৩ বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেই বিপাকে আলিস
দীর্ঘ তিন বছর তিন মাসের অপেক্ষা শেষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেছিলেন বাংলাদেশের স্পিনার আলিস আল ইসলাম। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে পথচলা শুরু হয়েছিল তার। কিন্তু অভিষেকের আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন এই স্পিনার। তার বোলিং অ্যাকশন সন্দেহজনক বলে রিপোর্ট করেছেন ম্যাচ কর্মকর্তারা।
গত ২১ অক্টোবর আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেক হয় আলিসের। এর ঠিক পরদিন, ২২ অক্টোবর, তার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে আইসিসির কাছে রিপোর্ট জমা দেওয়ার খবর সামনে আসে। ফলে দীর্ঘ অপেক্ষার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তনের পরপরই নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলেন তিনি।
আন্তর্জাতিক প্রত্যাবর্তনের পরই নতুন ধাক্কা
আলিসের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার পথটি সহজ ছিল না। বোলিং অ্যাকশন নিয়ে আগের বিতর্ক এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। সেই বাধা পেরিয়ে আবারও জাতীয় দলে জায়গা করে নেন এই স্পিনার। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেই পুরোনো সমস্যার পুনরাবৃত্তি তার ক্যারিয়ারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলিসের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে ম্যাচ কর্মকর্তারা আপত্তি তোলায় এবার তাকে আইসিসি অনুমোদিত পরীক্ষাগারে বায়োমেকানিক্যাল পরীক্ষা দিতে হবে। নির্ধারিত পরীক্ষায় তার বোলিং অ্যাকশন যাচাই করা হবে।
আগেও প্রশ্ন উঠেছিল বোলিং অ্যাকশন নিয়ে
আলিস আল ইসলামের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে বিতর্কের শুরু ২০১৯ সালের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল)। সে সময় ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে আলোচনায় আসেন তিনি। মূল ধারার ক্রিকেটে খুব বেশি ম্যাচ না খেলেই এমন চমকপ্রদ অভিষয় তাকে পরিচিতি এনে দিয়েছিল।
তবে অভিষেকের মাত্র দুই দিন পরই তার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে আম্পায়াররা রিপোর্ট জমা দেন। পরবর্তী সময়ে অ্যাকশন অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হয় তাকে। সেই বাধা কাটিয়ে বোলিং অ্যাকশন সংশোধন করে আবার ক্রিকেটে ফেরেন আলিস।
বিপিএলে দ্বিতীয়বারও উঠেছিল আপত্তি
প্রথমবারের ধাক্কা সামলে ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন আলিস। তার পারফরম্যান্স আবারও নির্বাচকদের নজরে আনে তাকে। কিন্তু ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বিপিএলে চিটাগং কিংসের হয়ে খেলার সময় নতুন করে বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
ফরচুন বরিশাল ও রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ম্যাচে আম্পায়াররা তার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে আপত্তি জানান। এর ফলে আবারও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয় তাকে। পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বোলিং অ্যাকশন রিভিউ কমিটির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ পান এই স্পিনার।
এশিয়ান গেমসে আপত্তি ওঠেনি
আন্তর্জাতিক ওয়ানডে অভিষেকের আগে অক্টোবরের শুরুতে জাপানে এশিয়ান গেমসেও খেলেছিলেন আলিস। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অংশ নিলেও ওই ম্যাচে তার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে কোনো আপত্তি জানানো হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ওয়ানডে অভিষেকের পরদিনই নতুন করে রিপোর্ট জমা পড়ায় বিষয়টি আবার আলোচনায় এসেছে। একই খেলোয়াড়ের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে বিভিন্ন ম্যাচে ভিন্ন পরিস্থিতিতে আপত্তি ওঠার বিষয়টি ক্রিকেটে ম্যাচ কর্মকর্তাদের পর্যবেক্ষণ ও আনুষ্ঠানিক পরীক্ষার গুরুত্বও সামনে আনে।
১৪ দিনের মধ্যে বায়োমেকানিক্যাল পরীক্ষা
নিয়ম অনুযায়ী, আলিসকে আগামী ১৪ দিনের মধ্যে আইসিসি অনুমোদিত পরীক্ষাগারে বায়োমেকানিক্যাল পরীক্ষা দিতে হবে। সেখানে তার বোলিং অ্যাকশন নির্ধারিত নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা যাচাই করা হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরীক্ষার ফলাফল না আসা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বোলিং চালিয়ে যেতে পারবেন আলিস। অর্থাৎ, রিপোর্ট জমা পড়ার অর্থ এই নয় যে ইতিমধ্যেই তাকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বোলিং থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে পরীক্ষার ফলাফলের ওপর।
সামনে বড় পরীক্ষা আলিসের
আলিস আল ইসলামের জন্য এটি ক্যারিয়ারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। একাধিকবার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়লেও প্রতিবারই ফিরে আসার চেষ্টা করেছেন তিনি। এবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের জায়গা ধরে রাখার পাশাপাশি বোলিং অ্যাকশন নিয়ে ওঠা নতুন প্রশ্নেরও জবাব দিতে হবে তাকে।
দীর্ঘ বিরতির পর জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ পাওয়ার পর এমন পরিস্থিতি নিঃসন্দেহে তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এখন সবার নজর আইসিসি অনুমোদিত পরীক্ষাগারের বায়োমেকানিক্যাল পরীক্ষার দিকে। সেই পরীক্ষার ফলই নির্ধারণ করবে আলিসের বোলিং নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে।
কালের আলো/এসএ/টিসি

আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]