খুঁজুন
                               
, ,
           

বাংলাদেশে আসতে প্রস্তুত ফিফা সভাপতি, তাবিথের সঙ্গে কী কথা হলো

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৭ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে আসতে প্রস্তুত ফিফা সভাপতি, তাবিথের সঙ্গে কী কথা হলো

মরক্কো থেকে ভুটান যাওয়ার পথে ঢাকায় প্রায় দুই ঘণ্টার যাত্রাবিরতি করেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। এই স্বল্প সময়েই তাঁর সঙ্গে বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল। আলোচনায় উঠে এসেছে ফিফার সহযোগিতা বৃদ্ধি, ইউরোপের দেশগুলোর বিপক্ষে খেলার সুযোগ, আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজন, ফিফা ফরোয়ার্ড প্রোগ্রামের অব্যবহৃত অর্থ এবং দেশের স্টেডিয়াম অবকাঠামোর উন্নয়ন।

রোববার ঢাকায় ইনফান্তিনোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাফুফে সভাপতি ও সহসভাপতিদের নিয়ে গঠিত একটি প্রতিনিধিদল। বৈঠক শেষে তাবিথ আউয়াল জানান, বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নয়নে চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি হলে ফিফা সভাপতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ সফরে আমন্ত্রণ জানানোর সুযোগ তৈরি হবে। তাঁর ভাষ্য, ইনফান্তিনো যেকোনো সময় বাংলাদেশে আসতে প্রস্তুত।

বৈঠকের অন্যতম আলোচ্য বিষয় ছিল ভবিষ্যতে ফিফার সঙ্গে বাংলাদেশ কীভাবে আরও বেশি কাজ করতে পারে। তাবিথ আউয়াল বলেন, দুই ঘণ্টার ট্রানজিটের মধ্যেই বাফুফের প্রতিনিধিদল ফিফা সভাপতির সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেয়েছে। বৈঠকটি ভালো পরিবেশে হয়েছে এবং ইনফান্তিনো বাংলাদেশের উদ্দেশে একটি ভিডিও বার্তাও দিয়েছেন।

তাবিথ জানান, ফিফা সভাপতি বাংলাদেশের আসিয়ান কাপে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা জানতে চেয়েছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হলে বাংলাদেশ অংশ নিতে আগ্রহী কি না, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ফুটবলের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং ফিফার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়াই ছিল আলোচনার মূল লক্ষ্য।

বাংলাদেশের ফুটবলারদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বাড়াতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিপক্ষে খেলার সুযোগ তৈরির বিষয়েও কথা হয়েছে। তাবিথ আউয়াল বলেন, বাংলাদেশ আরও বেশি ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে খেলতে চায় এবং ইউরোপেও খেলতে আগ্রহী।

এ জন্য ফিফা উইন্ডো আরও উন্মুক্ত করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, বিভিন্ন মহাদেশের ফুটবল কনফেডারেশনের দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক খেলার সুযোগ বাড়লে বাংলাদেশের মতো দেশের আন্তর্জাতিক ফুটবলে অংশগ্রহণের পরিসরও বাড়তে পারে। তবে এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সূচি, প্রতিপক্ষ বা সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানাননি বাফুফে সভাপতি। ফিফা ফরোয়ার্ড প্রোগ্রামের আওতায় বরাদ্দ অর্থের যে অংশ এখনো ব্যয় করা হয়নি, তা নিয়েও ইনফান্তিনোর সঙ্গে আলোচনা করেছেন তাবিথ আউয়াল। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলো প্রস্তুত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এসব প্রকল্পের কাজ এগিয়ে গেলে ফিফা সভাপতি বাংলাদেশে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে সেগুলোর উদ্বোধন করতে পারেন।

তাবিথের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রকল্পগুলোর প্রস্তুতি ও বাস্তবায়নে গতি আনা গেলে ফিফার সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা আরও দৃশ্যমান হবে। তবে অব্যবহৃত অর্থের পরিমাণ, প্রকল্পভিত্তিক বরাদ্দ কিংবা কাজ শুরুর নির্দিষ্ট সময়সীমা সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানাননি।

বাংলাদেশে ফিফা সভাপতির সফরের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী তাবিথ আউয়াল। তিনি বলেন, বাফুফের টেকনিক্যাল সেন্টারের কাজ শুরু হলে, সিলেটে হাইব্রিড পিচ নির্মাণের কাজ এগোলে অথবা দুটি স্টেডিয়ামের সংস্কার ও ফ্লাডলাইট স্থাপনের কাজ শুরু হলে ইনফান্তিনোর বাংলাদেশ সফরের বাস্তব কারণ তৈরি হবে।

তাবিথ বলেন, এসব প্রকল্পের অগ্রগতি হলে ফিফা সভাপতি বাংলাদেশে আসতে পারেন। তাঁর ভাষায়, “প্রেসিডেন্ট ইজ রেডি টু কাম এনিটাইম।” তবে কোন দুটি স্টেডিয়ামে সংস্কার ও ফ্লাডলাইট স্থাপনের কাজ হবে, প্রকল্পগুলোর ব্যয় কত এবং কখন কাজ শুরু হবে—এসব বিষয়ে বৈঠক-পরবর্তী বক্তব্যে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। ফুটবলের অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহার এবং তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলা ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাও ফিফা সভাপতিকে জানিয়েছেন তাবিথ আউয়াল।

তিনি বলেন, দেশের স্টেডিয়ামগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করে আলোর ব্যবস্থা করার পরিকল্পনার কথা ইনফান্তিনোকে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে চতুর্থ শ্রেণি থেকে স্কুল পর্যায়ে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ সম্পর্কেও তাঁকে অবহিত করা হয়েছে। তাবিথের দাবি, এসব পরিকল্পনা ও অগ্রগতির কথা শুনে ফিফা সভাপতি আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে স্কুলে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগটি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে কিংবা স্টেডিয়ামগুলোতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের পরিকল্পনা কবে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

ইনফান্তিনোর সঙ্গে বৈঠকে ফিফা সভাপতি নির্বাচন কিংবা কোনো রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়নি বলে স্পষ্ট করেছেন তাবিথ আউয়াল। তাঁর ভাষ্য, বৈঠকের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নয়ন। তাবিথ জানান, ১৮ নভেম্বর ফিফা সভাপতি পদে কারা মনোনয়ন জমা দেন, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে বাফুফে। এরপর এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান নেওয়া বা প্রকাশ করার সুযোগ আসতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ফিফার কাছে বাংলাদেশের ফুটবল গুরুত্ব পাচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তাবিথ আউয়াল বলেন, তাঁর বিশ্বাস, বাংলাদেশের ফুটবল অগ্রাধিকার পেয়েছে। ফিফা সভাপতি সরেজমিনে বিভিন্ন তথ্য ও চলমান কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে পারলে বাংলাদেশের উদ্যোগগুলো নিয়ে ইতিবাচক ধারণা পাবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। ফিফার কাছ থেকে আরও আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা পাওয়ার প্রত্যাশার কথাও জানান বাফুফে সভাপতি। তাঁর মতে, বাংলাদেশের ফুটবলে উন্নয়নের সম্ভাবনা ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে, আর সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন। আরও বলেন, বাংলাদেশ প্রতিটি ফিফা ইভেন্টে অংশগ্রহণ করছে। তাঁর মতে, এতে ফিফার কাছে বাংলাদেশের ফুটবল ফেডারেশনের আন্তরিকতা এবং ফুটবলের প্রতি সরকারের আগ্রহের বিষয়টি তুলে ধরা সম্ভব হচ্ছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

ব্যস্ত জীবনে সুখী থাকার সহজ ১০ উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫২ অপরাহ্ণ
ব্যস্ত জীবনে সুখী থাকার সহজ ১০ উপায়

কাজের চাপ, পারিবারিক অশান্তি, ব্যক্তিগত দুশ্চিন্তা কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ—নানা কারণে প্রতিদিনের জীবন হয়ে উঠতে পারে ক্লান্তিকর। ব্যস্ততার মধ্যে অনেক সময় নিজের জন্য একটু সময় বের করাও কঠিন হয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে হারিয়ে যায় হাসিখুশি থাকার অভ্যাস, জমতে থাকে মানসিক চাপ। অথচ প্রতিদিনের ছোট ছোট কিছু অভ্যাসে জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

সবার কাছে সুখের সংজ্ঞা এক নয়। কেউ প্রিয় মানুষের সঙ্গে সময় কাটিয়ে আনন্দ পান, কেউ বই পড়ে কিংবা একা নিরিবিলি সময় কাটিয়ে খুঁজে নেন মানসিক প্রশান্তি। নিজের পছন্দ ও সামর্থ্য অনুযায়ী দৈনন্দিন রুটিনে কিছু ইতিবাচক অভ্যাস যোগ করলে মন ভালো রাখা এবং জীবনকে আরও উপভোগ্য করে তোলা সহজ হতে পারে। স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইনের বিভিন্ন পরামর্শের আলোকে জেনে নেওয়া যাক, ভালো থাকার জন্য কোন অভ্যাসগুলো গড়ে তুলতে পারেন।

১. প্রতিদিন কিছুটা সময় শরীরচর্চা করুন
ব্যায়াম মানেই জিমে গিয়ে ভারী ওজন তোলা কিংবা কঠিন কোনো শরীরচর্চা করা নয়। প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ মিনিট হাঁটা, হালকা স্ট্রেচিং কিংবা ঘরের আশপাশে কিছুক্ষণ চলাফেরা করাও শরীর ও মনের জন্য উপকারী হতে পারে।

নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম মেজাজ ভালো রাখতে, মানসিক চাপ কমাতে এবং ঘুমের মান উন্নত করতে সাহায্য করে। তবে শুরুতেই শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ দেওয়া উচিত নয়। নিজের শারীরিক সক্ষমতা, সময় ও সুযোগ অনুযায়ী সহজ ব্যায়াম বেছে নিন। নিয়মিত শরীর সচল রাখার অভ্যাসই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

২. পর্যাপ্ত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তুলুন
রাতে দীর্ঘ সময় ফোনের পর্দায় চোখ রেখে সকালে ক্লান্ত শরীরে কাজে যাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে সারাদিন অবসাদ, বিরক্তি ও মনোযোগের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। ফলে ছোটখাটো সমস্যাও বড় মনে হতে পারে।

সাধারণভাবে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। ভালো ঘুমের জন্য প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে বিছানায় যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করুন। ঘুমানোর আগে ফোন ব্যবহার কমিয়ে দিন এবং শোবার ঘর আরামদায়ক রাখুন। পর্যাপ্ত ঘুম শরীরকে সতেজ রাখার পাশাপাশি আবেগ ও মানসিক চাপ সামলাতেও সহায়তা করে।

৩. জীবনের ছোট ছোট বিষয়ের জন্য কৃতজ্ঞ থাকুন
আমাদের অনেক সময় কী নেই, কী হারিয়েছি কিংবা কোন প্রত্যাশা পূরণ হয়নি—এসব নিয়েই বেশি ভাবা হয়। অথচ প্রতিদিনের জীবনে এমন অনেক ছোট ঘটনা ঘটে, যেগুলো আনন্দের কারণ হতে পারে। সকালে বারান্দায় বসে এক কাপ চা পান করা, প্রিয় মানুষের সঙ্গে কিছুক্ষণ গল্প করা কিংবা অপরিচিত কারও মুখে হাসি দেখা—এসব মুহূর্তও জীবনের সৌন্দর্য বাড়ায়।

প্রতিদিন এমন তিনটি বিষয় লিখে রাখতে পারেন, যেগুলোর জন্য আপনি কৃতজ্ঞ। চাইলে নিজের বিশ্বাস অনুযায়ী সৃষ্টিকর্তার প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারেন। এই অভ্যাস জীবনের ইতিবাচক দিকগুলো খেয়াল করতে সাহায্য করে। তবে কৃতজ্ঞ থাকার অর্থ নিজের কষ্ট বা সমস্যাকে অস্বীকার করা নয়; বরং কঠিন সময়ের মধ্যেও ভালো দিকগুলো খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করা।

৪. ঘর ও কাজের জায়গা গোছানো রাখুন
অগোছালো ঘর, ছড়িয়ে থাকা কাপড় কিংবা এলোমেলো কাজের টেবিল অনেক সময় অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। তাই প্রতিদিন অল্প কিছু সময় নিজের আশপাশ গুছিয়ে রাখার অভ্যাস করুন। ছুটির দিনে আলমারি, ড্রয়ার কিংবা পড়ার টেবিল পরিষ্কার করতে পারেন। অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো নির্দিষ্ট জায়গায় রাখুন। একসঙ্গে সবকিছু করার প্রয়োজন নেই; প্রতিদিন ১০ মিনিট সময় দিলেও ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসতে পারে। পরিচ্ছন্ন ও গোছানো পরিবেশ কাজের মনোযোগ বাড়াতে এবং দৈনন্দিন জীবনকে আরও স্বস্তিদায়ক করে তুলতে সহায়তা করতে পারে।

৫. প্রিয় মানুষদের জন্য সময় রাখুন
কাজের ব্যস্ততায় অনেক সময় বন্ধু, পরিবারের সদস্য কিংবা কাছের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ কমে যায়। অথচ আন্তরিক সম্পর্ক মানুষের মানসিক সুস্থতা ও ভালো থাকার অনুভূতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিদিন সম্ভব না হলেও সপ্তাহে অন্তত একদিন প্রিয় কারও সঙ্গে কথা বলার বা দেখা করার পরিকল্পনা করতে পারেন। একসঙ্গে চা পান, কফিশপে আড্ডা কিংবা পরিবারের সঙ্গে রাতের খাবার খাওয়ার মতো সাধারণ আয়োজনও সম্পর্ককে আরও গভীর করতে পারে। তবে সবার সামাজিক চাহিদা এক নয়। কেউ মানুষের সঙ্গে সময় কাটিয়ে আনন্দ পান, আবার কেউ নিরিবিলি থাকতে পছন্দ করেন। নিজের প্রয়োজন বুঝে সম্পর্কের জন্য সময় রাখুন, পাশাপাশি অন্যের সঙ্গেও আন্তরিক যোগাযোগ বজায় রাখুন।

৬. প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটান
একটানা ঘরের ভেতরে কিংবা কর্মস্থলে সময় কাটাতে কাটাতে মন ক্লান্ত হয়ে যেতে পারে। এমন সময়ে কিছুক্ষণ বাইরে বের হওয়া, পার্কে হাঁটা কিংবা গাছপালায় ঘেরা জায়গায় বসে থাকা স্বস্তি দিতে পারে।

সম্ভব হলে সপ্তাহে একদিন কোনো পার্ক, নদীর তীর কিংবা সবুজ পরিবেশে কিছুটা সময় কাটান। খোলা আকাশ দেখা, পাখির ডাক শোনা কিংবা নির্মল বাতাসে হাঁটার মতো সাধারণ অভিজ্ঞতাও মানসিক চাপ সামলাতে সাহায্য করতে পারে। দূরে কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন নেই। বাড়ির ছাদে গাছের পরিচর্যা করা, বারান্দায় বসা কিংবা কাছের কোনো সবুজ জায়গায় হাঁটাও হতে পারে প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানোর সহজ উপায়।

৭. অন্যের জন্য ভালো কিছু করুন
অন্যের মুখে হাসি ফোটানোর মধ্যেও আনন্দ খুঁজে পাওয়া যায়। সামর্থ্য অনুযায়ী কাউকে সাহায্য করা, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো কিংবা প্রিয়জনকে ছোট কোনো উপহার দেওয়া—এ ধরনের কাজ সম্পর্কের উষ্ণতা বাড়ায় এবং নিজের মধ্যেও ইতিবাচক অনুভূতি তৈরি করতে পারে।

এর জন্য বড় আয়োজন বা প্রচুর অর্থের প্রয়োজন নেই। কারও কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, বিপদে বন্ধুর পাশে দাঁড়ানো কিংবা পরিবারের কাজে সহযোগিতা করাও গুরুত্বপূর্ণ।তবে অন্যকে সাহায্য করতে গিয়ে নিজের সামর্থ্য ও সীমাবদ্ধতার কথাও মনে রাখা প্রয়োজন। নিজের ওপর অতিরিক্ত চাপ না নিয়ে আন্তরিকভাবে ভালো কিছু করার চেষ্টা করুন।

৮. নিজের পছন্দের কাজে সময় দিন
সব সময় অন্যের সঙ্গে সময় কাটানো কিংবা কাজের মধ্যে ডুবে থাকা প্রয়োজন নেই। নিজের জন্যও কিছুটা সময় রাখা জরুরি। এই সময়টুকুতে এমন কিছু করুন, যা আপনাকে আনন্দ দেয় এবং মানসিকভাবে সতেজ করে।

পছন্দের বই পড়া, সিনেমা দেখা, গান শোনা, রান্না করা কিংবা নিজের পছন্দের কোনো জায়গায় ঘুরতে যাওয়া হতে পারে সেই কাজের অংশ। চাইলে একা কোনো রেস্তোরাঁয় বসে পছন্দের খাবারও খেতে পারেন।নিজের সঙ্গে সময় কাটানো মানে একাকিত্বে ডুবে থাকা নয়। বরং নিজের পছন্দ, অনুভূতি ও প্রয়োজন বোঝার জন্য কিছুটা অবকাশ তৈরি করা।

৯. চিন্তা ও অনুভূতি লিখে রাখুন
কোনো বিষয় নিয়ে বারবার ভাবতে থাকলে মন অস্থির হয়ে উঠতে পারে। এমন সময়ে নিজের চিন্তা ও অনুভূতিগুলো কাগজে লিখে রাখা উপকারী হতে পারে।

দিনের শুরুতে কিংবা ঘুমানোর আগে কয়েক মিনিট সময় নিয়ে লিখুন—কী নিয়ে চিন্তা করছেন, কোন কাজগুলো করতে চান এবং কোন বিষয়গুলো আপনাকে আনন্দ দিয়েছে। সামনের দিনের গুরুত্বপূর্ণ কাজের একটি ছোট তালিকাও তৈরি করতে পারেন।

এতে চিন্তাগুলো গুছিয়ে নেওয়া এবং কোন বিষয়টি আগে সামলানো প্রয়োজন, তা বুঝতে সুবিধা হতে পারে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে অপেক্ষা করছেন এমন আনন্দের মুহূর্ত কিংবা জীবনের সুন্দর স্মৃতিগুলোও লিখে রাখতে পারেন।

১০. নিজের শরীর ও মনের যত্ন নিন
ভালো থাকার জন্য শুধু ইতিবাচক চিন্তা করাই যথেষ্ট নয়। শারীরিক সুস্থতা, মানসিক প্রশান্তি এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনের অভ্যাস একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত।

সুষম খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং প্রয়োজনমতো বিশ্রামের দিকে মনোযোগ দিন। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন এবং দীর্ঘদিন ধরে কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

একইভাবে নিজের মানসিক অবস্থাকেও গুরুত্ব দিন। দীর্ঘস্থায়ী মন খারাপ, উদ্বেগ কিংবা দৈনন্দিন কাজ সামলাতে অসুবিধা হলে বিশ্বস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলুন এবং প্রয়োজনে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সহায়তা নিন। সব সমস্যার সমাধান একা করতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

ভালো থাকার শুরু ছোট অভ্যাস থেকেই
সুখী থাকার জন্য জীবনে সবকিছু নিখুঁত হতে হবে, এমন নয়। প্রতিদিনের ছোট ছোট মুহূর্ত উপভোগ করা, নিজের শরীর ও মনের প্রয়োজন বোঝা এবং প্রিয় মানুষদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার মধ্য দিয়েও ভালো থাকার পথ তৈরি হতে পারে।

একসঙ্গে সব অভ্যাস গড়ে তোলার চেষ্টা না করে প্রথমে নিজের পছন্দমতো দু-একটি অভ্যাস বেছে নিন। ধীরে ধীরে সেগুলো দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তুলুন। মনে রাখবেন, অন্যের কাছে সুখের যে সংজ্ঞা, আপনার কাছে তা একই রকম না-ও হতে পারে। তাই নিজের প্রয়োজন বুঝে নিজের মতো করে ভালো থাকার চেষ্টা করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

কালের আলো/এএএন/এসএ

চালকের চোখে স্পষ্ট দৃষ্টি, নিরাপদ সড়কের নতুন প্রত্যয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২৯ অপরাহ্ণ
চালকের চোখে স্পষ্ট দৃষ্টি, নিরাপদ সড়কের নতুন প্রত্যয়

নিরাপদ সড়কের জন্য প্রয়োজন সচেতন চালক, আর নিরাপদে গাড়ি চালানোর অন্যতম শর্ত সুস্পষ্ট দৃষ্টিশক্তি। সেই ভাবনা থেকেই চালকদের চোখের যত্ন ও সড়ক নিরাপত্তাকে একসূত্রে যুক্ত করে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে সরকারি ৩৯টি মন্ত্রণালয় ও গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের প্রায় ৩০০ জন চালকের দৃষ্টি পরীক্ষা করা হবে। পরীক্ষায় যাঁদের চশমা প্রয়োজন হবে, তাঁদের দেওয়া হবে বিনামূল্যে চশমা।

চালকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সড়কে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রোববার (১৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের মিনি কনফারেন্স রুমে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এ কর্মসূচি চালকদের দৃষ্টিশক্তির যত্নকে জননিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরেছে।

  • ৩৯ মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তরের প্রায় ৩০০ চালকের দৃষ্টি পরীক্ষা
  • প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে চশমা দেবে সড়ক পরিবহন বিভাগ ও ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশ

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি ও সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক। এ সময় ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিশা মাহজাবিন উপস্থিত ছিলেন।

পাঁচ দিনের কর্মসূচি, সেবার আওতায় ৩০০ চালক
১৮ ও ১৯ অক্টোবর এবং ২৫ থেকে ২৭ অক্টোবর—এই পাঁচ দিন চলবে বিশেষ দৃষ্টি পরীক্ষা কর্মসূচি। এর আওতায় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট ৩৯টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সরকারি কার্যালয়ের চালকদের চোখ পরীক্ষা করা হবে। দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষার ফল অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চালকদের বিনামূল্যে চশমা সরবরাহ করা হবে।

কর্মসূচিটির বিশেষ দিক হলো, এখানে শুধু চোখ পরীক্ষা করেই দায়িত্ব শেষ করা হচ্ছে না; প্রয়োজন শনাক্ত হওয়ার পর চালকদের হাতে চশমা তুলে দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ফলে দৃষ্টিশক্তির সমস্যার কারণে যাঁদের গাড়ি চালানোর সময় অসুবিধা হতে পারে, তাঁরা প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এ ধরনের উদ্যোগ চালকদের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি তাঁদের ওপর অর্পিত পেশাগত দায়িত্ব আরও নিরাপদভাবে পালনে সহায়ক হতে পারে।

চালকের চোখে স্পষ্টতা, সড়কে নিরাপত্তার সম্ভাবনা
গাড়ি চালানোর সময় একটি ট্রাফিক সংকেত শনাক্ত করা, দূর থেকে পথচারীকে দেখতে পাওয়া কিংবা হঠাৎ সামনে আসা কোনো বাধা বুঝে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া—প্রতিটি ক্ষেত্রেই দৃষ্টিশক্তির ভূমিকা রয়েছে। তাই চালকের চোখের যত্ন কেবল ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যসেবার বিষয় নয়, এটি যাত্রী ও পথচারীর নিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।

অনেক সময় দৃষ্টিশক্তির সমস্যা ধীরে ধীরে বাড়ে। ফলে চালক নিজেই বুঝতে পারেন না যে তাঁর দৃষ্টিতে পরিবর্তন এসেছে। নিয়মিত পরীক্ষা এ ধরনের সমস্যা শনাক্ত করতে সাহায্য করে। প্রয়োজন অনুযায়ী চশমা ব্যবহার করলে দৃষ্টিজনিত অসুবিধা মোকাবিলা করাও সহজ হয়। এ কারণে চালকদের জন্য বিশেষ দৃষ্টি পরীক্ষা ও বিনামূল্যে চশমা বিতরণের উদ্যোগকে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সহায়ক একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যেতে পারে।

এক দিনের সচেতনতা নয়, নিয়মিত যত্নের বার্তা
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসকে কেন্দ্র করে নেওয়া এ কর্মসূচি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে—সড়ক নিরাপত্তার পরিকল্পনায় চালকের স্বাস্থ্যকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে। সড়কের অবকাঠামো উন্নয়ন ও আইন প্রয়োগের পাশাপাশি যাঁরা প্রতিদিন যানবাহন চালান, তাঁদের শারীরিক সক্ষমতা নিশ্চিত করাও সমান প্রয়োজনীয়। এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ভবিষ্যতে আরও বেশি চালককে নিয়মিত দৃষ্টি পরীক্ষার আওতায় আনা সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় চশমার ব্যবহার এবং চোখের যত্ন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

নিরাপদ সড়ক গড়ার পথে ইতিবাচক পদক্ষেপ
সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়; এর সঙ্গে জড়িত চালক, যাত্রী, পথচারী, পরিবহন কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা। এ ক্ষেত্রে চালকদের দৃষ্টিশক্তির যত্নকে গুরুত্ব দিয়ে সড়ক পরিবহন বিভাগ ও ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগ জননিরাপত্তামুখী কার্যক্রমের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। প্রায় ৩০০ চালককে দৃষ্টি পরীক্ষার আওতায় আনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে চশমা দেওয়ার এই উদ্যোগের মাধ্যমে নিরাপদে গাড়ি চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় একটি মৌলিক শর্তকে সামনে আনা হয়েছে।

নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা ও সচেতনতার সঙ্গে এ ধরনের কর্মসূচি যুক্ত করা গেলে সড়ক নিরাপত্তার প্রচেষ্টা আরও শক্তিশালী হতে পারে। সুস্থ চালক, স্পষ্ট দৃষ্টি ও দায়িত্বশীল চালনা—এই তিনের সমন্বয়েই নিরাপদ যাত্রার ভিত্তি আরও মজবুত হতে পারে। জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের এ উদ্যোগ সেই লক্ষ্য অর্জনে একটি আশাব্যঞ্জক পদক্ষেপ।

কালের আলো/এমএএএমকে

মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড নিয়ে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ঢাকার আলোচনা

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২৩ অপরাহ্ণ
মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড নিয়ে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ঢাকার আলোচনা

সৌদি আরবের পবিত্র মক্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির বিষয়ে দেশটির রাষ্ট্রদূতের কাছে বিস্তারিত জানতে চেয়েছে বাংলাদেশ। এ ঘটনায় কী পরিস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, সে বিষয়ে তথ্য জানতে ঢাকায় সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ বিন জাফর এইচ বিন আবিয়ারের সঙ্গে আলোচনা করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা বলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপক্ষীয় বিষয়াবলি) মো. নজরুল ইসলাম। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ সময় সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, মক্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির বিষয়ে জানতে সৌদি রাষ্ট্রদূতের কাছে একটি কূটনৈতিকপত্র দেওয়া হয়েছে। ওই দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট তথ্য জানার জন্যই ঢাকার পক্ষ থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গত বুধবার সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি গণমাধ্যমে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, পবিত্র মক্কায় মসজিদ এলাকায় ‘অনৈতিক কাজের’ দায়ে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশকে এ বিষয়ে জানানো হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর তথ্য জানতে ঢাকায় সৌদি দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে কূটনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ শুরু করে ঢাকা। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম।

বৈঠকে সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হলেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দিষ্ট কারণ, সংশ্লিষ্ট মামলার বিস্তারিত তথ্য কিংবা সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা সম্পর্কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানানো হয়নি। দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা। এ বিষয়ে কূটনৈতিকপত্র দেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানতে চেয়েছে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি