খুঁজুন
                               
, ,
           

হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন ফিরেছে ৮০ শতাংশ, তবু কাটেনি বিশ্ববাজারের সংকট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০২ অপরাহ্ণ
হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন ফিরেছে ৮০ শতাংশ, তবু কাটেনি বিশ্ববাজারের সংকট

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যে পরিমাণ তেল পরিবহন হতো, তার প্রায় ৮০ শতাংশে ফিরে এসেছে সরবরাহ। বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে প্রতিদিন ১ কোটি ৩০ লাখ থেকে ১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট। তবে তেল পরিবহন বাড়লেও বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি। অপরিশোধিত তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা ও বিভিন্ন দেশে জমা থাকা মজুত সহায়ক ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে ডিজেলের সরবরাহ বাড়াতে ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে ওয়াশিংটন।

হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন বেড়েছে, ফিরেছে আগের মাত্রার ৮০ শতাংশ
সোমবার (১৯ অক্টোবর) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনের পরিমাণ যুদ্ধ শুরুর আগের পর্যায়ের প্রায় ৮০ শতাংশে পৌঁছেছে। বর্তমানে প্রতিদিন এ প্রণালি দিয়ে ১ কোটি ৩০ লাখ থেকে ১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হচ্ছে।

বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি। মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পরিবহনে এ নৌপথের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এখানে পরিবহন ব্যাহত হলে তার প্রভাব পড়ে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ, মূল্য এবং জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতিতে।

যুদ্ধের কারণে এ পথে তেল পরিবহনে বিঘ্ন তৈরি হলেও সরবরাহ আগের মাত্রার কাছাকাছি ফিরে আসার বিষয়টি বিশ্ববাজারের জন্য ইতিবাচক সংকেত। তবে পরিবহন এখনো যুদ্ধ-পূর্ব পর্যায়ে পৌঁছায়নি। ফলে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

অতিরিক্ত উৎপাদন ও মজুতে সামাল দেওয়া হচ্ছে তেলের সংকট
সাক্ষাৎকারে ক্রিস রাইট বলেন, সরবরাহে বাধা থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা এবং বিভিন্ন দেশের বড় জ্বালানি মজুতের কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের সংকট নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ কমে গেলে সাধারণত দাম বাড়ার চাপ তৈরি হয়। এ পরিস্থিতিতে উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ এবং মজুত থেকে তেল সরবরাহ করার সক্ষমতা বাজারের ঘাটতি সামাল দিতে সহায়তা করে। হরমুজ প্রণালিতে পরিবহন বিঘ্নিত হওয়ার প্রভাব মোকাবিলায় এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী।

তবে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হলেও সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হয়নি বলে সতর্ক করেছেন তিনি। অর্থাৎ, বর্তমান পরিস্থিতিতে তেলের সরবরাহ কিছুটা পুনরুদ্ধার হলেও যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা এখনো আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের জন্য উদ্বেগের কারণ।

ডিজেলের মজুত বাজারে ছাড়তে ইউরোপের সঙ্গে আলোচনা
অপরিশোধিত তেলের পাশাপাশি ডিজেলের সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। ক্রিস রাইট জানান, বড় পরিমাণ ডিজেল মজুত বাজারে ছাড়ার বিষয়ে ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছে ওয়াশিংটন। তবে এ বিষয়ে অগ্রগতি হচ্ছে ধীরগতিতে।

ডিজেল পরিবহন, পণ্য সরবরাহ, কৃষিকাজ এবং শিল্প উৎপাদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়। ফলে এ জ্বালানির সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হলে শুধু পরিবহন ব্যয়ই নয়, পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থার ওপরও চাপ বাড়তে পারে।

এ অবস্থায় মজুত থেকে ডিজেল বাজারে ছাড়ার উদ্যোগ সরবরাহ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। তবে ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনায় ধীরগতির কারণে এ উদ্যোগের বাস্তব অগ্রগতি ও বাজারে এর প্রভাব এখনো অনিশ্চিত।

রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করল যুক্তরাষ্ট্র
জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে চলতি অক্টোবরের শুরুতে রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে সম্মত হয় যুক্তরাষ্ট্র। এর আওতায় বিশ্ববাজারে ৩ লাখ মেট্রিক টনের বেশি ডিজেল সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মস্কো।

ক্রিস রাইট স্পষ্ট করেছেন, রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত শুধু ডিজেল রপ্তানির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। অর্থাৎ, এ সিদ্ধান্তকে রাশিয়ার জ্বালানি খাতের ওপর আরোপিত সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পদক্ষেপ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ বাড়াতে রাশিয়ার এই প্রতিশ্রুতি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে ঘোষিত পরিমাণের জ্বালানি কখন এবং কীভাবে বাজারে পৌঁছাবে, তার ওপরই সরবরাহ পরিস্থিতিতে উদ্যোগটির প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে।

জ্বালানির দাম কমানোই ট্রাম্পের উদ্যোগের লক্ষ্য
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানি নিয়ে নেওয়া উদ্যোগের উদ্দেশ্য যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি জ্বালানি সরবরাহ করা নয়। বরং আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের সরবরাহ বাড়িয়ে জ্বালানির দাম কমানোই এর মূল লক্ষ্য।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ বাড়লে দাম বৃদ্ধির চাপ কমতে পারে। বিশেষ করে যুদ্ধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে পরিবহন ব্যাহত হলে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সরবরাহের সুযোগ বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করতে পারে। তবে সরবরাহ বৃদ্ধি কতটা দ্রুত হবে এবং তা আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটি নির্ভর করবে উৎপাদন, পরিবহন ও চাহিদার সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর।

বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি
হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন যুদ্ধ-পূর্ব পর্যায়ের প্রায় ৮০ শতাংশে ফিরে আসা এবং রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ বিশ্ববাজারে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। কিন্তু অপরিশোধিত তেল ও ডিজেলের সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় জ্বালানি বাজারের ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে।

একদিকে হরমুজ প্রণালিতে পরিবহন পরিস্থিতি, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে মজুত ব্যবস্থাপনা এবং রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞার পরিধি—সবকিছুই জ্বালানির ভবিষ্যৎ দাম নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে। তাই সরবরাহ বাড়ার ইতিবাচক খবর এলেও বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ও স্থিতিশীলতা নিয়ে এখনই নিশ্চিন্ত হওয়ার সুযোগ নেই। সূত্র: শাফাক নিউজ

কালের আলো/এএইচ/এসএ

জনসংখ্যা কমছে চীনে, দ্রুত বাড়ছে প্রবীণের সংখ্যা—চাপে পেনশন ও অর্থনীতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৯ অপরাহ্ণ
জনসংখ্যা কমছে চীনে, দ্রুত বাড়ছে প্রবীণের সংখ্যা—চাপে পেনশন ও অর্থনীতি

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের জনসংখ্যা ২০৩৫ সালের মধ্যে ‘অতি-বয়স্ক’ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। তখন শহরটির মোট বাসিন্দার প্রায় এক-তৃতীয়াংশের বয়স হবে ৬০ বছর বা তার বেশি। এতে বয়স্ক নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা, পেনশন ব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম বেইজিং ডেইলির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

বেইজিংয়ে বাড়ছে প্রবীণ মানুষের সংখ্যা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ বেইজিংয়ে ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী স্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা ছিল ৫২ লাখ ৯০ হাজার। শহরটির মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশই এই বয়সসীমার অন্তর্ভুক্ত। বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে প্রবীণ মানুষের অনুপাত আরও বাড়বে। ২০৩৫ সালের মধ্যে শহরটি জনসংখ্যাগতভাবে ‘অতি-বয়স্ক’ সমাজে পরিণত হতে পারে। জনসংখ্যার বয়সভিত্তিক কাঠামোয় এই পরিবর্তন শুধু বেইজিংয়ের জন্য নয়, চীনের সামগ্রিক অর্থনীতি ও সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

বয়স্কদের সহায়তায় পেনশন বাড়ানোর উদ্যোগ
বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকায় তাঁদের আর্থিক ও সামাজিক সহায়তা জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে বেইজিংয়ের স্থানীয় সরকার। এর অংশ হিসেবে মৌলিক পেনশনের পরিমাণ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রবীণ নাগরিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দেওয়া এবং তাঁদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। তবে প্রবীণ মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকলে পেনশন ও অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে সরকারি ব্যয়ও বাড়বে। একই সময়ে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমে গেলে এসব ব্যয়ের অর্থায়ন আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

২০২২ সাল থেকে কমছে চীনের জনসংখ্যা
চীনের জনসংখ্যা ২০২২ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে কমছে। অন্যদিকে, দেশটিতে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। জন্মহার কমে যাওয়া এবং মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধির মতো জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের ফলে দেশটির বয়সভিত্তিক কাঠামোয় বড় ধরনের রূপান্তর ঘটছে। কর্মজীবন থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ অবসরে যাওয়ায় পেনশন ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে। একই সঙ্গে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর অনুপাত কমে গেলে উৎপাদন, শ্রমবাজার এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

ভোগব্যয় বাড়ানো ও সরকারি ঋণ নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ
চীনের অর্থনীতির জন্য আরেকটি বড় উদ্বেগ হলো অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয় বাড়ানো। বয়স্ক মানুষের অনুপাত বৃদ্ধি এবং জনসংখ্যা হ্রাসের কারণে ভবিষ্যতে ভোগব্যয়ের প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে যেতে পারে। এতে অর্থনীতিতে চাহিদা বাড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হতে পারে। একই সঙ্গে প্রবীণ নাগরিকদের পেনশন, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সামাজিক সহায়তায় ব্যয় বাড়লে সরকারি অর্থের ওপর চাপ সৃষ্টি হবে। ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা এবং সরকারি ঋণ নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা নীতিনির্ধারকদের জন্য আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

কম জন্মহারে বদলে যেতে পারে পারিবারিক কাঠামো
জনসংখ্যাবিদ ও অর্থনীতিবিদদের মতে, জন্মহার দীর্ঘদিন কম থাকলে ভবিষ্যতে পরিবারগুলোর আকার ছোট হয়ে আসতে পারে। এতে পরিবারের সদস্যসংখ্যা ও ব্যয়ের ধরন বদলে যাওয়ার পাশাপাশি সামগ্রিক ভোগব্যয়ের বৃদ্ধিও ধীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বেইজিংয়ের সম্ভাব্য ‘অতি-বয়স্ক’ জনসংখ্যার পরিস্থিতি তাই চীনের সামনে একটি দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ তুলে ধরছে। প্রবীণদের জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করা, পেনশন ব্যবস্থার স্থায়িত্ব বজায় রাখা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে দেশটিকে সামাজিক ও অর্থনৈতিক নীতিতে আরও কার্যকর সমন্বয় করতে হতে পারে। সূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/এএএন/এসএ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর পদত্যাগ করলেন ইশরাক হোসেন

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৭ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর পদত্যাগ করলেন ইশরাক হোসেন

রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে অস্ত্র হাতে দেখা যাওয়ার ঘটনা নিয়ে সমালোচনার মুখে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানান এই বিএনপি নেতা।

সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর নিয়ে কথা বলেন। একই সঙ্গে নিজের কারণে যেন প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের কর্মকাণ্ড ম্লান না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন বলেন, তিনি ঢাকা-৬ আসন থেকে জনগণের ভোটে নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্য। গত ১২ ফেব্রুয়ারি শপথ নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তাঁকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেন। এরপর থেকে তিনি সেই দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে ইশরাক বলেন, গত দুই দিন ধরে বিষয়টি নিয়ে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হচ্ছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতেই তিনি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

তিনি আরও জানান, সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে। সেখানে তিনি পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। ইশরাকের ভাষ্য, ‘আমার মাদকবিরোধী অভিযান চলমান থাকবে। আমার কারণে যেন আপনার এবং সরকারের কর্মকাণ্ড ম্লান না হয়।’ গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেললাইন-সংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন ইশরাক হোসেন। ওই অভিযানে তাঁর হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজনের হাতেও অস্ত্র দেখা যায় বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। জনপ্রতিনিধি ও সরকারের দায়িত্বশীল পদে থাকা একজন ব্যক্তির মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র বহনের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ঘটনাটির দুই দিন পর প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলেন ইশরাক। তবে অস্ত্র হাতে অভিযানে অংশ নেওয়ার ঘটনা নিয়ে তাঁর বক্তব্যের বিস্তারিত এবং এ বিষয়ে কোনো তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের তথ্য প্রদত্ত বিবরণে উল্লেখ করা হয়নি।

ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ নিয়ে রোববার রাত থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। তবে সে সময় তাঁর প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পদত্যাগের খবরকে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করা হয়েছিল।

এরপর সোমবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার কথা জানান ইশরাক। সেই ঘোষণা অনুযায়ী দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের সামনে নিজের সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরেন তিনি। পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার সময় ইশরাক হোসেন মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। তবে পদত্যাগের পর মাদকবিরোধী অভিযানে তিনি কীভাবে বা কোন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় যুক্ত থাকবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেননি তিনি।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

 

আড়াল থেকে কি ফের সংগঠিত হচ্ছেন নাথান বম?

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৩ অপরাহ্ণ
আড়াল থেকে কি ফের সংগঠিত হচ্ছেন নাথান বম?

দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) প্রধান নাথান বমকে ঘিরে আবারও বাড়ছে আলোচনা। সংগঠনটির ইউনিফর্ম তৈরির কাজে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। একই সময়ে পার্বত্য অঞ্চলে কেএনএফের তৎপরতা বাড়ার তথ্য পাওয়ায় নতুন করে সতর্ক হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নাথান বম দেশের বাইরে অবস্থান করেও সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন কি না, অর্থের জোগান সচল করার চেষ্টা চলছে কি না এবং এর পেছনে অন্য কোনো পক্ষের ভূমিকা রয়েছে কি না—এসব প্রশ্ন এখন তদন্তের কেন্দ্রে।

  • পার্বত্য অঞ্চলে কেএনএফের তৎপরতা বাড়ার তথ্য
  • নতুন করে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টার অভিযোগ
  • সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ ও তৃতীয় পক্ষের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী

গত ৮ অক্টোবর নাথান বমসহ নয়জনের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করে সিআইডি। মামলার এজাহার অনুযায়ী, কেএনএফের ৪০ হাজার সেট চার রঙের ক্যামোফ্লেজ ইউনিফর্ম তৈরির কাপড় ও সেলাইয়ের কাজে প্রায় ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। মামলায় নাথান বমকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। তদন্তকারীরা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণ করে অর্থের উৎস, ব্যবহার এবং সম্ভাব্য যোগসাজশের তথ্য অনুসন্ধান করছেন।

পোশাক তৈরির সূত্র ধরে আর্থিক তদন্ত
কেএনএফের ইউনিফর্ম তৈরির বিষয়টি সামনে আসে ২০২৫ সালের ১৮ মে। ওই রাতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি বিশেষ দল বায়েজিদ বোস্তামী থানার মোজাফফরনগর আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে পোশাক তৈরির কাজে জড়িত একজনকে আটক করে। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হালিশহরের ছোটপুল এলাকার দুটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে আরও দুজনকে আটক করা হয়।

পরবর্তী সময়ে তাঁদের দেওয়া তথ্য যাচাই করে বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার একটি গোডাউন ও একটি পোশাক কারখানা থেকে ২০ হাজার ৩০০ সেট চার রঙের ক্যামোফ্লেজ ইউনিফর্ম উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে গোডাউন থেকে ১১ হাজার ২০০ সেট এবং কারখানা থেকে ৯ হাজার ১০০ সেট পোশাক জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কর্মকাণ্ড অনুসন্ধানে নামে সিআইডি।

এজাহারে বলা হয়েছে, ব্যাংক হিসাব, চেক, নগদ অর্থ প্রদান, ক্রয়াদেশ, ব্যবসায়িক পরিচয় এবং পারস্পরিক যোগাযোগ বিশ্লেষণ করে লেনদেনের যোগসূত্র খোঁজা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন মংহলাসিন মারমা ওরফে মং, নিয়াজ হায়দার, গোলাম আজম, সাহেদুল ইসলাম, মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, জামালুল ইসলাম, মতিউর রহমান ও তৌহিদুল ইসলাম।

মিজোরামে অবস্থান, যোগাযোগ নিয়ে সন্দেহ
পুলিশ সূত্রের দাবি, নাথান বম বর্তমানে ভারতের মিজোরাম রাজ্যের আইজলে অবস্থান করছেন। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে তিনি আত্মগোপনে যান। প্রথমে মিয়ানমারের মংডুতে অবস্থান করলেও পরে মিজোরামে চলে যান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। সেখানে তাঁর উপদেষ্টা পিংলিয়ান জুং বমও রয়েছেন বলে জানা গেছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আশঙ্কা, দেশের বাইরে থেকেও নাথান বম কেএনএফের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে পারেন। সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা, সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় কিংবা অর্থ সংগ্রহের ক্ষেত্রে তাঁর কোনো ভূমিকা রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।

বান্দরবানের রুমা উপজেলার ইডেনপাড়ার বাসিন্দা নাথান বম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে ২০০৮ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। একই বছর তিনি কুকি-চিন ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন নামে একটি উন্নয়ন সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। পরে কেএনএফের নেতৃত্বে আসেন। ২০১৮ সালে বান্দরবান আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও অংশ নেন তিনি। ২০২২ সালের মে মাস থেকে কেএনএফের কর্মকাণ্ড প্রকাশ্যে আসতে শুরু করলে সংগঠনটিকে ঘিরে নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ে।

পাহাড়ে নজরদারি, অর্থের উৎস নিয়ে উদ্বেগ
পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সূত্রের দাবি, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির প্রত্যন্ত এলাকায় কেএনএফের তৎপরতা নিয়ে সম্প্রতি নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। এ কারণে সংগঠনটি যেন নতুন করে সংগঠিত হতে না পারে, সে জন্য নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বান্দরবানের রুমা উপজেলায়।

সংগঠনটির অর্থ সংগ্রহের সম্ভাব্য পথ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। পুলিশের দাবি, অতীতে বিভিন্ন এনজিও ও সমর্থক গোষ্ঠীর কাছ থেকে রসিদের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে আবারও অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে বলে তথ্য পেয়েছে তারা।

ইন্টারপোলের রেড নোটিসের উদ্যোগ
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নাথান বমকে গ্রেপ্তারে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহায়তা নেওয়ার উদ্যোগ আগে থেকেই ছিল। নতুন করে তাঁকে ঘিরে আলোচনা শুরু হওয়ায় রেড নোটিস জারির বিষয়টি আবার বিবেচনা করা হচ্ছে।বান্দরবানের পুলিশ সুপার ওহাবুল ইসলাম খন্দকার জানিয়েছেন, কেএনএফের বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। সংগঠনটির মুখপাত্র লালজানের বম এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

কালের আলো/আরআই/এমকে