খুঁজুন
                               
, ,
           

একসঙ্গে বিদেশে বহু শিক্ষক, নোবিপ্রবিতে ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম

নোয়াখালীর সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৩ অপরাহ্ণ
একসঙ্গে বিদেশে বহু শিক্ষক, নোবিপ্রবিতে ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম

উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য একসঙ্গে অনেক শিক্ষক বিদেশে অবস্থান করায় নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) তীব্র শিক্ষক সংকট তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে শিক্ষকদের দীর্ঘমেয়াদি ছুটির কারণে নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষা পরিচালনায় হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এর সঙ্গে প্রশাসনিক দায়িত্ব, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতি এবং কয়েকজন শিক্ষকের সরাসরি শিক্ষা কার্যক্রমে অনুপস্থিতি সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট ৪২৮টি শিক্ষক পদের বিপরীতে বর্তমানে ১২৮ জন শিক্ষক বিভিন্ন ধরনের ছুটিতে রয়েছেন। সে হিসাবে মোট শিক্ষক পদের প্রায় ৩০ দশমিক ১৪ শতাংশের সমপরিমাণ শিক্ষক ছুটিতে রয়েছেন। কোনো কোনো বিভাগে অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষক ছুটিতে থাকায় সীমিত জনবল দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নিতে হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ব্যবসায় প্রশাসন (ডিবিএ) বিভাগে মোট ১৫ জন শিক্ষকের মধ্যে ৯ জন ছুটিতে রয়েছেন। অর্থাৎ বিভাগটির ৬০ শতাংশ শিক্ষক বর্তমানে ছুটিতে। অর্থনীতি বিভাগে ১৮ জনের মধ্যে ১০ জন বা ৫৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ এবং মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে ২৩ জনের মধ্যে ১১ জন বা ৪৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ শিক্ষক ছুটিতে রয়েছেন। এ ছাড়া বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং (বিজিই) বিভাগে ২০ জনের মধ্যে ৮ জন এবং বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি (বিএমবি) বিভাগে ১০ জনের মধ্যে ৪ জন শিক্ষক ছুটিতে রয়েছেন। এ দুই বিভাগেই ছুটিতে থাকা শিক্ষকের হার ৪০ শতাংশ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় প্রতিটি বিভাগেই কমবেশি শিক্ষক ছুটিতে রয়েছেন। তবে বিভাগভেদে ছুটিতে থাকা শিক্ষকের অনুপাতের পার্থক্য থাকায় কোথাও সংকট তুলনামূলক বেশি, কোথাও আবার সীমিত জনবল দিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

শিক্ষাছুটি ও সাধারণ ছুটির বাইরে আরও কিছু কারণে নোবিপ্রবির কয়েকটি বিভাগে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা ব্যাহত হচ্ছে। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়ে ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স (ফিমস) বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনিসুজ্জামান (রিমন), রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুর এবং আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বাদশা মিয়া অফলাইন কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন না বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে ফিমস বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সুবিপ্রবি) প্রো-ভিসি এবং ফলিত গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ হানিফ (মুরাদ) লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (লবিপ্রবি) উপাচার্য হিসেবে প্রেষণে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে তাঁদের নিজ নিজ বিভাগের নিয়মিত কার্যক্রমে শিক্ষকসংকটের চাপ তৈরি হচ্ছে।

শিক্ষক ঘাটতি সামাল দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে অস্থায়ী শিক্ষক দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, এসিএসইতে ২ জন, পরিসংখ্যান বিভাগে ১ জন, আইআইটিতে ১ জন, আইআইএসে ২ জন, শিক্ষা প্রশাসনে ১ জন, বিএমবিতে ১ জন, সওএসে ১ জন এবং রসায়ন বিভাগে ১ জন অস্থায়ী শিক্ষক রয়েছেন। তবে অস্থায়ী শিক্ষক নিয়োগের পরও বিভাগগুলোর প্রয়োজনীয় শিক্ষকসংখ্যা নিশ্চিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। দীর্ঘমেয়াদি ছুটিতে থাকা শিক্ষকদের বিপরীতে বিকল্প শিক্ষক নিয়োগ বা খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে ঘাটতি পূরণের বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, কিছু বিষয়ে মাত্র একজন শিক্ষককে একাধিক ব্যাচে পাঠদান করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়ে সিলেবাস শেষ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তাঁরা বলেন, উচ্চশিক্ষা বা গবেষণার জন্য শিক্ষকদের বিদেশে যাওয়ার বিরোধিতা করছেন না তাঁরা। তবে শিক্ষকসংকটের কারণে যেন শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা ব্যাহত না হয়, সে জন্য দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিকল্প শিক্ষক নিয়োগ করে নিয়মিত ক্লাস চালু রাখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, দীর্ঘমেয়াদি ছুটির কারণে কর্মরত শিক্ষকদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। তাঁদের মতে, প্রতিটি বিভাগে ছয় থেকে সাতটি ব্যাচ সচল থাকায় সীমিতসংখ্যক শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষ দিয়ে নিয়মিত ক্লাস পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। শিক্ষার্থীরা শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতে উচ্চশিক্ষায় যাওয়া শিক্ষকদের বিপরীতে বিকল্প বা খণ্ডকালীন (গেস্ট) শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, এতে কর্মরত শিক্ষকদের ওপর চাপ কমবে এবং শিক্ষার্থীদের ক্লাস ও সিলেবাস সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সহজ হবে।

শিক্ষক সংকট ও শিক্ষাছুটি প্রসঙ্গে নোবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, শিক্ষাছুটি শিক্ষকদের প্রাপ্য অধিকার এবং একাডেমিক উৎকর্ষ অর্জনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।  শিক্ষক ঘাটতি পূরণে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। প্রয়োজনে ইউজিসির অনুমোদন নিয়ে গেস্ট শিক্ষক নিয়োগ বা বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে শূন্যতা পূরণের কথাও উল্লেখ করেন উপাচার্য।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

 

আইসিসি র‍্যাংকিংয়ে শারমিনের ৫ ধাপ স্বর্ণার ১৬

ক্রীড়া প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০৬ অপরাহ্ণ
আইসিসি র‍্যাংকিংয়ে শারমিনের ৫ ধাপ স্বর্ণার ১৬

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে ব্যাট হাতে দারুণ পারফরম্যান্সের পুরস্কার পেয়েছেন বাংলাদেশের দুই নারী ক্রিকেটার শারমিন আক্তার ও স্বর্ণা আক্তার। আইসিসির সর্বশেষ হালনাগাদ নারী ওয়ানডে ব্যাটারদের র‍্যাংকিংয়ে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে তাঁদের। পাঁচ ধাপ এগিয়েছেন শারমিন, আর স্বর্ণার অগ্রগতি ১৬ ধাপ। মঙ্গলবার ( ২০ অক্টোবর) প্রকাশিত র‍্যাংকিংয়ে ৫৬১ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ২৫তম স্থানে উঠে এসেছেন শারমিন আক্তার। অন্যদিকে, ৩২৫ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোয়েনা জোসেফের সঙ্গে যৌথভাবে ৮৬তম স্থানে রয়েছেন স্বর্ণা আক্তার।

শেষ ওয়ানডেতে ব্যাট হাতে উজ্জ্বল দুই বাংলাদেশি
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ব্যাট হাতে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন শারমিন ও স্বর্ণা। ওই ম্যাচে ৯৩ বলে ৫০ রান করেন শারমিন। অন্যদিকে, ৭১ বলে ৫৪ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন স্বর্ণা। দুই ক্রিকেটারের এই পারফরম্যান্সের ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে আইসিসির র‍্যাংকিংয়ে। বিশেষ করে স্বর্ণার ১৬ ধাপ উন্নতি তাঁর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

র‍্যাংকিংয়ে এগিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাররাও
নারী ওয়ানডে ব্যাটারদের র‍্যাংকিংয়ে উন্নতি হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার কয়েকজন ক্রিকেটারেরও। এক ধাপ এগিয়ে নবম স্থানে উঠে এসেছেন এলিসা পেরি। অলরাউন্ডারদের র‍্যাংকিংয়েও ১৪ ধাপ উন্নতি হয়েছে তাঁর। সেখানে ২৫তম স্থানে রয়েছেন এই অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার। সিরিজের শেষ ম্যাচে অপরাজিত অর্ধশতক করা অ্যানাবেল সাদারল্যান্ড নারী ওয়ানডে ব্যাটারদের র‍্যাংকিংয়ে চার ধাপ এগিয়ে ১৩তম স্থানে উঠে এসেছেন।

টি-টোয়েন্টি বোলারদের র‍্যাংকিংয়ে এগিয়েছেন ভারতীয়রা
নারী টি-টোয়েন্টি বোলারদের র‍্যাংকিংয়েও উন্নতি হয়েছে ভারতের কয়েকজন ক্রিকেটারের। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ জিতে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে ভারত। সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে তিনটি করে উইকেট নিয়ে যৌথভাবে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিদের তালিকায় জায়গা করে নেন ভারতের নন্দনী শর্মা ও ক্রান্তি গৌড়। এর মধ্যে নন্দনী ২৬ ধাপ এগিয়ে ৪৫তম স্থানে উঠেছেন। ক্রান্তি গৌড়ের উন্নতি হয়েছে নয় ধাপ। তিনি রয়েছেন ৪৩তম স্থানে। এদিকে, নারী টি-টোয়েন্টি বোলারদের র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষ দুই স্থান ধরে রেখেছেন ভারতের শ্রী চরণী ও দীপ্তি শর্মা। তাঁরা রয়েছেন যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে।

কালের আলো/টিসি/এসএ

মাহবুবুল খালিদের কথায় নতুন গান গাইলেন আসিফ

বিনোদন প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫২ অপরাহ্ণ
মাহবুবুল খালিদের কথায় নতুন গান গাইলেন আসিফ

গীতিকবি ও সুরকার মাহবুবুল খালিদের কথা ও সুরে নতুন গান গেয়েছেন বাংলা গানের ‘যুবরাজ’খ্যাত সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর। ‘সখি তুই কি তেল মাখিস চুলে’ শিরোনামের গানটিতে প্রেম, সৌন্দর্য ও মুগ্ধতার অনুভূতি উঠে এসেছে লোকজ শব্দ ও রোমান্টিক কথামালায়। ইতোমধ্যে গানটির অডিও শ্রোতাদের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে। শিগগিরই গানটির সংগীতচিত্র প্রকাশের কথা রয়েছে।

লোকজ কথায় প্রেমের গান
‘সখি তুই কি তেল মাখিস চুলে’ গানটিতে প্রিয় মানুষের রূপ ও সৌন্দর্যে মুগ্ধ এক প্রেমিকের অনুভূতি তুলে ধরেছেন মাহবুবুল খালিদ। সহজ ও লোকজ শব্দের ব্যবহারে গানটিতে তৈরি হয়েছে রোমান্টিক আবহ। প্রেমিকার চুল, শাড়ি, উড়তে থাকা আঁচল ও নূপুরের শব্দের বর্ণনায় ফুটে উঠেছে ভালো লাগা ও মুগ্ধতার প্রকাশ। গানটির কয়েকটি পঙ্‌ক্তি হলো, ‘সখি তুই কি তেল মাখিস চুলে/ কী শাড়ি পরিস তুই, হাওয়ায় আঁচল দুলে/ তোর নূপুর বাজে ঘুঙুর ঘুঙুর/ রূপে আগুন জ্বলে।’ গানের কথায় পরিচিত গ্রামীণ অনুষঙ্গ ও লোকজ শব্দের ব্যবহার শ্রোতাদের কাছে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করতে পারে। আসিফ আকবরের কণ্ঠে গানটি নতুন মাত্রা পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রত্যাশা।

শিগগিরই আসছে সংগীতচিত্র
‘সখি তুই কি তেল মাখিস চুলে’ গানের অডিও ইতোমধ্যে মাহবুবুল খালিদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। শিগগিরই গানটির সংগীতচিত্র প্রকাশ করা হবে ‘খালিদ সংগীত’ নামের ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক পেজে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে গান প্রকাশের মাধ্যমে শ্রোতাদের কাছে নতুন সৃষ্টি পৌঁছে দেওয়ার ধারাবাহিকতায় যুক্ত হলো আসিফ আকবরের কণ্ঠে এই গান। সংগীতচিত্র প্রকাশের পর গানটি আরও বিস্তৃত শ্রোতাগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হবে।

পাঁচ শতাধিক গান লিখেছেন মাহবুবুল খালিদ
বাংলাদেশের সংগীত ও সাহিত্যাঙ্গনে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন গীতিকবি ও সুরকার মাহবুবুল খালিদ। তাঁর লেখা গান ‘খালিদ সংগীত’ ব্যানারে ইউটিউব, ফেসবুকসহ বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। এ পর্যন্ত তাঁর লেখা পাঁচ শতাধিক গান প্রকাশ পেয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রজন্মের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীরা এসব গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। তাঁর গানের বিষয়বৈচিত্র্যও উল্লেখযোগ্য। প্রেম, ভালোবাসা ও ব্যক্তিগত অনুভূতির পাশাপাশি সমাজের অসংগতি, মানবিক সংকট এবং আলোচিত ঘটনাও তাঁর সৃষ্টিতে উঠে এসেছে। সামাজিক বাস্তবতা ও মানুষের আবেগকে গানের মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন তিনি।

সামাজিক সংকট ও মানবিকতার বার্তাও তাঁর গানে
ঢাকার মিরপুরে নির্যাতনের শিকার শিশু গৃহকর্মী আদুরিকে নিয়ে মাহবুবুল খালিদ লিখেছেন ‘আদুরি’ গানটি। সীমান্তে ফেলানী হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর লেখা ‘ফেলানীরে করল গুলি’ গানেও উঠে এসেছে নির্মম বাস্তবতা। এ ছাড়া মাগুরায় শিশু আছিয়ার ওপর নির্যাতনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি লিখেছেন ‘মাগুরার ফুল’। সাম্প্রতিক সময়ে ‘রামিসার বিচার’ শিরোনামেও গান লিখেছেন এই গীতিকবি। এসব গানে নির্যাতন, অন্যায় ও সামাজিক বাস্তবতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী বার্তা তুলে ধরার চেষ্টা রয়েছে। দেশের বাইরের মানবিক সংকটও তাঁর সৃষ্টির বিষয় হয়েছে। ফিলিস্তিন ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে লেখা গানগুলোর মাধ্যমে মানবতা, সহমর্মিতা ও সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি।এবার সেই বৈচিত্র্যময় সৃষ্টির ধারায় যুক্ত হলো রোমান্টিক গান ‘সখি তুই কি তেল মাখিস চুলে’। আসিফ আকবরের কণ্ঠে গানটি প্রকাশের মধ্য দিয়ে মাহবুবুল খালিদের সংগীতভান্ডারে যুক্ত হলো আরও একটি নতুন সৃষ্টি।

কালের আলো/আরআইকে/এসএ

বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলে সহায়তার আশ্বাস ইনফান্তিনোর

ক্রীড়া প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪০ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলে সহায়তার আশ্বাস ইনফান্তিনোর

দক্ষিণ এশিয়া ও বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলের মান উন্নয়নে জোর দিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বাংলাদেশ সফর না করলেও ভুটান যাওয়ার পথে ঢাকায় যাত্রাবিরতি এবং ফেরার সময় বিমানবন্দরে অবস্থানকালে বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে আলোচনা করেছেন তিনি। এ সময় ঘরোয়া ফুটবলের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাসও দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম।

ঘরোয়া ফুটবলের উন্নয়নে গুরুত্ব ইনফান্তিনোর
দুই দিনের সফরে ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে গিয়েছিলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। যাওয়ার পথে ঢাকায় প্রায় দেড় ঘণ্টা বিরতি নেন তিনি। পরে ফেরার সময়ও প্রায় ৪৫ মিনিট ঢাকায় অবস্থান করেন। এই সময় বাংলাদেশের ফুটবল এবং দক্ষিণ এশিয়ার ঘরোয়া ফুটবলের উন্নয়ন নিয়ে তাঁর সঙ্গে আলোচনা হয়। বাফুফে সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম জানান, ভুটানের আতিথেয়তার পাশাপাশি বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল নিয়েও ইনফান্তিনোর সঙ্গে কথা হয়েছে। বিশেষ করে ঘরোয়া ফুটবলের মান বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ফিফা সভাপতি। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষ ক্লাব নিয়ে টুর্নামেন্টের ভাবনা
দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ানো এবং ক্লাব পর্যায়ে উন্নত পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে আঞ্চলিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। ফাহাদ করিমের ভাষ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষ ক্লাবগুলোকে নিয়ে একটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের বিষয়ে ভুটান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির সঙ্গে কথা বলেছেন ইনফান্তিনো। এ বিষয়ে টোকিওতে অন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গেও আলোচনা হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাফুফের এই সহ-সভাপতি। এমন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ এশিয়ার ক্লাবগুলোর মধ্যে নিয়মিত প্রতিযোগিতার সুযোগ তৈরি হতে পারে এবং আঞ্চলিক ফুটবলের মানোন্নয়নে তা ভূমিকা রাখতে পারে।

ফিফার অর্থায়ন বাড়ার সম্ভাবনা
বাংলাদেশের ফুটবলের অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণব্যবস্থার উন্নয়নেও ফিফার সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে ফাহাদ করিম জানান, বাফুফের টেকনিক্যাল সেন্টার নিয়ে ফিফার একটি বড় প্রকল্প রয়েছে। সেখানে আরও সহায়তার প্রয়োজন হলে সে বিষয়ে আশ্বাস আগেই দিয়েছেন ফিফা সভাপতি।  তিনি আরও জানান, আগামী মার্চে ফিফা কংগ্রেসে সদস্য দেশগুলোর জন্য অনুদান বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে বাংলাদেশও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থায়ন পেতে পারে। তবে অনুদান বৃদ্ধির বিষয়টি এখনো প্রস্তাবের পর্যায়ে রয়েছে; চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে বাংলাদেশ কতটা সুবিধা পাবে।

এএফসির বিশেষ কংগ্রেসে যোগ দিতে টোকিও যাচ্ছেন ইনফান্তিনো
জাপানের রাজধানী টোকিওতে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) বিশেষ কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে যোগ দিতে বাফুফে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এরই মধ্যে টোকিও গেছেন। এ কারণে ফিফা সভাপতির ঢাকা যাত্রাবিরতির সময় ফেডারেশনের পক্ষ থেকে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান বাফুফের দুই সহ-সভাপতি সাব্বির আহমেদ আরেফ ও ফাহাদ করিম। ইনফান্তিনোও এএফসির ওই সভায় যোগ দিতে টোকিও যাচ্ছেন। তাঁর এই যাত্রাবিরতিতে বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে আলোচনা এবং ভবিষ্যৎ সহায়তার আশ্বাসকে দেশের ফুটবলের উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে বাফুফে। বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলের মান উন্নয়ন, টেকনিক্যাল সেন্টারের কার্যক্রমে সহায়তা এবং দক্ষিণ এশিয়ার ক্লাবগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ—এই তিনটি বিষয়ই আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। তবে এসব উদ্যোগের বাস্তব অগ্রগতি নির্ভর করবে পরবর্তী আলোচনা, অর্থায়নের সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পদক্ষেপের ওপর।

কালের আলো/এমএইচএ/এসএ