খুঁজুন
                               
, ,
           

কৃষিতে ১৪ হাজার কোটি টাকার মহাপরিকল্পনা

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০২ অপরাহ্ণ
কৃষিতে ১৪ হাজার কোটি টাকার মহাপরিকল্পনা

কৃষিকে কেবল ফসল উৎপাদনের খাত হিসেবে নয়, বরং উদ্যোক্তা সৃষ্টি, ব্যবসা সম্প্রসারণ ও বাজারভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে বড় উদ্যোগের প্রস্তুতি চলছে। এ লক্ষ্য সামনে রেখে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার ‘বাংলাদেশ অ্যাগ্রি এন্টারপ্রেনারশিপ প্রজেক্ট (বিএপি)’ হাতে নেওয়ার প্রাথমিক পরিকল্পনা করছে সরকার। বিশ্বব্যাংকের প্রস্তাবিত ৯০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থায়নে বাস্তবায়নের কথা রয়েছে প্রকল্পটির। তবে অর্থায়ন, ব্যয়ের কাঠামো ও কার্যক্রম এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

প্রস্তাবিত এ উদ্যোগের বিশেষত্ব হলো, কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য খাতকে একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে এনে উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বাজারজাতকরণ ও সরকারি সেবার মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করা। পাশাপাশি কৃষিপণ্যের নিরাপত্তা ও সরবরাহব্যবস্থার স্বচ্ছতা বাড়াতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে কৃষকের উৎপাদন সিদ্ধান্ত থেকে শুরু করে পণ্য বিক্রি পর্যন্ত পুরো ব্যবস্থায় পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

  • বদলাবে উৎপাদন থেকে বাজারের হিসাব
  • বিশ্বব্যাংকের ৯০০ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাবিত অর্থায়নে কৃষক-উদ্যোক্তা সংযোগ
  • ডিজিটাল সেবা ও নিরাপদ খাদ্যব্যবস্থায় জোর

উৎপাদনের পাশাপাশি বাজারে নজর
বাংলাদেশের কৃষিতে দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন বাড়ানো, উন্নত বীজ-সার সরবরাহ ও কৃষি সম্প্রসারণ সেবার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু উৎপাদন বাড়লেও অনেক ক্ষেত্রে কৃষক ন্যায্য দাম পান না। মধ্যস্বত্বভোগীর প্রভাব, সংরক্ষণ সুবিধার সীমাবদ্ধতা, বাজারতথ্যের ঘাটতি এবং পচনশীল পণ্যের দ্রুত বিপণনের প্রয়োজনীয়তা কৃষকের আয়ের ওপর চাপ তৈরি করে।

বিএপি প্রকল্পের প্রস্তাবিত কাঠামোতে এই ব্যবধান কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কৃষক, কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা এবং সংশ্লিষ্ট বাজার-অংশীজনদের মধ্যে উৎপাদনশীল অংশীদারি গড়ে তোলার মাধ্যমে কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও বিপণনকে একই ধারায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর অর্থ, কৃষক শুধু পণ্য উৎপাদন করেই দায়িত্ব শেষ করবেন না; বাজারের চাহিদা, ক্রেতার প্রয়োজন, পণ্যের মান এবং সরবরাহের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তারা উৎপাদকদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক তৈরি করে কাঁচামাল সংগ্রহ ও ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে পারবেন।

প্রথম ধাপে ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা
প্রকল্পের প্রাথমিক নকশায় চারটি প্রধান উপাদান রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে উৎপাদনশীল অংশীদারি গড়ে তোলার জন্য। প্রথম উপাদান: উৎপাদনশীল অংশীদারি— ২২৫ মিলিয়ন ডলার। কৃষক, কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা ও অন্যান্য অংশীজনের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে উৎপাদন এবং বাজারব্যবস্থা শক্তিশালী করা হবে। মোট প্রস্তাবিত প্রথম ধাপের ব্যয়ের প্রায় ৬৪ শতাংশ এ খাতে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

দ্বিতীয় উপাদান: ডিজিটাল কৃষিসেবা— ৭৫ মিলিয়ন ডলার। সরকারি কৃষিসেবায় ডিজিটাল পাবলিক অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণে এ অর্থ ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে। তৃতীয় উপাদান: খাদ্যনিরাপত্তা ও অনুসরণযোগ্যতা— ৩০ মিলিয়ন ডলার। কৃষিপণ্যের উৎপাদন থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত তথ্য সংরক্ষণ ও অনুসরণ করার ব্যবস্থা জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে।

চতুর্থ উপাদান: প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয় — ২০ মিলিয়ন ডলার। প্রকল্প পরিচালনা, অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে এ অর্থ ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রথম ধাপে চার উপাদানের জন্য ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী দুই ধাপে যথাক্রমে ৩০০ মিলিয়ন ও ২৫০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে। এভাবে তিন ধাপে মোট অর্থায়নের প্রস্তাব দাঁড়াচ্ছে ৯০০ মিলিয়ন ডলার।

ডিজিটাল অবকাঠামো কি বদলাতে পারবে কৃষিসেবার চিত্র?
কৃষি খাতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে কৃষকের কাছে আবহাওয়া, রোগবালাই, উৎপাদন পদ্ধতি, বাজারদর ও সরকারি সহায়তাসংক্রান্ত তথ্য পৌঁছানো সহজ হতে পারে। একই সঙ্গে সরকারি সেবা ব্যবস্থাপনায় তথ্যের সমন্বয় বাড়লে সহায়তা বিতরণ ও সেবার কার্যকারিতা মূল্যায়নের সুযোগও তৈরি হবে। কিন্তু শুধু ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করলেই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না। কৃষকের ডিজিটাল সাক্ষরতা, নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ, স্থানীয় পর্যায়ে সহায়তা এবং তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক, নারী কৃষক এবং প্রযুক্তি ব্যবহারে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীকে সেবার আওতায় আনা না গেলে ডিজিটাল ব্যবস্থার সুফল অসমভাবে বণ্টিত হতে পারে।

উৎপাদন থেকে বাজার পর্যন্ত নজরদারির সুযোগ
প্রকল্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো কৃষিপণ্যের অনুসরণযোগ্যতা বা ট্রেসেবিলিটি। কোনো পণ্য কোথায় উৎপাদিত হয়েছে, কীভাবে সংগ্রহ ও পরিবহন করা হয়েছে এবং সরবরাহব্যবস্থার কোন কোন ধাপ অতিক্রম করেছে—এসব তথ্য সংরক্ষণ ও যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি করাই এর মূল উদ্দেশ্য। এ ব্যবস্থা কার্যকর হলে নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা, দূষিত বা অনিরাপদ পণ্যের উৎস শনাক্ত করা এবং রপ্তানিযোগ্য কৃষিপণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে সহায়তা পাওয়া যেতে পারে।

তিন অধিদপ্তরের সমন্বয়
প্রস্তাবিত প্রকল্প বাস্তবায়নে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই), প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও মৎস্য অধিদপ্তর যুক্ত থাকবে। প্রাথমিক পরিকল্পনায় ডিএইকে প্রধান বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে রাখার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনটি খাতকে একই কাঠামোয় আনার ফলে কৃষি, পশুপালন ও মৎস্য উৎপাদনের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগের সুযোগ বাড়তে পারে। তবে এসব খাতের উৎপাদনচক্র, বাজারব্যবস্থা ও প্রযুক্তিগত প্রয়োজন ভিন্ন। তাই দায়িত্ব বণ্টন, তথ্য বিনিময়, বাজেট ব্যবস্থাপনা এবং ফলাফল পরিমাপের সুস্পষ্ট কাঠামো প্রয়োজন হবে।

আগের কর্মসূচির অভিজ্ঞতা পরিকল্পনা
বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ২০২৩ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া ‘প্রোগ্রাম অন অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স’ কর্মসূচির অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় নতুন প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বিদ্যমান কর্মসূচির অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে কৃষিকে আরও উৎপাদনশীল, বাজারমুখী ও জলবায়ুসহিষ্ণু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে বন্যা, খরা, লবণাক্ততা ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের ঝুঁকি মোকাবিলায় কৃষির স্থিতিস্থাপকতা বাড়ানো জরুরি। উৎপাদনঝুঁকি কমানোর কার্যকর ব্যবস্থা না থাকলে কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগও অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।

অর্থায়ন চূড়ান্ত নয়, চলছে কারিগরি প্রস্তুতি
প্রস্তাবিত প্রকল্পের লিড ফোকাল শাখাওয়াত হোসেন শরীফ জানিয়েছেন, প্রকল্পের অর্থায়ন, ব্যয়ের খাত ও কার্যক্রম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বিশ্বব্যাংক ও সরকারের মধ্যে আলোচনা এবং সমঝোতার ভিত্তিতে প্রকল্পের আকার ও কর্মপরিকল্পনায় পরিবর্তন আসতে পারে। বর্তমানে প্রকল্পের কারিগরি নোট তৈরির কাজ চলছে। এ জন্য একটি প্রস্তুতি দলও গঠন করা হয়েছে।

অর্থাৎ, প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পটি এখনো প্রস্তুতি ও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। প্রস্তাবিত অর্থায়নকে চূড়ান্ত অনুমোদন বা নিশ্চিতভাবে প্রাপ্ত অর্থ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। চূড়ান্ত ব্যয়, অর্থ ছাড়ের সময়সূচি, বাস্তবায়নকাল এবং সুনির্দিষ্ট কার্যক্রম নির্ধারিত হওয়ার পরই প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা স্পষ্ট হবে।

কালের আলো/টিইকে/এমকে

তিন দিনেও দেখা মেলেনি কাঞ্চনজঙ্ঘার, মন খারাপ নিয়ে ফিরছেন পর্যটকরা

পঞ্চগড় সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৭ অপরাহ্ণ
তিন দিনেও দেখা মেলেনি কাঞ্চনজঙ্ঘার, মন খারাপ নিয়ে ফিরছেন পর্যটকরা

দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটির অবসরে হিমালয়ের বরফশুভ্র কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ভিড় করেছিলেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শত শত পর্যটক। তবে টানা তিন দিন ধরে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ও কুয়াশাচ্ছন্ন থাকায় দেখা মেলেনি বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গটির। কাঙ্ক্ষিত দৃশ্য দেখতে না পেয়ে হতাশা নিয়েই তেঁতুলিয়া ছাড়ছেন অনেকে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) পর্যন্ত কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা না মেলায় পর্যটকদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তবে পাহাড় দেখতে না পেলেও তেঁতুলিয়ার অন্যান্য দর্শনীয় স্থান ঘুরে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরেছেন অনেকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছর সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদ ডাকবাংলো, সীমান্তঘেঁষা মাগুরমারী ও বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট থেকে খালি চোখে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সুযোগ তৈরি হয়। এ সময় বরফে ঢাকা পর্বতশৃঙ্গের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকদের ভিড় বাড়ে। তবে বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত মেঘ ও কুয়াশার কারণে এবার কাঙ্ক্ষিত দৃশ্য দেখা যায়নি।

ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে আসা শামীমা আক্তার এবং রাজশাহী থেকে আসা শাহরিয়ারসহ অনেক পর্যটক কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার আশা নিয়ে তেঁতুলিয়ায় এসেছিলেন। কিন্তু আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় তাঁদের সেই আশা পূরণ হয়নি।

তবে হতাশা সত্ত্বেও তাঁরা তেঁতুলিয়ার অন্যান্য পর্যটনস্থল ঘুরে দেখেছেন। সমতলের চা-বাগান, মহানন্দা নদী, বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট, মহারাজার দিঘী ও রক্স মিউজিয়াম ঘুরে শনিবারই নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হন অনেকে।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে গত তিন দিন কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়নি। চলতি অক্টোবর মাসের বাকি দিনগুলোতেও আবহাওয়া অনুকূলে থাকার সম্ভাবনা কম। ফলে এ সময় পর্বতশৃঙ্গটি দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাবনাও কম।

তবে নভেম্বরের শুরুতে আকাশ পরিষ্কার ও মেঘমুক্ত হলে টানা কয়েক দিন কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ দৃশ্য দেখা যেতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে পর্যটন মৌসুমে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে। তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসাইন জানান, দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকেরা যাতে নিরাপদে অবস্থান করতে পারেন এবং কোনো ধরনের হয়রানি বা প্রতারণার শিকার না হন, সে জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা না মিললেও তেঁতুলিয়ার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও অন্যান্য দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখছেন পর্যটকেরা। এখন তাঁদের আশা, নভেম্বরের শুরুতে আকাশ পরিষ্কার হলে আবারও ধরা দেবে হিমালয়ের বরফশুভ্র শৃঙ্গ।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

সংসদ সদস্যদের মনোনীত প্রকল্পে ৩২৯ কোটি টাকা পেল ইউনিয়ন পরিষদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৮ অপরাহ্ণ
সংসদ সদস্যদের মনোনীত প্রকল্পে ৩২৯ কোটি টাকা পেল ইউনিয়ন পরিষদ

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পরিবহন উন্নয়ন সহায়তা খাতে সংসদ সদস্যদের মনোনীত প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দেশের ৩ হাজার ২৫৩টি ইউনিয়ন পরিষদের অনুকূলে ৩২৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় দেওয়া এ অর্থ নির্ধারিত উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় করতে হবে। অর্থ ছাড়, উত্তোলন ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে প্রচলিত আর্থিক বিধিবিধান অনুসরণ এবং বরাদ্দের অর্থের যথাযথ হিসাব সংরক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের উপজেলা পরিষদ-২ শাখা থেকে গত ১৩ অক্টোবর জারি করা এক চিঠিতে এ বরাদ্দের তথ্য জানানো হয়। চিঠিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের অর্থ ছাড় এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

সংসদ সদস্যদের মনোনীত প্রকল্পে ব্যয় হবে অর্থ

স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় পরিবহন উন্নয়ন সহায়তা খাতে বরাদ্দ দেওয়া ৩২৯ কোটি টাকা সংসদ সদস্যদের মনোনীত প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ উন্নয়ন সহায়তা ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা, ২০২১, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০০৮ এবং প্রযোজ্য আর্থিক বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে। বরাদ্দের অর্থ নির্ধারিত উদ্দেশ্যের বাইরে ব্যয় করা যাবে না। প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারি আর্থিক নিয়ম অনুসরণ এবং ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়েও নির্দেশনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

যেভাবে ছাড় হবে বরাদ্দের অর্থ

চিঠিতে বলা হয়েছে, বরাদ্দের অর্থ ছাড়ের জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) প্রতিস্বাক্ষরসহ বিল উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কাছে দাখিল করতে হবে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর প্রচলিত আর্থিক বিধিবিধান অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ স্থানান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অর্থ উত্তোলন ও ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণের দায়িত্ব পালন করবেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা যৌথভাবে। ফলে বরাদ্দের অর্থ উত্তোলন থেকে শুরু করে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।

অনিয়ম হলে দায় নিতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে

বরাদ্দের অর্থ ব্যয়ে কোনো অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট বিল পরিশোধকারী কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ বরাদ্দের অর্থ ছাড় ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে বিধিবিধান লঙ্ঘিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ওপর দায় বর্তাবে। এ ছাড়া প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ের হিসাব যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং নির্ধারিত নিয়মে অর্থ ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অব্যয়িত অর্থ ফেরত দিতে হবে ৩০ জুনের মধ্যে

বরাদ্দের অর্থের কোনো অংশ ব্যয় না হলে তা আগামী ৩০ জুন ২০২৭ তারিখের মধ্যে সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অব্যয়িত অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশনার মাধ্যমে বরাদ্দ ব্যবস্থাপনায় আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থ ছাড় ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা ও উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব আতিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিটি অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয়েছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

 

হামলার আশঙ্কায় অস্ত্র উঁচিয়েছিলাম, ব্যাখ্যা দিলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩০ অপরাহ্ণ
হামলার আশঙ্কায় অস্ত্র উঁচিয়েছিলাম, ব্যাখ্যা দিলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

ঢাকার গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় অস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তাঁর দাবি, হামলার আশঙ্কায় আত্মরক্ষার্থে তিনি ও তাঁর সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরপরই অস্ত্র যথাস্থানে রাখা হয়

রোববার (১৮ অক্টোবর) প্রতিমন্ত্রীর প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তার পাঠানো এক বিবৃতিতে এ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। বিবৃতিতে শনিবার (১৭ অক্টোবর) গেন্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী কর্মসূচি চলাকালে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন ইশরাক হোসেন।
হামলার আশঙ্কায় অস্ত্র প্রদর্শনের দাবি

বিবৃতিতে ইশরাক হোসেন জানান, শনিবার গেন্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী কর্মসূচি চলার সময় একটি অস্থায়ী আস্তানার কাছে ৩০ থেকে ৩৫ জন আইনলঙ্ঘনকারী ব্যক্তি তাঁদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন। এ সময় সুনির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কা তৈরি হলে জানমালের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তিনি ও তাঁর সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন।
প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অস্ত্র যথাস্থানে রাখা হয়। তিনি আরও দাবি করেন, তাঁর ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং আত্মরক্ষার প্রয়োজনেই তা প্রদর্শন করা হয়েছিল। তবে ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি, অস্ত্র প্রদর্শনের প্রয়োজনীয়তা এবং পুরো ঘটনার ধারাবাহিকতা সম্পর্কে বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরা হলেও এসব দাবির স্বাধীন যাচাইয়ের তথ্য দেওয়া হয়নি।

এলাকায় মাদক বিস্তারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের
বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকা-৬ আসনের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই গেন্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর, মুন্সিটেক, করাতিটোলা ও আশপাশের এলাকায় মাদক কেনাবেচা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে আসছেন ইশরাক হোসেন।

তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে এলাকাটি মাদক সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রধান ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়। গত জুনে মাদকসংক্রান্ত সহিংসতায় তিনজন নিরীহ নাগরিক গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি এলাকাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক সমন্বয় সভাও করেন।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, মাদকের আস্তানার কাছে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট থানাকে আধা সরকারি পত্র বা ডিও লেটার দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই উদ্যোগ এখনো বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে দাবি করেন প্রতিমন্ত্রী।
পুলিশের উপস্থিতিতে অভিযান, আটক ছয়

ইশরাক হোসেনের বিবৃতি অনুযায়ী, পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্তে সাধারণ নাগরিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অংশগ্রহণে সমন্বিত সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচি নেওয়া হয়। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই তিনি গেন্ডারিয়া এলাকায় যান।
ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরপরই গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশকে অবহিত করা হয়। পরে পুলিশের প্রত্যক্ষ উপস্থিতি ও সহায়তায় সন্দেহভাজন মাদকের আস্তানাগুলোতে যৌথ অভিযান চালানো হয় বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে চার থেকে পাঁচটি অবৈধ ও অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়। এসব স্থান থেকে হেরোইন বা হেরোইনজাতীয় মাদকদ্রব্য, বিদেশি মদ, মাদকসেবনের সরঞ্জাম, দেশীয় ধারালো অস্ত্র, মাদক বিক্রির নগদ অর্থ এবং ছিনতাই করা মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
এ ছাড়া অপরাধের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে ছয়জনকে আটক করে জব্দ করা আলামতসহ গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। তবে জব্দ করা সামগ্রীর পরিমাণ, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ এবং পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযানের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বিবৃতিতে তুলে ধরা হয়নি।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি