খুঁজুন
                               
, ,
           

নিজেদের মাঠে বরিশালকে উড়িয়ে প্রথম জয়ের স্বাদ রাজশাহীর

ক্রীড়া প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৫ অপরাহ্ণ
নিজেদের মাঠে বরিশালকে উড়িয়ে প্রথম জয়ের স্বাদ রাজশাহীর

জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) তৃতীয় রাউন্ডে নিজেদের মাঠে বরিশাল বিভাগকে ৮ উইকেটে হারিয়ে প্রথম জয়ের স্বাদ পেয়েছে রাজশাহী বিভাগ। বুধবার (২১ অক্টোবর) রাজশাহী বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচের চতুর্থ ও শেষ দিনে মধ্যাহ্নভোজের আগেই জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা।

এর আগে প্রথম ম্যাচে চট্টগ্রাম ও দ্বিতীয় ম্যাচে খুলনা বিভাগের বিপক্ষে ড্র করেছিল রাজশাহী। তৃতীয় রাউন্ডে জয়ের পর ৪ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে দলটি। ৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে খুলনা বিভাগ।

ম্যাচের চতুর্থ দিন আগের দিনের ৫ উইকেটে ২৪৯ রান নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে বরিশাল। তবে রাজশাহীর বোলার শফিকুলের দুর্দান্ত বোলিংয়ে মাত্র ২৫ রান যোগ করতেই বাকি ৫ উইকেট হারিয়ে অলআউট হয়ে যায় বরিশাল। তাদের দ্বিতীয় ইনিংস থামে ২৭৪ রানে। ফলে জয়ের জন্য রাজশাহীর লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৪৭ রান।

বরিশালের হয়ে সর্বোচ্চ ৯১ রান করেন জাওয়াদ আবরার। এ ছাড়া হাফিজুর রহমান ৩৯ ও আব্দুল্লাহ ৩৪ রান করেন। রাজশাহীর হয়ে শফিকুল ৭৩ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন। সানজামুল ইসলাম নেন ২ উইকেট, খরচ করেন ১০২ রান।

৪৭ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় রাজশাহী। দলীয় ১ রানে ব্যক্তিগত ১ রান করে আউট হন উদ্বোধনী ব্যাটার সোহান। এরপর প্রথম ইনিংসে ডাবল সেঞ্চুরি করা নাঈম আহমেদও ব্যক্তিগত ৮ রানে ফিরে যান।

তবে এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেননি অধিনায়ক প্রীতম কুমার ও সাব্বির হোসেন। দুজনের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে মাত্র ২ উইকেট হারিয়েই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় রাজশাহী। সাব্বির ২৩ এবং অধিনায়ক প্রীতম ১৬ রানে অপরাজিত থাকেন।

প্রথম ইনিংসে অপরাজিত ২০২ রান করে ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় রাজশাহীর নাঈম আহমেদ নির্বাচিত হন ম্যাচসেরা। আগামী ২৪ অক্টোবর একই মাঠে ঢাকা বিভাগের মুখোমুখি হবে রাজশাহী বিভাগ।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

জলপাই-আমলকীতে হেমন্তের ঘ্রাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
জলপাই-আমলকীতে হেমন্তের ঘ্রাণ

শৈশবের চেনা স্বাদ, গ্রামবাংলার স্মৃতি আর টক-মিষ্টি ফলের আকর্ষণ—সব মিলিয়ে হেমন্তের শুরুতেই জমে উঠেছে রাজধানীর দেশি ফলের বাজার। জলপাই, আমলকী, আমড়া, কদবেল, চালতা, পানিফল, জাম্বুরা ও কামরাঙাসহ নানা মৌসুমি ফলে রঙিন হয়ে উঠেছে যাত্রাবাড়ী ও শ্যামবাজারের ফলের দোকান। পছন্দের ফল কিনতে বাজারে ভিড় করছেন ক্রেতারা। তবে ফলের সমারোহে খুশি হলেও দামের ক্ষেত্রে হিসাব কষতে হচ্ছে অনেককে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) রাজধানীর এই দুই বাজার ঘুরে দেখা যায়, দোকানে দোকানে সাজানো দেশি ফলের পসরা। কেউ পরিবারের জন্য কিনছেন কয়েক ধরনের ফল, কেউ আবার দীর্ঘদিন পর পরিচিত ফলের দেখা পেয়ে কিনছেন নিজের পছন্দে। সারা বছর সহজে না পাওয়া এসব ফলের প্রতি বাড়তি টান তৈরি হয়েছে ক্রেতাদের মধ্যে।

  • রাজধানীর বাজারে ফিরেছে গ্রামবাংলার চেনা ফল
  • হেমন্তের শুরুতে যাত্রাবাড়ী ও শ্যামবাজারে দেশি ফলের বাহার
  • শৈশবের স্মৃতি আর স্বাদের টানে ক্রেতা, দামে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

৬০ টাকার জলপাই, ১০০ টাকার আমলকী
বাজারে প্রতি কেজি জলপাই বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। আমলকীর দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকা, পাকা আমড়া ৮০ টাকা এবং কাঁচা আমড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি। পানিফল মিলছে ৪০ টাকায়, জাম্বুরা ৯০ থেকে ১০০ টাকা এবং পেঁপে ৬০ টাকা কেজি দরে।

এ ছাড়া কদবেল ৩০ থেকে ৪০ টাকা, পেয়ারা ৫০ থেকে ৭০ টাকা এবং কামরাঙা ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি চালতার দাম ৫ টাকা। আনারস কিনতে খরচ হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা, আর প্রতিটি তাল বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। ফলের দামে ক্রেতাদের প্রতিক্রিয়া অবশ্য এক রকম নয়। কারও কাছে দাম মোটামুটি সহনীয়, আবার কারও মতে, কিছু ফলের দাম বেশি। তাই পছন্দ থাকলেও অনেকে কিনছেন পরিমাণ বুঝে, কেউবা একাধিক দোকানে দাম যাচাই করে নিচ্ছেন সিদ্ধান্ত।

ফলের টানে ফিরছে গ্রামের স্মৃতি
রাজধানীর ব্যস্ত জীবনে গ্রামের পরিচিত অনেক ফলই সারা বছর সহজে মেলে না। মৌসুমে বাজারে এসব ফলের দেখা মিললে তাই স্বাদের পাশাপাশি ফিরে আসে পুরোনো দিনের স্মৃতি। যাত্রাবাড়ীর ক্রেতা সাব্বির বলেন, জলপাই, আমলকী, আমড়া ও কদবেল সারা বছর পাওয়া যায় না। বাজারে এসব ফল উঠলে কিনতে ইচ্ছা করে। দাম কিছুটা বেশি হলেও পরিবারের জন্য অল্প করে কেনেন তিনি। আরেক ক্রেতা জানান, গ্রামে থাকতে এসব ফল সহজেই পাওয়া যেত। এখন রাজধানীতে সব সময় পাওয়া যায় না বলে বাজারে এলে কিনতে মন চায়। তবে কেনার আগে কয়েকটি দোকানে দাম যাচাই করেন তিনি।

সরবরাহ কমলেই বাড়ে দামের চাপ
বিক্রেতাদের মতে, ফলের দাম নির্ভর করে সরবরাহ, আকার, মান ও সংগ্রহস্থলের ওপর। বাজারে সরবরাহ বেশি থাকলে দাম কিছুটা কমে, আর সরবরাহ কমলে বাড়তে পারে। মৌসুমি অনেক ফল অল্প সময়ের জন্য পাওয়া যায় বলে এ সময় চাহিদাও থাকে। শ্যামবাজারের বিক্রেতা রবিউল আলম বলেন, মৌসুমি ফলের চাহিদা থাকলেও বেশি দামে সবাই কিনতে চান না। কেউ অল্প করে কেনেন, কেউ পরিবারের জন্য কয়েক ধরনের ফল নেন। ফলের মান ও সরবরাহ অনুযায়ী দাম নির্ধারিত হয়।

আরেক বিক্রেতা কামরুল হাসান বলেন, মৌসুমি ফলের স্থায়িত্ব কম। দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় সময়মতো বিক্রি করতে হয়। এ কারণে ফলের বেচাকেনায় সরবরাহ ও চাহিদার পাশাপাশি পচনশীলতার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

ফলের সমারোহে স্বাদ, পুষ্টি ও ঐতিহ্য
মৌসুমি দেশি ফলের আবেদন শুধু স্বাদে নয়, পুষ্টিতেও। ফলভেদে এতে রয়েছে বিভিন্ন ভিটামিন, খনিজ উপাদান ও খাদ্যআঁশ। সুষম খাদ্যাভ্যাসে নানা ধরনের ফল রাখার গুরুত্বও রয়েছে।

তবে রাজধানীর বাজারে এই ফলের সমারোহ স্রেফ কেনাবেচার চিত্র নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে গ্রামীণ খাদ্যসংস্কৃতি ও স্মৃতির সম্পর্কও। টক জলপাই, কষযুক্ত আমলকী কিংবা স্বতন্ত্র স্বাদের কদবেল—পরিচিত এসব ফল অনেকের কাছেই ফিরিয়ে আনে ফেলে আসা দিনের কথা। হেমন্তের শুরুতে তাই দেশি ফলের পসরা ঘিরে রাজধানীর বাজারে তৈরি হয়েছে বাড়তি আকর্ষণ। পছন্দের ফল কেনার আগ্রহ আছে, তবে সেই আগ্রহের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে দামের হিসাব। সাধ্য অনুযায়ী কেনাকাটার মধ্য দিয়েই মৌসুমি ফলের স্বাদ নিচ্ছেন নগরবাসী।

কালের আলো/এএএন/এমকে 

ফুটপাত পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ, আটক ছাত্রলীগ নেতা

আদালত প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
ফুটপাত পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ, আটক ছাত্রলীগ নেতা

রাজধানীর মিরপুরে দখলমুক্ত ফুটপাত পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অনুসরণ করার অভিযোগে তানভীর জোমাদ্দার নামে ছাত্রলীগের এক নেতাকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার (২১ অক্টোবর) তাঁকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ। আটক তানভীর পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা যায়, গত শনিবার মিরপুর-১০ এলাকায় দখলমুক্ত ফুটপাত পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় দলীয় নেতাকর্মীদের ভিড়ের মধ্যে ঢুকে প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করতে থাকেন তানভীর। একপর্যায়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছাকাছি যাওয়ারও চেষ্টা করেন।

ঘটনাটি একটি ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ওই ছাত্রলীগ নেতাকে শনাক্ত করতে তৎপর হয় পুলিশ ও গোয়েন্দা সদস্যরা। এর ধারাবাহিকতায় বুধবার তাঁকে আটক করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান। তিনি জানান, ভিডিওতে ওই ছাত্রলীগ নেতাকে প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করতে দেখা গেছে। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তবে তাঁকে আটকের সুনির্দিষ্ট আইনি কারণ ও পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

তিনশ’ ফিটের বাড়িতে নিয়মিত ডিজে পার্টি, নিবন্ধন ফি ৬০০ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫৭ অপরাহ্ণ
তিনশ’ ফিটের বাড়িতে নিয়মিত ডিজে পার্টি, নিবন্ধন ফি ৬০০ টাকা

রাজধানীর তিনশ’ ফিট এলাকায় পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের ভাড়া দেওয়া একটি বাড়িতে প্রতি মাসে ২০ থেকে ২২টি ডিজে পার্টির আয়োজন করা হতো বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ। ২০২৫ সাল থেকে বাড়িটিতে এসব আয়োজন চলছিল। অনলাইনে নিবন্ধনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে জনপ্রতি প্রায় ৬০০ টাকা নেওয়া হতো।

বুধবার (২১ অক্টোবর) ডিএমপির গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইলিয়াস কবির এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বাড়িটিতে ডিজে পার্টির আগে অনলাইনে নিবন্ধন করতে হতো। নিবন্ধন সম্পন্ন করে নির্ধারিত ফি দিয়ে এসব আয়োজনে অংশ নেওয়া যেত। প্রায় দুই বছর ধরে সেখানে উচ্চ শব্দে গান বাজিয়ে পার্টির আয়োজন চলছিল।

ডিবির এই কর্মকর্তা জানান, পার্টিতে অংশ নিতে অনেকে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে আসতেন। ঘটনার দিন বাড়িটির নিচে ২২টি গাড়ি রাখা ছিল। পুলিশ অভিযান চালানোর সময় বাড়িটির ভেতর সিসার ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ছিল। ভবনটিতে মোট পাঁচটি কক্ষ ছিল বলেও জানান তিনি।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৮৫ জনকে আটক করে ডিবি পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, তরুণ-তরুণী এবং ব্যাংকার ছিলেন। অভিযানকালে বাড়িটি থেকে পাঁচ বোতল মদ, কুশ ও ইয়াবা উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে পুলিশ।

ডিসি ইলিয়াস কবিরের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘এয়ারবিএনবি’ ও ‘ট্রাভেলা’ নামের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অংশগ্রহণকারীদের নিবন্ধন করা হতো। নিবন্ধনের জন্য জনপ্রতি প্রায় ৬০০ টাকা নেওয়া হতো।

আটক ব্যক্তিদের আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন। প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পুরুষদের এক মাসের কারাদণ্ড এবং এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাঁদের আরও ১৫ দিন কারাভোগের আদেশ দেওয়া হয়। অন্যদিকে নারীদের ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাঁদের আরও তিন দিন কারাভোগের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি