খুঁজুন
                               
, ,
           

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন

২১ হাজারের বেশি রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার বাংলাদেশে: ব্রিটিশ প্রতিবেদন

কূটনৈতিক প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৯ অপরাহ্ণ
২১ হাজারের বেশি রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার বাংলাদেশে: ব্রিটিশ প্রতিবেদন

বিএনপি সরকার গঠনের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সামগ্রিক উন্নতি হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিবেদন। এতে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের তুলনায় বর্তমানে রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক, নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো স্বাধীনভাবে কার্যক্রম পরিচালনা এবং মতপ্রকাশের বেশি সুযোগ পাচ্ছে। একই সঙ্গে দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা কমেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কান্ট্রি পলিসি অ্যান্ড ইনফরমেশন টিমের (সিপিআইটি) তৈরি একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিবেদনটি গতকাল সোমবার প্রকাশ করা হয়। চলতি বছরের ৭ থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত ঢাকায় বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তিন সদস্যের ব্রিটিশ প্রতিনিধিদল প্রতিবেদনটি তৈরি করে।

রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রমে স্বাধীনতার সুযোগ
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দল বর্তমানে স্বাধীনভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা, প্রচার-প্রচারণা, সমাবেশ আয়োজন এবং সরকারের সমালোচনা করার সুযোগ পাচ্ছে।

তবে রাজনৈতিক পরিবেশে উন্নতির কথা বলা হলেও দেশে এখনো কিছু সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এসব সহিংসতার বড় অংশ স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার, ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং আধিপত্য প্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হচ্ছে।

২০২৬ সালের নির্বাচন ও রাজনৈতিক সহিংসতা
বাংলাদেশের ২০২৬ সালের নির্বাচনকে সার্বিকভাবে শান্তিপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করেছে ব্রিটিশ প্রতিনিধিদল। আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় এই নির্বাচনে সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচনের পর থেকে দেশে রাজনৈতিক সহিংসতার মাত্রাও কমেছে। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতির এই পরিবর্তন সত্ত্বেও স্থানীয় পর্যায়ে সংঘাত ও প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঝুঁকি এখনো রয়েছে।

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ, সমর্থকদেরও রয়েছে ঝুঁকি
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ দল হিসেবে এখনো নিষিদ্ধ রয়েছে। ক্ষমতায় থাকাকালে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘটনাবলির কারণে দলটির বিরুদ্ধে ব্যাপক জনক্ষোভ রয়েছে।

তবে দুর্নীতি, সহিংসতা কিংবা দমন-পীড়নের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন না—এমন তৃণমূল পর্যায়ের আওয়ামী লীগ সমর্থকেরা নিজ নিজ এলাকায় বসবাস করতে পারছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও প্রকাশ্যে দলটির প্রতি সমর্থন জানালে তাঁদের সামাজিক বৈরিতা, হয়রানি কিংবা সহিংসতার মুখে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের সাবেক কিছু নেতাকর্মী অন্য রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়েছেন, কেউ এলাকা পরিবর্তন করেছেন, আবার কেউ দেশ ছেড়েছেন।

জুলাই অভ্যুত্থানের ঘটনায় মামলা ও বিচার
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত অপরাধের অভিযোগে দলটির বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং নিয়মিত আদালতে মামলা চলছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা জামিনে মুক্তি পেলেও অনেকে বিচারাধীন অবস্থায় কারাগারে রয়েছেন। এসব মামলা ও বিচারপ্রক্রিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উঠে এসেছে প্রতিবেদনে।

প্রত্যাহার হয়েছে ২১ হাজারের বেশি রাজনৈতিক মামলা
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া অধিকাংশ ব্যক্তি ইতিমধ্যে মুক্তি পেয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে এতে বলা হয়, এখন পর্যন্ত ২১ হাজারেরও বেশি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। পুরোনো মামলাগুলো পর্যালোচনার প্রক্রিয়াও এখনো চলমান রয়েছে।

সব মিলিয়ে, যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশ, বিরোধী দলগুলোর কার্যক্রম, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের সুযোগ বৃদ্ধির কথা বলা হলেও স্থানীয় পর্যায়ে সহিংসতা, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে হয়রানির ঝুঁকি এবং চলমান বিচারপ্রক্রিয়ার বিষয়গুলোও গুরুত্ব পেয়েছে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

সুতি শাড়ি আর বেলি ফুলে মুগ্ধতা ছড়ালেন জয়া আহসান

বিনোদন প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
সুতি শাড়ি আর বেলি ফুলে মুগ্ধতা ছড়ালেন জয়া আহসান

দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান আবারও মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন বাঙালিয়ানার সাজে। অফহোয়াইট সুতি শাড়ি, বেলি ফুলের খোঁপা আর মার্জিত অলংকারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন তিনি। তবে নজরকাড়া সাজের পাশাপাশি তাঁর ছবির ক্যাপশনও ভক্তদের আগ্রহ বাড়িয়েছে। বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের গানের পঙ্‌ক্তি উদ্ধৃত করে অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘সখি তোরা প্রেম করিয়ো না, পিরিত ভালা না।’

ঐতিহ্যবাহী সাজে জয়া


পোশাকের বৈচিত্র্য ও নিজস্ব ফ্যাশন ভাবনার কারণে বরাবরই আলোচনায় থাকেন জয়া আহসান। পশ্চিমা পোশাক হোক কিংবা ঐতিহ্যবাহী শাড়ি—প্রতিটি সাজেই নিজের রুচি ও ব্যক্তিত্বের স্বতন্ত্র ছাপ রাখেন এই অভিনেত্রী। এবার তাঁর বাঙালিয়ানায় ভরা নতুন ছবিগুলোও অনুরাগীদের নজর কেড়েছে। সম্প্রতি ফেসবুকে প্রকাশ করা ছবিগুলোতে জয়া আহসানকে দেখা গেছে অফহোয়াইট রঙের সুতি শাড়িতে। শাড়ির পাড়জুড়ে ধূসর-গোলাপি রঙের সূক্ষ্ম কারুকাজ সাজে এনেছে স্নিগ্ধ ও অভিজাত আবহ। শাড়ির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি ব্লাউজেও ছিল পরিমিত রুচির ছাপ।

বেলি ফুলের খোঁপায় মুগ্ধতা


সাজের পূর্ণতা দিতে কানে ভারী ঝুলন্ত দুল, হাতে মানানসই অলংকার এবং চুলে বেলি ফুলের খোঁপা বেছে নিয়েছেন জয়া। সব মিলিয়ে তাঁর সাজে ফুটে উঠেছে বাঙালি ঐতিহ্য ও আধুনিক রুচির মেলবন্ধন।  ছবিগুলোতেও ছিল ভিন্নতা। কোথাও পেছন দিক থেকে ক্যান্ডিড ভঙ্গিতে ধরা দিয়েছেন অভিনেত্রী, আবার কোথাও মুচকি হাসিতে ক্যামেরাবন্দি হয়েছেন। তাঁর স্বাভাবিক অভিব্যক্তি ও পরিমিত সাজ ছবিগুলোকে দিয়েছে আলাদা আবেদন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জয়ার নতুন ছবি প্রকাশ পেলেই ভক্তদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি। ঐতিহ্যবাহী পোশাকে তাঁর উপস্থিতি অনুরাগীদের প্রশংসা কুড়াচ্ছে।

ক্যাপশনে শাহ আবদুল করিমের গান


ছবিগুলোর ক্যাপশনে বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের পরিচিত গানের পঙ্‌ক্তি ব্যবহার করেছেন জয়া আহসান। তিনি লেখেন, ‘সখি তোরা প্রেম করিয়ো না, পিরিত ভালা না, প্রেম করছে যে জন জানে সে জন পিরিতের কি বেদনা।’ প্রেমের অনুভূতি ও বিরহের বেদনা তুলে ধরা গানের এই পঙ্‌ক্তি ছবিগুলোর সঙ্গে যুক্ত করে ভক্তদের জন্য নতুন চমক তৈরি করেছেন অভিনেত্রী। তাঁর বেছে নেওয়া ক্যাপশন নিয়েও তৈরি হয়েছে বাড়তি কৌতূহল। জয়ার এই পোস্টে একদিকে যেমন উঠে এসেছে দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি অনুরাগ, অন্যদিকে তেমনি ফুটে উঠেছে তাঁর নিজস্ব সৃজনশীলতা। অভিনয়ের পাশাপাশি পোশাক নির্বাচন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের উপস্থিতি তুলে ধরার ক্ষেত্রেও তিনি যে আলাদা বৈশিষ্ট্য বজায় রাখেন, নতুন ছবিগুলোতে তারই প্রতিফলন দেখা গেছে।

‘সেরা রাঁধুনী’র বিচারকের আসনে জয়া
এদিকে অভিনয়ের বাইরে নতুন এক অভিজ্ঞতার জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছেন জয়া আহসান। তাঁকে শিগগিরই দেখা যাবে রান্নাবিষয়ক রিয়েলিটি শো ‘সেরা রাঁধুনী’র বিচারকের আসনে। এক ভিডিও বার্তায় নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অভিনেত্রী। এর আগে বিভিন্ন রিয়েলিটি শোতে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন জয়া। তবে রান্নাবিষয়ক প্রতিযোগিতায় এবারই প্রথম বিচারকের ভূমিকায় দেখা যাবে তাঁকে। ফলে অভিনয়ের বাইরের এই নতুন দায়িত্ব ঘিরেও তাঁর অনুরাগীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী সাজে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুগ্ধতা ছড়ানো থেকে শুরু করে নতুন টেলিভিশন অনুষ্ঠানে বিচারকের দায়িত্ব—সব মিলিয়ে নানা কারণেই আলোচনায় রয়েছেন জয়া আহসান।

কালের আলো/জেএন/এসএ

দক্ষিণ বনশ্রীতে পাকিস্তানি ব্যবসায়ীর মৃত্যু, ময়নাতদন্তের অপেক্ষায় পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫৩ অপরাহ্ণ
দক্ষিণ বনশ্রীতে পাকিস্তানি ব্যবসায়ীর মৃত্যু, ময়নাতদন্তের অপেক্ষায় পুলিশ

রাজধানীর খিলগাঁওয়ের দক্ষিণ বনশ্রী এলাকার একটি বাসা থেকে মো. শাহাবাজ (২৬) নামে এক পাকিস্তানি নাগরিকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে বাসাটির নিচতলা থেকে তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।

দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে দক্ষিণ বনশ্রীর এফ ব্লকের ৯/৫ নম্বর সড়কের ৩৮ নম্বর বাড়ির নিচতলায় এ ঘটনা ঘটে। ভবনের দারোয়ান প্রথমে বিষয়টি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।

খবর পেয়ে খিলগাঁও থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় সিলিং ফ্যানের সঙ্গে চাদর প্যাঁচানো অবস্থায় শাহাবাজকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে বেলা ১১টার দিকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পারিবারিক কলহের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ
খিলগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জুবায়ের জানান, প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যার ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে প্রয়োজনীয় তদন্ত করা হচ্ছে।

নিহত শাহাবাজ পেশায় একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। তাঁর বাবার নাম নাজির আহমেদ। তাঁর বাড়ি পাকিস্তানের মুলতান জেলার জালালপুর থানার চাহ গোলাম মোহাম্মদ গ্রামে।

পুলিশ জানিয়েছে, শাহাবাজের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

মালদ্বীপকে হারিয়ে হ্যান্ডবলের ফাইনালে বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ
মালদ্বীপকে হারিয়ে হ্যান্ডবলের ফাইনালে বাংলাদেশ

প্রথমার্ধে বড় ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়িয়ে লড়াই জমিয়ে তুললেও শেষ পর্যন্ত স্বাগতিকদের হার এড়াতে পারেনি মালদ্বীপ। প্রতিপক্ষকে ৩৩-২০ গোলে হারিয়ে বেগম খালেদা জিয়া আইএইচএফ নেশনস ট্রফির ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। এবার শিরোপার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ভারত।

প্রথমার্ধেই বড় ব্যবধান গড়ে বাংলাদেশ
মঙ্গলবার ( ২০ অক্টোবর) পল্টনের শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে মালদ্বীপের বিপক্ষে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলেছে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষকে কার্যত চাপে রেখে একের পর এক গোল আদায় করে নেয় স্বাগতিকরা। বিরতির আগে বাংলাদেশের মেয়েরা এগিয়ে ছিল ১৬-৫ গোলে। ১১ গোলের এই ব্যবধানই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে।

দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা মালদ্বীপের
বিরতির পর ম্যাচে নিজেদের ছন্দ ফিরে পায় মালদ্বীপ। দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রায় সমানতালে লড়াই করে অতিথি দলটি। এই অর্ধে বাংলাদেশ ১৭টি গোল করলেও মালদ্বীপের মেয়েরা জবাব দেয় ১৫টি গোল করে। তবে প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ার বড় ব্যবধান পেরিয়ে বাংলাদেশের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারেনি তারা। শেষ পর্যন্ত ১৩ গোলের ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা।

আট গোল করে ম্যাচসেরা সানজিদা
বাংলাদেশের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন মোসাম্মত সানজিদা আক্তার। ম্যাচে আটটি গোল করে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। দলীয় আক্রমণে কার্যকর ভূমিকা রেখে বাংলাদেশের ফাইনালে ওঠার পথ সহজ করেছেন সানজিদা।

নেপালকে হারিয়ে শুরু ভারতের কাছে হার
প্রতিযোগিতার শুরুটা ভালোই করেছিল বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে নেপালকে ৩৩-২০ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টে শুভসূচনা করে দলটি। তবে পরের ম্যাচে শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হেরে যায় বাংলাদেশের মেয়েরা। ওই ম্যাচে ভারতের কাছে ৪৭-১৩ গোলে পরাজিত হয় স্বাগতিকরা। রাউন্ড রবিন লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে ফাইনালে ওঠার জন্য বাংলাদেশের জয় ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই সমীকরণ সামনে রেখে মালদ্বীপের বিপক্ষে মাঠে নামে আনা আলোনসো ফ্রাগুয়ার দল। শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশিত জয় তুলে নিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর)  বেলা ৩টায় বেগম খালেদা জিয়া আইএইচএফ নেশনস ট্রফির ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বে ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হারলেও এবার শিরোপার লড়াইয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে স্বাগতিকরা। অন্যদিকে ব্রোঞ্জ পদকের জন্য বুধবার দুপুর ২টায় মুখোমুখি হবে মালদ্বীপ ও নেপাল। এই ম্যাচে জয়ী দলটি টুর্নামেন্টের তৃতীয় স্থান অর্জন করবে।

কালের আলো/জেএন/এসএ