খুঁজুন
                               
, ,
           

মেটার গিটহাবে হ্যাকারদের হানা, চুরি ১ হাজার ৫০০ জনের তথ্য

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৫৯ অপরাহ্ণ
মেটার গিটহাবে হ্যাকারদের হানা, চুরি ১ হাজার ৫০০ জনের তথ্য

প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান মেটার গিটহাব রিপোজিটরিতে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করে প্রায় ১ হাজার ৫০০ ব্যক্তির তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে হ্যাকাররা। চুরি হওয়া তথ্যের মধ্যে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন পণ্যের সফটওয়্যারের সোর্স কোড, ব্যবসায়িক তথ্য এবং সীমিত পরিসরে কিছু ব্যক্তিগত তথ্য। তবে এ ঘটনায় মেটার অভ্যন্তরীণ সিস্টেম ও নেটওয়ার্কে কোনো অনুপ্রবেশ ঘটেনি বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। মেটার দাবি, একজন কর্মীর চুরি হওয়া লগইন তথ্য ব্যবহার করেই গিটহাবে সংরক্ষিত কয়েকটি রিপোজিটরিতে প্রবেশ করে হ্যাকাররা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক সপ্তাহ আগে নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনাটি শনাক্ত করে মেটা। এরপর ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের বিষয়টি জানানো শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। তথ্য চুরির সম্ভাব্য অপব্যবহার ঠেকাতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের জন্য বিনা মূল্যে ক্রেডিট পর্যবেক্ষণ ও ডার্ক ওয়েব পর্যবেক্ষণ সেবাও দিচ্ছে তারা।

চুরি হওয়া তথ্যের ৯৯ শতাংশই ব্যবসায়িক তথ্য ও সোর্স কোড
মেটার তথ্য অনুযায়ী, হ্যাকারদের হাতিয়ে নেওয়া তথ্যের প্রায় ৯৯ শতাংশই ব্যবসায়িক তথ্য এবং বিভিন্ন পণ্যের সফটওয়্যারের সোর্স কোড। বাকি প্রায় ১ শতাংশ ব্যক্তিগত তথ্য। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম সিকিউরিটিওয়িককে মেটা জানিয়েছে, গিটহাবে সংরক্ষিত কয়েকটি রিপোজিটরিতে প্রবেশ করে এসব তথ্যের নাগাল পায় বহিরাগত একটি গোষ্ঠী।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের অধিকাংশই যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত মেটার কর্মী। গত মঙ্গলবার থেকে তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে জানাতে শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে ঠিক কোন কোন সফটওয়্যারের সোর্স কোড চুরি হয়েছে কিংবা সেগুলোর কতটা অংশ হ্যাকারদের হাতে গেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

গিটহাব সফটওয়্যার নির্মাতাদের মধ্যে বহুল ব্যবহৃত একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম। সফটওয়্যারের সোর্স কোড সংরক্ষণ, পরিবর্তন ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন প্রকল্পে একসঙ্গে কাজ করার জন্য ডেভেলপাররা এটি ব্যবহার করেন। বিভিন্ন প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানও নিজেদের সফটওয়্যার উন্নয়ন ও পরিচালনার কাজে গিটহাবে কোড সংরক্ষণ করে থাকে। ফলে কোনো প্রতিষ্ঠানের রিপোজিটরিতে অননুমোদিত প্রবেশ ঘটলে সেখানকার সংরক্ষিত কোড ও ব্যবসায়িক তথ্য ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

কর্মীর চুরি হওয়া লগইন তথ্য ব্যবহার করে হামলা
মেটার বক্তব্য অনুযায়ী, এ ঘটনা তাদের কোনো পণ্যের নিরাপত্তাত্রুটির কারণে ঘটেনি। বরং একজন কর্মীর চুরি হওয়া লগইন তথ্য ব্যবহার করে হ্যাকাররা গিটহাবে প্রবেশের সুযোগ পায়। এরপর কয়েকটি রিপোজিটরিতে সংরক্ষিত ব্যবসায়িক তথ্য ও সফটওয়্যারের কোডে প্রবেশ করে তারা। এ সময় সীমিতসংখ্যক ব্যক্তির কিছু ব্যক্তিগত তথ্যও তাদের নাগালে আসে।

মেটার এক মুখপাত্র জানান, প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ সিস্টেম ও নেটওয়ার্কে কোনো অনুপ্রবেশের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ, হ্যাকাররা মেটার অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কে সরাসরি প্রবেশ না করেও চুরি হওয়া লগইন তথ্যের মাধ্যমে গিটহাবে রাখা কিছু তথ্য পেতে সক্ষম হয়।
এ ধরনের ঘটনা কর্মীদের লগইন তথ্য সুরক্ষিত রাখা এবং তৃতীয় পক্ষের প্ল্যাটফর্মে সংরক্ষিত তথ্যের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে। কোনো কর্মীর পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য বা লগইন তথ্য অন্যের হাতে চলে গেলে, সেই তথ্য ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত ডিজিটাল সেবায় প্রবেশের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

গিটহাবে ব্যক্তিগত তথ্য রাখার কথা ছিল না
মেটা জানিয়েছে, গিটহাবের রিপোজিটরিতে ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণের কথা ছিল না। ভুলবশত কয়েকটি রিপোজিটরিতে এ ধরনের তথ্য রাখা হয়েছিল, যা প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তানীতির লঙ্ঘন।

তবে মেটার দাবি, ফাঁস হওয়া ব্যক্তিগত তথ্যের উল্লেখযোগ্য অংশই কৃত্রিমভাবে তৈরি অথবা পরিচয় গোপন করা পরীক্ষামূলক তথ্য। সফটওয়্যার পরীক্ষা ও উন্নয়নের সময় ডেভেলপাররা সাধারণত এ ধরনের তথ্য ব্যবহার করেন। এর উদ্দেশ্য হলো বাস্তব ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ না করেই সফটওয়্যারের কার্যকারিতা যাচাই করা।

মেটার ধারণা, প্রকৃত তথ্যের সঙ্গে পরীক্ষামূলক তথ্য মিশে থাকায় হ্যাকারদের পক্ষে কর্মীদের আসল ব্যক্তিগত তথ্য আলাদা করে শনাক্ত করা কঠিন হবে। তবে এ বক্তব্যের অর্থ এই নয় যে সব ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপদ ছিল। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে তথ্যের প্রকৃত ধরন ও সম্ভাব্য ঝুঁকি মূল্যায়নের কাজ চলছে।

প্রাথমিক তদন্তে গিটহাবের সঙ্গে যোগাযোগের ভিত্তিতে মেটা আরও জানিয়েছে, বিশেষভাবে তাদের তথ্য চুরির উদ্দেশ্যে এ হামলা চালানো হয়েছে—এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। তবে হ্যাকাররা কী উদ্দেশ্যে তথ্য সংগ্রহ করেছে, তা পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

হামলার পরপরই প্রবেশের সুযোগ বন্ধ
নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পরপরই হ্যাকারদের প্রবেশের সুযোগ বন্ধ করে দেয় মেটার নিরাপত্তা দল। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তে গিটহাবের নিরাপত্তা দল, সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কাজ শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি।

মেটার মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, গিটহাবের রিপোজিটরিতে থাকা সংবেদনশীল তথ্য সুরক্ষিত করতে সংশ্লিষ্ট গোপন সংকেত বা সিক্রেট এবং প্রবেশাধিকারসংক্রান্ত তথ্য পরিবর্তন করা হয়েছে। পাশাপাশি রিপোজিটরিগুলোর নিরাপত্তা বাড়াতে গিটহাবের সঙ্গে সমন্বয় করে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

চুরি হওয়া সোর্স কোডের অপব্যবহার করে যাতে নতুন কোনো নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করা না যায়, সে বিষয়েও পদক্ষেপ নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। সোর্স কোডের কোনো অংশ অননুমোদিতভাবে ব্যবহার করা হলে তা থেকে সফটওয়্যারের দুর্বলতা শনাক্ত করার চেষ্টা হতে পারে। তাই চুরি হওয়া কোডের সম্ভাব্য অপব্যবহার ঠেকানোকে তদন্ত ও নিরাপত্তা জোরদারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছে মেটা।

ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিনা মূল্যে নিরাপত্তা সেবা
তথ্য চুরির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পরিচয় চুরি ও ফিশিং হামলার ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে বিনা মূল্যে ক্রেডিট পর্যবেক্ষণ এবং ডার্ক ওয়েব পর্যবেক্ষণ সেবা দিচ্ছে মেটা। এসব সেবার মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্যের সম্ভাব্য অপব্যবহার, পরিচয় চুরির ঝুঁকি কিংবা ফাঁস হওয়া তথ্যের ব্যবহার শনাক্ত করার চেষ্টা করা যায়।

ফিশিং হামলায় প্রতারকেরা সাধারণত ই-মেইল, বার্তা বা ভুয়া ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে পাসওয়ার্ড, আর্থিক তথ্য কিংবা অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের তথ্য ফাঁস হলে সেই তথ্য ব্যবহার করে তাঁদের লক্ষ্য করে প্রতারণামূলক বার্তা পাঠানোর আশঙ্কা থাকে। এ কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সতর্ক রাখা এবং সম্ভাব্য অপব্যবহার শনাক্ত করা জরুরি।

ভুলবশত ব্যক্তিগত তথ্য আপলোড ঠেকাতে নতুন ব্যবস্থা
ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা এড়াতে গিটহাবে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ ঠেকাতে নতুন নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা চালু করেছে মেটা। পাশাপাশি, ভুলবশত কোনো কর্মী বা ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য রিপোজিটরিতে আপলোড করা হলে তা দ্রুত শনাক্ত করতে স্বয়ংক্রিয় নজরদারিব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এ ব্যবস্থার মাধ্যমে অনিচ্ছাকৃতভাবে ব্যক্তিগত তথ্য উন্মুক্ত হওয়ার ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি সংবেদনশীল তথ্য সংরক্ষণের নিয়ম আরও কঠোরভাবে কার্যকর করতে চায় মেটা। একই সঙ্গে গিটহাবে সংরক্ষিত কোড ও তথ্যের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ঘটনাটি দেখিয়েছে, প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নেটওয়ার্কে সরাসরি অনুপ্রবেশ না ঘটলেও কর্মীর লগইন তথ্য চুরি এবং তৃতীয় পক্ষের প্ল্যাটফর্মে সংরক্ষিত তথ্যের দুর্বল ব্যবস্থাপনা বড় ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করতে পারে। মেটার তদন্ত ও নেওয়া নতুন ব্যবস্থাগুলো এ ঝুঁকি কতটা কমাতে পারে, তা নির্ভর করবে নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অননুমোদিত প্রবেশ ঠেকানোর সক্ষমতার ওপর। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, সিকিউরিটিওয়িক

কালের আলো/এএএন/এসএ

চিকিৎসক-ওষুধ নেই, বন্ধের পথে অভয়নগরের ৮ পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র

যশোর সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
চিকিৎসক-ওষুধ নেই, বন্ধের পথে অভয়নগরের ৮ পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র

চিকিৎসক, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সংকটে যশোরের অভয়নগর উপজেলার আটটি ইউনিয়নের আটটি পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সেবা না পাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রামের সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে প্রসূতি নারী, শিশু ও বয়স্কদের চিকিৎসা নিতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কিংবা বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে যেতে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় এক বছর ধরে এসব কেন্দ্রে ওষুধ ও অন্যান্য চিকিৎসাসামগ্রীর সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। জনবলসংকটের কারণে সাধারণ রোগের চিকিৎসা, স্বাস্থ্য পরামর্শ ও প্রসূতিদের প্রাথমিক সেবা পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়ায় প্রত্যন্ত এলাকায় অননুমোদিত চিকিৎসাকেন্দ্র ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে ওঠার অভিযোগও উঠেছে।

আটটি কেন্দ্রে নেই চিকিৎসক, ছয়টি পদ শূন্য

অভয়নগর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আটটি পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে বর্তমানে কোনো চিকিৎসক নেই। এ ছাড়া এফডব্লিউবি পদে আটটি পদের বিপরীতে ছয়টি পদই শূন্য রয়েছে। মাত্র দুজন কর্মী দিয়ে আটটি ইউনিয়নের আটটি কেন্দ্রে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।

চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় কর্মীর অভাবের পাশাপাশি ওষুধ এবং অন্যান্য লজিস্টিক সহায়তা না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ফলে প্রসূতি মায়েদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরামর্শ দেওয়া, ডায়রিয়া ও জ্বরের মতো সাধারণ রোগের চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, একসময় উপজেলার আটটি পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন শতাধিক প্রসূতি নারীসহ এক হাজারের বেশি মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতেন। দীর্ঘদিন সেবা বন্ধ থাকায় কেন্দ্রগুলো এখন অনেকটাই পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। কোথাও কোথাও ভবনগুলো নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি ও বখাটেদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।

তালাবদ্ধ স্বাস্থ্যকেন্দ্র, জরাজীর্ণ ভবন

গত শনিবার উপজেলার একতারপুর গ্রামের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র সরেজমিনে পরিদর্শন করে ভবনের মূল ফটক খোলা থাকলেও ভেতরের গেট তালাবদ্ধ দেখা যায়। ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত কেন্দ্রটির মূল ভবন ও আবাসিক কোয়ার্টারগুলো জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। পানির মোটর ও মূল ভবনের ফ্যানও চুরি হয়ে গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

ভবনটির রং করে বাইরের সৌন্দর্য ধরে রাখার চেষ্টা করা হলেও ভেতরের অবস্থা ও সেবার অনুপস্থিতি স্থানীয়দের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। প্রয়োজনীয় সংস্কার ও চিকিৎসাসেবা চালু না হওয়ায় এলাকার মানুষ সরকারি এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দা মতিয়ার রহমান বলেন, এলাকার মানুষের জন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি বন্ধ থাকায় দরিদ্র মানুষকেও চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটতে হচ্ছে। আব্দুস সামাদ শেখ জানান, আগে এই কেন্দ্রে একজন পুরুষ ও একজন নারী চিকিৎসকসহ অন্য কর্মীরাও থাকতেন। সেখান থেকে ওষুধও দেওয়া হতো। এখন কেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় এলাকার মানুষকে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। দ্রুত এটি চালুর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

১৩–১৪ মাইল দূরে হাসপাতাল, দুর্ভোগে প্রসূতিরা

শুভরাড়া গ্রামের আকলিমা বেগম বলেন, পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে চিকিৎসা বন্ধ থাকায় তাঁদের ১৩ থেকে ১৪ মাইল পথ পাড়ি দিয়ে হাসপাতালে যেতে হয়। প্রসূতি নারী, বয়স্ক ও শিশুদের নিয়ে এত দূরের পথ যাতায়াত করা অত্যন্ত কষ্টকর। এ কারণে অনেক সময় বাধ্য হয়ে পল্লিচিকিৎসকদের কাছে যেতে হয় তাঁদের।

সিদ্দিপাশা গ্রামের একলাস উদ্দিন বলেন, তাঁদের এলাকা থেকে উপজেলা হাসপাতালের দূরত্ব প্রায় ২২ থেকে ২৩ মাইল। নদী পার হয়ে প্রসূতি মায়েদের হাসপাতালে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রটি চালু করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি। স্থানীয়দের ভাষ্য, জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ না থাকায় বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও শিশুদের নিয়ে উদ্বেগে থাকতে হয় পরিবারগুলোকে। যাতায়াতের সময় ও খরচ বাড়ার পাশাপাশি সময়মতো চিকিৎসা পাওয়াও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

ওষুধ ও জনবলসংকটের কথা স্বীকার কর্তৃপক্ষের

অভয়নগর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বলেন, কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা নেই, ওষুধ সরবরাহ বন্ধ এবং জনবলও প্রায় নেই বললেই চলে। এ কারণে পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া যাচ্ছে না। তিনি জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। অন্যদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আলিমুর রাজীব বলেন, পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রগুলো নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। দ্রুতই এ সংকট কেটে যাবে বলে আশা করছেন তিনি।

স্বাস্থ্যসেবা চালুর অপেক্ষায় স্থানীয় বাসিন্দারা

অভয়নগরের আটটি পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের সেবা বন্ধ থাকায় প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে প্রসূতি নারী ও শিশুদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে কাছাকাছি সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।  স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় কর্মী নিয়োগ, ওষুধ সরবরাহ পুনরায় চালু, চিকিৎসাসামগ্রী নিশ্চিত এবং জরাজীর্ণ ভবন সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে কেন্দ্রগুলোতে দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা চালু হবে এবং গ্রামের মানুষকে চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব হবে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

জমিতে নষ্ট কলা, হাটে ক্রেতা নেই—দ্বিমুখী সংকটে জয়পুরহাটের চাষিরা

জয়পুরহাট সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ
জমিতে নষ্ট কলা, হাটে ক্রেতা নেই—দ্বিমুখী সংকটে জয়পুরহাটের চাষিরা

জয়পুরহাটে কলা চাষ করে এবার বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। বৈরী আবহাওয়ায় জমিতে কলা নষ্ট হওয়া, অপরিপক্ব অবস্থায় ফল পেকে যাওয়া, গাছের পাতা মরে যাওয়া এবং কলায় কালো দাগ দেখা দেওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন চাষিরা। অন্যদিকে উৎপাদিত কলা বিক্রি করতে গিয়েও মিলছে না প্রত্যাশিত দাম। উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বড় কলার বাজার দুর্গাদহ হাটে ক্রেতার উপস্থিতি কমে যাওয়া ও যানজটের কারণে বেচাকেনায় ভাটা পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের।

কৃষকদের অভিযোগ, কলা চাষে ক্ষতির মুখে পড়লেও স্থানীয় কৃষি বিভাগের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা তাঁরা পাচ্ছেন না। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, নিরাপদ কলা উৎপাদন এবং রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় মাঠপর্যায়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে বাজার সম্প্রসারণ ও যানজট নিরসনে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

পরিপক্ব হওয়ার আগেই পাকছে কলা, গাছের পাতাও মরে যাচ্ছে

জয়পুরহাট সদর উপজেলার আউশগাড়া মহল্লার বাসিন্দা গোলাম ফারুক। পুলিশের চাকরি শেষ করে অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি এবার দেড় বিঘা জমিতে সাগর কলার আবাদ করেছিলেন তিনি। কিন্তু বাগানে কলা পুরোপুরি পরিপক্ব হওয়ার আগেই পাকতে শুরু করেছে। পাশাপাশি গাছের পাতা মরে যাওয়ায় ব্যাপক লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন তিনি।

গোলাম ফারুক বলেন, এবার দেড় বিঘা জমিতে সাগর কলা চাষ করেছিলেন। কিন্তু কলা পুরোপুরি পরিপক্ব হওয়ার আগেই পাকতে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে গাছের পাতা মরে যাওয়ায় ব্যাপক লোকসানে পড়েছেন তিনি। একই এলাকার কৃষক সাজ্জাদ হোসেন ও আব্দুল হামিদ ধারদেনা করে কয়েক বিঘা জমিতে চিনি চম্পা জাতের কলা চাষ করেছেন। তাঁদের বাগানে ফলন ভালো হলেও কলায় কালো দাগ দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও কলাসহ গাছ ভেঙে পড়ায় আরও ক্ষতির মুখে পড়েছেন তাঁরা। এই দুই কৃষকের অভিযোগ, এবার কলা চাষ করে লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচই তুলতে পারছেন না। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় কৃষি বিভাগের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ না পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা।

দুর্গাদহ হাটে দুই ঘাউড় কলার দাম মাত্র ৬০০ টাকা

জয়পুরহাট সদর উপজেলার ভাদসা ইউনিয়নের দুর্গাদহ বাজার উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বড় কলার হাট হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষক, পাইকার ও ব্যবসায়ীরা এখানে কলা কেনাবেচা করতে আসেন। তবে এবার বাজারে প্রত্যাশিত ক্রেতা না থাকায় কলার দাম নিয়ে হতাশায় পড়েছেন চাষিরা।

ছাওয়ালপাড়া গ্রামের কৃষক মোজাম্মেল হোসেন সাইকেলে করে দুই ঘাউড় কলা নিয়ে এসেছিলেন দুর্গাদহ বাজারে। কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী ক্রেতা না থাকায় তাঁর দুই ঘাউড় কলার দাম উঠেছে মাত্র ৬০০ টাকা। অথচ অন্য সময়ে একই পরিমাণ কলার দাম অন্তত এক হাজার টাকা হতো বলে জানান তিনি। মোজাম্মেল হোসেনের মতো বাজারে আসা অন্যান্য কলাচাষি, পাইকার, আড়তদার, ইজারাদার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, বাজারটি ছোট পরিসরে পরিচালিত হওয়ায় দূরদূরান্তের জেলা থেকে আগের মতো পাইকাররা আসছেন না। ফলে ক্রেতার সংখ্যা কমে যাওয়ার পাশাপাশি কলা বিক্রি করতেও সমস্যায় পড়ছেন তাঁরা।

অপরিকল্পিত দোকানপাটে যানজট, সংকুচিত বাজারের পরিসর

দুর্গাদহ বাজারে বেচাকেনার সমস্যার পাশাপাশি যানজটও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাজারের আশপাশে অপরিকল্পিতভাবে দোকানপাট গড়ে ওঠায় প্রায়ই তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এতে বাজারে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের চলাচল ব্যাহত হয় এবং পণ্য আনা-নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। ব্যবসায়ীদের মতে, বাজারের পরিসর বাড়ানো গেলে দূরবর্তী এলাকা থেকে পাইকারদের আসা সহজ হতে পারে। একই সঙ্গে যানজট কমানো গেলে কলা পরিবহন ও কেনাবেচার পরিবেশও উন্নত হবে। বাজার সম্প্রসারণের অভাবে সম্ভাবনাময় এই হাটের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন তাঁরা।

চলতি অর্থবছরে কলা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ৮১৭ হেক্টর

জয়পুরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনজু আলম সরকার জানান, চলতি অর্থবছরে জেলায় ৮১৭ হেক্টর জমিতে কলা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর বিপরীতে এখন পর্যন্ত ৭০৫ হেক্টর জমিতে কলার আবাদ হয়েছে।

জেলার মধ্যে জয়পুরহাট সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৫১৭ হেক্টর জমিতে কলা চাষ হয়। এ ছাড়া পাঁচবিবি, ক্ষেতলাল ও কালাই উপজেলাতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে কলার আবাদ করা হয়ে থাকে। কৃষকরা যেন মানসম্মত ও নিরাপদ কলা উৎপাদন করতে পারেন, সে জন্য নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান মনজু আলম সরকার। কলার অন্যতম ক্ষতিকর শত্রু ফ্রুট ফ্লাই বা পোকার আক্রমণ থেকে ফল রক্ষায় ‘ফ্রুট ব্যাগিং’ পদ্ধতি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া সিগাটোকা ও পানামা রোগের মতো ক্ষতিকর রোগবালাই থেকে বাগান সুরক্ষায় উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন বলে জানান তিনি।

দুর্গাদহ বাজার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা প্রশাসনের

দুর্গাদহ বাজারের সমস্যা সমাধান ও পরিসর বাড়ানোর বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অপরিকল্পিত দোকানপাটের কারণে বাজারটিতে প্রায়ই যানজট তৈরি হয়। এ সমস্যা নিরসনের পাশাপাশি বাজারটিকে আরও আধুনিক ও ব্যবসাবান্ধব করার পরিকল্পনা রয়েছে। জেলা প্রশাসকের অনুমোদন সাপেক্ষে স্থানীয় চান্দিনা ভিটি ও তোহা বাজার অক্ষুণ্ণ রেখে আশপাশের ফাঁকা জায়গা ব্যবহার করে হাট সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে এবং বেচাকেনা আরও সহজ হবে বলে আশা করছে প্রশাসন।

প্রতি হেক্টরে গড় ফলন ৫৩.২৫ মেট্রিক টন

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জয়পুরহাটে প্রতি হেক্টর জমিতে কলার গড় ফলন প্রায় ৫৩ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও কলা সরবরাহের মাধ্যমে এ ফসল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখছে। তবে জমিতে রোগবালাই ও আবহাওয়াজনিত ক্ষতি এবং বাজারে প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ার সমস্যা অব্যাহত থাকলে চাষিদের আগ্রহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই উৎপাদন পর্যায়ে কৃষি পরামর্শ নিশ্চিত করার পাশাপাশি কলার বাজার সম্প্রসারণ, পরিবহনব্যবস্থা উন্নত করা এবং দূরবর্তী পাইকারদের আকৃষ্ট করার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

 

সৌদিগামী ফ্লাইটে বিপর্যয়, অনিশ্চয়তায় প্রায় ১৯ হাজার যাত্রীর ভ্রমণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৬ অপরাহ্ণ
সৌদিগামী ফ্লাইটে বিপর্যয়, অনিশ্চয়তায় প্রায় ১৯ হাজার যাত্রীর ভ্রমণ

সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে কার্যক্রম সীমিত থাকায় ঢাকা থেকে সৌদিগামী সরাসরি ও ট্রানজিট রুটের ১২৬টি ফ্লাইট স্থগিত হয়েছে। এতে ভ্রমণ নিয়ে অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তিতে পড়েছেন ১৯ হাজার ৩৭৭ জন যাত্রী। নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি নতুন সময়সূচির অপেক্ষায় রয়েছেন অনেকে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, স্থগিত ফ্লাইটের মধ্যে সরাসরি রুটের ৫৯টি এবং ট্রানজিট রুটের ৬৭টি ফ্লাইট রয়েছে। সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনাকারী চারটি এয়ারলাইনসের পাশাপাশি সাতটি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসের ট্রানজিট ফ্লাইটও এ পরিস্থিতির আওতায় পড়েছে। সৌদি আরবগামী সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্থগিত হয়েছে সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ফ্লাইট। এ সংস্থার ১৯টি ফ্লাইট স্থগিত রয়েছে। এ ছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ২০টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের ১০টি ফ্লাইট স্থগিত হয়েছে।

সরাসরি রুটের ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় সৌদি আরবে যাওয়ার পরিকল্পনা করা যাত্রীদের ভ্রমণসূচিতে পরিবর্তনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যাঁদের নির্দিষ্ট তারিখে কর্মস্থলে যোগ দেওয়া, পারিবারিক প্রয়োজনে যাতায়াত কিংবা অন্য কোনো জরুরি কাজ রয়েছে, তাঁদের জন্য পরিস্থিতি বাড়তি অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। সরাসরি ফ্লাইটের পাশাপাশি ট্রানজিট রুটে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসগুলোর ফ্লাইটও স্থগিত হয়েছে। বেবিচকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইন্ডিগোর ২৪টি ফ্লাইট স্থগিত হয়েছে। এ ছাড়া এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, সালাম এয়ারের ৭টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৬টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৬টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের ১টি ফ্লাইট স্থগিত রয়েছে।

ট্রানজিট রুটে ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় যেসব যাত্রী অন্য দেশের বিমানবন্দর হয়ে সৌদি আরবে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, তাঁরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন। একটি ফ্লাইটের সময়সূচি পরিবর্তিত হলে পরবর্তী সংযোগকারী ফ্লাইটে পৌঁছানো নিয়েও জটিলতা তৈরি হতে পারে। ফলে অনেক যাত্রীকে নতুন করে ভ্রমণসূচি নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হতে পারে। সরাসরি ও ট্রানজিট—দুই ধরনের রুটেই ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় বিপুলসংখ্যক যাত্রীর ভ্রমণ পরিকল্পনা ব্যাহত হয়েছে। বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ১৯ হাজার ৩৭৭ জন যাত্রী এ পরিস্থিতির কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন।

ফ্লাইট স্থগিত থাকায় যাত্রীরা কখন গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি নতুন ফ্লাইটের সময়সূচি, টিকিটের কার্যকারিতা এবং সংযোগকারী ফ্লাইটের ব্যবস্থা নিয়েও তাঁদের সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের কাছ থেকে তথ্য জানতে হচ্ছে। ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত যাত্রীদের বিমানবন্দরে রওনা হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বশেষ সময়সূচি ও টিকিটের অবস্থা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ট্রানজিটে ভ্রমণকারীদের সংযোগকারী ফ্লাইটের সময়সূচি ও পরিবর্তিত বুকিংয়ের বিষয়টি ভালোভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি