বন্দিতালিকায় নাম ছিল দুজনেরই। একজনের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ, অন্যজনের বিরুদ্ধে ব্যভিচারের অভিযোগের উল্লেখও ছিল। কিন্তু সেই তালিকায় ছিল না তাঁদের কী সাজা হয়েছে, সেই তথ্য। পরে জানা গেল, দুজনেরই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। অথচ এমন চূড়ান্ত শাস্তির খবর বাংলাদেশ জানতে পারল মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নজরুল ইসলাম ও টাঙ্গাইলের সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের তথ্য আদান-প্রদান ও কূটনৈতিক যোগাযোগের প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। বন্দিতালিকায় নাম থাকার পরও কেন তাঁদের সাজার তথ্য জানানো হয়নি? মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশকে অবহিত করা হয়েছিল কি না? আর বিচার চলাকালে তাঁরা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পেয়েছিলেন কি না?
- বন্দিতালিকায় দুই বাংলাদেশির অপরাধের উল্লেখ থাকলেও সাজার বিবরণ ছিল অনুপস্থিত
- বিচারিক প্রক্রিয়া ও তথ্যের ঘাটতির কারণ জানতে চায় বাংলাদেশ
এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে ঢাকা। দুই বাংলাদেশির মামলার বিস্তারিত বিবরণ, বিচারিক প্রক্রিয়ায় নেওয়া পদক্ষেপ এবং মৃত্যুদণ্ডের তথ্য বাংলাদেশকে না জানানোর কারণ জানতে সৌদি আরবের কাছে নতুন করে কূটনৈতিক পত্র পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) জেদ্দায় সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ফরিদ বিন সাদ আল সেহেরির সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি সরাসরি তোলেন বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. সাখাওয়াত হোসেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি কর্মকর্তা বন্দিতালিকায় সাজার তথ্য না থাকার বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
বাংলাদেশের কূটনীতিকদের বক্তব্য, তালিকায় যদি মৃত্যুদণ্ডের তথ্য থাকত, তাহলে দুই বাংলাদেশির সুরক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ পাওয়া যেত। এখন মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর তাঁদের মামলার খুঁটিনাটি জানতে চাইছে ঢাকা। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, তথ্য আদান-প্রদানে এই ঘাটতি কেন তৈরি হলো এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়ানোর উপায় কী?
অপরাধের তথ্য ছিল, মৃত্যুদণ্ডের কথা কেন নয়?
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী, গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) জেদ্দায় বাংলাদেশের কনস্যুলেটে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বন্দি ও দণ্ডিত ব্যক্তিদের একটি তালিকা পাঠায়। সেখানে নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের নাম ছিল। কিন্তু তাঁদের বিরুদ্ধে অপরাধের উল্লেখ থাকলেও সাজার ধরন বা মেয়াদ সম্পর্কে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
তালিকায় বলা হয়, জেদ্দা সংশোধনাগারে বন্দি নজরুল ইসলাম সাইবার ক্রাইম বা তথ্যপ্রযুক্তিসংক্রান্ত অপরাধে দণ্ডিত হয়েছেন। কিন্তু তাঁকে কখন দণ্ড দেওয়া হয়েছে কিংবা কী শাস্তি দেওয়া হয়েছে, তা উল্লেখ করা হয়নি। অন্যদিকে, জেদ্দা মহিলা কারাগারে বন্দি সুইটি আক্তারের বিরুদ্ধে ব্যভিচারের অভিযোগের কথা বলা হয়। কিন্তু তাঁর ক্ষেত্রেও সাজার বিবরণ ছিল অনুপস্থিত।
এরপর বুধবার (১৪ অক্টোবর) সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানায়, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এখানেই বাংলাদেশের কূটনৈতিক উদ্বেগের মূল জায়গা। বন্দিতালিকায় যখন দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে অপরাধ ও দণ্ডের উল্লেখ ছিল, তখন মৃত্যুদণ্ডের মতো গুরুতর শাস্তির তথ্য কেন অনুপস্থিত ছিল? তালিকাটি তৈরি ও পাঠানোর সময় এই তথ্য বাদ পড়েছিল, নাকি অন্য কোনো কারণে তা জানানো হয়নি—সেই ব্যাখ্যা এখনো স্পষ্ট নয়।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর তিন দফায় কূটনৈতিক উদ্যোগ
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর সামনে আসার পর সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে ধারাবাহিকভাবে যোগাযোগ করেছে বাংলাদেশ। গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রথম কূটনৈতিক পত্র পাঠায়। এতে নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়।
এরপর রবিবার (১৮ অক্টোবর) ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতের কাছে ওই কূটনৈতিক পত্র আবার দেওয়া হয়। একই দিন জেদ্দা থেকে ঢাকায় পাঠানো বাংলাদেশ মিশনের এক বার্তায় দুই বাংলাদেশির মামলা এবং সৌদি আরবে অনুরূপ অপরাধে বাংলাদেশিদের সাজা দেওয়ার নজির সম্পর্কে তথ্য তুলে ধরা হয়। সবশেষে সোমবার (১৯ অক্টোবর) জেদ্দায় সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালকের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি আবারও উত্থাপন করেন বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. সাখাওয়াত হোসেন। বৈঠকে যত দ্রুত সম্ভব দুই বাংলাদেশির বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
বাংলাদেশের নতুন কূটনৈতিক পত্রে জানতে চাওয়া হয়েছে, দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছিল, বিচারিক প্রক্রিয়ায় কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল এবং দণ্ড ঘোষণার পর তাঁরা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পেয়েছিলেন কি না।অর্থাৎ ঢাকা এখন শুধু মৃত্যুদণ্ডের সিদ্ধান্তের তথ্য চাইছে না; বরং গ্রেপ্তার থেকে শুরু করে বিচার, আপিল এবং চূড়ান্ত দণ্ড কার্যকর পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ার বিবরণ জানতে চাইছে।
সৌদির ব্যাখ্যা: নিম্ন আদালতে দণ্ড, ১৩ বিচারকের প্যানেলে বহাল
গত সোমবারের (১৯ অক্টোবর) বৈঠকে সৌদি পক্ষ দুই বাংলাদেশির বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে কিছু তথ্য দিয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের কর্মকর্তারা। সৌদি পক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের আগস্টে গ্রেপ্তারের পর যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রথমে নিম্ন আদালত দুই আসামির দণ্ড দেন। পরে ১৩ বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত আপিল আদালতের প্যানেল তাঁদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। আদালতের রায় অনুসরণ করে নারী ও পুরুষ বন্দিদের জন্য নির্ধারিত পৃথক সেলে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
তবে এই ব্যাখ্যায় বাংলাদেশের মূল প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে থাকলে বন্দিতালিকায় মৃত্যুদণ্ডের তথ্য কেন ছিল না, সে বিষয়ে সৌদি কর্মকর্তার কাছ থেকে সন্তোষজনক জবাব পাওয়া যায়নি বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। বৈঠক ও নতুন কূটনৈতিক পত্র পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কনসাল জেনারেল মো. সাখাওয়াত হোসেন। তবে আলোচনার বিস্তারিত জানাতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।
‘আগে জানলে সুরক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়া যেত’
জেদ্দার বৈঠকে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল সৌদি কর্তৃপক্ষের পাঠানো বন্দিতালিকার অসংগতির বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেন। তাঁর প্রশ্ন ছিল, যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়ে থাকলে তালিকায় কেন সেই তথ্য উল্লেখ করা হয়নি? বাংলাদেশের কূটনীতিক বলেন, বন্দিতালিকায় নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ডের তথ্য থাকলে জেদ্দায় বাংলাদেশ মিশন তাঁদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ পেত।
এই বক্তব্যে বাংলাদেশের উদ্বেগের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক স্পষ্ট হয়েছে। বিদেশে বন্দি কোনো বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মামলা চললে সংশ্লিষ্ট মিশনের কাছে সময়মতো তথ্য থাকা জরুরি। বিশেষ করে মৃত্যুদণ্ডের মতো চূড়ান্ত শাস্তির ক্ষেত্রে তথ্য না পেলে কূটনৈতিক যোগাযোগ, আইনি সহায়তা বা অন্য কোনো সম্ভাব্য পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে যেতে পারে। তবে আগে তথ্য পেলে বাংলাদেশ ঠিক কী পদক্ষেপ নিতে পারত এবং তা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সিদ্ধান্তে কোনো প্রভাব ফেলত কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। এ জন্য দুই মামলার পূর্ণাঙ্গ নথি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার বিস্তারিত জানা প্রয়োজন।
২০২৩ সালে গ্রেপ্তার, ২০২২ সালের শেষ দিকে সৌদি আরবে যাত্রা
ঢাকা, রিয়াদ ও জেদ্দায় বাংলাদেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে কথা বলে এবং সরকারি কয়েকটি নথি থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নজরুল ইসলামকে ২০২৩ সালের ১ আগস্ট (১ আগস্ট ২০২৩) আটক করা হয়। পরদিন ২ আগস্ট (২ আগস্ট ২০২৩) আটক হন সুইটি আক্তার। নজরুল ইসলামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়, আর সুইটি আক্তারের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়। তাঁরা দুজনই ২০২২ সালের শেষ দিকে সৌদি আরবে যান।
সেখানে আল মাজাল কোম্পানিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন। কর্মসংস্থানের জন্য সৌদি আরবে যাওয়া এই দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছিল, কোন প্রমাণের ভিত্তিতে তাঁদের দণ্ড দেওয়া হয় এবং বিচার চলাকালে তাঁরা কী ধরনের আইনি সহায়তা পেয়েছিলেন—এসব প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশের নতুন কূটনৈতিক পত্রে তাই মামলার বিবরণের পাশাপাশি বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে। বিশেষ করে, দুই বন্দি আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পেয়েছিলেন কি না, তা ঢাকার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
একই ধরনের অপরাধে বাংলাদেশিদের সাজা কতটা কঠোর?
গত রবিবার (১৮ অক্টোবর) জেদ্দা থেকে ঢাকায় পাঠানো বাংলাদেশ মিশনের বার্তায় বলা হয়, সৌদি আরবে সাইবার অপরাধ কিংবা ব্যভিচারের অভিযোগে এর আগে কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নজির নেই বলে মিশন উল্লেখ করেছে। ওই বার্তায় সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের কারাগারগুলোতে বিভিন্ন ধরনের চারিত্রিক স্খলনসংক্রান্ত মামলায় বন্দি বাংলাদেশিদের পরিসংখ্যানও তুলে ধরা হয়। সেখানে মোট ৩০৬ জন বাংলাদেশি বন্দি রয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়। তাঁদের মধ্যে ১৪৭ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা ঘোষণা করা হয়েছে। এসব সাজা সর্বনিম্ন এক মাস থেকে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড পর্যন্ত।
এ ছাড়া সাইবার অপরাধসংক্রান্ত অন্য তিনটি মামলায় মক্কায় তিন বাংলাদেশিকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে বার্তায় উল্লেখ করা হয়। তাঁদের সাজা সর্বনিম্ন ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর। এই পরিসংখ্যানের সঙ্গে নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ডের তথ্য সামনে আসায় তাঁদের মামলার বিশেষ পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে আগের মামলাগুলোর অভিযোগ, প্রমাণ ও বিচারিক পরিস্থিতি এই দুই মামলার সঙ্গে এক ছিল কি না, তা জানা নেই। তাই শুধু সাজা তুলনা করে মামলাগুলোর মধ্যে সরাসরি সমতা টানা সম্ভব নয়।
তবু একই ধরনের অপরাধে আগে বাংলাদেশিদের কারাদণ্ডের তথ্য থাকায় দুই মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার ভিত্তি কী ছিল, তা জানতে চাওয়ার গুরুত্ব রয়েছে। মামলার পূর্ণাঙ্গ নথি পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হতে পারে।
‘তথ্য আদান-প্রদানে ঘাটতি ছিল’: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, অভিযোগ বা অপরাধের কথা তুলে ধরে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে—এ ঘটনা বাংলাদেশের জন্য হতাশাজনক। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় তথ্য আদান-প্রদান ও কূটনৈতিক যোগাযোগের প্রক্রিয়ায় ঘাটতি ছিল। এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও তথ্য চাওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে তথ্য আদান-প্রদানের ঘাটতির বিষয়টি স্বীকার করা হলেও সেই ঘাটতি কোন পর্যায়ে তৈরি হয়েছিল, কেন মৃত্যুদণ্ডের তথ্য বাংলাদেশকে আগে জানানো হয়নি এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি। এখন সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া ব্যাখ্যা ও নথির ভিত্তিতেই বোঝা সম্ভব হবে, তথ্য আদান-প্রদানের ব্যর্থতা কোথায় ছিল এবং দুই বাংলাদেশির মামলা সম্পর্কে বাংলাদেশ মিশনকে কেন যথাসময়ে জানানো হয়নি।
মৃত্যুদণ্ডের পরও অমীমাংসিত প্রশ্ন
নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়ে গেছে। কিন্তু তাঁদের বন্দি থাকার তথ্য জানা থাকলেও মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি বাংলাদেশকে আগে জানানো হয়নি কেন, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। এই ঘটনায় তিনটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, বন্দিতালিকায় অপরাধের উল্লেখ থাকলেও সাজার তথ্য অনুপস্থিত ছিল কেন। দ্বিতীয়ত, বিচার ও আপিলের প্রতিটি ধাপে দুই বাংলাদেশির আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ কীভাবে নিশ্চিত করা হয়েছিল। তৃতীয়ত, মৃত্যুদণ্ডের মতো গুরুতর সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বাংলাদেশের কনস্যুলেটকে যথাসময়ে অবহিত না করার কারণ কী।
বিদেশে বন্দি বাংলাদেশিদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া শুধু প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; সংশ্লিষ্ট নাগরিকদের অধিকার রক্ষা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রেও তা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মৃত্যুদণ্ডের মতো চূড়ান্ত শাস্তির ক্ষেত্রে তথ্যের ঘাটতি থাকলে সম্ভাব্য কূটনৈতিক বা আইনি উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ সংকুচিত হতে পারে। এখন ঢাকার লক্ষ্য দুই বাংলাদেশির মামলার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ পাওয়া, বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া এবং তথ্য আদান-প্রদানে ঘাটতির কারণ জানা। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে বিদেশে বন্দি বাংলাদেশিদের বিষয়ে গুরুতর সিদ্ধান্ত যেন সংশ্লিষ্ট মিশনের অজানা না থাকে, তা নিশ্চিত করার প্রশ্নও সামনে এসেছে।
কালের আলো/এমএসএএকে/এমকে
আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]