খুঁজুন
                               
, ,
           

৫৮ কোটি টাকার দুই সেতুর কাজ বন্ধ দুই বছর, ভোগান্তিতে শরীয়তপুরবাসী

শরীয়তপুর সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৬ পূর্বাহ্ণ
৫৮ কোটি টাকার দুই সেতুর কাজ বন্ধ দুই বছর, ভোগান্তিতে শরীয়তপুরবাসী

শরীয়তপুরে কীর্তিনাশা নদীর ওপর নির্মাণাধীন দুটি সেতুর কাজ পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি। এর মধ্যে গত দুই বছর ধরে সেতু দুটির নির্মাণকাজ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। ফলে জরাজীর্ণ পুরোনো সেতু দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে যানবাহনকে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রী, চালক ও সাধারণ মানুষ। শরীয়তপুর সদর উপজেলার প্রেমতলা এলাকায় একটি এবং সেখান থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে জাজিরা উপজেলার কাজীরহাট এলাকায় অন্য সেতুটি নির্মাণাধীন। শরীয়তপুর থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকায় যাতায়াতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ থেকে ৪৫০টি বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। এর মধ্যে যাত্রীবাহী বাসের সংখ্যা আড়াই শতাধিক। সংশ্লিষ্ট সূত্রের হিসাবে, এ পথে প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার মানুষ চলাচল করেন।

জরাজীর্ণ সেতুতে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

শরীয়তপুর সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর শহর থেকে জাজিরার নাওডোবা পর্যন্ত আঞ্চলিক সড়কটির দৈর্ঘ্য ২৭ কিলোমিটার। দুই লেনের চেয়েও কম প্রশস্ত এই সড়কটি একসময় পদ্মা নদী পার হয়ে ঢাকায় যাতায়াতের অন্যতম পথ ছিল। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পরও সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে এর ওপর থাকা পুরোনো সেতু দুটির গুরুত্বও বেড়েছে।

১৯৯১ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রেমতলায় ১১০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৩ মিটার প্রস্থের একটি সেতু নির্মাণ করে। একই সময়ে জাজিরার কাজীরহাট এলাকায় নির্মাণ করা হয় ৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৩ মিটার প্রস্থের আরেকটি সেতু। দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর ব্যবহারের ফলে সেতু দুটি এখন জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও সেতুর মেঝে ও রেলিং থেকে রড বেরিয়ে এসেছে। সরু সেতুতে এক পাশ দিয়ে যানবাহন উঠলে বিপরীত দিক থেকে অন্য যানবাহন চলাচল করতে পারে না। এতে দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয় এবং প্রায়ই দেখা দেয় যানজট।

কাজীরহাট সেতুতে ২০ থেকে ৩০ মিনিট যানজট

পুরোনো সেতুর কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন কাজীরহাট এলাকার পথ ব্যবহারকারীরা। শরীয়তপুর সুপার সার্ভিসের চালক লোকমান হোসেন জানান, প্রতিদিন তিনি একবার যাত্রী নিয়ে ঢাকায় যান এবং পরে ঢাকা থেকে শরীয়তপুরে ফিরে আসেন। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে শরীয়তপুর থেকে ঢাকার যাত্রাবাড়ী যেতে প্রায় দেড় ঘণ্টা লাগার কথা। কিন্তু কাজীরহাট এলাকায় যানজটের কারণে তাঁর প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লাগে। লোকমান হোসেন বলেন, কাজীরহাটের পুরোনো সেতু এলাকায় ২০ থেকে ২৫ মিনিট পর্যন্ত যানজটে বসে থাকতে হয়। এতে যাত্রীরা বিরক্ত হন এবং নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। গোসাইরহাট সদরের ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন সপ্তাহে দুই দিন ব্যবসার কাজে ঢাকায় যান। তাঁর অভিজ্ঞতাও একই রকম। তিনি বলেন, ‘ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে বাসে উঠলে ৩০ থেকে ৪০ মিনিটে জাজিরার নাওডোবায় পৌঁছানো যায়। তবে কাজীরহাটের পুরোনো সেতু এলাকায় যানজটে অতিরিক্ত ২৫ থেকে ৩০ মিনিট ব্যয় হয়। অবশ্য প্রেমতলা সেতু এলাকায় সাধারণত যানজট হয় না।’

৫৮ কোটি টাকার প্রকল্প, কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২২ সালে

শরীয়তপুর শহর থেকে পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তের নাওডোবা পর্যন্ত সড়কটি চার লেনে উন্নীত করতে ২০২০ সালে ১ হাজার ৬৮২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন করে সরকার। ওই প্রকল্পের আওতায় পুরোনো সেতু দুটির স্থলে নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সওজ। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রেমতলায় ১৯০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১০ দশমিক ৩ মিটার প্রস্থের এবং কাজীরহাটে ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১০ দশমিক ৩ মিটার প্রস্থের দুটি সেতু নির্মাণের কথা। সেতু দুটির জন্য ব্যয় ধরা হয় ৫৮ কোটি টাকা। ২০২১ সালের ১ এপ্রিল জামিল ইকবাল লিমিটেড ও মোজাহারুল এন্টারপ্রাইজকে যৌথভাবে নির্মাণকাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও সেতু দুটি চালু করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কাজীরহাট সেতুর প্রায় ৬০ শতাংশ এবং প্রেমতলা সেতুর প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এরপর প্রায় দুই বছর ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে কাজ শেষ করার সময়সীমা তিনবার বাড়ানো হয়েছে।

চতুর্থবার সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। মঙ্গলবার সরেজমিনে কাজীরহাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেতুটির নির্মাণকাজ অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে আছে। নদীর মধ্যে সেতুর কিছু অংশ নির্মিত হলেও বাকি কাজ এগোয়নি। সেখানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মী নির্মাণসামগ্রী পাহারা দিচ্ছিলেন। অন্যদিকে প্রেমতলা সেতুর মূল কাঠামোর অধিকাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তবে সেতুতে ওঠার সংযোগ সড়ক, রেলিং এবং বিভিন্ন সার্ভিস লাইনের কাজ এখনো বাকি। এসব কাজ শেষ না হওয়ায় নতুন সেতুটি যান চলাচলের জন্য চালু করা যাচ্ছে না।

ভূমি অধিগ্রহণ ও ব্যয়বৃদ্ধির কারণ দেখাচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান

সওজ সূত্রে জানা গেছে, ভূমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ে নির্মাণকাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। পরে নির্মাণসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত কাজের প্রয়োজনের কথা জানিয়ে চুক্তিমূল্যের বাইরে আরও ৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ৫৮ কোটি টাকার চুক্তিমূল্যের বিপরীতে যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যে ৪৪ কোটি ৮২ লাখ টাকার বিল তুলে নিয়েছে। তবে বাকি কাজ শেষ করতে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের আবেদন এখনো চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী কিংশুক মণ্ডল জানান, করোনাকালে কাজটি তাঁরা পেয়েছিলেন। কাজ শুরু করতে কিছুটা দেরি হয়। এরপর ভূমি অধিগ্রহণের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। পরে রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ নানা কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা যায়নি। কিংশুক মণ্ডল আরও জানান, সেতু দুটিতে কিছু অতিরিক্ত কাজ করতে হয়েছে। পাশাপাশি কয়েক দফায় নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়েছে। এসব কারণে প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সওজের আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়া গেছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলে বাকি কাজ শেষ করে সেতু দুটি সওজের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

দ্রুত কাজ শেষের অপেক্ষায় যাত্রীরা

কীর্তিনাশা নদীর ওপর নতুন সেতু দুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর ওপর নির্ভরতা কমাতে এবং শরীয়তপুর-জাজিরা সড়কে যান চলাচল সহজ করতে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় সেই সুফল পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। বর্তমানে পুরোনো সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল অব্যাহত থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি ও যানজট নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে কাজীরহাট এলাকায় সরু সেতুর কারণে সময় নষ্ট হচ্ছে ঢাকাগামী যাত্রী ও পরিবহন চালকদের।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

 

পুরানা পল্টনে নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্র-২ উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৪ অপরাহ্ণ
পুরানা পল্টনে নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্র-২ উদ্বোধন

নাগরিকদের জন্য ভূমিসেবা আরও সহজ, দ্রুত, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত করতে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ‘নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্র-২’ উদ্বোধন করেছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পুরানা পল্টনের ৭১ নম্বরে অবস্থিত কেন্দ্রটির উদ্বোধন করা হয়। ভূমি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে চালু হওয়া এ কেন্দ্র থেকে নাগরিকেরা ভূমিসংক্রান্ত বিভিন্ন অনলাইন সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবেন। নামজারি আবেদন, খতিয়ানের সার্টিফায়েড কপির আবেদন, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধসহ বিভিন্ন কাজের প্রক্রিয়া সহজ করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

নতুন এ সেবা কেন্দ্র থেকে নাগরিকেরা নামজারি আবেদন দাখিল, কোর্ট ফি ও ডিসিআর ফি প্রদান এবং অনলাইনে খতিয়ানের সার্টিফায়েড কপির জন্য আবেদন করার ক্ষেত্রে সহায়তা পাবেন। পাশাপাশি ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ ও মৌজা ম্যাপের জন্য আবেদন করার প্রক্রিয়াতেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে। ভূমিসংক্রান্ত বিভিন্ন আবেদন ও ফি পরিশোধের প্রক্রিয়া সম্পর্কে অনেক নাগরিকের স্পষ্ট ধারণা না থাকায় সেবা গ্রহণে জটিলতা তৈরি হতে পারে। নতুন কেন্দ্রের মাধ্যমে এসব কাজ সম্পন্ন করার পদ্ধতি সম্পর্কে সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। মন্ত্রণালয়ের লক্ষ্য, নাগরিকেরা যেন ভূমি অফিসকেন্দ্রিক বিভিন্ন সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য ও দিকনির্দেশনা সহজে পান এবং অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গিয়ে অযথা ভোগান্তিতে না পড়েন।

নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্র-২ থেকে ‘ভূমি’ মোবাইল অ্যাপসহ অনুমোদিত অন্যান্য অনলাইন ও স্বয়ংক্রিয় ভূমিসেবা গ্রহণেও সহায়তা দেওয়া হবে। ফলে ডিজিটাল মাধ্যমে ভূমিসংক্রান্ত সেবা নিতে আগ্রহী নাগরিকেরা আবেদন ও সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাবেন। এ ছাড়া ভূমিসংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ এবং বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে পরামর্শ দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে কেন্দ্রটিতে। ভূমিসেবা গ্রহণের সময় নাগরিকেরা যেসব সমস্যার মুখোমুখি হন, সেগুলো চিহ্নিত করা এবং সমাধানের উপায় সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেওয়াও এ উদ্যোগের অংশ।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো নাগরিকদের দোরগোড়ায় ভূমিসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়াকে আরও জনবান্ধব করা। বিশেষ করে অনলাইন আবেদন, ফি প্রদান ও বিভিন্ন নথি সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হলে নাগরিকদের কাজ আরও সহজ হতে পারে। কেন্দ্রটি থেকে নির্ধারিত সেবাগুলো গ্রহণে সহায়তা সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে দেওয়া হবে। তবে সংশ্লিষ্ট সরকারি সেবার জন্য প্রযোজ্য নির্ধারিত ফি থাকলে তা নিয়ম অনুযায়ী পরিশোধ করতে হবে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

 

জিয়া ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে জেডআরএফের শ্রদ্ধা নিবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৯ অপরাহ্ণ
জিয়া ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে জেডআরএফের শ্রদ্ধা নিবেদন

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এ শ্রদ্ধা জানানো হয়। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব ডিরেক্টরস, মনিটর, কো-অর্ডিনেটর, আজীবন সদস্য ও প্রস্তাবিত সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

১৯৯৯ সালে যাত্রা শুরু জেডআরএফের

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ১৯৯৯ সালের ১৮ অক্টোবর একটি অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসেবে যাত্রা শুরু করে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি রক্ষার্থে তাঁর ছেলে, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন বলে সংগঠনটির পরিচিতিমূলক তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি দরিদ্র ও অসহায় মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। মানবসেবা ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই ফাউন্ডেশনটির অন্যতম লক্ষ্য।

‘একটি উদ্যোগ, একটু চেষ্টা এনে দেবে সচ্ছলতা, দেশে আসবে স্বনির্ভরতা’—এই মূলমন্ত্র ও স্লোগান সামনে রেখে কাজ করছে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন। সংগঠনটির ঘোষিত লক্ষ্য হলো গরিব ও অসহায় মানুষের কল্যাণে উদ্যোগ গ্রহণ এবং বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের সহায়তা করা। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়া ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে সংগঠনটির সদস্যরা তাঁদের প্রতি সম্মান জানান। একই সঙ্গে ফাউন্ডেশনের মানবসেবামূলক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা তুলে ধরা হয়।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

মানুষের পাশে দাঁড়ানোই জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের অঙ্গীকার: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩২ অপরাহ্ণ
মানুষের পাশে দাঁড়ানোই জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের অঙ্গীকার: রিজভী

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) মূল লক্ষ্য মানবকল্যাণ ও মানবসেবা বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, করোনা মহামারি, বন্যাসহ বিভিন্ন দুর্যোগ ও সংকটে অসহায়, উপদ্রুত এবং ভুক্তভোগী মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করেছে এই ফাউন্ডেশন। ভবিষ্যতেও আরও বৃহৎ পরিসরে মানুষের সেবা এবং দেশের সংকটে পাশে থাকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন দেশের প্রখ্যাত বুদ্ধিজীবী ও গুণীজনদের নিয়ে গঠিত একটি সংগঠন। এর মূল লক্ষ্য ও অভীষ্ট উদ্দেশ্য হলো মানবকল্যাণ ও মানবসেবা। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, কৃষিবিদ, আইনজীবীসহ সমাজের অগ্রগণ্য ব্যক্তিরা ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমে যুক্ত আছেন। বিভিন্ন সংকটে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে সংগঠনটি মানবসেবায় ভূমিকা রাখছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

জেডআরএফের কার্যক্রম তুলে ধরে রিজভী বলেন, করোনা মহামারি ও বন্যাসহ বিভিন্ন সংকটে ফাউন্ডেশন জোরালোভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। আন্দোলন-সংগ্রামে আহত ও নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের পাশে থাকা এবং অসহায় মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করতে সহায়তা করাও সংগঠনটির কাজের অংশ। তিনি বিশেষভাবে কৃত্রিম পা সংযোজনের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের চলাচল ও স্বাভাবিক জীবনযাপনে সহায়তা করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে ফাউন্ডেশনটি।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং টিকাদান কার্যক্রম ঘিরেও দেশব্যাপী সচেতনতামূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় বার্তা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংগঠনটি। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে মানবসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। দেশের যেকোনো সংকট ও দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সক্ষমতা আরও বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন বিএনপির এই নেতা। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রোববার সকাল ১০টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তাঁদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, পরিচালক ও অ্যাডমিন ডা. মোর্শেদ হাসানসহ সংগঠনটির অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি