খুঁজুন
                               
, ,
           

মেধার লড়াইয়ে টাকার দাপট প্রশ্নবিদ্ধ সরকারি নিয়োগব্যবস্থা

চাকরি প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৩ অপরাহ্ণ
মেধার লড়াইয়ে টাকার দাপট প্রশ্নবিদ্ধ সরকারি নিয়োগব্যবস্থা

সরকারি চাকরি বাংলাদেশের লাখো তরুণ-তরুণীর কাছে শুধু একটি পেশা নয়, বরং আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা অর্জনের স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন পূরণে বছরের পর বছর পড়াশোনা, কোচিং, বই কেনা এবং যাতায়াতের পেছনে অর্থ ব্যয় করেন চাকরিপ্রার্থীরা। কিন্তু নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, অর্থের বিনিময়ে উত্তর সরবরাহ এবং পরীক্ষাকেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ সেই স্বপ্নকে বারবার অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা সরকারি নিয়োগব্যবস্থার নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

গত ১০ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ২৪২টি শূন্যপদের বিপরীতে আবেদন করেছিলেন ৩ লাখ ১৮ হাজার ৯৭৬ জন চাকরিপ্রার্থী। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অনেকেই পরীক্ষায় অংশ নিতে ঢাকায় এসেছিলেন। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্রের ছবি ছড়িয়ে পড়ার খবর সামনে আসে। পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে সকাল ১০টা ৩ মিনিটে মাত্র দুই মিনিটের নোটিশে পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দেয় কর্তৃপক্ষ। পরে বিশেষ নজরদারিতে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হলেও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং এর পেছনে সক্রিয় চক্রের তথ্য নিয়োগব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে চক্রের সন্ধান
ঘটনার তদন্তে নেমে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অর্থের বিনিময়ে পরীক্ষার্থীদের কাছে উত্তর পৌঁছে দেওয়ার একটি চক্রের তথ্য পায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষার দিন ভোর ৪টা ৪৩ মিনিটে নূর মোহাম্মদ নামের এক ব্যক্তির কাছে প্রশ্নপত্রের অস্পষ্ট ছবি পৌঁছায়। পরে সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে জাহাঙ্গীর নামের আরেক ব্যক্তির কাছে প্রশ্নপত্রের স্পষ্ট ছবি পৌঁছানোর তথ্য পাওয়া যায়। উত্তর প্রস্তুত করে পরীক্ষার্থীদের কাছে সরবরাহের জন্য চক্রটি ভুয়া হোয়াটসঅ্যাপ আইডি ব্যবহার করত বলেও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, তৃতীয় শ্রেণির চাকরির জন্য ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা এবং দ্বিতীয় শ্রেণির পদের জন্য ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছিল। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সাতজনের মধ্যে পাঁচজনই বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মচারী বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করা জরুরি। কারণ, সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভেতরের কেউ জড়িত থাকলে শুধু পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নয়, পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়ার ওপরই আস্থার সংকট তৈরি হয়।

প্রশ্ন ফাঁসের বাইরেও আলোচনায় ‘কেন্দ্র-কন্ট্র্যাক্ট’
সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ শুধু প্রশ্নপত্র আগাম ছড়িয়ে পড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পরীক্ষাকেন্দ্রে নির্দিষ্ট প্রার্থীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া, বাইরে থেকে ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে উত্তর পাঠানো এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের যোগসাজশে কারচুপির অভিযোগও সামনে আসছে। এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে ‘কেন্দ্র-কন্ট্র্যাক্ট’ শব্দটি আলোচনায় এসেছে।

অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতরে অসাধু ব্যক্তিদের সহায়তায় নির্দিষ্ট প্রার্থীদের সুবিধা দেওয়া হয়। বাইরে থেকে সমাধান পাঠানো কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নীরব সমর্থনের অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের প্রতিটি ঘটনা আলাদাভাবে তদন্ত করে প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

সম্প্রতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগপ্রক্রিয়া ঘিরেও অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষার পর ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করা হয়। তবে নীলফামারীর একটি কেন্দ্রে পরীক্ষা চলাকালে বাইরে থেকে উত্তর সরবরাহ এবং নির্দিষ্ট কক্ষে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। প্রার্থীরা তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানালেও অভিযোগের বিষয়ে দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চাকরিপ্রার্থীদের ক্ষোভ ও হতাশা
সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নিতে গিয়ে অনেক প্রার্থীকে দীর্ঘদিন পড়াশোনা করতে হয়। তাঁদের কেউ কেউ পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতা সামলে বই, কোচিং ও যাতায়াতের খরচ জোগান। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তাঁদের মধ্যে হতাশা ও অবিশ্বাস তৈরি করে।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইশরাত জাহান ইরা প্রথম আলোকে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, দূরদূরান্ত থেকে কষ্ট করে পরীক্ষাকেন্দ্রে আসা প্রার্থীরা প্রশ্নপত্র ফাঁস বা উত্তরপত্রে কারসাজির খবর শুনলে ভেঙে পড়েন। তাঁর মতে, দীর্ঘদিনের প্রস্তুতির পর মেধার বদলে অর্থের প্রভাব কাজ করছে—এমন ধারণা তৈরি হলে পুরো নিয়োগব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি শুধু পরীক্ষা বাতিলের মতো সাময়িক পদক্ষেপ নয়, বরং প্রশ্ন বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং অর্থের বিনিময়ে সুবিধা নেওয়া প্রার্থীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

পরীক্ষা কমিটির সততা ও দক্ষতা কেন গুরুত্বপূর্ণ
নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের পেছনে ব্যক্তিগত দুর্নীতির পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতাও ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। পরীক্ষা পরিচালনা, প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা রক্ষা, উত্তরপত্র মূল্যায়ন এবং ফলাফল প্রকাশ—প্রতিটি ধাপে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সততা ও দক্ষতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান প্রথম আলোকে বলেন, রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় এলে বিভিন্ন দপ্তরের পরীক্ষা কমিটির দায়িত্ব বণ্টনে রাজনৈতিক বিবেচনা প্রভাব ফেলতে পারে। অথচ পরীক্ষা কমিটিতে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সততা ও দক্ষতাই হওয়া উচিত প্রধান যোগ্যতা।

নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে কি না, তা অনেকাংশে পরীক্ষা কমিটির ওপর নির্ভর করে। কমিটির একজন সদস্যও অসৎ হলে পুরো পরীক্ষার স্বচ্ছতা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাঁর বক্তব্যে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় দায়িত্ব বণ্টন, তদারকি এবং জবাবদিহির গুরুত্ব উঠে এসেছে। নিয়োগ পরীক্ষার প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের যোগ্যতার পাশাপাশি তাঁদের কর্মকাণ্ডের কার্যকর নজরদারিও প্রয়োজন।

আবেদ আলীর ঘটনা ও বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা
সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগের আলোচনায় পিএসসির সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলীর ঘটনাও উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিএসসির একটি নিয়োগ পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর কাছে লিখিত উত্তরপত্র পাওয়ার ঘটনায় ২০১৪ সালে মামলা হয়। পুলিশের তদন্তে আবেদ আলী ও তাঁর সহযোগীদের সম্পৃক্ততার তথ্য উঠে আসে।

২০১৫ সালে বিচারকাজ শুরুর আদেশ দেওয়া হলেও পরবর্তী ১০ বছরে ১২ জন সাক্ষীর মধ্যে মাত্র দুজনকে আদালতে হাজির করতে পেরেছে প্রসিকিউশন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই দীর্ঘসূত্রতা প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধের বিচার এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ রেলওয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে আবেদ আলী, তাঁর ছেলে এবং পিএসসির একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। দীর্ঘ তদন্তের পর ৫৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, অপরাধের অভিযোগের নিষ্পত্তি দীর্ঘায়িত হলে অপরাধীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

নিয়োগব্যবস্থায় আস্থা ফেরাতে কী প্রয়োজন
সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ মোকাবিলায় শুধু পরীক্ষা স্থগিত বা কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করাই যথেষ্ট নয়। প্রশ্নপত্র ফাঁসের উৎস শনাক্ত করা, এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা তদন্ত করা এবং অর্থের বিনিময়ে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি প্রশ্নপত্র তৈরি ও সংরক্ষণ, ছাপানো, পরিবহন, পরীক্ষাকেন্দ্রে বিতরণ, উত্তরপত্র মূল্যায়ন এবং ফলাফল প্রকাশের প্রতিটি ধাপে নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। পরীক্ষাকেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা এবং স্বাধীন তদন্তের সুযোগও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়োগপ্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং অসাধু সুবিধাভোগী—যে পক্ষের বিরুদ্ধেই অভিযোগ উঠুক, তদন্তের মাধ্যমে দায় নির্ধারণ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা মামলাগুলোর বিচার দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ প্রয়োজন। সরকারি চাকরির নিয়োগব্যবস্থার মূল ভিত্তি হওয়া উচিত যোগ্যতা, মেধা ও সমান সুযোগ। সেই ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়লে ক্ষতিগ্রস্ত হন শুধু চাকরিপ্রার্থীরা নন; সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাও কমে যায়। তাই প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নিয়োগে কারসাজির অভিযোগের কার্যকর তদন্ত, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করাই হতে পারে আস্থা ফেরানোর প্রথম পদক্ষেপ।

কালের আলো/এমএসআইপি/এসএ

অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই, জাতীয় ঐক্যের প্রত্যয়—দুর্গাপূজার শিক্ষা স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর কণ্ঠে

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৩ অপরাহ্ণ
অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই, জাতীয় ঐক্যের প্রত্যয়—দুর্গাপূজার শিক্ষা স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর কণ্ঠে

অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো, সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান—দুর্গাপূজার শিক্ষা থেকে এসব মূল্যবোধ ধারণ করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেছেন, পৃথিবীতে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং অন্যায়-অবিচার দূর করতে মানুষকে নিরন্তর সংগ্রাম করতে হয়। মা দুর্গার শিক্ষা থেকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠার প্রেরণা পাওয়া যায়।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর আজিমপুর সরকারি আবাসন পূজা কমিটির আয়োজনে দুর্গাপূজা পরিদর্শন ও মহাষ্টমীর শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় মন্ত্রী শারদ সংকলন ‘সৌহার্দ-১৪৩৩’-এর মোড়ক উন্মোচন করেন। মূলত দুর্গাপূজার শিক্ষা থেকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার প্রেরণা নেওয়ার পাশাপাশি ধর্ম-বর্ণের বিভেদ অতিক্রম করে জাতীয় ঐক্য, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।

  • সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় নিরন্তর সংগ্রামের আহ্বান ড. আবদুল মঈন খানের
  • ধর্ম-বর্ণের বিভেদ ভুলে জাতীয় ঐক্য, সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে গুরুত্বারোপ

অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান, ন্যায় প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়
দুর্গাপূজার তাৎপর্য তুলে ধরে মন্ত্রীর বক্তব্যে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘পৃথিবীতে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং অন্যায়-অবিচার দূর করতে মানুষকে নিরন্তর সংগ্রাম করতে হয়। মা দুর্গার শিক্ষা থেকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠার প্রেরণা পাওয়া যায়।’ তাঁর এই বক্তব্যে ধর্মীয় উৎসবের আধ্যাত্মিক তাৎপর্যের পাশাপাশি এর নৈতিক ও সামাজিক শিক্ষার দিকটি সামনে এসেছে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য নিরন্তর প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তা সমাজে দায়িত্বশীলতা ও ন্যায়বোধের গুরুত্ব তুলে ধরেছে।

‘আমরা সবাই বাংলাদেশি—এটাই আমাদের গর্বের পরিচয়’
বাংলাদেশের বহুধর্মীয় ও বহুজাতিক সমাজে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও নাগরিক পরিচয়ের গুরুত্ব রয়েছে। মন্ত্রী জাতীয় পরিচয়কে বিভেদ অতিক্রম করে ঐক্য গড়ে তোলার ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ফলত ধর্মীয় ও জাতিগত পরিচয়ের ভিন্নতা সত্ত্বেও জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ধর্ম, বর্ণ ও জাতিগত পরিচয়ের ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে হবে। কে কোন ধর্মের বা কোন বর্ণের, তা বিবেচ্য বিষয় নয়; আমরা সবাই বাংলাদেশি—এটাই আমাদের গর্বের পরিচয়।’

সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের চেতনায় এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড.আবদুল মঈন খান নিজের বক্তব্যে সামাজিক সম্প্রীতি ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার মধ্যে একটি যোগসূত্র তুলে ধরেছেন। তাঁর প্রত্যাশা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভ্রাতৃত্বের ভিত্তিতে সব ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করবে এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশ এগিয়ে যাবে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে করে মন্ত্রী বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের যে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছিলেন, সেই সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের চেতনাকে ধারণ করে এগিয়ে যেতে হবে।

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই বাংলাদেশি পরিচয়ে গর্বিত হয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ থেকে দেশকে বিশ্বের বুকে শান্তির উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাবে এবং সব ধর্মের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতি বজায় রেখে বসবাস করবে—এটাই প্রত্যাশা। সম্মিলিতভাবে কাজ করে বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে শান্তির উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

ঐতিহ্য সংরক্ষণে আধুনিকতার সঙ্গে সমন্বয় জরুরি
সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে আধুনিকতার নানা উপাদান যুক্ত হলেও নিজস্ব ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। সংগীত, নৃত্য ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে সেই ঐতিহ্য চর্চা ও বিকাশের সুযোগ তৈরি হয়। মন্ত্রী এই বিষয়টিকে সম্মিলিত দায়িত্ব হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি দুর্গাপূজাকে বাংলার আবহমান সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, ‘দুর্গাপূজা বাংলার আবহমান সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আধুনিকতার প্রবাহে এই অঞ্চলের দুর্গাপূজার ঐতিহ্যবাহী বৈশিষ্ট্য যেন হারিয়ে না যায়, সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। পূজার আয়োজনের পাশাপাশি সংগীত, নৃত্য ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনা আমাদের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বহিঃপ্রকাশ। এসব ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা সবার দায়িত্ব।’

মন্ত্রীর বক্তব্যে সামনে এসেছে তিন বিষয়
স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর বক্তব্যের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করলে তিনটি বিষয় বিশেষভাবে সামনে আসে—অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্য এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গণতন্ত্রের পথে অগ্রসর হওয়া এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যাশা। দুর্গাপূজার মতো উৎসব মানুষের মধ্যে মিলন, সৌহার্দ্য ও সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ তৈরি করে। তবে এসব মূল্যবোধের স্থায়ী প্রতিফলন নির্ভর করে দৈনন্দিন জীবনে সেগুলোর চর্চার ওপর। অন্যায়ের বিরুদ্ধে নৈতিক অবস্থান, ভিন্ন ধর্ম ও পরিচয়ের মানুষের প্রতি সম্মান এবং জাতীয় স্বার্থে সম্মিলিতভাবে কাজ করার মানসিকতা সামাজিক সম্প্রীতিকে আরও অর্থবহ করে তুলতে পারে।

আজিমপুর সরকারি আবাসন পূজা কমিটি-২০২৬-এর সভাপতি বিশ্বজিৎ বৈশ্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানা নিশীতা, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সাবেক সদস্য শ্রী সমর চন্দ্র পাল এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার গোলাম সারোয়ার ভূইয়া।

কালের আলো/এমএএএমকে

আগুনে পুড়লে প্রথম ২০ মিনিটেই নিতে হবে যে ব্যবস্থা

লাইফস্টাইল ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩২ অপরাহ্ণ
আগুনে পুড়লে প্রথম ২০ মিনিটেই নিতে হবে যে ব্যবস্থা

আগুনে দুর্ঘটনা ঘটলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত ও সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। রান্নাঘরের আগুন, ফুটন্ত তেল কিংবা গরম পানিতে দগ্ধ হওয়ার পর প্রথম পর্যায়ের সঠিক পরিচর্যা ক্ষতির মাত্রা কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে পোড়া স্থানে টুথপেস্ট, বরফ বা তেল লাগানোর মতো প্রচলিত ভুলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। চার দশকের অভিজ্ঞতার আলোকে দগ্ধ রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরবর্তী পরিচর্যার গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছেন প্লাস্টিক সার্জারি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. আইয়ূব আলী।

তিনি মনে করেন, আগুনে পোড়ার পর আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। কারণ, পোড়ার ক্ষতি কমাতে প্রাথমিক চিকিৎসার পাশাপাশি ভুল পদক্ষেপ এড়িয়ে চলাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পোশাকে আগুন লাগলে দৌড়াবেন না
কোনো কারণে পোশাকে আগুন ধরে গেলে আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি করা যাবে না। এতে আগুন আরও দ্রুত ছড়িয়ে শরীরের বেশি অংশ পুড়ে যেতে পারে। এ অবস্থায় মাটিতে শুয়ে গড়াগড়ি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করতে হবে। আশপাশে কেউ থাকলে নিরাপদ উপায়ে ভারী কম্বল দিয়ে আগুনের শিখা ঢেকে দিতে পারেন। আগুন নিভে যাওয়ার পর পোড়া স্থানে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করা জরুরি। তবে গুরুতর দগ্ধ ব্যক্তিকে সাহায্য করতে গিয়ে নিজের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে।

পোড়া স্থানে অন্তত ২০ মিনিট পানি দিন
দগ্ধ হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব পোড়া স্থানে স্বাভাবিক তাপমাত্রার প্রবাহিত পানি অন্তত ২০ মিনিট ধরে দিতে হবে। এতে ত্বকের তাপমাত্রা কমে এবং পোড়ার ক্ষতি আরও গভীর হওয়ার ঝুঁকি কমতে পারে।

পোড়া স্থানে আংটি, ঘড়ি ও অন্যান্য আঁটসাঁট অলংকার থাকলে ফুলে যাওয়ার আগেই খুলে ফেলতে হবে। তবে ত্বকের সঙ্গে লেগে থাকা পোশাক জোর করে টেনে সরানো যাবে না। প্রাথমিক পরিচর্যার পর পরিষ্কার, শুকনা কাপড় বা জীবাণুমুক্ত ড্রেসিং দিয়ে ক্ষতস্থান আলতোভাবে ঢেকে চিকিৎসা নিতে হবে।

টুথপেস্ট ও বরফ ব্যবহারে বাড়তে পারে বিপদ
পোড়া স্থানে টুথপেস্ট, ডিম, ঘি, তেল, গোবর কিংবা চুন লাগানোর প্রচলিত অভ্যাস বিপজ্জনক হতে পারে। এসব উপাদান ক্ষতস্থানে দূষণ ও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। একইভাবে সরাসরি বরফ ব্যবহার করাও উচিত নয়।

পোড়া স্থানে ফোসকা দেখা দিলে তা ফাটানো যাবে না। ফোসকা ত্বকের ক্ষতিগ্রস্ত অংশকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে। এটি ফাটিয়ে ফেললে সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়তে পারে। তাই ক্ষতস্থানে নিজে থেকে কোনো উপাদান প্রয়োগ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

যেসব লক্ষণে জরুরি হাসপাতালে নিতে হবে
দগ্ধ ব্যক্তির শ্বাসকষ্ট হলে, মুখ বা গলা পুড়ে গেলে, ধোঁয়া শ্বাসনালিতে প্রবেশের আশঙ্কা থাকলে কিংবা ব্যক্তি অচেতন হয়ে পড়লে এক মুহূর্তও দেরি করা যাবে না। একইভাবে শরীরের বড় অংশ পুড়ে গেলে বা ক্ষত গভীর হলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দগ্ধ হওয়ার পর প্রাথমিক চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও গুরুতর ক্ষতের ক্ষেত্রে হাসপাতালের চিকিৎসার বিকল্প নেই। পরিস্থিতি অনুযায়ী বার্ন ইউনিট বা প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।

পুনর্বাসনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে আধুনিক চিকিৎসা
আগুনে পোড়ার ক্ষতি শুধু ত্বকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। গুরুতর দগ্ধ হলে অঙ্গের স্বাভাবিক নড়াচড়া ব্যাহত হতে পারে, ত্বকে স্থায়ী দাগ তৈরি হতে পারে এবং দৈনন্দিন কাজ করার সক্ষমতাও কমে যেতে পারে।

অধ্যাপক ডা. মো. আইয়ূব আলী বলেন, সঠিক সময়ে স্কিন গ্রাফটিং ও পুনর্গঠনমূলক অস্ত্রোপচার করা হলে দাগ, ত্বকের সংকোচন ও বিকৃতি কমানোর পাশাপাশি অঙ্গের কর্মক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে সহায়তা পাওয়া যায়। চিকিৎসার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনও দগ্ধ ব্যক্তির স্বাভাবিক জীবনে ফেরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

সচেতনতাই দুর্ঘটনায় ক্ষতি কমানোর প্রথম পদক্ষেপ
অগ্নিদুর্ঘটনার সময় আতঙ্কিত হয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ। কিন্তু আগুন লাগলে কী করতে হবে, কী করা যাবে না এবং কখন জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে—এসব বিষয়ে আগে থেকেই ধারণা থাকলে বিপদের মুহূর্তে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।

ডা. মো. আইয়ূব আলীর মতে, পোড়ার ক্ষতি কমাতে দ্রুত ও সঠিক পদক্ষেপের পাশাপাশি ভুল চিকিৎসা এড়িয়ে চলাও জরুরি। এ জন্য পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে নিয়মিত অগ্নিনিরাপত্তা মহড়া এবং প্রাথমিক চিকিৎসাবিষয়ক প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কালের আলো/জেএন/এসএ

 

১৬ বছর আগের মামলায় বিপাকে বলিউড অভিনেত্রী রাখি

বিনোদন ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৯ অপরাহ্ণ
১৬ বছর আগের মামলায় বিপাকে বলিউড অভিনেত্রী রাখি

বলিউড অভিনেত্রী রাখি সাওয়ান্তের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন ভারতের উত্তর প্রদেশের ঝাঁসির একটি আদালত। ২০১০ সালের একটি মামলায় দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর এ আদেশ দেওয়া হয়েছে। একটি টেলিভিশন রিয়েলিটি শোতে এক যুবককে অপমান করার অভিযোগ এবং পরবর্তী সময়ে তাঁর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রাখি সাওয়ান্তকে আদালতে হাজির হতে হবে।

যেভাবে মামলার সূত্রপাত
২০১০ সালে এই মামলার সূত্রপাত। ঝাঁসির প্রেম নগর এলাকার বাসিন্দা লক্ষ্মণ নামের এক ব্যক্তি পারিবারিক বিরোধের জেরে রাখি সাওয়ান্তের সঞ্চালনায় একটি জনপ্রিয় টেলিভিশন রিয়েলিটি শোতে অংশ নিয়েছিলেন। অভিযোগ, ওই অনুষ্ঠানে সবার সামনে লক্ষ্মণকে নিয়ে আপত্তিকর ও অপমানজনক মন্তব্য করেন রাখি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, অনুষ্ঠানটির পর ওই যুবক সামাজিকভাবে হেনস্তার শিকার হন এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। একই বছরের নভেম্বরে তাঁর মৃত্যু হয়। তবে ওই মৃত্যুর সঙ্গে অনুষ্ঠানে করা মন্তব্যের সম্পর্ক নিয়ে অভিযোগের ভিত্তিতেই পরবর্তী সময়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

রাখিসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা
লক্ষ্মণের মৃত্যুর পর তাঁর মা রাখি সাওয়ান্তসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তাঁদের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং ইচ্ছাকৃতভাবে অপমান করার অভিযোগ আনা হয়।

মামলাটি তদন্তের পর পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে চলা আইনি প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় রাখি সাওয়ান্তের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করতে হবে
ঝাঁসির জেলা সরকারি আইনজীবী মৃদুলকান্ত শ্রীবাস্তবের বরাতে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রাখি সাওয়ান্তকে আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করতে হবে।

জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির ফলে মামলাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে আদালতের পরবর্তী শুনানি, রাখির আদালতে হাজিরা এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হয়, তা এখন দেখার বিষয়।

কালের আলো/জেএন/এসএ