খুঁজুন
                               
, ,
           

মানুষের পাশে দাঁড়ানোই জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের অঙ্গীকার: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩২ অপরাহ্ণ
মানুষের পাশে দাঁড়ানোই জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের অঙ্গীকার: রিজভী

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) মূল লক্ষ্য মানবকল্যাণ ও মানবসেবা বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, করোনা মহামারি, বন্যাসহ বিভিন্ন দুর্যোগ ও সংকটে অসহায়, উপদ্রুত এবং ভুক্তভোগী মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করেছে এই ফাউন্ডেশন। ভবিষ্যতেও আরও বৃহৎ পরিসরে মানুষের সেবা এবং দেশের সংকটে পাশে থাকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন দেশের প্রখ্যাত বুদ্ধিজীবী ও গুণীজনদের নিয়ে গঠিত একটি সংগঠন। এর মূল লক্ষ্য ও অভীষ্ট উদ্দেশ্য হলো মানবকল্যাণ ও মানবসেবা। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, কৃষিবিদ, আইনজীবীসহ সমাজের অগ্রগণ্য ব্যক্তিরা ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমে যুক্ত আছেন। বিভিন্ন সংকটে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে সংগঠনটি মানবসেবায় ভূমিকা রাখছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

জেডআরএফের কার্যক্রম তুলে ধরে রিজভী বলেন, করোনা মহামারি ও বন্যাসহ বিভিন্ন সংকটে ফাউন্ডেশন জোরালোভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। আন্দোলন-সংগ্রামে আহত ও নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের পাশে থাকা এবং অসহায় মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করতে সহায়তা করাও সংগঠনটির কাজের অংশ। তিনি বিশেষভাবে কৃত্রিম পা সংযোজনের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের চলাচল ও স্বাভাবিক জীবনযাপনে সহায়তা করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে ফাউন্ডেশনটি।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং টিকাদান কার্যক্রম ঘিরেও দেশব্যাপী সচেতনতামূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় বার্তা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংগঠনটি। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে মানবসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। দেশের যেকোনো সংকট ও দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সক্ষমতা আরও বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন বিএনপির এই নেতা। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রোববার সকাল ১০টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তাঁদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, পরিচালক ও অ্যাডমিন ডা. মোর্শেদ হাসানসহ সংগঠনটির অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

সুন্দরবনের পানি-মাটিতে প্লাস্টিক দূষণ, মাছে সিসা-নিকেল-তামা

খুলনা সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪০ অপরাহ্ণ
সুন্দরবনের পানি-মাটিতে প্লাস্টিক দূষণ, মাছে সিসা-নিকেল-তামা

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের নদী ও মাটিতে ছড়িয়ে পড়েছে ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিক। এর প্রভাব পড়ছে বনের জলজ প্রাণীর ওপরও। গবেষণায় শিলা কাঁকড়ার ফুলকায় গড়ে ১৮টি এবং অন্ত্রে ৩০টি প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। অন্যদিকে সুন্দরবনের পশুর নদের তিন প্রজাতির মাছ—পারশে, দাঁতিনা ও পাতা বাটায় ক্ষতিকর ভারী ধাতুর উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন গবেষকেরা। এসব মাছের শরীরে সিসা, নিকেল, তামা ও ক্যাডমিয়ামের মতো ধাতু পাওয়া গেছে। প্লাস্টিক দূষণ ও মাছের শরীরে ভারী ধাতুর উপস্থিতি নিয়ে পরিচালিত দুটি পৃথক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। গবেষকদের মতে, নদী ও পলিমাটিতে জমে থাকা দূষিত উপাদান জলজ প্রাণীর শরীরে প্রবেশ করছে। খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে এসব উপাদান অন্য প্রাণী এবং মানুষের শরীরেও পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।

সুন্দরবনের পানি ও মাটিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক
সুন্দরবনে প্লাস্টিক দূষণের বর্তমান পরিস্থিতি জানতে সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডিজ (সিএনআরএস) ও অরণ্যক ফাউন্ডেশন গবেষণা পরিচালনা করেছে। গত ১৩ আগস্ট খুলনায় গবেষণাটির খসড়া প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। গবেষক দল ২০২৪ সালের মার্চ থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত সুন্দরবনের তিনটি নদীর পানি ও মাটির নমুনা পরীক্ষা করে। এর মধ্যে রয়েছে খুলনার কয়রা উপজেলার শাকবাড়িয়া নদী, সাতক্ষীরার শ্যামনগরের খোলপেটুয়া নদী এবং শরণখোলা রেঞ্জের ভোলা নদী।

পরীক্ষায় খোলপেটুয়া নদীর প্রতি ঘনমিটার পানিতে ৫৭০টি প্লাস্টিক কণা পাওয়া যায়। ভোলা নদীর পানিতে প্রতি ঘনমিটারে ৫৩০টি এবং শাকবাড়িয়া নদীর পানিতে ৩৬০টি কণা শনাক্ত করেন গবেষকেরা। নদীর পলিমাটিতেও পাওয়া গেছে প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণা। খোলপেটুয়া নদীর প্রতি কেজি পলিতে ৫৭টি, ভোলা নদীতে ৪৪টি এবং শাকবাড়িয়া নদীতে ৪৫টি প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, সুন্দরবনের পানি ও পলিমাটিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি জলজ পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক। এসব কণা দীর্ঘ সময় পরিবেশে থেকে জলজ প্রাণীর আবাসস্থল ও খাদ্যচক্রকে প্রভাবিত করতে পারে।

শিলা কাঁকড়ার ফুলকা ও অন্ত্রে প্লাস্টিক
খোলপেটুয়া নদী থেকে সংগ্রহ করা শিলা কাঁকড়ার নমুনা পরীক্ষা করে গবেষকেরা এর ফুলকায় গড়ে ১৮টি এবং অন্ত্রে ৩০টি প্লাস্টিক কণা পেয়েছেন। কাঁকড়ার শরীরে পলিইথিলিন, পলিপ্রোপিলিন ও পলিভিনাইল ক্লোরাইডের (পিভিসি) মতো প্লাস্টিকের উপাদানও শনাক্ত করা হয়েছে। এসব উপাদান পরিবেশে ছড়িয়ে পড়লে জলজ প্রাণীর শরীরে প্রবেশ করতে পারে।

খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান মো. আসাদুর রহমান বলেন, অতিরিক্ত ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা জলজ প্রাণীর বৃদ্ধি ও প্রজনন বাধাগ্রস্ত করতে পারে। খাদ্যচক্রের মাধ্যমে এসব কণা বড় প্রাণীর শরীরেও ছড়িয়ে পড়ে। ফলে তারাও বিভিন্ন জটিলতার শিকার হতে পারে। তিনি আরও বলেন, নদীর পলিতে আটকে থাকা প্লাস্টিক প্রাকৃতিক অণুজীব ও তলদেশে বসবাসকারী প্রাণীদের স্বাভাবিক বিচরণক্ষেত্র নষ্ট করতে পারে। এ কারণে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণকে শুধু পানির সমস্যা হিসেবে দেখলে হবে না; এর প্রভাব পুরো জলজ বাস্তুতন্ত্রের ওপর পড়তে পারে।

পশুর নদের মাছে সিসা, নিকেল ও ক্যাডমিয়াম
সুন্দরবনের নদীগুলোতে প্লাস্টিক দূষণের পাশাপাশি ভারী ধাতুর উপস্থিতিও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। পশুর নদের মাছ নিয়ে গবেষণাটি করেছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বায়োমেডিকেল অ্যান্ড টক্সিকোলজিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট। গবেষণার নিবন্ধ গত বছরের ১১ এপ্রিল আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ডিসকভার এনভায়রনমেন্ট-এ প্রকাশিত হয়। গবেষকেরা পশুর নদের ছয়টি স্থান থেকে পারশে, দাঁতিনা ও পাতা বাটা মাছের নমুনা সংগ্রহ করেন। নমুনা সংগ্রহের স্থানগুলোর মধ্যে ছিল রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র, মোংলা শিল্পাঞ্চল, মোংলা সমুদ্রবন্দর, বানিশান্তা, করমজল ও হারবাড়িয়া। নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে এসব নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

পরীক্ষায় মাছের শরীরে গড়ে প্রতি কেজিতে ৪ দশমিক ৩৫ মিলিগ্রাম সিসা, ৩ দশমিক ০৬ মিলিগ্রাম নিকেল, ১ দশমিক ৪২ মিলিগ্রাম তামা এবং ১ দশমিক ৪৬ মিলিগ্রাম ক্যাডমিয়াম পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মাছের অন্ত্রে এসব ধাতুর ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ছিল; এরপর ছিল ফুলকায়। গবেষণায় উদ্ধৃত জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সহনশীল মাত্রার সঙ্গে তুলনা করে সিসা, ক্যাডমিয়াম ও নিকেলের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন ধাতুর গ্রহণযোগ্য সীমা নির্ধারণে মাছের প্রজাতি, নমুনার ধরন ও পরিমাপের একক গুরুত্বপূর্ণ। তাই এসব ফলাফলের ব্যাখ্যায় গবেষণায় ব্যবহৃত নির্দিষ্ট মানদণ্ড বিবেচনা করা প্রয়োজন।

শিল্পবর্জ্যকে দূষণের অন্যতম উৎস বলছেন গবেষকেরা
গবেষণা দলের প্রধান ও বায়োমেডিকেল অ্যান্ড টক্সিকোলজিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ইভানা পাভীন লিপি বলেন, পশুর নদের উজান থেকে আসা শিল্পবর্জ্য, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র-সংলগ্ন এলাকা, মোংলা সমুদ্রবন্দর ও শিল্পাঞ্চলের অপরিশোধিত কঠিন ও তরল বর্জ্য নদীর পানি ও পলিমাটিকে দূষিত করছে। একপর্যায়ে এসব দূষিত উপাদান মাছের শরীরে প্রবেশ করছে। তিনি বলেন, পশুর নদ ও সুন্দরবনের পরিবেশ সুরক্ষায় নদীর তীরবর্তী কলকারখানার বর্জ্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী শোধন না করে নদীতে ফেলা বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করাও জরুরি।

অন্যদিকে ‘সুন্দরবনে জলজ সম্পদের মূল্যায়ন’ শীর্ষক গবেষণা দলের প্রধান ও বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক ড. এম এনামুল হক বলেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রথমে জুপ্ল্যাঙ্কটন ও ছোট জলজ প্রাণীর শরীরে প্রবেশ করে। পরে খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে তা উচ্চস্তরের প্রাণীদের দেহে পৌঁছায়। তাঁর মতে, সুন্দরবনের পরিবেশ রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদে নিয়মিত মাইক্রোপ্লাস্টিকের মাত্রা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি প্লাস্টিক দূষণ কমাতে সমন্বিত পরিকল্পনা ও কার্যকর নীতিমালা তৈরি করতে হবে।

উজান থেকে প্লাস্টিক আসা বন্ধে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ
অতীতের বিভিন্ন গবেষণার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারতের উজান থেকে প্রতিবছর প্রায় ৪০ লাখ টন প্লাস্টিক বর্জ্য ও মাইক্রোপ্লাস্টিক সুন্দরবন হয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়ছে। ঘূর্ণিঝড় আম্পান-পরবর্তী ত্রাণসামগ্রীর মাধ্যমেও বনের ভেতরে ৫৬ টনের বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য জমা হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সুন্দরবন একাডেমির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির বলেন, উজান থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য আসা বন্ধ করতে যৌথ নদী কমিশনসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি সুন্দরবনের সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও এর চারপাশের ১০ কিলোমিটার পরিবেশগতভাবে সংকটপূর্ণ এলাকায় শিল্পকারখানা, কটেজ, রিসোর্ট ও নৌযানে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বহন ও ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করার পরামর্শ দিয়েছেন। দুর্যোগ-পরবর্তী ত্রাণ বিতরণে প্লাস্টিকের মোড়ক নিয়ন্ত্রণ, মোংলা বন্দর ও পরিবেশগত সংকটপূর্ণ এলাকার কারখানায় বর্জ্য শোধনাগার বাধ্যতামূলক করা এবং বাণিজ্যিক জাহাজ ও ট্রলার থেকে প্লাস্টিক ও তেলবর্জ্য ফেলা বন্ধের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

সুন্দরবনে প্লাস্টিক প্রবেশ বন্ধে উদ্যোগের কথা বন বিভাগের
সুন্দরবনে প্লাস্টিক দূষণ কমাতে বন বিভাগের পক্ষ থেকেও উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। বন বিভাগের খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, সুন্দরবনে প্লাস্টিক নিয়ে প্রবেশ বন্ধ করতে পর্যটক ও ট্যুর অপারেটরদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। শিগগিরই বনে প্লাস্টিক নিয়ে প্রবেশ বন্ধ করা হবে। একই সঙ্গে সুন্দরবনের চারপাশে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করার বিষয়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

মাদকবিরোধী অভিযানে পিস্তল তাক ইশরাকের, তদন্তের কথা জানাল ডিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৬ অপরাহ্ণ
মাদকবিরোধী অভিযানে পিস্তল তাক ইশরাকের, তদন্তের কথা জানাল ডিবি

রাজধানীর গেণ্ডারিয়া রেললাইন-সংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে এক হাতে হ্যান্ড মাইকের মাউথপিস এবং অন্য হাতে পিস্তল নিয়ে অংশ নিতে দেখা গেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনকে। অভিযানের সময় একদল লোককে তাড়া করে তাঁদের দিকে অস্ত্র তাক করে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো আইনের ব্যত্যয় হয়ে থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

রোববার (১৮ অক্টোবর) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ বিষয়ে পুলিশের অবস্থান তুলে ধরেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।

অভিযানের ভিডিওতে পিস্তল হাতে ইশরাক

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ইশরাক হোসেনের ফেসবুক পেজে মাদকবিরোধী অভিযানের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি থেকে নেমে এক হাতে হ্যান্ড মাইক এবং অন্য হাতে পিস্তল নিয়ে একদল লোককে তাড়া করছেন তিনি। একপর্যায়ে পিস্তলের স্লাইড টেনে গুলি করার প্রস্তুতি নেওয়ার মতো ভঙ্গিতে লোকগুলোর দিকে অস্ত্র তাক করে ‘অ্যাই দাঁড়া, দাঁড়া’ বলে চিৎকার করতে দেখা যায় তাঁকে। ভিডিওতে সাদা পোশাকে থাকা আরও একজনকে অস্ত্র হাতে লোকজনকে তাড়া করতেও দেখা যায়। ঘটনাটি রাজধানীর গেণ্ডারিয়া রেললাইন-সংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে ঘটেছে বলে জানা গেছে। তবে ভিডিওতে যাঁদের তাড়া করতে দেখা গেছে, তাঁদের পরিচয় কিংবা তাঁদের বিরুদ্ধে মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

আইন লঙ্ঘন হলে ব্যবস্থা নেবে ডিএমপি

রোববার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেনের অস্ত্র হাতে অভিযানে অংশ নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি মূল্যায়নের জন্য এখনই মন্তব্য করার সময় আসেনি। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দেবেন। সেই প্রতিবেদনে আইনের ব্যত্যয় পাওয়া গেলে ঢাকা মহানগর পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নেবে। অভিযানে একজন মন্ত্রী পুলিশের মতো দায়িত্ব পালন করতে পারেন কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ডিবি প্রধান এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাটি পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন পাওয়ার পরই এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফলে অভিযানে অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো আইনগত অনিয়ম হয়েছে কি না, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারিত হয়নি।

মাদকমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চালানোর ঘোষণা

শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ২২ মিনিটে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া আরেকটি পোস্টে ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন ইশরাক হোসেন।পোস্টে তিনি জানান, মাদক কারবারিরা যে দলেরই হোক, তাঁদের ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি নিজের দলের কেউ মাদক কারবারে জড়িত থাকলে তাঁর শাস্তি আরও কঠোর হবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি। ইশরাকের পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, এর আগেও ঢাকা-৬ আসনের বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হয়েছে। এলাকাটিকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি এ কাজে এলাকাবাসীর সহযোগিতাও চেয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইন মেনে দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ইশরাক হোসেনের অস্ত্র হাতে অভিযানে অংশ নেওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তাঁর ভূমিকা ও অস্ত্র ব্যবহারের আইনগত দিক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

 

নিজ হাতে গাছের চারা রোপণ করে সবুজায়নের উদ্যোগ শুরু তারেক রহমানে

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২০ অপরাহ্ণ
নিজ হাতে গাছের চারা রোপণ করে সবুজায়নের উদ্যোগ শুরু তারেক রহমানে

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের দুই পাশে সবুজায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর উপকণ্ঠে আমিনবাজার এলাকায় নিজ হাতে গাছের চারা রোপণের মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন তিনি।মহাসড়কের দুই পাশে বৃক্ষরোপণের এ উদ্যোগের মাধ্যমে সড়কের সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় ভূমিকা রাখার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

রোববার দুপুরে আমিনবাজার এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর চারা রোপণের মধ্য দিয়ে মহাসড়কের দুই পাশে সবুজায়ন কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। কর্মসূচির আওতায় মহাসড়কের পাশের এলাকাকে আরও সবুজ ও নান্দনিক করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সড়কের সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব পরিবেশ তৈরিও এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

মহাসড়কের দুই পাশে পরিকল্পিতভাবে গাছ লাগানো হলে সড়ক এলাকার সবুজ আচ্ছাদন বাড়বে। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায়ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তবে বৃক্ষরোপণের সুফল পেতে শুধু চারা লাগানোই যথেষ্ট নয়; গাছগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা ও টিকে থাকা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে কর্মসূচির শুরুতেই রোপণ করা গাছের যথাযথ পরিচর্যার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কর্মসূচি উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মহাসড়কের পাশে সবুজায়ন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। রোপণ করা চারাগুলোর যথাযথ পরিচর্যা এবং সেগুলোর বৃদ্ধি নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি