খুঁজুন
                               
, ,
           

জনসমর্থন ও জয়ের সক্ষমতা দেখে প্রার্থী বাছাইয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ
জনসমর্থন ও জয়ের সক্ষমতা দেখে প্রার্থী বাছাইয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য ও জয়ী হওয়ার সক্ষমতা রয়েছে, এমন প্রার্থী বাছাই করতে বিএনপি নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে নির্বাচনে সরকারি হস্তক্ষেপ না করার আশ্বাস দিয়ে দলীয় ঐক্য বজায় রাখা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রামের র‍্যাডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউ হোটেলে বিএনপির সাংগঠনিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব নির্দেশনা দেন তারেক রহমান।

নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহর সভাপতিত্বে সভাটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান। এতে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের প্রায় সাড়ে ৪০০ নেতা-কর্মী অংশ নেন।

সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার অতীতের ফ্যাসিবাদী সরকারের মতো নির্বাচনে কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। তাই নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে এমন প্রার্থী বেছে নিতে হবে, যিনি জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য এবং নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সক্ষমতা রাখেন।

সভায় উপস্থিত নেতাদের বরাতে জানা গেছে, প্রার্থী নির্বাচনে শুধু দলীয় পরিচয় নয়, জনসমর্থন ও ভোটে জয়ের সম্ভাবনাকেও গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে নেতাদের মধ্যে ঐক্য ও সমন্বয় বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। দলীয় বিভেদ এড়িয়ে গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব বাছাইয়ের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনসমর্থন ধরে রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নেতা-কর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন তারেক রহমান। তিনি সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। তাঁর ভাষ্য, সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে অপরাধ ৫০ শতাংশ কমে যেতে পারে।

বিএনপি নেতা-কর্মীদের নিজেরাও কোনো অপরাধে জড়িত না হওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি সতর্ক করেন, এ ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

এর আগে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে সামরিক উড়োজাহাজে রাজশাহী থেকে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। পরে নগরের রহমতগঞ্জের জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এরপর র‍্যাডিসন ব্লু হোটেলে বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেন।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে জেএম সেন হল ও র‍্যাডিসন ব্লু হোটেলের সামনে নেতা-কর্মী ও উৎসুক মানুষের ভিড় দেখা যায়। রাতে চট্টগ্রাম ত্যাগ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর গত ৯ আগস্ট প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম সফর করেন তারেক রহমান। ওই সফরে বাঁশখালী, ফটিকছড়ি, হাটহাজারী ও চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে প্রার্থী বাছাই, দলীয় ঐক্য এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশনাকে চট্টগ্রামে বিএনপির সাংগঠনিক প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

১০ হাজার হেক্টরের বিলে ৬ হাজার হেক্টর কচুরিপানায় ঢাকা, বিপাকে কৃষক

পাবনা সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০৮ অপরাহ্ণ
১০ হাজার হেক্টরের বিলে ৬ হাজার হেক্টর কচুরিপানায় ঢাকা, বিপাকে কৃষক

পাবনার সুজানগরের ‘শস্যভান্ডার’ হিসেবে পরিচিত গাজনার বিলজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে কচুরিপানা। এতে চলতি মৌসুমে বোনা আমন ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। কাঙ্ক্ষিত ফলন না পাওয়ার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। শুধু আমন ধান নয়, আসন্ন শুকনো মৌসুমে পেঁয়াজসহ অন্যান্য ফসলের আবাদ নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ১০ হাজার হেক্টর আয়তনের গাজনার বিলের বড় একটি অংশ কচুরিপানায় ঢেকে গেছে। সাময়িকভাবে কীটনাশক প্রয়োগ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা হলেও বছরের পর বছর সমস্যাটির পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। তাই স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা।

১০ হাজার হেক্টরের বিলে কচুরিপানার বিস্তার
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গাজনার বিলে এ বছর প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর জমিতে বোনা আমন ধানের আবাদ করা হয়েছে। বর্ষায় বিলে পানির পরিমাণ বেশি থাকায় মৌসুমের শুরুতে ভালো ফলনের আশা করেছিলেন কৃষকরা। সাধারণত পানির গভীরতা বাড়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বোনা আমন ধানের গাছও বেড়ে ওঠে। কিন্তু এবার কচুরিপানার ব্যাপক বিস্তারে ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বর্তমানে বিলের প্রায় ৬ হাজার হেক্টর অংশ কচুরিপানায় ছেয়ে গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

নিজেদের চেষ্টায় কচুরিপানা সরাতে পারছেন না কৃষকরা
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষার আগে কচুরিপানা ধ্বংস করতে সরকারি উদ্যোগে কীটনাশক বা রাসায়নিক প্রয়োগ করা হয়। এতে কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে কচুরিপানা পচে নষ্ট হলেও বর্ষা শুরু হলে আবারও এর বিস্তার ঘটে। ফলে বছরের পর বছর একই সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাঁদের।

গাজনার বিল এলাকার সাধুপুর গ্রামের আমন চাষি গফুর বলেন, জমিতে এত কচুরিপানা জমেছে যে নিজেরা চেষ্টা করেও তা সরাতে পারছেন না। এতে ধানগাছের ক্ষতি হচ্ছে এবং ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। খয়রান এলাকার কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, কচুরিপানার কারণে বছরের পর বছর ধান ও পেঁয়াজের আবাদ ব্যাহত হচ্ছে। এ সমস্যা থেকে কৃষকদের মুক্তি দিতে কৃষি বিভাগের স্থায়ী সমাধান বের করা উচিত। উলাট গ্রামের কৃষক আলতাফ হোসেন মনে করেন, শুধু বিষ প্রয়োগ করে সাময়িকভাবে কচুরিপানা ধ্বংসের চেষ্টা না করে শুকনো মৌসুমে সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে শ্রমিক নিয়োগ করে বিল থেকে এগুলো তুলে ফেলা প্রয়োজন। এতে কৃষকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমতে পারে।

কৃষি বিভাগের উদ্যোগ, স্থায়ী সমাধানের দাবি
কচুরিপানা অপসারণের বিষয়ে সুজানগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান, কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সরকারি উদ্যোগে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশনায় কৃষক, শিক্ষার্থী ও যুবসমাজ স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে কচুরিপানা সরানোর কাজ করছেন। ফসল উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

তবে সুজানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মীর রাশেদুজ্জামান দাবি করেছেন, বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার বিলে কচুরিপানার পরিমাণ কম রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, শুরু থেকেই কীটনাশক প্রয়োগ করে কচুরিপানা ধ্বংসের চেষ্টা করা হয়েছে। শুকনো মৌসুমে অবশিষ্ট কচুরিপানা অপসারণ করা হবে। পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম প্রামাণিক বলেন, গাজনার বিল থেকে কচুরিপানা অপসারণে কৃষি বিভাগের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জমির মালিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদেরও এগিয়ে আসতে হবে।

রাসায়নিক প্রয়োগে জলজ পরিবেশের ক্ষতির আশঙ্কা
কচুরিপানা নিয়ন্ত্রণে ব্যাপকভাবে কীটনাশক বা বিষ প্রয়োগের পরিবেশগত প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পানিতে রাসায়নিক প্রয়োগের ফলে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যেতে পারে। এতে দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে কচুরিপানা অপসারণে যান্ত্রিক পদ্ধতি কিংবা শ্রমিকের মাধ্যমে তুলে ফেলার মতো পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

কচুরিপানা হতে পারে জৈব সারের কাঁচামাল
কচুরিপানাকে শুধু সমস্যা হিসেবে না দেখে কৃষিকাজে ব্যবহারের সম্ভাবনাও রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুকনো মৌসুমে বিল থেকে কচুরিপানা তুলে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় কম্পোস্ট বা জৈব সার তৈরি করা যেতে পারে। এতে একদিকে বিলের পানি ও কৃষিজমি কচুরিপানার চাপ থেকে মুক্ত হবে, অন্যদিকে কৃষকরা ফসল উৎপাদনে ব্যবহারযোগ্য জৈব সার পাবেন।

দোতলা কৃষি পদ্ধতির উদ্ভাবক কৃষিবিদ জাফর সাদেক বলেন, নিয়ম মেনে বিষ প্রয়োগ করলে মাছ ও জলজ প্রাণীর ক্ষতির আশঙ্কা তুলনামূলক কম হতে পারে। তবে তাঁর মতে, কচুরিপানাকে কৃষি ও কৃষকের জন্য সম্পদে পরিণত করার সুযোগ রয়েছে। এগুলো তুলে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় জৈব সার তৈরি করা সম্ভব। ভারতসহ বিভিন্ন দেশে এ ধরনের ব্যবহার রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। গাজনার বিলের কচুরিপানা সমস্যা সমাধানে তাই শুধু সাময়িক রাসায়নিক প্রয়োগ নয়, পরিকল্পিতভাবে অপসারণ, পরিবেশের সুরক্ষা এবং জৈব সার উৎপাদনের মতো উদ্যোগও বিবেচনায় নেওয়ার দাবি উঠেছে। কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আমন ধানের ফলন এবং পরবর্তী মৌসুমের পেঁয়াজ চাষে কৃষকদের অনিশ্চয়তা থেকেই যেতে পারে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

নদীভাঙন-পানির সংকটে জর্জরিত নলিয়ান, প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে উন্নয়নের আশা

খুলনা সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৮ অপরাহ্ণ
নদীভাঙন-পানির সংকটে জর্জরিত নলিয়ান, প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে উন্নয়নের আশা

খুলনার দাকোপ উপজেলার দুর্গম উপকূলীয় জনপদ নলিয়ানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর ঘিরে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। তাঁকে একনজর দেখতে সকাল থেকেই ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে হেলিকপ্টারে নলিয়ানে পৌঁছে জনতার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে নৌপথে মোংলার উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি।

হেলিকপ্টারে নলিয়ানে, পরে নৌপথে মোংলার যাত্রা
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ২৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী হেলিকপ্টার খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ানের মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করে। সেখান থেকে পায়ে হেঁটে নলিয়ান কোস্টগার্ডের পন্টুনে যান তিনি।

সকাল ১০টা ৪৮ মিনিটে পন্টুন থেকে নৌপথে মোংলার উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় নলিয়ান বাজার মোড়ে অপেক্ষমাণ শত শত মানুষের সঙ্গে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা বিনিময় ও করমর্দন করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীকে কাছ থেকে দেখার আশায় সকাল থেকেই সেখানে জড়ো হন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁর আগমন ঘিরে পুরো এলাকায় বিরাজ করে উৎসবের আমেজ।

সফরসঙ্গী হিসেবে মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল এবং খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমির এজাজ খান। এ ছাড়া খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন, জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাতসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন।

দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানের প্রত্যাশা স্থানীয়দের
দুর্গম উপকূলীয় জনপদ নলিয়ানে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন প্রত্যাশা। নদীভাঙন, সুপেয় পানির সংকট, দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে রেখেছে।

প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখার আগ্রহের পাশাপাশি এসব সমস্যার সমাধান নিয়েও আশাবাদী স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের প্রত্যাশা, সরকারের উচ্চপর্যায়ের এই সফরের মধ্য দিয়ে উপকূলীয় এলাকার সমস্যা ও উন্নয়ন সম্ভাবনা আরও গুরুত্ব পাবে।

সফর ঘিরে জোরদার নিরাপত্তাব্যবস্থা
প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ ও আশপাশের এলাকায় জোরদার করা হয় নিরাপত্তাব্যবস্থা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই পুলিশ, প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর), নৌবাহিনী, কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়।

প্রধানমন্ত্রীর অবতরণের স্থান নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ডগ স্কোয়াড দিয়েও তল্লাশি চালানো হয়। সফরকে সামনে রেখে নলিয়ান বাজারের পশ্চিম প্রান্তের পাকা সড়ক থেকে পূর্ব দিকে কোস্টগার্ড কার্যালয় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কে ইট বিছিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। একই সঙ্গে নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে হেলিপ্যাড প্রস্তুত করা হয়।

সুন্দরবন পরিদর্শন শেষে মোংলায় একাধিক কর্মসূচি
সফরসূচি অনুযায়ী, সকালে হেলিকপ্টারে সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্ট ও সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শনের পর নলিয়ানে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর নৌপথে মোংলার নৌঘাঁটির উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি। মোংলায় গিয়ে সভায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি মোংলা বন্দরের জেটি এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। এ ছাড়া সুন্দরবন এলাকায় সম্ভাব্য ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল স্থাপনের স্থান পরিদর্শন নিয়েও আলোচনা রয়েছে।

বন্দর ও অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলে আশার আলো
মোংলা বন্দর সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এবং সম্ভাব্য এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগকে ঘিরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলে বিনিয়োগের পরিবেশ সম্প্রসারিত হবে, বাড়বে কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং স্থানীয় অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে। তবে এসব উদ্যোগের বাস্তব সুফল পেতে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

 দেশের বাজারে কমল সোনা-রুপার দাম, জেনে নিন নতুন দর

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ
 দেশের বাজারে কমল সোনা-রুপার দাম, জেনে নিন নতুন দর

বিশ্ববাজারের ধারাবাহিকতায় দেশের বাজারেও কমেছে সোনা ও রুপার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) থেকে দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে নতুন দরে সোনা ও রুপা বিক্রি কার্যকর হয়েছে। বাজুসের জুয়েলারি স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির এক সভায় সোনা ও রুপার নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

২২ ক্যারেটের সোনার নতুন দাম
বাজুসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন নির্ধারিত দরে ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম সোনার দাম ১৯ হাজার ৪০৫ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম সোনার দাম ১৮ হাজার ৫৩৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের সোনার দাম ১৫ হাজার ৯২০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ হাজার ৫ টাকা।

রুপার দামও কমেছে
সোনার পাশাপাশি কমেছে রুপার দামও। নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম রুপার দাম ৩৪৫ টাকা। ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৩৩০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপার দাম ২৮৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২১৫ টাকা।

দামের সঙ্গে যুক্ত হবে ভ্যাট ও মজুরি
বাজুস জানিয়েছে, নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত হবে। পাশাপাশি অলংকারের নকশা অনুযায়ী বাজুসের নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি প্রযোজ্য হবে।তবে বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, সোনা ও রুপার নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় ক্রেতার কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। অলংকার তৈরির মজুরি নকশা অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।

পুরোনো অলংকার কেনা ও বিনিময়ে যে নিয়ম
পুরোনো সোনা বা রুপার অলংকার বিনিময়ের ক্ষেত্রে মজুরি ও পাথরের দাম বাদ দিয়ে ১২ শতাংশ কর্তন করতে হবে। অন্যদিকে, পুরোনো অলংকার কিনে নেওয়ার ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দেওয়ার নিয়ম জানিয়েছে বাজুস। এ ছাড়া অলংকার বিনিময় কিংবা পুরোনো অলংকার কেনার সময় আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেওয়া যাবে না বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে নতুন দাম
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত বিক্রয়মূল্য কার্যকর থাকবে। তাই সোনা বা রুপার অলংকার কেনার আগে ক্রেতাদের নতুন মূল্যতালিকা, প্রযোজ্য মজুরি এবং ভ্যাটের বিষয়টি জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি