খুঁজুন
                               
, ,
           

পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে রংপুরের পথে প্রধানমন্ত্রী, তারাগঞ্জে পথসভা

রংপুর সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ
পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে রংপুরের পথে প্রধানমন্ত্রী, তারাগঞ্জে পথসভা

শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমীতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করতে রংপুরে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে ঢাকা থেকে সামরিক বিমানে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। পরে বুলেটপ্রুফ বাসে রংপুরের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী।

সকাল সোয়া ১১টার দিকে এ প্রতিবেদন লেখার সময় প্রধানমন্ত্রী সৈয়দপুর থেকে রংপুর যাওয়ার পথে তারাগঞ্জে একটি পথসভায় বক্তব্য দিচ্ছিলেন। দুর্গাপূজা উপলক্ষে রংপুর ছাড়াও রাজশাহী ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে তাঁর।

এর আগে মঙ্গলবার সকাল ৯টায় তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাঁকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফারহাদ হোসেন আজাদ, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী চৌধুরী এবং রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান সামু।

এ সময় রংপুর বিভাগীয় কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম, ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে বুলেটপ্রুফ বাসে রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করেন প্রধানমন্ত্রী। পথে তারাগঞ্জে একটি পথসভায় বক্তব্য দেন তিনি। এরপর রংপুরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

 

 

দেশে অনাহারেও কিমের অবকাশে কোটি ডলারের নৌযান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৮ অপরাহ্ণ
দেশে অনাহারেও কিমের অবকাশে কোটি ডলারের নৌযান

উত্তর কোরিয়ার সাধারণ মানুষের একাংশ যখন দীর্ঘস্থায়ী খাদ্যসংকট, অপুষ্টি ও কঠোর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের মধ্যে জীবন কাটাচ্ছেন, তখন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং–উনের অবকাশযাপনের জন্য রয়েছে বিলাসবহুল নৌযানের বহর। উত্তর কোরিয়ার ওয়ানসান উপকূলে কিমের অবকাশকেন্দ্রের আশপাশে চারটি বড় নৌযানের উপস্থিতি শনাক্ত করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে তোলা ছবিতে দেখা গেছে, নৌযানগুলোর দৈর্ঘ্য আনুমানিক ৫০, ৫৫, ৬০ ও ৮০ মিটার। এগুলো কিম ও তাঁর পরিবারের ব্যক্তিগত বিনোদনের কাজে ব্যবহৃত হয় বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। নৌযানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়টির দৈর্ঘ্য প্রায় ৮০ মিটার বা ২৬৩ ফুট। এর ডেকে রয়েছে প্রায় ৫০ মিটার দীর্ঘ একটি সুইমিংপুল, যার এক প্রান্তে রয়েছে ওয়াটার স্লাইড। দীর্ঘদিন একটি মেরামতকেন্দ্রে থাকার পর গত জুলাইয়ের শুরুতে নৌযানটিকে ওয়ানসানের কালমা উপদ্বীপের উপকূলীয় জলসীমায় দেখা যায়। জুলাই থেকে অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত স্যাটেলাইট ছবিতে নৌযানটির উপস্থিতি বারবার ধরা পড়েছে। বিবিসির বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, শুধু বড় নৌযানটিই নয়, কিমের অবকাশকেন্দ্রের আশপাশে থাকা অন্য নৌযানগুলোর চলাচলও নজরে এসেছে। এসব নৌযানের মালিকানা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তবে উত্তর কোরিয়ার সাবেক কর্মকর্তা, দেশত্যাগী নাগরিক এবং বিশেষজ্ঞদের ধারণা, দেশটির শাসকগোষ্ঠীর বাইরে কারও পক্ষে এ ধরনের ব্যয়বহুল নৌযানের মালিক হওয়া অত্যন্ত কঠিন।

কিমের অবকাশকেন্দ্র ঘিরে চার নৌযানের আনাগোনা
বিবিসির শনাক্ত করা চারটি নৌযানের দৈর্ঘ্য আনুমানিক ৫০, ৫৫, ৬০ ও ৮০ মিটার। চলতি বছর বিভিন্ন সময়ে এগুলোকে ওয়ানসানের কালমা উপদ্বীপ এবং আশপাশের দ্বীপগুলোর জলসীমায় দেখা গেছে। এর মধ্যে ৮০ মিটার দীর্ঘ নৌযানটির উপস্থিতি সবচেয়ে স্পষ্টভাবে শনাক্ত হয়েছে। ৫০ ও ৫৫ মিটার দীর্ঘ দুটি নৌযানকে আগস্টের শেষ পর্যন্ত ওয়ানসানের কাছে তে ও সিন দ্বীপের আশপাশে বারবার দেখা গেছে। স্যাটেলাইট ছবিতে ৫০ মিটার দীর্ঘ নৌযানটির পাশে চারটি ছোট নৌকাও দেখা যায়। অন্যদিকে, ৬০ মিটার দীর্ঘ নৌযানটিকে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত কিমের অবকাশকেন্দ্রের কাছাকাছি অবস্থান করতে দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব নৌযানের অবস্থান ও চলাচল কিমের ব্যক্তিগত অবকাশযাপনের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে স্যাটেলাইট ছবিতে কোনো নৌযানকে নির্দিষ্ট স্থানে দেখা গেলেই সেখানে কিম বা তাঁর পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

নৌযানগুলো কীভাবে ব্যবহার করা হয়
উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির ‘৩৯ নম্বর দপ্তরে’ একসময় কাজ করতেন রি জং হো। দেশটির শাসকগোষ্ঠীর বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে এই দপ্তর জড়িত বলে ধারণা করা হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি উত্তর কোরিয়া ছেড়ে চলে যান। রি জং হোর ভাষ্য অনুযায়ী, শীতকালে এসব নৌযান জাহাজ নির্মাণকেন্দ্রে রাখা হয়। গ্রীষ্ম এলে সেখান থেকে সরিয়ে কিমের ভিলা বা কালমা উপদ্বীপের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কিম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা সাঁতার কাটা এবং বিনোদনের কাজে এগুলো ব্যবহার করেন বলে তিনি জানান। স্যাটেলাইট ছবিতে নৌযানগুলোর অবস্থান সম্পর্কে পাওয়া তথ্য এবং সাবেক কর্মকর্তাদের বক্তব্যের মধ্যে কিছু মিল রয়েছে। তবে নৌযানগুলোর মালিকানা, সুনির্দিষ্ট ব্যবহার কিংবা প্রতিটির প্রকৃত মূল্য সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ্যে নেই।

ওয়ানসান কেন কিম পরিবারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ
উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলে অবস্থিত ওয়ানসান দীর্ঘদিন ধরে কিম পরিবারের অবকাশযাপনের গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে পরিচিত। শহরটির আশপাশে রয়েছে উপকূলীয় ভিলা, ব্যক্তিগত বিনোদনকেন্দ্র এবং বিভিন্ন অবকাশসুবিধা। কিম জং–উন শৈশবের একটি বড় সময় তাঁর মায়ের সঙ্গে ওয়ানসানে কাটিয়েছেন বলে জীবনীকার ও গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য থেকে জানা যায়। নব্বইয়ের দশক থেকে ২০০০ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত কিম জং–ইলের ভিলার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক দেশত্যাগী ব্যক্তি জানিয়েছেন, ওই এলাকার ভিলাগুলোতে মূলত অভিজাত ব্যক্তিরাই যাতায়াত করতেন। গ্রীষ্মকালে সেখানে শিশু-কিশোরদের পানিতে স্কি করতেও দেখেছেন তিনি। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে কিমের ব্যক্তিগত অবকাশযাপনের বিস্তারিত সাধারণত প্রকাশ করা হয় না। তাঁর বিভিন্ন সফরকে বরং সরকারি কর্মসূচি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। তবে উত্তর কোরিয়া ছেড়ে আসা কয়েকজন বিবিসিকে জানিয়েছেন, কিম পরিবারের ওয়ানসানে অবকাশযাপনের বিষয়টি দেশটির অন্তত কিছু মানুষের জানা।

অবকাশকেন্দ্রে পর্যটন সুবিধা বাড়াচ্ছে উত্তর কোরিয়া
ওয়ানসান কালমা অবকাশকেন্দ্রকে পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে বহুতল হোটেল, রেস্তোরাঁ, দোকান, ক্রীড়াসুবিধা এবং জলবিনোদনকেন্দ্র রয়েছে। প্রায় ২০ হাজার পর্যটকের থাকার ব্যবস্থা করা সম্ভব বলেও দাবি করা হয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে কেন্দ্রটি চালু হওয়ার পর রুশ পর্যটকদের সেখানে ভ্রমণের ছবি প্রকাশ করেছে উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম। বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যটকদের জন্যও কেন্দ্রটি উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার একটি সংবাদমাধ্যম নাম প্রকাশ না করা এক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার কিছু স্থানীয় বাসিন্দার জন্য চার রাতের ভ্রমণ প্যাকেজের দাম প্রায় ১০০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে দেশটির অধিকাংশ মানুষের আয় ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের তুলনায় এ পরিমাণ অর্থও বড় অঙ্কের।

সাধারণ মানুষের সংকটের বিপরীতে শাসকের বিলাসী জীবন
উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া কঠিন। দেশটির শাসনব্যবস্থা অত্যন্ত গোপনীয় হওয়ায় জাতীয় বাজেট, ব্যক্তিগত সম্পদ এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট নয়। তবে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার মূল্যায়নে দেশটিতে দারিদ্র্য, খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর সমস্যা উঠে এসেছে। জাতিসংঘের ২০২৫ সালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার বিপুলসংখ্যক মানুষ কঠোর মানবাধিকার পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন। রাষ্ট্র নাগরিকদের জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ন্ত্রণ করে এবং অনেককে জোরপূর্বক শ্রমে নিয়োজিত করা হয়। দীর্ঘস্থায়ী খাদ্যসংকটের কারণে দেশটির প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কিমের অবকাশকেন্দ্রের কাছে একাধিক বড় নৌযানের উপস্থিতি দেশটির শাসকগোষ্ঠী ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার বৈপরীত্যকে সামনে এনেছে। তবে নৌযানগুলোর প্রকৃত মূল্য এবং রক্ষণাবেক্ষণে কত অর্থ ব্যয় হয়, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য নেই। একই ধরনের বিলাসবহুল প্রমোদতরির দাম কয়েক কোটি ডলার থেকে ১০ কোটি ডলারেরও বেশি হতে পারে। এর আগে কিমের ব্যবহৃত ২৯ মিটার দীর্ঘ একটি প্রিন্সেস প্রমোদতরির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৭০ লাখ ডলার বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে এই হিসাবকে নতুন শনাক্ত হওয়া চারটি নৌযানের প্রকৃত দাম হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

স্যাটেলাইট ছবিতে নৌযানের চলাচল কেন গুরুত্বপূর্ণ
উত্তর কোরিয়ার মতো কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত দেশে শাসকগোষ্ঠীর ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন। এ কারণে কৃত্রিম উপগ্রহের ছবি দেশটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সামরিক অবকাঠামো এবং শীর্ষ নেতাদের ব্যবহৃত স্থান পর্যবেক্ষণের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে। বিবিসির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কিম জং–উন দীর্ঘ সময় জনসমক্ষে অনুপস্থিত থাকলে কখনো কখনো এসব বিলাসবহুল নৌযানের চলাচল বেড়ে যায়। তবে এ ধরনের সময়গত মিল থেকে কিমের অবস্থান বা তাঁর পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায় না। নৌযানগুলো ঠিক কোন কাজে ব্যবহৃত হয়েছে, তা জানতে আরও তথ্য প্রয়োজন। কৃত্রিম উপগ্রহের ছবিতে ২০০২ সালেও ওয়ানসানে একই ধরনের একটি বড় নৌযান দেখা গিয়েছিল। সে সময় উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতায় ছিলেন কিম জং–ইল।

এতে বোঝা যায়, ওয়ানসান উপকূলকে কেন্দ্র করে কিম পরিবারের বিলাসবহুল নৌযান ব্যবহারের ইতিহাস বেশ পুরোনো। সাবেক মার্কিন বাস্কেটবল তারকা ডেনিস রডম্যান ২০১৩ সালে উত্তর কোরিয়া সফরের সময় কিম জং–উনের সঙ্গে ওয়ানসানে সময় কাটানোর কথা জানিয়েছিলেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সফরের বড় একটি অংশ তাঁরা সেখানে কাটিয়েছিলেন। ওই সময়ে তাঁরা জেট স্কি চালিয়েছেন এবং ঘোড়ায় চড়েছেন। রডম্যান আরও জানিয়েছিলেন, তাঁরা প্রায় ৬০ মিটার দীর্ঘ একটি নৌযান ব্যবহার করেছিলেন, যা দেখতে ফেরি ও ডিজনিল্যান্ডের ক্রুজের সংমিশ্রণের মতো ছিল। তবে তাঁর বর্ণিত নৌযানটি বিবিসির সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট ছবিতে শনাক্ত হওয়া ৬০ মিটার দীর্ঘ নৌযানটিই কি না, তা নিশ্চিত নয়।

সাধারণ মানুষের ছুটিও অনেকের কাছে বিলাসিতা
উত্তর কোরিয়ায় অবকাশযাপন ও স্বাধীনভাবে ভ্রমণের সুযোগ সাধারণ মানুষের জন্য সীমিত। দেশত্যাগী কয়েকজন বিবিসিকে জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী শ্রমিক, দপ্তরের কর্মী এবং সমবায় খামারের কৃষকদের বছরে ১৪ দিনের ছুটি পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে এই নিয়ম নিয়মিতভাবে অনুসরণ করা হয় না। ছুটি পেলেও এক শহর বা জেলা থেকে অন্য এলাকায় যেতে সরকারি অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে। ফলে দেশের ভেতরে অবাধে ভ্রমণ করা অনেকের জন্য কঠিন। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং চলাচলের ওপর বিধিনিষেধের কারণে ছুটি কাটানোও অনেকের নাগালের বাইরে থেকে যায়।

বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের তথ্যের সীমাবদ্ধতার কারণে উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যায় না। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার তুলনায় দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থান যে অনেক দুর্বল, তা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মূল্যায়নে উঠে এসেছে। ২০২৪ সালে উত্তর কোরিয়ার মাথাপিছু জিডিপি ছিল আনুমানিক ৬৬৭ ডলার, যেখানে দক্ষিণ কোরিয়ার ছিল ৩৬ হাজার ২২৭ ডলার। রি জং হোর বক্তব্য অনুযায়ী, কিমকে রাষ্ট্রীয় প্রচারে জনগণের জন্য আত্মত্যাগী নেতা হিসেবে তুলে ধরা হয়। অথচ সাধারণ মানুষ যখন খাবার জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছেন, তখন শাসকের অবকাশকেন্দ্র ঘিরে রয়েছে একাধিক বিলাসবহুল নৌযান। এই বৈপরীত্যই উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাকাঠামো, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং শাসকগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সব মিলিয়ে, ওয়ানসানের উপকূলে চারটি বড় নৌযানের উপস্থিতি কিম জং–উনের ব্যক্তিগত অবকাশযাপন সম্পর্কে নতুন তথ্য সামনে এনেছে। তবে নৌযানগুলোর মালিকানা ও ব্যবহার নিয়ে আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ না থাকায় স্যাটেলাইটের ছবি, বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ এবং সাবেক কর্মকর্তাদের বক্তব্যের ভিত্তিতেই বিষয়টি মূল্যায়ন করতে হচ্ছে। সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স, জাতিসংঘ

কালের আলো/আরআইকে/এসএ

ছুটির প্রভাবে ঢাকার বাজারে বেচাকেনায় ভাটা, কমেছে মাছ-মাংসের বিক্রি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৩ অপরাহ্ণ
ছুটির প্রভাবে ঢাকার বাজারে বেচাকেনায় ভাটা, কমেছে মাছ-মাংসের বিক্রি

দুর্গাপূজার টানা ছুটির প্রভাব পড়েছে রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে। ক্রেতা ও বিক্রেতার উপস্থিতি কমে যাওয়ায় মাছ-মাংসের বেচাকেনাও আগের তুলনায় কমেছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুর, মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকার বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। তবে ক্রেতার উপস্থিতি কমলেও মাংসের দামে তেমন স্বস্তি নেই। বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা, গরুর মাংস ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মিরপুরের ২, ১০ ও ১৩ নম্বর এলাকার বাজার এবং মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন বাজারে ক্রেতাদের আনাগোনা তুলনামূলক কম দেখা গেছে। ফার্মগেট ও সেগুনবাগিচার সিটি করপোরেশন বাজারেও একই ধরনের পরিস্থিতির কথা জানা গেছে।

মিরপুর ২ নম্বর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, মাংসের আটটি দোকানের মধ্যে তিনটি বন্ধ রয়েছে। খোলা দোকানগুলোতেও বিক্রি তুলনামূলক কম। একটি দোকানে হোটেলে জবাই করা গরুর মাথা, পা ও কম দামের বিভিন্ন অংশ বিক্রি করতে দেখা যায়। বন্ধ থাকা একটি মাংসের দোকানের বিক্রেতা মো. জসিম বলেন, এবার দুর্গাপূজার ছুটি ঈদের ছুটির মতো দীর্ঘ হয়েছে। গতকাল থেকেই বাজারে মানুষের আনাগোনা কমেছে। সামনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে—এমন ধারণা থেকে অনেক বিক্রেতা গরু জবাই করেননি। জসিমের ভাষ্য, গরুর দামও বেশি। সব মিলিয়ে গরুর মাংসের দাম বেশি পড়ছে। অন্য সময়ে কিছুটা কম দামে মাংস বিক্রি করা গেলেও বর্তমানে প্রতি কেজি ৮০০ টাকার নিচে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।

রাজধানীর বাজারগুলোতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিক্রি হচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন দামে। দেশি কৈ মাছ প্রতি কেজি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, বড় বোয়াল ৮০০ টাকা, গলদা চিংড়ি ১ হাজার ২০০ টাকা, ভেনামি চিংড়ি ৮০০ টাকা এবং রূপচাঁদা ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া দেশি ছোট চিংড়ি প্রতি কেজি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, শরপুঁটি ২৫০ টাকা, ট্যাংরা ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকা, মাঝারি বাইম ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা এবং বড় বাইম ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য মাছের মধ্যে বাটা প্রতি কেজি ২৮০ টাকা, ছোট সিলভার কার্প ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা এবং বড় সিলভার কার্প ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাজলি মাছের দাম প্রতি কেজি ১ হাজার ৪০০ টাকা, শোল ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, গুঁড়া মাছ ৬০০ টাকা, কাচকি ৫৫০ টাকা এবং পাবদা ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা।

ওজনভেদে রুই মাছের দামেও পার্থক্য রয়েছে। এক কেজির কম ওজনের রুই প্রতি কেজি ২৯০ টাকা এবং দুই কেজি পর্যন্ত ওজনের রুই ৩৮০ টাকা বা তার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। প্রায় একই দামে বিক্রি হচ্ছে কাতল মাছ। অন্যদিকে, এক কেজি ওজনের আইড় মাছের দাম ৬০০ টাকা। মাছটির ওজন বেশি হলে দাম বেড়ে ৭০০ টাকা পর্যন্ত হচ্ছে।

মিরপুর বাজারের মাছ বিক্রেতা মো. সজল বলেন, গত শুক্রবারের তুলনায় এবার বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতা—দুজনের সংখ্যাই কম। টানা ছুটির কারণে চাকরিজীবীদের পাশাপাশি অনেক মাছ ব্যবসায়ীও বাড়ি গেছেন কিংবা অন্য কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। এতে বাজারে মাছের সরবরাহ কমেছে। অন্যদিকে ক্রেতার উপস্থিতিও কম থাকায় সামগ্রিকভাবে বেচাকেনা কম হচ্ছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, যাঁরা কেনাকাটা করতে আসছেন, তাঁদের অনেকেই দ্রুত প্রয়োজনীয় পণ্য কিনে চলে যাচ্ছেন। ফলে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বাজারে মানুষের ভিড় কম।

মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেটের ব্যবসায়ী আলী আসগর বলেন, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সাধারণত বাজারে ক্রেতার ভিড় বেশি থাকে। এ সময় মাছও তুলনামূলক তাজা পাওয়া যায়। তবে মঙ্গলবার বাজারে ক্রেতার ভিড় কম ছিল, মাছ বিক্রেতার সংখ্যাও ছিল কম। সব মিলিয়ে দুর্গাপূজার ছুটিতে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি কমে যাওয়ায় মাছ-মাংসের বেচাকেনায় স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। তবে বাজারে ক্রেতা কম থাকলেও গরু ও খাসির মাংসের দাম এবং বিভিন্ন প্রজাতির মাছের উচ্চমূল্য ক্রেতাদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে শি পুতিনের সঙ্গে বসতে চান ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৩ অপরাহ্ণ
পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে শি পুতিনের সঙ্গে বসতে চান ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে যৌথ বৈঠকে বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আগামী মাসে চীনে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার (এপেক) সম্মেলনের ফাঁকে তিন নেতার এই বৈঠক আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। বৈঠকে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, নিরস্ত্রীকরণ এবং বাণিজ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে চান ট্রাম্প। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সোমবার (১৯ অক্টোবর) হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, শি জিনপিং রাজি থাকলে তিনি এ ধরনের বৈঠকে অংশ নিতে প্রস্তুত। তাঁর বক্তব্যে পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ এবং দুই পরাশক্তি রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নিয়ে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। খবর রয়টার্সের।

এপেক সম্মেলনের ফাঁকে বৈঠকের সম্ভাবনা
আগামী ১৮ ও ১৯ নভেম্বর চীনে এপেক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই সম্মেলনে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন বিশ্বনেতারা। সম্মেলনের ফাঁকে ট্রাম্প, শি জিনপিং ও পুতিনের বৈঠক হলে তা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব পাবে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক সপ্তাহ ধরেই তিন নেতার সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে আলোচনার অগ্রগতি কতদূর, বৈঠকের আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে কি না কিংবা তিন নেতার অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ট্রাম্পের সঙ্গে শি জিনপিং ও পুতিনের আলাদা বৈঠক হলেও তিন নেতার একসঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক আগে হয়নি। ফলে প্রস্তাবিত এই বৈঠক বাস্তবায়িত হলে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তিন পরাশক্তির অবস্থান সরাসরি আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনায় পুতিনের আগ্রহ
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুতিন সম্ভাব্য এই বৈঠককে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় কাজে লাগাতে চান। তাঁর লক্ষ্য এমন একটি সমাধানের পথ তৈরি করা, যা রাশিয়ার স্বার্থের অনুকূলে থাকবে। গত ৯ অক্টোবর ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে ফোনালাপে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। ট্রাম্প একদিকে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছেন, অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটানোর বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরছেন। সম্ভাব্য ত্রিপক্ষীয় বৈঠক সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে নতুন মাত্রা দিতে পারে। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইউক্রেনের বিষয়ে রাশিয়ার আচরণ আপাতত তাঁর কাছে গ্রহণযোগ্য। একই সঙ্গে ইউক্রেনের পক্ষে আলোচনার দায়িত্ব অন্য কাউকে দেওয়ার সময় এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে তাঁর এই বক্তব্যের পর ইউক্রেনের প্রতিনিধিত্ব এবং সম্ভাব্য শান্তি আলোচনায় দেশটির ভূমিকা কী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে ট্রাম্পের পদক্ষেপ
সাম্প্রতিক সময়ে পুতিনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছেন ট্রাম্প। রাশিয়ার ডিজেল জ্বালানি নিয়ে একটি চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি মস্কোর ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে চীনের সঙ্গেও স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখতে চাইছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা, শুল্কনীতি, প্রযুক্তি এবং নিরাপত্তা ইস্যুতে মতপার্থক্য থাকলেও ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে আলোচনা চালু রাখা দুই দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে ট্রাম্পের রাশিয়াবিষয়ক নীতির সমালোচনা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তাঁর আশঙ্কা, মস্কোর ওপর চাপ কমিয়ে দেওয়া হলে পুতিন আরও উৎসাহিত হতে পারেন এবং ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত বৈঠক শুধু পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের আলোচনায় সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি ইউক্রেন যুদ্ধসহ বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক সংকটও আলোচনায় আসবে, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে বৈঠকের আলোচ্যসূচি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

পারমাণবিক অস্ত্র কমানোর উদ্যোগে তিন পরাশক্তি
পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা কমানো এবং অস্ত্র প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে আলোচনা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। গত সপ্তাহে ট্রাম্প বলেছিলেন, রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্র কমানোর চুক্তি করা সম্ভব। তবে সেই চুক্তি এ বছরই সম্পন্ন করতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন। স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের পারমাণবিক ওয়ারহেডের সবচেয়ে বড় মজুত রয়েছে রাশিয়ার কাছে। এরপর রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। চীনের পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডারও সম্প্রসারিত হচ্ছে। ফলে তিন দেশের মধ্যে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা হলে তা বৈশ্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তবে পারমাণবিক অস্ত্র কমানোর বিষয়ে তিন দেশের অবস্থান এক নয়। যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে আগে থেকেই অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের চুক্তি থাকলেও চীন মনে করে, তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা এখনো যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সমপর্যায়ে পৌঁছায়নি। এ কারণে বর্তমান পরিস্থিতিতে তিন দেশকে একই কাঠামোর আওতায় এনে নিরস্ত্রীকরণ আলোচনার প্রস্তাবকে বেইজিং ন্যায্য বা বাস্তবসম্মত মনে করে না। এই মতপার্থক্য দূর করা সম্ভাব্য বৈঠকের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। কারণ, পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে কোনো নতুন সমঝোতা করতে হলে অস্ত্রের সংখ্যা, ভবিষ্যৎ উৎপাদন, নজরদারি এবং চুক্তি বাস্তবায়নের মতো বিষয়েও ঐকমত্য প্রয়োজন।

নিউ স্টার্ট চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় বাড়ছে উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র সীমিত করার গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি নিউ স্টার্টের মেয়াদ ২০২৬ সালের শুরুতে শেষ হয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশ কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থার ওপর নির্দিষ্ট সীমা বজায় রাখতে সম্মত হয়েছিল। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় দুই দেশের পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নতুন কোনো চুক্তি বা সমঝোতা কার্যকর করতে হলে উভয় পক্ষের সম্মতি প্রয়োজন। পাশাপাশি চীনের ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক সক্ষমতার বিষয়টিও ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। তবে চীন এখনই যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সমপর্যায়ের পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তিতে অংশ নিতে আগ্রহী নয় বলে জানিয়েছে। ফলে ট্রাম্পের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলেও তিন দেশের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছানো সহজ হবে না।

শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের আসন্ন সাক্ষাৎ
আগামী মাসে চীনের শেনঝেনে এপেক সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে ট্রাম্পের। চলতি বছর এটি হবে তাঁর দ্বিতীয় চীন সফর। একই সময়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে এটি হবে তাঁর তৃতীয় সাক্ষাৎ। দুই নেতার আলোচনায় পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বাণিজ্য ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ও গুরুত্ব পেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা বিশ্ববাজার, প্রযুক্তি খাত এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলে। তাই দুই দেশের সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখা আন্তর্জাতিক অর্থনীতির জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। শি জিনপিংয়ের সম্মতি ছাড়া প্রস্তাবিত ত্রিপক্ষীয় বৈঠক আয়োজন করা সম্ভব নয়। একইভাবে পুতিনের অংশগ্রহণ ও আলোচনার শর্তও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এপেক সম্মেলনের আগে কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে বৈঠকের সম্ভাবনা আরও স্পষ্ট হতে পারে।

কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনাও খোলা রাখলেন ট্রাম্প
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে আরেকটি বৈঠকের সম্ভাবনাও নাকচ করেননি ট্রাম্প। তবে এ ধরনের বৈঠকের জন্য কেউ অনুরোধ জানিয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন বলে জানিয়েছেন তিনি। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগের কারণ। দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়ন বন্ধ এবং উপদ্বীপে নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে অতীতে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ থেকে স্থায়ী সমাধান আসেনি। উত্তর কোরিয়া এর আগে জানিয়েছে, পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগে দেশটিকে রাজি করানোর উদ্দেশ্যে তারা আলোচনায় বসতে আগ্রহী নয়। ফলে ট্রাম্প ও কিমের মধ্যে নতুন বৈঠক হলেও তা থেকে কী ধরনের অগ্রগতি আসবে, সেটি অনিশ্চিত।

সব মিলিয়ে শি জিনপিং ও পুতিনের সঙ্গে যৌথ বৈঠকের প্রস্তাবের মাধ্যমে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য নিয়ে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগের ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে তিন নেতার সম্মতি, পারস্পরিক স্বার্থের সংঘাত এবং পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে মতপার্থক্য কাটিয়ে বৈঠকটি বাস্তবে রূপ নেবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। সূত্র: রয়টার্স, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা ইনস্টিটিউট

কালের আলো/এমএএইচ/এসএ