খুঁজুন
                               
, ,
           

পক্ষপাতমূলক আম্পায়ারিং ঠেকাতে ঢাকার ক্রিকেটে ড্রোন

ক্রীড়া প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪১ অপরাহ্ণ
পক্ষপাতমূলক আম্পায়ারিং ঠেকাতে ঢাকার ক্রিকেটে ড্রোন

ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটে আম্পায়ারদের পক্ষপাতমূলক আচরণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক এবার প্রযুক্তির মাধ্যমে মোকাবিলার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। মাঠে আম্পায়ারিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক এড়াতে ক্যামেরা ব্যবহারের পাশাপাশি ড্রোন ক্যামেরা কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস (সিসিডিএম)। চলতি মৌসুমেই এক থেকে দেড় লাখ টাকা মূল্যের কয়েকটি ড্রোন কেনার পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির। এসব ড্রোন দিয়ে ম্যাচ চলাকালে মাঠের বিভিন্ন ঘটনা ধারণ করা হবে। কোনো বিতর্ক তৈরি হলে ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রানআউটের সিদ্ধান্ত ঘিরে মাঠ ছাড়ল দল
ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটে আম্পায়ারিং নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। প্রিমিয়ার লিগ থেকে শুরু করে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগ—বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় আম্পায়ারদের পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে একাধিকবার। অতীতে এসব বিতর্ক বন্ধে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও সমস্যাটি পুরোপুরি দূর হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে তৃতীয় বিভাগ বাছাই ক্রিকেটে বসুন্ধরা ক্রিকেট একাডেমি ও মিরপুর ওয়ারিয়র্সের মধ্যকার ম্যাচে ঘটে এমনই একটি ঘটনা। রানআউটের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে মাঠ ছেড়ে উঠে যায় মিরপুর ওয়ারিয়র্স। মিরপুর ওয়ারিয়র্স আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ না করলেও প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আম্পায়ারিং প্রভাবিত করার অনানুষ্ঠানিক অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনার পর ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট আম্পায়ারকে তৃতীয় বিভাগ বাছাইয়ের বাকি ম্যাচগুলোতে আর দায়িত্ব না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি।

মাঠের প্রতিটি মুহূর্ত ক্যামেরায় রাখার পরিকল্পনা
আম্পায়ারিং নিয়ে বিতর্ক কমাতে এর আগেও মাঠে ক্যামেরা স্থাপন করেছিল সিসিডিএম। এবার ড্রোন ক্যামেরা ব্যবহারের মাধ্যমে নজরদারি আরও বাড়াতে চায় সংস্থাটি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুরো ম্যাচে মাঠে কী ঘটছে, তা ড্রোনের সাহায্যে ধারণ করা হবে। সিসিডিএমপ্রধান মঈন উদ্দীন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা চাই, মাঠের সব মুহূর্তই যেন ক্যামেরাবন্দী থাকে, যাতে সব ধরনের বিতর্ক এড়ানো যায়। এ জন্য আমরা কয়েকটা ড্রোন কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যেগুলো পুরো ম্যাচে মাঠে কী কী ঘটনা ঘটে, সেসব ক্যামেরায় ধারণ করবে।’ ড্রোনের ফুটেজ সংরক্ষণ ও প্রয়োজনে তা পর্যালোচনার মাধ্যমে বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সিসিডিএমের। ঢাকার সব ধরনের ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় এসব ড্রোন ব্যবহার করা হবে বলে জানা গেছে।

প্রথম বিভাগ লিগের আগেই ড্রোন কেনার লক্ষ্য
আগামী ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের পরবর্তী আসর আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে তৃতীয় বিভাগ বাছাই শেষ হওয়ার পর ১৫ নভেম্বর শুরু হবে ঢাকা প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগ। তার আগেই ড্রোন ক্যামেরাগুলো কেনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিসিবি। ড্রোন ব্যবহারের পাশাপাশি প্রিমিয়ার লিগের আসন্ন মৌসুমে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার জন্য এডিআরএস (অ্যাডিশনাল ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম) চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে বিসিবির। এই ব্যবস্থা চালু হলে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি থাকলে ক্রিকেটারদের তা চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ তৈরি হবে।

প্রযুক্তিতে কমবে কি আম্পায়ারিং বিতর্ক?
ক্রিকেট মাঠে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে ভিডিও ফুটেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে রানআউট, মাঠের ভেতরে খেলোয়াড়দের আচরণ কিংবা কোনো ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি পর্যালোচনায় ক্যামেরার ধারণ করা দৃশ্য সহায়ক হতে পারে। তবে ড্রোনের ফুটেজ ব্যবহারের পাশাপাশি সঠিক আম্পায়ার নিয়োগ, নিরপেক্ষ ম্যাচ পরিচালনা এবং অভিযোগ তদন্তের কার্যকর ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তির ব্যবহার কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তার ওপর নির্ভর করবে ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটে আম্পায়ারিং নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক কমাতে এই উদ্যোগ কতটা ভূমিকা রাখতে পারে।

কালের আলো/এমএএইচ/এসএ

রাজধানীতে মাদকচক্রের শিকড় কত গভীরে?

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪১ অপরাহ্ণ
রাজধানীতে মাদকচক্রের শিকড় কত গভীরে?

রেললাইনের পাশের বস্তিতে যেমন মাদকের কেনাবেচার অভিযোগ, তেমনি অভিজাত এলাকার বিলাসবহুল ফ্ল্যাটেও বসছে নেশার আসর। কোথাও ইয়াবার হাতবদল, কোথাও ফেনসিডিল, হেরোইন কিংবা আইসের কারবার। মাদকের এই ছায়াজগতে একদিকে সক্রিয় খুচরা বিক্রেতারা, অন্যদিকে রয়েছে সরবরাহ ও নিয়ন্ত্রণের নেপথ্য নেটওয়ার্ক। মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও পুরো চক্রের নাগাল পাওয়া যাচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

উদ্বেগ আরও গভীর হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠায়। যাঁদের দায়িত্ব অপরাধ দমন, তাঁদের কারও বিরুদ্ধে যখন একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ আসে, তখন মাদকবিরোধী তৎপরতার কার্যকারিতা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়।

  • ইয়াবা, হেরোইন, আইসের কারবারে উদ্বেগ
  • ৮৪ জন আটক অভিজাত বাড়িতে, ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার দুই পুলিশ সদস্য
  • খুচরা বিক্রেতারা গ্রেপ্তার হলেও অধরা মূল হোতারা
  • প্রশ্নের মুখে আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা

রাজধানীর একটি অভিজাত এলাকায় পুলিশের এক অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শকের (ডিআইজি) ভাড়া দেওয়া বিলাসবহুল বাড়িতে মাদক সেবন ও পার্টির আয়োজনের অভিযোগে অভিযান সেই প্রশ্নকে আরও সামনে এনেছে। ঘটনাটি যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, মাদকের কারবারকে কেবল বস্তির গলি কিংবা চিহ্নিত কয়েকটি স্পটের সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

অভিজাত ঠিকানায় মাদকের আসর, আটক ৮৪
রাজধানীর একটি অভিজাত এলাকায় পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের ভাড়া দেওয়া বিলাসবহুল থ্রিপ্লেক্স বাড়িতে সোমবার রাতে অভিযান চালায় ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। সেখান থেকে বিদেশি মদ, গাঁজা, ইয়াবা ও মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধারের কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। অভিযানে ৫৮ জন পুরুষ ও ২৬ জন নারীসহ মোট ৮৪ জনকে আটক করা হয়।

ডিবি সূত্রের ভাষ্য, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এয়ারবিএনবির মাধ্যমে বাড়িটি ভাড়া দেওয়া হলেও সেখানে নিয়মিত মাদকের আসর ও অবৈধ ডিজে পার্টির আয়োজন করা হতো।

একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার ভাড়া দেওয়া বাড়িতে এমন আয়োজন কীভাবে চলছিল, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে। বাড়িটি কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছিল, কারা এসব আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা কী—তদন্তে এসব বিষয় স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। বাড়ির মালিকের পদমর্যাদা নিজে থেকে অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ নয়; প্রত্যেকের দায় নির্ধারণ করতে হবে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে।

এর আগে মাদকসহ পুলিশ সদস্যদের গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটেছে। গত ২৩ আগস্ট ৫ হাজার ৩১০ পিস ইয়াবাসহ পল্লবী থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে দক্ষিণখান থানা পুলিশ। পরে ২৭ সেপ্টেম্বর ১ হাজার ৭৯০ পিস ইয়াবা ও মাদক বিক্রির নগদ অর্থসহ গ্রেপ্তার হন পুলিশ কনস্টেবল রেজাউল করিম।

পরপর এসব ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, বাহিনীর অভ্যন্তরে নজরদারি কতটা কার্যকর এবং অপরাধে জড়িত সদস্যদের শনাক্ত করার ব্যবস্থা কতটা শক্তিশালী। কারণ, অপরাধ দমনের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানের ভেতরেই অনিয়মের অভিযোগ দেখা দিলে তা শুধু আইন প্রয়োগের সক্ষমতা নয়, জনআস্থার ওপরও প্রভাব ফেলে।

গলি থেকে টার্মিনাল—কারবারের বিস্তৃত বলয়
কাওরান বাজার রেললাইন বস্তি, মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প, মহাখালী বাস টার্মিনাল, গাবতলী ও যাত্রাবাড়ী—রাজধানীর এসব এলাকায় মাদক কেনাবেচার অভিযোগ রয়েছে। সাভারের বিভিন্ন স্থানেও চলছে মাদক কারবার।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এসব এলাকায় খুচরা বিক্রির পাশাপাশি বিভিন্ন পথে মাদক রাজধানীতে প্রবেশ করছে। অর্থাৎ, কোনো একটি বিক্রয়কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে মাদক কারবারের পুরো চিত্র পাওয়া সম্ভব নয়। এর পেছনে রয়েছে সরবরাহের পথ, মজুত, পরিবহন এবং অর্থের লেনদেনের মতো একাধিক স্তর।

জেনেভা ক্যাম্পে মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনাও ঘটেছে। এতে স্পষ্ট হয়, কোনো কোনো এলাকায় মাদককে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে আধিপত্য বিস্তারের সংঘাত। অবৈধ এই ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকেও ঝুঁকিতে ফেলছে।

এখানে মূল প্রশ্ন শুধু কোথায় মাদক বিক্রি হচ্ছে, তা নয়; কারা সরবরাহ করছে, কারা ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে এবং অভিযান শেষে কেন একই ধরনের কারবার আবার মাথাচাড়া দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে—সেসব বিষয়ও অনুসন্ধানের দাবি রাখে।

অভিযানেও বাধা, গুলিবিদ্ধ ডিএনসি পরিদর্শক
মাদক কারবারের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে নিরাপত্তাঝুঁকিতেও পড়ছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। সম্প্রতি গেন্ডারিয়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালানোর সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) এক পরিদর্শক গুলিবিদ্ধ হন।

এরপর ঘুণ্টিঘর রেলস্টেশন ও মুন্সিরটেক এলাকায় ডিএনসি এবং স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি-১০) যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় কয়েকজন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় মাদক সেবনের কাজে ব্যবহৃত একাধিক অবৈধ ঝুপড়ি ও আস্তানা।

এসব পদক্ষেপে নির্দিষ্ট কিছু স্থানে মাদক সেবন ও কারবারের সুযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হতে পারে। কিন্তু আস্তানা উচ্ছেদের পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অন্যত্র গিয়ে একই কার্যক্রম চালাচ্ছেন কি না, তা নজরদারিতে রাখা জরুরি। নইলে উচ্ছেদ হওয়া স্থানের জায়গায় নতুন আস্তানা গড়ে ওঠার ঝুঁকি থেকে যায়।

অস্ত্র উঁচিয়ে অভিযান, তারপর পদত্যাগ
গেন্ডারিয়ায় গত শনিবার বিকেলে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযান ঘিরেও তৈরি হয় বিতর্ক। অস্ত্র উঁচিয়ে অভিযান চালানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। এর জেরে সোমবার মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন ইশরাক হোসেন।

ঘটনাটি মাদকবিরোধী তৎপরতার পাশাপাশি অভিযান পরিচালনার পদ্ধতি ও ক্ষমতার প্রয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। অপরাধ দমনে দৃঢ় অবস্থান প্রয়োজন, তবে সেই তৎপরতা হতে হবে আইনসম্মত ও জবাবদিহিমূলক। অন্যথায় অপরাধ দমনের উদ্দেশ্য ছাপিয়ে অভিযানের ধরনই বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসতে পারে।

‘চুনোপুঁটি’ নয়, নজর দিতে হবে নেপথ্যের নিয়ন্ত্রকদের দিকে
অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হকের মতে, মাঝেমধ্যে সাঁড়াশি অভিযান কিংবা বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। তাঁর ভাষ্য, এ অবৈধ ব্যবসার পেছনে শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। রাজনৈতিক ছত্রছায়া এবং কিছু অসাধু কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতায় মাদক কারবার টিকে থাকার অভিযোগও রয়েছে।

তিনি মনে করেন, অভিযানে খুচরা বিক্রেতারা গ্রেপ্তার হলেও মূল হোতাদের অনেকে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যান। আবার জামিনে মুক্ত হয়ে কেউ কেউ একই অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। ফলে দৃশ্যমান অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও নেপথ্যের নেটওয়ার্ক অক্ষত থাকার আশঙ্কা থাকে।

এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি মাদকের উৎস, সরবরাহপথ, আর্থিক লেনদেন এবং নেপথ্যের নিয়ন্ত্রকদের শনাক্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রমাণিত অপরাধের ক্ষেত্রে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’—পরীক্ষা বাস্তব প্রয়োগে
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, রাজধানীতে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। তাঁর বক্তব্য, মাদকসংক্রান্ত অপরাধে যে-ই জড়িত থাকুক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। কোনো পুলিশ সদস্য বা কর্মকর্তা অপরাধে জড়ালে তাঁর বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও হবে।

ডিএমপি কমিশনারের ভাষ্য, অভিযান কেবল খুচরা বিক্রেতা বা ভাসমান মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তারে সীমাবদ্ধ থাকবে না। মাদকের মূল গডফাদার ও নেপথ্যের কুশীলবদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করছে।

তবে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা কতটা ফলপ্রসূ হচ্ছে, তার প্রমাণ মিলবে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার অগ্রগতিতে। বিশেষ করে প্রভাবশালী ব্যক্তি কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ক্ষেত্রেও সমানভাবে আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে কি না, সেটিই হবে জবাবদিহির গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

আস্তানা ভাঙলেই কি ভাঙবে মাদকের সাম্রাজ্য?
রাজধানীর মাদক পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দৃশ্যমান বিক্রয়কেন্দ্রের বাইরে থাকা অপরাধী নেটওয়ার্ককে শনাক্ত করা। কয়েকজনকে গ্রেপ্তার, কিছু মাদক উদ্ধার কিংবা অবৈধ আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ফল পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু সরবরাহব্যবস্থা, আর্থিক লেনদেন ও নেপথ্যের নিয়ন্ত্রকদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না থাকলে পুরো ব্যবসা বন্ধ করা কঠিন।

এ জন্য প্রয়োজন সমন্বিত গোয়েন্দা তৎপরতা, ধারাবাহিক অভিযান, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা। পাশাপাশি মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন এবং তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে প্রতিরোধমূলক উদ্যোগও জোরদার করতে হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, মাদকবিরোধী লড়াইয়ে আইনের প্রয়োগ হতে হবে পরিচয় ও প্রভাবনির্বিশেষে। অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া যাবে না; আবার অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে আগেভাগে অপরাধী হিসেবেও চিহ্নিত করা যাবে না। রাজধানীর মাদক কারবারের বিরুদ্ধে প্রকৃত সাফল্য আসবে তখনই, যখন শুধু আস্তানার ঠিকানা বদলাবে না—ভেঙে পড়বে সেই কারবার টিকিয়ে রাখার নেটওয়ার্কও।

কালের আলো/এমএসএএকে/এমকে

পদ থেকে সরানো হলো রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ইউসুফ আলীকে

রাজশাহী সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২১ অপরাহ্ণ
পদ থেকে সরানো হলো রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ইউসুফ আলীকে

রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) ইউসুফ আলীকে পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজশাহীর সফর শেষে শাহ মখদুম বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সামরিক বিমানে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে তিনি সেখানে উপস্থিত রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে হাত মেলান।

প্রদত্ত তথ্যানুযায়ী, এ সময় রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ইউসুফ আলী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাত মেলানোর পর প্রটোকল ভেঙে ঝুঁকে তাঁর দিকে এগিয়ে আসার চেষ্টা করেন। এর পরপরই তাঁকে বিভাগীয় কমিশনারের পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়।

শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমী উপলক্ষে ঢাকার বাইরে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের কর্মসূচি নিয়ে মঙ্গলবার রাজশাহীতে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এদিন সকাল পৌনে ৯টার দিকে তিনি ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে সামরিক বিমানে রংপুরের উদ্দেশে রওনা হন। পরে সেখান থেকে রাজশাহীতে যান।

রাজশাহীতে নির্ধারিত কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যায় শাহ মখদুম বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর সফরের দিনই বিভাগীয় কমিশনার ইউসুফ আলীকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করার আদেশ আসে।

তবে প্রজ্ঞাপনে বদলি বা সংযুক্তির কারণ উল্লেখ করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

নবম পে-স্কেলে বেতন নির্ধারণ শেষ, বকেয়া পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪৫ অপরাহ্ণ
নবম পে-স্কেলে বেতন নির্ধারণ শেষ, বকেয়া পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা

নবম জাতীয় পে-স্কেল অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন মূল বেতন নির্ধারণ বা ‘পে-ফিক্সেশন’ কার্যক্রম শেষ হয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) এ কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার কথা জানানো হয়েছে। এর ফলে অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসের বকেয়া বেতন-ভাতা পাওয়ার আশা করছেন সরকারি চাকরিজীবীরা।

গত ৫ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন মূল বেতন, আগের বেতনের সঙ্গে পার্থক্য এবং বকেয়া পাওনার হিসাব চূড়ান্ত করা হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, আইবাস প্লাস প্লাস (iBAS++) ব্যবস্থায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বেতন নির্ধারণের কার্যক্রম সম্পন্ন করার কথা ছিল। তবে প্রতিরক্ষা ও জুডিশিয়াল সার্ভিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আইবাস প্লাস প্লাসের পাইলটিং কার্যক্রমের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় বেতনস্কেল-২০১৫ অনুসারে জুন ২০২৬ মাসের বেতন-ভাতা উত্তোলন এবং জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেতন-ভাতার বিল সাবমিট করার পর জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ করা যাবে। অর্থ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে আগের তিন মাসের বকেয়া অর্থও পাওয়ার কথা রয়েছে। তবে কর্মচারীদের গ্রেড, আগের মূল বেতন, নতুন নির্ধারিত বেতন ও কার্যকর হওয়ার সময়ের ভিত্তিতে বকেয়ার পরিমাণে পার্থক্য হবে।

দীর্ঘদিন নতুন বেতনকাঠামো না থাকায় মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও বেতনবৈষম্য নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। এ পরিস্থিতিতে গত ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নবম জাতীয় বেতনস্কেল অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে ১৯ সেপ্টেম্বর অর্থ বিভাগ থেকে ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ প্রকাশ করা হয়। আদেশটি ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর বলে গণ্য করা হয়েছে।

নতুন বেতনকাঠামোয় প্রথম থেকে ১১তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন দ্বিগুণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ১২তম থেকে ২০তম গ্রেডেও তুলনামূলক বেশি হারে বেতন বাড়ানো হয়েছে। সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডে মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে বর্ধিত বেতন একবারে পুরোপুরি কার্যকর না করে ধাপে ধাপে দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তারা পুরোনো ও নতুন মূল বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ এবং দশম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ পাবেন।

দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত প্রথম থেকে নবম গ্রেডের ক্ষেত্রে এ হার হবে ৭০ শতাংশ এবং দশম থেকে ২০তম গ্রেডের ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ। তৃতীয় ধাপে ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টসহ নতুন মূল বেতনের শতভাগ কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে, গত ১৯ অক্টোবর অর্থ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মূল বেতনের শতাংশের ভিত্তিতে দেওয়া প্রচলিত ভাতাগুলো ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত মূল বেতনের ভিত্তিতে নির্ধারণ ও প্রদান করতে হবে।

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের এই প্রক্রিয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি ও বকেয়া পরিশোধের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে ব্যক্তিভেদে প্রাপ্য অর্থের পরিমাণ নির্ধারিত হবে সংশ্লিষ্ট গ্রেড ও বেতন হিসাবের ভিত্তিতে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি