সচিবালয় স্থানান্তরে তোড়জোড়, মন্ত্রিসভার বৈঠকে উঠছে প্রস্তাব
রাজধানীর আব্দুল গনি রোডে অবস্থিত বাংলাদেশ সচিবালয় আগারগাঁওয়ের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে স্থানান্তরের প্রস্তাব আজ রোববার (১৮ অক্টোবর) মন্ত্রিসভার বৈঠকে উঠতে পারে। রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের এই স্থানটিতে সচিবালয় স্থানান্তরের বিষয়ে প্রাথমিক যাচাই-বাছাই ও প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বিকেল ৪টায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে মন্ত্রিসভার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব উত্থাপিত হলে এ বিষয়ে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণের সুযোগ তৈরি হবে। তবে প্রস্তাবের বিষয়ে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত কী হবে, তা বৈঠকের পরই জানা যাবে। মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করার কথা রয়েছে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের। সেখানে বৈঠকের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হতে পারে।
আগারগাঁওয়ের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে নতুন সচিবালয়ের পরিকল্পনা
সচিবালয় স্থানান্তরের আলোচনা নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই আব্দুল গনি রোডের বর্তমান সচিবালয়ের পরিবর্তে রাজধানীর অন্য স্থানে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নতুন অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এ আলোচনা আবারও সামনে এসেছে। বর্তমান সচিবালয়ের জায়গায় নিম্ন আদালতের কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তাবও উঠেছে। এর পাশাপাশি সচিবালয় আগারগাঁওয়ের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। সম্প্রতি গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদেই আগারগাঁওয়ে সচিবালয় স্থানান্তরের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রাথমিক যাচাই-বাছাই ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম চলছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদন পাওয়া গেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পুরোনো ভবন ও জায়গার সংকট বড় চ্যালেঞ্জ
বর্তমান সচিবালয়ে জায়গার সংকট, গাড়ি পার্কিংয়ের সমস্যা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দপ্তর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকার বিষয়গুলো স্থানান্তরের পরিকল্পনায় গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। জাকারিয়া তাহেরের ভাষ্য অনুযায়ী, সচিবালয়ের অনেকগুলো মন্ত্রণালয়ের দপ্তর মূল ভবনের বাইরে বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত হচ্ছে। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রম সমন্বয় এবং দাপ্তরিক কাজ পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি গাড়ি পার্কিংয়ের পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় প্রতিনিয়ত সমস্যা দেখা দিচ্ছে। মন্ত্রী আরও জানান, সচিবালয়ের বেশির ভাগ ভবন ১৯৬০-এর দশকে নির্মিত। দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে ভবনগুলোর অবকাঠামোগত অবস্থা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো নতুন করে বিবেচনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ভূমিকম্পসহ সম্ভাব্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বিবেচনায় পুরোনো ভবনগুলোর মেরামত এবং দীর্ঘমেয়াদি বিকল্প অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন তিনি।
আগে থেকেই ছিল মাস্টারপ্ল্যান
সচিবালয় স্থানান্তরের বিষয়ে অতীতে একটি মাস্টারপ্ল্যান ছিল বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই পরিকল্পনার ভিত্তিতে নীতিগত কাজ ও প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। এখন প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় উত্থাপনের মাধ্যমে পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে এগোতে চায় সরকার। জাকারিয়া তাহের বলেন, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ করে প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদন পাওয়া গেলে স্থানান্তরের মূল কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে। মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন এবং সরকারের লক্ষ্য হলো বর্তমান মেয়াদের মধ্যেই সচিবালয় স্থানান্তরের নির্মাণ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করা। তবে প্রকল্পের চূড়ান্ত ব্যয়, নির্মাণের বিস্তারিত সময়সূচি এবং স্থানান্তরের সুনির্দিষ্ট তারিখ সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। আগারগাঁওয়ের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উঠলে সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হতে পারে। তবে স্থানান্তরের আগে নতুন স্থানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ, দাপ্তরিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, ব্যয় নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে। বর্তমান সচিবালয়ের জায়গায় নিম্ন আদালতের কার্যক্রম চালুর প্রস্তাব এবং নতুন স্থানে সচিবালয় নির্মাণের পরিকল্পনা—দুটি বিষয় কীভাবে সমন্বিত হবে, সেটিও পরবর্তী সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]