খুঁজুন
                               
, ,
           

অনলাইন বিজ্ঞাপন দেখলেই ফোনে ঢুকছে ইসরায়েলি স্পাইওয়্যার

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২৪ অপরাহ্ণ
অনলাইন বিজ্ঞাপন দেখলেই ফোনে ঢুকছে ইসরায়েলি স্পাইওয়্যার

অনলাইনে বিজ্ঞাপন দেখার সময় কোনো লিংকে ক্লিক না করলেও স্মার্টফোন বা অন্যান্য ডিজিটাল যন্ত্রে গোপনে স্পাইওয়্যার প্রবেশ করতে পারে। বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে ব্যবহারকারীদের যন্ত্রে নজরদারির সফটওয়্যার ছড়িয়ে দেওয়ার প্রমাণ পেয়েছেন গবেষকেরা। কানাডার টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কেন্দ্র সিটিজেন ল্যাবের এক অনুসন্ধানে ইসরায়েলভিত্তিক একটি ডিজিটাল বিজ্ঞাপনী সংস্থার বিরুদ্ধে এমন কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠে এসেছে।

গবেষকদের তথ্যমতে, এ ধরনের সাইবার হামলায় ব্যবহারকারীর কোনো পদক্ষেপের প্রয়োজন হয় না। বিজ্ঞাপন দেখার সময়ই যন্ত্রের নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে স্পাইওয়্যার প্রবেশ করানো সম্ভব। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার কয়েক ডজন যন্ত্র এ ধরনের স্পাইওয়্যারে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপনের আড়ালে স্পাইওয়্যার ছড়ানোর অভিযোগ
সিটিজেন ল্যাবের গবেষকদের ধারণা, ‘ডিসকভার-টেক’ নামের একটি ডিজিটাল বিজ্ঞাপনী সংস্থার বিজ্ঞাপন ব্যবহার করে স্পাইওয়্যার ছড়ানো হয়েছে। অনলাইন বিজ্ঞাপনব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করা এবং তাঁদের যন্ত্রে গোপনে নজরদারির সফটওয়্যার প্রবেশ করানোর বিষয়টি নিয়ে গবেষকেরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

স্পাইওয়্যার একধরনের ক্ষতিকর সফটওয়্যার, যা ব্যবহারকারীর অজান্তে তাঁর যন্ত্রের তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। এর মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য, অনলাইন কার্যক্রম এবং অন্যান্য সংবেদনশীল উপাত্তে অননুমোদিত প্রবেশের ঝুঁকি তৈরি হয়। পরিস্থিতি অনুযায়ী, এ ধরনের সফটওয়্যার ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ব্যক্তির ওপর নজরদারিও চালানো সম্ভব।

সাধারণত সাইবার অপরাধীরা ক্ষতিকর লিংক, সংক্রমিত ফাইল কিংবা প্রতারণামূলক অ্যাপের মাধ্যমে স্পাইওয়্যার ছড়িয়ে থাকে। তবে বিজ্ঞাপনকে কাজে লাগিয়ে ব্যবহারকারীর কোনো সরাসরি পদক্ষেপ ছাড়াই যন্ত্রে প্রবেশের এই পদ্ধতি সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

কীভাবে কাজ করে ‘জিরো-ক্লিক’ হামলা?
প্রচলিত সাইবার হামলার ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীকে অনেক সময় কোনো ক্ষতিকর লিংকে ক্লিক করতে হয় কিংবা সংক্রমিত ফাইল খুলতে হয়। কিন্তু ‘জিরো-ক্লিক’ হামলায় ব্যবহারকারীর এমন কোনো পদক্ষেপের প্রয়োজন হয় না। যন্ত্রের অপারেটিং সিস্টেম, ব্রাউজার বা সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যারের কোনো দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে আক্রমণকারী স্পাইওয়্যার প্রবেশ করানোর সুযোগ পেতে পারে।

বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে এমন হামলা চালানো হলে ব্যবহারকারী স্বাভাবিকভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে গিয়েই ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেও হামলার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। ফলে শুধু সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকলেই সব ধরনের সাইবার হামলা ঠেকানো সম্ভব নয়।

এ ধরনের হামলা শনাক্ত করাও কঠিন হতে পারে। কারণ, ব্যবহারকারী কোনো অস্বাভাবিক কার্যক্রম না করলেও তাঁর যন্ত্রে ক্ষতিকর সফটওয়্যার প্রবেশের চেষ্টা হতে পারে।

সরকারি ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কেও বিজ্ঞাপন পৌঁছেছে
সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান কনফিয়েন্টের গবেষকেরাও ডিসকভার-টেকের বিজ্ঞাপন নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য দিয়েছেন। তাঁদের তথ্যমতে, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্ক ব্যবহারকারীদের কাছে এসব বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হয়েছে।

এ ছাড়া জাতিসংঘ, ন্যাটো, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার নেটওয়ার্ক ব্যবহারকারীদের কাছেও বিজ্ঞাপনগুলো পৌঁছেছে বলে গবেষকেরা জানিয়েছেন। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কে বিজ্ঞাপন পৌঁছানো এবং সেই প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রে সফলভাবে স্পাইওয়্যার প্রবেশ—দুটি বিষয় এক নয়। তাই এসব তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের যন্ত্র আক্রান্ত হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যাবে না।

অনলাইন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে লক্ষ্যভিত্তিক হামলার প্রমাণ
সিটিজেন ল্যাবের গবেষক বিল মারচাক জানিয়েছেন, অনলাইন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাঁর যন্ত্রে সাইবার হামলা চালানোর বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। তবে তাঁদের অনুসন্ধানে এবার এ ধরনের কার্যক্রমের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

গবেষণাটি অনলাইন বিজ্ঞাপনব্যবস্থার নিরাপত্তা এবং ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার বিষয়টিকে নতুন করে সামনে এনেছে। ডিজিটাল বিজ্ঞাপন সাধারণত পণ্য বা সেবা প্রচারের কাজে ব্যবহৃত হলেও একই ব্যবস্থাকে অপব্যবহার করে নজরদারি বা সাইবার হামলা চালানো হলে তা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে।

স্পাইওয়্যার থেকে সুরক্ষিত থাকতে কী করবেন?
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, স্মার্টফোনের অপারেটিং সিস্টেম ও অ্যাপ নিয়মিত হালনাগাদ রাখা, অবিশ্বস্ত উৎস থেকে অ্যাপ ইনস্টল না করা এবং অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের অনুমতি বন্ধ রাখা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি নিরাপত্তা সতর্কতা উপেক্ষা না করা এবং সন্দেহজনক ওয়েবসাইট এড়িয়ে চলাও ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।

তবে জিরো-ক্লিক হামলার ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর কোনো পদক্ষেপ ছাড়াই আক্রমণ হতে পারে বলে শুধু সতর্কভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করাই যথেষ্ট নয়। যন্ত্রের সফটওয়্যার হালনাগাদ রাখা এবং নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা দ্রুত সমাধান করা এ ধরনের ঝুঁকি কমানোর গুরুত্বপূর্ণ উপায়। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

কালের আলো/ডিএইচ/এসএ

৪৯ বছর পূর্তিতে মঞ্চে ফিরছে হুমায়ূন আহমেদের ‘নৃপতি’

সাহিত্য ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১২ অপরাহ্ণ
৪৯ বছর পূর্তিতে মঞ্চে ফিরছে হুমায়ূন আহমেদের ‘নৃপতি’

নাট্যচর্চার দীর্ঘ ৪৯ বছরের পথচলা উদ্‌যাপন করতে যাচ্ছে দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী নাট্য সংগঠন নান্দনিক নাট্য সম্প্রদায়। সংগঠনটির ৪৯ বছর পূর্তি উপলক্ষে আগামী ২২ ও ২৩ অক্টোবর দুই দিনব্যাপী বিশেষ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ রচিত মঞ্চনাটক ‘নৃপতি’। পাশাপাশি উৎসবের দ্বিতীয় দিন প্রদর্শিত হবে সোহেল রানা বয়াতি নির্মিত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘নয়া মানুষ’।

দুই দিনব্যাপী আয়োজন
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় অনুষ্ঠিত হবে নান্দনিক নাট্য সম্প্রদায়ের ৪৯ বছর পূর্তি উৎসব। এতে দেশবরেণ্য ব্যক্তিরা অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। নাট্যচর্চার মধ্য দিয়ে সমাজজীবনের নানা চিত্র তুলে ধরা এবং দর্শকদের মধ্যে সাংস্কৃতিক সচেতনতা সৃষ্টির প্রত্যয় নিয়ে এই আয়োজন করেছে সংগঠনটি।

১৯৭৭ সালের ১৬ অক্টোবর কয়েকজন তরুণের উদ্যোগে যাত্রা শুরু করে নান্দনিক নাট্য সম্প্রদায়। নানা প্রতিকূলতা ও চড়াই-উতরাই পেরিয়ে দীর্ঘ ৪৯ বছর ধরে মঞ্চনাটক নিয়ে কাজ করে আসছে সংগঠনটি। এই দীর্ঘ পথচলায় নাট্যচর্চাকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি দর্শকদের সঙ্গে সাংস্কৃতিক বন্ধন গড়ে তোলার চেষ্টা করে যাচ্ছে তারা।

২২ অক্টোবর মঞ্চস্থ হবে ‘নৃপতি’
উৎসবের প্রথম দিন ২২ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হবে আয়োজন। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাতীয় নাট্যশালার মঞ্চে পরিবেশিত হবে হুমায়ূন আহমেদ রচিত নাটক ‘নৃপতি’। কথাসাহিত্যিকের রচনায় নির্মিত এই নাটক উৎসবের সাংস্কৃতিক আয়োজনকে বিশেষ মাত্রা দেবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। পরদিন ২৩ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টায় আবারও মঞ্চস্থ হবে ‘নৃপতি’। একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় প্রদর্শিত হবে সোহেল রানা বয়াতি নির্মিত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘নয়া মানুষ’। নাটক ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর সমন্বয়ে দুই দিনের উৎসবটি সাজানো হয়েছে।

সাংস্কৃতিক অগ্রযাত্রায় অংশীদার হতে চায় নান্দনিক
উৎসব প্রসঙ্গে নান্দনিক নাট্য সম্প্রদায়ের সাধারণ সম্পাদক বদরুদ্দোজা বলেন, নান্দনিক বাংলাদেশের মঞ্চনাটকের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী সংগঠন। নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে সংগঠনটি ৪৯ বছরের দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেছে। ‘নান্দনিক চেতনা জাগ্রত হোক, তোমার আমার সবার প্রাণে’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে তাঁরা আগামী দিনের পথচলা অব্যাহত রাখতে চান। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অগ্রযাত্রার অংশীদার হওয়াই তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য। দীর্ঘদিনের নাট্যচর্চার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ভবিষ্যতেও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অবদান রাখতে চায় সংগঠনটি।

সুস্থ ও সৎ নাট্যচর্চার প্রত্যয়
নান্দনিক নাট্য সম্প্রদায়ের সভাপতি আ. মা. ম. হাসানুজ্জামান বলেন, নাটকের মাধ্যমে সমাজজীবনের নানা জটিলতা অতিক্রম করে সুস্থ ও সৎ নাট্যচর্চার ক্ষেত্র তৈরি করা তাঁদের দায়িত্ব। সংগঠনটির ৪৯ বছর পূর্তির এই বিশেষ মুহূর্তে তিনি দর্শক ও শুভানুধ্যায়ীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি জানান, দর্শক ও শুভানুধ্যায়ীদের অকুণ্ঠ সহযোগিতা সংগঠনটির বিভিন্ন প্রযোজনা মঞ্চে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাঁদের এই সমর্থনকে সঙ্গে নিয়েই নান্দনিক নাট্য সম্প্রদায় ভবিষ্যতে নাট্যচর্চার ধারাকে আরও এগিয়ে নিতে চায়। দীর্ঘ ৪৯ বছরের পথচলা শেষে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই উৎসবের মধ্য দিয়ে নিজেদের নাট্যচর্চার ঐতিহ্য উদ্‌যাপনের পাশাপাশি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টির প্রত্যাশা করছে নান্দনিক নাট্য সম্প্রদায়।

কালের আলো/জেএন/এসএ

২৩৩ বলে নাঈমের ১৭৬, বরিশালের বিপক্ষে চালকের আসনে রাজশাহী

ক্রীড়া প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১২ অপরাহ্ণ
২৩৩ বলে নাঈমের ১৭৬, বরিশালের বিপক্ষে চালকের আসনে রাজশাহী

জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) রাজশাহী ভেন্যুর চার দিনের ম্যাচে বরিশাল বিভাগের বিপক্ষে দ্বিতীয় দিন শেষে বড় সংগ্রহের পথে রয়েছে রাজশাহী বিভাগ। নাঈম আহমেদের অপরাজিত ১৭৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে দিন শেষে রাজশাহীর সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৫ উইকেটে ৪২৪ রান।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজশাহী বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে আগের দিনের ১ উইকেটে ২৪ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামে রাজশাহী। দিন শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে ৪২৪ রান সংগ্রহ করে দলটি।

আগের দিন ১৩ রানে অপরাজিত থাকা নাঈম আহমেদ দ্বিতীয় দিনেও দুর্দান্ত ব্যাটিং অব্যাহত রাখেন। দিন শেষে তিনি ১৭৬ রানে অপরাজিত রয়েছেন। ৪১০ মিনিট ক্রিজে থেকে ২৩৩ বল মোকাবিলা করে ২৫টি চার মেরে নিজের ইনিংসটি সাজান এই ব্যাটসম্যান।

অন্যদিকে, আগের দিন ৬ রানে অপরাজিত থাকা হাবিবুর সোহান দ্বিতীয় দিনে আরও ৩৩ রান যোগ করে ৩৯ রানে আউট হন। রাজশাহীর হয়ে সাব্বির রোমানও ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। একটি ছক্কা ও ১৩টি চারের সাহায্যে ৮৬ রান করেন তিনি। এ ছাড়া মেহরাব হাসান ৫৭ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন।

বরিশাল বিভাগের বোলারদের মধ্যে রুয়েল মিয়া ৮৯ রান খরচায় ২টি উইকেট শিকার করেন।

নাঈম আহমেদের বড় ইনিংস এবং অন্য ব্যাটসম্যানদের কার্যকর অবদানে দ্বিতীয় দিন শেষে শক্ত অবস্থানে রয়েছে রাজশাহী বিভাগ। তৃতীয় দিনে ব্যাট হাতে দলটি আরও বড় সংগ্রহ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

কোয়ান্টাম জগতে নতুন রহস্য উন্মোচন বিজ্ঞানীদের

ফিচার ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৭ অপরাহ্ণ
কোয়ান্টাম জগতে নতুন রহস্য উন্মোচন বিজ্ঞানীদের

বিজ্ঞানের জগতে পদার্থের অস্বাভাবিক এক নতুন অবস্থা নিয়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ গবেষণার পর অতিশীতল পরমাণুর আচরণ পর্যবেক্ষণ করে এই অবস্থার সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ‘ফ্র্যাকশনাল ফারমি সি’ নামে পরিচিত এই অবস্থায় কণাগুলো চরম উত্তেজনার মধ্যেও সুশৃঙ্খল বিন্যাস বজায় রাখে। কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানে কণার পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া এবং অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে তাদের আচরণ বোঝার ক্ষেত্রে এই গবেষণা নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী ‘ফিজিক্যাল রিভিউ লেটার্স’-এ। গবেষকেরা আশা করছেন, এই আবিষ্কার জটিল কোয়ান্টাম সিস্টেমের আচরণ বিশ্লেষণ এবং ভবিষ্যতের কোয়ান্টাম সিমুলেশন গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অতিশীতল পরমাণুতে অস্বাভাবিক আচরণ
গবেষণাটির নেতৃত্ব দেন হ্যান্স-ক্রিস্টোফ নাগেরল। এতে সিএনআরএস এবং ইউনিভার্সিটি প্যারিস-ডাউফাইনের তাত্ত্বিক পদার্থবিদ অ্যালভিসে বাস্টিয়ানেলোও যুক্ত ছিলেন। গবেষণায় অতিশীতল পরমাণু ব্যবহার করে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে কণাগুলোর আচরণ পর্যবেক্ষণ করা হয়।

গবেষকেরা দেখেন, পরমাণুগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক বল বারবার পরিবর্তিত হলে পুরো কোয়ান্টাম সিস্টেমটি স্বাভাবিক অবস্থা থেকে সরে যায়। সাধারণভাবে এমন চরম পরিবর্তনে কণাগুলোর আচরণ অনুমান করা কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু পরীক্ষায় দেখা যায়, কণাগুলো অত্যন্ত উত্তেজিত অবস্থাতেও একটি নির্দিষ্ট ও সুশৃঙ্খল বিন্যাস বজায় রাখছে। বিজ্ঞানীদের কাছে এই পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এটি দেখায় যে চরম পরিস্থিতিতেও কোয়ান্টাম কণার মধ্যে এমন কিছু সংগঠিত আচরণ তৈরি হতে পারে, যা সাধারণ ধারণা দিয়ে সহজে ব্যাখ্যা করা যায় না।

ফার্মিয়ন কণার আচরণ নিয়ে নতুন তথ্য
গবেষণাটিতে মূলত ফার্মিয়ন নামের এক শ্রেণির কণা নিয়ে কাজ করা হয়েছে। ইলেকট্রন এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী, একই ধরনের দুটি অভিন্ন ফার্মিয়ন একই সময়ে একই কোয়ান্টাম অবস্থায় থাকতে পারে না। এই বৈশিষ্ট্য তাদের আচরণ ও শক্তির অবস্থাগুলো কীভাবে পূরণ হবে, তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অত্যন্ত কম তাপমাত্রায় পরমাণুগুলোকে ঠান্ডা করার পর গবেষকেরা কণাগুলোর শক্তির অবস্থায় একটি নির্দিষ্ট বিন্যাস লক্ষ্য করেন। এই বিন্যাসের সঙ্গে ফারমি-সংক্রান্ত কোয়ান্টাম বৈশিষ্ট্যের সম্পর্ক রয়েছে। তবে নতুন অবস্থাটির বিশেষত্ব হলো, কণাগুলোর পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া চরমভাবে পরিবর্তিত হলেও তাদের মধ্যে একটি সংগঠিত প্যাটার্ন বজায় থাকে। এখানে ‘ফ্র্যাকশনাল’ শব্দটি দিয়ে পরমাণু ভেঙে ছোট ছোট অংশে পরিণত হওয়ার কথা বোঝানো হয়নি। বরং এটি সিস্টেমটির কোয়ান্টাম অবস্থার বিশেষ বিন্যাস ও আচরণকে নির্দেশ করে।

বিকর্ষণ থেকে আকর্ষণ পরিবর্তন করে পরীক্ষা
পরীক্ষায় গবেষকেরা সিজিয়াম পরমাণুকে একটি নির্দিষ্ট দিকে চালিত করেন। এরপর পরমাণুগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া কীভাবে পরিবর্তিত হয়, তা পর্যবেক্ষণ করেন। বিশেষ করে বিকর্ষণমূলক বল থেকে আকর্ষণমূলক বলে পরিবর্তনের সময় কোয়ান্টাম সিস্টেমের প্রতিক্রিয়া কেমন হয়, তা ছিল গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

সাধারণ পরিস্থিতিতে কণাগুলোর মধ্যকার বলের এমন দ্রুত ও চরম পরিবর্তন সিস্টেমের স্থিতিশীলতা এবং আচরণকে জটিল করে তুলতে পারে। কিন্তু গবেষকেরা দেখতে পান, এই পরিবর্তনের মধ্যেও কণাগুলোর বিন্যাসে উল্লেখযোগ্য শৃঙ্খলা বজায় রয়েছে। এই ফলাফল থেকে ধারণা পাওয়া যায়, কোয়ান্টাম সিস্টেমকে স্বাভাবিক পরিস্থিতি থেকে অনেক দূরে নিয়ে গেলেও সেখানে অপ্রত্যাশিত সংগঠিত অবস্থা তৈরি হতে পারে। কণাগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক কীভাবে এমন বিন্যাস তৈরি করে, তা জানতে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানে কেন গুরুত্বপূর্ণ এই আবিষ্কার?
কোয়ান্টাম জগতে কণাগুলোর আচরণ অনেক সময় প্রচলিত পদার্থবিজ্ঞানের সহজ ধারণা দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। বিশেষ করে অতিশীতল পরিবেশে কণাগুলোর পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া ও শক্তির অবস্থার পরিবর্তন নতুন ধরনের পদার্থগত বৈশিষ্ট্য তৈরি করতে পারে।

নতুন এই গবেষণা জটিল কোয়ান্টাম সিস্টেমে কণার পারস্পরিক সম্পর্কের অস্বাভাবিক ধরন বুঝতে বিজ্ঞানীদের সহায়তা করতে পারে। একই সঙ্গে কোয়ান্টাম সিমুলেটর ব্যবহার করে ভবিষ্যতে আরও জটিল পরিস্থিতি পরীক্ষা করার পথও তৈরি হতে পারে। তবে এই আবিষ্কারের ব্যবহারিক প্রয়োগ এখনই নিশ্চিত নয়। বরং এর তাৎপর্য হলো, কোয়ান্টাম পদার্থের অস্বাভাবিক আচরণ সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া এবং ভবিষ্যতের গবেষণার জন্য আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসা। সূত্র: এনডিটিভি

কালের আলো/জেএন/এসএ