খুঁজুন
                               
, ,
           

৩ বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেই বিপাকে আলিস

ক্রীড়া প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৬ অপরাহ্ণ
৩ বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেই বিপাকে আলিস

দীর্ঘ তিন বছর তিন মাসের অপেক্ষা শেষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেছিলেন বাংলাদেশের স্পিনার আলিস আল ইসলাম। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে পথচলা শুরু হয়েছিল তার। কিন্তু অভিষেকের আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন এই স্পিনার। তার বোলিং অ্যাকশন সন্দেহজনক বলে রিপোর্ট করেছেন ম্যাচ কর্মকর্তারা।

গত ২১ অক্টোবর আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেক হয় আলিসের। এর ঠিক পরদিন, ২২ অক্টোবর, তার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে আইসিসির কাছে রিপোর্ট জমা দেওয়ার খবর সামনে আসে। ফলে দীর্ঘ অপেক্ষার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তনের পরপরই নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলেন তিনি।

আন্তর্জাতিক প্রত্যাবর্তনের পরই নতুন ধাক্কা
আলিসের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার পথটি সহজ ছিল না। বোলিং অ্যাকশন নিয়ে আগের বিতর্ক এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। সেই বাধা পেরিয়ে আবারও জাতীয় দলে জায়গা করে নেন এই স্পিনার। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেই পুরোনো সমস্যার পুনরাবৃত্তি তার ক্যারিয়ারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলিসের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে ম্যাচ কর্মকর্তারা আপত্তি তোলায় এবার তাকে আইসিসি অনুমোদিত পরীক্ষাগারে বায়োমেকানিক্যাল পরীক্ষা দিতে হবে। নির্ধারিত পরীক্ষায় তার বোলিং অ্যাকশন যাচাই করা হবে।

আগেও প্রশ্ন উঠেছিল বোলিং অ্যাকশন নিয়ে
আলিস আল ইসলামের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে বিতর্কের শুরু ২০১৯ সালের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল)। সে সময় ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে আলোচনায় আসেন তিনি। মূল ধারার ক্রিকেটে খুব বেশি ম্যাচ না খেলেই এমন চমকপ্রদ অভিষয় তাকে পরিচিতি এনে দিয়েছিল।

তবে অভিষেকের মাত্র দুই দিন পরই তার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে আম্পায়াররা রিপোর্ট জমা দেন। পরবর্তী সময়ে অ্যাকশন অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হয় তাকে। সেই বাধা কাটিয়ে বোলিং অ্যাকশন সংশোধন করে আবার ক্রিকেটে ফেরেন আলিস।

বিপিএলে দ্বিতীয়বারও উঠেছিল আপত্তি
প্রথমবারের ধাক্কা সামলে ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন আলিস। তার পারফরম্যান্স আবারও নির্বাচকদের নজরে আনে তাকে। কিন্তু ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বিপিএলে চিটাগং কিংসের হয়ে খেলার সময় নতুন করে বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

ফরচুন বরিশাল ও রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ম্যাচে আম্পায়াররা তার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে আপত্তি জানান। এর ফলে আবারও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয় তাকে। পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বোলিং অ্যাকশন রিভিউ কমিটির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ পান এই স্পিনার।

এশিয়ান গেমসে আপত্তি ওঠেনি
আন্তর্জাতিক ওয়ানডে অভিষেকের আগে অক্টোবরের শুরুতে জাপানে এশিয়ান গেমসেও খেলেছিলেন আলিস। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অংশ নিলেও ওই ম্যাচে তার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে কোনো আপত্তি জানানো হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ওয়ানডে অভিষেকের পরদিনই নতুন করে রিপোর্ট জমা পড়ায় বিষয়টি আবার আলোচনায় এসেছে। একই খেলোয়াড়ের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে বিভিন্ন ম্যাচে ভিন্ন পরিস্থিতিতে আপত্তি ওঠার বিষয়টি ক্রিকেটে ম্যাচ কর্মকর্তাদের পর্যবেক্ষণ ও আনুষ্ঠানিক পরীক্ষার গুরুত্বও সামনে আনে।

১৪ দিনের মধ্যে বায়োমেকানিক্যাল পরীক্ষা
নিয়ম অনুযায়ী, আলিসকে আগামী ১৪ দিনের মধ্যে আইসিসি অনুমোদিত পরীক্ষাগারে বায়োমেকানিক্যাল পরীক্ষা দিতে হবে। সেখানে তার বোলিং অ্যাকশন নির্ধারিত নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা যাচাই করা হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরীক্ষার ফলাফল না আসা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বোলিং চালিয়ে যেতে পারবেন আলিস। অর্থাৎ, রিপোর্ট জমা পড়ার অর্থ এই নয় যে ইতিমধ্যেই তাকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বোলিং থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে পরীক্ষার ফলাফলের ওপর।

সামনে বড় পরীক্ষা আলিসের
আলিস আল ইসলামের জন্য এটি ক্যারিয়ারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। একাধিকবার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়লেও প্রতিবারই ফিরে আসার চেষ্টা করেছেন তিনি। এবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের জায়গা ধরে রাখার পাশাপাশি বোলিং অ্যাকশন নিয়ে ওঠা নতুন প্রশ্নেরও জবাব দিতে হবে তাকে।

দীর্ঘ বিরতির পর জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ পাওয়ার পর এমন পরিস্থিতি নিঃসন্দেহে তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এখন সবার নজর আইসিসি অনুমোদিত পরীক্ষাগারের বায়োমেকানিক্যাল পরীক্ষার দিকে। সেই পরীক্ষার ফলই নির্ধারণ করবে আলিসের বোলিং নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে।

কালের আলো/এসএ/টিসি

ভিসা ছাড়াই যে দেশগুলোতে যেতে পারবেন বাংলাদেশিরা

ভ্রমণ প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২২ অপরাহ্ণ
ভিসা ছাড়াই যে দেশগুলোতে যেতে পারবেন বাংলাদেশিরা

বিদেশ ভ্রমণের ইচ্ছা থাকলেও অনেক সময় ভিসা পাওয়া, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি এবং দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে পরিকল্পনা পিছিয়ে যায়। তবে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য এমন বেশ কিছু দেশ ও অঞ্চলে ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে, যেখানে যাত্রার আগে প্রচলিত ভিসা নিতে হয় না। কোথাও সরাসরি ভিসামুক্ত প্রবেশ করা যায়, আবার কোথাও পৌঁছে অন-অ্যারাইভাল ভিসা নিতে হয়।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের ২০২৬ সালের জুলাই সংস্করণ অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা আগাম ভিসা ছাড়াই বিশ্বের ৩৫টি দেশ ও অঞ্চলে ভ্রমণের সুযোগ পান। এ তালিকায় ভিসামুক্ত প্রবেশের পাশাপাশি অন-অ্যারাইভাল ভিসা এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশনের (ইটিএ) সুবিধাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এশিয়ার যেসব গন্তব্যে যেতে পারবেন
বাংলাদেশের কাছাকাছি কয়েকটি দেশ ও অঞ্চলে ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে। এসব গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে ভুটান, কম্বোডিয়া, মালদ্বীপ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও তিমুর-লেস্তে। তবে প্রতিটি দেশের প্রবেশনীতি আলাদা। নেপাল, ভুটান, কম্বোডিয়া, মালদ্বীপ ও তিমুর-লেস্তেতে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য অন-অ্যারাইভাল ভিসার সুবিধা রয়েছে। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কায় ভ্রমণের আগে ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন বা ইটিএ নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। তাই যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সর্বশেষ নিয়ম যাচাই করা জরুরি।

আফ্রিকার যেসব দেশে ভ্রমণের সুযোগ
আফ্রিকা অঞ্চলের গন্তব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে বুরুন্ডি, কোমোরোস, জিবুতি, গাম্বিয়া, গিনি-বিসাউ, মাদাগাস্কার, রুয়ান্ডা, সিয়েরা লিওন ও কেনিয়া। এসব দেশের মধ্যে কয়েকটিতে অন-অ্যারাইভাল ভিসা নেওয়া যায়। আবার কেনিয়ার মতো গন্তব্যে ভ্রমণের আগে ইলেকট্রনিক অনুমতি নিতে হয়। ফলে আগাম ভিসা না লাগলেও কিছু ক্ষেত্রে অনলাইনে আবেদন ও অনুমোদন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ক্যারিবীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের গন্তব্য
ক্যারিবীয় অঞ্চলে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য তালিকাভুক্ত গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে বার্বাডোস, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস, ডোমিনিকা, গ্রেনাডা, হাইতি, জ্যামাইকা, মন্টসেরাট, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডিনস, বাহামাস এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগো। এ ছাড়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে রয়েছে কুক আইল্যান্ডস, ফিজি, কিরিবাতি, মাইক্রোনেশিয়া, নিয়ুয়ে, সামোয়া, তুভালু ও ভানুয়াতু। এসব গন্তব্যের প্রবেশনীতি ও অনুমোদিত অবস্থানের মেয়াদ একেক রকম হতে পারে।

এক নজরে ৩৫টি গন্তব্য
হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের ২০২৬ সালের জুলাইয়ের তালিকা অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের আগাম ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুযোগ থাকা গন্তব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে বার্বাডোস, ভুটান, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস, বুরুন্ডি, কম্বোডিয়া, কোমোরোস, কুক আইল্যান্ডস, জিবুতি, ডোমিনিকা, ফিজি, গ্রেনাডা, গিনি-বিসাউ, হাইতি, জ্যামাইকা, কেনিয়া, কিরিবাতি, মাদাগাস্কার, মালদ্বীপ, মাইক্রোনেশিয়া, মন্টসেরাট, নেপাল, নিয়ুয়ে, রুয়ান্ডা, সামোয়া, সেশেলস, সিয়েরা লিওন, শ্রীলঙ্কা, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডিনস, বাহামাস, গাম্বিয়া, তিমুর-লেস্তে, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, তুভালু এবং ভানুয়াতু। তবে এসব গন্তব্যে প্রবেশের শর্ত, ভিসার ধরন ও অবস্থানের অনুমোদিত সময় একেক রকম হতে পারে। তাই ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সর্বশেষ নিয়ম যাচাই করে নেওয়া জরুরি।

ভ্রমণের আগে যে বিষয়গুলো মনে রাখবেন
ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুযোগ থাকলেও সব ক্ষেত্রে বিনা প্রস্তুতিতে যাত্রা করা যায় না। কোনো দেশে অন-অ্যারাইভাল ভিসা, কোনো দেশে ইলেকট্রনিক অনুমতি, আবার কোথাও অনলাইন ট্রাভেলার ডিক্লারেশন জমা দেওয়ার নিয়ম থাকতে পারে।

এ ছাড়া পাসপোর্টের মেয়াদ, ফেরার টিকিট, হোটেল বুকিং, পর্যাপ্ত অর্থের প্রমাণ এবং ভ্রমণের উদ্দেশ্যসংক্রান্ত কাগজপত্র চাওয়া হতে পারে। তাই টিকিট কাটার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি অভিবাসন ওয়েবসাইট বা দূতাবাস থেকে প্রবেশের সর্বশেষ শর্ত জেনে নেওয়া উচিত।

মনে রাখতে হবে, হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের ৩৫টি গন্তব্যের হিসাব মানেই সব দেশে সম্পূর্ণ ভিসামুক্ত প্রবেশ নয়। তালিকাটি মূলত যাত্রার আগে প্রচলিত ভিসা না নিয়ে যেসব গন্তব্যে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তার হিসাব।

কালের আলো/এসএ/জেএন

ঘরে কোরআন, আচরণে কতটা? নৈতিকতার প্রশ্ন সামনে

ধর্ম ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০১ অপরাহ্ণ
ঘরে কোরআন, আচরণে কতটা? নৈতিকতার প্রশ্ন সামনে

ঘরে যত্ন করে রাখা হয় পবিত্র কোরআন। রমজানে বাড়ে তিলাওয়াত, সন্তানদের শেখানো হয় সূরা, ধর্মীয় আয়োজনেও থাকে কোরআন পাঠ। কিন্তু দৈনন্দিন জীবনে সত্যবাদিতা, ন্যায়বিচার, আমানতদারি ও মানুষের অধিকার রক্ষায় কোরআনের শিক্ষা কতটা প্রতিফলিত হচ্ছে—এ প্রশ্ন সামনে এনেছেন মুহিবুল হাসান রাফি। তাঁর মতে, কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক শুধু তিলাওয়াত বা মুখস্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; এর শিক্ষা ব্যক্তি, পরিবার ও সামাজিক জীবনের আচরণেও বাস্তবায়ন করা জরুরি।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি কোরআনের শিক্ষার সঙ্গে মানুষের দৈনন্দিন আচরণের সম্পর্ক তুলে ধরেন। সেখানে ধর্মীয় চর্চার পাশাপাশি ব্যক্তিগত সততা, সামাজিক দায়িত্ববোধ, অনলাইন আচরণ এবং সন্তানদের নৈতিক শিক্ষা দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কোরআন শুধু তিলাওয়াত নয়, জীবন পরিচালনার নির্দেশনা
পবিত্র কোরআন মানুষের জীবন পরিচালনার পথনির্দেশক। সুরা আল-ইসরার ৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই এই কোরআন এমন পথ দেখায়, যা সর্বাধিক সরল।’ আয়াতটির আলোকে নিবন্ধে বলা হয়েছে, কোরআনের শিক্ষা মানুষের চিন্তা, সিদ্ধান্ত ও কর্মে প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন।

কোরআন কতবার পড়া হলো কিংবা কতটি সূরা মুখস্থ করা হলো, শুধু তা দিয়ে কোরআনের সঙ্গে সম্পর্কের পূর্ণতা নির্ধারণ করা যায় না। এর শিক্ষা বাস্তব জীবনে কতটা অনুসরণ করা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। সত্য বলা, প্রতিশ্রুতি রক্ষা, অন্যের অধিকার নিশ্চিত করা এবং অন্যায় থেকে বিরত থাকার মধ্য দিয়েও কোরআনের নির্দেশনা অনুসরণের প্রকাশ ঘটে।

ব্যক্তিগত সততা ও লেনদেনে কোরআনের শিক্ষা
সমাজে ধর্মীয় পরিচয় ও দৈনন্দিন আচরণের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখার বিষয়টি নিবন্ধে বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। নামাজ ও তিলাওয়াতের পাশাপাশি ব্যবসায় সততা, সঠিক ওজন দেওয়া, কর্মীর ন্যায্য পাওনা পরিশোধ এবং দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা বজায় রাখাও ধর্মীয় নৈতিকতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনের সুরা আন-নাহলের ৯০ নম্বর আয়াত উল্লেখ করা হয়েছে। এ আয়াতে আল্লাহ ন্যায়বিচার, সদাচরণ ও আত্মীয়স্বজনকে দান করার নির্দেশ দিয়েছেন। নিবন্ধের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব নির্দেশনা বাস্তব জীবনে অনুসরণের মধ্য দিয়েই ধর্মীয় শিক্ষার ব্যবহারিক দিক প্রকাশ পায়।

একজন ব্যবসায়ী সঠিক ওজন দিচ্ছেন কি না, একজন নিয়োগকর্তা কর্মীর ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে দিচ্ছেন কি না কিংবা একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি নিজের কর্তব্য সততার সঙ্গে পালন করছেন কি না—এসব বিষয়কে কোরআনের নৈতিক শিক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত করে দেখা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মানতে হবে কোরআনের নির্দেশনা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাইহীন তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া, গুজব প্রচার, ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং মতভিন্নতা থেকে বিদ্বেষ তৈরি হওয়ার বিষয়টিও নিবন্ধে তুলে ধরা হয়েছে। লেখকের মতে, কোরআনের নৈতিক নির্দেশনা শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা ব্যক্তিগত জীবনের জন্য নয়; অনলাইনেও তা সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

পবিত্র কোরআনের সুরা আল-হুজুরাতের ৬ নম্বর আয়াতে কোনো সংবাদ এলে তা যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সূরার ১১ ও ১২ নম্বর আয়াতে উপহাস, অপমান, কুধারণা ও পরনিন্দা থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা রয়েছে।

এ নির্দেশনার আলোকে কোনো খবর যাচাই না করে শেয়ার করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাউকে অপমান করা কিংবা অন্যের সম্মানহানি হয় এমন বক্তব্য ছড়িয়ে দেওয়ার আগে সতর্ক হওয়া জরুরি। ধর্মীয় বিষয় নিয়ে পোস্ট করলেও আচরণে শালীনতা ও সত্যনিষ্ঠা বজায় রাখা প্রয়োজন।

অর্থ বুঝে কোরআন পড়ার ওপর গুরুত্ব
কোরআন তিলাওয়াত ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তবে এর অর্থ ও শিক্ষা বোঝার চেষ্টাও জরুরি। নিবন্ধে বলা হয়েছে, শুধু উচ্চারণে সীমাবদ্ধ না থেকে কোরআনের বক্তব্য নিয়ে চিন্তা করা, নির্ভরযোগ্য তাফসির পড়া এবং শেখা বিষয়গুলো বাস্তব জীবনে প্রয়োগের অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।

পবিত্র কোরআনের সুরা মুহাম্মাদের ২৪ নম্বর আয়াতে প্রশ্ন করা হয়েছে, তারা কি কোরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে না? এ আয়াত কোরআনের বক্তব্য নিয়ে গভীরভাবে ভাবার গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়।

প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় তিলাওয়াতের পাশাপাশি আয়াতের অর্থ বোঝা এবং একটি শিক্ষা নিজের জীবনে প্রয়োগ করার চেষ্টা করা যেতে পারে। কোনো আয়াতের শিক্ষা যদি মানুষকে মিথ্যা বলা থেকে বিরত রাখে, রাগ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে কিংবা অন্যের অধিকার ফিরিয়ে দিতে উদ্বুদ্ধ করে, তবে কোরআন পাঠের প্রভাব তার আচরণেও প্রকাশ পায়।

পরিবারেই শুরু হতে পারে কোরআনের শিক্ষার চর্চা
সন্তানদের কোরআন শেখানোর পাশাপাশি এর নৈতিক শিক্ষা বোঝানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে নিবন্ধে। সত্যবাদিতা, প্রতিশ্রুতি রক্ষা, বাবা-মায়ের সঙ্গে সদাচরণ এবং অন্যের অধিকার সম্মান করার মতো বিষয়গুলো পরিবার থেকেই শেখানো সম্ভব।

এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের আচরণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সন্তান যদি পরিবারের বড়দের সত্য বলতে, কথা রাখতে এবং অন্যের প্রতি সম্মান দেখাতে দেখে, তাহলে সে এসব মূল্যবোধ বাস্তবে শেখার সুযোগ পায়। ফলে কোরআনের শিক্ষা শুধু বই বা মুখস্থ পাঠের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পারিবারিক জীবনের অংশ হয়ে উঠতে পারে।

কোরআন শেখা ও শেখানোর গুরুত্ব
কোরআন শেখা ও শেখানোর ফজিলত সম্পর্কে সহিহ বুখারিতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে কোরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়।’সূত্র: সহিহ বুখারি, হাদিস ৫০২৭।

হাদিসটি কোরআন শেখা ও অন্যকে শেখানোর গুরুত্ব তুলে ধরে। নিবন্ধে এ শিক্ষার সঙ্গে কোরআন বোঝা ও তা অনুসরণের প্রয়োজনীয়তাও যুক্ত করা হয়েছে। কোরআনের শিক্ষা নিজের জীবনে ধারণ করা এবং যথাযথভাবে অন্যের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা ব্যক্তিগত ও সামাজিক নৈতিকতা বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে।

কোরআনের শিক্ষা জীবনে বাস্তবায়নের আহ্বান
নিবন্ধে কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ককে নিয়মিত আত্মসমালোচনা ও সংশোধনের একটি সুযোগ হিসেবে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে। মানুষ ভুল করতে পারে, তবে ভুল বুঝতে পারা, সংশোধনের চেষ্টা করা এবং নৈতিক জীবনযাপনের দিকে এগিয়ে যাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

কোরআন ঘরে রাখা এবং নিয়মিত তিলাওয়াত করা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় চর্চা। তবে সত্যবাদিতা, ন্যায়বিচার, আমানতদারি, পারিবারিক দায়িত্ব পালন ও মানুষের অধিকার রক্ষার মতো বিষয়েও এর শিক্ষা অনুসরণ করা প্রয়োজন।

লেখাটির মূল বক্তব্য হলো, কোরআনের প্রতি সম্মান শুধু সংরক্ষণ ও তিলাওয়াতের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জীবনের সিদ্ধান্ত, কথাবার্তা ও আচরণেও প্রতিফলিত হওয়া উচিত। ব্যক্তিগত জীবন থেকে পরিবার, কর্মক্ষেত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সব জায়গায় কোরআনের নৈতিক নির্দেশনা অনুসরণের মধ্য দিয়েই এর শিক্ষা বাস্তব জীবনে আরও অর্থবহ হয়ে উঠতে পারে।

কালের আলো/এসএ/জেএন

আবেগ নয়, ওয়াজে প্রাধান্য পাক বিশুদ্ধ জ্ঞান ও দলিল

ধর্ম ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫৩ অপরাহ্ণ
আবেগ নয়, ওয়াজে প্রাধান্য পাক বিশুদ্ধ জ্ঞান ও দলিল

ওয়াজ-মাহফিলে কোরআন-হাদিসের বিশুদ্ধ ব্যাখ্যা, বক্তার যোগ্যতা এবং দায়িত্বশীল বক্তব্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মুফতি মুহাম্মদ আনিসুর রহমান রিজভি। দ্বীনি বক্তব্যের ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই, আরবি ভাষা ও মৌলিক ইসলামী জ্ঞানের ভিত্তি এবং শালীন উপস্থাপনাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। তাঁর মতে, ওয়াজের উদ্দেশ্য শুধু শ্রোতাদের আবেগাপ্লুত করা নয়; বরং বিশুদ্ধ জ্ঞানের মাধ্যমে মানুষকে নৈতিকতা, আত্মশুদ্ধি ও ইসলামের শিক্ষার প্রতি উদ্বুদ্ধ করা।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি এসব বিষয় তুলে ধরেন। নিবন্ধে ওয়াজ-মাহফিলের গুরুত্বের পাশাপাশি বক্তাদের যোগ্যতা, কোরআন-হাদিসের উদ্ধৃতি যাচাই এবং জটিল ধর্মীয় বিষয়ে বিশেষজ্ঞ আলেমদের পরামর্শ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

দ্বীনি বক্তব্যে জ্ঞান ও আমানতদারির গুরুত্ব
নিবন্ধে বলা হয়েছে, ওয়াজ-মাহফিল মানুষের কাছে দ্বীনি শিক্ষা পৌঁছে দেওয়া এবং নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। একজন বক্তা যখন কোরআনের আয়াত বা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস উদ্ধৃত করেন, তখন শ্রোতারা তাঁর বক্তব্যকে ধর্মীয় নির্দেশনা হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন। এ কারণে বক্তব্যের যথার্থতা নিশ্চিত করা বক্তার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনের সুরা আন-নাহলের ৪৩ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে লেখক উল্লেখ করেন, কোনো বিষয়ে না জানলে জ্ঞানীদের কাছে জিজ্ঞাসা করতে বলা হয়েছে। তাঁর মতে, দ্বীনের বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও যোগ্যতার বিষয়টি উপেক্ষা করা উচিত নয়।

কোরআন-হাদিস উদ্ধৃতিতে সতর্কতার আহ্বান
নিবন্ধে কোরআনের আয়াতের ভুল ব্যাখ্যা, দুর্বল বা জাল হাদিসকে সহিহ হিসেবে উপস্থাপন এবং প্রসঙ্গবিচ্ছিন্নভাবে ধর্মীয় বক্তব্য ব্যবহারের ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এসব কারণে শ্রোতাদের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে বলে উল্লেখ করেন লেখক।

এ প্রসঙ্গে সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নামে মিথ্যা আরোপের বিষয়ে কঠোর সতর্কবাণীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। লেখকের মতে, কোনো হাদিসের উৎস ও গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে সেটিকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বক্তব্য হিসেবে প্রচার করা থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন।

আরবি ভাষা ও ইসলামী জ্ঞানের ভিত্তি প্রয়োজন
একজন ওয়ায়েজের জন্য আরবি ভাষা, আকাইদ, ফিকহ, তাফসির, হাদিস, উসুলে হাদিস, সীরাত ও ইসলামী ইতিহাস সম্পর্কে প্রয়োজনীয় জ্ঞান থাকা জরুরি বলে নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে। সব বিষয়ে একজন বক্তাকে বিশেষজ্ঞ হতে হবে—এমন দাবি না তুলে লেখক বলেছেন, যে বিষয়ে বক্তব্য দেওয়া হবে, সে বিষয়ে যথেষ্ট জ্ঞান ও নির্ভরযোগ্য সূত্র সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রয়োজন।

নিবন্ধে আরও বলা হয়েছে, ওয়াজ করা এবং ফতোয়া দেওয়া এক বিষয় নয়। জটিল শরিয়তি মাসআলা বা ফতোয়ার ক্ষেত্রে স্বীকৃত মুফতি কিংবা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ যোগ্য আলেমের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এতে ধর্মীয় বিষয়ে ভুল ব্যাখ্যা ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

বক্তব্যের আগে তথ্য যাচাইয়ের ওপর জোর
ধর্মীয় বক্তব্য প্রস্তুতের ক্ষেত্রে তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাস গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে নিবন্ধে। লেখকের মতে, বক্তৃতায় ব্যবহৃত কোরআনের আয়াতের অর্থ ও তাফসির, হাদিসের উৎস ও মান এবং ঐতিহাসিক ঘটনার সত্যতা নির্ভরযোগ্য গ্রন্থের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

কেউ কোনো মাহফিলে একটি ঘটনা বলেছেন—শুধু এ কারণে সেটিকে নির্ভরযোগ্য তথ্য হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয় বলেও নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে। ধর্মীয় বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় তথ্যের উৎস সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।

ওয়াজে শালীনতা ও প্রজ্ঞার চর্চা জরুরি
ওয়াজের ভাষা ও উপস্থাপনা নিয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে নিবন্ধে। ব্যক্তিগত আক্রমণ, বিদ্রূপ, অপমানজনক শব্দ, যাচাইহীন অভিযোগ ও অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা পরিহার করে শালীন ও মার্জিত ভাষায় কথা বলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন লেখক।

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনের সুরা আন-নাহলের ১২৫ নম্বর আয়াত উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করার নির্দেশনা রয়েছে। তাঁর মতে, ওয়াজে আবেগের গুরুত্ব থাকলেও তা যেন বিশুদ্ধ জ্ঞান, দলিল ও নৈতিকতার বিকল্প হয়ে না ওঠে।

ওয়ায়েজদের জন্য ন্যূনতম যোগ্যতার মাপকাঠির প্রস্তাব
নিবন্ধে ওয়াজের মানোন্নয়নে একটি ন্যূনতম যোগ্যতার মাপকাঠি প্রণয়নের প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে দেশের বিজ্ঞ আলেম, মাদরাসা শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পরামর্শ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

প্রস্তাবিত মাপকাঠির মধ্যে রয়েছে প্রয়োজনীয় দ্বীনি শিক্ষা, কোরআন-হাদিসের মৌলিক জ্ঞান, আরবি ভাষায় দক্ষতা, আকাইদ ও ফিকহ সম্পর্কে ধারণা, হাদিসের সূত্র ও মান যাচাইয়ের প্রাথমিক সক্ষমতা এবং নির্ভরযোগ্য তাফসির ও সীরাতগ্রন্থের সঙ্গে পরিচিতি। পাশাপাশি বক্তব্যে সূত্র উল্লেখ, যাচাইহীন বর্ণনা পরিহার, মার্জিত ভাষা ব্যবহার এবং জটিল ধর্মীয় বিষয়ে বিশেষজ্ঞ আলেমের পরামর্শ নেওয়ার মানসিকতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

লেখক মনে করেন, এ ধরনের মাপকাঠি তৈরির ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, মাজহাব বা মতাদর্শকে লক্ষ্য করা উচিত নয়। বরং জ্ঞান, দক্ষতা, আমানতদারি ও বক্তব্যের মানকে ভিত্তি করে আলেমসমাজের বিভিন্ন ধারার মধ্যে আলোচনা ও ঐকমত্যের মাধ্যমে ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্বশীলতার সমন্বয়
নিবন্ধের উপসংহারে ওয়াজের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীলতার মধ্যে ভারসাম্য রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ওয়াজ-মাহফিলের মাধ্যমে দ্বীনি শিক্ষা প্রচারের সুযোগ বজায় রাখার পাশাপাশি বক্তাদের জ্ঞান, যোগ্যতা ও বক্তব্যের মান নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন লেখক।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওয়াজের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত বিশুদ্ধ ও উপকারী ধর্মীয় শিক্ষা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। শুধু বক্তার সংখ্যা কিংবা শ্রোতাদের আবেগের ওপর গুরুত্ব না দিয়ে জ্ঞান, দলিল, প্রজ্ঞা, শালীনতা ও বাস্তব জীবনে ইসলামের শিক্ষা অনুসরণের আহ্বানকে প্রাধান্য দেওয়া প্রয়োজন।

কালের আলো/এসএ/জেএন