খুঁজুন
                               
, ,
           

আট মাসেই চার পদত্যাগ: জবাবদিহি  প্রতিষ্ঠায় কঠোর বিএনপি সরকার

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫২ অপরাহ্ণ
আট মাসেই চার পদত্যাগ: জবাবদিহি  প্রতিষ্ঠায় কঠোর বিএনপি সরকার

সরকার গঠনের আট মাসের মধ্যে তিন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের একজন সংসদ সদস্যের পদত্যাগ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। চারটি ঘটনার প্রেক্ষাপট আলাদা হলেও এগুলোর মধ্য দিয়ে সরকারের দায়িত্ব বণ্টন, নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং জবাবদিহির প্রশ্নটি সামনে এসেছে।

বিশেষ করে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের পর মন্ত্রিসভার সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অবস্থান সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির পরিচয় বা দলীয় ঘনিষ্ঠতার চেয়ে তাঁর আচরণ ও জনস্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার যে নীতি তুলে ধরা হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও জনআস্থা জোরদারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

  • অসুস্থতা, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে দায়িত্ব ছাড়লেন তিন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও এক সংসদ সদস্য 
  • প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তে উঠে এসেছে দায়িত্বশীল নেতৃত্ব, দলীয় শৃঙ্খলা এবং জনআস্থাকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা 

জনআস্থাকে অগ্রাধিকার, ইশরাকের পদত্যাগে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা
সর্বশেষ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের ঘটনা সরকারের জবাবদিহিমূলক অবস্থানকে আলোচনায় এনেছে। গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন ইশরাক। ওই সময় তাঁর ও সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়। অস্ত্র হাতে অভিযান পরিচালনার ভিডিও তিনি নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করার পর সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা তৈরি হয় এবং সরকারের উচ্চপর্যায়েও অস্বস্তি দেখা দেয়।

এরপর রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর সোমবার, ১৯ অক্টোবর, জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ইশরাক। ঘটনাটি থেকে সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা উঠে এসেছে— জনসমক্ষে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হলে নেতৃত্বকে দ্রুত অবস্থান নিতে হয়। রাজনৈতিকভাবে এটি সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং দায়িত্ব পালনে সতর্কতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে।

‘কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন’: জবাবদিহিতে সরকারের অবস্থান
ইশরাকের পদত্যাগ নিয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, প্রধানমন্ত্রী সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন— মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থি কোনো কাজ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যত ঘনিষ্ঠই হোন না কেন, তাঁর বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নই।’

এই বক্তব্য সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের জন্য একটি স্পষ্ট নীতিগত বার্তা হিসেবে দেখা যেতে পারে। ক্ষমতাসীন দলের পরিচয় কাউকে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বাড়তি ছাড় দেবে না— এমন অবস্থান কার্যকর হলে দলীয় শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক জবাবদিহি আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। তবে এই অবস্থানের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নির্ভর করবে এর ধারাবাহিক প্রয়োগের ওপর। অভিযোগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, যথাযথ যাচাই এবং সবার জন্য সমান মানদণ্ড বজায় রাখা গেলে সরকারের এই বার্তা আরও বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠবে।

দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ: দায়িত্বের ধারাবাহিকতাকে গুরুত্ব
এর আগে গত ১ জুন পদত্যাগ করেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় সাড়ে তিন মাস পর তিনি সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে তা গ্রহণ করা হয়। পদত্যাগপত্রে শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। এ কারণে মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনায় অসুবিধা হচ্ছিল। সরকারের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের গতি বজায় রাখার স্বার্থে তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।

এ ঘটনাকে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যগত বাস্তবতার আলোকে দেখাই যুক্তিযুক্ত। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনে সীমাবদ্ধতা তৈরি হলে বিকল্প নেতৃত্বের সুযোগ করে দেওয়াকে প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার একটি উপায় হিসেবে বিবেচনা করা যায়। পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে উন্নয়ন কার্যক্রম ও প্রশাসনিক সমন্বয় সচল রাখতে দায়িত্বশীল নেতৃত্বের পাশাপাশি কার্যকর দায়িত্ব হস্তান্তরও জরুরি।

জহির উদ্দিন স্বপন: দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসে নতুন ভূমিকা
গত ২২ আগস্ট তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন জহির উদ্দিন স্বপন। একই দিনে তাঁকে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগের দিন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান আন্দালিভ রহমান পার্থ। এ পরিবর্তনের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে জহির উদ্দিন স্বপনের মন্ত্রিত্ব কার্যত প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে আলোচনা তৈরি হয়।

তবে তাঁর নতুন নিয়োগের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। মন্ত্রিসভা থেকে সরে গেলেও তিনি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। ফলে এ ঘটনাকে শুধু পদ হারানোর বিষয় হিসেবে না দেখে সরকারের দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবেও দেখা যায়। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ থাকলে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রমে নতুন সমন্বয় তৈরি হতে পারে। তবে এ ধরনের পুনর্বিন্যাসের কার্যকারিতা নির্ভর করবে দায়িত্বের স্পষ্টতা ও প্রত্যাশিত ফল অর্জনের ওপর।

ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগ: দলীয় শৃঙ্খলার গুরুত্ব
বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগও এই ধারাবাহিকতার একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। পরে গত ১ অক্টোবর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পদত্যাগপত্র জমা দেন মিষ্টি। এরপর সংসদ সচিবালয় তাঁর আসন শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

এই পদক্ষেপ দলীয় শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নে নেতৃত্বের সক্রিয় ভূমিকা তুলে ধরে। জনপ্রতিনিধিদের আচরণ ও কর্মকাণ্ড নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠলে রাজনৈতিক দল কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়, তা দলটির ভাবমূর্তির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। তবে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি অভিযোগের যথাযথ তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করাও গুরুত্বপূর্ণ। এতে জবাবদিহির উদ্যোগ আরও গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

চার পদত্যাগে সরকারের সামনে ইতিবাচক সম্ভাবনা
চারটি পদত্যাগের পেছনে ভিন্ন ভিন্ন কারণ থাকলেও ঘটনাগুলো থেকে সরকারের জন্য কয়েকটি ইতিবাচক সম্ভাবনা দেখা যায়। প্রথমত, নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্রিয়তা। বিতর্কিত পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমাতে এবং সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করতে সহায়ক হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, দায়িত্ব পালনে সতর্কতা বৃদ্ধি। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জনপ্রতিনিধিদের কর্মকাণ্ড নিয়ে জবাবদিহির বিষয়টি গুরুত্ব পেলে সরকারি দায়িত্ব পালনে আরও সচেতনতা তৈরি হতে পারে। তৃতীয়ত, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের সুযোগ। প্রয়োজন অনুযায়ী দায়িত্ব পরিবর্তন এবং উপযুক্ত ব্যক্তিকে নতুন ভূমিকায় নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে সরকারের কার্যক্রমে সমন্বয় বাড়ানো সম্ভব। চতুর্থত, জনআস্থা অর্জনের সুযোগ। সরকারের ঘোষিত নীতি বাস্তবে ধারাবাহিকভাবে প্রয়োগ করা গেলে সাধারণ মানুষের কাছে জবাবদিহি ও আইনের শাসনের বার্তা আরও শক্তিশালী হতে পারে।

কঠোর অবস্থান থেকে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতির পথে
সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় সুযোগ হলো, বিচ্ছিন্ন কিছু সিদ্ধান্তকে দীর্ঘমেয়াদি প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে রূপ দেওয়া। দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের আচরণ, সরকারি ক্ষমতার ব্যবহার এবং জনস্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে সুস্পষ্ট মানদণ্ড প্রতিষ্ঠিত হলে তা সরকারের সামগ্রিক কার্যকারিতা বাড়াতে পারে। এ ক্ষেত্রে শুধু পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নয়, বরং অভিযোগ যাচাই, স্বচ্ছ তদন্ত, আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং দায়িত্বের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। একই মানদণ্ড সবার ক্ষেত্রে কার্যকর হলে সরকারের অবস্থান আরও গ্রহণযোগ্য হবে।

আট মাসের মধ্যে চারজনের পদত্যাগ তাই বিএনপি সরকারের সামনে একদিকে নেতৃত্বের দৃঢ়তা তুলে ধরার, অন্যদিকে জবাবদিহির নীতি আরও সুসংহত করার সুযোগ তৈরি করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত অবস্থান যদি ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে তা দলীয় শৃঙ্খলা, প্রশাসনিক দায়িত্বশীলতা ও জনআস্থা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

কালের আলো/আরআই/এমকে 

কী হিসেবে যাব, দর্শক সারিতে বসতে? বিরোধীদলীয় নেতার অনুপস্থিতির ব্যাখ্যা জামায়াতের

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪২ অপরাহ্ণ
কী হিসেবে যাব, দর্শক সারিতে বসতে? বিরোধীদলীয় নেতার অনুপস্থিতির ব্যাখ্যা জামায়াতের

জুলাই শহীদদের স্মরণে রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে নির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের ফলক উন্মোচন ও আধুনিকায়ন করা উদ্যানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতাদের অনুপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের নেতারা উপস্থিত না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এবার তাঁদের অনুপস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে বিরোধীদলীয় নেতার নাম উল্লেখ ছিল না।

মঙ্গলবার দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যুতে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার।

গোলাম পরওয়ার বলেন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে সরকারের বিভিন্ন অতিথির নাম থাকলেও মন্ত্রীর পদমর্যাদার বিরোধীদলীয় নেতার নাম উল্লেখ করা হয়নি। এমনকি অনুষ্ঠানে তিনি কোন পরিচয়ে উপস্থিত থাকবেন, সেটিও স্পষ্ট করা হয়নি। এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বিরোধীদলীয় নেতার নাম যদি আমন্ত্রণপত্রে না থাকে, তাহলে তিনি সেখানে কী হিসেবে যাবেন? তাঁকে কি দর্শক সারিতে বসতে হবে? তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আমন্ত্রণপত্রে যথাযথভাবে নাম ও পরিচয় উল্লেখ না থাকাই অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতার অনুপস্থিতির কারণ।

এর আগে সোমবার রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের ফলক উন্মোচন এবং আধুনিকায়ন করা ওসমানী উদ্যানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের নেতারা উপস্থিত না থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাঁদের আত্মত্যাগের কারণে বিরোধী দলের নেতারা আজ বিরোধীদলীয় নেতা ও সংসদ সদস্য হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন, সেই শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের পাশে তাঁদের থাকা উচিত ছিল।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের প্রতি রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। তাঁর মতে, যাঁদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে, তাঁদের স্মরণ এবং তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো সব রাজনৈতিক পক্ষের দায়িত্ব।

একই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, কেবল বিরোধিতা করার জন্য বিরোধিতা করলে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। সংসদে বিরোধী দল সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করবে, তবে তা হতে হবে গঠনমূলক। তিনি আরও বলেন, পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে আটকে থাকলে দেশের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হবে। দেশকে এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দায়িত্বশীল আচরণ এবং ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

মাস শেষেই মানিব্যাগ ফাঁকা? সঞ্চয় গড়তে বদলান ৯ অভ্যাস

লাইফস্টাইল ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪২ অপরাহ্ণ
মাস শেষেই মানিব্যাগ ফাঁকা? সঞ্চয় গড়তে বদলান ৯ অভ্যাস

মাসের শুরুতে বেতন বা আয় হাতে পেয়ে অনেকেই ভাবেন, এবার খরচ সামলে কিছু টাকা সঞ্চয় করবেন। কিন্তু বাড়িভাড়া, বাজারসদাই, যাতায়াত, বিদ্যুৎ বিলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে মেটাতে মাসের শেষ দিকে দেখা যায়, হাতে আর তেমন কিছুই অবশিষ্ট নেই। পরের মাসে সঞ্চয়ের নতুন পরিকল্পনা করেও শেষ পর্যন্ত একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এমন সমস্যার পেছনে শুধু কম আয় দায়ী নয়; অনেক সময় অপরিকল্পিত ব্যয়, অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা এবং সঞ্চয়ের নির্দিষ্ট লক্ষ্য না থাকাও বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে আয় অনুযায়ী জীবনযাপন, খরচের হিসাব রাখা এবং নিয়মিত অল্প অল্প করে টাকা জমানোর অভ্যাস গড়ে তুললে আর্থিক পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

১. আয় অনুযায়ী জীবনযাপনে অভ্যস্ত হোন
আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয়ও বাড়তে থাকলে সঞ্চয় করা কঠিন হয়ে পড়ে। নতুন চাকরি, বেতন বৃদ্ধি কিংবা বাড়তি আয়ের সুযোগ পাওয়ার পর অনেকেই কেনাকাটা ও অন্যান্য খরচ বাড়িয়ে দেন। ফলে আয় বাড়লেও মাস শেষে হাতে টাকা থাকে না। এ পরিস্থিতি এড়াতে নিজের আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী জীবনযাপন করা জরুরি। অন্যের জীবনযাত্রা অনুকরণ করতে গিয়ে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় না বাড়িয়ে প্রথমে প্রয়োজনীয় খরচগুলো নির্ধারণ করুন। এরপর কোন খাতে ব্যয় কমানো সম্ভব, তা খুঁজে বের করুন। ছোট ছোট পরিবর্তনও দীর্ঘ মেয়াদে সঞ্চয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

২. কেনাকাটার আগে প্রয়োজন বুঝুন
ছাড় চলছে, পণ্যটি দেখতে ভালো কিংবা নতুন কোনো জিনিস কেনার ইচ্ছা হয়েছে—এমন নানা কারণে অনেকেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করেন। কেনার পর দেখা যায়, পণ্যটি না কিনলেও চলত। এ ধরনের খরচ কমাতে বাজারে যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় পণ্যের তালিকা তৈরি করুন। কেনাকাটার জন্য নির্দিষ্ট বাজেট ঠিক করে সেটি মেনে চলার চেষ্টা করুন। কোনো পণ্য কেনার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন, এটি এখনই প্রয়োজন কি না, কিংবা কেনাকাটাটি কিছুদিন পিছিয়ে দেওয়া সম্ভব কি না। তাৎক্ষণিক আনন্দের জন্য অপ্রয়োজনীয় ব্যয় না করে শিক্ষা, দক্ষতা বৃদ্ধি ও ভবিষ্যতের প্রয়োজনীয় কাজে অর্থ ব্যয়কে অগ্রাধিকার দিন।

৩. মাসের শুরুতেই সঞ্চয়ের টাকা আলাদা করুন
মাস শেষে যা টাকা থাকবে, তা সঞ্চয় করবেন—এমন পরিকল্পনা অনেক সময় বাস্তবায়িত হয় না। কারণ, পুরো মাসে ছোট-বড় নানা খরচের কারণে অর্থ শেষ হয়ে যায়। এ সমস্যা এড়াতে আয় হাতে পাওয়ার পরই সঞ্চয়ের জন্য নির্দিষ্ট একটি অঙ্ক আলাদা করে রাখুন। এরপর অবশিষ্ট অর্থ দিয়ে মাসের অন্যান্য খরচ পরিচালনা করুন। কত টাকা সঞ্চয় করবেন, তা নির্ধারণের সময় নিজের আয়, পারিবারিক দায়িত্ব ও প্রয়োজনীয় ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় রাখুন। নির্দিষ্ট অঙ্ক দিয়ে শুরু করতে অসুবিধা হলে সামর্থ্য অনুযায়ী অল্প টাকা জমাতে পারেন। মূল বিষয় হলো, সঞ্চয়কে মাসের শেষের কাজ না বানিয়ে শুরু থেকেই বাজেটের অংশ করা।

৪. সঞ্চয়ের জন্য উপযুক্ত মাধ্যম বেছে নিন
শুধু টাকা জমালেই হবে না, কোথায় এবং কীভাবে জমাবেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সঞ্চয় করার আগে প্রতিষ্ঠানের নির্ভরযোগ্যতা, হিসাব পরিচালনার খরচ, মুনাফার হার, টাকা তোলার নিয়ম এবং অন্যান্য শর্ত সম্পর্কে জেনে নিন। কত দিন টাকা জমিয়ে রাখতে চান এবং জরুরি প্রয়োজনে কত দ্রুত অর্থের প্রয়োজন হতে পারে, সেটিও বিবেচনা করুন। দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের অর্থ এমন কোনো ব্যবস্থায় রাখবেন না, যেখান থেকে প্রয়োজনের সময় সহজে টাকা তোলা সম্ভব নয়—যদি না সেই সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে আপনি আগে থেকেই সচেতন থাকেন।শুধু বেশি মুনাফার বিজ্ঞাপন দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে অর্থের নিরাপত্তা, ঝুঁকি ও ব্যবহারিক সুবিধাকে গুরুত্ব দিন।

৫. জরুরি পরিস্থিতির জন্য আলাদা তহবিল গড়ুন
হঠাৎ অসুস্থতা, চাকরি হারানো কিংবা পরিবারের কোনো অনিবার্য প্রয়োজনে অতিরিক্ত অর্থের দরকার হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে জরুরি সঞ্চয় না থাকলে ঋণ নিতে হতে পারে অথবা দীর্ঘদিনের জমানো অর্থ ভাঙতে হতে পারে। তাই নিয়মিত সঞ্চয়ের পাশাপাশি জরুরি তহবিল গড়ে তোলার চেষ্টা করুন। শুরুতে অল্প টাকা জমালেও সমস্যা নেই। সামর্থ্য অনুযায়ী প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ আলাদা করে রাখুন এবং অপ্রত্যাশিত প্রয়োজন ছাড়া সেই অর্থ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। জরুরি তহবিল এমন জায়গায় রাখা ভালো, যেখান থেকে প্রয়োজনের সময় দ্রুত অর্থ পাওয়া যায়। আয় ও পারিবারিক ব্যয়ের ওপর ভিত্তি করে ধীরে ধীরে এই তহবিলের পরিমাণ বাড়ানো যেতে পারে।

৬. আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়মিত রাখুন
কোন খাতে কত টাকা ব্যয় হচ্ছে, তা জানা না থাকলে অপ্রয়োজনীয় খরচ শনাক্ত করা কঠিন। অনেক সময় প্রতিদিনের ছোট ছোট ব্যয় মাস শেষে বড় অঙ্কে দাঁড়ায়। চা-কফি, বাইরে খাবার, অনলাইন কেনাকাটা কিংবা বিভিন্ন সাবস্ক্রিপশনের খরচ এর উদাহরণ হতে পারে। এ জন্য প্রতিদিনের আয় ও ব্যয়ের হিসাব লিখে রাখুন। চাইলে খাতায়, মোবাইলের নোটে কিংবা কোনো বাজেট ব্যবস্থাপনার অ্যাপে হিসাব রাখতে পারেন। মাস শেষে হিসাব পর্যালোচনা করে দেখুন, কোন খাতে বেশি ব্যয় হয়েছে এবং কোথায় খরচ কমানোর সুযোগ রয়েছে। নিয়মিত হিসাব রাখলে শুধু টাকা কোথায় যাচ্ছে, তা-ই বোঝা যায় না; বরং পরবর্তী মাসের বাজেটও আরও বাস্তবসম্মতভাবে তৈরি করা সম্ভব হয়।

৭. ছোট ও বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ করুন
সঞ্চয় শুরু করেই অনেক টাকা জমাতে হবে—এমন প্রত্যাশা হতাশার কারণ হতে পারে। এর পরিবর্তে ছোট ও অর্জনযোগ্য লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। যেমন, আগামী ছয় মাসে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা জমাবেন কিংবা এক বছরের মধ্যে কোনো প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার অর্থ প্রস্তুত করবেন। লক্ষ্য অনুযায়ী প্রতি মাসে কত টাকা জমাতে হবে, তা হিসাব করে নিন। কোনো মাসে পুরো লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব না হলে হতাশ না হয়ে পরবর্তী মাসে আবার পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যান। একটি লক্ষ্য পূরণ হলে নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারেন। এভাবে ধাপে ধাপে সঞ্চয়ের পরিমাণ বাড়ালে নিজের অগ্রগতি বোঝা সহজ হবে এবং অভ্যাসটিও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

৮. অভিজ্ঞদের পরামর্শ নিন, তবে সিদ্ধান্ত নিন নিজের পরিস্থিতি বুঝে
সঞ্চয়ের উপযুক্ত পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা পেতে আর্থিক বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তি, সহকর্মী কিংবা বিশ্বস্ত কারও সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন। তাঁদের অভিজ্ঞতা থেকে বিভিন্ন সঞ্চয়পদ্ধতির সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে জানা সম্ভব। তবে অন্যের পরামর্শ নিজের পরিস্থিতির সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া জরুরি। কারও আয়, পারিবারিক দায়িত্ব, ঋণের পরিমাণ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আপনার মতো নাও হতে পারে। তাই অন্যের সঞ্চয়পদ্ধতি হুবহু অনুসরণ না করে নিজের সামর্থ্য ও লক্ষ্য অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিন।

৯. সঞ্চয়ের অভ্যাস ধরে রাখতে নিয়মিত পর্যালোচনা করুন
সঞ্চয় শুরু করা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটি নিয়মিত চালিয়ে যাওয়াও ততটাই জরুরি। এজন্য প্রতি মাসে নিজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করুন। কত টাকা জমেছে, কোন খাতে বেশি ব্যয় হয়েছে এবং পরবর্তী মাসে কী পরিবর্তন আনা প্রয়োজন—এসব বিষয় হিসাব করে দেখুন। বন্ধু বা সহকর্মীদের সঙ্গে আর্থিক লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা করলে পারস্পরিক উৎসাহ পাওয়া যেতে পারে। তবে যৌথভাবে অর্থ জমা রাখার ক্ষেত্রে মালিকানা, হিসাব পরিচালনা ও টাকা তোলার নিয়ম সম্পর্কে আগে থেকেই স্পষ্ট সমঝোতা থাকা প্রয়োজন। ব্যক্তিগত সঞ্চয়ের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

আর্থিক স্বস্তির শুরু ছোট অভ্যাস থেকেই
সঞ্চয় গড়ে তোলার জন্য সব সময় বেশি আয় প্রয়োজন হয় না; প্রয়োজন আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখা, পরিকল্পনা অনুযায়ী চলা এবং নিয়মিত অর্থ জমা করার অভ্যাস। আয় বেশি হলেও ব্যয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ না থাকলে সঞ্চয় করা কঠিন। আবার অল্প আয় থেকেও পরিকল্পিতভাবে কিছু অর্থ আলাদা রাখা সম্ভব। তাই মাসের শেষে কত টাকা অবশিষ্ট থাকল, শুধু সেই হিসাব না করে মাসের শুরু থেকেই সঞ্চয়ের পরিকল্পনা করুন। অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমান, জরুরি তহবিল গড়ে তুলুন এবং নিজের আর্থিক লক্ষ্য অনুযায়ী এগিয়ে যান। ধারাবাহিকভাবে এই অভ্যাসগুলো অনুসরণ করতে পারলে সময়ের সঙ্গে সঞ্চয় বাড়বে এবং ভবিষ্যতের অনিশ্চিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আর্থিক প্রস্তুতিও শক্তিশালী হবে।

কালের আলো/জেএন/এসএ

দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে ডিসিইউর প্রথম বর্ষের পরীক্ষা ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা

শিক্ষা প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৫ অপরাহ্ণ
দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে ডিসিইউর প্রথম বর্ষের পরীক্ষা ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির (ডিসিইউ) ২০২৫ সালের অনার্স প্রথম বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে চলবে। আগামী ৩ নভেম্বর শুরু হয়ে পরীক্ষা চলবে ২০২৭ সালের ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। দীর্ঘ সময় ধরে পরীক্ষার সূচি নির্ধারণ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের আশঙ্কা, এতে একাডেমিক কার্যক্রমে ধীরগতি, পড়াশোনার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হওয়া এবং সেশনজট আরও বাড়তে পারে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. শহিদুল্লাহ স্বাক্ষরিত পরীক্ষার রুটিন প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ নিয়ে অসন্তোষ দেখা দেয়। পরীক্ষা দীর্ঘায়িত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবহারিক পরীক্ষার সময়সূচি ও ফল প্রকাশ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে তাঁদের মধ্যে।

দুই মাসের বেশি সময় ধরে চলবে লিখিত পরীক্ষা
ডিসিইউর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, অনার্স প্রথম বর্ষের ২৪টি বিভাগের চূড়ান্ত পরীক্ষা আগামী ৩ নভেম্বর শুরু হবে। পরীক্ষা চলবে ২০২৭ সালের ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। বিজ্ঞান অনুষদের ব্যবহারিক পরীক্ষার সময়সূচি পরে আলাদাভাবে প্রকাশ করা হবে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে পরীক্ষা চললে পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রম পিছিয়ে পড়তে পারে। এমনিতেই সেশনজটের কারণে তাঁদের পড়াশোনায় বিলম্ব হচ্ছে। নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর দ্রুত ও পরিকল্পিতভাবে একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার প্রত্যাশা থাকলেও পরীক্ষার দীর্ঘ সূচি সেই প্রত্যাশা পূরণ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

নতুন প্রশাসনেও সেশনজটের আশঙ্কা শিক্ষার্থীদের
ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী নাজমুল নাহিদ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, প্রথম বর্ষের পরীক্ষা শেষ করতে প্রায় তিন মাস সময় লাগলে রোডম্যাপ অনুযায়ী ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা জানুয়ারিতে কীভাবে নেওয়া হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। নাজমুল নাহিদের ভাষ্য, শিক্ষার্থীরা আগে থেকেই সেশনজটে রয়েছেন। নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁদের প্রত্যাশা ছিল, একাডেমিক কার্যক্রমে গতি আসবে এবং সেশনজট কমবে। কিন্তু পরীক্ষার দীর্ঘ সময়সূচি দেখে সেই প্রত্যাশা পূরণ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আগে সাত কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ছিল, আর এখন সেগুলো ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধীনে সংযুক্ত হয়েছে। তবে পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রতার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না বলে মনে করছেন তিনি।

দীর্ঘ বিরতিতে নষ্ট হচ্ছে পড়াশোনার ধারাবাহিকতা
সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আতিক বলেন, ৩ নভেম্বর থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত তাঁদের লিখিত পরীক্ষা চলবে দুই মাস সাত দিন। এর সঙ্গে ব্যবহারিক পরীক্ষা যুক্ত হলে পুরো পরীক্ষাপ্রক্রিয়া শেষ করতে পাঁচ থেকে ছয় মাস পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। তিনি জানান, পরীক্ষার সূচিতে একাধিক ক্ষেত্রে ১৫ থেকে ৩০ দিনের বিরতি থাকায় পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। দীর্ঘ বিরতিতে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ও পড়াশোনার স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। আতিকের মতে, এভাবে পরীক্ষা দীর্ঘায়িত হলে সেশনজটের ঝুঁকির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ ও আর্থিক সংকট বাড়তে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে পরীক্ষার রুটিন পুনর্বিবেচনা এবং স্বল্প সময়ের মধ্যে পরীক্ষা শেষ করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

ডিসেম্বরে ছুটির কারণে সময় বেশি লাগছে: পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক
পরীক্ষা দীর্ঘ সময় ধরে চলার বিষয়ে ডিসিইউর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. শহিদুল্লাহ বলেন, ডিসেম্বর মাসে প্রায় ১৭ দিনের ছুটি থাকায় কলেজগুলো বন্ধ থাকে। এ কারণে পরীক্ষার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগছে। তবে বিজ্ঞান বিভাগের যেসব বিষয়ের পরীক্ষা আগে শেষ হবে, সেগুলোর ব্যবহারিক পরীক্ষা আগেই শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এতে ব্যবহারিক পরীক্ষার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

দ্রুত ফল প্রকাশের বিষয়টিও বিবেচনায়
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক শহিদুল্লাহ আরও বলেন, জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে পরীক্ষা নেওয়া হলে ছুটির পরিমাণ তুলনামূলক কম থাকে। ফলে ওই সময়ের মধ্যে কম সময় নিয়ে পরীক্ষা সম্পন্ন করা সম্ভব হতে পারে। দ্রুত ফলাফল প্রকাশের বিষয়টিও প্রশাসনের বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান তিনি। এ নিয়ে চিন্তাভাবনা করা হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক। তবে শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবি, শুধু পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ নয়, পুরো একাডেমিক কার্যক্রমের জন্য কার্যকর পরিকল্পনা নিশ্চিত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষা শেষ করা, ব্যবহারিক পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রতা কমানো এবং দ্রুত ফল প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া না হলে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনেও সেশনজটের সমস্যা অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা তাঁদের।

কালের আলো/আরআইকে/এসএ