খুঁজুন
                               
, ,
           

৩৩ হাজার পূজামণ্ডপে শান্তির বার্তা, গুজব নিয়ে সতর্ক করলেন আইজিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ণ
৩৩ হাজার পূজামণ্ডপে শান্তির বার্তা, গুজব নিয়ে সতর্ক করলেন আইজিপি

দেশব্যাপী ৩৩ হাজারের বেশি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা-অর্চনা চলার কথা জানিয়ে প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির বিপিএম। একই সঙ্গে পূজাকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা সম্পর্কে সতর্ক করে জনগণকে গুজবের বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইজিপি এসব কথা বলেন।

  • প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপনের প্রত্যয় মো. আলী হোসেন ফকিরের
  • নিরাপত্তায় সমন্বিত উদ্যোগ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর গুরুত্বারোপ

তাঁর বক্তব্যে দুর্গাপূজার নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে পূজা উদযাপন কমিটির সমন্বয়, গুজব প্রতিরোধ এবং ৫ আগস্ট-পরবর্তী পরিস্থিতি থেকে পুলিশের ঘুরে দাঁড়ানোর বিষয়গুলো উঠে এসেছে। বক্তব্যের সামগ্রিক তাৎপর্য হচ্ছে—ধর্মীয় উৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি ও জনআস্থা বজায় রাখতে সম্মিলিত উদ্যোগের বিকল্প নেই।

সমন্বিত প্রচেষ্টায় নিরাপত্তা, বিসর্জন পর্যন্ত সুষ্ঠু উদযাপনের প্রত্যয়
আইজিপি বলেন, ‘সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশব্যাপী ৩৩ হাজারের বেশি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা-অর্চনা চলছে। এটা সম্ভব হয়েছে পূজা কমিটির সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে, তারা আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা দিচ্ছেন।’ তিনি প্রকাশ করে বলেন, প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত সুষ্ঠু এবং সুন্দরভাবে পূজা উদযাপিত হবে।

আইজিপির বক্তব্যে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ ও আয়োজকদের পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ধর্মীয় উৎসবের মতো বড় আয়োজনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বয়, তথ্য আদান-প্রদান এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে আগাম সতর্কতা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

গুজব প্রতিরোধে সচেতনতার গুরুত্ব
পূজাকে কেন্দ্র করে কিছু মানুষের বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টার বিষয়ে সতর্ক করে আইজিপি বলেন, ‘পূজাকে কেন্দ্র করে কিছু মানুষ বিভ্রান্তি ছাড়ানোর চেষ্টা করছে। জনগণকে গুজব থেকে সচেতন থাকতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘দেবী দুর্গার মতোই অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে সবাইকে লড়াই করে যেতে হবে।’

ধর্মীয় উৎসবের সময় গুজব ও যাচাইবিহীন তথ্য সামাজিক উত্তেজনা তৈরির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ঘটনার অসম্পূর্ণ বিবরণ, পুরোনো ছবি বা ভিডিও কিংবা ভিত্তিহীন দাবি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও অবিশ্বাস তৈরি হতে পারে।

এ কারণে আইজিপির সতর্কবার্তার তাৎপর্য শুধু গুজব থেকে দূরে থাকার আহ্বানে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তথ্য যাচাই করে দায়িত্বশীল আচরণ করার প্রয়োজনীয়তাও এর সঙ্গে যুক্ত। কোনো তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত না হয়ে সেটি প্রচার না করা, সন্দেহজনক ঘটনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো এবং উত্তেজনামূলক বক্তব্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকা নাগরিক দায়িত্বের অংশ।

ধর্ম, মত ও বর্ণের ঊর্ধ্বে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান
জাতীয় ঐক্য ও সম্প্রীতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে আইজিপি বলেন, ‘আমরা যে ধর্মের, যে মতের, যে বর্ণের-ই হই না কেন; দেশটি আমাদেরই। সকল অপশক্তি নির্মূল করে একটি সুখী, শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধময় বাংলাদেশ গঠন করা আমাদের লক্ষ্য।’ তাঁর এই বক্তব্যে নাগরিকদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে জাতীয় ঐক্যের ধারণা বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। একটি বহুধর্মীয় সমাজে প্রত্যেকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের আস্থা বজায় রাখার অন্যতম শর্ত। আইজিপি তাই দুর্গাপূজার নিরাপত্তার তাৎক্ষণিক প্রেক্ষাপট ছাড়িয়ে বৃহত্তর সামাজিক দায়িত্বের কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি স্তরে সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার চর্চা জরুরি।

৫ আগস্ট-পরবর্তী পরিস্থিতি থেকে পুলিশের ঘুরে দাঁড়ানোর কথা
পুলিশের কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়া এবং ওই সময়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে আইজিপি বলেন, ‘৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে পাঁচ-সাত দিন পুলিশের কোনো কার্যক্রম ছিল না। তখন কারো নিরাপত্তা ছিল না, সবাই আমরা উদ্বিগ্ন ছিলাম। ছিনতাই, রাহাজানি, ডাকাতি বহু রকমের অঘটন ঘটেছে। আপনাদের সহযোগিতায় সেই জায়গা থেকে বাংলাদেশ পুলিশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে।’

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘সকল অপশক্তি, সকল অন্যায়, বৈষম্য দূর করে আমরা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রেখে সকলের জীবন-মান উন্নয়ন করতে সক্ষম হবো।’ মূলত পুলিশ প্রধানের এই বক্তব্যে ৫ আগস্ট-পরবর্তী পরিস্থিতি থেকে পুলিশের পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাধারণ মানুষের সহযোগিতার বিষয়টি সামনে এসেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সংকটের সময় পুলিশের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটেছিল এবং বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক ঘটনা ঘটেছিল। পরবর্তী সময়ে জনসাধারণের সহযোগিতায় পুলিশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পূজা উদযাপন পরিষদের সন্তোষ, নিরাপত্তায় সমন্বয়ের স্বীকৃতি
পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ পুলিশ বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, পুলিশ সকল পূজামণ্ডপ নিরাপত্তা চাদরে ঢেকে দিয়েছে। ফলে নিরাপদে পূজা উদযাপিত হচ্ছে। পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের এই বক্তব্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তাঁদের সন্তুষ্টির প্রতিফলন। একই সঙ্গে এটি পুলিশ ও পূজা আয়োজকদের মধ্যে সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে। অনুষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা এবং পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

ইশরাকের পদত্যাগের নির্দেশের খবর গুজব, দাবি প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৩ অপরাহ্ণ
ইশরাকের পদত্যাগের নির্দেশের খবর গুজব, দাবি প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান—এমন খবরকে গুজব, অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন প্রতিমন্ত্রী ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তাকে ডেকে নিয়ে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে। তবে প্রতিমন্ত্রী এ ধরনের খবরের কোনো সত্যতা নেই বলে জানিয়েছেন।

রোববার এক অডিও বার্তায় ইশরাক হোসেন বলেন, পদত্যাগের নির্দেশসংক্রান্ত খবরটি গুজব হিসেবে বিবেচনা করার জন্য তিনি সবাইকে অনুরোধ জানাচ্ছেন। এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে, উড়ো খবরের মাধ্যমে নয়।

তিনি বলেন, “এর কোনো সত্যতা এখনো নেই। এ রকম কোনো সিদ্ধান্ত আসলে সেটি কোনো উড়ো খবরের মাধ্যমে আসবে না। অবশ্যই অফিসিয়ালি প্রেস কনফারেন্স করে জানানো হবে।” এ সময় তিনি যাচাই না করে কোনো তথ্যকে সংবাদ হিসেবে প্রচার না করতে এবং গুজব সম্পর্কে সতর্ক থাকতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।

এদিকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ও পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ কিংবা তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার খবরকে অসত্য, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে।

প্রতিমন্ত্রীর প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তারের পাঠানো প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, ইশরাক হোসেন তার সরকারি ও রাজনৈতিক দায়িত্ব নিষ্ঠা ও সুনামের সঙ্গে পালন করে যাচ্ছেন। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে তাকে পদত্যাগের কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। তার পদত্যাগের কোনো প্রশ্নও ওঠে না। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল এবং জনসাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি মহল এ ধরনের মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে বলে প্রতিবাদলিপিতে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবাদলিপিতে আরও বলা হয়, গতকাল নিজ সংসদীয় আসনে মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আত্মরক্ষার্থে আইনসম্মতভাবে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা নিয়ে প্রতিমন্ত্রী আগেই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার পদত্যাগের বিষয়ে খবর প্রচারকে বেআইনি ও সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থি বলে দাবি করা হয়েছে।

এর আগে রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে ইশরাক হোসেনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন ব্যক্তির হাতেও অস্ত্র দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

মন্ত্রণালয়ের প্রতিবাদলিপিতে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম ও দেশবাসীকে বিভ্রান্তিকর প্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে যেসব গণমাধ্যমে এ ধরনের খবর প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলো অবিলম্বে প্রত্যাহার করে সঠিক তথ্য তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায় অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও প্রতিবাদলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

২০২৯ সালে নতুন ঠিকানায় সচিবালয়, স্থানান্তর প্রস্তাবে মন্ত্রিসভার অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৫ অপরাহ্ণ
২০২৯ সালে নতুন ঠিকানায় সচিবালয়, স্থানান্তর প্রস্তাবে মন্ত্রিসভার অনুমোদন

বাংলাদেশ সচিবালয় রাজধানীর আবদুল গণি রোড থেকে সরিয়ে শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে নেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৯ সালে নতুন স্থানে সচিবালয়ের দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু হবে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের কথা জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি। বর্তমানে রাজধানীর আবদুল গণি রোডে বাংলাদেশ সচিবালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, সচিবালয় স্থানান্তর করে শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৯ সালে নতুন স্থানে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে স্থানান্তরের বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা, নির্মাণকাজের সময়সূচি ও প্রকল্পের ব্যয় সম্পর্কে প্রকাশিত তথ্যে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

সচিবালয় স্থানান্তরের বিষয়ে এর আগে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একটি সভায় নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ওই সভায় গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, গণপূর্ত অধিদপ্তর এবং স্থাপত্য অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। পরবর্তী সময়ে প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কাজ শুরু করে।

সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গণপূর্ত মন্ত্রণালয় প্রকল্পটি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেয়। এ উদ্দেশ্যে পরিকল্পনা কমিশনকে চিঠি দেওয়া হয়। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের ফলে স্থানান্তর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার পথ তৈরি হয়েছে। তবে প্রকল্পের অর্থায়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, দপ্তরগুলোর স্থান নির্ধারণ এবং পর্যায়ক্রমে স্থানান্তরের বিস্তারিত পরিকল্পনা সম্পর্কে আরও তথ্য জানা প্রয়োজন। সচিবালয় দেশের সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কেন্দ্র। এটি শেরেবাংলা নগরে স্থানান্তরিত হলে সরকারি দপ্তরগুলোর অবস্থান ও প্রশাসনিক অবকাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসবে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

অস্ত্রকাণ্ডে ইশরাকের বিদায়ঘণ্টা, পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৮ অপরাহ্ণ
অস্ত্রকাণ্ডে ইশরাকের বিদায়ঘণ্টা, পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ইশরাককে ডেকে নিয়ে এ নির্দেশ দেওয়া হয় বলে সরকারসংশ্লিষ্ট একাধিক উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এই ধরণের খবর প্রকাশ করেছে প্রথম আলোসহ একাধিক গণমাধ্যম।

রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ইশরাকের মাদকবিরোধী অভিযানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে দয়াগঞ্জ গুন্টিঘর রেলগেট এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। ঘটনাটি নিয়ে বিএনপি ও সরকারের ভেতরেও অসন্তোষ তৈরি হয়।

  • মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন নিয়ে বিএনপি ও সরকারে অস্বস্তি
  • ঘটনার এক দিনের মাথায় কঠোর সিদ্ধান্ত

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নিয়ে আপত্তি না থাকলেও একজন প্রতিমন্ত্রীর নিজ হাতে অস্ত্র নিয়ে অভিযানে অংশগ্রহণ গ্রহণযোগ্য নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কাজে লাগানোর পরিবর্তে কেন তিনি নিজেই এমন ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এর আগে শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর ১৩টি স্থানে আকস্মিক পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি আবাসিক এলাকার পরিচ্ছন্নতা এবং সেবার মান উন্নয়নে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন তিনি। এমন একটি দিনে ইশরাকের অস্ত্র হাতে অভিযানের ঘটনা সরকারের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের আলোচনা আড়াল করে দেয় বলে মনে করছেন দল ও সরকারসংশ্লিষ্ট কয়েকজন।

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির এক সদস্যের মতে, ঘটনাটি শুধু ইশরাকের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যদেরও বিব্রত করেছে। একজন প্রতিমন্ত্রীর আচরণের দায় পুরো মন্ত্রিসভার ওপরও বর্তায়।

ভিডিওতে দেখা যায়, অস্ত্র উঁচিয়ে অভিযানে ইশরাক
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে গেন্ডারিয়া রেলস্টেশনসংলগ্ন দয়াগঞ্জ গুন্টিঘর রেলগেট এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে যান ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন।

নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি থেকে নেমে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে তিনি লোকজনকে ধরার নির্দেশ দিচ্ছেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা নিরাপত্তাকর্মীরা কয়েকজনকে আটক করতে ধাওয়া করেন। ভিডিওর একটি অংশে একজনকে এক তরুণকে লাথি মারতেও দেখা যায়। আটক ব্যক্তিদের কয়েকজনকে নিজেদের নির্দোষ দাবি করতে শোনা যায়।

আরেকটি ভিডিওতে আটক ব্যক্তিদের পুলিশের কাছে হস্তান্তরের দৃশ্য রয়েছে। অভিযানে ইশরাকের ব্যক্তিগতভাবে নিয়োগ করা দুই দেহরক্ষী তোফাজ্জল হোসেন ও লাভলুর পাশাপাশি একজন সরকারি দেহরক্ষীও উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের কয়েকজনের হাতেও অস্ত্র দেখা যায়।

ভিডিওর কিছু অংশে ইশরাকের হাতে থাকা পিস্তল অস্পষ্ট করা হলেও অন্য অংশে অস্ত্রটি স্পষ্ট দেখা যায়। এ সময় গুলি করার হুমকি দেওয়া এক ব্যক্তির পরিচয় অবশ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অস্ত্র প্রদর্শনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন
একজন প্রতিমন্ত্রী প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে এ ধরনের অভিযানে অংশ নিতে পারেন কি না, তা নিয়ে ঘটনার পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালার ২৫ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আত্মরক্ষার প্রয়োজনে লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্র বহন ও ব্যবহার করা গেলেও অন্যের মনে ভয় বা বিরক্তি সৃষ্টি হতে পারে—এমনভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না।

ঘটনাটি তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। রোববার (১৮ অক্টোবর) ডিএমপির গণমাধ্যম কেন্দ্রে এক সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিযানে আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে কোনো ধরনের আইনি ব্যত্যয়ের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র ধরার দাবি ইশরাকের
সমালোচনার মুখে রোববার (১৮ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন ইশরাক হোসেন। তিনি দাবি করেন, মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবেই ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। পুলিশ, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও সামাজিক প্রতিনিধিদের যৌথ সিদ্ধান্তে কর্মসূচিটি নেওয়া হয়েছিল বলে তাঁর বক্তব্য।

ইশরাকের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা-৬ আসনের গেন্ডারিয়ার বিভিন্ন এলাকায় মাদক কারবারের অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করছিলেন। জনবলসংকট দূর করা এবং মাদকের আস্তানার কাছে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি।

বিবৃতিতে তিনি আরও দাবি করেন, অভিযানের আগে মাদক কারবারিদের ছাদ থেকে গুলি চালানোর আশঙ্কার কথা জানতে পারেন। একটি অস্থায়ী মাদকের আস্তানার কাছে পৌঁছালে ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি হইচই করতে করতে তাঁদের গাড়িবহরের দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন। সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় নিজের ও অন্যদের নিরাপত্তার জন্য তিনি এবং তাঁর সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অস্ত্র নামিয়ে নেওয়া হয়। নিজের হাতে থাকা পিস্তলটি বৈধ ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত উল্লেখ করে ইশরাক দাবি করেন, আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যেই তিনি অস্ত্র প্রদর্শন করেছিলেন এবং এতে আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি।

অভিযানে চার থেকে পাঁচটি অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ, মাদকদ্রব্য, অস্ত্র, নগদ অর্থ ও ছিনতাই করা মুঠোফোন উদ্ধারের কথাও জানিয়েছেন তিনি। এ সময় ছয়জনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে তাঁর দাবি। তবে এসব তথ্যের স্বাধীন যাচাই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন
অভিযানের আগে পুলিশের সঙ্গে যথাযথ সমন্বয় করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) ওয়ারী বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মাসুদ রানা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, প্রতিমন্ত্রী আগাম কোনো তথ্য পুলিশকে দেননি। পরে পুলিশ বিষয়টি জানতে পারে। অন্যদিকে, ইশরাকও শনিবার (১৭ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর প্রায় ১০ মিনিট পর তিনি পুলিশকে সেখানে আসতে বলেন। তাঁর এই বক্তব্য এবং পুলিশের বক্তব্যের মধ্যে অসংগতি থাকায় অভিযানের প্রস্তুতি ও সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।

এর আগে পদ ছাড়তে হয়েছিল সংসদ সদস্য মিষ্টিকে
বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে দল ও সরকারকে বিব্রত করার পর পদত্যাগের নির্দেশ পাওয়ার ঘটনা বিএনপিতে এবারই প্রথম নয়। এর আগে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজনের নাম মিরপুরের একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় উঠে আসে।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভবন ভেঙে ফেলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর নাম আলোচনায় আসে। এতে সরকার ও দলের ভেতরে অস্বস্তি তৈরি হয় এবং মিষ্টির রাজনৈতিক দায় নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। যদিও হামলা ও ভাঙচুরে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনার পর গত ১ অক্টোবর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন মিষ্টি। পরে সংসদ সচিবালয় তাঁর আসন শূন্য ঘোষণা করে। মিষ্টির পদত্যাগের প্রায় আড়াই সপ্তাহের মাথায় এবার অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ার ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হলো।

দুটি ঘটনাতেই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের পর দল ও সরকারকে বিব্রত করার বিষয়টি সামনে এসেছে। ফলে ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার ঘটনাকে সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের আচরণ, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে নির্দেশের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত ইশরাকের পদত্যাগের চূড়ান্ত অবস্থা নিশ্চিত নয়।

কালের আলো/এমকে