খুঁজুন
                               
, ,
           

পানির ওপর চাষ, বছরে আয় ১০ কোটি টাকা!

পিরোজপুর সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৩ অপরাহ্ণ
পানির ওপর চাষ, বছরে আয় ১০ কোটি টাকা!

বছরের প্রায় ছয় মাস পানিতে নিমজ্জিত থাকে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার দেউলবাড়ি-দোবরা ও নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা। বর্ষায় জলাবদ্ধতা যেখানে অনেকের জীবিকা ও কৃষিকাজের জন্য বড় বাধা, সেখানে সেই পানিকেই কাজে লাগিয়ে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলেছেন স্থানীয় কৃষকেরা। ভাসমান বেড ও ধাপ পদ্ধতিতে উৎপাদন করছেন বিভিন্ন জাতের সবজির চারা। প্রতি মৌসুমে উৎপাদিত প্রায় এক কোটি চারা বিক্রি করে আয় হচ্ছে প্রায় ১০ কোটি টাকা। এ কৃষিকাজকে ঘিরে জীবিকার পথ তৈরি হয়েছে হাজারো পরিবারের।

প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই চাষপদ্ধতি স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পুরুষের পাশাপাশি এতে যুক্ত হয়েছেন নারীরাও। তবে পর্যাপ্ত পুঁজি, প্রশিক্ষণ ও সরকারি সহায়তার অভাবে অনেক নারী শ্রমিক ও উদ্যোক্তা নিজেদের উদ্যোগ বড় করতে পারছেন না। সহজ শর্তে ঋণ ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ পেলে এ খাতে কর্মসংস্থান ও আয় আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নাজিরপুরের দেউলবাড়ি-দোবরা এবং নেছারাবাদের বলদিয়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ বিলাঞ্চলে ভাসমান বেড ও ধাপ পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন করা হয়। জলাবদ্ধ জমিতে প্রচলিত পদ্ধতিতে চাষাবাদ কঠিন হলেও পানির ওপর তৈরি বেডে বীজ বুনে চারা উৎপাদন করছেন কৃষকেরা।

লাউ, মিষ্টিকুমড়া, শিম, পেঁপে, করলা, বেগুন ও মরিচসহ বিভিন্ন জাতের সবজির চারা উৎপাদিত হচ্ছে এসব বেডে। পরে চারা সংগ্রহ করে স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়। পিরোজপুর ছাড়াও খুলনা, যশোর, গোপালগঞ্জ, বরিশাল ও ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষক ও ব্যবসায়ীরা এসব চারা কিনে নেন।

দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও শ্রমের সমন্বয়ে এই চাষপদ্ধতি টিকে আছে। সময়ের সঙ্গে উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তন এলেও এর সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি। তবু ভাসমান বেডে চারা উৎপাদনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে স্থানীয় পর্যায়ে একটি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, যেখানে কৃষক, নারী শ্রমিক ও চারার ব্যবসায়ীরা যুক্ত রয়েছেন। নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের গগন গ্রামের কৃষক জাকির হোসেনের স্ত্রী নুরজাহান বেগম। বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে এসে ২০০৫ সাল থেকে ভাসমান বেডে সবজির চারা উৎপাদনের কাজ শুরু করেন তিনি। ধীরে ধীরে নিজের কাজের পরিসর বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় অসহায় ও কর্মহীন নারীদেরও যুক্ত করেছেন এই কাজে। বর্তমানে তাঁর সঙ্গে কাজ করছেন প্রায় ১০ জন নারী।

কাজের জায়গায় কেউ দুলালী লতা দিয়ে তৈরি ম্যাদার ভেতর বিভিন্ন জাতের সবজির বীজ বুনছেন, কেউ আবার অঙ্কুরিত চারা সাজিয়ে রাখছেন। পানির ওপর তৈরি বেডে এভাবেই বেড়ে উঠছে নতুন চারা। এই কাজ নুরজাহানের নিজের আয়ের পাশাপাশি অন্য নারীদেরও উপার্জনের সুযোগ তৈরি করেছে। তবে উদ্যোগটি আরও বড় করার স্বপ্ন থাকলেও পুঁজির অভাবে এগোতে পারছেন না তিনি। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও সরকারি সহায়তার ঘাটতিও তাঁর জন্য বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নুরজাহান বেগম বলেন, ‘আমি একজন নারী উদ্যোক্তা। ২০০৫ সাল থেকে এই কাজ করে আসছি। অনেক পরিবার দুঃখ-কষ্টে আছে। আমি তাদের সামনে এগিয়ে নিতে চাই, কিন্তু পারছি না। সরকার যদি বিনা সুদে ঋণ দিত, তাহলে সামনে এগোতে পারতাম। নারীদের কাজ দিতে পারতাম, তারা ছেলেমেয়েদের মানুষ করতে পারত। আমি ঘরে বসে থাকা নারীদের নিয়ে কাজ করতে চাই, তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই।’

ভাসমান বেডে চারা উৎপাদনের বিভিন্ন ধাপে নারীরা শ্রম দেন। কেউ বীজ বোনেন, কেউ চারা তৈরির উপকরণ প্রস্তুত করেন, আবার কেউ অঙ্কুরিত চারা সাজিয়ে রাখেন। কাজের পরিমাণ ও ধরন অনুযায়ী তাঁদের আয় হয়। প্রাথমিক কাজের অংশ হিসেবে এক হাজার দুলালী লতা দিয়ে ম্যাদা তৈরি করলে মজুরি মেলে ১৫০ টাকা।

বলদিয়া গ্রামের নারী শ্রমিক রহিমা বেগম জানান, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পরিশ্রম করেও অনেক সময় ২০০ টাকা আয় করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হওয়ায় বাধ্য হয়েই তাঁরা এ কাজ করছেন। তিনি বলেন, ‘সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত কাজ করি। সারাদিন এত পরিশ্রম করেও ২০০ টাকা আয় করতে অনেক কষ্ট হয়। নারীদের আর কোনো কাজ নেই, তাই এগুলোই করি। আমাদের ভালো প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে ভালো হতো। এক হাজার ম্যাদা বানিয়ে দেড়শ টাকা পাই। তাতে কি আর সংসার চলে!’

স্থানীয় নারী শ্রমিকদের মতে, কাজের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা গেলে তাঁদের অনেকেই নিজেরাই উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে পারবেন। এতে শুধু ব্যক্তিগত আয় বাড়বে না, গ্রামীণ এলাকায় নতুন কর্মসংস্থানও তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যেসব নারী ঘরের বাইরে কাজের সুযোগ পান না, তাঁদের জন্য এ খাত বিকল্প জীবিকার পথ খুলে দিতে পারে।

ভাসমান বেডে উৎপাদিত চারার বাজার শুধু পিরোজপুরে সীমাবদ্ধ নয়। দেশের বিভিন্ন জেলার কৃষকেরা এসব চারা কিনে নিয়ে নিজেদের জমিতে চাষ করেন। ফলে স্থানীয় উৎপাদনব্যবস্থার সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের কৃষিকাজেরও যোগসূত্র তৈরি হয়েছে। ভাসমান বেডে চারা উৎপাদনকারী কৃষক লুৎফুর রহমান বলেন, ‘এখানে সকাল ছয়টায় কাজ করতে আসি। বেডে চারা রোপণ করি, ওষুধ দিই, লতা পরিষ্কার করি। এখানকার চারা ঢাকা, খুলনা, গোপালগঞ্জ, বরিশালসহ অনেক জায়গায় যায়। প্রতিবছর এখানে লাখ লাখ চারা উৎপাদন হয়। বিভিন্ন জাতের সবজির চারা প্রতিটি ৩ থেকে ৭ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।’ চারা উৎপাদনের পাশাপাশি পরিবহন, পাইকারি ও খুচরা বিক্রির কাজেও অনেকে যুক্ত রয়েছেন। এতে উৎপাদক কৃষকদের বাইরেও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

পিরোজপুর পৌর শহরে এসব চারা খুচরা বিক্রি করেন রফিক শেখ। তিনি নাজিরপুরের ভাসমান বেড থেকে বিভিন্ন জাতের চারা কিনে এনে বিক্রি করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিটি চারা ৫ থেকে ৭ টাকা দরে কিনে ১০ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি করেন তিনি। তবে পরিবহন খরচ, অবিক্রীত চারা ও অন্যান্য ব্যয়ের কারণে এই দামের পুরো ব্যবধান তাঁর লাভ নয়।

পিরোজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সৌমিত্র সরকার জানান, নাজিরপুর ও নেছারাবাদে ভাসমান বেডে উৎপাদিত সবজির চারা খুলনা, যশোর, ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে। এ পেশার সঙ্গে প্রায় ছয় হাজার কৃষক জড়িত। কৃষি অফিস থেকে তাঁদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রতি মৌসুমে ভাসমান বেডে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় এক কোটি সবজির চারা উৎপাদিত হয়। এসব চারা বিক্রি করে প্রায় ১০ কোটি টাকা আয় হয়। এই পরিসংখ্যান ভাসমান বেডে চারা উৎপাদনের অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে। তবে উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে যুক্ত কৃষক এবং শ্রমিকদের আয় এক রকম নয়। চারার দাম, উৎপাদন খরচ, শ্রমিকের মজুরি, পরিবহন ব্যয় ও বাজারের চাহিদার ওপর নির্ভর করে তাঁদের প্রকৃত আয় নির্ধারিত হয়।

প্রায় দুই শতাব্দীর ঐতিহ্য বহন করা ভাসমান বেডে চারা উৎপাদন এখন স্থানীয় অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জলাবদ্ধ এলাকাকে কাজে লাগিয়ে কৃষকেরা যেমন আয়ের পথ তৈরি করেছেন, তেমনি এ উদ্যোগে নারীদের অংশগ্রহণও বাড়ছে। কিন্তু পর্যাপ্ত পুঁজি, আধুনিক উৎপাদনকৌশল সম্পর্কে প্রশিক্ষণ এবং সহজ শর্তে ঋণের সুযোগ না থাকায় অনেক সম্ভাবনাময় উদ্যোগ ছোট পরিসরেই আটকে আছে।

বিশেষ করে নুরজাহানের মতো নারী উদ্যোক্তারা যদি প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা ও প্রশিক্ষণ পান, তাহলে তাঁরা আরও বেশি নারীকে কাজে যুক্ত করতে পারবেন। এতে নারীদের নিজস্ব আয় বাড়ার পাশাপাশি পরিবারগুলোর আর্থিক নিরাপত্তা জোরদার হতে পারে। ভাসমান বেডে চারা উৎপাদনের এই ঐতিহ্যকে টেকসই করতে উৎপাদনের মান উন্নয়ন, বাজারসংযোগ, প্রশিক্ষণ এবং নারী উদ্যোক্তাদের জন্য উপযোগী ঋণসুবিধা গুরুত্বপূর্ণ। জলাবদ্ধতাকে সম্ভাবনায় রূপ দেওয়া এই কৃষিপদ্ধতি প্রমাণ করছে, স্থানীয় জ্ঞান ও শ্রমের সঙ্গে যথাযথ সহায়তা যুক্ত হলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

দুর্গাপূজায় সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৫ দিনের ছুটি শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৫ অপরাহ্ণ
দুর্গাপূজায় সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৫ দিনের ছুটি শুরু

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি চাকরিজীবীদের টানা পাঁচ দিনের ছুটি শুরু হয়েছে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর)। দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি কাটাবেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ ছুটি সমন্বয়ের জন্য গত ১৭ অক্টোবর শনিবার সরকারি অফিস-আদালত খোলা রাখা হয়েছিল।

দীর্ঘ ছুটি পেয়ে অনেক কর্মজীবী মানুষ গ্রামের বাড়িতে গেছেন। ছুটি শুরুর আগে সোমবার বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে ঘরমুখী মানুষের ভিড় দেখা যায়। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে পূজার সময় কাটাতে এবং ছুটি উপভোগ করতে অনেকেই রাজধানী ছেড়ে নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা হন। দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার এক দিনের সরকারি ছুটির প্রস্তাব মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন করা হয়। এর ফলে নির্ধারিত সরকারি ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য টানা পাঁচ দিনের অবকাশ তৈরি হয়েছে।

ছুটির সূচি অনুযায়ী, ২০ ও ২১ অক্টোবর দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি নির্ধারিত ছিল। এর সঙ্গে ২২ অক্টোবরের অতিরিক্ত ছুটি যুক্ত হওয়ায় ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ছুটি পাচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ২৩ ও ২৪ অক্টোবর যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। এই ছুটির ব্যবস্থা করতে ১৭ অক্টোবর শনিবার অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ফলে সরকারি চাকরিজীবীরা একটানা পাঁচ দিন ছুটি কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন।

সরকারি অফিস-আদালতের তুলনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটির সময় আরও দীর্ঘ। শ্রীশ্রী দুর্গাপূজা, বিজয়া দশমী, প্রবারণা পূর্ণিমা ও শ্রীশ্রী লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটি চলছে। ছুটির আগে ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ছিল শেষ কর্মদিবস। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পৃথক নোটিশ অনুযায়ী, ১৮ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত স্কুলের শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়েছে। দুর্গাপূজা, বিজয়া দশমী (২১ অক্টোবর), প্রবারণা পূর্ণিমা ও লক্ষ্মীপূজা (২৫ অক্টোবর) উপলক্ষে এ ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ২৬ অক্টোবর থেকে স্কুলে নিয়মিত সময়সূচিতে শ্রেণি পাঠদানসহ অন্যান্য কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। কলেজ শাখার শ্রেণি কার্যক্রমে ছুটির সময়সীমা আরও কয়েক দিন বেশি। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কলেজের শ্রেণি পাঠদান ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এরপর ১ নভেম্বর থেকে নির্ধারিত রুটিন অনুযায়ী একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পাঠদান শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

ফলে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সরকারি চাকরিজীবী, স্কুলশিক্ষার্থী ও কলেজশিক্ষার্থীদের ছুটির সূচিতে পার্থক্য থাকছে। সরকারি চাকরিজীবীরা ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ছুটি পেলেও স্কুলে পাঠদান শুরু হওয়ার কথা ২৬ অক্টোবর এবং কলেজে ১ নভেম্বর থেকে। টানা ছুটিকে ঘিরে কর্মজীবী মানুষের মধ্যে বাড়ি ফেরার প্রবণতা দেখা গেছে। সোমবার বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। দীর্ঘ ছুটির সুযোগে অনেকেই পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে এবং উৎসব উদ্‌যাপন করতে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে যাত্রা করেছেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

 

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলে দেশ গড়ার আহ্বান তারেক রহমানের

রংপুর সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০৪ অপরাহ্ণ
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলে দেশ গড়ার আহ্বান তারেক রহমানের

মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে সব ধর্মের মানুষের অবদান রয়েছে। এখন সবাইকে একসঙ্গে কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রংপুরের পাগলাপীরে আয়োজিত এক পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমী উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানাতে তিনি সেখানে যান।

সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে দেশ গড়ার আহ্বান

পথসভায় তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে মিলে দেশ স্বাধীন করেছেন। এখন দেশ গড়ার কাজেও সবাইকে একসঙ্গে অংশ নিতে হবে। ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে প্রত্যেকের প্রত্যাশা হওয়া উচিত, ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নেওয়া। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্মিলিতভাবে দেশ গড়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। তিনি সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

খেটে খাওয়া মানুষের পাশে থাকার কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর দেশের মানুষ বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।

সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃষকদের কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে, ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হয়েছে এবং শিগগিরই কৃষক কার্ড চালু করা হবে। পাশাপাশি ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য মাসিক ভাতার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। সমাজের প্রতিটি শ্রেণি ও পেশার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে সরকার বলে জানান তারেক রহমান। তাঁর বক্তব্যে কৃষক, নিম্ন আয়ের মানুষ এবং ধর্মীয় নেতাদের সহায়তার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

দুর্গোৎসবে শুভেচ্ছা জানাতে রংপুরে প্রধানমন্ত্রী

এর আগে শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমী উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানাতে রংপুরের পাগলাপীরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে তাঁর এই সফরে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সব সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আসে। পথসভায়ও তিনি সব ধর্মের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশ গড়ার ওপর জোর দেন।

প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে সড়কের দুই পাশে মানুষের ভিড়

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সৈয়দপুর থেকে রংপুরের সড়কের দুই পাশে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ ভিড় করেন। কয়েক কিলোমিটার সড়কজুড়ে উৎসুক মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়। এ সময় তাঁরা হাত নেড়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে দেশ গড়ার আহ্বান এবং সরকারের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান তাঁর বক্তব্য দেন। ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের উন্নয়নে কাজ করার বার্তাই ছিল তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয়।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

রায়পুর ৫০ শয্যা সরকারি হাসপাতাল

৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কারের পরও ঝুঁকিপূর্ণ হাসপাতাল, খসে পড়ছে ছাদের পলেস্তারা

লক্ষ্মীপুর সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৮ অপরাহ্ণ
৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কারের পরও ঝুঁকিপূর্ণ হাসপাতাল, খসে পড়ছে ছাদের পলেস্তারা

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৫০ শয্যাবিশিষ্ট সরকারি হাসপাতালের পুরোনো ভবনে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনায় চিকিৎসক ও রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার দুপুরে ভবনের নিচতলার একটি কক্ষে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়লে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার চিকিৎসক রাইসাসহ চারজন রোগী। এর আগে গত ১ অক্টোবর হাসপাতালের রেস্টরুমে পাখাসহ ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে চিকিৎসক ডা. ফৌজিয়া মোস্তফার কাঁধের ওপর। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

হাসপাতালের পুরোনো ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেখানে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী ও তাঁদের স্বজনদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, গত বছর প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে পুরোনো ভবন ও চিকিৎসকদের আবাসিক ভবন সংস্কার করা হলেও গত কয়েক মাস ধরে হাসপাতালের বিভিন্ন কক্ষে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। এতে চিকিৎসক, কর্মচারী ও রোগীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

দুপুরে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ল

সোমবার (১৯ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে রায়পুর সরকারি হাসপাতালের পুরোনো ভবনের নিচতলার ১২১ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার সময় কক্ষে চিকিৎসক ও রোগীরা অবস্থান করছিলেন। তবে অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।

হাসপাতাল সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত প্রায় চার মাস ধরে ভবনের প্রায় প্রতিটি কক্ষের ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে। কখনো কর্তব্যরত চিকিৎসকদের ওপর, কখনো রোগীদের অবস্থানের জায়গায় এসব অংশ ভেঙে পড়ছে। এ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা মানুষজনকে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে অবস্থান করতে হচ্ছে। সোমবারের ঘটনার পর ঝুঁকিপূর্ণ অংশের নিচে অবস্থান করা রোগীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে ভবনের অন্যান্য অংশের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই গেছে।

এর আগে পাখাসহ পলেস্তারা পড়ে আহত চিকিৎসক

গত ১ অক্টোবর দুপুরে হাসপাতালের রেস্টরুমে অবস্থান করছিলেন চিকিৎসক ডা. ফৌজিয়া মোস্তফা। এ সময় ছাদের পলেস্তারা পাখাসহ খসে তাঁর কাঁধের ওপর পড়ে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরপর এ ধরনের ঘটনা ঘটায় হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো দ্রুত মেরামত না করা হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে রোগীদের ভিড় থাকা কক্ষগুলোতে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়লে প্রাণহানি বা গুরুতর আহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কারের পরও কেন এই দশা?

হাসপাতাল সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছর রায়পুর সরকারি হাসপাতালের পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ ভবন এবং চিকিৎসকদের আবাসিক ভবন প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হয়েছিল। কিন্তু সংস্কারের পরও পুরোনো ভবনের বিভিন্ন কক্ষের ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনা বন্ধ হয়নি।

গত চার মাস ধরে প্রায় প্রতিটি কক্ষে এ ধরনের সমস্যা দেখা দেওয়ায় সংস্কারকাজের মান ও ভবনের প্রকৃত নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে সংস্কারকাজে কোনো অনিয়ম হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে কোনো তদন্তের তথ্য পাওয়া যায়নি। রোগী ও তাঁদের স্বজনদের দাবি, বড় কোনো দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটার আগেই ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ অংশ চিহ্নিত করে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করা এবং চিকিৎসাসেবা চালু রাখার ক্ষেত্রে রোগীদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

বারবার জানানোর পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেই: তত্ত্বাবধায়ক

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নাঈমা নুসরাত জাবীন বলেন, হাসপাতালের পুরোনো ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। অবকাঠামোগত ঝুঁকির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো হয়েছে। কিন্তু জানানোর পরও ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন স্থানের ঝুঁকিপূর্ণ সরঞ্জাম ও অবকাঠামো নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি সতর্ক করে বলেন, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে যেকোনো সময় আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

দ্রুত সংস্কার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি

একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে রোগীদের যেন ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে থাকতে না হয়, সে জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার কারণ নির্ধারণ, ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ পরিদর্শন এবং প্রয়োজনীয় মেরামতকাজের মাধ্যমে চিকিৎসক, কর্মচারী ও রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রায়পুর সরকারি হাসপাতালের পুরোনো ভবনে ধারাবাহিকভাবে পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনা ভবনটির নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করেছে। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ঝুঁকির কথা জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগের মধ্যে এখন বড় দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন চিকিৎসক, রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি