গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে কোনোভাবেই বিতর্কিত না করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, গণঅভ্যুত্থান নিয়ে কারও কিছু বলার থাকলে সংসদে এসে আলোচনা করা উচিত। এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত নয়, যাতে জনগণের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, শিক্ষা ও ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত হয়।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে রংপুরের ঐতিহাসিক রাধা গোবিন্দ ধর্মসভা মন্দিরে শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমী উপলক্ষে আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই তারেক রহমানের প্রথম রংপুর সফর। দুপুর ১২টা ৪ মিনিটে তিনি মন্দির প্রাঙ্গণে পৌঁছালে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও শিশুদের নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে তাঁকে বরণ করে নেওয়া হয়।
মুক্তিযুদ্ধ ও গণঅভ্যুত্থানে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণ
বক্তব্যে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় মানুষ ধর্মের পরিচয় বিবেচনা না করে দেশকে স্বাধীন করার জন্য যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। বিভিন্ন মত, শ্রেণি ও পেশার মানুষ সম্মিলিতভাবে লড়াই করে দেশ স্বাধীন করেছিল। একইভাবে দুই-আড়াই বছর আগে বাংলাদেশে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানেও দেশের বিভিন্ন ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণ ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষের ওপর চেপে বসা স্বৈরাচারকে বিতাড়িত করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণঅভ্যুত্থানের রাজপথের দিকে তাকালে বাংলাদেশে বসবাসকারী সব ধর্মের মানুষের সম্মিলন দেখা যায়। হাজার বছর ধরে এ দেশের মানুষ বিভিন্ন ধর্মের অনুসারী হয়েও একসঙ্গে বসবাস করে আসছে। আগামী হাজার বছরও সবাই মিলে শান্তিতে বসবাস করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলতে চাইলেও একটি মহল বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে বলে তিনি দেখছেন। অতীতে মহান মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করার চেষ্টা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই চেষ্টার ফল শুভ হয়নি।একইভাবে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকেও কোনো কোনো মহল বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, গণতন্ত্রকামী জনগণের পক্ষ থেকে আহ্বান জানাতে চান, কেউ যেন চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে বিতর্কিত না করেন। এ বিষয়ে কারও বক্তব্য বা আপত্তি থাকলে সংসদে এসে তা তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, অতীতের মতো এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত নয়, যাতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাঘাত ঘটে।
ভোট দেওয়া-না দেওয়া সবার সরকার হতে চাই
বর্তমান সরকারকে জনগণের সরকার হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষ ভোট দিয়ে বর্তমান সরকারকে নির্বাচিত করেছে। কোনো এলাকায় সরকারি দলের প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন, আবার কোনো এলাকায় হননি—এটাই নির্বাচনের বাস্তবতা।তবে সরকার শুধু যারা ভোট দিয়েছেন তাঁদের জন্য নয়, যারা ভোট দেননি তাঁদের জন্যও কাজ করতে চায় বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, বর্তমান সরকার এমন একটি সরকার হতে চায়, যা ভোট দেওয়া ও না দেওয়া—উভয় শ্রেণির মানুষের প্রতিনিধিত্ব করবে।
রংপুরের উন্নয়নে ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ
রংপুরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, রংপুর মহানগরের উন্নয়নের জন্য ইতিমধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগের মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও গ্রামে প্রয়োজন অনুযায়ী সেতু, কালভার্ট, স্কুল ও কলেজ পর্যায়ক্রমে নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক গুরুত্ব, রাজনৈতিক মতপার্থক্য সংসদে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান এবং রংপুরের উন্নয়ন পরিকল্পনা গুলো উঠে আসে।
কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]