খুঁজুন
                               
, ,
           

৯৪ শতাংশ কাজ শেষ, তবু প্রকল্পে ৪ হাজার কোটি টাকা বাড়ানোর তোড়জোড়

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২০ অপরাহ্ণ
৯৪ শতাংশ কাজ শেষ, তবু প্রকল্পে ৪ হাজার কোটি টাকা বাড়ানোর তোড়জোড়

প্রকল্পের প্রায় ৯৪ শতাংশ কাজ শেষ। হাজার হাজার সড়ক ও সেতুর নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এমনকি কিছু কাজ আর বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থা। এরপরও প্রকল্পের শেষ পর্যায়ে এসে নতুন করে প্রায় ৪ হাজার ৫০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়িয়ে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত নেওয়ার উদ্যোগ চলছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বাস্তবায়নাধীন ‘অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-৩’ বা আইআরআইডিপি-৩-এর তৃতীয় সংশোধনীতে এ প্রস্তাব করা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় প্রস্তাবটি নিয়ে আপত্তি উঠলেও সংশোধনী অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে।

২২ অক্টোবর প্রকাশিত আমার দেশ-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পের শেষ পর্যায়ে এসে বিপুল ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ানোর উদ্যোগ সরকারি অর্থের অপচয় এবং অনিয়মের সুযোগ তৈরি করতে পারে কি না, তা নিয়ে পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

মূল ব্যয়ের তুলনায় বাড়ছে ৬৩ শতাংশ
২০২০ সালের জুনে প্রকল্পটি অনুমোদনের সময় ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬ হাজার ৪৭৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত।

প্রথম সংশোধনীতে ব্যয় বাড়িয়ে ৬ হাজার ৫২৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকা করা হয় এবং মেয়াদ বাড়ানো হয় ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত। পরে দ্বিতীয় সংশোধনীতে ব্যয় অপরিবর্তিত রেখে মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এবার তৃতীয় সংশোধনীতে প্রকল্পের মোট ব্যয় ১০ হাজার ৫২৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে সংশোধিত ব্যয় আগের অনুমোদিত ব্যয়ের তুলনায় ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি বাড়বে। মূল প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয়ের তুলনায় বৃদ্ধি প্রায় ৬৩ শতাংশ। পাশাপাশি প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত সম্প্রসারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

কাজ প্রায় শেষ, নতুন করে যুক্ত হচ্ছে হাজার কিলোমিটার সড়ক
প্রকল্পের অগ্রগতির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত এর ভৌত অগ্রগতি ৯৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৯৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ। প্রকল্পের আওতায় থাকা ৭ হাজার ২৯১টি স্কিমের মধ্যে ৬ হাজার ৩৪৪টির কাজ শেষ হয়েছে। আরও ৭৯৫টির কাজ চলমান। বিভিন্ন কারণে ২২টি স্কিম বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না বলে জানানো হয়েছে।

সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রেও অগ্রগতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। মোট ১১ হাজার ১৩৬ মিটার সেতুর মধ্যে ১০ হাজার ৯৬৪ মিটারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট কাজের একটি অংশও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে। এত অগ্রগতির পরও তৃতীয় সংশোধনীতে নতুন করে ৪৫ কিলোমিটার উপজেলা সড়ক, ২১১ কিলোমিটার ইউনিয়ন সড়ক, ২ হাজার ৪৯৫ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক এবং ১ হাজার ১০ মিটার সেতু-কালভার্ট নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর সঙ্গে ২৯৯ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের কাজও যুক্ত করতে চায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রকল্পের শেষ পর্যায়ে এত বিপুল পরিমাণ নতুন কাজ যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা ও কাজ নির্বাচনের ভিত্তি নিয়ে পিইসি সভায় প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

এমপিদের চাহিদা পূরণে পুরোনো প্রকল্প সম্প্রসারণের অভিযোগ
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংসদ সদস্যদের চাহিদার ভিত্তিতে এলাকায় উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি করতেই পুরোনো প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে আলোচনা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংসদীয় আসনগুলোতে নতুন প্রকল্প নেওয়া না হওয়ায় নির্বাচনের পর এলাকায় দৃশ্যমান উন্নয়নকাজ দেখাতে না পারার বিষয়টি সামনে এসেছে। স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়নকাজের চাহিদা পূরণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির চাপও রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। নতুন প্রকল্প অনুমোদন, সম্ভাব্যতা যাচাই, নকশা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন শুরু করতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। সে কারণে বিদ্যমান প্রকল্পের আওতায় নতুন কাজ যুক্ত করলে তুলনামূলক দ্রুত কাজ শুরু করা সম্ভব হবে—এমন যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে।

তবে প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ হয়ে আসার পর নতুন করে বিপুল অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব উন্নয়ন পরিকল্পনার স্বচ্ছতা ও ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। সাবেক পরিকল্পনা সচিব মামুন আল রশীদ আমার দেশকে বলেন, বাস্তবায়নের শেষ পর্যায়ে এসে প্রকল্পে ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানো এবং মেয়াদ সম্প্রসারণের প্রস্তাব সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। প্রায় ৯৪ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার পর এত বছর পেরিয়ে নতুন করে বিপুল অর্থ চাওয়াকে তিনি সুযোগের অপব্যবহার হিসেবে দেখছেন।

তাঁর মতে, পুরোনো প্রকল্পের কাঠামোর ওপর নতুন কাজ যুক্ত করে সম্ভাব্যতা যাচাই বা ফিজিবিলিটি স্টাডিসহ নতুন প্রকল্প গ্রহণের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াগুলো এড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। প্রকল্প গ্রহণে সংসদ সদস্যদের কোনো চাপ বা দাবি থাকলেও পরিকল্পনা কমিশনের দায়িত্ব হবে অর্থনৈতিক যুক্তি ও নিয়মের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া। রাজনৈতিক প্রভাব বা কোনো গোষ্ঠীর আনুকূল্যে উন্নয়ন ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা দেশের সামগ্রিক পরিকল্পনা কাঠামোর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আইএমইডির আপত্তি: নতুন প্রকল্প নেওয়াই যুক্তিসংগত
প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাবে সবচেয়ে বড় আপত্তি এসেছে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) থেকে। পিইসি সভায় সংস্থাটির প্রতিনিধি মত দেন, নতুন করে প্রকল্পের পরিধি বাড়িয়ে ৪ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় না করে বর্তমান প্রকল্পটি শেষ করা উচিত। প্রয়োজন হলে নতুন প্রকল্প নেওয়া যেতে পারে।

আইএমইডির যুক্তি, প্রকল্পের মেয়াদ ইতোমধ্যে প্রায় সাত বছর হতে চলেছে। আরও মেয়াদ বাড়ালে প্রকল্পের প্রাথমিক পর্যায়ে নির্মিত সড়কগুলোর গুণগত মান চূড়ান্ত মূল্যায়নের সময় যথাযথভাবে যাচাই করা কঠিন হতে পারে। সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধন নির্দেশিকা অনুযায়ী বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া প্রকল্পের মেয়াদ সাধারণত তিন বছরের মধ্যে রাখার কথা। দীর্ঘ সময় ধরে প্রকল্প চালু থাকলে নির্মাণসামগ্রীর দর ও অন্যান্য ব্যয় পরিবর্তনের কারণে ব্যয় সংশোধনের প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। তবে সে কারণে প্রকল্পের পরিধি অনবরত বাড়ানোর পরিবর্তে প্রয়োজন অনুযায়ী কাজের পরিধি কমিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত। আইএমইডির মতে, আটটি বিভাগের জন্য একই ধরনের পৃথক গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়ার কার্যক্রমও চলছে। ফলে বর্তমান প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানোর যৌক্তিকতা আরও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

পিইসি সভাপতির ব্যাখ্যা: দ্রুত উন্নয়নকাজ শুরু করতেই উদ্যোগ
প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনীতে নতুন এলাকা ও কাজ যুক্ত করার বিষয়ে পিইসি সভার সভাপতি মাহমুদুল হোসাইন খান আমার দেশকে বলেন, নতুন প্রকল্প গ্রহণ, সম্ভাব্যতা যাচাই, নকশা তৈরি ও বাস্তবায়ন শুরু করতে প্রায় এক বছর বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে।

অন্যদিকে নতুন সরকারের কাছে জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে এলাকাভিত্তিক উন্নয়নকাজের চাহিদা এসেছে। এসব কাজ দ্রুত শুরু করা এবং নির্বাচনের আগে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই চলমান প্রকল্পে নতুন কিছু কাজ ও এলাকা অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।তাঁর দাবি, জনপ্রতিনিধিরা নিজ নিজ এলাকার মানুষের চাহিদা ও প্রত্যাশার ভিত্তিতে প্রস্তাব দিয়েছেন। প্রায় ছয় মাস ধরে স্থানীয় পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করে এসব সুপারিশ করা হয়েছে। তাই বিষয়টিকে রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রকল্প গ্রহণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করেন তিনি।

দরপত্র ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে নির্দেশনা
নতুন কাজের বাস্তবায়ন ও ঠিকাদার নির্বাচন প্রসঙ্গে মাহমুদুল হোসাইন খান বলেন, উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে কাজগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর সরকারি ক্রয়বিধি অনুসরণ করে মূল্যায়ন কমিটি যোগ্য ঠিকাদার নির্বাচন করবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ঠিকাদার নির্বাচনে কাজের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

পিইসি সভায় প্রকল্পের বিভিন্ন ব্যয় খাত, কাজের স্বচ্ছতা এবং বাস্তবায়ন তদারকি নিয়ে একাধিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। বিশেষ করে গাছ লাগানোর হিসাব, বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের যৌক্তিকতা ও কাজের মান নিশ্চিত করার বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে। এলজিইডির এক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, আটটি বিভাগের জন্য একই ধরনের পৃথক গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ডিপিপি তৈরি করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

তারুণ্য ধরে রাখতে খাদ্যতালিকায় রাখুন ৫ ধরনের খাবার

লাইফস্টাইল ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৫৮ অপরাহ্ণ
তারুণ্য ধরে রাখতে খাদ্যতালিকায় রাখুন ৫ ধরনের খাবার

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে বলিরেখা, শুষ্কতা ও ঢিলেভাব দেখা দেওয়া স্বাভাবিক। তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত যত্নের মাধ্যমে ত্বকের সুস্থতা ধরে রাখা এবং বয়সের ছাপ পড়ার প্রক্রিয়া কিছুটা ধীর করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে দামি প্রসাধনীর পাশাপাশি প্রতিদিনের খাবারেও নজর দেওয়া জরুরি। পুষ্টিবিদ ও গবেষকদের মতে, রঙিন ফলমূল, শাকসবজি, বাদাম, স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং গাঁজন করা খাবার ত্বকের স্বাভাবিক গঠন ও আর্দ্রতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।

ত্বক শুধু সৌন্দর্যের অংশ নয়, এটি শরীরের গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষাবর্মও। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে কোলাজেন ও ইলাস্টিনের মতো প্রোটিনের গঠন ও পরিমাণে পরিবর্তন আসে। ফলে ত্বক আগের মতো টানটান থাকে না, দেখা দেয় সূক্ষ্ম রেখা ও বলিরেখা। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি, বায়ুদূষণ, ধূমপান ও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনও ত্বকের অকাল বার্ধক্যের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে খাদ্যতালিকায় কিছু পুষ্টিকর উপাদান রাখলে ত্বককে সুস্থ রাখতে সহায়তা পাওয়া যায়।

রঙিন ফল ও সবজিতে মিলবে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট
গাজর, টমেটো, মিষ্টি কুমড়া, ক্যাপসিকাম ও বিভিন্ন রঙের শাকসবজিতে রয়েছে ক্যারোটিনয়েডসহ নানা উপকারী উদ্ভিজ্জ উপাদান। এগুলোর কিছু অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে।

গাজর ও মিষ্টি কুমড়ায় থাকা বিটা-ক্যারোটিন শরীরে ভিটামিন এ তৈরিতে সহায়তা করে। এই ভিটামিন ত্বকের স্বাভাবিক গঠন ও কোষের কার্যক্রম বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে টমেটোর লাইকোপিন নিয়েও ত্বকের সুরক্ষায় সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে গবেষণা হয়েছে।

এসব খাবারের সঙ্গে অল্প পরিমাণ স্বাস্থ্যকর তেল খেলে চর্বিতে দ্রবণীয় ক্যারোটিনয়েড শোষণে সুবিধা হতে পারে। তবে খাবার খাওয়ার মাধ্যমে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে পর্যাপ্ত সুরক্ষা পাওয়া যায় না। বাইরে যাওয়ার সময় সানস্ক্রিন ব্যবহার ও অন্যান্য সূর্য-সুরক্ষার অভ্যাসও জরুরি।

আম ও লেবুজাতীয় ফলে উপকার
আম, কমলা, মাল্টা, পেয়ারা ও লেবুর মতো ফল ত্বকের যত্নে সহায়ক পুষ্টি জোগায়। আমে রয়েছে ক্যারোটিনয়েড, আর লেবুজাতীয় ফলসহ পেয়ারা ও অন্যান্য ফলে পাওয়া যায় ভিটামিন সি।

কোলাজেন তৈরিতে ভিটামিন সি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই প্রোটিন ত্বকের গঠন ও দৃঢ়তা বজায় রাখতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল রাখা ভালো।

আম নিয়ে কিছু গবেষণায় নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে ফলটি খাওয়ার সঙ্গে ত্বকের বলিরেখার পরিবর্তনের সম্পর্ক দেখা হয়েছে। তবে এ ধরনের সীমিত গবেষণা থেকে সবার ক্ষেত্রে একই ফল পাওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। আম পুষ্টিকর হলেও অতিরিক্ত খাওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং বৈচিত্র্যময় ফল খাওয়া এবং সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসের ভারসাম্য বজায় রাখাই গুরুত্বপূর্ণ।

ত্বকের আর্দ্রতায় বাদাম ও স্বাস্থ্যকর চর্বি
ত্বককে স্বাভাবিক ও কোমল রাখতে খাদ্যতালিকায় স্বাস্থ্যকর চর্বি থাকা প্রয়োজন। কাঠবাদাম, চিনাবাদাম, পেস্তাবাদাম ও বিভিন্ন ধরনের বীজে ভিটামিন ই, অসম্পৃক্ত চর্বি এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়।

ভিটামিন ই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। অন্যদিকে স্বাস্থ্যকর চর্বি শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও ত্বকের সুরক্ষাব্যবস্থা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। কিছু গবেষণায় বাদাম খাওয়ার সঙ্গে ত্বকের নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের ইতিবাচক সম্পর্ক দেখা গেলেও, শুধু বাদাম খেলেই বলিরেখা দূর হবে—এমন সিদ্ধান্তের যথেষ্ট ভিত্তি নেই।

সামুদ্রিক তৈলাক্ত মাছ, যেমন স্যামন, সার্ডিন ও ম্যাকারেলে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। এই পুষ্টি উপাদান শরীরের স্বাভাবিক প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। যাঁরা মাছ খান না, তাঁরা খাদ্যাভ্যাস ও পুষ্টির প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্ভিজ্জ উৎস, যেমন তিসি বা চিয়া বীজ রাখতে পারেন।

অন্ত্রের সুস্থতার সঙ্গে ত্বকের সম্পর্ক
শরীরের অন্ত্র ও ত্বকের মধ্যে জটিল সম্পর্ক রয়েছে, যাকে গবেষণায় ‘গাট-স্কিন অ্যাক্সিস’ বলা হয়। অন্ত্রের জীবাণুসমষ্টি, রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা ও প্রদাহের বিভিন্ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে ত্বকের স্বাস্থ্যের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা চলছে।

শাকসবজি, ফল, ডাল, পূর্ণশস্য ও বাদামের মতো আঁশসমৃদ্ধ খাবার অন্ত্রের উপকারী জীবাণুর জন্য সহায়ক। টক দইয়ের মতো কিছু গাঁজন করা খাবারেও জীবিত উপকারী অণুজীব থাকতে পারে।

তবে অন্ত্র সুস্থ রাখলেই সোরিয়াসিস বা অ্যালার্জির মতো রোগ প্রতিরোধ করা যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। এসব রোগের পেছনে বংশগত বৈশিষ্ট্য, পরিবেশ ও রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাসহ নানা বিষয় কাজ করে। তাই ত্বকে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

পানি পান ও সুষম খাদ্যাভ্যাসও জরুরি
ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে পানির ঘাটতি হলে ত্বক শুষ্ক দেখাতে পারে। তবে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি পান করলেই বলিরেখা দূর হবে, এমন প্রমাণ নেই।

পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শরীরচর্চা, ধূমপান এড়িয়ে চলা এবং দীর্ঘ সময় সরাসরি রোদে থাকা থেকে বিরত থাকা ত্বকের সুস্থতা ধরে রাখতে সহায়ক। বাইরে যাওয়ার সময় ত্বকের ধরন ও পরিবেশ অনুযায়ী সানস্ক্রিন ব্যবহার করাও গুরুত্বপূর্ণ।

তারুণ্য ধরে রাখতে বাস্তবসম্মত যত্ন
খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে বয়সের স্বাভাবিক পরিবর্তন পুরোপুরি থামানো সম্ভব নয়। তবে পুষ্টিকর ও ভারসাম্যপূর্ণ খাবার শরীরের পাশাপাশি ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। প্রতিদিনের খাবারে রঙিন সবজি, পরিমিত ফল, বাদাম, স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং পর্যাপ্ত প্রোটিন রাখার চেষ্টা করা যেতে পারে।

মনে রাখতে হবে, কোনো একটি খাবার বা পানীয় তারুণ্য ধরে রাখার জাদুকরি উপায় নয়। বরং দীর্ঘমেয়াদে সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ত্বকের যত্ন এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই ত্বককে সুস্থ ও সতেজ রাখতে সবচেয়ে কার্যকর ভিত্তি তৈরি করে।

কালের আলো/এসএ/জেএন

বিকিনি পরতে নারাজ রাশমিকা, পাশে দাঁড়িয়ে যা বললেন বিজয়

বিনোদন ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৫৪ অপরাহ্ণ
বিকিনি পরতে নারাজ রাশমিকা, পাশে দাঁড়িয়ে যা বললেন বিজয়

চলচ্চিত্রে খোলামেলা পোশাক, বিকিনি কিংবা অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয় নিয়ে তারকাদের নানা সময় প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। বাণিজ্যিক সিনেমার চাহিদা আর ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্যের মধ্যে ভারসাম্য রাখা নিয়েও রয়েছে নানা আলোচনা। এবার সেই বিষয়েই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন দক্ষিণী চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা। জানালেন, কোনো চরিত্রের প্রয়োজনে বিকিনি পরা কিংবা অতিরিক্ত শরীর প্রদর্শনের প্রয়োজন হলেও নিজের স্বাচ্ছন্দ্য ও ব্যক্তিগত সীমারেখার সঙ্গে আপস করতে চান না তিনি।

সম্প্রতি করণ জোহরের জনপ্রিয় টক শো ‘কফি উইথ করণ সিজন ৯’-এ অতিথি হিসেবে হাজির হয়ে এ বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেন রাশমিকা। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন অভিনেতা বিজয় দেবরাকোন্ডা। শুটিং সেটে কোনো দৃশ্য বা পোশাক নিয়ে অস্বস্তি তৈরি হলে অভিনেতাদের কীভাবে নিজেদের অবস্থান জানানো উচিত, সেই আলোচনাতেও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন বিজয়।

‘আমি ওই ধরনের মানুষ নই’, স্পষ্ট রাশমিকা
রাশমিকার ভাষ্য, বাণিজ্যিক সিনেমার প্রচলিত ফর্মুলার কারণে অনেক সময় অভিনেতাদের এমন পোশাক পরতে হয়, যা ব্যক্তিগত পছন্দের সঙ্গে মেলে না। তবে সিনেমার চাহিদা থাকলেই নিজের স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিতে হবে, এমনটা মনে করেন না তিনি।

অভিনেত্রীর বক্তব্য, কোনো চরিত্রে বিকিনি পরা কিংবা শরীর প্রদর্শনের প্রয়োজন থাকতে পারে। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিতে তিনি দ্বিধা করেন না। নিজের জন্য কিছু সীমারেখা নির্ধারণ করে রেখেছেন রাশমিকা। যেসব পরিচালক তার সেই সীমারেখাকে সম্মান করেন, তাদের সঙ্গে কাজ করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন তিনি।

রাশমিকার এই বক্তব্যে উঠে এসেছে অভিনয়ের পেশাগত চাহিদা এবং ব্যক্তিগত পছন্দের মধ্যকার পার্থক্য। একজন অভিনেত্রী হিসেবে চরিত্রের প্রয়োজনে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত থাকলেও নিজের শরীর ও স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।

শুটিং সেটে ‘না’ বলা কেন কঠিন?
রাশমিকা আরও জানান, শুটিং সেটে কোনো পরিচালক বা নির্মাতার সামনে সরাসরি ‘না’ বলা সব সময় সহজ হয় না। বিশেষ করে কাজের পরিবেশে যখন নির্মাতার সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, তখন নিজের অস্বস্তির কথা প্রকাশ করাটা অনেক অভিনেতার জন্য কঠিন হতে পারে।

একটি সিনেমায় যুক্ত হওয়ার পর প্রত্যাশা, পেশাগত দায়িত্ব এবং কাজ হারানোর আশঙ্কার মতো বিষয়ও অভিনেতাদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে কোনো দৃশ্য বা পোশাক নিয়ে আপত্তি থাকলেও অনেক সময় তা প্রকাশ করা সহজ হয় না। রাশমিকার বক্তব্যে সেই বাস্তবতার দিকটিই উঠে এসেছে। তার মতে, নিজের সীমারেখা সম্পর্কে পরিষ্কার থাকা এবং সেই সীমাকে সম্মান করে এমন নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করা গুরুত্বপূর্ণ।

অভিনেতাদের পাশে দাঁড়ালেন বিজয় দেবরাকোন্ডা
আলোচনায় রাশমিকার পাশে দাঁড়িয়ে বিজয় দেবরাকোন্ডাও অভিনেতাদের পেশাগত চাপের বিষয়টি তুলে ধরেন। তার মতে, সিনেমার চুক্তিতে সই করার পর অনেক সময় অভিনেতাদের ওপর এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি হয়। তখন কোনো দৃশ্য নিয়ে আপত্তি জানালে তাদের পেশাদারত্ব নিয়েই প্রশ্ন তোলা হতে পারে।

বিজয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, কেউ প্রশ্ন করতে পারেন—একজন পেশাদার অভিনেতা হয়েও কোনো নির্দিষ্ট দৃশ্য করতে আপত্তি কেন? কিন্তু একজন অভিনেতা পেশাদার হলেই যে সব ধরনের দৃশ্য বা পোশাকে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

তার মতে, কোনো দৃশ্য নিয়ে অস্বস্তি থাকলে অভিনেতার সেই কথা নির্ভয়ে জানানোর সুযোগ থাকা উচিত। আপত্তি প্রকাশ করলেই কাউকে ‘অপেশাদার’ হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত নয়। বরং শুটিং সেটে এমন পরিবেশ থাকা প্রয়োজন, যেখানে শিল্পীরা নিজেদের সীমাবদ্ধতা ও অস্বস্তির কথা বলতে পারেন।

মানসিক ভরসা পান বিজয়ের কাছ থেকে
রাশমিকা স্বীকার করেছেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে অনেক সময় বিজয় দেবরাকোন্ডার কাছ থেকে মানসিক ভরসা ও সাহস পান তিনি। শুটিং সেটে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করা কিংবা অস্বস্তির কথা জানানো কঠিন হয়ে উঠলে কাছের মানুষের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিজয়ের বক্তব্যেও সেই সমর্থনের প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে। তার মতে, একজন অভিনেতাকে নিজের পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। এ জন্য নির্মাতা, সহশিল্পী ও প্রযোজনা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব থাকা জরুরি।

ব্যক্তিগত সীমারেখা ও পেশাদারত্বের প্রশ্ন
চলচ্চিত্রে চরিত্রের প্রয়োজনে পোশাক ও অভিনয়ের ধরন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে কোনো দৃশ্যে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে শিল্পীর সম্মতি ও স্বাচ্ছন্দ্যও গুরুত্বপূর্ণ। রাশমিকা ও বিজয়ের বক্তব্য সেই বিষয়টিকেই সামনে এনেছে।

একজন অভিনেতা বা অভিনেত্রী কোনো নির্দিষ্ট পোশাক কিংবা দৃশ্য করতে না চাইলে সেটিকে পেশাগত অযোগ্যতা হিসেবে দেখা উচিত নয়—এমনটাই মনে করেন বিজয়। অন্যদিকে, রাশমিকার বক্তব্য হলো, নিজের সীমারেখা আগে থেকেই স্পষ্ট করে রাখলে কাজের ক্ষেত্রেও প্রত্যাশা পরিষ্কার থাকে। তারকাদের এই আলোচনা তাই শুধু বিকিনি বা খোলামেলা পোশাকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং চলচ্চিত্রের কর্মপরিবেশে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, পারস্পরিক সম্মান এবং মানসিক নিরাপত্তার বিষয়টিও সামনে নিয়ে এসেছে।

কালের আলো/এসএ/টিসি

লেভানদোভস্কি-নিস্তলরয়কে ছাড়িয়ে রোনালদোর রেকর্ডের দুয়ারে কেইন

ক্রীড়া ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৫১ অপরাহ্ণ
লেভানদোভস্কি-নিস্তলরয়কে ছাড়িয়ে রোনালদোর রেকর্ডের দুয়ারে কেইন

গোলের পর গোল করে নতুন ইতিহাসের দিকে এগিয়ে চলেছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন। এবার আর্সেনালের বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোল করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা ১০ ম্যাচে জালের দেখা পাওয়ার কীর্তি গড়েছেন বায়ার্ন মিউনিখের এই তারকা স্ট্রাইকার। এর মধ্য দিয়ে পেছনে ফেলেছেন রবের্ত লেভানদোভস্কি ও রুড ফন নিস্তলরয়ের মতো দুই অভিজ্ঞ গোলদাতাকে। এখন কেইনের সামনে কেবল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর রেকর্ড।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা ১১ ম্যাচে গোল করার অনন্য কীর্তি রয়েছে পর্তুগিজ মহাতারকার। সেই রেকর্ড স্পর্শ করতে কেইনের প্রয়োজন আর মাত্র একটি ম্যাচে গোল। আরেকটি ম্যাচে গোলের ধারা ধরে রাখতে পারলে রোনালদোকে ছাড়িয়ে এককভাবে রেকর্ডটি নিজের করে নেওয়ার সুযোগও পাবেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক।

আর্সেনালের বিপক্ষে গোল, তবু জয় পেল না বায়ার্ন
বুধবার রাতে মিউনিখের আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লিগ পর্বের ম্যাচে আর্সেনালের মুখোমুখি হয়েছিল বায়ার্ন মিউনিখ। উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচটি শেষ হয় ২-২ গোলের সমতায়। দলের জয় হাতছাড়া হলেও ব্যক্তিগত অর্জনে স্মরণীয় একটি রাত কাটিয়েছেন কেইন। ম্যাচের ২৫তম মিনিটে এবেরেচি এজের গোলে এগিয়ে যায় আর্সেনাল। তবে ১০ মিনিট পর কেইনের দারুণ পাস থেকে আলফোনসো ডেভিস গোল করলে সমতায় ফেরে জার্মান চ্যাম্পিয়নরা।

বিরতির পর ইউরিয়েন টিম্বারের হাতে বল লাগলে পেনাল্টি পায় বায়ার্ন। স্পট কিক থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন কেইন। সেই গোলেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা ১০ ম্যাচে গোল করার নতুন কীর্তি গড়েন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত এই গোল বায়ার্নকে জয় এনে দিতে পারেনি। ম্যাচের ৮২তম মিনিটে ভিক্টর ইয়োকেরেসের পাস থেকে ডেকলান রাইস গোল করে আর্সেনালকে সমতায় ফেরান। ফলে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়তে হয় দুই দলকে।

লেভানদোভস্কি ও নিস্তলরয়কে ছাড়িয়ে কেইন
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে টানা ম্যাচে গোল করার ধারাবাহিকতায় এবার নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছেন কেইন। এর আগে এই প্রতিযোগিতায় টানা নয় ম্যাচে গোল করার কীর্তি ছিল রুড ফন নিস্তলরয় ও রবের্ত লেভানদোভস্কির।

২০০২-০৩ মৌসুমে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে টানা নয় ম্যাচে গোল করেছিলেন ডাচ স্ট্রাইকার নিস্তলরয়। অন্যদিকে, পোলিশ ফরোয়ার্ড লেভানদোভস্কি বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ২০১৯-২০ মৌসুমে টানা নয় ম্যাচে গোল করার পর ২০২০-২১ মৌসুমেও একই ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছিলেন। এবার তাদের দুজনকে ছাড়িয়ে টানা ১০ ম্যাচে গোল করার কীর্তি গড়লেন কেইন। তার এই সাফল্য ইউরোপীয় ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ক্লাব প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিক গোল করার ক্ষেত্রে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এখন সামনে শুধু ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা ম্যাচে গোল করার রেকর্ডের শীর্ষে রয়েছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ২০১৭ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে টানা ১১ ম্যাচে গোল করেছিলেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা। রোনালদোর সেই গোলযাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে। জুভেন্টাসের বিপক্ষে রিয়াল মাদ্রিদের ৪-১ গোলের জয়ে দুটি গোল করেছিলেন তিনি। পরের মৌসুমে গ্রুপ পর্বের ছয় ম্যাচের সবকটিতেই গোল করেন পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড।

এরপর শেষ ষোলোয় প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের (পিএসজি) বিপক্ষে এবং কোয়ার্টার ফাইনালে জুভেন্টাসের বিপক্ষে দুই লেগেই গোল করেন রোনালদো। সব মিলিয়ে টানা ১১ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা ছিল ১৭। ২০১৭ সালের জুন থেকে ২০১৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত গড়া সেই রেকর্ড এখনো অক্ষত। এবার সেই কীর্তির কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন কেইন। আর একটি ম্যাচে গোল করতে পারলেই রোনালদোর রেকর্ড স্পর্শ করবেন তিনি।

আর্সেনালের বিপক্ষেও কেইনের গোলের ধারাবাহিকতা
আর্সেনালের বিপক্ষে কেইনের গোলটি শুধু চ্যাম্পিয়ন্স লিগের রেকর্ডের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, ইংলিশ ক্লাবটির বিপক্ষেও তার দুর্দান্ত গোল করার ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। সাবেক টটেনহ্যাম হটস্পার স্ট্রাইকারের আর্সেনালের বিপক্ষে এটি ১৬তম গোল।

টটেনহ্যামের হয়ে খেলার সময় থেকেই উত্তর লন্ডনের প্রতিদ্বন্দ্বী আর্সেনালের বিপক্ষে কেইনের গোল করার অভ্যাস ছিল। এবার বায়ার্নের জার্সিতেও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখলেন তিনি। যদিও তার গোল দলকে জেতাতে পারেনি, ব্যক্তিগত অর্জনের দিক থেকে ম্যাচটি হয়ে থাকল বিশেষ।

রোনালদোকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ সামনে
আগামী ৩ নভেম্বর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে আতলেতিকো মাদ্রিদের মাঠে খেলবে বায়ার্ন মিউনিখ। সেই ম্যাচে গোল করতে পারলেই রোনালদোর টানা ১১ ম্যাচে গোল করার রেকর্ড স্পর্শ করবেন কেইন। এরপরও গোলের ধারা অব্যাহত রাখতে পারলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা ম্যাচে গোল করার ক্ষেত্রে নতুন একক রেকর্ড গড়বেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ও ধারাবাহিকতার যে ছাপ তিনি রেখে চলেছেন, তাতে এখন ফুটবলপ্রেমীদের নজর তার পরবর্তী ম্যাচের দিকে।

দলের ফলাফল সব সময় অনুকূলে না থাকলেও গোলের ধারাবাহিকতায় কেইন যে ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম আলোচিত নাম হয়ে উঠেছেন, তার সর্বশেষ প্রমাণ আর্সেনালের বিপক্ষে এই গোল। এখন দেখার বিষয়, পরের ম্যাচেই কি রোনালদোর রেকর্ডে ভাগ বসাতে পারেন বায়ার্নের এই গোলমেশিন।

কালের আলো/এসএ/আরআইকে