খুঁজুন
                               
, ,
           

হাম উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৭ জনের মৃত্যু, নতুন রোগী ১ হাজার ৩১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪১ অপরাহ্ণ
হাম উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৭ জনের মৃত্যু, নতুন রোগী ১ হাজার ৩১৯

গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হাম উপসর্গে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম উপসর্গ ও নিশ্চিত হাম মিলিয়ে নতুন আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩১৯ জন।

রোববার (১৮ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ২৫৪ জন শনাক্ত হয়েছেন। অন্যদিকে, নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৫ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত হাম উপসর্গ ও নিশ্চিত হাম মিলিয়ে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৩ হাজার ২৪৪ জন। এ সময় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ২৩ হাজার ১২২ জন।

এ ছাড়া, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত হাম উপসর্গ নিয়ে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৪৮৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ৮১ হাজার ৭৫৬ জন।

মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত হাম উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ৯২ জন।

অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। তবে একই সময়সীমায় নিশ্চিত হামে মোট ১০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

স্বাস্থ্য পরামর্শে এআইয়ের ওপর ভরসা কতটা নিরাপদ

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৯ অপরাহ্ণ
স্বাস্থ্য পরামর্শে এআইয়ের ওপর ভরসা কতটা নিরাপদ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের নানা কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। কোনো শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে অনেকেই চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগে চ্যাটবটের কাছে জানতে চান, কী কারণে এমন হচ্ছে বা কী ওষুধ খাওয়া উচিত। সহজে ও দ্রুত উত্তর পাওয়া গেলেও স্বাস্থ্যবিষয়ক এসব পরামর্শের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। কারণ, এআইয়ের দেওয়া সব উত্তর নির্ভুল নয়। ভুল পরামর্শের কারণে কোনো গুরুতর রোগকে সাধারণ সমস্যা ভেবে উপেক্ষা করার ঝুঁকিও রয়েছে।

চলতি বছরের এপ্রিলে চিকিৎসাবিষয়ক জার্নাল বিএমজে ওপেন–এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় পাঁচটি জনপ্রিয় চ্যাটবটের স্বাস্থ্যবিষয়ক উত্তর পর্যালোচনা করা হয়। গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, চ্যাটবটগুলোর প্রায় অর্ধেক উত্তর ছিল সমস্যাজনক এবং প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ উত্তরকে গুরুতর সমস্যাপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এ ফলাফল স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এআইয়ের ওপর নির্ভর করার ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

সামান্য উপসর্গের আড়ালে থাকতে পারে বড় বিপদ
ধরা যাক, রাত দুইটার দিকে মিনহাজের (ছদ্মনাম) বুকে হালকা ব্যথা শুরু হলো। চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করার আগে সে একটি এআই চ্যাটবটের কাছে জানতে চাইল, কেন এমন ব্যথা হচ্ছে। উত্তরে চ্যাটবট জানাল, এটি সম্ভবত গ্যাসের সমস্যা। সেই পরামর্শে আশ্বস্ত হয়ে মিনহাজ ঘুমিয়ে পড়ল। কিন্তু সকালে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পর সে জানতে পারল, বুকের ব্যথাকে এভাবে অবহেলা করা ঠিক নয়। কারণ, বুকব্যথার পেছনে গ্যাসের সমস্যা ছাড়াও হৃদ্‌যন্ত্রের অসুস্থতাসহ বিভিন্ন গুরুতর কারণ থাকতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে এআইয়ের ভুল বা অসম্পূর্ণ পরামর্শ মানুষকে সাময়িকভাবে আশ্বস্ত করলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে দেরি করাতে পারে। বিশেষ করে হৃদ্‌রোগের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে চিকিৎসা পেতে দেরি হলে বিপদের আশঙ্কা বেড়ে যায়।

কেন স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রশ্নে ভুল করে এআই
এআই চ্যাটবট মানুষের মতো রোগীকে সরাসরি পরীক্ষা করতে পারে না। রোগীর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা কিংবা চিকিৎসার ইতিহাস যাচাই করার সুযোগও সাধারণত তার থাকে না। ব্যবহারকারী যেসব তথ্য দেন, সেগুলোর ভিত্তিতেই চ্যাটবট সম্ভাব্য উত্তর তৈরি করে। কিন্তু রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে শুধু উপসর্গের বর্ণনা যথেষ্ট নয়। একই উপসর্গের পেছনে একাধিক রোগ বা শারীরিক সমস্যা থাকতে পারে। বয়স, পূর্ববর্তী রোগ, চলমান ওষুধ, উপসর্গের তীব্রতা এবং অন্যান্য শারীরিক লক্ষণ বিবেচনা না করে নির্দিষ্ট কোনো রোগ সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঝুঁকিপূর্ণ। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অক্সফোর্ডের একটি গবেষণায় দেখা যায়, চ্যাটবটের সহায়তা নিয়ে সাধারণ মানুষ নিজেদের স্বাস্থ্যসমস্যা সঠিকভাবে শনাক্ত করতে পেরেছেন মাত্র প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রে। অর্থাৎ, এআই থেকে তথ্য পাওয়া গেলেও সেই তথ্যের ভিত্তিতে নিজের রোগ সঠিকভাবে বুঝে ওঠা সব সময় সম্ভব হয় না।

এআইয়ের পরামর্শ কীভাবে কাজে লাগাবেন
স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য জানার ক্ষেত্রে এআইকে পুরোপুরি এড়িয়ে চলার প্রয়োজন নেই। বরং এর ব্যবহার কোথায় উপকারী এবং কোথায় ঝুঁকিপূর্ণ, তা বুঝে নেওয়া জরুরি। কোনো রোগ সম্পর্কে সাধারণ ধারণা পাওয়া, চিকিৎসক ব্যবহৃত কোনো শব্দের অর্থ বোঝা, ওষুধের নির্দেশনায় লেখা বিষয়গুলো সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা নেওয়া কিংবা চিকিৎসকের কাছে কী কী প্রশ্ন করা উচিত, তার একটি তালিকা তৈরিতে এআই সহায়ক হতে পারে। তবে চ্যাটবটের দেওয়া তথ্যকে চূড়ান্ত চিকিৎসা-পরামর্শ হিসেবে নেওয়া উচিত নয়। কোনো ওষুধ শুরু করা, বন্ধ করা বা তার মাত্রা পরিবর্তনের সিদ্ধান্তও শুধু এআইয়ের কথায় নেওয়া নিরাপদ নয়। এসব ক্ষেত্রে চিকিৎসক বা যোগ্য স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ প্রয়োজন।

জরুরি উপসর্গ দেখা দিলে সময় নষ্ট নয়
বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া কিংবা তীব্র বা দ্রুত অবনতিশীল উপসর্গ দেখা দিলে এআইয়ের উত্তরের জন্য অপেক্ষা করা উচিত নয়। বিশেষ করে বুকব্যথার সঙ্গে ঘাম, বমিভাব, মাথা ঘোরা বা শ্বাসকষ্ট থাকলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। তীব্র জ্বরের সঙ্গে বিভ্রান্তি, খিঁচুনি বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলেও জরুরি সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে। এআই কোনো উপসর্গকে সাধারণ সমস্যা বলে উল্লেখ করলেও সেটি গুরুতর অসুস্থতার সম্ভাবনা বাতিল করে না। তাই শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চ্যাটবটের পরামর্শের চেয়ে সরাসরি চিকিৎসা নেওয়াকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

এআই ভালো না মন্দ নয় মূল প্রশ্ন আস্থার সীমা
প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার সুযোগও বাড়ছে। তবে দ্রুত উত্তর পাওয়া আর সঠিক চিকিৎসা পাওয়া এক বিষয় নয়। এআইয়ের উত্তর আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উপস্থাপিত হলেও তা ভুল, অসম্পূর্ণ বা ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার জন্য অনুপযুক্ত হতে পারে।

তাই প্রশ্নটি শুধু এআই ভালো না মন্দ, তা নিয়ে নয়। বরং কোন কাজে এর সহায়তা নেওয়া যায় এবং কোন পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের বিকল্প হিসেবে একে ব্যবহার করা উচিত নয়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যবিষয়ক সাধারণ তথ্য জানার জন্য এআই সহায়ক হতে পারে, কিন্তু রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার সিদ্ধান্তে পেশাদার চিকিৎসকের ভূমিকা অপরিহার্য।

কালের আলো/জেএন/এসএ

সম্মানজনক প্রত্যাবাসনে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিশ্বকে পাশে চাইল সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০২ অপরাহ্ণ
সম্মানজনক প্রত্যাবাসনে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিশ্বকে পাশে চাইল সরকার

বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকদের সম্মানজনক ও নিরাপদে নিজ দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন বলেছেন, বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার দীর্ঘদিন বাংলাদেশে অবস্থানের কারণে দেশের পরিবেশ ও প্রতিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে সচিবালয়ে সফররত জাতিসংঘের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি ইসাবেল বিশপের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ সহযোগিতা চান। বৈঠকে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিন ধরে এখানে বসবাস দেশের পরিবেশ ও প্রতিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এ পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও সম্মানজনকভাবে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা প্রয়োজন বলে জানান তিনি। রোহিঙ্গাদের দীর্ঘদিন ধরে আশ্রয় ও আতিথেয়তা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান জাতিসংঘের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি ইসাবেল বিশপ। প্রত্যাবাসন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের প্রতি বাংলাদেশের মানবিক মনোভাব অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় বাংলাদেশের অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানান বিশেষ দূত। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন তিনি। সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এবং শরণার্থী সেলের প্রধান মোহাম্মদ নাজমুল আবেদীন উপস্থিত ছিলেন। জাতিসংঘের প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন সিনিয়র পলিটিক্যাল অফিসার ডানকান কেইথ উইলসন, পাবলিক ইনফরমেশন অফিসার প্নু পেই দেট চায়েলসহ অন্য সদস্যরা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

 

মুখে হঠাৎ ব্রণ হরমোনের সমস্যার লক্ষণ নয় তো?

লাইফস্টাইল ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫৮ অপরাহ্ণ
মুখে হঠাৎ ব্রণ হরমোনের সমস্যার লক্ষণ নয় তো?

বয়স ৩০ কিংবা ৪০ পেরিয়ে গেছে। কৈশোরের ব্রণ নিয়ে দুশ্চিন্তার দিনও অনেক আগেই শেষ হয়েছে বলে মনে করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ একদিন আয়নায় তাকিয়ে দেখলেন, চিবুক কিংবা চোয়ালের পাশে উঠেছে যন্ত্রণাদায়ক ব্রণ। কয়েক দিন পর আবারও দেখা দিল নতুন ফুসকুড়ি। অথচ রূপচর্চার রুটিনে বড় কোনো পরিবর্তন আনেননি। তাহলে বয়স বাড়ার পরও কেন ফিরে আসছে ব্রণের সমস্যা?

কৈশোরের সঙ্গে ব্রণের সম্পর্ক বেশি হলেও প্রাপ্তবয়স্ক বয়সে এই সমস্যা দেখা দেওয়া অস্বাভাবিক নয়। অনেকের ক্ষেত্রে কৈশোরের ব্রণ দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়। আবার কারও ত্বক বছরের পর বছর পরিষ্কার থাকার পর ৩০ বা ৪০ বছর বয়সে প্রথমবারের মতো ব্রণ দেখা দিতে পারে। হরমোনের পরিবর্তন, মানসিক চাপ, খাদ্যাভ্যাস এবং ব্যবহৃত প্রসাধনীসহ নানা কারণে এমনটা হতে পারে। তবে বারবার মুখ ধুলেই যে ব্রণ থেকে মুক্তি মিলবে, বিষয়টি তেমন নয়।

হরমোনের পরিবর্তন কি ব্রণের কারণ?
প্রাপ্তবয়স্ক বয়সে ব্রণ হওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে হরমোনের পরিবর্তন। বিশেষ করে চিবুক ও চোয়ালের চারপাশে বারবার ব্রণ দেখা দিলে হরমোনের ভূমিকা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। নারীদের ক্ষেত্রে ঋতুচক্র, গর্ভাবস্থা ও পেরিমেনোপজের সময় হরমোনের ওঠানামা ত্বকের তেল উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোমের (পিসিওএস) কারণেও ব্রণের সমস্যা দেখা দিতে পারে। শরীর ইনসুলিনের প্রতি যথাযথভাবে সাড়া না দিলেও হরমোনের কার্যক্রম ও ত্বকের তেল উৎপাদনে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে সব ব্রণের পেছনে হরমোন দায়ী নয়। ব্রণ যদি নিয়মিত ফিরে আসে এবং এর পাশাপাশি অন্য কোনো শারীরিক উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে শুধু প্রসাধনী পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

মানসিক চাপ বাড়লেও ত্বকে দেখা দিতে পারে ব্রণ
কাজের অতিরিক্ত চাপ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের দুশ্চিন্তা শুধু মনেই প্রভাব ফেলে না, ত্বকেও তার ছাপ পড়তে পারে। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপের সময় শরীরে কর্টিসলসহ বিভিন্ন হরমোনের কার্যক্রমে পরিবর্তন ঘটে। এর প্রভাবে ত্বকের প্রদাহ ও ব্রণের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। রাতের পর রাত কম ঘুমানো এবং বিশ্রামের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে। বিশেষ করে কাজের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যদি ত্বকে ব্রণ ওঠার প্রবণতা লক্ষ্য করেন, তাহলে নিজের ঘুম ও দৈনন্দিন অভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।ত্বকের যত্নে বিভিন্ন প্রসাধনী ব্যবহারের পাশাপাশি মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং নিয়মিত ঘুমের অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ।

খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে কি ব্রণের সম্পর্ক রয়েছে?
খাদ্যাভ্যাসও কিছু মানুষের ব্রণের সমস্যায় ভূমিকা রাখতে পারে। অতিরিক্ত চিনি ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবার, যেমন সাদা রুটি, মিষ্টি পানীয় ও পেস্ট্রি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। এ ধরনের খাবার কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ব্রণের প্রবণতা বাড়ানোর সঙ্গে সম্পর্কিত। এ ছাড়া দুধ ও অন্যান্য দুগ্ধজাত খাবার কিংবা শরীরচর্চার পর ব্যবহৃত হুই প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ব্রণের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে সবার শরীরে খাবারের প্রভাব এক রকম নয়।তাই মুখে ব্রণ দেখা দিলেই দুধ, পনির বা শরীরচর্চার সাপ্লিমেন্ট খাওয়া বন্ধ করে দেওয়া উচিত নয়। বরং কোন খাবার খাওয়ার পর ব্রণ বাড়ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

ব্রণ ঢাকতে ব্যবহৃত প্রসাধনীই কি সমস্যার কারণ?
অনেক সময় ব্রণ ঢাকার জন্য যে মেকআপ বা প্রসাধনী ব্যবহার করা হয়, সেটিই সমস্যাকে বাড়িয়ে দিতে পারে। ত্বকের উপযোগী নয় এমন ভারী মেকআপ, ময়েশ্চারাইজার কিংবা অন্যান্য স্কিনকেয়ার পণ্য লোমকূপ বন্ধ করে দিতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রসাধনীর কারণে সৃষ্ট এ ধরনের ব্রণকে ‘অ্যাকনে কসমেটিকা’ বলা হয়। সম্প্রতি নতুন কোনো ফাউন্ডেশন, ক্রিম বা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার শুরু করার পর ব্রণ দেখা দিলে পণ্যটির সঙ্গে সমস্যার সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা বিবেচনা করা প্রয়োজন। একসঙ্গে অনেক নতুন প্রসাধনী ব্যবহার না করাই ভালো। প্রসাধনী কেনার সময় ‘নন-কমেডোজেনিক’ লেখা রয়েছে কি না, তা দেখে নেওয়া যেতে পারে। সাধারণত এ ধরনের পণ্য লোমকূপ বন্ধ করার প্রবণতা কমাতে তৈরি করা হয়। পাশাপাশি রাতে ঘুমানোর আগে মেকআপ ভালোভাবে তুলে ফেলতে হবে। বাইরের ধুলাবালি ও দূষণ ত্বকে জ্বালাপোড়া বাড়াতে পারে। তবে ত্বক পরিষ্কারের নামে অতিরিক্ত ঘষাঘষি বা বারবার এক্সফোলিয়েশন করলে ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে ব্রণের সমস্যা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

মুখ অপরিষ্কার থাকলেই কি ব্রণ হয়?
ব্রণ নিয়ে প্রচলিত একটি ধারণা হলো, মুখ ঠিকমতো পরিষ্কার না রাখার কারণেই এই সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু বাস্তবে প্রাপ্তবয়স্কদের ব্রণ অপরিচ্ছন্নতার লক্ষণ নয়। লোমকূপে তেল ও মৃত ত্বককোষ জমে যাওয়া, প্রদাহ এবং হরমোনসহ বিভিন্ন কারণ এতে ভূমিকা রাখে। তাই ব্রণ কমানোর আশায় শক্তিশালী ফেসওয়াশ দিয়ে বারবার মুখ ধোয়া কিংবা জোরে ঘষে পরিষ্কার করা উচিত নয়। এতে ত্বকে জ্বালাপোড়া ও শুষ্কতা বাড়তে পারে।প্রতিদিনের ত্বক পরিচর্যার রুটিন সহজ রাখাই ভালো। মৃদু ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করা, ত্বকের উপযোগী নন-কমেডোজেনিক ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার এবং নিয়মিত সানস্ক্রিন লাগানো যেতে পারে। পাশাপাশি ব্রণ খোঁটা বা চেপে ফাটানোর অভ্যাস এড়িয়ে চলতে হবে। কারণ এতে প্রদাহ বাড়ার পাশাপাশি স্থায়ী দাগ কিংবা গর্ত তৈরি হতে পারে।

কোন লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
মাঝেমধ্যে এক-দুটি ব্রণ উঠলে তা নিজে থেকেই সেরে যেতে পারে। তবে ব্রণ যদি বারবার ফিরে আসে, গভীর ও যন্ত্রণাদায়ক হয় কিংবা ত্বকে স্থায়ী দাগ তৈরি করে, তাহলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে ব্রণের পাশাপাশি মাসিক অনিয়মিত হওয়া বা মুখে অতিরিক্ত লোম গজানোর মতো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি। এসব লক্ষণ পিসিওএসের মতো হরমোনজনিত সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। তবে শুধু ব্রণ বা এসব উপসর্গের উপস্থিতি দিয়েই কোনো রোগ নিশ্চিত করা যায় না; প্রয়োজন হলে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কারণ নির্ধারণ করবেন।

বয়স বাড়লেও ব্রণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব
৩০ কিংবা ৪০ বছর বয়সে ব্রণ দেখা দেওয়ার পেছনে একটি নির্দিষ্ট কারণ সব সময় কাজ করে না। হরমোনের পরিবর্তন, মানসিক চাপ, খাদ্যাভ্যাস এবং অনুপযুক্ত প্রসাধনী—এককভাবে কিংবা একাধিক কারণ একসঙ্গে এই সমস্যার জন্য দায়ী হতে পারে। তাই হঠাৎ ব্রণ দেখা দিলে নিজে থেকে একের পর এক ক্রিম বা ওষুধ ব্যবহার না করে ত্বকের পরিবর্তনগুলো পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা তীব্র আকার ধারণ করলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে উপযুক্ত চিকিৎসা শুরু করাই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত। সূত্র: টাইমস ইন্টারটেইনমেন্ট

কালের আলো/ডিএইচ/এসএ