খুঁজুন
                               
, ,
           

চোটে লিটন দাসের অনিশ্চয়তা বাড়ল ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে

ক্রীড়া প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৮ অপরাহ্ণ
চোটে লিটন দাসের অনিশ্চয়তা বাড়ল ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে

ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরুর আগেই চোটের সমস্যায় পড়েছিলেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক লিটন দাস। সেই চোটের কারণে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে খেলতে পারেননি তিনি। এবার চলমান সিরিজে কোনো ম্যাচ না খেলেই দেশে ফিরেছেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার। তবে প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যে স্বস্তির ইঙ্গিত মিলেছে। লিটনের চোট গুরুতর নয় বলে জানা গেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আসন্ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ দিয়ে মাঠে ফিরতে পারেন তিনি। তবে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ঢাকা টেস্টে তাঁকে বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে।

চিকিৎসকের শরণাপন্ন লিটন
ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরুর আগে থেকেই চোটের সমস্যায় ভুগছিলেন লিটন দাস। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে তাঁর পরিবর্তে টস করতে নামেন তাওহিদ হৃদয়। সেদিনই লিটনের চোটের কারণে ছিটকে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ফিজিও বায়েজিদুল ইসলাম খান।

চোটের কারণে সিরিজে কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ না পেয়েই দেশে ফিরে আসেন লিটন। দেশে ফেরার পর আজ বিসিবির চিকিৎসকের কাছেও গেছেন তিনি। প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁর চোট তেমন গুরুতর নয়। ফলে দ্রুত সুস্থ হয়ে মাঠে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের। তবে চোটের প্রকৃতি, পুনর্বাসন এবং শারীরিক অবস্থার ওপরই নির্ভর করবে তাঁর মাঠে ফেরার সময়। তাই পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে নিয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে পারে টিম ম্যানেজমেন্ট।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে ফেরার সম্ভাবনা
লিটনের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দ্রুত চোট কাটিয়ে ওঠা। সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে আসন্ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে তাঁকে আবারও মাঠে দেখা যেতে পারে। তবে ঢাকা টেস্টে তাঁকে খেলানো হবে কি না, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।

চোট থেকে ফেরার পরপরই আন্তর্জাতিক ম্যাচে নামানোর পরিবর্তে তাঁকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে টিম ম্যানেজমেন্ট। বিশেষ করে সামনে গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট সিরিজ থাকায় লিটনের ফিটনেস নিয়ে কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে চাইবে না দল। সে ক্ষেত্রে ঢাকা টেস্টে বিশ্রামে থেকে পরবর্তী ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন তিনি।

লিটন বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। উইকেটকিপিংয়ের পাশাপাশি ব্যাট হাতেও দলের জন্য বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। ফলে তাঁর অনুপস্থিতি দলের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে তাঁর চোট গুরুতর না হওয়ার প্রাথমিক খবর বাংলাদেশ দলের জন্য স্বস্তিদায়ক।

লিটনের বদলি হিসেবে দলে পারভেজ ইমন
লিটন দাস ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে ছিটকে যাওয়ায় তাঁর বদলি হিসেবে দলে ডাক পেয়েছেন পারভেজ হোসেন ইমন। ইতোমধ্যে দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন এই ক্রিকেটার। লিটনের অনুপস্থিতিতে তাঁকে ঘিরে দলের বিকল্প পরিকল্পনা সাজানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের সামনে প্রতিটি ম্যাচেই নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ রয়েছে। সে কারণে লিটনের অনুপস্থিতিতে ব্যাটিং বিভাগে ভারসাম্য ধরে রাখা টিম ম্যানেজমেন্টের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নতুন করে দলে সুযোগ পাওয়া পারভেজ ইমন সেই জায়গায় কতটা অবদান রাখতে পারেন, সেটিও নজরে থাকবে।

২৮ অক্টোবর শুরু ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট
এদিকে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে ইতোমধ্যে ঢাকায় পৌঁছেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল। আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ এই সিরিজ শুরু হবে আগামী ২৮ অক্টোবর।

প্রথম টেস্টের আগে ২২ অক্টোবর তিন দিনের একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে সফরকারী দল। এরপর ঢাকার শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে প্রথম টেস্ট। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট মাঠে গড়াবে ৫ নভেম্বর সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।

এই সিরিজকে সামনে রেখে দুই দলই নিজেদের প্রস্তুতি ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবে। বাংলাদেশের জন্য ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজটি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় দলের অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের ফিটনেস বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। লিটন দাসের চোটের পরিস্থিতি তাই নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্টের জন্য বাড়তি বিবেচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

সব মিলিয়ে লিটনের চোট গুরুতর না হওয়ার প্রাথমিক খবর স্বস্তি দিলেও তিনি ঠিক কবে মাঠে ফিরবেন, তা নির্ভর করবে তাঁর সুস্থ হয়ে ওঠার ওপর। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের আগে তাঁর ফিটনেস নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই এখন দেখার বিষয়।

কালের আলো/জেএন/এসএ

মেধার লড়াইয়ে টাকার দাপট প্রশ্নবিদ্ধ সরকারি নিয়োগব্যবস্থা

চাকরি ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৩ অপরাহ্ণ
মেধার লড়াইয়ে টাকার দাপট প্রশ্নবিদ্ধ সরকারি নিয়োগব্যবস্থা

সরকারি চাকরি বাংলাদেশের লাখো তরুণ-তরুণীর কাছে শুধু একটি পেশা নয়, বরং আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা অর্জনের স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন পূরণে বছরের পর বছর পড়াশোনা, কোচিং, বই কেনা এবং যাতায়াতের পেছনে অর্থ ব্যয় করেন চাকরিপ্রার্থীরা। কিন্তু নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, অর্থের বিনিময়ে উত্তর সরবরাহ এবং পরীক্ষাকেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ সেই স্বপ্নকে বারবার অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা সরকারি নিয়োগব্যবস্থার নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

গত ১০ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ২৪২টি শূন্যপদের বিপরীতে আবেদন করেছিলেন ৩ লাখ ১৮ হাজার ৯৭৬ জন চাকরিপ্রার্থী। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অনেকেই পরীক্ষায় অংশ নিতে ঢাকায় এসেছিলেন। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্রের ছবি ছড়িয়ে পড়ার খবর সামনে আসে। পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে সকাল ১০টা ৩ মিনিটে মাত্র দুই মিনিটের নোটিশে পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দেয় কর্তৃপক্ষ। পরে বিশেষ নজরদারিতে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হলেও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং এর পেছনে সক্রিয় চক্রের তথ্য নিয়োগব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে চক্রের সন্ধান
ঘটনার তদন্তে নেমে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অর্থের বিনিময়ে পরীক্ষার্থীদের কাছে উত্তর পৌঁছে দেওয়ার একটি চক্রের তথ্য পায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষার দিন ভোর ৪টা ৪৩ মিনিটে নূর মোহাম্মদ নামের এক ব্যক্তির কাছে প্রশ্নপত্রের অস্পষ্ট ছবি পৌঁছায়। পরে সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে জাহাঙ্গীর নামের আরেক ব্যক্তির কাছে প্রশ্নপত্রের স্পষ্ট ছবি পৌঁছানোর তথ্য পাওয়া যায়। উত্তর প্রস্তুত করে পরীক্ষার্থীদের কাছে সরবরাহের জন্য চক্রটি ভুয়া হোয়াটসঅ্যাপ আইডি ব্যবহার করত বলেও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, তৃতীয় শ্রেণির চাকরির জন্য ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা এবং দ্বিতীয় শ্রেণির পদের জন্য ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছিল। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সাতজনের মধ্যে পাঁচজনই বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মচারী বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করা জরুরি। কারণ, সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভেতরের কেউ জড়িত থাকলে শুধু পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নয়, পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়ার ওপরই আস্থার সংকট তৈরি হয়।

প্রশ্ন ফাঁসের বাইরেও আলোচনায় ‘কেন্দ্র-কন্ট্র্যাক্ট’
সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ শুধু প্রশ্নপত্র আগাম ছড়িয়ে পড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পরীক্ষাকেন্দ্রে নির্দিষ্ট প্রার্থীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া, বাইরে থেকে ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে উত্তর পাঠানো এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের যোগসাজশে কারচুপির অভিযোগও সামনে আসছে। এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে ‘কেন্দ্র-কন্ট্র্যাক্ট’ শব্দটি আলোচনায় এসেছে।

অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতরে অসাধু ব্যক্তিদের সহায়তায় নির্দিষ্ট প্রার্থীদের সুবিধা দেওয়া হয়। বাইরে থেকে সমাধান পাঠানো কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নীরব সমর্থনের অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের প্রতিটি ঘটনা আলাদাভাবে তদন্ত করে প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

সম্প্রতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগপ্রক্রিয়া ঘিরেও অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষার পর ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করা হয়। তবে নীলফামারীর একটি কেন্দ্রে পরীক্ষা চলাকালে বাইরে থেকে উত্তর সরবরাহ এবং নির্দিষ্ট কক্ষে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। প্রার্থীরা তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানালেও অভিযোগের বিষয়ে দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চাকরিপ্রার্থীদের ক্ষোভ ও হতাশা
সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নিতে গিয়ে অনেক প্রার্থীকে দীর্ঘদিন পড়াশোনা করতে হয়। তাঁদের কেউ কেউ পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতা সামলে বই, কোচিং ও যাতায়াতের খরচ জোগান। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তাঁদের মধ্যে হতাশা ও অবিশ্বাস তৈরি করে।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইশরাত জাহান ইরা প্রথম আলোকে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, দূরদূরান্ত থেকে কষ্ট করে পরীক্ষাকেন্দ্রে আসা প্রার্থীরা প্রশ্নপত্র ফাঁস বা উত্তরপত্রে কারসাজির খবর শুনলে ভেঙে পড়েন। তাঁর মতে, দীর্ঘদিনের প্রস্তুতির পর মেধার বদলে অর্থের প্রভাব কাজ করছে—এমন ধারণা তৈরি হলে পুরো নিয়োগব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি শুধু পরীক্ষা বাতিলের মতো সাময়িক পদক্ষেপ নয়, বরং প্রশ্ন বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং অর্থের বিনিময়ে সুবিধা নেওয়া প্রার্থীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

পরীক্ষা কমিটির সততা ও দক্ষতা কেন গুরুত্বপূর্ণ
নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের পেছনে ব্যক্তিগত দুর্নীতির পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতাও ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। পরীক্ষা পরিচালনা, প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা রক্ষা, উত্তরপত্র মূল্যায়ন এবং ফলাফল প্রকাশ—প্রতিটি ধাপে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সততা ও দক্ষতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান প্রথম আলোকে বলেন, রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় এলে বিভিন্ন দপ্তরের পরীক্ষা কমিটির দায়িত্ব বণ্টনে রাজনৈতিক বিবেচনা প্রভাব ফেলতে পারে। অথচ পরীক্ষা কমিটিতে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সততা ও দক্ষতাই হওয়া উচিত প্রধান যোগ্যতা।

নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে কি না, তা অনেকাংশে পরীক্ষা কমিটির ওপর নির্ভর করে। কমিটির একজন সদস্যও অসৎ হলে পুরো পরীক্ষার স্বচ্ছতা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাঁর বক্তব্যে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় দায়িত্ব বণ্টন, তদারকি এবং জবাবদিহির গুরুত্ব উঠে এসেছে। নিয়োগ পরীক্ষার প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের যোগ্যতার পাশাপাশি তাঁদের কর্মকাণ্ডের কার্যকর নজরদারিও প্রয়োজন।

আবেদ আলীর ঘটনা ও বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা
সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগের আলোচনায় পিএসসির সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলীর ঘটনাও উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিএসসির একটি নিয়োগ পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর কাছে লিখিত উত্তরপত্র পাওয়ার ঘটনায় ২০১৪ সালে মামলা হয়। পুলিশের তদন্তে আবেদ আলী ও তাঁর সহযোগীদের সম্পৃক্ততার তথ্য উঠে আসে।

২০১৫ সালে বিচারকাজ শুরুর আদেশ দেওয়া হলেও পরবর্তী ১০ বছরে ১২ জন সাক্ষীর মধ্যে মাত্র দুজনকে আদালতে হাজির করতে পেরেছে প্রসিকিউশন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই দীর্ঘসূত্রতা প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধের বিচার এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ রেলওয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে আবেদ আলী, তাঁর ছেলে এবং পিএসসির একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। দীর্ঘ তদন্তের পর ৫৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, অপরাধের অভিযোগের নিষ্পত্তি দীর্ঘায়িত হলে অপরাধীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

নিয়োগব্যবস্থায় আস্থা ফেরাতে কী প্রয়োজন
সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ মোকাবিলায় শুধু পরীক্ষা স্থগিত বা কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করাই যথেষ্ট নয়। প্রশ্নপত্র ফাঁসের উৎস শনাক্ত করা, এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা তদন্ত করা এবং অর্থের বিনিময়ে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি প্রশ্নপত্র তৈরি ও সংরক্ষণ, ছাপানো, পরিবহন, পরীক্ষাকেন্দ্রে বিতরণ, উত্তরপত্র মূল্যায়ন এবং ফলাফল প্রকাশের প্রতিটি ধাপে নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। পরীক্ষাকেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা এবং স্বাধীন তদন্তের সুযোগও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়োগপ্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং অসাধু সুবিধাভোগী—যে পক্ষের বিরুদ্ধেই অভিযোগ উঠুক, তদন্তের মাধ্যমে দায় নির্ধারণ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা মামলাগুলোর বিচার দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ প্রয়োজন। সরকারি চাকরির নিয়োগব্যবস্থার মূল ভিত্তি হওয়া উচিত যোগ্যতা, মেধা ও সমান সুযোগ। সেই ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়লে ক্ষতিগ্রস্ত হন শুধু চাকরিপ্রার্থীরা নন; সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাও কমে যায়। তাই প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নিয়োগে কারসাজির অভিযোগের কার্যকর তদন্ত, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করাই হতে পারে আস্থা ফেরানোর প্রথম পদক্ষেপ।

কালের আলো/এমএসআইপি/এসএ

পূজার ছুটিতে মেট্রোরেলের নতুন সূচি, শুক্রবার চলবে বিকেল থেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
পূজার ছুটিতে মেট্রোরেলের নতুন সূচি, শুক্রবার চলবে বিকেল থেকে

শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটিতে বিশেষ সময়সূচিতে চলবে রাজধানীর মেট্রোরেল। আগামী ২০, ২১, ২২ ও ২৪ অক্টোবর স্বাভাবিক সময়সূচির আদলে ট্রেন চলাচল করলেও ২৩ অক্টোবর শুক্রবার মেট্রোরেল চলবে বিকেল থেকে। ছুটির দিনগুলোতে যাত্রীচাহিদা বিবেচনায় ট্রেন চলাচলের বিরতি ১০ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে সমন্বয় করা হবে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) অপারেশন বিভাগের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, নির্ধারিত চার দিনে উত্তরা উত্তর থেকে মতিঝিলগামী প্রথম ট্রেন ছাড়বে সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে। অন্যদিকে মতিঝিল থেকে উত্তরা উত্তরগামী প্রথম ট্রেন ছাড়বে সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে।

ডিএমটিসিএলের সূচি অনুযায়ী, ২০, ২১, ২২ ও ২৪ অক্টোবর দুই দিক মিলিয়ে মোট ১৭১টি ট্রিপ পরিচালনা করা হবে। দিনের বেশির ভাগ সময় ১০ থেকে ১২ মিনিট পরপর ট্রেন চলাচল করবে। তবে রাতে যাত্রীচাহিদা অনুযায়ী ট্রেন চলাচলের বিরতি বাড়িয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট করা হবে। দুর্গাপূজার ছুটিতে যাত্রীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে এই সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে যাত্রীচাপের ওপর ভিত্তি করে ট্রেন চলাচলের বিরতি প্রয়োজন অনুযায়ী সমন্বয় করা হবে।

২৩ অক্টোবর শুক্রবার মেট্রোরেল চলাচলের সময়সূচিতে পরিবর্তন থাকবে। ওই দিন উত্তরা উত্তর থেকে মতিঝিলগামী ট্রেন চলাচল শুরু হবে বিকেল ৩টায়। আর মতিঝিল থেকে উত্তরা উত্তরগামী ট্রেন চলবে বিকেল ৩টা ২০ মিনিট থেকে। এদিন দুই দিক মিলিয়ে মোট ৮২টি ট্রিপ পরিচালনা করা হবে। ফলে শুক্রবার যাতায়াতের পরিকল্পনা করা যাত্রীদের মেট্রোরেলে ওঠার আগে নির্ধারিত সময়সূচি দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পূজার ছুটিতে যাত্রীদের চাপ সামলাতে উত্তরা উত্তর স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম ও ডিপোতে দুটি অতিরিক্ত ট্রেন প্রস্তুত রাখা হবে বলে জানিয়েছে ডিএমটিসিএল। যাত্রীচাহিদা বেড়ে গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী এসব ট্রেন চালানো হবে। এতে পরিস্থিতি বিবেচনায় ট্রেন চলাচলের বিরতি সমন্বয় করা সম্ভব হবে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

 

জাপানে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ

চাকরি ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ
জাপানে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ

জাপানে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং তাঁদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দুই দেশের মধ্যে নতুন একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ‘মেমোরেন্ডাম অব কো-অপারেশন অন এমপ্লয়মেন্ট স্কিলস ডেভেলপমেন্ট’ (ইএসডিপি-এমওসি) নামের এ চুক্তির আওতায় আগামী বছরের ১ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ শুরু করবে জাপান। গত ১৭ অক্টোবর দুই দেশের মধ্যে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। সোমবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

যাঁরা স্বাক্ষর করেছেন চুক্তিতে
বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব। জাপানের পক্ষে দেশটির বিচার মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সির প্রতিনিধিরা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে কর্মী পাঠানো ও গ্রহণের প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা জোরদার করার পাশাপাশি বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চুক্তির মেয়াদ ১০ বছর
চুক্তিটির প্রাথমিক মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ বছর। প্রাথমিক মেয়াদ শেষ হলে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও পাঁচ বছরের জন্য বাড়বে। ফলে সব মিলিয়ে চুক্তিটির কার্যকর মেয়াদ হবে ১০ বছর। মন্ত্রণালয়ের আশা, চুক্তি বাস্তবায়নের ফলে জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের অংশগ্রহণ বাড়বে। একই সঙ্গে কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষা এবং দুই দেশের মধ্যে কর্মসংস্থানবিষয়ক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে।

বাংলাদেশি কর্মীদের অধিকার ও সুরক্ষায় গুরুত্ব
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বলেন, এর মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁদের দক্ষতা উন্নয়ন, উচ্চ বেতন এবং জাপানে দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের সুযোগ তৈরি হবে। তিনি জানান, চুক্তির আওতায় বাংলাদেশি কর্মীরা জাপানের স্থানীয় শ্রমিকদের সমতুল্য আইনি সুরক্ষা পাবেন। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে, গর্ভাবস্থা বা সন্তান জন্মদানের কারণে নারী বিদেশি কর্মীদের চাকরিচ্যুত করা কিংবা তাঁদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা যাবে না। এ ধরনের পরিস্থিতিতে জোরপূর্বক দেশে ফেরত পাঠানোর কোনো বাধ্যতামূলক বিধানও চুক্তিতে রাখা হয়নি বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে হস্তান্তর হবে চুক্তির কপি
মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরের সময় চুক্তির কপি আনুষ্ঠানিকভাবে দুই পক্ষের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে। চুক্তিটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ ও জাপানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

কালের আলো/এএইচ/এসএ