খুঁজুন
                               
, ,
           

হরমুজে মার্কিন নৌবাহিনী না থাকলে পেট্রোলের দাম তিন গুণ হতো: ভ্যান্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩৩ অপরাহ্ণ
হরমুজে মার্কিন নৌবাহিনী না থাকলে পেট্রোলের দাম তিন গুণ হতো: ভ্যান্স

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দাবি করেছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি না থাকলে দেশটিতে পেট্রোলের দাম বর্তমানের তুলনায় তিন গুণ বেশি হতে পারত। তাঁর মতে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে জ্বালানি পরিবহন সচল রাখতে মার্কিন নৌবাহিনী ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের অবসান হলে জ্বালানির দাম কমতে শুরু করবে বলেও আশাবাদ প্রকাশ করেছেন তিনি।

রোববার (১৮ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএসের একটি টাউন হল অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন ভ্যান্স। পরে তাঁর বক্তব্যের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের উচ্চমূল্য, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা নিয়ে কথা বলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট।

পেট্রলের উচ্চমূল্যের জন্য ইরানকে দায়ী করলেন ভ্যান্স
ভ্যান্স স্বীকার করেন, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে পেট্রোলের দাম অনেক বেশি। তবে এই মূল্যবৃদ্ধির জন্য তিনি ইরানের কর্মকাণ্ড এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে সৃষ্ট বাধাকে দায়ী করেন। তাঁর দাবি, ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া এবং তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

ভ্যান্সের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহকে কার্যত বাধাগ্রস্ত করার এমন পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করছে একটি দেশ, এমন পরিস্থিতি আমরা আগে কখনো দেখিনি।’

তাঁর এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, ওয়াশিংটন বর্তমান জ্বালানি সংকটের জন্য ইরানের পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখছে। তবে পেট্রোলের দামের ওপর যুদ্ধের প্রভাব নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ, পরিবহনব্যবস্থা এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপরও।

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি কেন গুরুত্বপূর্ণ
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। পারস্য উপসাগর থেকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের দিকে যাওয়ার এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পরিবহন করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর রপ্তানি কার্যক্রমের সঙ্গে এই প্রণালি সরাসরি যুক্ত।

এ কারণে সেখানে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো নয়, এশিয়া, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের জ্বালানির বাজারে তার প্রভাব পড়তে পারে। তেলবাহী জাহাজের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠলে পরিবহন ব্যয়, বিমা খরচ এবং সরবরাহসংক্রান্ত অনিশ্চয়তা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তাপর্যায়ে জ্বালানির দামেও পড়তে পারে।

ভ্যান্সের দাবি, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও গ্যাসের পরিবহন সচল রাখতে মার্কিন নৌবাহিনী কাজ করছে। এই সামরিক উপস্থিতি না থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারত এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষকে পেট্রল কিনতে বর্তমানের তুলনায় তিন গুণ বেশি অর্থ ব্যয় করতে হতে পারত।

‘মার্কিন বাহিনী সরে গেলে খরচ আরও বাড়বে’
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীর ভূমিকার পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সেখান থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয় এবং ইরানকে ওই জলপথে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দেয়, তাহলে মার্কিন নাগরিকদের জ্বালানি কেনার জন্য অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করতে হবে।

তাঁর বক্তব্যের মূল কথা হলো, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা শুধু আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বিষয় নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ জ্বালানির বাজারের সঙ্গেও সম্পর্কিত। এই জলপথে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে তার প্রভাব পেট্রোল ও অন্যান্য জ্বালানির বাজারেও পড়তে পারে।

তবে পেট্রোলের দাম তিন গুণ বেড়ে যাওয়ার যে সম্ভাবনার কথা ভ্যান্স উল্লেখ করেছেন, সেটি তাঁর নিজস্ব দাবি। তাঁর বক্তব্যে এই হিসাবের পেছনে কোনো নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক মডেল, সময়সীমা বা বিস্তারিত পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়নি। ফলে বিষয়টিকে নিশ্চিত মূল্যপূর্বাভাসের পরিবর্তে সম্ভাব্য পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁর রাজনৈতিক ও কৌশলগত মূল্যায়ন হিসেবে দেখা প্রয়োজন।

হরমুজে জাহাজ চলাচল সচল রাখা ওয়াশিংটনের অগ্রাধিকার
ভ্যান্স জানান, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে থাকবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা গেলে বাজারে সরবরাহসংক্রান্ত চাপ কমতে পারে বলে মনে করছে ওয়াশিংটন।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে তেলবাহী ট্যাংকারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওঠানামা তীব্র হতে পারে। কারণ, বাজারে সরবরাহ অব্যাহত থাকলেও ভবিষ্যতে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দাম বাড়িয়ে দিতে পারে। একইভাবে পরিস্থিতির উন্নতি হলে এবং জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি কমলে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা থাকে। এ অবস্থায় হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ইরানের সঙ্গে সংঘাতের অবসান ঘটানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দুটি চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও প্রতিশ্রুতি চায় যুক্তরাষ্ট্র
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি ইরান যাতে তার পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠন না করে, সে বিষয়ে দেশটির কাছ থেকে যাচাইযোগ্য প্রতিশ্রুতি আদায় করতে চায় ওয়াশিংটন। ভ্যান্সের বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য শুধু তাৎক্ষণিক সামরিক সংঘাত মোকাবিলা করা নয়; বরং ভবিষ্যতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ কমানোও তাদের আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এ ক্ষেত্রে যাচাইযোগ্য প্রতিশ্রুতির বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, কেবল রাজনৈতিক আশ্বাস নয়, ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম সম্পর্কে নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো ব্যবস্থা চায় যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ ধরনের সমঝোতা অর্জন করতে হলে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার অগ্রগতি এবং শর্তের বিষয়ে ঐকমত্য প্রয়োজন হবে।

যুদ্ধ শেষ হলে জ্বালানির দাম কমার আশা
ভ্যান্স আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শেষ হলে জ্বালানির দাম কমতে শুরু করবে। যুদ্ধের অবসান ঘটলে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি, জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি হ্রাস এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কমার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে যুদ্ধ শেষ হলেই জ্বালানির দাম দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরে আসবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ছাড়াও পরিশোধন ব্যয়, পরিবহন খরচ, সরবরাহব্যবস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারের পরিস্থিতি পেট্রলের মূল্য নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। যুদ্ধের কারণে সরবরাহব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতেও সময় লাগতে পারে।

সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা, ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাতের পরিণতি এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের ভবিষ্যৎ—এই তিনটি বিষয় আগামী দিনে তেলের বাজারের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ভ্যান্সের বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ যেমন প্রকাশ পেয়েছে, তেমনি যুদ্ধের অবসানের মাধ্যমে মূল্যচাপ কমার প্রত্যাশাও সামনে এসেছে। সূত্র: আল জাজিরা

কালের আলো/এএইচ/এসএ

সম্মানজনক প্রত্যাবাসনে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিশ্বকে পাশে চাইল সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০২ অপরাহ্ণ
সম্মানজনক প্রত্যাবাসনে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিশ্বকে পাশে চাইল সরকার

বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকদের সম্মানজনক ও নিরাপদে নিজ দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন বলেছেন, বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার দীর্ঘদিন বাংলাদেশে অবস্থানের কারণে দেশের পরিবেশ ও প্রতিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে সচিবালয়ে সফররত জাতিসংঘের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি ইসাবেল বিশপের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ সহযোগিতা চান। বৈঠকে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিন ধরে এখানে বসবাস দেশের পরিবেশ ও প্রতিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এ পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও সম্মানজনকভাবে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা প্রয়োজন বলে জানান তিনি। রোহিঙ্গাদের দীর্ঘদিন ধরে আশ্রয় ও আতিথেয়তা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান জাতিসংঘের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি ইসাবেল বিশপ। প্রত্যাবাসন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের প্রতি বাংলাদেশের মানবিক মনোভাব অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় বাংলাদেশের অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানান বিশেষ দূত। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন তিনি। সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এবং শরণার্থী সেলের প্রধান মোহাম্মদ নাজমুল আবেদীন উপস্থিত ছিলেন। জাতিসংঘের প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন সিনিয়র পলিটিক্যাল অফিসার ডানকান কেইথ উইলসন, পাবলিক ইনফরমেশন অফিসার প্নু পেই দেট চায়েলসহ অন্য সদস্যরা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

 

মুখে হঠাৎ ব্রণ হরমোনের সমস্যার লক্ষণ নয় তো?

লাইফস্টাইল ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫৮ অপরাহ্ণ
মুখে হঠাৎ ব্রণ হরমোনের সমস্যার লক্ষণ নয় তো?

বয়স ৩০ কিংবা ৪০ পেরিয়ে গেছে। কৈশোরের ব্রণ নিয়ে দুশ্চিন্তার দিনও অনেক আগেই শেষ হয়েছে বলে মনে করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ একদিন আয়নায় তাকিয়ে দেখলেন, চিবুক কিংবা চোয়ালের পাশে উঠেছে যন্ত্রণাদায়ক ব্রণ। কয়েক দিন পর আবারও দেখা দিল নতুন ফুসকুড়ি। অথচ রূপচর্চার রুটিনে বড় কোনো পরিবর্তন আনেননি। তাহলে বয়স বাড়ার পরও কেন ফিরে আসছে ব্রণের সমস্যা?

কৈশোরের সঙ্গে ব্রণের সম্পর্ক বেশি হলেও প্রাপ্তবয়স্ক বয়সে এই সমস্যা দেখা দেওয়া অস্বাভাবিক নয়। অনেকের ক্ষেত্রে কৈশোরের ব্রণ দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়। আবার কারও ত্বক বছরের পর বছর পরিষ্কার থাকার পর ৩০ বা ৪০ বছর বয়সে প্রথমবারের মতো ব্রণ দেখা দিতে পারে। হরমোনের পরিবর্তন, মানসিক চাপ, খাদ্যাভ্যাস এবং ব্যবহৃত প্রসাধনীসহ নানা কারণে এমনটা হতে পারে। তবে বারবার মুখ ধুলেই যে ব্রণ থেকে মুক্তি মিলবে, বিষয়টি তেমন নয়।

হরমোনের পরিবর্তন কি ব্রণের কারণ?
প্রাপ্তবয়স্ক বয়সে ব্রণ হওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে হরমোনের পরিবর্তন। বিশেষ করে চিবুক ও চোয়ালের চারপাশে বারবার ব্রণ দেখা দিলে হরমোনের ভূমিকা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। নারীদের ক্ষেত্রে ঋতুচক্র, গর্ভাবস্থা ও পেরিমেনোপজের সময় হরমোনের ওঠানামা ত্বকের তেল উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোমের (পিসিওএস) কারণেও ব্রণের সমস্যা দেখা দিতে পারে। শরীর ইনসুলিনের প্রতি যথাযথভাবে সাড়া না দিলেও হরমোনের কার্যক্রম ও ত্বকের তেল উৎপাদনে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে সব ব্রণের পেছনে হরমোন দায়ী নয়। ব্রণ যদি নিয়মিত ফিরে আসে এবং এর পাশাপাশি অন্য কোনো শারীরিক উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে শুধু প্রসাধনী পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

মানসিক চাপ বাড়লেও ত্বকে দেখা দিতে পারে ব্রণ
কাজের অতিরিক্ত চাপ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের দুশ্চিন্তা শুধু মনেই প্রভাব ফেলে না, ত্বকেও তার ছাপ পড়তে পারে। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপের সময় শরীরে কর্টিসলসহ বিভিন্ন হরমোনের কার্যক্রমে পরিবর্তন ঘটে। এর প্রভাবে ত্বকের প্রদাহ ও ব্রণের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। রাতের পর রাত কম ঘুমানো এবং বিশ্রামের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে। বিশেষ করে কাজের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যদি ত্বকে ব্রণ ওঠার প্রবণতা লক্ষ্য করেন, তাহলে নিজের ঘুম ও দৈনন্দিন অভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।ত্বকের যত্নে বিভিন্ন প্রসাধনী ব্যবহারের পাশাপাশি মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং নিয়মিত ঘুমের অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ।

খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে কি ব্রণের সম্পর্ক রয়েছে?
খাদ্যাভ্যাসও কিছু মানুষের ব্রণের সমস্যায় ভূমিকা রাখতে পারে। অতিরিক্ত চিনি ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবার, যেমন সাদা রুটি, মিষ্টি পানীয় ও পেস্ট্রি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। এ ধরনের খাবার কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ব্রণের প্রবণতা বাড়ানোর সঙ্গে সম্পর্কিত। এ ছাড়া দুধ ও অন্যান্য দুগ্ধজাত খাবার কিংবা শরীরচর্চার পর ব্যবহৃত হুই প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ব্রণের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে সবার শরীরে খাবারের প্রভাব এক রকম নয়।তাই মুখে ব্রণ দেখা দিলেই দুধ, পনির বা শরীরচর্চার সাপ্লিমেন্ট খাওয়া বন্ধ করে দেওয়া উচিত নয়। বরং কোন খাবার খাওয়ার পর ব্রণ বাড়ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

ব্রণ ঢাকতে ব্যবহৃত প্রসাধনীই কি সমস্যার কারণ?
অনেক সময় ব্রণ ঢাকার জন্য যে মেকআপ বা প্রসাধনী ব্যবহার করা হয়, সেটিই সমস্যাকে বাড়িয়ে দিতে পারে। ত্বকের উপযোগী নয় এমন ভারী মেকআপ, ময়েশ্চারাইজার কিংবা অন্যান্য স্কিনকেয়ার পণ্য লোমকূপ বন্ধ করে দিতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রসাধনীর কারণে সৃষ্ট এ ধরনের ব্রণকে ‘অ্যাকনে কসমেটিকা’ বলা হয়। সম্প্রতি নতুন কোনো ফাউন্ডেশন, ক্রিম বা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার শুরু করার পর ব্রণ দেখা দিলে পণ্যটির সঙ্গে সমস্যার সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা বিবেচনা করা প্রয়োজন। একসঙ্গে অনেক নতুন প্রসাধনী ব্যবহার না করাই ভালো। প্রসাধনী কেনার সময় ‘নন-কমেডোজেনিক’ লেখা রয়েছে কি না, তা দেখে নেওয়া যেতে পারে। সাধারণত এ ধরনের পণ্য লোমকূপ বন্ধ করার প্রবণতা কমাতে তৈরি করা হয়। পাশাপাশি রাতে ঘুমানোর আগে মেকআপ ভালোভাবে তুলে ফেলতে হবে। বাইরের ধুলাবালি ও দূষণ ত্বকে জ্বালাপোড়া বাড়াতে পারে। তবে ত্বক পরিষ্কারের নামে অতিরিক্ত ঘষাঘষি বা বারবার এক্সফোলিয়েশন করলে ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে ব্রণের সমস্যা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

মুখ অপরিষ্কার থাকলেই কি ব্রণ হয়?
ব্রণ নিয়ে প্রচলিত একটি ধারণা হলো, মুখ ঠিকমতো পরিষ্কার না রাখার কারণেই এই সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু বাস্তবে প্রাপ্তবয়স্কদের ব্রণ অপরিচ্ছন্নতার লক্ষণ নয়। লোমকূপে তেল ও মৃত ত্বককোষ জমে যাওয়া, প্রদাহ এবং হরমোনসহ বিভিন্ন কারণ এতে ভূমিকা রাখে। তাই ব্রণ কমানোর আশায় শক্তিশালী ফেসওয়াশ দিয়ে বারবার মুখ ধোয়া কিংবা জোরে ঘষে পরিষ্কার করা উচিত নয়। এতে ত্বকে জ্বালাপোড়া ও শুষ্কতা বাড়তে পারে।প্রতিদিনের ত্বক পরিচর্যার রুটিন সহজ রাখাই ভালো। মৃদু ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করা, ত্বকের উপযোগী নন-কমেডোজেনিক ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার এবং নিয়মিত সানস্ক্রিন লাগানো যেতে পারে। পাশাপাশি ব্রণ খোঁটা বা চেপে ফাটানোর অভ্যাস এড়িয়ে চলতে হবে। কারণ এতে প্রদাহ বাড়ার পাশাপাশি স্থায়ী দাগ কিংবা গর্ত তৈরি হতে পারে।

কোন লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
মাঝেমধ্যে এক-দুটি ব্রণ উঠলে তা নিজে থেকেই সেরে যেতে পারে। তবে ব্রণ যদি বারবার ফিরে আসে, গভীর ও যন্ত্রণাদায়ক হয় কিংবা ত্বকে স্থায়ী দাগ তৈরি করে, তাহলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে ব্রণের পাশাপাশি মাসিক অনিয়মিত হওয়া বা মুখে অতিরিক্ত লোম গজানোর মতো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি। এসব লক্ষণ পিসিওএসের মতো হরমোনজনিত সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। তবে শুধু ব্রণ বা এসব উপসর্গের উপস্থিতি দিয়েই কোনো রোগ নিশ্চিত করা যায় না; প্রয়োজন হলে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কারণ নির্ধারণ করবেন।

বয়স বাড়লেও ব্রণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব
৩০ কিংবা ৪০ বছর বয়সে ব্রণ দেখা দেওয়ার পেছনে একটি নির্দিষ্ট কারণ সব সময় কাজ করে না। হরমোনের পরিবর্তন, মানসিক চাপ, খাদ্যাভ্যাস এবং অনুপযুক্ত প্রসাধনী—এককভাবে কিংবা একাধিক কারণ একসঙ্গে এই সমস্যার জন্য দায়ী হতে পারে। তাই হঠাৎ ব্রণ দেখা দিলে নিজে থেকে একের পর এক ক্রিম বা ওষুধ ব্যবহার না করে ত্বকের পরিবর্তনগুলো পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা তীব্র আকার ধারণ করলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে উপযুক্ত চিকিৎসা শুরু করাই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত। সূত্র: টাইমস ইন্টারটেইনমেন্ট

কালের আলো/ডিএইচ/এসএ

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, প্রক্রিয়াগত ঘাটতি খতিয়ে দেখছে বাংলাদেশ

কুটনৈতিক প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪৮ অপরাহ্ণ
সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, প্রক্রিয়াগত ঘাটতি খতিয়ে দেখছে বাংলাদেশ

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে তথ্য বিনিময়ের প্রক্রিয়ায় ঘাটতি ছিল বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পুরো প্রক্রিয়ার কোথাও ঘাটতি রয়েছে, যা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। হুমায়ুন কবির বলেন, সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তথ্য বিনিময়ের প্রক্রিয়ায় ঘাটতির বিষয়টি সামনে এসেছে। এ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে তথ্য বিনিময়ের ঠিক কোন পর্যায়ে ঘাটতি ছিল, কী ধরনের তথ্য পাওয়া বা জানানো যায়নি এবং এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি প্রতিমন্ত্রী।

বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে হুমায়ুন কবির বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের ভালো ও গভীর সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী পর্যায়েও দুই দেশের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ বলে উল্লেখ করেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরব জেনেভা কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ। তবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় তথ্য বিনিময়ের ঘাটতির সঙ্গে জেনেভা কনভেনশনের কোনো নির্দিষ্ট বিধানের সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।

দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় তথ্য বিনিময়ের প্রক্রিয়ায় ঘাটতির বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তবে সংশ্লিষ্ট দুই বাংলাদেশির পরিচয়, তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তারিখ এবং বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ কখন কী তথ্য পেয়েছিল—এসব বিষয়ে সরবরাহ করা বক্তব্যে বিস্তারিত তথ্য নেই।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি