খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ শেষ নয়, ইশরাকের সামনে বড় দায়িত্বের সম্ভাবনা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৫ অপরাহ্ণ
প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ শেষ নয়, ইশরাকের সামনে বড় দায়িত্বের সম্ভাবনা

মন্ত্রিসভা থেকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগকে রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে দেখছেন না প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। বরং আত্মোপলব্ধি, সংশোধন এবং জনগণের ভালোবাসাকে ধারণ করে ভবিষ্যতে ইশরাকের সামনে আরও বড় ও জনমুখী রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ প্রসঙ্গে এসব কথা লেখেন মাহদী আমিন। পোস্টে ইশরাকের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক, রাজনৈতিক আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা এবং দল ও দেশের জন্য তাঁর অবদানের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। ফেসবুক পোস্টে মাহদী আমিন লেখেন, ইশরাক হোসেনের পদত্যাগকে কোনো অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তাঁর ভাষ্য, আত্মোপলব্ধি, সংশোধন এবং গণমানুষের ভালোবাসার মধ্য দিয়ে সামনে ইশরাকের জন্য আরও বৃহত্তর ও জনমুখী রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনের পথ উন্মোচিত হতে পারে।

মাহদী আমিনের এই বক্তব্যে ইশরাকের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ পেয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর পদে থাকা বা পদত্যাগ করার মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় ও অতীত অবদানকে মূল্যায়ন করা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পোস্টে মাহদী আমিন জানান, তিনি এক সপ্তাহের জন্য পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। সেখান থেকেই ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের খবর জানতে পারেন তিনি। ইশরাককে নিজের প্রিয় ভাই এবং রাজপথের আপসহীন লড়াইয়ের অন্যতম মুখ হিসেবে উল্লেখ করেন মাহদী। তিনি লেখেন, ইশরাকের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। একসঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি তাঁদের অনেক স্মৃতি ও রাজনৈতিক পথচলা রয়েছে।

মাহদী আমিনের ভাষ্য অনুযায়ী, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ইশরাক হোসেনের ভূমিকা এবং তাঁর পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য সম্পর্কে সবাই অবগত। বিএনপির তরুণদের সম্পৃক্ত করা, কূটনৈতিক যোগাযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়েও তাঁরা একসঙ্গে কাজ করেছেন। ইশরাক জাতীয়তাবাদী আদর্শ ও দেশপ্রেমকে নিজের বিশ্বাসে ধারণ করেন উল্লেখ করে মাহদী আমিন তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের প্রশংসা করেন।

ইশরাকের সাম্প্রতিক কাজের পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন কিংবা মতভিন্নতা থাকতে পারে বলে স্বীকার করেছেন মাহদী আমিন। তবে যে উদ্যোগকে কেন্দ্র করে আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার লক্ষ্য, নৈতিকতা ও যৌক্তিকতা নিয়ে ন্যূনতম দ্বিধার অবকাশ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পোস্টে মাহদী আমিন বলেন, প্রতিমন্ত্রীর পদ বা পদত্যাগপত্র দিয়ে ইশরাক হোসেনের রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা আত্মত্যাগের মূল্য নির্ধারণ করা যায় না। সাময়িক কোনো সিদ্ধান্তের চেয়ে দল, দেশ ও মানুষের কল্যাণে তাঁর অবদান এবং আন্তরিক অবস্থান বেশি অর্থবহ। তবে কোন উদ্যোগকে কেন্দ্র করে এই বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে পোস্টে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি মাহদী আমিন।

পোস্টে মাহদী আমিন সরকারের জবাবদিহিতার বিষয়টিও তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আস্থাভাজন, ত্যাগী ও জনপ্রিয় তরুণ নেতা ইশরাক হোসেনের কোনো সাহসী ও জনবান্ধব উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও বিতর্কের অবকাশ থাকলে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

তিনি লেখেন, জনগণের সরকারের বার্তা এ ক্ষেত্রে স্পষ্ট। রাষ্ট্র বিনির্মাণের যাত্রায় সামনের দিনগুলোতেও সরকারের প্রতিটি পর্যায়ে জবাবদিহিতার ধারা বজায় থাকবে বলে তাঁরা বিশ্বাস করেন। মাহদী আমিন তাঁর পোস্টের শেষাংশে আবারও উল্লেখ করেন, ইশরাক হোসেনের পদত্যাগকে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সমাপ্তি হিসেবে দেখার কারণ নেই। বরং আত্মোপলব্ধি, সংশোধন এবং মানুষের ভালোবাসার মধ্য দিয়ে তাঁর সামনে আরও বড় ও জনমুখী দায়িত্ব পালনের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

 

ভারত ও লাতিন আমেরিকাকে নিয়ে নতুন কৌশলে নেতানিয়াহু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৮ অপরাহ্ণ
ভারত ও লাতিন আমেরিকাকে নিয়ে নতুন কৌশলে নেতানিয়াহু

ভবিষ্যতে ইসরায়েলের প্রতি বৈরী মনোভাবাপন্ন কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ক্ষমতায় আসতে পারেন—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক নেতৃত্বে সম্ভাব্য পরিবর্তনের কারণে ইসরায়েলের সামরিক সহায়তা ও কৌশলগত সম্পর্ক ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে মনে করছেন তিনি। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি ভারত ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে নতুন জোট গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।

ইসরায়েলে আগামী ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচন সামনে রেখে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নেতানিয়াহু এসব মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে নেতানিয়াহুর পুনর্নির্বাচনের পক্ষে সমর্থন জানান। তবে ট্রাম্পের বর্তমান সমর্থন থাকা সত্ত্বেও ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।নেতানিয়াহুর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি বিকল্প আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব তৈরির বিষয়টিও এখন ইসরায়েলের কৌশলগত চিন্তায় গুরুত্ব পাচ্ছে।

ভবিষ্যৎ মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিয়ে নেতানিয়াহুর উদ্বেগ
অনুষ্ঠানে নেতানিয়াহু বলেন, আগামী দুই বছরের মধ্যেই এমন একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ক্ষমতায় আসতে পারেন, যিনি ইসরায়েলের প্রতি অত্যন্ত বৈরী মনোভাব পোষণ করবেন। তিনি পুরুষ কিংবা নারী—যেকোনো একজন হতে পারেন বলে মন্তব্য করেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে ইসরায়েল কীভাবে তা মোকাবিলা করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক কীভাবে পরিচালনা করবে। তাঁর এই বক্তব্যে ভবিষ্যৎ মার্কিন প্রশাসনের নীতিগত পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি উঠে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের অন্যতম প্রধান সামরিক ও কৌশলগত অংশীদার। দেশটির সামরিক সহায়তা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে সমর্থন ইসরায়েলের নিরাপত্তা নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে ওয়াশিংটনের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন হলে ইসরায়েলের ওপর তার প্রভাব পড়তে পারে।নেতানিয়াহুর আশঙ্কা, ভবিষ্যতে কোনো মার্কিন প্রশাসন ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন কমিয়ে দিলে শুধু দুই দেশের সম্পর্কই নয়, ইসরায়েলের আঞ্চলিক নিরাপত্তা কৌশলও নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখার চেষ্টা
সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদের বাকি সময়কে কাজে লাগানোর ওপর জোর দিয়েছেন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে পরিবর্তন এলেও যেন ইসরায়েল তার স্বার্থ রক্ষা করতে পারে, সে প্রস্তুতি নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন তিনি। নেতানিয়াহু বলেন, আগামী দুই বছর এবং তার পরের দুই বছর—ভালো ও খারাপ সব পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইসরায়েলকে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। তাঁর বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা তৈরিও তাঁর সরকারের অগ্রাধিকারে রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের বিকল্প তৈরি করার অর্থ বিদ্যমান সম্পর্ক থেকে সরে আসা নয়; বরং সম্ভাব্য অনিশ্চয়তার মধ্যে ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক অবস্থান শক্তিশালী করাই এর উদ্দেশ্য।

ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে দেখছেন নেতানিয়াহু
নতুন আন্তর্জাতিক জোট গঠনের ক্ষেত্রে ভারতের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে হবে। এ লক্ষ্যে তিনি ইসরায়েলের নিজস্ব অঞ্চল এবং এর বাইরের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কাজ করছেন। ভারতের প্রসঙ্গ টেনে নেতানিয়াহু বলেন, ভারত কোনো ছোট দেশ নয়; এমন আরও অনেক দেশ রয়েছে, যাদের সঙ্গে ইসরায়েল সম্পর্ক জোরদার করতে পারে। ভারত ও ইসরায়েলের সম্পর্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, কৃষি, নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তৃত হয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ দিক। গত মে মাসে দেওয়া এক বক্তব্যেও নেতানিয়াহু ভারতকে বিশাল শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। দেশটির সঙ্গে ইসরায়েলের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ভারতে ইসরায়েলের প্রতি ব্যাপক সমর্থন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছিলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের অবস্থান নিয়ে বিতর্ক ও কূটনৈতিক চাপের মধ্যে ভারতের সঙ্গে এই সম্পর্ককে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরছেন নেতানিয়াহু। তাঁর বিবেচনায়, ভারতের মতো বড় অর্থনীতি ও আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ইসরায়েলের কূটনৈতিক পরিসর বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।

লাতিন আমেরিকায় রাজনৈতিক পরিবর্তনকে সুযোগ হিসেবে দেখছেন
ভারতের পাশাপাশি লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গেও সম্পর্ক বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন নেতানিয়াহু। তাঁর মতে, ওই অঞ্চলে রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটছে, যা ইসরায়েলের জন্য নতুন মিত্র তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। তিনি বলেন, লাতিন আমেরিকায় বড় ধরনের পরিবর্তন হচ্ছে। কয়েক দিনের মধ্যেই ব্রাজিলে বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।তবে ব্রাজিলে ঠিক কী ধরনের পরিবর্তনের কথা তিনি বলেছেন, তা বক্তব্যে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেননি। ফলে তাঁর মন্তব্যকে নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক ফলাফলের নিশ্চিত পূর্বাভাস হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। নেতানিয়াহু আরও বলেন, ইসরায়েলকে তার মিত্রদের পরিধি বাড়াতে হবে এবং এমন সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে, যাতে অন্য দেশগুলোর কাছে ইসরায়েলকে প্রয়োজনীয় অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তাঁর এই কৌশলের লক্ষ্য হতে পারে এমন একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, যেখানে ইসরায়েল শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল না থেকে বিভিন্ন অঞ্চলের প্রভাবশালী দেশগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাবিষয়ক সহযোগিতা বাড়াতে পারে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের কূটনৈতিক চাপ
গাজা যুদ্ধসহ মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের নীতি ও কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন দেশের সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠন ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং বেসামরিক মানুষের ওপর তার প্রভাব নিয়ে সমালোচনা করেছে। এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েল সরকারের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন ধরে রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ইসরায়েলকে সমর্থনের প্রশ্নে মতপার্থক্য বাড়লে তা দেশটির দীর্ঘদিনের কৌশলগত অবস্থানকে প্রভাবিত করতে পারে।

নেতানিয়াহু আগেও ভারতসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তাঁর সরকারের লক্ষ্য, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইসরায়েলের পক্ষে সমর্থন বাড়ানো এবং কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতার ঝুঁকি কমানো।তবে নতুন জোট গঠন করলেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বা কৌশলগত সমর্থনের বিকল্প তৈরি হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। তাই ভারত ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক সম্প্রসারণের পাশাপাশি ওয়াশিংটনের সঙ্গে সহযোগিতা বজায় রাখাও ইসরায়েলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।

নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে বিশ্লেষকদের মত
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের কয়েকজন বিশ্লেষকের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্টদের সঙ্গে মতবিরোধকে নেতানিয়াহু তাঁর সমর্থকদের সামনে শক্তিশালী নেতৃত্বের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁদের মতে, ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিতে প্রস্তুত—এমন ভাবমূর্তি নেতানিয়াহুর নির্বাচনি রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এই কৌশল তাঁকে রাজনৈতিকভাবে সুবিধা দিয়েছে এবং তিনি ইসরায়েলের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনকারী প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও জো বাইডেনের সঙ্গে নেতানিয়াহুর সম্পর্ক বিভিন্ন সময়ে উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। দুই দেশের ঘনিষ্ঠ মিত্রতার মধ্যেও মধ্যপ্রাচ্যনীতি, ইরান, ফিলিস্তিন প্রশ্ন এবং ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে মতপার্থক্য দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের এই মূল্যায়নের প্রেক্ষাপটে নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক বক্তব্যকে শুধু পররাষ্ট্রনীতির ঘোষণা হিসেবে নয়, তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ও নির্বাচনি কৌশলের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব পরিবর্তনের সম্ভাবনাকে সামনে রেখে ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পরিসর বাড়াতে চাইছেন নেতানিয়াহু। ভারত ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে নতুন জোট গঠনের আহ্বান তাঁর সেই পরিকল্পনারই ইঙ্গিত দেয়। তবে এসব উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর রাজনৈতিক অবস্থান, পারস্পরিক স্বার্থ এবং ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথের ওপর। সূত্র: দ্য হিন্দু

কালের আলো/ইএকে/এসএ

ইশরাকের পদত্যাগপত্র গৃহীত, অবিলম্বে কার্যকরের প্রজ্ঞাপন জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৫ অপরাহ্ণ
ইশরাকের পদত্যাগপত্র গৃহীত, অবিলম্বে কার্যকরের প্রজ্ঞাপন জারি

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতি গ্রহণ করেছেন। এর মধ্য দিয়ে সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তাঁর দায়িত্বের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটল। ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ কার্যকর হওয়ার পর সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫০ জনে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীসহ পূর্ণ মন্ত্রী রয়েছেন ২৭ জন এবং প্রতিমন্ত্রী ২৩ জন।মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে পদত্যাগ কার্যকরের বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। ফলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ইশরাক হোসেনের দায়িত্ব আর থাকছে না।

এর আগে সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। সংবাদ সম্মেলনে তাঁর পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়। পরদিন মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর আগে গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকায় রেললাইন-সংলগ্ন স্থানে অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েন ইশরাক হোসেন।

ঘটনাটির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে তাঁকে নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তাঁর পদত্যাগের ঘোষণা ও পরবর্তী সময়ে পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনায় আসে। তবে পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক কারণ এবং বিতর্কিত অভিযানের সঙ্গে পদত্যাগের সিদ্ধান্তের সম্পর্ক বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি। মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

দেশে অনাহারেও কিমের অবকাশে কোটি ডলারের নৌযান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৮ অপরাহ্ণ
দেশে অনাহারেও কিমের অবকাশে কোটি ডলারের নৌযান

উত্তর কোরিয়ার সাধারণ মানুষের একাংশ যখন দীর্ঘস্থায়ী খাদ্যসংকট, অপুষ্টি ও কঠোর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের মধ্যে জীবন কাটাচ্ছেন, তখন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং–উনের অবকাশযাপনের জন্য রয়েছে বিলাসবহুল নৌযানের বহর। উত্তর কোরিয়ার ওয়ানসান উপকূলে কিমের অবকাশকেন্দ্রের আশপাশে চারটি বড় নৌযানের উপস্থিতি শনাক্ত করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে তোলা ছবিতে দেখা গেছে, নৌযানগুলোর দৈর্ঘ্য আনুমানিক ৫০, ৫৫, ৬০ ও ৮০ মিটার। এগুলো কিম ও তাঁর পরিবারের ব্যক্তিগত বিনোদনের কাজে ব্যবহৃত হয় বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। নৌযানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়টির দৈর্ঘ্য প্রায় ৮০ মিটার বা ২৬৩ ফুট। এর ডেকে রয়েছে প্রায় ৫০ মিটার দীর্ঘ একটি সুইমিংপুল, যার এক প্রান্তে রয়েছে ওয়াটার স্লাইড। দীর্ঘদিন একটি মেরামতকেন্দ্রে থাকার পর গত জুলাইয়ের শুরুতে নৌযানটিকে ওয়ানসানের কালমা উপদ্বীপের উপকূলীয় জলসীমায় দেখা যায়। জুলাই থেকে অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত স্যাটেলাইট ছবিতে নৌযানটির উপস্থিতি বারবার ধরা পড়েছে। বিবিসির বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, শুধু বড় নৌযানটিই নয়, কিমের অবকাশকেন্দ্রের আশপাশে থাকা অন্য নৌযানগুলোর চলাচলও নজরে এসেছে। এসব নৌযানের মালিকানা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তবে উত্তর কোরিয়ার সাবেক কর্মকর্তা, দেশত্যাগী নাগরিক এবং বিশেষজ্ঞদের ধারণা, দেশটির শাসকগোষ্ঠীর বাইরে কারও পক্ষে এ ধরনের ব্যয়বহুল নৌযানের মালিক হওয়া অত্যন্ত কঠিন।

কিমের অবকাশকেন্দ্র ঘিরে চার নৌযানের আনাগোনা
বিবিসির শনাক্ত করা চারটি নৌযানের দৈর্ঘ্য আনুমানিক ৫০, ৫৫, ৬০ ও ৮০ মিটার। চলতি বছর বিভিন্ন সময়ে এগুলোকে ওয়ানসানের কালমা উপদ্বীপ এবং আশপাশের দ্বীপগুলোর জলসীমায় দেখা গেছে। এর মধ্যে ৮০ মিটার দীর্ঘ নৌযানটির উপস্থিতি সবচেয়ে স্পষ্টভাবে শনাক্ত হয়েছে। ৫০ ও ৫৫ মিটার দীর্ঘ দুটি নৌযানকে আগস্টের শেষ পর্যন্ত ওয়ানসানের কাছে তে ও সিন দ্বীপের আশপাশে বারবার দেখা গেছে। স্যাটেলাইট ছবিতে ৫০ মিটার দীর্ঘ নৌযানটির পাশে চারটি ছোট নৌকাও দেখা যায়। অন্যদিকে, ৬০ মিটার দীর্ঘ নৌযানটিকে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত কিমের অবকাশকেন্দ্রের কাছাকাছি অবস্থান করতে দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব নৌযানের অবস্থান ও চলাচল কিমের ব্যক্তিগত অবকাশযাপনের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে স্যাটেলাইট ছবিতে কোনো নৌযানকে নির্দিষ্ট স্থানে দেখা গেলেই সেখানে কিম বা তাঁর পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

নৌযানগুলো কীভাবে ব্যবহার করা হয়
উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির ‘৩৯ নম্বর দপ্তরে’ একসময় কাজ করতেন রি জং হো। দেশটির শাসকগোষ্ঠীর বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে এই দপ্তর জড়িত বলে ধারণা করা হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি উত্তর কোরিয়া ছেড়ে চলে যান। রি জং হোর ভাষ্য অনুযায়ী, শীতকালে এসব নৌযান জাহাজ নির্মাণকেন্দ্রে রাখা হয়। গ্রীষ্ম এলে সেখান থেকে সরিয়ে কিমের ভিলা বা কালমা উপদ্বীপের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কিম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা সাঁতার কাটা এবং বিনোদনের কাজে এগুলো ব্যবহার করেন বলে তিনি জানান। স্যাটেলাইট ছবিতে নৌযানগুলোর অবস্থান সম্পর্কে পাওয়া তথ্য এবং সাবেক কর্মকর্তাদের বক্তব্যের মধ্যে কিছু মিল রয়েছে। তবে নৌযানগুলোর মালিকানা, সুনির্দিষ্ট ব্যবহার কিংবা প্রতিটির প্রকৃত মূল্য সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ্যে নেই।

ওয়ানসান কেন কিম পরিবারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ
উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলে অবস্থিত ওয়ানসান দীর্ঘদিন ধরে কিম পরিবারের অবকাশযাপনের গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে পরিচিত। শহরটির আশপাশে রয়েছে উপকূলীয় ভিলা, ব্যক্তিগত বিনোদনকেন্দ্র এবং বিভিন্ন অবকাশসুবিধা। কিম জং–উন শৈশবের একটি বড় সময় তাঁর মায়ের সঙ্গে ওয়ানসানে কাটিয়েছেন বলে জীবনীকার ও গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য থেকে জানা যায়। নব্বইয়ের দশক থেকে ২০০০ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত কিম জং–ইলের ভিলার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক দেশত্যাগী ব্যক্তি জানিয়েছেন, ওই এলাকার ভিলাগুলোতে মূলত অভিজাত ব্যক্তিরাই যাতায়াত করতেন। গ্রীষ্মকালে সেখানে শিশু-কিশোরদের পানিতে স্কি করতেও দেখেছেন তিনি। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে কিমের ব্যক্তিগত অবকাশযাপনের বিস্তারিত সাধারণত প্রকাশ করা হয় না। তাঁর বিভিন্ন সফরকে বরং সরকারি কর্মসূচি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। তবে উত্তর কোরিয়া ছেড়ে আসা কয়েকজন বিবিসিকে জানিয়েছেন, কিম পরিবারের ওয়ানসানে অবকাশযাপনের বিষয়টি দেশটির অন্তত কিছু মানুষের জানা।

অবকাশকেন্দ্রে পর্যটন সুবিধা বাড়াচ্ছে উত্তর কোরিয়া
ওয়ানসান কালমা অবকাশকেন্দ্রকে পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে বহুতল হোটেল, রেস্তোরাঁ, দোকান, ক্রীড়াসুবিধা এবং জলবিনোদনকেন্দ্র রয়েছে। প্রায় ২০ হাজার পর্যটকের থাকার ব্যবস্থা করা সম্ভব বলেও দাবি করা হয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে কেন্দ্রটি চালু হওয়ার পর রুশ পর্যটকদের সেখানে ভ্রমণের ছবি প্রকাশ করেছে উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম। বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যটকদের জন্যও কেন্দ্রটি উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার একটি সংবাদমাধ্যম নাম প্রকাশ না করা এক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার কিছু স্থানীয় বাসিন্দার জন্য চার রাতের ভ্রমণ প্যাকেজের দাম প্রায় ১০০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে দেশটির অধিকাংশ মানুষের আয় ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের তুলনায় এ পরিমাণ অর্থও বড় অঙ্কের।

সাধারণ মানুষের সংকটের বিপরীতে শাসকের বিলাসী জীবন
উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া কঠিন। দেশটির শাসনব্যবস্থা অত্যন্ত গোপনীয় হওয়ায় জাতীয় বাজেট, ব্যক্তিগত সম্পদ এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট নয়। তবে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার মূল্যায়নে দেশটিতে দারিদ্র্য, খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর সমস্যা উঠে এসেছে। জাতিসংঘের ২০২৫ সালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার বিপুলসংখ্যক মানুষ কঠোর মানবাধিকার পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন। রাষ্ট্র নাগরিকদের জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ন্ত্রণ করে এবং অনেককে জোরপূর্বক শ্রমে নিয়োজিত করা হয়। দীর্ঘস্থায়ী খাদ্যসংকটের কারণে দেশটির প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কিমের অবকাশকেন্দ্রের কাছে একাধিক বড় নৌযানের উপস্থিতি দেশটির শাসকগোষ্ঠী ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার বৈপরীত্যকে সামনে এনেছে। তবে নৌযানগুলোর প্রকৃত মূল্য এবং রক্ষণাবেক্ষণে কত অর্থ ব্যয় হয়, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য নেই। একই ধরনের বিলাসবহুল প্রমোদতরির দাম কয়েক কোটি ডলার থেকে ১০ কোটি ডলারেরও বেশি হতে পারে। এর আগে কিমের ব্যবহৃত ২৯ মিটার দীর্ঘ একটি প্রিন্সেস প্রমোদতরির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৭০ লাখ ডলার বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে এই হিসাবকে নতুন শনাক্ত হওয়া চারটি নৌযানের প্রকৃত দাম হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

স্যাটেলাইট ছবিতে নৌযানের চলাচল কেন গুরুত্বপূর্ণ
উত্তর কোরিয়ার মতো কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত দেশে শাসকগোষ্ঠীর ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন। এ কারণে কৃত্রিম উপগ্রহের ছবি দেশটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সামরিক অবকাঠামো এবং শীর্ষ নেতাদের ব্যবহৃত স্থান পর্যবেক্ষণের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে। বিবিসির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কিম জং–উন দীর্ঘ সময় জনসমক্ষে অনুপস্থিত থাকলে কখনো কখনো এসব বিলাসবহুল নৌযানের চলাচল বেড়ে যায়। তবে এ ধরনের সময়গত মিল থেকে কিমের অবস্থান বা তাঁর পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায় না। নৌযানগুলো ঠিক কোন কাজে ব্যবহৃত হয়েছে, তা জানতে আরও তথ্য প্রয়োজন। কৃত্রিম উপগ্রহের ছবিতে ২০০২ সালেও ওয়ানসানে একই ধরনের একটি বড় নৌযান দেখা গিয়েছিল। সে সময় উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতায় ছিলেন কিম জং–ইল।

এতে বোঝা যায়, ওয়ানসান উপকূলকে কেন্দ্র করে কিম পরিবারের বিলাসবহুল নৌযান ব্যবহারের ইতিহাস বেশ পুরোনো। সাবেক মার্কিন বাস্কেটবল তারকা ডেনিস রডম্যান ২০১৩ সালে উত্তর কোরিয়া সফরের সময় কিম জং–উনের সঙ্গে ওয়ানসানে সময় কাটানোর কথা জানিয়েছিলেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সফরের বড় একটি অংশ তাঁরা সেখানে কাটিয়েছিলেন। ওই সময়ে তাঁরা জেট স্কি চালিয়েছেন এবং ঘোড়ায় চড়েছেন। রডম্যান আরও জানিয়েছিলেন, তাঁরা প্রায় ৬০ মিটার দীর্ঘ একটি নৌযান ব্যবহার করেছিলেন, যা দেখতে ফেরি ও ডিজনিল্যান্ডের ক্রুজের সংমিশ্রণের মতো ছিল। তবে তাঁর বর্ণিত নৌযানটি বিবিসির সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট ছবিতে শনাক্ত হওয়া ৬০ মিটার দীর্ঘ নৌযানটিই কি না, তা নিশ্চিত নয়।

সাধারণ মানুষের ছুটিও অনেকের কাছে বিলাসিতা
উত্তর কোরিয়ায় অবকাশযাপন ও স্বাধীনভাবে ভ্রমণের সুযোগ সাধারণ মানুষের জন্য সীমিত। দেশত্যাগী কয়েকজন বিবিসিকে জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী শ্রমিক, দপ্তরের কর্মী এবং সমবায় খামারের কৃষকদের বছরে ১৪ দিনের ছুটি পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে এই নিয়ম নিয়মিতভাবে অনুসরণ করা হয় না। ছুটি পেলেও এক শহর বা জেলা থেকে অন্য এলাকায় যেতে সরকারি অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে। ফলে দেশের ভেতরে অবাধে ভ্রমণ করা অনেকের জন্য কঠিন। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং চলাচলের ওপর বিধিনিষেধের কারণে ছুটি কাটানোও অনেকের নাগালের বাইরে থেকে যায়।

বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের তথ্যের সীমাবদ্ধতার কারণে উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যায় না। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার তুলনায় দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থান যে অনেক দুর্বল, তা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মূল্যায়নে উঠে এসেছে। ২০২৪ সালে উত্তর কোরিয়ার মাথাপিছু জিডিপি ছিল আনুমানিক ৬৬৭ ডলার, যেখানে দক্ষিণ কোরিয়ার ছিল ৩৬ হাজার ২২৭ ডলার। রি জং হোর বক্তব্য অনুযায়ী, কিমকে রাষ্ট্রীয় প্রচারে জনগণের জন্য আত্মত্যাগী নেতা হিসেবে তুলে ধরা হয়। অথচ সাধারণ মানুষ যখন খাবার জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছেন, তখন শাসকের অবকাশকেন্দ্র ঘিরে রয়েছে একাধিক বিলাসবহুল নৌযান। এই বৈপরীত্যই উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাকাঠামো, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং শাসকগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সব মিলিয়ে, ওয়ানসানের উপকূলে চারটি বড় নৌযানের উপস্থিতি কিম জং–উনের ব্যক্তিগত অবকাশযাপন সম্পর্কে নতুন তথ্য সামনে এনেছে। তবে নৌযানগুলোর মালিকানা ও ব্যবহার নিয়ে আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ না থাকায় স্যাটেলাইটের ছবি, বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ এবং সাবেক কর্মকর্তাদের বক্তব্যের ভিত্তিতেই বিষয়টি মূল্যায়ন করতে হচ্ছে। সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স, জাতিসংঘ

কালের আলো/আরআইকে/এসএ