই। সকল অপশক্তি নির্মূল করে একটি সুখী, শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধময় বাংলাদেশ গঠন করা আমাদের লক্ষ্য।’ তাঁর এই বক্তব্যে নাগরিকদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে জাতীয় ঐক্যের ধারণা বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। একটি বহুধর্মীয় সমাজে প্রত্যেকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের আস্থা বজায় রাখার অন্যতম শর্ত। আইজিপি তাই দুর্গাপূজার নিরাপত্তার তাৎক্ষণিক প্রেক্ষাপট ছাড়িয়ে বৃহত্তর সামাজিক দায়িত্বের কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি স্তরে সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার চর্চা জরুরি।

৫ আগস্ট-পরবর্তী পরিস্থিতি থেকে পুলিশের ঘুরে দাঁড়ানোর কথা
পুলিশের কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়া এবং ওই সময়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে আইজিপি বলেন, ‘৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে পাঁচ-সাত দিন পুলিশের কোনো কার্যক্রম ছিল না। তখন কারো নিরাপত্তা ছিল না, সবাই আমরা উদ্বিগ্ন ছিলাম। ছিনতাই, রাহাজানি, ডাকাতি বহু রকমের অঘটন ঘটেছে। আপনাদের সহযোগিতায় সেই জায়গা থেকে বাংলাদেশ পুলিশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে।’

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘সকল অপশক্তি, সকল অন্যায়, বৈষম্য দূর করে আমরা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রেখে সকলের জীবন-মান উন্নয়ন করতে সক্ষম হবো।’ মূলত পুলিশ প্রধানের এই বক্তব্যে ৫ আগস্ট-পরবর্তী পরিস্থিতি থেকে পুলিশের পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাধারণ মানুষের সহযোগিতার বিষয়টি সামনে এসেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সংকটের সময় পুলিশের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটেছিল এবং বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক ঘটনা ঘটেছিল। পরবর্তী সময়ে জনসাধারণের সহযোগিতায় পুলিশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পূজা উদযাপন পরিষদের সন্তোষ, নিরাপত্তায় সমন্বয়ের স্বীকৃতি
পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ পুলিশ বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, পুলিশ সকল পূজামণ্ডপ নিরাপত্তা চাদরে ঢেকে দিয়েছে। ফলে নিরাপদে পূজা উদযাপিত হচ্ছে। পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের এই বক্তব্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তাঁদের সন্তুষ্টির প্রতিফলন। একই সঙ্গে এটি পুলিশ ও পূজা আয়োজকদের মধ্যে সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে। অনুষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা এবং পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

কর্মীদের বাড়ি ও ভাড়া ঘরেই চলছে রাজারহাটের ডাকঘর

যশোর সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ণ
কর্মীদের বাড়ি ও ভাড়া ঘরেই চলছে রাজারহাটের ডাকঘর

একসময় গ্রামের মানুষের খবর আদান-প্রদানের অন্যতম ভরসা ছিল ডাকঘর। সময়ের পরিবর্তনে ব্যক্তিগত চিঠির ব্যবহার কমেছে, তবে সরকারি নথি ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ডাক বিভাগের ভূমিকা এখনো রয়েছে। অথচ কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার অনেক শাখা ডাকঘরের নিজস্ব ভবন নেই। কোথাও কর্মীদের ব্যক্তিগত বাড়িতে, আবার কোথাও ভাড়া করা ঘরে চলছে ডাকসেবার কার্যক্রম।

নিজস্ব ভবন না থাকায় ডাক বিভাগের কর্মীদের নিজেদের অর্থ ব্যয় করে অফিস পরিচালনা করতে হচ্ছে। কোথাও কর্মীরা মিলে ঘর ভাড়া নিয়েছেন, আবার কোথাও ব্যক্তিগত জমিতে ডাকঘর চালু থাকলেও ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ মেলেনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কয়েকটি শাখা ডাকঘরের কর্মীরা সবাই মিলে একটি ঘর ভাড়া নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। প্রত্যেকে মাসে ১০০ টাকা করে মোট ৩০০ টাকা ভাড়া দেন। অফিসের প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র কেনার জন্যও তাঁরা নিজেদের পকেট থেকে প্রায় সাত হাজার টাকা ব্যয় করেছেন।

ডাংরারহাট পোস্ট অফিসের চিত্রও প্রায় একই। ইডিএ জোৎস্না আক্তার জানান, আগে বাজারে একটি ঘর ভাড়া নিয়ে ডাকঘরের কার্যক্রম চালানো হতো। এর জন্য মাসে ৬০০ টাকা ভাড়া নিজেদের অর্থে পরিশোধ করতে হতো। প্রায় তিন বছর ধরে তাঁর বাড়িতেই চলছে পোস্ট অফিসটি। সেখানে তাঁর সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন মো. পেয়ারুল ইসলাম ও লিয়াকত আলী।

জোৎস্না আক্তার বলেন, ‘আগে সিমেন্টের দোকানের পাশে অফিস ছিল। প্রতিদিন ট্রাক আসা-যাওয়া করত। তাই বাড়িতে পোস্ট অফিস করেছি। পোস্ট অফিসের জন্য আমার শ্বশুর তিন শতাংশ জমি দিয়েছেন। কিন্তু অফিসের ভবনের জন্য কোনো বাজেট এখনো হয়নি।’

এদিকে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ডাকঘরের সেবার ধরনেও পরিবর্তন এসেছে। একসময় ব্যক্তিগত চিঠির জন্য ডাকঘরে মানুষের আনাগোনা থাকলেও এখন সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। ইডিডিএ মোজাফফর হোসেন বলেন, আগের মতো মানুষ আর চিঠি লেখেন না। ব্যক্তিগত চিঠির সংখ্যা কমেছে। তবে ব্যাংকঋণ-সংক্রান্ত চিঠি এখন বেশি আসে।

রাজারহাট উপজেলা ডাকঘরে পোস্টমাস্টার সুরভী শারমিনসহ চারজন কর্মরত রয়েছেন। অন্যদিকে নাজিমখান সাব পোস্ট অফিসে দায়িত্ব পালন করছেন পোস্টমাস্টার আনোয়ারুল ইসলাম ও একজন পোস্টম্যান।

শাখা পোস্ট অফিসগুলোর অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলা পোস্টমাস্টার সুরভী শারমিন বলেন, ‘আমার দায়িত্ব শুধু হিসাব গ্রহণ করা। এর বাইরে শাখা অফিস সম্পর্কে আমি কিছু জানি না।’

এ বিষয়ে লালমনিরহাট প্রধান ডাকঘরের পোস্ট অফিস পরিদর্শক ও রাজারহাট উপজেলার শাখা পোস্ট অফিসের পরিদর্শক মোকলেছুর রহমান জানান, শাখা ডাকঘরগুলোর অবস্থা সম্পর্কে বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ অবগত রয়েছে। অফিসের জমি ও ভবনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রতিবছর প্রতিবেদন নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ‘এ বছর দক্ষিণাঞ্চলে বাজেট হয়েছে। হয়তো পরবর্তী বছর উত্তরাঞ্চলে বাজেট আসবে। বাজেট আসলেই ভবনের কাজ শুরু করা হবে।’

একসময় গ্রামের মানুষের খবর পাওয়ার অন্যতম মাধ্যম ছিল যে ডাকঘর, সেই ডাকঘরেরই অনেক শাখার এখন স্থায়ী ঠিকানা নেই। কর্মীদের ব্যক্তিগত বাড়ি ও ভাড়া করা ঘরে চলছে সরকারি সেবা। যোগাযোগের মাধ্যম বদলেছে, কমেছে চিঠির ব্যবহার; কিন্তু মানুষের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সরকারি নথি পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব এখনো রয়ে গেছে। এ অবস্থায় রাজারহাটের শাখা ডাকঘরগুলো কবে নিজস্ব ভবন পাবে, তা জানতে অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি