খুঁজুন
                               
, ,
           

পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি বন্ধ ও প্রত্যাহার করতে ইসরায়েলকে চীনের আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২২ অপরাহ্ণ
পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি বন্ধ ও প্রত্যাহার করতে ইসরায়েলকে চীনের আহ্বান

অধিকৃত পশ্চিম তীরে জোরপূর্বক বসতি স্থাপন বন্ধ এবং ইতোমধ্যে গড়ে তোলা বসতি প্রত্যাহার করতে ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। একই সঙ্গে ফিলিস্তিন সংকটকে চলতি শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক অবিচার হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন—দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি গাজায় অবিলম্বে ও পূর্ণাঙ্গভাবে মানবিক সহায়তা প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বানও জানিয়েছেন চীনের এই শীর্ষ কূটনীতিক।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) প্রকাশিত চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে ওয়াং ইর এসব বক্তব্যের কথা জানানো হয়। আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হেরজগের সঙ্গে বৈঠকে তিনি পশ্চিম তীরের বসতি সম্প্রসারণ, ফিলিস্তিন সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। এ বিষয়ে খবর প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইসরায়েল।

পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপন বন্ধের আহ্বান
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরে জোরপূর্বক বসতি স্থাপন বন্ধ করতে হবে এবং ইতোমধ্যে নির্মিত বসতিগুলো প্রত্যাহার করতে হবে। ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।

ওয়াং ইর বক্তব্যে ফিলিস্তিনিদের ভূমি ও অধিকারসংক্রান্ত প্রশ্নে চীনের অবস্থান আবারও স্পষ্ট হয়েছে। বেইজিং মনে করে, ফিলিস্তিন সংকটের স্থায়ী সমাধান ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা কঠিন। তাই সংঘাতের সামরিক সমাধানের পরিবর্তে রাজনৈতিক উদ্যোগ, সংলাপ এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সমাধানের পথে এগোনোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে চীন।

‘ফিলিস্তিন সংকট চলতি শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক অবিচার’
বৈঠকে ওয়াং ই বলেন, ফিলিস্তিন সংকটকে চীন চলতি শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক অবিচার হিসেবে বিবেচনা করে। তাঁর মতে, এই সংকটকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য অধিকার ও দাবির বিষয়টি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আলোচনার কেন্দ্রে রাখতে হবে।

চীনের পররাষ্ট্রনীতিতে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও পুনর্মিলন প্রতিষ্ঠা গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ওয়াং ইর বক্তব্যে সেই অবস্থানের প্রতিফলন দেখা গেছে। বেইজিংয়ের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের অবসানে এমন একটি রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন, যেখানে উভয় পক্ষের মানুষের নিরাপত্তা, অধিকার ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা বিবেচনায় নেওয়া হবে।

ফিলিস্তিন সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানকে দীর্ঘদিন ধরে সম্ভাব্য রাজনৈতিক পথ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। চীনও এই অবস্থানের পক্ষে নিজেদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।

দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানেই সংকটের অবসান দেখছে বেইজিং
ওয়াং ই বলেন, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের পাশাপাশি দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই সংকটের সঠিক সমাধান সম্ভব। এই নীতির আওতায় ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন পৃথক রাষ্ট্র হিসেবে পাশাপাশি শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করবে—এমন ধারণার প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছে চীন।

বেইজিংয়ের অবস্থান অনুযায়ী, ফিলিস্তিনিদের নিজস্ব রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকার এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তার বিষয়টি রাজনৈতিক সমাধানের আলোচনায় গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন। তবে এ ধরনের সমাধান বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে কার্যকর আলোচনা, পারস্পরিক সমঝোতা এবং আন্তর্জাতিক উদ্যোগ প্রয়োজন।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধান খুঁজতে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, কেবল সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং সংঘাতের মূল কারণগুলো মোকাবিলা করেই স্থায়ী শান্তির পথ তৈরি করতে হবে।

গাজায় অবিলম্বে মানবিক সহায়তা প্রবেশের তাগিদ
ফিলিস্তিন সংকট নিয়ে আলোচনায় গাজার মানবিক পরিস্থিতির বিষয়টিও তুলে ধরেন ওয়াং ই। তিনি গাজায় অবিলম্বে ও পূর্ণাঙ্গভাবে মানবিক সহায়তা প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন, যাতে মানবিক বিপর্যয় আরও বিস্তৃত না হয়।

গাজায় সংঘাতের কারণে বেসামরিক মানুষের জীবন, খাদ্য ও চিকিৎসাসেবা এবং জরুরি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানোর সুযোগ নিশ্চিত করা মানবিক সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পক্ষ।

ওয়াং ইর বক্তব্য অনুযায়ী, মানবিক সহায়তা প্রবেশের পথ বাধামুক্ত রাখা এবং বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগ কমানোর উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাজনৈতিক আলোচনাও এগিয়ে নিতে হবে।

সংলাপ ও আলোচনায় ফেরাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চায় চীন
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সব পক্ষকে যত দ্রুত সম্ভব সংলাপ ও আলোচনায় ফিরিয়ে আনতে এবং সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধান খুঁজতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত বেইজিং। চীনের এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে।

বেইজিংয়ের মতে, সংঘাত অব্যাহত থাকলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু করা এবং রাজনৈতিক সমাধানের জন্য কার্যকর আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন। চীন দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছে। ওয়াং ইর সাম্প্রতিক বক্তব্যে সেই অবস্থান আবারও তুলে ধরা হয়েছে।

বাকুতে হেরজগের সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা
ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হেরজগের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে এশিয়ায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত সম্মেলন—সিআইসিএর ফাঁকে দুই নেতার বৈঠক হয়। সেখানে চীন ও ইসরায়েলের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বিশেষ করে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ নিয়ে আলোচনা করেন তাঁরা।

তবে পশ্চিম তীরের বসতি স্থাপন এবং ফিলিস্তিন সংকট নিয়ে দুই নেতার আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে হেরজগের কার্যালয় মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে বৈঠকে ফিলিস্তিন ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে কী ধরনের আলোচনা হয়েছে বা এ বিষয়ে কোনো সমঝোতা হয়েছে কি না, তা বিস্তারিতভাবে জানা যায়নি।

ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত চীনের
এদিকে ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারসেন আগাবেকিয়ান শাহিনের সঙ্গে বৈঠকেও ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন ওয়াং ই। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ফিলিস্তিনের অধিকার ও দাবির পক্ষে কথা বলা অব্যাহত রাখবে বেইজিং। ওয়াং ই বলেন, ফিলিস্তিন ইস্যুকে উপেক্ষা করা উচিত নয়। পাশাপাশি দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে শান্তিপ্রিয় সব দেশকে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সব মিলিয়ে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপন বন্ধ, গাজায় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের মাধ্যমে ফিলিস্তিন সংকটের অবসান—এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে চীন। তবে এসব আহ্বানের পর ইসরায়েলের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

কালের আলো/এএএন/এসএ

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩৯ অপরাহ্ণ
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য অটুট রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, অন্যায়-অত্যাচার, অসততা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং সেগুলোকে পরাজিত করাই দুর্গাপূজার মূল দর্শন।

রোববার (১৮ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গোৎসব ২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর রমনা কালী মন্দির পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির যে ঐতিহ্য রয়েছে, তা নিয়ে দেশবাসী গর্ব করতে পারে। বিশ্বজুড়ে যখন সংঘাত, হানাহানি ও হিংসা-বিদ্বেষ বিরাজ করছে, তখন বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন করতে পারছেন। এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থানের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, দুর্গাপূজা তাঁদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসব ন্যায়, শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণের শিক্ষা দেয়।তিনি বলেন, বাংলাদেশে বারবার অসুরের আবির্ভাব ঘটেছে এবং এ দেশের মানুষ তাদের পরাজিত করেছে।

রমনা কালী মন্দিরের ইতিহাস তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি

রমনা কালী মন্দিরের ইতিহাস স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৭১ সালে মন্দিরটি ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ১৯৭৩ সালে এটি ধ্বংস করা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্যে এ ঘটনার সঙ্গে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলা ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠে আসে।

তিনি আরও বলেন, ২০০১ সালে বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের উদ্যোগে এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে রমনা কালী মন্দির পুনঃস্থাপন করা হয়। এরপর থেকে মন্দিরটিকে পুরোনো ঐতিহ্যে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি।

সম্প্রীতি নিয়ে অপপ্রচার বন্ধের আহ্বান

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে প্রায়ই অপব্যাখ্যা ও অপপ্রচার করা হয়। এ ঐতিহ্য রক্ষায় সবাইকে একতাবদ্ধ থাকতে হবে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। পাশাপাশি দুর্গাপূজার সার্বিক সফলতা কামনা করেন এবং অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার, রমনা মন্দিরের সভাপতি অর্পনা রায় দাস এবং সাধারণ সম্পাদক মিল্টন বৈদ্য উপস্থিত ছিলেন। এ সময় রমনা মন্দিরের সদস্য সুভাষ চন্দ্র দাস রাষ্ট্রপতিকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

বিএনপিকর্মী মকবুল হত্যা মামলায় সুলতান মনসুর ও মঈনউদ্দিন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২৯ অপরাহ্ণ
বিএনপিকর্মী মকবুল হত্যা মামলায় সুলতান মনসুর ও মঈনউদ্দিন গ্রেপ্তার

বিএনপিকর্মী মকবুল হোসেন হত্যা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ এবং সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহর ছেলে সেরনিয়াবাত মঈনউদ্দিন আহাম্মেদ আব্দুল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। রোববার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। পরে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।

আদালতে শুনানির সময় সুলতান মনসুর বলেন, যে সময়ের ঘটনা নিয়ে মামলাটি করা হয়েছে, তখন তিনি গণফোরামের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে নয়। তিনি কোনো অপরাধ করেননি বলেও দাবি করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপপরিদর্শক মো. তোফাজ্জল হোসেন এদিন সুলতান মনসুর ও মঈনউদ্দিন আব্দুল্লাহকে আদালতে হাজির করে ২০২২ সালের এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন শুনানিতে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করার অনুরোধ জানান। অন্যদিকে, সুলতান মনসুর ও মঈনউদ্দিনের পক্ষে আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীনসহ কয়েকজন তাঁদের গ্রেপ্তার না দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন।

আদালতের অনুমতি নিয়ে সুলতান মনসুর বলেন, “জুলাই আন্দোলনের সময় আমি সপরিবারে দেশের বাইরে ছিলাম। কোনো অপরাধ করলে আমি দেশে ফিরে আসতাম না।”

বিচারকের কাছে আইনগত সহায়তা চেয়ে তিনি আরও বলেন, “এ মামলার ঘটনা ২০২২ সালের। আমি তো তখন গণফোরামের সঙ্গে ছিলাম, আওয়ামী লীগের সঙ্গে না।”

শুনানি শেষে বিচারক তাঁদের বিএনপিকর্মী মকবুল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। এরপর তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয় বলে প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রোকনুজ্জামান জানান।

সুলতান মনসুরের রাজনৈতিক পরিচয়

ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক সহসভাপতি (ভিপি) সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ একসময় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থার সময় আওয়ামী লীগের সংস্কারপন্থি হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পর দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়।

পরে তিনি কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরামে যোগ দেন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে জোটের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ায় তাঁকে গণফোরাম থেকে বহিষ্কার করা হয়।

২০২৩ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি।

যে ঘটনায় মকবুল হত্যা মামলা

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর এক দফা দাবি আদায়ের কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। এর আগে ৭ ডিসেম্বর ডিবি কর্মকর্তা হারুন অর রশীদ, মেহেদী হাসান ও বিপ্লব কুমারের নেতৃত্বে বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। এ সময় কার্যালয়ে ভাঙচুর এবং আশপাশে নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সময় মকবুল হোসেন নামে বিএনপির এক কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সরকারি কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্য এবং আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিএনপির আন্দোলন নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মাহফুজুর রহমান নামের এক ব্যক্তি পল্টন মডেল থানায় মামলাটি করেন। এতে শেখ হাসিনাসহ ২৫৬ জনকে আসামি করা হয়।

আগে থেকেই কারাগারে সুলতান মনসুর ও মঈনউদ্দিন

২০২৪ সালের ১ অক্টোবর কানাডা থেকে দেশে ফেরার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন থেকে সুলতান মনসুরকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই দিনই তাঁকে যুবদল নেতা শামীম মোল্লা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

এ ছাড়া বিএনপিকর্মী মুশফিকুর রহমান আবিরকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে পল্টন মডেল থানায় করা আরেকটি মামলায় গত ১৪ অক্টোবর তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

অন্যদিকে, ২০২৪ সালের ২৬ অক্টোবর ঢাকার গুলশান-২ এলাকা থেকে মঈনউদ্দিন আব্দুল্লাহকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। এরপর থেকে তিনিও কারাগারে রয়েছেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

গ্রস রিজার্ভ ৩৬.৩৯ বিলিয়ন, বিপিএম৬ পদ্ধতিতে ৩১.৫৮ বিলিয়ন ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২০ অপরাহ্ণ
গ্রস রিজার্ভ ৩৬.৩৯ বিলিয়ন, বিপিএম৬ পদ্ধতিতে ৩১.৫৮ বিলিয়ন ডলার

দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম৬ পদ্ধতি অনুযায়ী, দেশের রিজার্ভের পরিমাণ ৩১ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে এ তথ্য প্রকাশ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের গ্রস বা মোট রিজার্ভের পরিমাণ ৩ হাজার ৬৩৮ কোটি ৬৫ লাখ ২০ হাজার ডলার। অন্যদিকে, আইএমএফের বিপিএম৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ৩ হাজার ১৫৭ কোটি ৬৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার।

গ্রস ও বিপিএম৬ পদ্ধতির হিসাবের পার্থক্য

গ্রস রিজার্ভের হিসাবে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বৈদেশিক মুদ্রায় গঠিত কয়েকটি তহবিলও অন্তর্ভুক্ত থাকে। এসব তহবিলের মধ্যে রয়েছে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ), গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড, বাংলাদেশ অবকাঠামো উন্নয়ন তহবিল এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন সুবিধা। এ ছাড়া বিমান কেনার জন্য সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে বিতরণ করা বৈদেশিক মুদ্রা এবং রপ্তানি খাতে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা মেটাতে তৈরি পোশাক কারখানার মালিকদের দেওয়া অর্থও এ ধরনের হিসাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এসব তহবিলের অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইচ্ছা করলেই যেকোনো সময় সরাসরি ব্যবহার করতে পারে না।

গ্রস পদ্ধতি মূলত বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব রিজার্ভ হিসাব পদ্ধতি। অন্যদিকে, আইএমএফের বিপিএম৬ পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট তহবিলের অর্থ বাদ দিয়ে রিজার্ভের হিসাব করা হয়। ফলে দুই পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণে পার্থক্য দেখা যায়।

নিট আন্তর্জাতিক রিজার্ভ কী

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব গ্রস হিসাব কিংবা আইএমএফের বিপিএম৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভ—উভয় ক্ষেত্রেই বৈদেশিক মুদ্রার দায় ও স্বল্পমেয়াদি ঋণ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা বিবেচনায় নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এসব দায় বাদ দেওয়ার পর যে প্রকৃত ও তরল বৈদেশিক মুদ্রা অবশিষ্ট থাকে, তাকে নিট আন্তর্জাতিক রিজার্ভ বা এনআইআর (নেট ইন্টারন্যাশনাল রিজার্ভ) বলা হয়। বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে হস্তক্ষেপ কিংবা জরুরি বৈদেশিক লেনদেনের প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যবহারযোগ্য অর্থের সক্ষমতা বুঝতে এ সূচক গুরুত্বপূর্ণ।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি