টুপটুপ রিসোর্টে ১০ প্রাণহানি, প্রশ্নের মুখে কক্সবাজারের পর্যটন নিরাপত্তা
কক্সবাজারে পর্যটনশিল্পের প্রসারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও কটেজের সংখ্যা। সমুদ্রের সৌন্দর্য আর দৃষ্টিনন্দন স্থাপনার আড়ালে অনেক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলেও সেগুলোর অনুমোদন, অগ্নিনিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষার ব্যবস্থা নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। উখিয়ার পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় সেই অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার চিত্র আবারও সামনে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারের বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ছয় শতাধিক হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, কটেজ ও রেস্তোরাঁ রয়েছে। এর বড় একটি অংশের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান শুধু স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছে। ফলে অগ্নিকাণ্ডসহ যেকোনো দুর্ঘটনায় পর্যটকদের জীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।
টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ইতোমধ্যে মালিকসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। রিসোর্টের ব্যবস্থাপক জাহিদুল ইসলাম ওরফে সুমনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তবে নিহতদের স্বজনদের দাবি, মামলা করেই যেন দায়িত্ব শেষ না হয়; দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তি এবং নিরাপত্তা তদারকিতে অবহেলাকারীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
ফায়ার লাইসেন্স নবায়ন করেছে মাত্র ৫০ হোটেল
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের লাইসেন্স শাখার কক্সবাজার ইন্সপেক্টর শফিকুল ইসলাম জানান, চলতি বছরে মাত্র ৫০টি হোটেল ফায়ার লাইসেন্স নবায়ন করেছে। আবেদন জমা পড়েছে প্রায় ১০০টির মতো। এর আগে প্রায় ২০০টি হোটেলের লাইসেন্স ছিল। লাইসেন্স না থাকায় অধিকাংশ হোটেলকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, জনবল সংকটের কারণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা কঠিন হলেও লাইসেন্স নেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। ট্রেড লাইসেন্স দেওয়ার সময় ফায়ার লাইসেন্স রয়েছে কি না, তা যাচাই করাও গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবসায়ীরা সচেতন না হলে সব প্রতিষ্ঠানকে শতভাগ নিরাপত্তার আওতায় আনা সম্ভব নয়।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কক্সবাজারের উপপরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ বলেন, এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সঠিক পরিসংখ্যানও সংশ্লিষ্টদের কাছে নেই। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত টুপটুপ রিসোর্টকে এর আগে দুবার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
পরিবেশ ছাড়পত্রেও পিছিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো
অগ্নিনিরাপত্তার পাশাপাশি হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁগুলোর বর্জ্য ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনাও প্রশ্নের মুখে। অনেক প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই।
পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজারের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ মোর্শেদ জানান, জেলায় সর্বোচ্চ ৫০টি হোটেলের পরিবেশ ছাড়পত্র রয়েছে। ছাড়পত্র না থাকায় গত এক বছরে ৫৮টি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় দেড় কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সময়ে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন (ইসিএ) এলাকার শতাধিক হোটেলের বিরুদ্ধে ২৮টি মামলা করা হয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণত ২০ কক্ষের নিচের আবাসিক হোটেল এবং ৩০ লাখ টাকার নিচের রেস্তোরাঁর ক্ষেত্রে পরিবেশ ছাড়পত্রের প্রয়োজন হয় না। তবে এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নিয়মের বাইরে থাকার চেষ্টা করছেন।
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, অধিকাংশ হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁ কউকের অনুমতি ছাড়াই গড়ে উঠেছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করা হয়েছে এবং এবার কঠোর অবস্থানে যাওয়ার কথা জানান তিনি।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারের দুই শতাধিক প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকায় এর মধ্যে মাত্র ৫০টি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অন্যদের প্রয়োজনীয় কাগজ জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজার হোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, অধিকাংশ রিসোর্ট ও কটেজের অনুমোদন নেই। নিয়মনীতি না মানায় অনেক প্রতিষ্ঠানকে সমিতির অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এসব প্রতিষ্ঠানকে নিয়মের আওতায় এনে পর্যটনশিল্পের বিকাশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
কক্সবাজার সিভিল সোসাইটিজ ফোরামের সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী প্রশ্ন তুলে বলেন, বছরের পর বছর অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে পর্যটননির্ভর এই জেলায় ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে? সংশ্লিষ্টদের মতে, পর্যটকদের নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা ও পরিকল্পিত পর্যটন নিশ্চিত করতে দুর্ঘটনার পর অভিযান চালানোর পরিবর্তে নিয়মিত তদারকি জরুরি।
মালিকসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা
উখিয়ার পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। রিসোর্টের মালিক মো. তানভীরকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। শনিবার রাতে উখিয়া থানার উপপরিদর্শক আশিস সূত্রধর বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুর রহমান মজুমদার রোববার সকালে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রিসোর্টের মালিক মো. তানভীর ও নেওয়াজ মোর্শেদ রয়েছেন। অন্যরা অজ্ঞাতপরিচয় আসামি।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রিসোর্টের ব্যবস্থাপক জাহিদুল ইসলাম ওরফে সুমনকে শনিবার বিকেলে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
তবে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান জানান, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।
স্বজনদের আহাজারি, দাবি বিচার ও জবাবদিহির
অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। রোববার সকাল থেকে মরদেহ শনাক্ত ও বুঝে নেওয়ার অপেক্ষায় হাসপাতালে ভিড় করেন স্বজনরা। পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় তাঁদের অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে। প্রিয়জনকে হারানোর শোকের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা।
অগ্নিকাণ্ডে স্ত্রী নাসরিন আক্তার মুক্তাকে হারিয়েছেন দেওয়ান ফয়সাল। উদ্ধার হওয়া ১০ মরদেহের মধ্যে তাঁর স্ত্রীর মরদেহ থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।
ফয়সাল বলেন, তাঁর স্ত্রীকে আর ফিরে পাওয়ার আশা নেই। তবে আর কোনো স্বামী বা পরিবারকে যেন এভাবে প্রিয়জন হারাতে না হয়, সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের সহসভাপতি ফয়সাল বলেন, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়া কোনো রিসোর্ট পরিচালিত হলে এবং কর্তৃপক্ষের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করা হলে তার দায় কার—সে প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। যাঁদের দায়িত্ব ছিল তদারকি করা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও আইন প্রয়োগ করা, তাঁদেরও জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চেয়ে ফয়সাল বলেন, স্বজনদের ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা কারও নেই, কিন্তু বিচার নিশ্চিত করার ক্ষমতা রাষ্ট্রের রয়েছে। তাঁর দাবি, শুধু শোক প্রকাশ নয়, এই প্রাণহানির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
স্বজন হারানোর ট্রমায় ভেঙে পড়েছেন ইসমাইল
স্ত্রী ও স্বজনদের নিয়ে গত বুধবার কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়েছিলেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন ওরফে মাসুদ (৩০)। বৃহস্পতিবার সকালে তাঁরা ইনানির পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকতের কাছাকাছি টুপটুপ রিসোর্টে ওঠেন। শনিবার সকালে ঢাকায় ফেরার কথা থাকলেও তার আগেই ঘটে মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড।
এ ঘটনায় ইসমাইলের চার ভাগনি, এক ভাগনে ও এক নাতি মারা গেছেন। জানালা দিয়ে লাফ দিয়ে প্রাণে বাঁচেন ইসমাইল ও তাঁর স্ত্রী মেহেরুন নেছা। তবে মেহেরুনের শরীরের কিছু অংশ পুড়ে গেছে। তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
চোখের সামনে স্বজনদের মৃত্যু এবং স্ত্রীর দগ্ধ হওয়ার ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন ইসমাইল। স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ঠিকমতো কারও সঙ্গে কথা বলছেন না।
নিহতরা হলেন ইসমাইলের ভাগনি লায়লা জাহান নাবিলা, ইসরাত জাহান মালিহা, ফারিয়া কবির ও মিলিতা মেহজাবীন; ভাগনে নাফিজ তেহামী এবং নাতি ফাইজান নুর।
যশোরের একই পরিবারের চার সদস্য নিখোঁজ
টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের পর যশোরের মণিরামপুরের একই পরিবারের চার সদস্যের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁরা হলেন মোহনপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে নাহিদুর রহমান (৪১), তাঁর স্ত্রী আফসানা মতিন তানজি (৩৬) এবং তাঁদের দুই সন্তান রুজাইনা ইনায়া (৭) ও সুনাইনা ইহানা (৩)।
পারিবারিক সূত্র জানায়, নাহিদুর ঢাকার শ্যামলীতে গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। পরিবার নিয়ে তিনি মিরপুরের শ্যাওড়াপাড়ায় বসবাস করতেন। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে স্বজনরা উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।
নাহিদুরের বড় ভাই জাহিদুর রহমান প্রিন্স জানান, তাঁর ভাইয়ের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে রিসোর্ট বুকিংয়ের বিলের ছবি হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হয়েছে। বুকিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত রিসোর্টের একটি কক্ষ নেওয়া হয়েছিল। ১৮ অক্টোবর দুপুর ১টায় তাঁদের রিসোর্ট ছাড়ার কথা ছিল।
নাহিদুর মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি ও পুলিশ সায়েন্স বিভাগের দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। নিখোঁজ চারজন উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহের মধ্যে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন স্বজনরা। তবে তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত কিছু বলা যাচ্ছে না।
দুর্ঘটনার পর নয়, আগেই চাই নিরাপত্তা
টুপটুপ রিসোর্টের অগ্নিকাণ্ড কক্সবাজারের পর্যটন অবকাঠামোর নিরাপত্তা ও তদারকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। অনুমোদনহীন স্থাপনা, অগ্নিনিরাপত্তার ঘাটতি, পরিবেশ ছাড়পত্রের অভাব এবং দুর্বল নজরদারির অভিযোগের মধ্যে পর্যটকদের জীবন কতটা সুরক্ষিত, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতিটি হোটেল ও রিসোর্টের বৈধ অনুমোদন, কার্যকর অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা, জরুরি বহির্গমনপথ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং নিয়মিত পরিদর্শন নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে টুপটুপ রিসোর্টের অগ্নিকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত, মরদেহ শনাক্তকরণ এবং দায়ীদের বিচারের মাধ্যমে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা জরুরি।
পর্যটনশিল্পের উন্নয়ন যেন মানুষের জীবনের ঝুঁকি বাড়িয়ে না তোলে—এটাই এখন কক্সবাজারে পর্যটক, স্বজন ও সচেতন মহলের প্রধান দাবি।
কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি


আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]