স্বর্ণ চোরাচালানের অভিনব কৌশল, দুই বিমানবন্দরে জব্দ ৫ কোটি টাকার স্বর্ণ
রান্নাঘরের সরঞ্জামের ভেতরে স্বর্ণবার লুকিয়ে আনা এবং যাত্রীর শরীরের অভ্যন্তরে ডিম্বাকৃতির স্বর্ণপেস্টের বস্তু বহনের কৌশল শনাক্ত করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক অভিযানে প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের স্বর্ণ ও স্বর্ণপেস্টের বস্তু আটক করা হয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ১৮ অক্টোবর সকালে চট্টগ্রামে ফ্রাইপ্যান ও সবজি গ্রেটারের ভেতরে লুকানো ৪৬৬ গ্রাম স্বর্ণবার উদ্ধার করা হয়। ঘোষিত ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকারসহ মোট ৫৬৬ গ্রাম স্বর্ণ আটক করা হয়েছে। শুল্ক-করসহ এর আনুমানিক মূল্য ৯৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা। অন্যদিকে, একই দিন সন্ধ্যায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মালদ্বীপ থেকে আসা দুই যাত্রীর শরীরের অভ্যন্তরে লুকানো ছয়টি ডিম্বাকৃতির স্বর্ণপেস্টের বস্তু উদ্ধার করা হয়। এসব বস্তুর মোট প্রাথমিক ওজন ২ কেজি ৭৩৪ গ্রাম। এগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ফ্রাইপ্যান ও সবজি গ্রেটারের ভেতরে স্বর্ণবার
কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কামরুল ইসলাম নামে এক যাত্রী ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার বহনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে তাঁর কাছে ঘোষণার বাইরে অতিরিক্ত স্বর্ণ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি তা অস্বীকার করেন।
পরে অন্যান্য সংস্থার উপস্থিতিতে তাঁর ব্যাগেজ তল্লাশি করা হয়। এ সময় ফ্রাইপ্যান ও সবজি গ্রেটারের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকানো চারটি খণ্ডিত স্বর্ণবার উদ্ধার করা হয়। এসব স্বর্ণবারের মোট ওজন ৪৬৬ গ্রাম। ঘোষিত ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকারসহ সব মিলিয়ে ৫৬৬ গ্রাম স্বর্ণ আটক করা হয়। শুল্ক-করসহ উদ্ধার করা স্বর্ণের আনুমানিক মূল্য ৯৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে এনবিআর।
দুই যাত্রীর শরীরে ছয়টি স্বর্ণপেস্টের বস্তু
একই দিন সন্ধ্যায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক অভিযানে মালদ্বীপ থেকে আসা দুই যাত্রী মোহাম্মদ সোলাইমান ও জোবায়েদ আহমদের শরীরের অভ্যন্তরে লুকানো স্বর্ণপেস্টের বস্তু উদ্ধার করা হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দুই যাত্রীর প্রত্যেকের কাছ থেকে তিনটি করে মোট ছয়টি ডিম্বাকৃতির বস্তু পাওয়া যায়। উদ্ধার করা বস্তুগুলোর মোট প্রাথমিক ওজন ২ কেজি ৭৩৪ গ্রাম। এগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা। তবে এসব স্বর্ণপেস্টের বস্তুতে প্রকৃতপক্ষে কতটুকু বিশুদ্ধ স্বর্ণ রয়েছে, তা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে। পরীক্ষার ফলাফলের পরই স্বর্ণের পরিমাণ ও প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এক দিনে স্বর্ণ চোরাচালানের দুই কৌশল শনাক্ত
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, একই দিনে দেশের দুই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিচালিত অভিযানে স্বর্ণ চোরাচালানের দুটি ভিন্ন কৌশল সামনে এসেছে। চট্টগ্রামে রান্নাঘরের সরঞ্জামের ভেতরে স্বর্ণবার লুকিয়ে আনার চেষ্টা শনাক্ত হয়। অন্যদিকে, ঢাকায় যাত্রীদের শরীরের অভ্যন্তরে স্বর্ণপেস্টের বস্তু বহনের ঘটনা ধরা পড়ে। দুটি অভিযানে আটক স্বর্ণ ও স্বর্ণপেস্টের বস্তুর আনুমানিক মোট মূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। তবে ঢাকায় উদ্ধার করা স্বর্ণপেস্টের বিশুদ্ধ স্বর্ণের পরিমাণ ও প্রকৃত মূল্য পরীক্ষার পর নিশ্চিত হবে। এ ঘটনায় স্বর্ণের পরিমাণ, বহনের পদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের বিষয়ে তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।
কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]