কার্তিকেই কুয়াশার চাদরে মেহেরপুর, এবার কি শীতের তীব্রতা বাড়বে?
বাংলা বর্ষপঞ্জিতে শুরু হয়েছে কার্তিক মাস। ঋতুচক্র অনুযায়ী এখন হেমন্তকাল। প্রকৃতিতে ধীরে ধীরে বদল আসছে আবহাওয়ার। দিনের বেলায় তাপমাত্রা খুব একটা কম না হলেও রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে শীতলতা। শেষ রাতে কুয়াশা আর ভোরে ঘাস ও গাছের পাতায় জমে থাকা শিশির জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা।
শীতকাল আসতে এখনো প্রায় দুই মাস বাকি। তবে এরই মধ্যে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা মেহেরপুরে দেখা মিলেছে আগাম শীতের। গত এক সপ্তাহ ধরে সন্ধ্যার পর হালকা কুয়াশা পড়ছে, যা সকাল পর্যন্ত স্থায়ী হচ্ছে। ভোরে রাস্তার দুই পাশের ঘাস, গাছের পাতা ও ফসলে জমে থাকা শিশির চোখে পড়ছে। স্থানীয়দের অনেকে বলছেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার আগেভাগেই শীতের আবহ অনুভূত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে আসন্ন শীতের তীব্রতা নিয়ে তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে আগাম কুয়াশা দেখা দেওয়ার অর্থই যে এবার শীত বেশি পড়বে, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না।
মেহেরপুরে গত কয়েক দিন ধরে সন্ধ্যার পর থেকেই বাতাসে হালকা কুয়াশার উপস্থিতি টের পাওয়া যাচ্ছে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতলতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। রাতে বৈদ্যুতিক পাখা চালু রাখলেও গভীর রাতে তা বন্ধ করে দিতে হচ্ছে। বয়স্কদের অনেকে শরীরে জড়িয়ে নিচ্ছেন চাদর বা হালকা কাঁথা। ভোরে বাইরে বের হলে ঘাস, গাছের পাতা ও ফসলের ওপর জমে থাকা শিশির দেখা যাচ্ছে। সকাল ৮টা পর্যন্ত অনেক জায়গায় শিশিরের উপস্থিতি চোখে পড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
কার্তিক মাসের শুরুতেই আবহাওয়ার এমন পরিবর্তনকে শীতের আগমনী সংকেত হিসেবে দেখছেন তাঁরা। বিশেষ করে রাতের তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় ভোরে হাঁটতে বের হওয়া মানুষ ও সকালে মাঠে কাজে যাওয়া কৃষকদের মধ্যে শীতের অনুভূতি বাড়ছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গায় শীতের সময় তুলনামূলক বেশি ঠান্ডা অনুভূত হওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে স্থানীয়দের। এবার কার্তিকের শুরুতেই কুয়াশা ও শীতলতা দেখা দেওয়ায় আসন্ন শীত নিয়ে তাঁদের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে।

কুঞ্জনগর গ্রামের মজনুর রহমান বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার একটু আগেই শীতের আবহ এসেছে। তাঁর মতে, এটি আগামী দিনের জন্য আগাম সতর্কবার্তা হতে পারে। গত বছরও এই সময় শীত বা কুয়াশার তেমন উপস্থিতি ছিল না বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে শীতের মৌসুমে চুয়াডাঙ্গার পাশাপাশি মেহেরপুরেও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা অনুভূত হয়েছিল বলে জানান তিনি। গাংনী মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রমজান আলী জানান, তিনি প্রতিদিন ভোরে হাঁটতে বের হন। প্রতিদিনের সকালের আবহাওয়ার সঙ্গে পরিচিত হলেও গত কয়েক দিন ধরে তাঁর মনে হচ্ছে, এবার যেন সময়ের আগেই কুয়াশা দেখা দিয়েছে। এ কারণে চলতি শীতে ঠান্ডার তীব্রতা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
তবে স্থানীয়দের এই আশঙ্কা এখনো ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে করা। চলতি শীতে তাপমাত্রা কতটা কমবে বা শৈত্যপ্রবাহের পরিস্থিতি কেমন হবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী সময়ের আবহাওয়াগত অবস্থার ওপর। আবহাওয়ার পরিবর্তনের এই সময়ে শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. একরামুল হক জানান, মেহেরপুরে এবার আগাম শীতের আবহ দেখা যাচ্ছে। তাঁর ধারণা, এবার শীতের তীব্রতা বাড়তে পারে। তবে শীত পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগের এই সময়েও শিশু ও বয়স্করা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকতে পারেন।

তিনি বলেন, রাত যত গভীর হয়, আবহাওয়া তত ঠান্ডা হতে থাকে। তাই ঘুমানোর সময় ফুলহাতা জামা পরা বা শরীরে পাতলা চাদর জড়িয়ে নেওয়া উচিত। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ঠান্ডা থেকে সুরক্ষিত রাখতে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। আবহাওয়ার হঠাৎ পরিবর্তনে সর্দি-কাশি ও শ্বাসতন্ত্রের সমস্যাসহ বিভিন্ন অসুস্থতা দেখা দিতে পারে। তাই রাত ও ভোরে প্রয়োজন অনুযায়ী গরম পোশাক ব্যবহার, ঘুমানোর সময় শরীর ঢেকে রাখা এবং অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। হেমন্তে বর্ষার পানি ধীরে ধীরে কমতে থাকে খাল-বিল ও জলাশয়ে। প্রকৃতিতে আসে শুষ্কতার ছোঁয়া। দিনের আলোয় গরমের অনুভূতি থাকলেও রাত ও ভোরের আবহাওয়া ক্রমেই শীতল হয়ে ওঠে। মেহেরপুরে কুয়াশা ও শিশিরের উপস্থিতি সেই ঋতু পরিবর্তনেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]