খুঁজুন
                               
, ,
           

গরমে অসুস্থ শ্রমিক, ঝুঁকিতে পোশাকশিল্পের উৎপাদন

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২৬ অপরাহ্ণ
গরমে অসুস্থ শ্রমিক, ঝুঁকিতে পোশাকশিল্পের উৎপাদন

তীব্র গরমে চাপে পড়েছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প। কারখানার ভেতরে অতিরিক্ত তাপমাত্রায় শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি কমছে কর্মক্ষমতা এবং বাড়ছে পরিচালন ব্যয়। কার্যকর শীতলীকরণ ব্যবস্থা না থাকলে তাপজনিত চাপে শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা ১২ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে।

দেশের রফতানি আয়ের অন্যতম প্রধান খাত তৈরি পোশাকশিল্পে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। গ্রীষ্মকালে অনেক কারখানার ভেতরের তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা ৪০ ডিগ্রি পর্যন্ত পৌঁছায়। এতে শ্রমিকদের শারীরিক অসুস্থতা, ক্লান্তি ও মনোযোগের ঘাটতির ঝুঁকি বাড়ছে।

২০২৫ সালে দ্য ল্যানসেট প্ল্যানেটারি হেলথ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় বাংলাদেশের পোশাক কারখানার পরিবেশ অনুকরণ করে তীব্র গরমে শ্রমিকদের শারীরিক চাপ ও উৎপাদনশীলতার ওপর প্রভাব পরীক্ষা করা হয়। সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত ওই গবেষণায় ৪২ জন অংশগ্রহণকারীকে নিয়ে ২৪৭টি পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষাগারে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ও ৩৮ শতাংশ আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল।

গবেষণায় দেখা যায়, অতিরিক্ত গরমে শ্রমিকদের কর্মক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে সব কারখানার বাস্তব উৎপাদন পরিস্থিতির সঙ্গে পরীক্ষাগারের ফলাফল সরাসরি মেলে না।

গরমে বাড়ছে শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) এক জরিপে অংশ নেওয়া ২১৫ জন পোশাকশ্রমিকের ৭৮ শতাংশ জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্রীষ্মের গরম বেড়েছে। জরিপে প্রায় অর্ধেক শ্রমিক গরমের কারণে দুর্বলতা বা অসুস্থতায় ভোগার কথাও জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার সলিডারিটির নির্বাহী পরিচালক কল্পনা আক্তারের ভাষ্য অনুযায়ী, তীব্র গরমে অনেক শ্রমিক অতিরিক্ত ঘাম, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, পেশিতে টান ও অজ্ঞান হওয়ার মতো সমস্যায় ভুগছেন।

অতিরিক্ত তাপমাত্রায় শারীরিক ক্লান্তি, মাথাব্যথা ও মনোযোগের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এতে কাজে ভুল এবং পোশাকের ত্রুটি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি গরম রাতে ঘুমের ব্যাঘাত, আবাসিক এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও দীর্ঘ যাতায়াতের ক্লান্তিও শ্রমিকদের কর্মক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার বলেন, কারখানায় ফ্যান বা শীতলীকরণ যন্ত্রের সুবিধা থাকলেও কর্মস্থল থেকে বের হওয়ার পর শ্রমিকদের আবার তীব্র গরমের মুখোমুখি হতে হয়। বাসায় ফিরে অনেক সময় বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না, গ্যাসের সংকটও থাকে। অথচ বিদ্যুৎ, গ্যাস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে, কিন্তু সেই তুলনায় শ্রমিকদের মজুরি বাড়েনি। শ্রমিকদের সুস্থ রাখা ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে মজুরি বাড়ানো প্রয়োজন বলেও তিনি মত দেন।

বাড়ছে কারখানার পরিচালন ব্যয়

তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় অনেক কারখানায় ফ্যানের ব্যবহার বাড়ানো, বায়ু চলাচল উন্নত করা, নিরাপদ পানীয় জল ও খাবার স্যালাইন সরবরাহ এবং প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কোথাও কোথাও পানি পানের জন্য নির্দিষ্ট বিরতি এবং তীব্র গরমে কাজের সূচিতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

এসব উদ্যোগের ফলে বিদ্যুৎ, বিকল্প জ্বালানি, পানি ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে ব্যয় বাড়তে পারে। তবে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত গ্রীষ্মকালীন সময়ে কারখানার পরিচালন বাজেট ২ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার যে হিসাব উল্লেখ করা হচ্ছে, তার নির্দিষ্ট উৎস ও হিসাবপদ্ধতি নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, তীব্র গরম এখন শুধু শ্রমিকের স্বাস্থ্যের বিষয় নয়; এটি উৎপাদনশীলতা, পরিচালন ব্যয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতার সঙ্গেও যুক্ত।

তার মতে, শুধু ফ্যান বা শীতলীকরণ যন্ত্র বাড়ালেই হবে না। কারখানার নকশা, বায়ু চলাচল, যন্ত্রপাতির বিন্যাস ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের দক্ষতার দিকেও নজর দিতে হবে। কোথায় তাপের চাপ বেশি, তা চিহ্নিত করে পরিকল্পিত বিনিয়োগ জরুরি।

ক্রেতাদের যৌথ বিনিয়োগের তাগিদ

তাপজনিত ঝুঁকি মোকাবিলার বাড়তি ব্যয় শুধু উৎপাদকদের বহন করা উচিত নয় বলে মনে করেন মহিউদ্দিন রুবেল। তার মতে, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদেরও দীর্ঘমেয়াদি ক্রয়াদেশ, যৌক্তিক পণ্যমূল্য এবং কারখানার কর্মপরিবেশ উন্নয়নে যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দায়িত্ব নিতে হবে। এ জন্য সরকার, পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তা ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞ ও শ্রমিক অধিকারকর্মীদের মতে, কারখানায় পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল, নিরাপদ পানীয় জল, বিশ্রামের সুযোগ, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং তাপজনিত অসুস্থতায় দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর কর্মপরিকল্পনা ও নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন।

অর্থনীতিতেও পড়ছে তাপের প্রভাব

ল্যানসেট কাউন্টডাউনের ২০২৫ সালের বাংলাদেশ তথ্যপত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালে অতিরিক্ত তাপের কারণে দেশে সম্ভাব্য ২৯ বিলিয়ন কর্মঘণ্টা হারিয়েছে, যা ১৯৯০-৯৯ সালের গড়ের তুলনায় ৯২ শতাংশ বেশি। সম্ভাব্য আয়ক্ষতির পরিমাণ ২৪ বিলিয়ন ডলার, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৫ শতাংশের সমান।

এই হিসাব কৃষি, নির্মাণ, উৎপাদন ও সেবাসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক খাতের সম্মিলিত ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে। ফলে পুরো ক্ষতিকে শুধু তৈরি পোশাকশিল্পের ক্ষতি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

অন্যদিকে, কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্লোবাল লেবার ইনস্টিটিউট ও বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান শ্রোডার্সের ২০২৩ সালের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, তীব্র গরম ও বন্যার প্রভাবে বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, পাকিস্তান ও ভিয়েতনামের পোশাক ও জুতা উৎপাদন খাত ২০৩০ সালের মধ্যে সম্মিলিতভাবে ৬৫ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য রফতানি আয় হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। একই সময়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা প্রায় ১০ লাখ কমে যেতে পারে।

গবেষণাটি চার দেশের সম্মিলিত পোশাক ও জুতা উৎপাদন খাতের ঝুঁকি নিয়ে করা হয়েছে। এতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বিনিয়োগ না বাড়ালে উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থায় ক্ষতির আশঙ্কা তুলে ধরা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা ধরে রাখতে তাপঝুঁকি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, শ্রমিকবান্ধব কর্মপরিবেশ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের অংশগ্রহণ বাড়ানো জরুরি। শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে উৎপাদনশীলতা ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখা সহজ হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

নবম পে-স্কেলে বেতন নির্ধারণ শেষ, বকেয়া পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪৫ অপরাহ্ণ
নবম পে-স্কেলে বেতন নির্ধারণ শেষ, বকেয়া পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা

নবম জাতীয় পে-স্কেল অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন মূল বেতন নির্ধারণ বা ‘পে-ফিক্সেশন’ কার্যক্রম শেষ হয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) এ কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার কথা জানানো হয়েছে। এর ফলে অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসের বকেয়া বেতন-ভাতা পাওয়ার আশা করছেন সরকারি চাকরিজীবীরা।

গত ৫ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন মূল বেতন, আগের বেতনের সঙ্গে পার্থক্য এবং বকেয়া পাওনার হিসাব চূড়ান্ত করা হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, আইবাস প্লাস প্লাস (iBAS++) ব্যবস্থায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বেতন নির্ধারণের কার্যক্রম সম্পন্ন করার কথা ছিল। তবে প্রতিরক্ষা ও জুডিশিয়াল সার্ভিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আইবাস প্লাস প্লাসের পাইলটিং কার্যক্রমের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় বেতনস্কেল-২০১৫ অনুসারে জুন ২০২৬ মাসের বেতন-ভাতা উত্তোলন এবং জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেতন-ভাতার বিল সাবমিট করার পর জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ করা যাবে। অর্থ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে আগের তিন মাসের বকেয়া অর্থও পাওয়ার কথা রয়েছে। তবে কর্মচারীদের গ্রেড, আগের মূল বেতন, নতুন নির্ধারিত বেতন ও কার্যকর হওয়ার সময়ের ভিত্তিতে বকেয়ার পরিমাণে পার্থক্য হবে।

দীর্ঘদিন নতুন বেতনকাঠামো না থাকায় মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও বেতনবৈষম্য নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। এ পরিস্থিতিতে গত ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নবম জাতীয় বেতনস্কেল অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে ১৯ সেপ্টেম্বর অর্থ বিভাগ থেকে ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ প্রকাশ করা হয়। আদেশটি ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর বলে গণ্য করা হয়েছে।

নতুন বেতনকাঠামোয় প্রথম থেকে ১১তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন দ্বিগুণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ১২তম থেকে ২০তম গ্রেডেও তুলনামূলক বেশি হারে বেতন বাড়ানো হয়েছে। সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডে মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে বর্ধিত বেতন একবারে পুরোপুরি কার্যকর না করে ধাপে ধাপে দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তারা পুরোনো ও নতুন মূল বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ এবং দশম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ পাবেন।

দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত প্রথম থেকে নবম গ্রেডের ক্ষেত্রে এ হার হবে ৭০ শতাংশ এবং দশম থেকে ২০তম গ্রেডের ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ। তৃতীয় ধাপে ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টসহ নতুন মূল বেতনের শতভাগ কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে, গত ১৯ অক্টোবর অর্থ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মূল বেতনের শতাংশের ভিত্তিতে দেওয়া প্রচলিত ভাতাগুলো ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত মূল বেতনের ভিত্তিতে নির্ধারণ ও প্রদান করতে হবে।

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের এই প্রক্রিয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি ও বকেয়া পরিশোধের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে ব্যক্তিভেদে প্রাপ্য অর্থের পরিমাণ নির্ধারিত হবে সংশ্লিষ্ট গ্রেড ও বেতন হিসাবের ভিত্তিতে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

পক্ষপাতমূলক আম্পায়ারিং ঠেকাতে ঢাকার ক্রিকেটে ড্রোন

ক্রীড়া প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪১ অপরাহ্ণ
পক্ষপাতমূলক আম্পায়ারিং ঠেকাতে ঢাকার ক্রিকেটে ড্রোন

ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটে আম্পায়ারদের পক্ষপাতমূলক আচরণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক এবার প্রযুক্তির মাধ্যমে মোকাবিলার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। মাঠে আম্পায়ারিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক এড়াতে ক্যামেরা ব্যবহারের পাশাপাশি ড্রোন ক্যামেরা কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস (সিসিডিএম)। চলতি মৌসুমেই এক থেকে দেড় লাখ টাকা মূল্যের কয়েকটি ড্রোন কেনার পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির। এসব ড্রোন দিয়ে ম্যাচ চলাকালে মাঠের বিভিন্ন ঘটনা ধারণ করা হবে। কোনো বিতর্ক তৈরি হলে ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রানআউটের সিদ্ধান্ত ঘিরে মাঠ ছাড়ল দল
ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটে আম্পায়ারিং নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। প্রিমিয়ার লিগ থেকে শুরু করে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগ—বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় আম্পায়ারদের পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে একাধিকবার। অতীতে এসব বিতর্ক বন্ধে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও সমস্যাটি পুরোপুরি দূর হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে তৃতীয় বিভাগ বাছাই ক্রিকেটে বসুন্ধরা ক্রিকেট একাডেমি ও মিরপুর ওয়ারিয়র্সের মধ্যকার ম্যাচে ঘটে এমনই একটি ঘটনা। রানআউটের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে মাঠ ছেড়ে উঠে যায় মিরপুর ওয়ারিয়র্স। মিরপুর ওয়ারিয়র্স আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ না করলেও প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আম্পায়ারিং প্রভাবিত করার অনানুষ্ঠানিক অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনার পর ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট আম্পায়ারকে তৃতীয় বিভাগ বাছাইয়ের বাকি ম্যাচগুলোতে আর দায়িত্ব না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি।

মাঠের প্রতিটি মুহূর্ত ক্যামেরায় রাখার পরিকল্পনা
আম্পায়ারিং নিয়ে বিতর্ক কমাতে এর আগেও মাঠে ক্যামেরা স্থাপন করেছিল সিসিডিএম। এবার ড্রোন ক্যামেরা ব্যবহারের মাধ্যমে নজরদারি আরও বাড়াতে চায় সংস্থাটি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুরো ম্যাচে মাঠে কী ঘটছে, তা ড্রোনের সাহায্যে ধারণ করা হবে। সিসিডিএমপ্রধান মঈন উদ্দীন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা চাই, মাঠের সব মুহূর্তই যেন ক্যামেরাবন্দী থাকে, যাতে সব ধরনের বিতর্ক এড়ানো যায়। এ জন্য আমরা কয়েকটা ড্রোন কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যেগুলো পুরো ম্যাচে মাঠে কী কী ঘটনা ঘটে, সেসব ক্যামেরায় ধারণ করবে।’ ড্রোনের ফুটেজ সংরক্ষণ ও প্রয়োজনে তা পর্যালোচনার মাধ্যমে বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সিসিডিএমের। ঢাকার সব ধরনের ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় এসব ড্রোন ব্যবহার করা হবে বলে জানা গেছে।

প্রথম বিভাগ লিগের আগেই ড্রোন কেনার লক্ষ্য
আগামী ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের পরবর্তী আসর আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে তৃতীয় বিভাগ বাছাই শেষ হওয়ার পর ১৫ নভেম্বর শুরু হবে ঢাকা প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগ। তার আগেই ড্রোন ক্যামেরাগুলো কেনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিসিবি। ড্রোন ব্যবহারের পাশাপাশি প্রিমিয়ার লিগের আসন্ন মৌসুমে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার জন্য এডিআরএস (অ্যাডিশনাল ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম) চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে বিসিবির। এই ব্যবস্থা চালু হলে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি থাকলে ক্রিকেটারদের তা চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ তৈরি হবে।

প্রযুক্তিতে কমবে কি আম্পায়ারিং বিতর্ক?
ক্রিকেট মাঠে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে ভিডিও ফুটেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে রানআউট, মাঠের ভেতরে খেলোয়াড়দের আচরণ কিংবা কোনো ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি পর্যালোচনায় ক্যামেরার ধারণ করা দৃশ্য সহায়ক হতে পারে। তবে ড্রোনের ফুটেজ ব্যবহারের পাশাপাশি সঠিক আম্পায়ার নিয়োগ, নিরপেক্ষ ম্যাচ পরিচালনা এবং অভিযোগ তদন্তের কার্যকর ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তির ব্যবহার কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তার ওপর নির্ভর করবে ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটে আম্পায়ারিং নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক কমাতে এই উদ্যোগ কতটা ভূমিকা রাখতে পারে।

কালের আলো/এমএএইচ/এসএ

মেসির নামে ছয় প্রজাতি গিনেস রেকর্ডে নতুন স্বীকৃতি

ক্রীড়া ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩৬ অপরাহ্ণ
মেসির নামে ছয় প্রজাতি গিনেস রেকর্ডে নতুন স্বীকৃতি

ফুটবল মাঠে অসংখ্য রেকর্ড গড়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। এবার বিজ্ঞানের জগতেও তাঁর নামের পাশে যুক্ত হলো নতুন এক স্বীকৃতি। পেরুর আন্দিজ পর্বতমালায় আবিষ্কৃত একটি নতুন উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নাম রাখা হয়েছে ‘সালভিয়া মেসি’ (Salvia messii)। এর ফলে মেসির নামে নামকরণ করা প্রজাতির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয়ে। একই সঙ্গে আরও সমৃদ্ধ হয়েছে তাঁর গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড।

মেসির নামে ছয় প্রজাতি, বৈচিত্র্যও বিস্তৃত
নতুন উদ্ভিদটি আবিষ্কারের আগে মেসির নামে পাঁচটি প্রজাতির নামকরণ করা হয়েছিল। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে একটি টিকটিকি, একটি মাকড়সা, দুটি জীবাশ্ম প্রজাতি এবং একটি ছত্রাক। এবার তালিকায় যুক্ত হলো উদ্ভিদও। ফলে জীবিত প্রাণী থেকে শুরু করে প্রাগৈতিহাসিক জীবাশ্ম এবং উদ্ভিদ—বিভিন্ন ধরনের প্রজাতির বৈজ্ঞানিক নামের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মেসির পদবি। ২০২৪ সালের মে মাসে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস মেসিকে সেই ফুটবলার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, যার নামে সবচেয়ে বেশি প্রজাতির নামকরণ করা হয়েছে। তখন তাঁর নামে নামকরণ করা প্রজাতির সংখ্যা ছিল পাঁচ। ২০২৬ সালে ‘সালভিয়া মেসি’ যুক্ত হওয়ায় সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ছয়।

কী এই ‘সালভিয়া মেসি’ উদ্ভিদ?
‘সালভিয়া মেসি’ একধরনের সেজ বা ঔষধি উদ্ভিদ। এটি পেরুর মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলের আন্দিজ পর্বতমালায় প্রাকৃতিকভাবে জন্মায়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৪০০ মিটার উচ্চতায় পাথুরে ও শুষ্ক ঢালু এলাকায় উদ্ভিদটির দেখা মেলে। উদ্ভিদটি মিন্ট বা পুদিনা পরিবারের সদস্য। এ পরিবারের কিছু উদ্ভিদ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, প্রদাহবিরোধী ও জীবাণুনাশক বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। নতুন প্রজাতিটি প্রায় দেড় মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। এর ফুলের রং হালকা নীল ও সাদা। ফুলের এই রঙের সঙ্গে আর্জেন্টিনার জাতীয় রঙের মিল রয়েছে। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আর্জেন্টিনার প্রতিনিধিত্ব করা মেসির নামে উদ্ভিদটির নামকরণে এই মিল বিশেষ তাৎপর্য যোগ করেছে। যদিও উদ্ভিদটি আর্জেন্টিনায় নয়, পেরুর আন্দিজ পর্বতমালায় জন্মায়।

বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত উদ্ভিদটি
মেসির নামে উদ্ভিদটির নামকরণ যেমন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, তেমনি এর সংরক্ষণ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। গবেষকেরা ‘সালভিয়া মেসি’কে বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছেন। অর্থাৎ, উদ্ভিদটির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এর প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকায় জন্মানো এই উদ্ভিদের আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হলে এর ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। ফলে আবিষ্কারটি শুধু মেসির নামে নতুন একটি প্রজাতির নামকরণের ঘটনা নয়, বরং প্রকৃতিতে বিদ্যমান জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথাও সামনে এনেছে।

গবেষণায় যেভাবে এলো মেসির নাম
ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সান মার্কোসের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের পল গনজালেসের নেতৃত্বে গবেষকেরা উদ্ভিদটির বৈজ্ঞানিক বর্ণনা দেন। এ গবেষণায় তাঁর সঙ্গে ছিলেন আর্জেন্টিনার গবেষক রোলান্দো উরিয়া এবং হুয়ারাঙ্গো নেচারের জীববিজ্ঞানী জ্যঁ কাপচা-রামোস। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে উদ্ভিদবিষয়ক সাময়িকী Phytotaxa-এর অক্টোবর সংখ্যায়। বৈজ্ঞানিক নামকরণের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে সম্মান জানাতে অনেক সময় তাঁর পদবি লাতিন রূপে ব্যবহার করে নতুন প্রজাতির নাম রাখা হয়। ‘মেসি’ পদবির সঙ্গে ‘i’ যুক্ত করে ‘Salvia messii’ নামটি তৈরি করা হয়েছে। এর অর্থ দাঁড়ায় ‘মেসির সেজ’।

মেসির নামে নামকরণ করা ছয়টি প্রজাতি
মেসির নামে নামকরণ করা প্রজাতিগুলোর তালিকায় রয়েছে প্রাণী, জীবাশ্ম, ছত্রাক ও উদ্ভিদ। সেগুলো হলো— Liolaemus messii — ইগুয়ানিয়ান গোত্রের টিকটিকি; আর্জেন্টিনার রোজারিও দে লেরমা; ২০২১ সালে নামকরণ, Acanthogonatus messii — মাটির গর্তে বসবাসকারী মাকড়সা; আর্জেন্টিনার প্যাটাগোনিয়া; ২০২৩ সালে নামকরণ, Discinisca messi — জীবাশ্ম ব্র্যাকিওপড; আর্জেন্টিনার মায়োসিন যুগের জীবাশ্ম; ২০২৩ সালে নামকরণ,Vultur messii — জীবাশ্ম কনডর; আর্জেন্টিনার প্লায়োসিন যুগের জীবাশ্ম; ২০২৩ সালে নামকরণ,Cercopemyces messii — ছত্রাক; আর্জেন্টিনার সালতা প্রদেশের আন্দিজের মেঘবন; ২০২৪ সালে নামকরণ, Salvia messii — সেজ বা ঔষধি উদ্ভিদ; পেরুর আন্দিজ পর্বতমালা; ২০২৬ সালে নামকরণ। দেখা যায়, মেসির নাম শুধু বর্তমানে জীবিত প্রাণী কিংবা উদ্ভিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। প্রাগৈতিহাসিক যুগের জীবাশ্ম প্রজাতির বৈজ্ঞানিক নামেও তাঁর পদবি যুক্ত হয়েছে। জীবাশ্ম ব্র্যাকিওপড ও কনডর এর উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

ফুটবল মাঠের সাফল্যেও সমৃদ্ধ মেসির ক্যারিয়ার
বিজ্ঞানের জগতে এই স্বীকৃতির পাশাপাশি ফুটবল মাঠেও মেসির অর্জনের তালিকা দীর্ঘ। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট হাঙ্গেরির বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জার্সিতে সিনিয়র পর্যায়ে অভিষেক হয় তাঁর। ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সাময়িক অবসরের ঘোষণা দিলেও পরে জাতীয় দলে ফিরে আসেন তিনি। মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা ২০২১ ও ২০২৪ সালে কোপা আমেরিকার শিরোপা জেতে। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের শিরোপাও জয় করে দলটি। আটবার ব্যালন ডি’অর জয়ের কৃতিত্ব রয়েছে তাঁর। জাতীয় দলের হয়ে মেসির গোল ও ম্যাচসংক্রান্ত পরিসংখ্যান এবং সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক ম্যাচের তথ্য সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তবে ফুটবলে তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ার যে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি তৈরি করেছে, বিভিন্ন সময়ে তাঁর নামে প্রজাতির নামকরণ সেই পরিচিতিরই একটি ব্যতিক্রমী প্রতিফলন।

মেসি ছাড়াও বিজ্ঞানের জগতে জায়গা পেয়েছেন ফুটবলাররা
বিভিন্ন প্রজাতির নামকরণে ফুটবলারদের সম্মান জানানোর ঘটনা নতুন নয়। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে গবেষকেরা ব্রাজিলের ১৯৫৮ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্যদের নামে নতুন শনাক্ত করা ১২টি মাইক্রোক্যাডিসফ্লাই প্রজাতির নাম রাখেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন কিংবদন্তি পেলে। তাঁর নাম অনুসারে একটি প্রজাতির নাম রাখা হয় Neotrichia pelei। আর্জেন্টিনার আরেক কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার নামেও একাধিক জীবের নামকরণ হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে একটি জীবাশ্ম ড্যামসেলফ্লাই, একটি পরজীবী ফ্লুক এবং একটি সামুদ্রিক শামুক। ম্যারাডোনার নামে নামকরণ করা Anaphes maradonae নামের একটি পরী-বোলতার কথাও উল্লেখযোগ্য। তবে পরবর্তী সময়ে গবেষকেরা দেখতে পান, এটি আগে নামকরণ করা অন্য একটি বোলতা প্রজাতিরই সমতুল্য। ফলে এটিকে আর স্বতন্ত্র বৈধ প্রজাতি হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। মেসির নামে ছয়টি প্রজাতির নামকরণ তাঁকে বিজ্ঞানের জগতেও ব্যতিক্রমী পরিচিতি দিয়েছে। তবে ‘সালভিয়া মেসি’র ক্ষেত্রে এই স্বীকৃতির গুরুত্ব শুধু রেকর্ডে সীমাবদ্ধ নয়। বিপন্ন এই উদ্ভিদের নাম বিশ্বজুড়ে পরিচিত একজন ফুটবলারের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এসএ