খুঁজুন
                               
, ,
           

ভারতের সেভেন সিস্টার্সকে বঙ্গোপসাগরে যুক্ত করতে বাংলাদেশকে ঘিরে জাপানের কৌশল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০২ অপরাহ্ণ
ভারতের সেভেন সিস্টার্সকে বঙ্গোপসাগরে যুক্ত করতে বাংলাদেশকে ঘিরে জাপানের কৌশল

বাংলাদেশের মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক শিল্প ও বাণিজ্যিক সংযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় জাপান। এ পরিকল্পনার আওতায় বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্য, যা ‘সেভেন সিস্টার্স’ নামে পরিচিত, সেগুলোকে বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে দেশটি। জাপানের কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে রোববার (১৮ অক্টোবর) ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাতারবাড়ী বন্দরকে ঘিরে একটি ‘শিল্পমূল্য শৃঙ্খল’ বা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভ্যালু চেইন গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে জাপান। এর মাধ্যমে শুধু বাংলাদেশের বন্দর অবকাঠামোর উন্নয়ন নয়, বরং বাংলাদেশ, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং আশপাশের দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য, শিল্প উৎপাদন ও যোগাযোগব্যবস্থা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

চলতি মাসের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য জাপান সফরের আগে এ পরিকল্পনার কথা সামনে এসেছে। সফরে মাতারবাড়ী শিল্প, বন্দর ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র প্রকল্প এবং ২০২৬ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে জাপানের আর্থিক সহায়তার বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে।

মাতারবাড়ীকে আঞ্চলিক শিল্পকেন্দ্র হিসেবে দেখতে চায় টোকিও
দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কূটনৈতিক সূত্র মাতারবাড়ী বন্দরের সম্ভাবনাকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন। ওই কর্মকর্তা বলেন, মাতারবাড়ী বন্দর বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক শিল্পকেন্দ্রে পরিণত করার সম্ভাবনা রাখে।

জাপানের পরিকল্পনার মূল ভাবনা হলো, গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে শিল্পকারখানা, পণ্য পরিবহন, সরবরাহব্যবস্থা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সমন্বিত অবকাঠামো গড়ে তোলা। এর ফলে বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানোর সুযোগ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানও এ বন্দর ব্যবহার করে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের সুবিধা পেতে পারে।

বিশেষ করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর জন্য বঙ্গোপসাগরে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হলে পণ্য পরিবহনে নতুন বিকল্প পথ উন্মুক্ত হতে পারে। ভৌগোলিকভাবে ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এই অঞ্চলটির সঙ্গে বাংলাদেশের সড়ক, রেল ও বন্দর যোগাযোগ উন্নত করা গেলে আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হবে।

তবে সেভেন সিস্টার্সকে মাতারবাড়ী বন্দরের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা এখনো সম্ভাবনাভিত্তিক। এ জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, পরিবহনব্যবস্থা, সীমান্তপারের বাণিজ্যনীতি এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে গুরুত্ব পেতে পারে মাতারবাড়ী প্রকল্প
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য জাপান সফরে মাতারবাড়ী শিল্প, বন্দর ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র প্রকল্পটি বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। ২০২৬ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে জাপানের আর্থিক সহায়তা চাইতে পারে বাংলাদেশ।

সফরের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত আগস্টে মাতারবাড়ী পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তাঁকে প্রকল্পের পরবর্তী ধাপ, অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে অবহিত করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মাতারবাড়ী প্রকল্প বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গভীর সমুদ্রবন্দরকে ঘিরে শিল্পাঞ্চল ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম গড়ে উঠলে কেবল আমদানি-রপ্তানি নয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

জাপানের সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থায় আরও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান নিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো।

গভীর সমুদ্রবন্দর হলে কমতে পারে বিদেশি বন্দরের ওপর নির্ভরতা
দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে মাতারবাড়ী হবে বাংলাদেশের একমাত্র গভীর সমুদ্রবন্দর। বর্তমানে বড় জাহাজে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কার কলম্বো এবং মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বন্দরের ওপর নির্ভর করতে হয়।

গভীর সমুদ্রবন্দরে বড় আকারের জাহাজ সরাসরি ভিড়তে পারলে পণ্য পরিবহনের প্রক্রিয়া আরও কার্যকর হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। এতে মধ্যবর্তী বন্দরের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ের সম্ভাবনা থাকে।

মাতারবাড়ীকে ঘিরে শিল্প ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র গড়ে উঠলে বন্দরটি শুধু বাংলাদেশের পণ্য আমদানি-রপ্তানির কাজে সীমাবদ্ধ থাকবে না; প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্যও আঞ্চলিক বাণিজ্য ও পরিবহনের কেন্দ্র হয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে এ সম্ভাবনা বাস্তবায়নের জন্য বন্দরের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সড়ক ও রেল যোগাযোগ, পণ্য সংরক্ষণ ও পরিবহন সুবিধা, কাস্টমস কার্যক্রম এবং সীমান্তপারের লজিস্টিকস ব্যবস্থা সমন্বিতভাবে উন্নত করতে হবে।

ব্যাংকককে অনুসরণযোগ্য মডেল মনে করছে জাপান
আঞ্চলিক শিল্পমূল্য শৃঙ্খল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের অভিজ্ঞতাকে অনুসরণযোগ্য বলে মনে করছে জাপান। দ্য হিন্দুকে লিখিত জবাবে জাপানের ওই কূটনৈতিক কর্মকর্তা বলেন, বন্দর ও দক্ষিণাঞ্চলীয় অর্থনৈতিক করিডরকে কাজে লাগিয়ে ব্যাংকক আঞ্চলিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নেতৃত্ব দিয়েছে।

থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামের মধ্যে যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে জাপান অর্থায়ন এবং অবকাঠামো পরিকল্পনায় সহায়তা দিয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে উৎপাদন, পণ্য পরিবহন ও বাণিজ্যের বিভিন্ন ধাপকে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

জাপানি কর্মকর্তাদের ধারণা, মাতারবাড়ীকে কেন্দ্র করেও এ ধরনের মডেল বাস্তবায়ন করা সম্ভব। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান, নেপাল ও মিয়ানমারের মধ্যে যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানো যেতে পারে।

এ পরিকল্পনার তাৎপর্য হলো, একটি বন্দরকে কেন্দ্র করে একাধিক দেশের উৎপাদন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমকে একই সরবরাহব্যবস্থার আওতায় আনা। এতে কোনো একটি দেশের শিল্পাঞ্চল অন্য দেশের বাজার কিংবা সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পায়। তবে এ ধরনের আঞ্চলিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, বিনিয়োগ এবং দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমন্বয় প্রয়োজন।

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগে নতুন সম্ভাবনা
ভারতের সেভেন সিস্টার্স—অরুণাচল প্রদেশ, আসাম, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড ও ত্রিপুরা—অঞ্চলটির সঙ্গে বাংলাদেশের ভৌগোলিক নৈকট্য রয়েছে। বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করা গেলে এসব রাজ্যের পণ্য পরিবহন ও সমুদ্রবাণিজ্যে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

মাতারবাড়ী বন্দরের সঙ্গে সড়ক, রেল ও অন্যান্য পরিবহন অবকাঠামোর কার্যকর সংযোগ স্থাপন করা গেলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ব্যবসায়ীরা বঙ্গোপসাগরমুখী একটি বিকল্প বাণিজ্যপথ পেতে পারেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পরিবহন, গুদামজাতকরণ, সরবরাহ ও বন্দরসংশ্লিষ্ট সেবার চাহিদাও বাড়তে পারে।

এই সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হলে আঞ্চলিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের গুরুত্ব বাড়ার পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক পারস্পরিক নির্ভরশীলতাও বাড়তে পারে। তবে বাস্তবে এ ধরনের যোগাযোগ চালু করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অনুমোদন, পরিবহন চুক্তি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়গুলোর সমাধান প্রয়োজন হবে।

মৈত্রী সেতু চালু না হওয়ায় রয়ে গেছে সীমাবদ্ধতা
মাতারবাড়ী বন্দরকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক যোগাযোগ সম্প্রসারণের আলোচনায় বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বিদ্যমান যোগাযোগ অবকাঠামোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক তুলনামূলক ভালো থাকায় সীমান্তপারের বিভিন্ন যোগাযোগ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

এর মধ্যে ফেনী নদীর ওপর নির্মিত মৈত্রী সেতু উল্লেখযোগ্য। সেতুটি ভারতের ত্রিপুরার সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ স্থাপনের উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়েছিল। এটি কার্যকরভাবে চালু হলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম অঞ্চল এবং মাতারবাড়ী বন্দরের দিকে যোগাযোগের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

তবে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে সেতুটি এখনো চালু হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে আঞ্চলিক যোগাযোগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা থাকলেও বিদ্যমান অবকাঠামোর পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করা এখনো একটি চ্যালেঞ্জ।

জাপানের কর্মকর্তারা অবশ্য দীর্ঘমেয়াদে এ অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা নিয়ে আশাবাদী। তাঁদের ধারণা, বাংলাদেশ থেকে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো গেলে মাতারবাড়ী বন্দরের কার্যকারিতা ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে।

বাংলাদেশের জন্য সুযোগ, তবে প্রয়োজন আঞ্চলিক সমঝোতা
মাতারবাড়ীকে কেন্দ্র করে জাপানের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের সামনে বন্দরনির্ভর শিল্পায়ন, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ বাড়লে বাংলাদেশ আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থায় আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে পরিকল্পনাটির সাফল্য শুধু বন্দর নির্মাণের ওপর নির্ভর করবে না। বন্দরকে শিল্পাঞ্চল, সড়ক ও রেল যোগাযোগ, সীমান্তপারের পরিবহন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যব্যবস্থার সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা ও দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতাও জরুরি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য জাপান সফরে মাতারবাড়ী প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হলে এ পরিকল্পনার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা স্পষ্ট হতে পারে। তবে সেভেন সিস্টার্সকে মাতারবাড়ী বন্দরের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ এখনো পরিকল্পনা ও সম্ভাবনার পর্যায়ে রয়েছে; এটি বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নির্ভর করবে পরবর্তী আলোচনা, বিনিয়োগ ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর। সূত্র: দ্য হিন্দু

কালের আলো/জেএন/এসএ

সরকারের পতন নয়, সফলতা চেয়েছিলাম:শফিকুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০০ অপরাহ্ণ
সরকারের পতন নয়, সফলতা চেয়েছিলাম:শফিকুর রহমান

সরকারের পতন নয়, বরং সরকারের সফলতা চেয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তবে সরকার বিরোধীদলের সহযোগিতা নেওয়ার যোগ্যতা দেখাতে পারেনি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

রোববার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি আয়োজিত ‘জুলাই সনদের এক বছর, প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার সালতামাম’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা সরকারের পতন চাইনি, চেয়েছিলাম সফলতা। কারণ সরকারের সফলতা মানে দেশের সফলতা।” তাঁর অভিযোগ, বিএনপি জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেছে। একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হলেও বিএনপি সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়নি। এর মধ্য দিয়ে জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জামায়াত আমির আরও বলেন, বিএনপিই বিরোধীদলকে আন্দোলনের পথে ঠেলে দিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, গত সাত মাসে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা হয়েছে এবং আগের স্বৈরাচারী শাসনের পথেই সরকার হাঁটছে। এমন পরিস্থিতিতে বিরোধীদল নীরব থাকতে পারে না।

তিনি বলেন, তাঁরা সরকারের পতন নয়, দেশের সফলতা চেয়েছিলেন। দেশকে কোনো সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দেওয়া হবে না। তরুণেরা জেগে উঠেছে এবং পূর্ণ মুক্তি অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত তারা থামবে না। ২০২৪ সালের আন্দোলন থেকে শিক্ষা নিয়ে নব্য ফ্যাসিবাদেরও পতন ঘটানো হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শফিকুর রহমান বলেন, শত কারচুপির পরও জনগণ জামায়াতকে যে আসন দিয়েছে, সেই ৮৯ জন সংসদ সদস্য ১৮ কোটি মানুষের পাহারাদার হিসেবে কাজ করবেন। বিএনপি অবস্থান পরিবর্তন করলেও জামায়াত তাদের অবস্থান বদলাবে না। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি আদায় করেই ছাড়বেন তাঁরা।

সংস্কার সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান

আলোচনা সভায় লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল অলি আহমদ (বীর বিক্রম) বলেন, সরকার পরিচালনায় জনগণের চাহিদাকে গুরুত্ব দিতে হবে। সংস্কার সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। তাই ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও দলীয় স্বার্থের পরিবর্তে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে। নির্বাচনের আগে সরকারি সুবিধা বিতরণের মাধ্যমে ভোটকে প্রভাবিত করা যাবে না। একই সঙ্গে রাজনৈতিক বক্তব্যে দায়িত্বশীলতা বজায় রাখতে হবে এবং অদক্ষ ও অযোগ্য ব্যক্তিদের নির্বাচিত করার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

অলি আহমদ আরও বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রে আমূল পরিবর্তন আনতে হলে সবার আগে নিজেদের মন-মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। যোগ্য, সৎ ও জনকল্যাণে নিবেদিত ব্যক্তিদের নির্বাচিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে সরকার’

সভাপতির বক্তব্যে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, সরকার জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে, যা গণতন্ত্রের জন্য শুভ লক্ষণ নয়।

তিনি বলেন, জুলাই সনদে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব ও সাত দফা অঙ্গীকার ছিল। প্রথম অধিবেশন শুরুর ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সনদ বাস্তবায়ন এবং ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার ও দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের অঙ্গীকারও ছিল। কিন্তু সরকার এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে পিছিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মজিবুর রহমান মঞ্জু বিএনপিকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। অন্যথায় সরকারকে প্রতিটি পদক্ষেপে জনগণের ঘৃণা ও প্রতিবাদের মুখোমুখি হতে হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

আলোচনা সভায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, এবি পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

মিথ্যা সংবাদ ও পোস্টের বিরুদ্ধে দেওয়ানি আইনে ক্ষতিপূরণ চান শফিকুল আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫১ অপরাহ্ণ
মিথ্যা সংবাদ ও পোস্টের বিরুদ্ধে দেওয়ানি আইনে ক্ষতিপূরণ চান শফিকুল আলম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও প্রচলিত সংবাদমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য প্রকাশ এবং ব্যক্তির চরিত্রহননের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রেস সচিব ও দৈনিক ওয়াদার সম্পাদক শফিকুল আলম। মিথ্যা সংবাদ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা পোস্টের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সুরক্ষায় মানহানি আইন কার্যকর করা এবং দেওয়ানি আইনের আওতায় জরিমানা বা আর্থিক ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে ‘প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ বিষয়ে মিডিয়া কমিটি ও নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোর গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুল আলম বলেন, বিদ্যমান আইন অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা দিতে পারছে না। বর্তমানে মতপ্রকাশের বড় একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে। ইউটিউবার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সাররা অনেক সময় বড় সংবাদমাধ্যমের চেয়েও বেশি মানুষের ওপর প্রভাব ফেলতে পারেন। তাঁদের বক্তব্য থেকে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি কখনো কখনো সামাজিক নিরাপত্তা নিয়েও সমস্যা দেখা দেয়।

তিনি বলেন, মানুষ রাগ, ক্ষোভ কিংবা বিভিন্ন মতামত প্রকাশে ক্রমেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে এ সময় প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক চিন্তাভাবনার বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হয় না। ফলে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এসব সমস্যা কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, তা নিয়ে ভাবতে হবে।

মানহানি আইন কার্যকরের তাগিদ

শফিকুল আলম বলেন, বাংলাদেশে মানহানিসংক্রান্ত যে আইন রয়েছে, তা কার্যকর করা উচিত। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন ধরে আইনটি থাকলেও এর আওতায় কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে। ফলে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা সংবাদমাধ্যমে অন্যের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করছেন।

তিনি বলেন, দেশে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই—এমন দাবি করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে টেলিভিশন কিংবা ইন্টারনেটে ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য প্রকাশের ঘটনা দেখা যায়। কেউ নিজের নাম দিয়ে অনলাইনে অনুসন্ধান করলে তাঁর বিরুদ্ধে শত শত মিথ্যা সংবাদ পেতে পারেন। এসব তথ্য তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও দেখতে হতে পারে।

শফিকুল আলমের ভাষ্য, এ ধরনের ঘটনা শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সারদের মাধ্যমে ঘটছে না; ক্লিকবেটের কারণে সংবাদপত্রও অনেক সময় এ ধরনের কাজ করছে। এসব সমস্যা প্রচলিত আইন দিয়ে মোকাবিলা করা হবে, নাকি সাইবার আইনের মাধ্যমে—তা নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, প্রচলিত মানহানি আইনে মামলা হলে তা বছরের পর বছর ঝুলে থাকতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি আদালতের রায় চাইলেও তাঁর ক্ষতির দ্রুত ও কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিত করার ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়।

‘মিথ্যা সংবাদে ক্ষতিগ্রস্তদের সুরক্ষা কে দেবে’

শফিকুল আলম বলেন, খারাপ সাংবাদিকতা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা পোস্টের কারণে যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হন, তাঁদের সুরক্ষা কে দেবে—এ প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা এসব ঘটনার শিকার হচ্ছেন।

তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে মানহানির বিষয়টি দেওয়ানি আইনের আওতায় মোকাবিলার যে ব্যবস্থা রয়েছে, বাংলাদেশেও সে ধরনের ব্যবস্থা বিবেচনা করা যেতে পারে। তিনি মানহানিকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করার পরিবর্তে দেওয়ানি আইনের আওতায় প্রতিকার নিশ্চিত করার পক্ষে মত দেন। তবে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে অন্যের চরিত্রহনন করলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শফিকুল আলমের মতে, কোনো সংবাদমাধ্যম মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করে কারও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করলে তার দায় নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে জরিমানা বা আর্থিক ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। যুক্তরাজ্যে সংবাদপত্রগুলোর মামলা হারলে জরিমানা দেওয়ার জন্য বাজেটে অর্থ বরাদ্দ রাখার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বাংলাদেশেও এ ধরনের ব্যবস্থা বিবেচনার কথা বলেন।

‘ফ্রি স্পিচের নামে ওয়াইল্ড ওয়েস্ট তৈরি হচ্ছে’

শফিকুল আলম বলেন, কেউ ভুলবশত কোনো তথ্য প্রকাশ করেছেন, নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে লক্ষ্য করে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়েছেন—তা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে কারও সামাজিক মর্যাদা নষ্ট করার সুযোগ থাকা উচিত নয়।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, কোনো ব্যক্তি সরকারি চুক্তি না পাওয়ার কারণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, সচিব বা যুগ্ম সচিবের বিরুদ্ধে দিনের পর দিন মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করতে পারেন। অথচ এ ধরনের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের প্রতিকার পাওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা নেই।

তাঁর মতে, মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের বিরুদ্ধে কেউ ব্যবস্থা নিতে গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্বের অভিযোগ তুলতে পারেন। তবে মিথ্যা তথ্য প্রকাশের পরিণতি নিয়েও আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।

অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ১৮ মাস কাজ করার সময় তিনি এসব বিষয় কাছ থেকে দেখেছেন উল্লেখ করে শফিকুল আলম বলেন, ভবিষ্যতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

ইন্টারনেটে থেকে যায় মিথ্যা সংবাদ

শফিকুল আলম বলেন, ইন্টারনেটে প্রকাশিত তথ্য শুধু তাৎক্ষণিকভাবে মানুষের কাছে পৌঁছায় না, বরং দীর্ঘদিন থেকে যায়। কেউ জনজীবন থেকে সরে গেলেও তাঁর নাম দিয়ে অনলাইনে অনুসন্ধান করলে পুরোনো নেতিবাচক বা মিথ্যা প্রতিবেদন সামনে আসতে পারে। এতে দীর্ঘমেয়াদে তাঁর সামাজিক মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

তিনি বলেন, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য প্রকাশের ঘটনা দেখা যাচ্ছে। এর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না থাকলে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে না।

নিজেকে একজন সাংবাদিক হিসেবে উল্লেখ করে শফিকুল আলম বলেন, তিনি দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা চান। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অবশ্যই থাকতে হবে, তবে মানুষকে সত্য বলতে হবে। ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে লক্ষ্য করে মিথ্যা তথ্য প্রচার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন নিয়ে আলোচনায় উত্থাপিত বিষয়গুলোর সঙ্গে একমত পোষণ করে তিনি মানহানি আইন কার্যকর করা এবং দেওয়ানি আইনের আওতায় যথাযথভাবে প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

হাম উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৭ জনের মৃত্যু, নতুন রোগী ১ হাজার ৩১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪১ অপরাহ্ণ
হাম উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৭ জনের মৃত্যু, নতুন রোগী ১ হাজার ৩১৯

গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হাম উপসর্গে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম উপসর্গ ও নিশ্চিত হাম মিলিয়ে নতুন আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩১৯ জন।

রোববার (১৮ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ২৫৪ জন শনাক্ত হয়েছেন। অন্যদিকে, নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৫ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত হাম উপসর্গ ও নিশ্চিত হাম মিলিয়ে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৩ হাজার ২৪৪ জন। এ সময় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ২৩ হাজার ১২২ জন।

এ ছাড়া, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত হাম উপসর্গ নিয়ে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৪৮৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ৮১ হাজার ৭৫৬ জন।

মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত হাম উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ৯২ জন।

অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। তবে একই সময়সীমায় নিশ্চিত হামে মোট ১০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি