দুর্গাপূজার শিক্ষা ধারণ করে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার তাগিদ ড. মঈন খানের
দুর্গাপূজার অন্তর্নিহিত শিক্ষা ধারণ করে সমাজে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সব ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ঐতিহ্য বজায় রাখতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শনিবার (১৭ অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জের আমলাপাড়া সার্বজনীন পূজা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত দুর্গাপূজা পরিদর্শনকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
- নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান মন্ত্রীর
- নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্য রক্ষায় গুরুত্বারোপ
মন্ত্রীর বক্তব্যে দুর্গাপূজার ধর্মীয় তাৎপর্যের পাশাপাশি ন্যায়বিচার, মানবিকতা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং নারায়ণগঞ্জের ঐতিহাসিক অর্থনৈতিক পরিচয়ের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। তাঁর বক্তব্যের মূল প্রতিপাদ্য হলো—ধর্মীয় উৎসবের প্রকৃত সার্থকতা কেবল আনুষ্ঠানিক উদযাপনে নয়; বরং উৎসবের অন্তর্নিহিত শিক্ষা বাস্তব জীবনে ধারণ করে একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও সম্প্রীতিময় সমাজ প্রতিষ্ঠার মধ্যেই নিহিত। তিনি নারায়ণগঞ্জের পাটশিল্পের ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রসঙ্গ তুলে তিনি অঞ্চলের অর্থনৈতিক পরিচয় ও সামাজিক সম্প্রীতির গুরুত্বও সামনে এনেছেন।
সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠাই দুর্গাপূজার মূল শিক্ষা
দুর্গাপূজাকে শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার বৃহত্তর সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। সমাজে অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া, নির্যাতিত মানুষের অধিকার রক্ষা করা এবং সত্যকে প্রতিষ্ঠা করার আহ্বানে মন্ত্রী ধর্মীয় উৎসবের শিক্ষাকে সামাজিক দায়িত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত করেছেন। দুর্গাপূজার অন্তর্নিহিত তাৎপর্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেছেন, ‘পৃথিবীতে চিরন্তন দ্বন্দ্ব চলছে সত্য ও মিথ্যা, ন্যায় ও অন্যায়ের মধ্যে। দুর্গাপূজার শিক্ষা হলো মিথ্যাকে অতিক্রম করে সত্য প্রতিষ্ঠা করা, অন্যায়কে পরাজিত করা এবং নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। এই শিক্ষা ধারণ করতে পারলেই পূজা উদযাপন সার্থক হবে।’

অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী দুর্গাপূজার প্রতীকী তাৎপর্যকে সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। সমাজে নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সম্মিলিত সামাজিক অবস্থান গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। দেবী দুর্গার পৌরাণিক তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘দেবী দুর্গা অসুরকে দমন করে ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। দুর্গাপূজার এই শিক্ষা ধারণ করে সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে।’
নারায়ণগঞ্জের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য ধরে রাখার আহ্বান
নারায়ণগঞ্জের মতো ঐতিহাসিক ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চলে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। বিভিন্ন ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান শুধু সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য নয়, পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও সম্মিলিত অগ্রগতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তাই নারায়ণগঞ্জের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘এ অঞ্চলে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ঐতিহ্য রয়েছে। এই সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
পাটশিল্পের ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন
নারায়ণগঞ্জের ঐতিহাসিক অর্থনৈতিক পরিচয়ের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পাটশিল্পের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। নারায়ণগঞ্জ ছিল এই শিল্পের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। এ অঞ্চলের ঐতিহ্য ধরে রাখার পাশাপাশি সব ধর্মের মানুষের মধ্যে শান্তি, শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতির পরিবেশ অটুট রাখতে হবে।’
পূজা আয়োজকদের ধন্যবাদ, উৎসবের সাফল্য কামনা
পূজা আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধন্যবাদ জানিয়ে মন্ত্রী উৎসবের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন। এ সময় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মোঃ সাখাওয়াত হোসেন খান, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
কালের আলো/এমএএএমকে

আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]