খুঁজুন
                               
, ,
           

ভারতের বিপক্ষে প্রতিশোধের লড়াই, কী পরিকল্পনা বাংলাদেশের?

ক্রীড়া প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩৮ অপরাহ্ণ
ভারতের বিপক্ষে প্রতিশোধের লড়াই, কী পরিকল্পনা বাংলাদেশের?

লিগ পর্বে ভারতের কাছে ৪৭-১৩ গোলের বড় ব্যবধানে হারের ক্ষত নিয়েই ফাইনালের মঞ্চে বাংলাদেশ নারী হ্যান্ডবল দল। এবার বেগম খালেদা জিয়া আইএইচএফ নেশনস ট্রফির শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে সেই হারের জবাব দেওয়ার চ্যালেঞ্জ সামনে। তবে প্রতিপক্ষকে হারানোর স্বপ্নের পাশাপাশি আগের ম্যাচের ভুলগুলো শুধরে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়াই এখন বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য।

ফাইনালের আগে দলের অনুশীলনে গুরুত্ব পেয়েছে দুটি বিষয়—ভারতের দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণ প্রতিহত করা এবং বলের দখল ধরে রাখা। আগের ম্যাচে ভারতের গতি সামলাতে না পারার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার পুরো ৬০ মিনিট মনোযোগ ধরে রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ।

ভারতের দ্রুত পাল্টা আক্রমণ ঠেকানোই প্রধান লক্ষ্য
বাংলাদেশের স্প্যানিশ কোচ আনা আলোনসো ফ্রাগুয়ার মতে, আগের ম্যাচে ভারত পুরো ৬০ মিনিট একই গতিতে খেলতে পেরেছিল। বিশেষ করে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে উঠে এসে বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে বিপাকে ফেলেছিল তারা। সেই আক্রমণগুলো থামাতে না পারাই বড় ব্যবধানের হারের অন্যতম কারণ।

তাই ফাইনালের প্রস্তুতিতে কোচের মূল পরিকল্পনা, ভারতকে সহজে ফাস্ট ব্রেকের সুযোগ না দেওয়া। বল হারানোর পর দ্রুত রক্ষণে ফিরে আসা, আক্রমণে অপ্রয়োজনীয় ভুল কমানো এবং প্রতিপক্ষের গতির সঙ্গে তাল মেলানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ভারতকে এবারের আসরের সবচেয়ে শক্তিশালী দল হিসেবে বিবেচনা করলেও লড়াইয়ের আশা ছাড়েননি আলোনসো। তাঁর বিশ্বাস, আগের ম্যাচের তুলনায় ভালো খেলতে পারলে ভারতকে সমানতালে চ্যালেঞ্জ জানানো সম্ভব। তবে সে জন্য খেলোয়াড়দের নিজেদের সেরাটা দিতে হবে এবং ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে হবে।

৬০ মিনিট মনোযোগ ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ
হ্যান্ডবলে একটি ছোট ভুলও দ্রুত বড় ব্যবধানে পরিণত হতে পারে। বিশেষ করে প্রতিপক্ষ যখন দ্রুত পাল্টা আক্রমণে দক্ষ, তখন বলের নিয়ন্ত্রণ হারানো কিংবা আক্রমণে ভুল পাস দেওয়া বিপদ বাড়িয়ে দেয়। বাংলাদেশের জন্য তাই শুধু আক্রমণ গড়ে তোলাই নয়, বল হারানোর পর দ্রুত নিজেদের রক্ষণ সাজানোও গুরুত্বপূর্ণ।

কোচের মতে, ভালো ফলের সম্ভাবনা তৈরি করতে হলে আক্রমণে ভুলের সংখ্যা কমাতে হবে এবং পুরো ম্যাচে মনোযোগ ধরে রাখতে হবে। মাঝপথে একাগ্রতা হারালে আগের ম্যাচের মতো ব্যবধান বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ধারাবাহিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে আরও বেশি অনুশীলন ও আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা প্রয়োজন বলেও মনে করছেন কোচ। শক্তিশালী দলের বিপক্ষে নিয়মিত খেলার সুযোগ পেলে খেলোয়াড়দের সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা ও ম্যাচের গতি সামলানোর সক্ষমতা বাড়তে পারে।

ভুল শুধরে ভালো ম্যাচ উপহার দিতে চান খেলোয়াড়েরা
ফাইনালের আগে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মধ্যেও নিজেদের ভুল সংশোধনের প্রত্যয় দেখা যাচ্ছে। দলের সদস্য মাসুদা আক্তার মনে করেন, আগের ম্যাচের ভুলগুলো শুধরে নিতে পারলে ফাইনালে ভালো পারফরম্যান্স উপহার দেওয়া সম্ভব। মাসুদা আক্তারের কথায়, ‘ভুলগুলো শোধরাতে পারলে ভালো একটা ম্যাচ উপহার দেওয়া যাবে।’

তাঁর বক্তব্যে জয়ের নিশ্চয়তার চেয়ে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার অঙ্গীকারই বেশি স্পষ্ট। আগের ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারের পর এবার অন্তত আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই উপহার দিতে চায় বাংলাদেশ। গোলের ব্যবধান কমিয়ে ভারতের বিপক্ষে নিজেদের উন্নতির প্রমাণ দেখানোও দলের অন্যতম লক্ষ্য।

ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের চেয়ে দলীয় সমন্বয়ে আস্থা
দলের আরেক খেলোয়াড় আছিয়া আক্তারও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের চেয়ে দলীয় সমন্বয়কে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফাইনালে ভারতের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ভালো করতে হলে সবাইকে একসঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই বিভাগেই সমন্বয় ধরে রাখা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

ভারতের আক্রমণ থামানোর পাশাপাশি নিজেদের আক্রমণে কার্যকর হতে হবে বাংলাদেশকে। সুযোগ তৈরি করেও তা কাজে লাগাতে না পারলে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করা কঠিন হবে। তাই বলের দখল ধরে রাখা, আক্রমণে ধৈর্য দেখানো এবং ভুল কমানোর বিষয়গুলোই ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রতিশোধের স্বপ্ন, বাস্তবতার কঠিন পরীক্ষা
লিগ পর্বে ৪৭-১৩ গোলের হার বাংলাদেশের জন্য বড় ধাক্কা ছিল। ফাইনালে সেই ব্যবধানের স্মৃতি পেছনে ফেলে নতুনভাবে শুরু করতে হবে দলকে। তবে ভারতের বিপক্ষে প্রতিশোধ নেওয়ার আকাঙ্ক্ষা থাকলেও ম্যাচের ফল নির্ভর করবে মাঠের পারফরম্যান্সের ওপর। বাংলাদেশের সামনে চ্যালেঞ্জ তাই দ্বিমুখী—ভারতের দ্রুতগতির আক্রমণ ঠেকানো এবং নিজেদের ভুলগুলো কাটিয়ে ওঠা। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ ধরে রাখতে পারলে লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। ফাইনালে বাংলাদেশের লক্ষ্য শুধু আগের হারের জবাব দেওয়া নয়, নিজেদের খেলায় উন্নতির প্রমাণও রাখা। ৬০ মিনিটের লড়াইয়ে সেই পরিকল্পনা কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর নারী হ্যান্ডবল দলের সমর্থকদের।

কালের আলো/এসএ/টিসি

পূজার ছুটিতে যানজটহীন ঢাকা, বিনোদনকেন্দ্রে উপচে পড়া ভিড়

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২৭ অপরাহ্ণ
পূজার ছুটিতে যানজটহীন ঢাকা, বিনোদনকেন্দ্রে উপচে পড়া ভিড়

ব্যস্ততা, যানজট আর গাড়ির হর্নের শব্দে মুখরিত রাজধানী ঢাকা যেন হঠাৎ করেই বদলে গেছে। শারদীয় দুর্গাপূজার টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে প্রধান সড়কগুলো অনেকটাই ফাঁকা। গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ কমে যাওয়ায় স্বস্তিতে চলাচল করতে পারছেন নগরবাসী। তবে রাজধানীর চিত্রের ঠিক উল্টো অবস্থা বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে। সকাল থেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসা মানুষের ভিড়ে জমে উঠেছে এসব স্থান।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়ক ও কয়েকটি বিনোদনকেন্দ্র ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

ফাঁকা রাজপথে ফিরেছে চলাচলের স্বস্তি
সাধারণ দিনে মতিঝিল, শাহবাগ, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট ও মিরপুরের মতো ব্যস্ত এলাকায় যানজট নিত্যদিনের ভোগান্তি। কয়েক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতেও অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু পূজার ছুটিতে এসব সড়কে যানবাহনের সংখ্যা কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গেছে। গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ কম থাকায় সড়কে দীর্ঘ যানজট দেখা যায়নি। সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনও তুলনামূলক স্বচ্ছন্দে চলাচল করেছে। সাধারণ সময়ে মতিঝিল থেকে মিরপুর কিংবা উত্তরা যেতে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত লাগলেও ছুটির দিনে একই পথ পাড়ি দিতে অনেক ক্ষেত্রে মাত্র ২০ থেকে ২৫ মিনিট লাগছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

৩৫ মিনিটেই আবদুল্লাহপুর থেকে শেওড়াপাড়া
যানজট কমে যাওয়ায় কর্মজীবী মানুষের যাতায়াতেও এসেছে স্বস্তি। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শেখ কামাল হোসেন আবদুল্লাহপুর থেকে মিরপুরের শেওড়াপাড়ায় মাত্র ৩৫ মিনিটে পৌঁছেছেন। তিনি বলেন, কর্মদিবসে এই পথ পাড়ি দিতে সাধারণত এক থেকে দেড় ঘণ্টার কম সময় লাগে না। কিন্তু পূজার ছুটিতে সড়ক ফাঁকা থাকায় দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছেন। তাঁর অভিজ্ঞতায়, ছুটির কারণে রাজধানীর সড়কে চলাচল অনেকটাই স্বস্তিদায়ক হয়ে উঠেছে।

সড়কে যানবাহন কম, মেট্রোরেলেও সকালের চাপ কম
পূজার ছুটিতে সকালের দিকে মেট্রোরেল স্টেশনগুলোতেও যাত্রীদের তেমন চাপ দেখা যায়নি। তবে দুপুরের দিকে আগারগাঁও ও বিজয় সরণি স্টেশনে বিনোদনকেন্দ্রমুখী দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে।

অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ও বিনোদনকেন্দ্রে যাওয়ার জন্য মেট্রোরেল ব্যবহার করেন। ফলে সড়কে যানজট কম থাকলেও বিনোদনকেন্দ্রের আশপাশে এবং সংশ্লিষ্ট স্টেশনগুলোতে দুপুরের পর মানুষের আনাগোনা বেড়েছে।

বিমান বাহিনী জাদুঘর, নভোথিয়েটার ও চিড়িয়াখানায় ভিড়
রাজধানীর বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। বিমান বাহিনী জাদুঘর, ভাসানী নভোথিয়েটার ও জিয়া উদ্যানে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসেন অনেক দর্শনার্থী। সকাল থেকেই জাতীয় চিড়িয়াখানায়ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

টানা ছুটির সুযোগে শিশুদের নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছেন অনেক অভিভাবক। কেউ জাদুঘর ও নভোথিয়েটার ঘুরে দেখছেন, কেউ আবার খোলা পরিবেশে সময় কাটাচ্ছেন। দীর্ঘ কর্মব্যস্ততার বাইরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পেয়ে আনন্দিত অনেকেই।

ঢাকা ছাড়ছেন অনেকে, বদলে গেছে চিরচেনা নগরী
প্রধান ধর্মীয় উৎসব কিংবা দীর্ঘ ছুটি এলেই রাজধানীর বহু মানুষ গ্রামের বাড়ি বা দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে বেড়াতে যান। এবারের দুর্গাপূজায় টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাওয়ায় নগরবাসীর একটি অংশ ঢাকা ছেড়েছেন। এর প্রভাব পড়েছে রাজধানীর সড়কগুলোতে।

প্রতিদিনের কর্মব্যস্ততা, যানজট আর কোলাহলে অভ্যস্ত ঢাকার মানুষ এ সময় পাচ্ছেন কিছুটা স্বস্তি। ফাঁকা সড়কে দ্রুত যাতায়াত করা যেমন সহজ হয়েছে, তেমনি বিনোদনকেন্দ্রগুলো পরিণত হয়েছে পরিবারগুলোর মিলনমেলায়। তবে এই স্বস্তি সাময়িক। পূজার ছুটি শেষ হলে কর্মজীবী মানুষ আবার রাজধানীতে ফিরবেন। তখন সড়কে বাড়বে যানবাহনের চাপ, ফিরে আসতে পারে চিরচেনা যানজটও। তবু উৎসবের এই কয়েক দিন ঢাকাবাসীকে ব্যস্ত নগরজীবনের বাইরে কিছুটা স্বস্তির নিশ্বাস নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

৯৪ শতাংশ কাজ শেষ, তবু প্রকল্পে ৪ হাজার কোটি টাকা বাড়ানোর তোড়জোড়

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২০ অপরাহ্ণ
৯৪ শতাংশ কাজ শেষ, তবু প্রকল্পে ৪ হাজার কোটি টাকা বাড়ানোর তোড়জোড়

প্রকল্পের প্রায় ৯৪ শতাংশ কাজ শেষ। হাজার হাজার সড়ক ও সেতুর নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এমনকি কিছু কাজ আর বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থা। এরপরও প্রকল্পের শেষ পর্যায়ে এসে নতুন করে প্রায় ৪ হাজার ৫০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়িয়ে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত নেওয়ার উদ্যোগ চলছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বাস্তবায়নাধীন ‘অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-৩’ বা আইআরআইডিপি-৩-এর তৃতীয় সংশোধনীতে এ প্রস্তাব করা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় প্রস্তাবটি নিয়ে আপত্তি উঠলেও সংশোধনী অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে।

২২ অক্টোবর প্রকাশিত আমার দেশ-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পের শেষ পর্যায়ে এসে বিপুল ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ানোর উদ্যোগ সরকারি অর্থের অপচয় এবং অনিয়মের সুযোগ তৈরি করতে পারে কি না, তা নিয়ে পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

মূল ব্যয়ের তুলনায় বাড়ছে ৬৩ শতাংশ
২০২০ সালের জুনে প্রকল্পটি অনুমোদনের সময় ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬ হাজার ৪৭৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত।

প্রথম সংশোধনীতে ব্যয় বাড়িয়ে ৬ হাজার ৫২৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকা করা হয় এবং মেয়াদ বাড়ানো হয় ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত। পরে দ্বিতীয় সংশোধনীতে ব্যয় অপরিবর্তিত রেখে মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এবার তৃতীয় সংশোধনীতে প্রকল্পের মোট ব্যয় ১০ হাজার ৫২৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে সংশোধিত ব্যয় আগের অনুমোদিত ব্যয়ের তুলনায় ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি বাড়বে। মূল প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয়ের তুলনায় বৃদ্ধি প্রায় ৬৩ শতাংশ। পাশাপাশি প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত সম্প্রসারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

কাজ প্রায় শেষ, নতুন করে যুক্ত হচ্ছে হাজার কিলোমিটার সড়ক
প্রকল্পের অগ্রগতির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত এর ভৌত অগ্রগতি ৯৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৯৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ। প্রকল্পের আওতায় থাকা ৭ হাজার ২৯১টি স্কিমের মধ্যে ৬ হাজার ৩৪৪টির কাজ শেষ হয়েছে। আরও ৭৯৫টির কাজ চলমান। বিভিন্ন কারণে ২২টি স্কিম বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না বলে জানানো হয়েছে।

সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রেও অগ্রগতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। মোট ১১ হাজার ১৩৬ মিটার সেতুর মধ্যে ১০ হাজার ৯৬৪ মিটারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট কাজের একটি অংশও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে। এত অগ্রগতির পরও তৃতীয় সংশোধনীতে নতুন করে ৪৫ কিলোমিটার উপজেলা সড়ক, ২১১ কিলোমিটার ইউনিয়ন সড়ক, ২ হাজার ৪৯৫ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক এবং ১ হাজার ১০ মিটার সেতু-কালভার্ট নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর সঙ্গে ২৯৯ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের কাজও যুক্ত করতে চায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রকল্পের শেষ পর্যায়ে এত বিপুল পরিমাণ নতুন কাজ যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা ও কাজ নির্বাচনের ভিত্তি নিয়ে পিইসি সভায় প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

এমপিদের চাহিদা পূরণে পুরোনো প্রকল্প সম্প্রসারণের অভিযোগ
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংসদ সদস্যদের চাহিদার ভিত্তিতে এলাকায় উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি করতেই পুরোনো প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে আলোচনা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংসদীয় আসনগুলোতে নতুন প্রকল্প নেওয়া না হওয়ায় নির্বাচনের পর এলাকায় দৃশ্যমান উন্নয়নকাজ দেখাতে না পারার বিষয়টি সামনে এসেছে। স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়নকাজের চাহিদা পূরণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির চাপও রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। নতুন প্রকল্প অনুমোদন, সম্ভাব্যতা যাচাই, নকশা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন শুরু করতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। সে কারণে বিদ্যমান প্রকল্পের আওতায় নতুন কাজ যুক্ত করলে তুলনামূলক দ্রুত কাজ শুরু করা সম্ভব হবে—এমন যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে।

তবে প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ হয়ে আসার পর নতুন করে বিপুল অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব উন্নয়ন পরিকল্পনার স্বচ্ছতা ও ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। সাবেক পরিকল্পনা সচিব মামুন আল রশীদ আমার দেশকে বলেন, বাস্তবায়নের শেষ পর্যায়ে এসে প্রকল্পে ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানো এবং মেয়াদ সম্প্রসারণের প্রস্তাব সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। প্রায় ৯৪ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার পর এত বছর পেরিয়ে নতুন করে বিপুল অর্থ চাওয়াকে তিনি সুযোগের অপব্যবহার হিসেবে দেখছেন।

তাঁর মতে, পুরোনো প্রকল্পের কাঠামোর ওপর নতুন কাজ যুক্ত করে সম্ভাব্যতা যাচাই বা ফিজিবিলিটি স্টাডিসহ নতুন প্রকল্প গ্রহণের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াগুলো এড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। প্রকল্প গ্রহণে সংসদ সদস্যদের কোনো চাপ বা দাবি থাকলেও পরিকল্পনা কমিশনের দায়িত্ব হবে অর্থনৈতিক যুক্তি ও নিয়মের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া। রাজনৈতিক প্রভাব বা কোনো গোষ্ঠীর আনুকূল্যে উন্নয়ন ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা দেশের সামগ্রিক পরিকল্পনা কাঠামোর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আইএমইডির আপত্তি: নতুন প্রকল্প নেওয়াই যুক্তিসংগত
প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাবে সবচেয়ে বড় আপত্তি এসেছে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) থেকে। পিইসি সভায় সংস্থাটির প্রতিনিধি মত দেন, নতুন করে প্রকল্পের পরিধি বাড়িয়ে ৪ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় না করে বর্তমান প্রকল্পটি শেষ করা উচিত। প্রয়োজন হলে নতুন প্রকল্প নেওয়া যেতে পারে।

আইএমইডির যুক্তি, প্রকল্পের মেয়াদ ইতোমধ্যে প্রায় সাত বছর হতে চলেছে। আরও মেয়াদ বাড়ালে প্রকল্পের প্রাথমিক পর্যায়ে নির্মিত সড়কগুলোর গুণগত মান চূড়ান্ত মূল্যায়নের সময় যথাযথভাবে যাচাই করা কঠিন হতে পারে। সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধন নির্দেশিকা অনুযায়ী বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া প্রকল্পের মেয়াদ সাধারণত তিন বছরের মধ্যে রাখার কথা। দীর্ঘ সময় ধরে প্রকল্প চালু থাকলে নির্মাণসামগ্রীর দর ও অন্যান্য ব্যয় পরিবর্তনের কারণে ব্যয় সংশোধনের প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। তবে সে কারণে প্রকল্পের পরিধি অনবরত বাড়ানোর পরিবর্তে প্রয়োজন অনুযায়ী কাজের পরিধি কমিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত। আইএমইডির মতে, আটটি বিভাগের জন্য একই ধরনের পৃথক গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়ার কার্যক্রমও চলছে। ফলে বর্তমান প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানোর যৌক্তিকতা আরও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

পিইসি সভাপতির ব্যাখ্যা: দ্রুত উন্নয়নকাজ শুরু করতেই উদ্যোগ
প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনীতে নতুন এলাকা ও কাজ যুক্ত করার বিষয়ে পিইসি সভার সভাপতি মাহমুদুল হোসাইন খান আমার দেশকে বলেন, নতুন প্রকল্প গ্রহণ, সম্ভাব্যতা যাচাই, নকশা তৈরি ও বাস্তবায়ন শুরু করতে প্রায় এক বছর বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে।

অন্যদিকে নতুন সরকারের কাছে জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে এলাকাভিত্তিক উন্নয়নকাজের চাহিদা এসেছে। এসব কাজ দ্রুত শুরু করা এবং নির্বাচনের আগে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই চলমান প্রকল্পে নতুন কিছু কাজ ও এলাকা অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।তাঁর দাবি, জনপ্রতিনিধিরা নিজ নিজ এলাকার মানুষের চাহিদা ও প্রত্যাশার ভিত্তিতে প্রস্তাব দিয়েছেন। প্রায় ছয় মাস ধরে স্থানীয় পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করে এসব সুপারিশ করা হয়েছে। তাই বিষয়টিকে রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রকল্প গ্রহণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করেন তিনি।

দরপত্র ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে নির্দেশনা
নতুন কাজের বাস্তবায়ন ও ঠিকাদার নির্বাচন প্রসঙ্গে মাহমুদুল হোসাইন খান বলেন, উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে কাজগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর সরকারি ক্রয়বিধি অনুসরণ করে মূল্যায়ন কমিটি যোগ্য ঠিকাদার নির্বাচন করবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ঠিকাদার নির্বাচনে কাজের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

পিইসি সভায় প্রকল্পের বিভিন্ন ব্যয় খাত, কাজের স্বচ্ছতা এবং বাস্তবায়ন তদারকি নিয়ে একাধিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। বিশেষ করে গাছ লাগানোর হিসাব, বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের যৌক্তিকতা ও কাজের মান নিশ্চিত করার বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে। এলজিইডির এক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, আটটি বিভাগের জন্য একই ধরনের পৃথক গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ডিপিপি তৈরি করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

‘রিপু রজনী’ দেখতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে পূজা চেরী

বিনোদন প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০২ অপরাহ্ণ
‘রিপু রজনী’ দেখতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে পূজা চেরী

ব্যতিক্রমী ভাবনা, নান্দনিক সাজসজ্জা আর মানুষের মনস্তত্ত্বের গভীর বার্তা—সব মিলিয়ে দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছে চট্টগ্রাম নগরের উত্তর কাট্টলীর শ্রীশ্রী সেবা খোলা ও বৈকুণ্ঠধাম মন্দিরের দুর্গাপূজার মণ্ডপ ‘রিপু রজনী’। এবার এই মণ্ডপ দেখতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ছুটে গেলেন ঢালিউড অভিনেত্রী পূজা চেরী। মণ্ডপের ভাবনা ও আয়োজন দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর মতে, এটি অন্যতম সেরা একটি পূজামণ্ডপ।

গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে মণ্ডপটি পরিদর্শনে যান পূজা চেরী। পরে তিনি কৈবল্যধাম পূজামণ্ডপও ঘুরে দেখেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা আবির সরকার অভিনেত্রীর বক্তব্য ভিডিও করেন। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন তিনি। মণ্ডপ ঘুরে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলেও ছবি পোস্ট করেন পূজা।

‘এই ভাবনাকে সাধুবাদ জানাই’


‘রিপু রজনী’ মণ্ডপের ব্যতিক্রমী থিমের প্রশংসা করে পূজা চেরী বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, এটি অন্যতম সেরা একটি মণ্ডপ হয়েছে। মূলত এ কারণেই এটি দেখতে ঢাকা থেকে ছুটে আসা। আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। আমি এই ভাবনাটিকে সাধুবাদ জানাই।’

অভিনেত্রীর এই বক্তব্যে মণ্ডপটির বিশেষ ভাবনার প্রতি তাঁর ভালো লাগার বিষয়টি উঠে এসেছে। প্রচলিত পূজামণ্ডপের সাজসজ্জার বাইরে গিয়ে মানুষের মনের ভেতরের নানা প্রবৃত্তি, নৈতিক দ্বন্দ্ব এবং আত্মশুদ্ধির বিষয়কে সামনে আনার চেষ্টা করেছে আয়োজকেরা। সেই ব্যতিক্রমী উপস্থাপনাই দর্শনার্থীদের আকর্ষণের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে।

ছয় রিপুকে কেন্দ্র করে ‘রিপু রজনী’


মানুষের মনের ভেতরে থাকা ছয়টি রিপু—লোভ, মোহ, ক্রোধ, হিংসা, অহংকার ও কামনাকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে ‘রিপু রজনী’ মণ্ডপ। মানুষের অন্তরের অন্ধকার, বিবেকের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এবং নিজের ভুল উপলব্ধি করে শুদ্ধতার পথে ফিরে আসার বার্তা তুলে ধরাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

সাধারণত দুর্গাপূজার মণ্ডপে দেবী দুর্গার প্রতিমা, পৌরাণিক কাহিনি ও বিভিন্ন শৈল্পিক উপস্থাপনা প্রাধান্য পায়। তবে ‘রিপু রজনী’তে ধর্মীয় আবহের সঙ্গে মানুষের মনস্তত্ত্ব ও আত্মোপলব্ধির বিষয়টিকে যুক্ত করা হয়েছে। মানুষের ভেতরে থাকা নেতিবাচক প্রবৃত্তিগুলো কীভাবে আচরণ ও সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে, সেই ভাবনাকে শিল্পের মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন আয়োজকেরা।

দুর্গোৎসবের ৫৮তম বছরে ব্যতিক্রমী আয়োজন


আয়োজকেরা জানান, নিজেদের শারদীয় দুর্গোৎসবের ৫৮তম বর্ষে এই ব্যতিক্রমী মণ্ডপের আয়োজন করেছেন তাঁরা। প্রচলিত ধর্মীয় অনুষঙ্গের সঙ্গে মানুষের আত্মশুদ্ধি ও মনস্তাত্ত্বিক উপলব্ধির ভাবনা যুক্ত করে সাজানো হয়েছে পুরো আয়োজন।

এখানে দেবী দুর্গার আগমনকে শুধু অশুভ শক্তির বিনাশের প্রতীক হিসেবে নয়, বরং সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের পথে ফিরে আসার অনুপ্রেরণা হিসেবেও উপস্থাপন করা হয়েছে। মানুষের মধ্যে থাকা লোভ, ক্রোধ, হিংসা ও অহংকারের মতো প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণ করে শুভবোধ ও সংযমের চর্চা করার বার্তাও রয়েছে এই ভাবনায়।

আয়োজকদের মতে, ‘রিপু রজনী’ কেবল প্রতিমা দর্শনের আয়োজন নয়; এটি মানুষকে নিজের ভেতরের অন্ধকার চিনে নেওয়ার আহ্বান। ষড়্‌রিপুর প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে আত্মোপলব্ধি ও শুভবোধের পথে এগিয়ে যাওয়াই এই মণ্ডপের মূল বার্তা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনায় মণ্ডপ


ব্যতিক্রমী থিম ও সাজসজ্জার কারণে ‘রিপু রজনী’র ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। মণ্ডপটি দেখতে প্রতিদিনই দর্শনার্থীদের ভিড় হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা। ধর্মীয় উৎসবের সঙ্গে চিন্তা ও উপলব্ধির বিষয় যুক্ত হওয়ায় আয়োজনটি দর্শকদের মধ্যে আলাদা আগ্রহ তৈরি করেছে।

পূজা চেরীর মতো জনপ্রিয় অভিনেত্রীর উপস্থিতিও মণ্ডপটিকে ঘিরে আগ্রহ বাড়িয়েছে। তাঁর পরিদর্শনের ছবি ও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় আয়োজনটি আরও বেশি মানুষের নজরে এসেছে। দুর্গাপূজার আনন্দ, শিল্পের নান্দনিকতা এবং মানুষের আত্মশুদ্ধির বার্তা—এই তিনটি বিষয়কে একসঙ্গে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে ‘রিপু রজনী’। পূজা চেরীর প্রশংসা সেই আয়োজনের প্রতি দর্শনার্থীদের আগ্রহের আরেকটি দিক সামনে এনেছে।

কালের আলো/এসএ/জেএন