খুঁজুন
                               
, ,
           

অপরাধের পরিসংখ্যানে স্বস্তি-শঙ্কার সহাবস্থান

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ
অপরাধের পরিসংখ্যানে স্বস্তি-শঙ্কার সহাবস্থান

কোথাও স্বস্তি, কোথাও শঙ্কা—দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সাম্প্রতিক চিত্র যেন দুই বিপরীত বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। খুন, ডাকাতি, দস্যুতা ও দাঙ্গার মতো অপরাধ কমেছে। কিন্তু সেই স্বস্তির ছবিকে ম্লান করছে ধর্ষণ, মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত অপরাধ ও চুরির ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা। বিশেষ করে ধর্ষণ ও মাদকের ক্ষেত্রে মামলার সংখ্যা যে হারে বেড়েছে, তা জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ১ লাখ ৫১ হাজার ৫৯৬টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৭ হাজার ৮০৬। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে মামলা বেড়েছে ১৩ হাজার ৭৯০টি। শতকরা হিসাবে বৃদ্ধির হার প্রায় ১০ শতাংশ। এই পরিসংখ্যানের একদিকে রয়েছে কয়েকটি অপরাধ কমে আসার ইতিবাচক বার্তা, অন্যদিকে রয়েছে এমন কিছু অপরাধের বিস্তার, যেগুলো মানুষের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

  • কমেছে খুন, ডাকাতি ও দাঙ্গা
  • ঊর্ধ্বমুখী ধর্ষণ, মাদক ও চুরির ঘটনা
  • প্রশ্নের মুখে জননিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ

জাতীয় সংসদ ভবনে গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে গত বছরের সঙ্গে চলতি বছরের অপরাধ পরিস্থিতির তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়। কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে অপরাধ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানো এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়।

কমেছে খুন, ডাকাতি ও দাঙ্গা
অপরাধের পরিসংখ্যানে স্বস্তির জায়গাটি মূলত সহিংসতা ও কয়েকটি গুরুতর অপরাধের হ্রাস। গত বছরের প্রথম নয় মাসে দেশে ২ হাজার ৯১৩টি খুনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল। চলতি বছরের একই সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৫৯টিতে। অর্থাৎ হত্যাকাণ্ড কমেছে ২৫৪টি। ডাকাতির ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে। গত বছরের ৫৩৮টি ঘটনার বিপরীতে চলতি বছরে নথিভুক্ত হয়েছে ৩৮৭টি। দস্যুতার সংখ্যা ১ হাজার ৪৮৩ থেকে কমে হয়েছে ১ হাজার ৩৭৪টি। আর দাঙ্গার ঘটনা ৬২টি থেকে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৭টিতে।

অপহরণের ঘটনাও ৮১২টি থেকে কমে ৭৬৯টিতে নেমেছে। বিস্ফোরকদ্রব্য-সংক্রান্ত অপরাধের সংখ্যা ২৮৬ থেকে কমে ১৮৮ হয়েছে। দ্রুত বিচার আইনের আওতাভুক্ত অপরাধও ৭৪৩টি থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৫৯৫টিতে। এসব পরিসংখ্যান অপরাধের কয়েকটি খাতে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। তবে এই উন্নতির পাশাপাশি অন্য অপরাধগুলোর দ্রুত বৃদ্ধি বিবেচনায় নিলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে সামগ্রিকভাবে স্বস্তিদায়ক বলার সুযোগ সীমিত হয়ে আসে।

ধর্ষণের পরিসংখ্যানে বড় ধাক্কা
নয় মাসের অপরাধচিত্রে সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিকগুলোর একটি ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধি। গত বছরের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বরে ধর্ষণের মামলা ছিল ৪ হাজার ১১০টি। চলতি বছরের একই সময়ে তা বেড়ে হয়েছে ৫ হাজার ৩৮১টি। এক বছরে মামলা বেড়েছে ১ হাজার ২৭১টি, বৃদ্ধির হার প্রায় ৩১ শতাংশ।

তৃতীয় প্রান্তিকের হিসাব আরও উদ্বেগজনক। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ধর্ষণের ঘটনা গত বছরের ১ হাজার ৩৭০টি থেকে বেড়ে চলতি বছরে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১২৯টিতে। অর্থাৎ মাত্র তিন মাসে বেড়েছে ৭৫৯টি ঘটনা। এই প্রবণতা নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জকে সামনে নিয়ে এসেছে। অপরাধের পরিসংখ্যান শুধু সংখ্যার হিসাব নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা, সামাজিক মর্যাদা, মানসিক ক্ষতি এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রশ্ন।

অন্যদিকে, নারী নির্যাতনের মামলা পুরো নয় মাসের হিসাবে কমেছে। গত বছরের ৯ হাজার ২৬২টি থেকে এ বছর তা নেমে এসেছে ৮ হাজার ১৭৮টিতে। শিশু নির্যাতনের ঘটনাও ৩ হাজার ৫৯১টি থেকে কমে ৩ হাজার ১৫১টিতে দাঁড়িয়েছে। তবে অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনা চারটি থেকে বেড়ে পাঁচটি হয়েছে।

মাদক মামলায় ১৪ হাজারের বেশি বৃদ্ধি
অপরাধের সামগ্রিক পরিসংখ্যানে সবচেয়ে বড় সংখ্যাগত বৃদ্ধি ঘটেছে মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত মামলায়। গত বছরের প্রথম নয় মাসে এ ধরনের মামলা ছিল ৩৯ হাজার ৫০টি। চলতি বছরের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩ হাজার ৭২টিতে। অর্থাৎ এক বছরে বেড়েছে ১৪ হাজার ২২২টি মামলা, যা প্রায় ৩৬ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি।

তৃতীয় প্রান্তিকেও এই প্রবণতার পরিবর্তন হয়নি। গত বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে মাদকসংক্রান্ত মামলা ছিল ১৪ হাজার ১০৩টি। চলতি বছরের একই সময়ে তা বেড়ে হয়েছে ২০ হাজার ৬৫১টি। মাত্র তিন মাসে মামলার সংখ্যা বেড়েছে ৬ হাজার ৫৪৮টি।

এই পরিসংখ্যান মাদক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দেয়। তবে মামলা বৃদ্ধির অর্থ মাদকের প্রকৃত বিস্তার একই হারে বেড়েছে, এমনটি বলা যাবে না। অভিযান ও শনাক্তকরণ বৃদ্ধি কিংবা মামলা দায়েরের পরিবর্তনও এতে ভূমিকা রাখতে পারে।

চুরির ঘটনাও বাড়ছে
সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত চুরির ঘটনাতেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। গত বছরের প্রথম নয় মাসে সিঁধেল চুরির মামলা ছিল ২ হাজার ২৫৫টি। চলতি বছরে তা বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৪৪৫টি। সাধারণ চুরির ঘটনাও ৭ হাজার ২৭৩টি থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৩৪০টিতে। সংখ্যাগত বৃদ্ধির পরিমাণ তুলনামূলক কম হলেও এ ধরনের অপরাধ মানুষের ব্যক্তিগত সম্পদ, বাসস্থান ও দৈনন্দিন নিরাপত্তার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। অন্যদিকে, দায়িত্ব পালনকালে আক্রান্ত পুলিশ সদস্যের সংখ্যা গত বছরের ৪৬৩ থেকে কমে চলতি বছরে ৪৪১ হয়েছে। এ ক্ষেত্রেও কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে।

তৃতীয় প্রান্তিকের চিত্র আরও তাৎপর্যপূর্ণ
পুরো নয় মাসের পরিসংখ্যানের পাশাপাশি জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের হিসাবও অপরাধের প্রবণতা বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে দেশে মোট ৫৫ হাজার ৪৫৪টি মামলা হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে হয়েছিল ৪৬ হাজার ৪৭৯টি। তিন মাসে মামলা বেড়েছে ৮ হাজার ৯৭৫টি, অর্থাৎ প্রায় ১৯ দশমিক ৩ শতাংশ।

এই সময়ে খুনের ঘটনা ৯৮০টি থেকে কমে ৮৮১টিতে নেমেছে। বিপরীতে ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে ১ হাজার ৩৭০টি থেকে ২ হাজার ১২৯টিতে। নারী নির্যাতনের ঘটনা ৩ হাজার ১২৫টি থেকে বেড়ে হয়েছে ৩ হাজার ২৩৬টি। মাদকসংক্রান্ত মামলার পাশাপাশি ধর্ষণের ঘটনাও তৃতীয় প্রান্তিকে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ফলে নয় মাসের পরিসংখ্যানে যে উদ্বেগ দেখা গেছে, বছরের শেষ তিন মাসের আগের হিসাবেও তার প্রতিফলন রয়েছে।

সামগ্রিক পরিস্থিতির উন্নতির চিত্রে সন্তোষ
সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে উপস্থাপিত পরিসংখ্যানে সামগ্রিক পরিস্থিতির উন্নতির চিত্র থাকায় সদস্যরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে জাতীয় সংসদের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। বৈঠকে মাদক, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গৃহীত কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুপারিশ সময়োপযোগী। তথ্য বিশ্লেষণ, অপরাধপ্রবণ এলাকা শনাক্তকরণ, ডিজিটাল নজরদারি এবং দ্রুত তদন্তের ক্ষেত্রে প্রযুক্তি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করতে পারে। তবে প্রযুক্তি নিজে অপরাধের সমাধান নয়; এর কার্যকারিতা নির্ভর করে সঠিক প্রয়োগ, দক্ষ জনবল, নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহির ওপর। ধর্ষণের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও ভুক্তভোগীর সুরক্ষা, মাদক সরবরাহের নেটওয়ার্ক শনাক্তকরণ, চুরি প্রতিরোধ এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি অভিযোগ জানানোর নিরাপদ পরিবেশ এবং বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের আস্থা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

কালের আলো/আরআই/এমকে

পুরানা পল্টনে নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্র-২ উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৪ অপরাহ্ণ
পুরানা পল্টনে নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্র-২ উদ্বোধন

নাগরিকদের জন্য ভূমিসেবা আরও সহজ, দ্রুত, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত করতে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ‘নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্র-২’ উদ্বোধন করেছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পুরানা পল্টনের ৭১ নম্বরে অবস্থিত কেন্দ্রটির উদ্বোধন করা হয়। ভূমি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে চালু হওয়া এ কেন্দ্র থেকে নাগরিকেরা ভূমিসংক্রান্ত বিভিন্ন অনলাইন সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবেন। নামজারি আবেদন, খতিয়ানের সার্টিফায়েড কপির আবেদন, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধসহ বিভিন্ন কাজের প্রক্রিয়া সহজ করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

নতুন এ সেবা কেন্দ্র থেকে নাগরিকেরা নামজারি আবেদন দাখিল, কোর্ট ফি ও ডিসিআর ফি প্রদান এবং অনলাইনে খতিয়ানের সার্টিফায়েড কপির জন্য আবেদন করার ক্ষেত্রে সহায়তা পাবেন। পাশাপাশি ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ ও মৌজা ম্যাপের জন্য আবেদন করার প্রক্রিয়াতেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে। ভূমিসংক্রান্ত বিভিন্ন আবেদন ও ফি পরিশোধের প্রক্রিয়া সম্পর্কে অনেক নাগরিকের স্পষ্ট ধারণা না থাকায় সেবা গ্রহণে জটিলতা তৈরি হতে পারে। নতুন কেন্দ্রের মাধ্যমে এসব কাজ সম্পন্ন করার পদ্ধতি সম্পর্কে সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। মন্ত্রণালয়ের লক্ষ্য, নাগরিকেরা যেন ভূমি অফিসকেন্দ্রিক বিভিন্ন সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য ও দিকনির্দেশনা সহজে পান এবং অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গিয়ে অযথা ভোগান্তিতে না পড়েন।

নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্র-২ থেকে ‘ভূমি’ মোবাইল অ্যাপসহ অনুমোদিত অন্যান্য অনলাইন ও স্বয়ংক্রিয় ভূমিসেবা গ্রহণেও সহায়তা দেওয়া হবে। ফলে ডিজিটাল মাধ্যমে ভূমিসংক্রান্ত সেবা নিতে আগ্রহী নাগরিকেরা আবেদন ও সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাবেন। এ ছাড়া ভূমিসংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ এবং বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে পরামর্শ দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে কেন্দ্রটিতে। ভূমিসেবা গ্রহণের সময় নাগরিকেরা যেসব সমস্যার মুখোমুখি হন, সেগুলো চিহ্নিত করা এবং সমাধানের উপায় সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেওয়াও এ উদ্যোগের অংশ।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো নাগরিকদের দোরগোড়ায় ভূমিসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়াকে আরও জনবান্ধব করা। বিশেষ করে অনলাইন আবেদন, ফি প্রদান ও বিভিন্ন নথি সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হলে নাগরিকদের কাজ আরও সহজ হতে পারে। কেন্দ্রটি থেকে নির্ধারিত সেবাগুলো গ্রহণে সহায়তা সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে দেওয়া হবে। তবে সংশ্লিষ্ট সরকারি সেবার জন্য প্রযোজ্য নির্ধারিত ফি থাকলে তা নিয়ম অনুযায়ী পরিশোধ করতে হবে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

 

জিয়া ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে জেডআরএফের শ্রদ্ধা নিবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৯ অপরাহ্ণ
জিয়া ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে জেডআরএফের শ্রদ্ধা নিবেদন

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এ শ্রদ্ধা জানানো হয়। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব ডিরেক্টরস, মনিটর, কো-অর্ডিনেটর, আজীবন সদস্য ও প্রস্তাবিত সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

১৯৯৯ সালে যাত্রা শুরু জেডআরএফের

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ১৯৯৯ সালের ১৮ অক্টোবর একটি অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসেবে যাত্রা শুরু করে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি রক্ষার্থে তাঁর ছেলে, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন বলে সংগঠনটির পরিচিতিমূলক তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি দরিদ্র ও অসহায় মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। মানবসেবা ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই ফাউন্ডেশনটির অন্যতম লক্ষ্য।

‘একটি উদ্যোগ, একটু চেষ্টা এনে দেবে সচ্ছলতা, দেশে আসবে স্বনির্ভরতা’—এই মূলমন্ত্র ও স্লোগান সামনে রেখে কাজ করছে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন। সংগঠনটির ঘোষিত লক্ষ্য হলো গরিব ও অসহায় মানুষের কল্যাণে উদ্যোগ গ্রহণ এবং বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের সহায়তা করা। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়া ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে সংগঠনটির সদস্যরা তাঁদের প্রতি সম্মান জানান। একই সঙ্গে ফাউন্ডেশনের মানবসেবামূলক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা তুলে ধরা হয়।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

মানুষের পাশে দাঁড়ানোই জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের অঙ্গীকার: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩২ অপরাহ্ণ
মানুষের পাশে দাঁড়ানোই জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের অঙ্গীকার: রিজভী

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) মূল লক্ষ্য মানবকল্যাণ ও মানবসেবা বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, করোনা মহামারি, বন্যাসহ বিভিন্ন দুর্যোগ ও সংকটে অসহায়, উপদ্রুত এবং ভুক্তভোগী মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করেছে এই ফাউন্ডেশন। ভবিষ্যতেও আরও বৃহৎ পরিসরে মানুষের সেবা এবং দেশের সংকটে পাশে থাকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন দেশের প্রখ্যাত বুদ্ধিজীবী ও গুণীজনদের নিয়ে গঠিত একটি সংগঠন। এর মূল লক্ষ্য ও অভীষ্ট উদ্দেশ্য হলো মানবকল্যাণ ও মানবসেবা। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, কৃষিবিদ, আইনজীবীসহ সমাজের অগ্রগণ্য ব্যক্তিরা ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমে যুক্ত আছেন। বিভিন্ন সংকটে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে সংগঠনটি মানবসেবায় ভূমিকা রাখছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

জেডআরএফের কার্যক্রম তুলে ধরে রিজভী বলেন, করোনা মহামারি ও বন্যাসহ বিভিন্ন সংকটে ফাউন্ডেশন জোরালোভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। আন্দোলন-সংগ্রামে আহত ও নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের পাশে থাকা এবং অসহায় মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করতে সহায়তা করাও সংগঠনটির কাজের অংশ। তিনি বিশেষভাবে কৃত্রিম পা সংযোজনের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের চলাচল ও স্বাভাবিক জীবনযাপনে সহায়তা করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে ফাউন্ডেশনটি।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং টিকাদান কার্যক্রম ঘিরেও দেশব্যাপী সচেতনতামূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় বার্তা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংগঠনটি। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে মানবসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। দেশের যেকোনো সংকট ও দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সক্ষমতা আরও বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন বিএনপির এই নেতা। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রোববার সকাল ১০টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তাঁদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, পরিচালক ও অ্যাডমিন ডা. মোর্শেদ হাসানসহ সংগঠনটির অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি