জাপানের কাছে কম সুদের ঋণ চাইবে বাংলাদেশ, আলোচনায় ইপিএ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরে দুই দেশের মধ্যে অবকাঠামোগত সহযোগিতা বৃদ্ধি, ঋণের সুদের হার কমানো এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) কার্যকর করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। বিশেষ করে মেট্রোরেলসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে সহযোগিতা এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ আমদানি-রপ্তানির চাহিদা বিবেচনায় মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হবে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। তিনি বলেন, জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অবকাঠামো খাতে সহযোগিতার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাবে।
পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মেট্রোরেলসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে। বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে জাপানের অংশীদারত্ব এবং চলমান ও পরিকল্পিত প্রকল্পগুলোর সহযোগিতার বিষয়গুলো এ আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। জাপান বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী। অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে দুই দেশের সহযোগিতার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর সফরের আলোচ্যসূচিতে গুরুত্ব পাচ্ছে।
বাংলাদেশ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কম সুদের ঋণ পেতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব। তাঁর ভাষ্য, বাংলাদেশ সব দেশের কাছ থেকেই কম সুদে ঋণ পেতে চায়। তবে জাপান সফরে এ বিষয়ে কী ধরনের অগ্রগতি হবে, তা সফর শেষে জানা যাবে। উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নে ঋণের সুদের হার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কম সুদে অর্থায়ন পাওয়া গেলে প্রকল্প বাস্তবায়নের ব্যয় ও ঋণ পরিশোধের চাপ ব্যবস্থাপনায় সুবিধা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত বা সমঝোতা হয়েছে কি না, তা সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করা হয়নি।
দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশের বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানান আসাদ আলম সিয়াম। বাংলাদেশ ও জাপানের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) নিয়েও প্রধানমন্ত্রীর সফরে আলোচনা হতে পারে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও জাপানের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি। ওই প্রক্রিয়া শেষ হলেই চুক্তিটি কার্যকর হবে।
ইপিএ কার্যকর হলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে চুক্তির ফলে বাংলাদেশের কোনো কোনো পণ্যের রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। জবাবে আসাদ আলম সিয়াম বলেন, ইপিএ একটি সামগ্রিক চুক্তি। কোনো নির্দিষ্ট খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা পর্যালোচনা করে পরবর্তী সময়ে আলোচনার সুযোগ থাকবে। অর্থাৎ চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর কোনো খাতে বিরূপ প্রভাব দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার পথ খোলা থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পও রয়েছে। পররাষ্ট্র সচিব জানান, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ আমদানি-রপ্তানির চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
আগামী ১০ বছরে সম্ভাব্য বাণিজ্যিক চাহিদা সামাল দেওয়ার মতো সক্ষমতা নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের পরিমাণ ও পণ্য পরিবহনের চাহিদা ভবিষ্যতে বাড়তে পারে—এ বিবেচনায় বন্দরটির সক্ষমতা উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ প্রকল্পের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতের বাণিজ্যিক চাহিদা মোকাবিলায় তা সহায়ক হতে পারে। তবে এ বিষয়ে সফরে নির্দিষ্ট কোনো চুক্তি বা নতুন সিদ্ধান্ত হবে কি না, তা এখনো জানা যায়নি।
বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সম্পর্ক মূল্যায়নের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বাংলাদেশ প্রতিটি দেশের সঙ্গে সম্পর্ককে আলাদাভাবে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে। এক দেশের সঙ্গে সম্পর্ককে অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্কের নিরিখে তুলনা করা হয় না।
তিনি বলেন, “আমরা যা করি আমাদের নিজেদের স্বার্থে, আমাদের জনগণের প্রয়োজনে, আমাদের দেশের কল্যাণে।” পররাষ্ট্র সচিবের বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণে দেশের নিজস্ব স্বার্থ, জনগণের প্রয়োজন এবং জাতীয় কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৬ থেকে ৩০ অক্টোবর জাপান সফর করবেন। সফরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়ন, মেট্রোরেল প্রকল্পে সহযোগিতা, কম সুদের ঋণ, ইপিএ কার্যকর করা এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো সফরের অর্থনৈতিক আলোচনায় গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব। সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এবং জনকূটনীতি বিভাগের মহাপরিচালক শহীদুল করিম উপস্থিত ছিলেন।
কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি


আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]