খুঁজুন
                               
, ,
           

হুতি হামলার জেরে সৌদির বিনিয়োগ সম্মেলন স্থগিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৩ অপরাহ্ণ
হুতি হামলার জেরে সৌদির বিনিয়োগ সম্মেলন স্থগিত

ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে ২০২৬ সালের ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এফআইআই) সম্মেলন স্থগিত করেছে সৌদি আরব। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে সৌদি আরবের অর্থনৈতিক রূপান্তর পরিকল্পনা তুলে ধরার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই আয়োজনটি আগামী বছর অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনটি বিশ্বজুড়ে ‘ডাভোস ইন দ্য ডেজার্ট’ নামে পরিচিত। আয়োজকদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আগামী ২৬ অক্টোবর শুরু হয়ে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত সম্মেলনটি চলার কথা ছিল। তবে হুতি হামলার কারণে সৃষ্ট নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যে আয়োজনটি পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়, আগামী বছরের সম্মেলনের নতুন তারিখ শিগগির ঘোষণা করা হবে।

অংশীজনদের নিরাপত্তা ও আয়োজনের মানকে গুরুত্ব
এফআইআই ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মাহা বিনতে মিশারি আল সৌদ বলেন, সম্মেলন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে অংশীদার, সদস্য, বক্তা ও প্রতিনিধিদের প্রতি প্রতিষ্ঠানের গভীর দায়বদ্ধতা থেকে। তিনি বলেন, এবারের আয়োজন এফআইআইয়ের দশম সম্মেলন। তাই অনুষ্ঠানটি যেন প্রত্যাশিত ব্যাপকতা, উচ্চমান এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়, তা নিশ্চিত করতে চায় আয়োজক প্রতিষ্ঠান। অংশীজনেরা যে মানের আয়োজন প্রত্যাশা করেন, তাঁদের সেই প্রত্যাশা পূরণ করাই এ সিদ্ধান্তের অন্যতম উদ্দেশ্য। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সৌদি আরবের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরার ক্ষেত্রে এ সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতা, বিনিয়োগকারী, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং প্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তারা এতে অংশ নেন। ফলে সম্মেলন স্থগিতের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও বিনিয়োগ মহলেও তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ সৌদির ডাভোস ইন দ্য ডেজার্ট
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনের আদলে এফআইআই আয়োজন করা হয়। এ কারণে সম্মেলনটি অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘ডাভোস ইন দ্য ডেজার্ট’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। সৌদি সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এই সম্মেলনে বৈশ্বিক অর্থনীতি, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, জ্বালানি, পর্যটন এবং ব্যবসার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হয়। সৌদি আরবের অর্থনৈতিক রূপান্তর পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই আয়োজন। দেশটি দীর্ঘদিন ধরে তেল ও গ্যাসনির্ভর অর্থনীতির ওপর নির্ভরশীল। তবে অর্থনীতির ভিত্তি সম্প্রসারণ এবং আয়ের উৎস বহুমুখী করার লক্ষ্যে পর্যটন, খেলাধুলা, প্রযুক্তি, বিনোদন ও অন্যান্য খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে দেশটি। এই পরিকল্পনার সঙ্গে সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০ কর্মসূচির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। দেশটির লক্ষ্য হলো অর্থনীতিতে বেসরকারি খাতের অবদান বাড়ানো, নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করা এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় পরিবেশ গড়ে তোলা। এফআইআই সম্মেলনের মাধ্যমে এসব পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সামনে তুলে ধরা হয়। সম্মেলনে বিভিন্ন খাতের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণের ফলে বিনিয়োগ চুক্তি, ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব এবং নতুন প্রকল্প নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়। তাই নিরাপত্তাজনিত কারণে এবারের আয়োজন স্থগিত হওয়ায় সৌদি আরবের আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষ্ঠান পিছিয়ে গেল।

সম্মেলনে থাকার কথা ছিল বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের
এফআইআই ইনস্টিটিউটের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এবারের সম্মেলনে বক্তা হিসেবে অংশ নেওয়ার কথা ছিল বিশ্বের কয়েকটি প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তার। তাঁদের মধ্যে ছিলেন অ্যালফাবেট ও গুগলের প্রেসিডেন্ট এবং প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা রুথ পোরাট, গোল্ডম্যান স্যাকসের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডেভিড সলোমন এবং ব্ল্যাকরকের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লরেন্স ফিঙ্ক। বিশ্বের প্রযুক্তি, ব্যাংকিং ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা খাতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের উপস্থিতি সম্মেলনটির আন্তর্জাতিক গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলত। তাঁদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বৈশ্বিক পুঁজিবাজার, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, বিনিয়োগের নতুন সুযোগ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। সৌদি আরবের বড় অবকাঠামো প্রকল্প, পর্যটন খাতের সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির বিকাশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা এ ধরনের সম্মেলনের অন্যতম লক্ষ্য। তবে সম্মেলন স্থগিত হওয়ায় নির্ধারিত আলোচনাগুলো এখন আগামী বছরের আয়োজন পর্যন্ত পিছিয়ে গেল।

হুতি হামলায় বাড়ছে সৌদি আরবের নিরাপত্তা উদ্বেগ
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থনকারী সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের সংঘাত সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আরও তীব্র হয়েছে। আনসার আল্লাহ নামেও পরিচিত গোষ্ঠীটি সৌদি আরবের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা, জ্বালানি অবকাঠামো এবং বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলাগুলোতে অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন এবং কয়েক শ মানুষ আহত হয়েছেন। ধারাবাহিক হামলার ফলে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ শহর ও স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ করে রাজধানী রিয়াদে সরকারি কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় পরিচালনার ক্ষেত্রে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। হুতিদের হামলা শুধু সামরিক স্থাপনার নিরাপত্তা নয়, সৌদি আরবের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ওপরও প্রভাব ফেলছে। রাজধানীতে অবস্থিত সরকারি সংস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

রিয়াদে সরকারি কর্মীদের বাসা থেকে কাজের নির্দেশ
হুতি বিদ্রোহীদের বারবার হামলার মুখে সৌদি রাজধানী রিয়াদের সরকারি সংস্থাগুলো কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে। এক কর্মী ও দুই পরামর্শদাতার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার (১৮ অক্টোবর ) রাজধানীর একটি সরকারি সংস্থার কর্মীরা বার্তা পান, সোমবার (১৯ অক্টোবর ) থেকে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর ) পর্যন্ত তাঁদের দূরবর্তীভাবে কাজ করতে হবে। বার্তায় কর্মীদের স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার অনুরোধও জানানো হয়। এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সরকারি দপ্তরগুলোর কার্যক্রম সচল রাখার পাশাপাশি কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে সব সরকারি সংস্থায় একই ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

কিংডম সেন্টার ও আর্থিক জেলাতেও সতর্কতা
রিয়াদের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ৯৯ তলাবিশিষ্ট কিংডম সেন্টার ভবন কর্তৃপক্ষও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কর্মীদের সেখানে না যেতে বলেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই ভবনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) একটি আঞ্চলিক কার্যালয় রয়েছে। এ ছাড়া রিয়াদের কিং আবদুল্লাহ ফিন্যান্সিয়াল ডিস্ট্রিক্টে অবস্থিত বিভিন্ন কোম্পানিও কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে এএফপি। ওই আর্থিক জেলায় যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম রয়েছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও আর্থিক এলাকায় এ ধরনের সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া থেকে পরিস্থিতির গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় এবং বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম সচল রাখা সৌদি আরবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে পরবর্তী আয়োজন
এফআইআই সম্মেলন স্থগিতের মধ্য দিয়ে সৌদি আরবের সামনে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ আরও স্পষ্ট হয়েছে। একদিকে দেশটি অর্থনীতিকে বহুমুখী করতে বিপুল বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা করছে, অন্যদিকে আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে উঠেছে। আগামী বছরের সম্মেলনের নতুন তারিখ শিগগির ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে আয়োজক প্রতিষ্ঠান। তবে সম্মেলনটি কোন তারিখে অনুষ্ঠিত হবে এবং ততদিনে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কী পরিবর্তন ঘটবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই সম্মেলন সৌদি আরবের অর্থনৈতিক রূপান্তর পরিকল্পনা তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। তাই নতুন তারিখ ঘোষণার পাশাপাশি নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি এবং অংশগ্রহণকারীদের আস্থা বজায় রাখাও আয়োজকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে। সূত্র: আল জাজিরা, বার্তা সংস্থা এএফপি।

কালের আলো/এমএস/এসএ

দুর্গাপূজায় বাঙালি সাজে নজর কাড়লেন আলিয়া ভাট

বিনোদন ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫২ অপরাহ্ণ
দুর্গাপূজায় বাঙালি সাজে নজর কাড়লেন আলিয়া ভাট

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী আলিয়া ভাট এবার দুর্গাপূজার সাজে মুগ্ধ করেছেন ভক্তদের। গাঢ় গোলাপি শাড়ি, নীল ব্লাউজ ও সোনালি গয়নায় বাঙালি নারীর ঐতিহ্যবাহী সাজে হাজির হয়ে নজর কেড়েছেন তিনি। ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার মেলবন্ধনে অভিনেত্রীর এই উৎসবের সাজ সামাজিক মাধ্যমে ও বিনোদন অঙ্গনে আলোচনায় এসেছে। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী ও মহানবমী উদ্‌যাপন উপলক্ষে মুম্বাইয়ের ৮০তম নর্থ বম্বে সর্বজনীন দুর্গাপূজার মণ্ডপে যান আলিয়া। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা অয়ন মুখার্জি। পূজার আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি অভিনেত্রীর পোশাক ও সাজসজ্জা ছিল সবার আকর্ষণের কেন্দ্রে।

গোলাপি শাড়িতে বাঙালিয়ানার ছোঁয়া


এদিন আলিয়ার পরনে ছিল উজ্জ্বল ফুশিয়া গোলাপি রঙের শাড়ি। শাড়িতে সোনালি গোটাপট্টির কাজ তার সাজে যোগ করেছে আভিজাত্য। বাঙালি কায়দায় শাড়ি পরেছিলেন অভিনেত্রী। কাঁধে সুন্দরভাবে সাজানো আঁচলে ফুটে উঠেছিল শাড়ির নকশা ও পোশাকের সৌন্দর্য। গোলাপি শাড়ির সঙ্গে বৈপরীত্য তৈরি করে ফিরোজা-নীল রঙের ব্লাউজ বেছে নেন আলিয়া। ব্লাউজের গোলাকার গলার নকশা ও ছোট পাফ স্লিভ তার সাজে এনেছে ভিন্নমাত্রা। পেছনের সোনালি কারুকাজও ছিল নজরকাড়া।

সোনালি গয়না ও ফুলের খোঁপায় পূর্ণতা
শাড়ির সঙ্গে আলিয়া পরেছিলেন সোনালি ঝুমকা, হাতে একাধিক সোনালি চুড়ি এবং আঙুলে নকশাদার আংটি। কানের গয়নার সঙ্গে মানানসই ইয়ার চেইন তার সাজে যোগ করেছে বাড়তি আকর্ষণ। চুলে মাঝখানে সিঁথি করে পরিপাটি খোঁপা বেঁধেছিলেন অভিনেত্রী। সেই খোঁপায় ছিল রঙিন ফুলের সাজ। কপালে ছোট্ট টিপ, হালকা চোখের মেকআপ, স্বাভাবিক ত্বকের সাজ এবং মৃদু রঙের লিপস্টিকে পূর্ণতা পেয়েছে তার উৎসবের লুক। ঐতিহ্যবাহী বাঙালি সাজের সঙ্গে আধুনিক রঙের সমন্বয় আলিয়ার উপস্থিতিকে দিয়েছে আলাদা মাত্রা। সব মিলিয়ে পূজামণ্ডপে তার এই সাজ ভক্তদের নজর কেড়েছে।

নতুন সিনেমা নিয়েও ব্যস্ত আলিয়া
উৎসবের আমেজের পাশাপাশি অভিনয় নিয়েও ব্যস্ত সময় পার করছেন আলিয়া ভাট। পরিচালক সঞ্জয় লীলা বানসালির ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’ সিনেমায় অভিনয় করছেন তিনি। এতে তার সহশিল্পী হিসেবে রয়েছেন রণবীর কাপুর ও ভিকি কৌশল। বহুল প্রতীক্ষিত এই চলচ্চিত্রটি ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। সিনেমাটি ঘিরে দর্শকদের আগ্রহের মধ্যেই দুর্গাপূজায় আলিয়ার বাঙালি সাজ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস 

কালের আলো/এসএআর/এসএ

নেটফ্লিক্সের চলচ্চিত্র বিভাগের প্রধান ড্যান লিন বরখাস্ত

বিনোদন ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪২ অপরাহ্ণ
নেটফ্লিক্সের চলচ্চিত্র বিভাগের প্রধান ড্যান লিন বরখাস্ত

বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সের চলচ্চিত্র বিভাগে নেতৃত্বের পরিবর্তন এসেছে। দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় তিন বছরের মাথায় বিভাগটির প্রধান ড্যান লিনকে বরখাস্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সাম্প্রতিক কর্মী ছাঁটাই ও শীর্ষ পর্যায়ে রদবদলের ধারাবাহিকতায় তার বিদায়ের খবর সামনে এসেছে। বিনোদনবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ভ্যারাইটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, একাধিক সূত্র ড্যান লিনের দায়িত্ব হারানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সপ্তাহান্তের শুরুতে তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সোমবার নিজের দলের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার কথা ছিল তার।

এক সপ্তাহে বড় পরিবর্তন নেটফ্লিক্সে
নেটফ্লিক্সে সম্প্রতি বড় পরিসরে কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে। গত সপ্তাহে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় এক হাজার কর্মী চাকরি হারান। একই সময়ে নেটফ্লিক্সের প্রধান কনটেন্ট কর্মকর্তা বেলা বাজরিয়াকে বরখাস্ত করার খবরও আলোচনায় আসে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একের পর এক কর্মী ছাঁটাই ও শীর্ষ পর্যায়ে পরিবর্তনের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির সাংগঠনিক পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে চলচ্চিত্র বিভাগের নেতৃত্বে পরিবর্তনের পেছনে নির্দিষ্ট কী কারণ রয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

ড্যান লিনের স্থলাভিষিক্ত কে হচ্ছেন?
ড্যান লিনের জায়গায় কে দায়িত্ব নেবেন, সে বিষয়ে নেটফ্লিক্স এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে ওয়ার্নার ব্রাদার্সের চলচ্চিত্র বিভাগের সাবেক প্রধান মাইক ডি লুকা ও পাম অ্যাবডির নেটফ্লিক্সে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে তাদের যোগদানের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

প্রযোজক হিসেবে সফল ক্যারিয়ার ড্যান লিনের
২০২৪ সালে নেটফ্লিক্সের চলচ্চিত্র বিভাগের দায়িত্ব গ্রহণ করেন ড্যান লিন। এর আগে তিনি নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রাইডব্যাক পরিচালনা করেছেন। প্রতিষ্ঠানটির প্রযোজনায় নির্মিত হয়েছে ‘লেগো’ চলচ্চিত্র সিরিজ, স্টিফেন কিংয়ের উপন্যাস অবলম্বনে ‘ইট’ এবং ‘শার্লক হোমস’-এর মতো জনপ্রিয় চলচ্চিত্র। নেটফ্লিক্সে দায়িত্ব পালনকালে ৮৮টি চলচ্চিত্রের অনুমোদন দেওয়া কিংবা স্বত্ব সংগ্রহের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ড্যান লিন। গত জুনে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানিয়েছিলেন। তার দায়িত্ব পালনকালে প্ল্যাটফর্মটিতে যুক্ত হওয়া উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘এমিলিয়া পেরেজ’, ‘এপেক্স’, ‘হিয়ার কামস দ্য ফ্লাড’ এবং ‘দ্য ফার্দার মিস-অ্যাডভেঞ্চারস অব ক্লিফ বুথ’।

চলচ্চিত্র বিভাগের ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে আগ্রহ
ড্যান লিনের বিদায়ের পর নেটফ্লিক্সের চলচ্চিত্র বিভাগে কনটেন্ট নির্বাচন, চলচ্চিত্র নির্মাণে বিনিয়োগ এবং নতুন প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আসে কি না, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে নেটফ্লিক্সের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। নতুন নেতৃত্বের নাম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রকাশের পরই চলচ্চিত্র বিভাগে পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। সূত্র: এনপিবি নিউজ; ভ্যারাইটি; নিউইয়র্ক টাইমস

কালের আলো/জেএন/এসএ

ইশরাককে পুনর্বহাল না করলে শহীদ পরিবার থেকে প্রতিমন্ত্রী নিয়োগের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩৪ অপরাহ্ণ
ইশরাককে পুনর্বহাল না করলে শহীদ পরিবার থেকে প্রতিমন্ত্রী নিয়োগের দাবি

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে স্বপদে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত যোদ্ধারা। তাকে পুনর্বহাল করা সম্ভব না হলে শহীদ পরিবারের মধ্য থেকে যোগ্য, শিক্ষিত ও নিষ্ঠাবান কাউকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বুধবার (২১ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের মওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ হলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতদের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জুলাই যোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ ইমরান হোসেন, শহীদ রমিজুদ্দিনের বাবা উকিল বুলবুল আহমেদ, যাত্রাবাড়ীর কাজলার শহীদ ইমাম হাসান তাইমের বন্ধু মোহাম্মদ আহাদ হোসেন, শহীদ নূর হোসেনের মা নুরন্নাহার চিনু, শহীদ মোহাম্মদ নাসির হোসেনের ভাই হুমায়ুন, শহীদ সাইদুল ইসলাম ইয়াসিনের মা মনজিলা বেগম এবং আহত জুলাই যোদ্ধা এ কে এম ওবায়দুল হকসহ অনেকে।

বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার দায়িত্ব মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের। তবে এসব কার্যক্রমের বড় একটি অংশ এখনো অসম্পূর্ণ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে এমন একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির প্রয়োজন, যিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করেন এবং শহীদ পরিবার ও আহতদের সমস্যাগুলো উপলব্ধি করেন।

জুলাই যোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ ইমরান হোসেন বলেন, শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের কল্যাণে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অনেক কাজ করার সুযোগ রয়েছে। এসব কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ইশরাক হোসেনকে পুনরায় দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তা সম্ভব না হলে শহীদ পরিবারের মধ্য থেকে যোগ্য কাউকে প্রতিমন্ত্রী করার দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, এখনো অনেক আহত যোদ্ধা যথাযথ চিকিৎসা পাচ্ছেন না। অনেকে নিজ খরচে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। দূরদূরান্ত থেকে ঢাকায় চিকিৎসা নিতে আসা আহতদের জন্য থাকা-খাওয়ার ব্যয় বহন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া অনেক আহত যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যের গেজেটভুক্তি এবং প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হয়নি।

আহত জুলাই যোদ্ধা এ কে এম ওবায়দুল হক বলেন, শহীদ পরিবার ও আহতদের পুনর্বাসন, চিকিৎসা এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এখনো অনেক ঘাটতি রয়েছে। আহতদের অনেকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ও চিকিৎসা পাওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়ছেন। তাদের নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, শহীদ পরিবার ও আহতদের মধ্য থেকে এমন একজন শিক্ষিত, মার্জিত ও নিষ্ঠাবান ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া উচিত, যিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করেন এবং তাদের কল্যাণে আন্তরিকভাবে কাজ করবেন।

বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও আহতরা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নন; তারা রাষ্ট্রের সম্পদ। তাদের যথাযথ সম্মান, নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

এ সময় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র ও সনদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন, আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা, শহীদ পরিবারগুলোর ন্যায্য দাবি পূরণ এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি