খুঁজুন
                               
, ,
           

বাতি-ফ্যান চালিয়েই লাখ টাকার বিদ্যুৎ বিল!

নোয়াখালীর সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৭ পূর্বাহ্ণ
বাতি-ফ্যান চালিয়েই লাখ টাকার বিদ্যুৎ বিল!

কয়েকটি বাতি, দুটি ফ্যান, একটি ফ্রিজ আর একটি আইপিএস—একটি সাধারণ পরিবারের দৈনন্দিন বিদ্যুৎ ব্যবহারের সরঞ্জাম বলতে এটুকুই। এসব ব্যবহার করে প্রতি মাসে যেখানে বিদ্যুৎ বিল আসত গড়ে প্রায় ১ হাজার ৩০০ টাকা, সেখানে সেপ্টেম্বর মাসের বিল এসেছে ১ লাখ ১০ হাজার ৪৯৬ টাকা। বিলে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৬ হাজার ইউনিট। এমন অস্বাভাবিক বিল হাতে পেয়ে হতবাক ও ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছে পরিবারটি।

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের হরিকৃষ্ণপুর গ্রামের বড় তফদার বাড়িতে ঘটেছে এ ঘটনা। নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পাঠানো এই বিলকে ‘ভুতুড়ে’ বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহক শহীদুল ইসলাম ওরফে রনি। তাঁর দাবি, নিয়মিত বিল পরিশোধ করে আসার পরও হঠাৎ এত বড় অঙ্কের বিল পাঠানো হয়েছে, যা তাঁদের স্বাভাবিক বিদ্যুৎ ব্যবহারের সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

পাঁচ মাসে গড় ব্যবহার ১৮৭ ইউনিট, সেপ্টেম্বরে দেখানো ৬ হাজার

ভুক্তভোগী শহীদুল ইসলাম জানান, গত পাঁচ মাস ধরে তাঁদের বাড়িতে প্রতি মাসে গড়ে মাত্র ১৮৭ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়েছে। সেই হিসাবে সাধারণ বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে নিয়মিত বিলও এসেছে তুলনামূলক কম। কিন্তু সেপ্টেম্বর মাসের বিলে হঠাৎ বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৬ হাজার ইউনিট।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নথি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট মিটারটি নিবন্ধিত রয়েছে ওই বাড়ির মৃত আবু তাহেরের নামে। বর্তমানে মিটারটি ব্যবহার করছেন তাঁর নাতি শহীদুল ইসলাম। সেপ্টেম্বর মাসের বিলের সঙ্গে ভ্যাট ও বিলম্ব মাশুল যোগ করে মোট পাওনা দেখানো হয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৪৯৬ টাকা। শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা নিয়মিত বিল পরিশোধ করে আসছি। চলতি মাসে বিদ্যুৎ বিলের কপি হাতে পেয়ে আমরা স্তম্ভিত হয়ে যাই। সাধারণ বাতি-ফ্যান চালিয়ে কীভাবে এক লাখ টাকার বেশি বিল আসতে পারে?’ তাঁর অভিযোগ, বিল প্রস্তুতের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের গাফিলতি ও দায়িত্বহীনতার কারণেই এমন অস্বাভাবিক বিল তৈরি হয়েছে।

বিল সংশোধনে গ্রাহককেই কার্যালয়ে যাওয়ার পরামর্শ

অস্বাভাবিক বিল হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি বিদ্যুৎ বিল বিতরণের দায়িত্বে থাকা কর্মীকে জানান শহীদুল ইসলাম। এ সময় তাঁকে চাটখিল আঞ্চলিক কার্যালয়ে গিয়ে বিল সংশোধন করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এ পরামর্শে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, বিল তৈরিতে কর্তৃপক্ষের ভুল হলে তা সংশোধনের জন্য গ্রাহককে কেন বারবার কার্যালয়ে যেতে হবে? শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘তারা ভুল করবে, আর আমরা তা সংশোধনের জন্য তাদের দরজায় দরজায় ঘুরব—এটি কোন ধরনের কথা? আমি চাই, এই গাফিলতির জন্য দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’

ভুল স্বীকার পল্লী বিদ্যুতের, মিটার পরীক্ষার আশ্বাস

এ বিষয়ে নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চাটখিল আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) জুনায়েদুর রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি প্রথমে বিলের কপি না দেখে মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরে গ্রাহকের মূল বিলের কপি পাঠানো হলে তিনি বিষয়টি ভুলবশত হয়েছে বলে স্বীকার করেন। তিনি জানান, শিগগিরই সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের বাড়িতে লোক পাঠিয়ে মিটার পরীক্ষা করা হবে। এরপর দ্রুত বিল সংশোধন করে দেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।

ভুল বিলের দায় ও গ্রাহক ভোগান্তি নিয়ে প্রশ্ন

সাধারণ বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে লাখ টাকার বেশি বিল আসার ঘটনায় বিল প্রস্তুত ও মিটার রিডিংয়ের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে আগের মাসগুলোর গড় ব্যবহার যেখানে ১৮৭ ইউনিট, সেখানে এক মাসে ৬ হাজার ইউনিট ব্যবহারের হিসাব কীভাবে তৈরি হলো, তা যাচাই করা জরুরি। পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ মিটার পরীক্ষা ও বিল সংশোধনের আশ্বাস দিলেও সংশোধিত বিল কবে দেওয়া হবে এবং এ ঘটনায় কোনো কর্মীর গাফিলতি ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। অস্বাভাবিক বিলের কারণে গ্রাহককে যেন অযথা আর্থিক চাপ ও ভোগান্তিতে পড়তে না হয়, সে বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রত্যাশা ভুক্তভোগী পরিবারের।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

দুর্গাপূজায় সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৫ দিনের ছুটি শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৫ অপরাহ্ণ
দুর্গাপূজায় সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৫ দিনের ছুটি শুরু

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি চাকরিজীবীদের টানা পাঁচ দিনের ছুটি শুরু হয়েছে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর)। দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি কাটাবেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ ছুটি সমন্বয়ের জন্য গত ১৭ অক্টোবর শনিবার সরকারি অফিস-আদালত খোলা রাখা হয়েছিল।

দীর্ঘ ছুটি পেয়ে অনেক কর্মজীবী মানুষ গ্রামের বাড়িতে গেছেন। ছুটি শুরুর আগে সোমবার বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে ঘরমুখী মানুষের ভিড় দেখা যায়। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে পূজার সময় কাটাতে এবং ছুটি উপভোগ করতে অনেকেই রাজধানী ছেড়ে নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা হন। দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার এক দিনের সরকারি ছুটির প্রস্তাব মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন করা হয়। এর ফলে নির্ধারিত সরকারি ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য টানা পাঁচ দিনের অবকাশ তৈরি হয়েছে।

ছুটির সূচি অনুযায়ী, ২০ ও ২১ অক্টোবর দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি নির্ধারিত ছিল। এর সঙ্গে ২২ অক্টোবরের অতিরিক্ত ছুটি যুক্ত হওয়ায় ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ছুটি পাচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ২৩ ও ২৪ অক্টোবর যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। এই ছুটির ব্যবস্থা করতে ১৭ অক্টোবর শনিবার অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ফলে সরকারি চাকরিজীবীরা একটানা পাঁচ দিন ছুটি কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন।

সরকারি অফিস-আদালতের তুলনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটির সময় আরও দীর্ঘ। শ্রীশ্রী দুর্গাপূজা, বিজয়া দশমী, প্রবারণা পূর্ণিমা ও শ্রীশ্রী লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটি চলছে। ছুটির আগে ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ছিল শেষ কর্মদিবস। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পৃথক নোটিশ অনুযায়ী, ১৮ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত স্কুলের শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়েছে। দুর্গাপূজা, বিজয়া দশমী (২১ অক্টোবর), প্রবারণা পূর্ণিমা ও লক্ষ্মীপূজা (২৫ অক্টোবর) উপলক্ষে এ ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ২৬ অক্টোবর থেকে স্কুলে নিয়মিত সময়সূচিতে শ্রেণি পাঠদানসহ অন্যান্য কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। কলেজ শাখার শ্রেণি কার্যক্রমে ছুটির সময়সীমা আরও কয়েক দিন বেশি। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কলেজের শ্রেণি পাঠদান ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এরপর ১ নভেম্বর থেকে নির্ধারিত রুটিন অনুযায়ী একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পাঠদান শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

ফলে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সরকারি চাকরিজীবী, স্কুলশিক্ষার্থী ও কলেজশিক্ষার্থীদের ছুটির সূচিতে পার্থক্য থাকছে। সরকারি চাকরিজীবীরা ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ছুটি পেলেও স্কুলে পাঠদান শুরু হওয়ার কথা ২৬ অক্টোবর এবং কলেজে ১ নভেম্বর থেকে। টানা ছুটিকে ঘিরে কর্মজীবী মানুষের মধ্যে বাড়ি ফেরার প্রবণতা দেখা গেছে। সোমবার বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। দীর্ঘ ছুটির সুযোগে অনেকেই পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে এবং উৎসব উদ্‌যাপন করতে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে যাত্রা করেছেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

 

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলে দেশ গড়ার আহ্বান তারেক রহমানের

রংপুর সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০৪ অপরাহ্ণ
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলে দেশ গড়ার আহ্বান তারেক রহমানের

মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে সব ধর্মের মানুষের অবদান রয়েছে। এখন সবাইকে একসঙ্গে কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রংপুরের পাগলাপীরে আয়োজিত এক পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমী উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানাতে তিনি সেখানে যান।

সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে দেশ গড়ার আহ্বান

পথসভায় তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে মিলে দেশ স্বাধীন করেছেন। এখন দেশ গড়ার কাজেও সবাইকে একসঙ্গে অংশ নিতে হবে। ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে প্রত্যেকের প্রত্যাশা হওয়া উচিত, ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নেওয়া। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্মিলিতভাবে দেশ গড়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। তিনি সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

খেটে খাওয়া মানুষের পাশে থাকার কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর দেশের মানুষ বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।

সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃষকদের কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে, ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হয়েছে এবং শিগগিরই কৃষক কার্ড চালু করা হবে। পাশাপাশি ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য মাসিক ভাতার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। সমাজের প্রতিটি শ্রেণি ও পেশার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে সরকার বলে জানান তারেক রহমান। তাঁর বক্তব্যে কৃষক, নিম্ন আয়ের মানুষ এবং ধর্মীয় নেতাদের সহায়তার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

দুর্গোৎসবে শুভেচ্ছা জানাতে রংপুরে প্রধানমন্ত্রী

এর আগে শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমী উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানাতে রংপুরের পাগলাপীরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে তাঁর এই সফরে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সব সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আসে। পথসভায়ও তিনি সব ধর্মের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশ গড়ার ওপর জোর দেন।

প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে সড়কের দুই পাশে মানুষের ভিড়

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সৈয়দপুর থেকে রংপুরের সড়কের দুই পাশে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ ভিড় করেন। কয়েক কিলোমিটার সড়কজুড়ে উৎসুক মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়। এ সময় তাঁরা হাত নেড়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে দেশ গড়ার আহ্বান এবং সরকারের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান তাঁর বক্তব্য দেন। ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের উন্নয়নে কাজ করার বার্তাই ছিল তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয়।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

রায়পুর ৫০ শয্যা সরকারি হাসপাতাল

৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কারের পরও ঝুঁকিপূর্ণ হাসপাতাল, খসে পড়ছে ছাদের পলেস্তারা

লক্ষ্মীপুর সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৮ অপরাহ্ণ
৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কারের পরও ঝুঁকিপূর্ণ হাসপাতাল, খসে পড়ছে ছাদের পলেস্তারা

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৫০ শয্যাবিশিষ্ট সরকারি হাসপাতালের পুরোনো ভবনে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনায় চিকিৎসক ও রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার দুপুরে ভবনের নিচতলার একটি কক্ষে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়লে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার চিকিৎসক রাইসাসহ চারজন রোগী। এর আগে গত ১ অক্টোবর হাসপাতালের রেস্টরুমে পাখাসহ ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে চিকিৎসক ডা. ফৌজিয়া মোস্তফার কাঁধের ওপর। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

হাসপাতালের পুরোনো ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেখানে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী ও তাঁদের স্বজনদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, গত বছর প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে পুরোনো ভবন ও চিকিৎসকদের আবাসিক ভবন সংস্কার করা হলেও গত কয়েক মাস ধরে হাসপাতালের বিভিন্ন কক্ষে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। এতে চিকিৎসক, কর্মচারী ও রোগীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

দুপুরে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ল

সোমবার (১৯ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে রায়পুর সরকারি হাসপাতালের পুরোনো ভবনের নিচতলার ১২১ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার সময় কক্ষে চিকিৎসক ও রোগীরা অবস্থান করছিলেন। তবে অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।

হাসপাতাল সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত প্রায় চার মাস ধরে ভবনের প্রায় প্রতিটি কক্ষের ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে। কখনো কর্তব্যরত চিকিৎসকদের ওপর, কখনো রোগীদের অবস্থানের জায়গায় এসব অংশ ভেঙে পড়ছে। এ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা মানুষজনকে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে অবস্থান করতে হচ্ছে। সোমবারের ঘটনার পর ঝুঁকিপূর্ণ অংশের নিচে অবস্থান করা রোগীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে ভবনের অন্যান্য অংশের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই গেছে।

এর আগে পাখাসহ পলেস্তারা পড়ে আহত চিকিৎসক

গত ১ অক্টোবর দুপুরে হাসপাতালের রেস্টরুমে অবস্থান করছিলেন চিকিৎসক ডা. ফৌজিয়া মোস্তফা। এ সময় ছাদের পলেস্তারা পাখাসহ খসে তাঁর কাঁধের ওপর পড়ে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরপর এ ধরনের ঘটনা ঘটায় হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো দ্রুত মেরামত না করা হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে রোগীদের ভিড় থাকা কক্ষগুলোতে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়লে প্রাণহানি বা গুরুতর আহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কারের পরও কেন এই দশা?

হাসপাতাল সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছর রায়পুর সরকারি হাসপাতালের পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ ভবন এবং চিকিৎসকদের আবাসিক ভবন প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হয়েছিল। কিন্তু সংস্কারের পরও পুরোনো ভবনের বিভিন্ন কক্ষের ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনা বন্ধ হয়নি।

গত চার মাস ধরে প্রায় প্রতিটি কক্ষে এ ধরনের সমস্যা দেখা দেওয়ায় সংস্কারকাজের মান ও ভবনের প্রকৃত নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে সংস্কারকাজে কোনো অনিয়ম হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে কোনো তদন্তের তথ্য পাওয়া যায়নি। রোগী ও তাঁদের স্বজনদের দাবি, বড় কোনো দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটার আগেই ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ অংশ চিহ্নিত করে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করা এবং চিকিৎসাসেবা চালু রাখার ক্ষেত্রে রোগীদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

বারবার জানানোর পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেই: তত্ত্বাবধায়ক

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নাঈমা নুসরাত জাবীন বলেন, হাসপাতালের পুরোনো ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। অবকাঠামোগত ঝুঁকির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো হয়েছে। কিন্তু জানানোর পরও ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন স্থানের ঝুঁকিপূর্ণ সরঞ্জাম ও অবকাঠামো নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি সতর্ক করে বলেন, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে যেকোনো সময় আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

দ্রুত সংস্কার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি

একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে রোগীদের যেন ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে থাকতে না হয়, সে জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার কারণ নির্ধারণ, ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ পরিদর্শন এবং প্রয়োজনীয় মেরামতকাজের মাধ্যমে চিকিৎসক, কর্মচারী ও রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রায়পুর সরকারি হাসপাতালের পুরোনো ভবনে ধারাবাহিকভাবে পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনা ভবনটির নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করেছে। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ঝুঁকির কথা জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগের মধ্যে এখন বড় দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন চিকিৎসক, রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি