খুঁজুন
                               
, ,
           

ফ্রান্সজুড়ে উত্তাল পরিস্থিতি, পদত্যাগপত্র দিয়েও দায়িত্বে থাকছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫২ অপরাহ্ণ
ফ্রান্সজুড়ে উত্তাল পরিস্থিতি, পদত্যাগপত্র দিয়েও দায়িত্বে থাকছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ, সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা স্বীকার করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ পদত্যাগের প্রস্তাব দিলেও তা গ্রহণ করেননি তিনি। বরং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নেতৃত্বে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সংকট মোকাবিলার নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে যেসব দুর্বলতা ছিল, সেগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নিতে বলেছেন তিনি।

পদত্যাগপত্র প্রত্যাখ্যান, দায়িত্বে থাকছেন নুনেজ
সোমবার (১৯ অক্টোবর) এলিসি প্রাসাদের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ রোববার, ১৮ অক্টোবর, প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন। তবে দেশের চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নেতৃত্ব অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেননি মাখোঁ।

ফ্রান্সের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকারের ওপর চাপ বাড়ছিল। এমন পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ গ্রহণ না করে তাঁকে দায়িত্বে বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। সরকারের এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে আপাতত নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান নেতৃত্বের ওপরই আস্থা রাখার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতা খতিয়ে দেখার নির্দেশ
বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পেছনে নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে যেসব ব্যর্থতা ছিল, সেগুলো সম্পর্কে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন মাখোঁ। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যপদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

সহিংসতা প্রতিরোধে আগাম প্রস্তুতি, গোয়েন্দা তথ্যের যথাযথ ব্যবহার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ের বিষয়গুলো এখন সরকারের সামনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় কোথায় দুর্বলতা ছিল, কীভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা ঠেকাতে কী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন—এসব বিষয় পর্যালোচনা করতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।

অক্টোবরের শুরু থেকে বিক্ষোভ, রাজপথে লাখো মানুষ
অক্টোবরের শুরু থেকে ফ্রান্সে বিক্ষোভ চলছে। শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া আন্দোলন পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে আন্দোলন ঘিরে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, শনিবার (১৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নেন। অন্যদিকে আন্দোলনের আয়োজকদের দাবি, ওই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৮ লাখ। অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা নিয়ে সরকারি হিসাব ও আয়োজকদের দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান থাকলেও উভয় হিসাবেই বিক্ষোভের ব্যাপকতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া আন্দোলন কীভাবে দেশজুড়ে বিস্তৃত হলো এবং এর সঙ্গে সহিংসতা কীভাবে যুক্ত হলো, তা নিয়ে ফ্রান্সের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিক্ষোভের ব্যাপকতা সরকারের জন্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্দোলন মোকাবিলার কৌশল নিয়েও নতুন প্রশ্ন সামনে এনেছে।

বিক্ষোভে গ্রেপ্তার প্রায় ২ হাজার ৪০০, আহত নিরাপত্তাকর্মী ৯৯৭
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ ও সংশ্লিষ্ট সহিংসতার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৩৯৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর ৯৯৭ সদস্য আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সাতজনের আঘাত গুরুতর বলে জানানো হয়েছে।

নিরাপত্তা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য আহত হওয়ার ঘটনা পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরছে। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ, ভাঙচুর এবং লুটপাটের মতো ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাহিনীগুলোকে ব্যাপক চাপের মুখে পড়তে হয়েছে।

গ্রেপ্তারের সংখ্যা ও নিরাপত্তাকর্মীদের হতাহতের হিসাব সামনে আসার পর সহিংসতার দায়ে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি প্রতিরোধের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সবাইকে সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের সঙ্গে এক করে দেখার বিরোধিতা করেছেন প্রেসিডেন্ট মাখোঁ।

বৈধ আন্দোলন ও ধ্বংসযজ্ঞে জড়িতদের আলাদা করে দেখার আহ্বান
রোববার, ১৮ অক্টোবর, টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ বলেন, আন্দোলনকারীদের বৈধ দাবি এবং ভাঙচুর, লুটপাট ও ধ্বংসযজ্ঞে জড়িত ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ডকে আলাদা করে দেখতে হবে। তাঁর বক্তব্যে আন্দোলনের পেছনে থাকা দাবিগুলো বিবেচনায় নেওয়ার পাশাপাশি সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের অবস্থান তুলে ধরা হয়।

মাখোঁ বলেন, যারা ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, তাদের শাস্তি পেতে হবে। নজিরবিহীন সহিংসতার কোনো অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ফ্রান্সের চলমান পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে বৈধ দাবি নিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, অন্যদিকে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের ঘটনায় জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনার ওপর জোর দিচ্ছে সরকার।

সংকট মোকাবিলায় সরকারের সামনে দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ
ফ্রান্সে চলমান বিক্ষোভ পরিস্থিতি সামাল দিতে এখন সরকারের সামনে দুটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথমত, সহিংসতা ও লুটপাট নিয়ন্ত্রণ করে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত, আন্দোলনকারীদের বৈধ দাবিগুলো বিবেচনায় নিয়ে পরিস্থিতি আরও অবনতির হাত থেকে রক্ষা করা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগপত্র প্রত্যাখ্যান করে মাখোঁ আপাতত বিদ্যমান নেতৃত্বের মাধ্যমে সংকট মোকাবিলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও গোয়েন্দা কার্যক্রমে ব্যর্থতার বিষয়গুলো চিহ্নিত করে কার্যকর পরিবর্তন আনা না গেলে সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।

এখন নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা শনাক্ত, সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিক্ষোভের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হয়, তার ওপরই পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথ অনেকাংশে নির্ভর করবে। সূত্র: শাফাক নিউজ

কালের আলো/এএএন/এসএ 

যাদের আত্মত্যাগে বিরোধী দলে, তাদের অনুষ্ঠানেই নেই: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৭ অপরাহ্ণ
যাদের আত্মত্যাগে বিরোধী দলে, তাদের অনুষ্ঠানেই নেই: প্রধানমন্ত্রী

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিরোধী দলের নেতারা আজ সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন উল্লেখ করে তাদের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, কেবল বিরোধিতা করার জন্য বিরোধিতা করতে গিয়ে স্বৈরাচারকে আবার ফিরে আসার পথ উন্মুক্ত করে দিলে তা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে গাদ্দারি হবে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে নির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের নেতাদের অনুপস্থিতি নিয়েও আক্ষেপ প্রকাশ করেন সরকারপ্রধান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘ইদানীং আমরা দেখতে পাচ্ছি, বিরোধী দল শুধু বিরোধিতা করার জন্যই বিরোধিতা করছে।’ তিনি বলেন, দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হলে পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। বিরোধী দল সরকারের সমালোচনা করবে, তবে তা হতে হবে গঠনমূলক।

তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা যদি সেই পুরোনো কালচারেই থেকে যাই, তাহলে দেশ সামনে এগোবে কীভাবে? বিরোধী দল অবশ্যই বিরোধিতা করবে কিন্তু সেটি গঠনমূলক হতে হবে। বিরোধিতা করতে গিয়ে আপনারা যদি স্বৈরাচারকে আবার আসার পথ উন্মুক্ত করে দেন তবে সেটি দেশের জন্য ভালো পরিণাম বয়ে আনবে না। সেটি যেমন জুলাইয়ের শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি হবে, একইভাবে ৭১-এর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গেও গাদ্দারি হবে।’

জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের নেতাদের অনুপস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, সরকারের পক্ষ থেকে বিরোধী দলের নেতাসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তারেক রহমান বলেন, ‘সরকারের সঙ্গে আপনাদের দূরত্ব থাকতে পারে, মঞ্চে না-ই বসলেন। কিন্তু যাদের আত্মত্যাগ আর আহত হওয়ার কারণে আজ আপনারা বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন, আপনারা যদি সত্যিই জুলাইকে ধারণ করেন তবে এসে শহীদ পরিবারের মানুষগুলোর সঙ্গে তো বসতে পারতেন। কিন্তু আপনাদের তো দেখা যাচ্ছে না।’

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে শহীদদের স্মরণে আয়োজিত কর্মসূচিতে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। তাঁর মতে, সরকারের সঙ্গে বিরোধী দলের মতপার্থক্য থাকলেও শহীদ পরিবারগুলোর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো একটি জাতীয় দায়িত্ব।

প্রধানমন্ত্রী জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জীবন দেওয়া শহীদদের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য এই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে। এতে ৮১৩ জন শহীদ জুলাইযোদ্ধার নাম সংরক্ষণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগ যেন জাতীয় জীবনে সব সময় স্মরণীয় হয়ে থাকে, সে লক্ষ্যেই স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মাণ করা হয়েছে। শহীদদের আত্মত্যাগের তাৎপর্য তুলে ধরতে গিয়ে তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্যকে একই সূত্রে দেখেন।

তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য ছিল এক ও অভিন্ন। উভয় সংগ্রামের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্রের স্বাদ নিয়ে বেঁচে থাকা, বাকস্বাধীনতা ও ভোটাধিকার নিশ্চিত করা। তিনি আরও বলেন, আগামী প্রজন্ম যেন সুশিক্ষা, চিকিৎসা ও নিরাপদ পরিবেশ পায় এবং তাদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়—এটিও শহীদদের আকাঙ্ক্ষার অংশ ছিল।

প্রধানমন্ত্রী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক হিসেবে উল্লেখ করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যেখানেই গণতন্ত্র, সেখানেই বিএনপি আছে।’ সরকার গঠনের পর থেকেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা এবং শহীদ পরিবারের কর্মসংস্থান ও অন্যান্য সহযোগিতার উদ্যোগ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, শহীদ ও আহতদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে শহীদদের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করতে হবে। সব বিষয়ে একমত হওয়া সম্ভব না হলেও জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য থাকা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষের স্বার্থ, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা, রাষ্ট্রের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং স্বাস্থ্য-শিক্ষার মতো মৌলিক বিষয়গুলোতে দ্বিমত পোষণ করার কোনো কারণ নেই।’

সংবিধান সংশোধন বা সংস্কার নিয়ে বিরোধী দলের ভিন্নমত থাকতে পারে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্যই জনগণ প্রতিনিধিদের সংসদে পাঠিয়েছে। সংসদে আলোচনা, যুক্তিতর্ক ও মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে এসব প্রশ্নের সমাধান হওয়া উচিত।

রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত না করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণ এখন স্থিতিশীলতা ও শান্তি চায়। দেশের অগ্রগতি এবং মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তনই এখন সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা। তারেক রহমানের ভাষ্য, জনগণ চায় আগামী দিনে তাদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব আরও সুদৃঢ় হোক। এ লক্ষ্য অর্জনে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ও সমঝোতার পরিবেশ প্রয়োজন।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

 

জনসংখ্যা কমছে চীনে, দ্রুত বাড়ছে প্রবীণের সংখ্যা—চাপে পেনশন ও অর্থনীতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৯ অপরাহ্ণ
জনসংখ্যা কমছে চীনে, দ্রুত বাড়ছে প্রবীণের সংখ্যা—চাপে পেনশন ও অর্থনীতি

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের জনসংখ্যা ২০৩৫ সালের মধ্যে ‘অতি-বয়স্ক’ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। তখন শহরটির মোট বাসিন্দার প্রায় এক-তৃতীয়াংশের বয়স হবে ৬০ বছর বা তার বেশি। এতে বয়স্ক নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা, পেনশন ব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম বেইজিং ডেইলির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

বেইজিংয়ে বাড়ছে প্রবীণ মানুষের সংখ্যা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ বেইজিংয়ে ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী স্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা ছিল ৫২ লাখ ৯০ হাজার। শহরটির মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশই এই বয়সসীমার অন্তর্ভুক্ত। বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে প্রবীণ মানুষের অনুপাত আরও বাড়বে। ২০৩৫ সালের মধ্যে শহরটি জনসংখ্যাগতভাবে ‘অতি-বয়স্ক’ সমাজে পরিণত হতে পারে। জনসংখ্যার বয়সভিত্তিক কাঠামোয় এই পরিবর্তন শুধু বেইজিংয়ের জন্য নয়, চীনের সামগ্রিক অর্থনীতি ও সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

বয়স্কদের সহায়তায় পেনশন বাড়ানোর উদ্যোগ
বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকায় তাঁদের আর্থিক ও সামাজিক সহায়তা জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে বেইজিংয়ের স্থানীয় সরকার। এর অংশ হিসেবে মৌলিক পেনশনের পরিমাণ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রবীণ নাগরিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দেওয়া এবং তাঁদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। তবে প্রবীণ মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকলে পেনশন ও অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে সরকারি ব্যয়ও বাড়বে। একই সময়ে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমে গেলে এসব ব্যয়ের অর্থায়ন আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

২০২২ সাল থেকে কমছে চীনের জনসংখ্যা
চীনের জনসংখ্যা ২০২২ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে কমছে। অন্যদিকে, দেশটিতে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। জন্মহার কমে যাওয়া এবং মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধির মতো জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের ফলে দেশটির বয়সভিত্তিক কাঠামোয় বড় ধরনের রূপান্তর ঘটছে। কর্মজীবন থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ অবসরে যাওয়ায় পেনশন ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে। একই সঙ্গে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর অনুপাত কমে গেলে উৎপাদন, শ্রমবাজার এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

ভোগব্যয় বাড়ানো ও সরকারি ঋণ নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ
চীনের অর্থনীতির জন্য আরেকটি বড় উদ্বেগ হলো অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয় বাড়ানো। বয়স্ক মানুষের অনুপাত বৃদ্ধি এবং জনসংখ্যা হ্রাসের কারণে ভবিষ্যতে ভোগব্যয়ের প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে যেতে পারে। এতে অর্থনীতিতে চাহিদা বাড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হতে পারে। একই সঙ্গে প্রবীণ নাগরিকদের পেনশন, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সামাজিক সহায়তায় ব্যয় বাড়লে সরকারি অর্থের ওপর চাপ সৃষ্টি হবে। ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা এবং সরকারি ঋণ নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা নীতিনির্ধারকদের জন্য আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

কম জন্মহারে বদলে যেতে পারে পারিবারিক কাঠামো
জনসংখ্যাবিদ ও অর্থনীতিবিদদের মতে, জন্মহার দীর্ঘদিন কম থাকলে ভবিষ্যতে পরিবারগুলোর আকার ছোট হয়ে আসতে পারে। এতে পরিবারের সদস্যসংখ্যা ও ব্যয়ের ধরন বদলে যাওয়ার পাশাপাশি সামগ্রিক ভোগব্যয়ের বৃদ্ধিও ধীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বেইজিংয়ের সম্ভাব্য ‘অতি-বয়স্ক’ জনসংখ্যার পরিস্থিতি তাই চীনের সামনে একটি দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ তুলে ধরছে। প্রবীণদের জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করা, পেনশন ব্যবস্থার স্থায়িত্ব বজায় রাখা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে দেশটিকে সামাজিক ও অর্থনৈতিক নীতিতে আরও কার্যকর সমন্বয় করতে হতে পারে। সূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/এএএন/এসএ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর পদত্যাগ করলেন ইশরাক হোসেন

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৭ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর পদত্যাগ করলেন ইশরাক হোসেন

রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে অস্ত্র হাতে দেখা যাওয়ার ঘটনা নিয়ে সমালোচনার মুখে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানান এই বিএনপি নেতা।

সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর নিয়ে কথা বলেন। একই সঙ্গে নিজের কারণে যেন প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের কর্মকাণ্ড ম্লান না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন বলেন, তিনি ঢাকা-৬ আসন থেকে জনগণের ভোটে নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্য। গত ১২ ফেব্রুয়ারি শপথ নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তাঁকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেন। এরপর থেকে তিনি সেই দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে ইশরাক বলেন, গত দুই দিন ধরে বিষয়টি নিয়ে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হচ্ছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতেই তিনি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

তিনি আরও জানান, সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে। সেখানে তিনি পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। ইশরাকের ভাষ্য, ‘আমার মাদকবিরোধী অভিযান চলমান থাকবে। আমার কারণে যেন আপনার এবং সরকারের কর্মকাণ্ড ম্লান না হয়।’ গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেললাইন-সংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন ইশরাক হোসেন। ওই অভিযানে তাঁর হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজনের হাতেও অস্ত্র দেখা যায় বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। জনপ্রতিনিধি ও সরকারের দায়িত্বশীল পদে থাকা একজন ব্যক্তির মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র বহনের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ঘটনাটির দুই দিন পর প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলেন ইশরাক। তবে অস্ত্র হাতে অভিযানে অংশ নেওয়ার ঘটনা নিয়ে তাঁর বক্তব্যের বিস্তারিত এবং এ বিষয়ে কোনো তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের তথ্য প্রদত্ত বিবরণে উল্লেখ করা হয়নি।

ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ নিয়ে রোববার রাত থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। তবে সে সময় তাঁর প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পদত্যাগের খবরকে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করা হয়েছিল।

এরপর সোমবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার কথা জানান ইশরাক। সেই ঘোষণা অনুযায়ী দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের সামনে নিজের সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরেন তিনি। পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার সময় ইশরাক হোসেন মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। তবে পদত্যাগের পর মাদকবিরোধী অভিযানে তিনি কীভাবে বা কোন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় যুক্ত থাকবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেননি তিনি।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি