খুঁজুন
                               
, ,
           

এইচএসসির ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ

শিক্ষা প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩০ অপরাহ্ণ
এইচএসসির ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল আগামী ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত হতে পারে। এ লক্ষ্যে ২৫ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ফল প্রকাশের প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। তবে ফল প্রকাশের চূড়ান্ত তারিখ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র  জানিয়েছে, আগামী ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ফল প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। সাধারণত বৃহস্পতিবার ফল প্রকাশ করা হয় বলেই ওই দিনটিকে সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

চূড়ান্ত তারিখ জানা যেতে পারে রোববার
আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, তাঁরা ২৫ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ফল প্রকাশের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। রোববার ( ২৪ অক্টোবর) ফল প্রকাশের নির্দিষ্ট তারিখ জানা যাবে বলে তাঁরা আশা করছেন। অর্থাৎ, ২৯ অক্টোবর ফল প্রকাশের সম্ভাবনা থাকলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের পরই চূড়ান্ত তারিখ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ফল প্রকাশের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের অপেক্ষা করতে হবে।

এবার পরীক্ষার্থী ১২ লাখ ৭০ হাজারেরচলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২ জুলাই। নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে এবার মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন। তবে পরীক্ষা চলাকালে বেশ কিছুসংখ্যক পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। ফল প্রকাশের সম্ভাব্য সময় ঘনিয়ে আসায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে অপেক্ষা বাড়ছে। ফল প্রকাশিত হলে শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষায় ভর্তির প্রস্তুতি এবং পরবর্তী শিক্ষাজীবনের পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে পারবেন।

ফল প্রকাশের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা
শিক্ষা বোর্ডগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফল প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে ২৯ অক্টোবর ফল প্রকাশিত হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশিত হলে ফল প্রকাশের নির্দিষ্ট দিন সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

কালের আলো/এসএ/ইএকে

 

শিউলি ফুল খুঁজতে গিয়ে নিজেই ফুলের উপমা পেলেন পরীমনি

বিনোদন প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
শিউলি ফুল খুঁজতে গিয়ে নিজেই ফুলের উপমা পেলেন পরীমনি

শরতের স্নিগ্ধতা আর শিউলি ফুলের মিষ্টি সুবাস—দুটিই যেন বাঙালির মনে আলাদা আবেগ তৈরি করে। ঋতুর এই চেনা ফুলের প্রতি নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করতে গিয়ে এবার ভক্তদের কাছ থেকেই ফুলের সঙ্গে তুলনা পেলেন ঢালিউড অভিনেত্রী পরীমনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ছোট্ট একটি পোস্ট ঘিরেই অনুরাগীদের মধ্যে দেখা গেছে মিষ্টি মন্তব্যের বন্যা।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পরীমনি লিখেছেন, ‘শিউলি ফুলের খোঁজে যাই…’। ছোট্ট এই বাক্যের সঙ্গে ফুল, পরী ও ভালোবাসার ইমোজিও জুড়ে দিয়েছেন অভিনেত্রী। শরতের প্রিয় ফুলের সন্ধানে বের হওয়ার এমন ইচ্ছা প্রকাশের পরই তাঁর পোস্টটি ঘিরে ভক্তদের আগ্রহ তৈরি হয়।

শিউলি ফুলের সঙ্গে পরীমনির তুলনা
পরীমনির পোস্টে শিউলি ফুলের প্রসঙ্গ থাকলেও মন্তব্যের ঘরে আলোচনার কেন্দ্র হয়ে উঠেছেন অভিনেত্রী নিজেই। প্রিয় তারকার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে গিয়ে অনেকেই তাঁকে শিউলি ফুলের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁদের মন্তব্যে ফুটে উঠেছে পরীমনির প্রতি অনুরাগ ও মুগ্ধতা।

এক ভক্ত লিখেছেন, ‘সে জানেও না যে সেও একটা শিউলি ফুল।’ আরেকজন মন্তব্য করেছেন, ‘কি দরকার? তুমি তো নিজেই শিউলিফুল।’ অন্য এক অনুরাগীর মিষ্টি মন্তব্য, ‘ফুল ফুলকে খুঁজে।’ ভক্তদের এসব মন্তব্যে শিউলি ফুলের সৌন্দর্যের সঙ্গে পরীমনির প্রতি তাঁদের ভালো লাগাও যেন একাকার হয়ে গেছে। ফুলের খোঁজে যাওয়ার কথা জানিয়ে অভিনেত্রী যে পোস্টটি করেছিলেন, সেটিই অনুরাগীদের কাছে হয়ে উঠেছে তাঁকে প্রশংসা করার উপলক্ষ।

শরতের ফুল ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে মিষ্টি আবহ
শিউলি ফুল বাঙালির কাছে শরতের পরিচিত প্রতীক। সাদা পাপড়ি আর কমলা বোঁটার এই ফুলকে ঘিরে ঋতুবদলের সৌন্দর্য ও আবেগের প্রকাশ দেখা যায়। পরীমনির পোস্টেও সেই পরিচিত শরৎ-অনুভূতির ছোঁয়া ছিল। অভিনেত্রীর সংক্ষিপ্ত পোস্টের জবাবে ভক্তদের এমন ভালোবাসাপূর্ণ মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি করেছে মিষ্টি এক আবহ। শিউলি ফুলের প্রতি ভালো লাগা প্রকাশ করতে গিয়ে পরীমনি নিজেই যে ভক্তদের চোখে ফুলের উপমা পেয়ে যাবেন, মন্তব্যগুলোতে যেন তারই প্রতিফলন দেখা গেছে।

কালের আলো/এসএ/জেএন

 

ভিসা ছাড়াই যে দেশগুলোতে যেতে পারবেন বাংলাদেশিরা

ভ্রমণ প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২২ অপরাহ্ণ
ভিসা ছাড়াই যে দেশগুলোতে যেতে পারবেন বাংলাদেশিরা

বিদেশ ভ্রমণের ইচ্ছা থাকলেও অনেক সময় ভিসা পাওয়া, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি এবং দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে পরিকল্পনা পিছিয়ে যায়। তবে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য এমন বেশ কিছু দেশ ও অঞ্চলে ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে, যেখানে যাত্রার আগে প্রচলিত ভিসা নিতে হয় না। কোথাও সরাসরি ভিসামুক্ত প্রবেশ করা যায়, আবার কোথাও পৌঁছে অন-অ্যারাইভাল ভিসা নিতে হয়।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের ২০২৬ সালের জুলাই সংস্করণ অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা আগাম ভিসা ছাড়াই বিশ্বের ৩৫টি দেশ ও অঞ্চলে ভ্রমণের সুযোগ পান। এ তালিকায় ভিসামুক্ত প্রবেশের পাশাপাশি অন-অ্যারাইভাল ভিসা এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশনের (ইটিএ) সুবিধাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এশিয়ার যেসব গন্তব্যে যেতে পারবেন
বাংলাদেশের কাছাকাছি কয়েকটি দেশ ও অঞ্চলে ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে। এসব গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে ভুটান, কম্বোডিয়া, মালদ্বীপ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও তিমুর-লেস্তে। তবে প্রতিটি দেশের প্রবেশনীতি আলাদা। নেপাল, ভুটান, কম্বোডিয়া, মালদ্বীপ ও তিমুর-লেস্তেতে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য অন-অ্যারাইভাল ভিসার সুবিধা রয়েছে। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কায় ভ্রমণের আগে ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন বা ইটিএ নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। তাই যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সর্বশেষ নিয়ম যাচাই করা জরুরি।

আফ্রিকার যেসব দেশে ভ্রমণের সুযোগ
আফ্রিকা অঞ্চলের গন্তব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে বুরুন্ডি, কোমোরোস, জিবুতি, গাম্বিয়া, গিনি-বিসাউ, মাদাগাস্কার, রুয়ান্ডা, সিয়েরা লিওন ও কেনিয়া। এসব দেশের মধ্যে কয়েকটিতে অন-অ্যারাইভাল ভিসা নেওয়া যায়। আবার কেনিয়ার মতো গন্তব্যে ভ্রমণের আগে ইলেকট্রনিক অনুমতি নিতে হয়। ফলে আগাম ভিসা না লাগলেও কিছু ক্ষেত্রে অনলাইনে আবেদন ও অনুমোদন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ক্যারিবীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের গন্তব্য
ক্যারিবীয় অঞ্চলে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য তালিকাভুক্ত গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে বার্বাডোস, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস, ডোমিনিকা, গ্রেনাডা, হাইতি, জ্যামাইকা, মন্টসেরাট, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডিনস, বাহামাস এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগো। এ ছাড়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে রয়েছে কুক আইল্যান্ডস, ফিজি, কিরিবাতি, মাইক্রোনেশিয়া, নিয়ুয়ে, সামোয়া, তুভালু ও ভানুয়াতু। এসব গন্তব্যের প্রবেশনীতি ও অনুমোদিত অবস্থানের মেয়াদ একেক রকম হতে পারে।

এক নজরে ৩৫টি গন্তব্য
হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের ২০২৬ সালের জুলাইয়ের তালিকা অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের আগাম ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুযোগ থাকা গন্তব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে বার্বাডোস, ভুটান, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস, বুরুন্ডি, কম্বোডিয়া, কোমোরোস, কুক আইল্যান্ডস, জিবুতি, ডোমিনিকা, ফিজি, গ্রেনাডা, গিনি-বিসাউ, হাইতি, জ্যামাইকা, কেনিয়া, কিরিবাতি, মাদাগাস্কার, মালদ্বীপ, মাইক্রোনেশিয়া, মন্টসেরাট, নেপাল, নিয়ুয়ে, রুয়ান্ডা, সামোয়া, সেশেলস, সিয়েরা লিওন, শ্রীলঙ্কা, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডিনস, বাহামাস, গাম্বিয়া, তিমুর-লেস্তে, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, তুভালু এবং ভানুয়াতু। তবে এসব গন্তব্যে প্রবেশের শর্ত, ভিসার ধরন ও অবস্থানের অনুমোদিত সময় একেক রকম হতে পারে। তাই ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সর্বশেষ নিয়ম যাচাই করে নেওয়া জরুরি।

ভ্রমণের আগে যে বিষয়গুলো মনে রাখবেন
ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুযোগ থাকলেও সব ক্ষেত্রে বিনা প্রস্তুতিতে যাত্রা করা যায় না। কোনো দেশে অন-অ্যারাইভাল ভিসা, কোনো দেশে ইলেকট্রনিক অনুমতি, আবার কোথাও অনলাইন ট্রাভেলার ডিক্লারেশন জমা দেওয়ার নিয়ম থাকতে পারে।

এ ছাড়া পাসপোর্টের মেয়াদ, ফেরার টিকিট, হোটেল বুকিং, পর্যাপ্ত অর্থের প্রমাণ এবং ভ্রমণের উদ্দেশ্যসংক্রান্ত কাগজপত্র চাওয়া হতে পারে। তাই টিকিট কাটার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি অভিবাসন ওয়েবসাইট বা দূতাবাস থেকে প্রবেশের সর্বশেষ শর্ত জেনে নেওয়া উচিত।

মনে রাখতে হবে, হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের ৩৫টি গন্তব্যের হিসাব মানেই সব দেশে সম্পূর্ণ ভিসামুক্ত প্রবেশ নয়। তালিকাটি মূলত যাত্রার আগে প্রচলিত ভিসা না নিয়ে যেসব গন্তব্যে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তার হিসাব।

কালের আলো/এসএ/জেএন

ঘরে কোরআন, আচরণে কতটা? নৈতিকতার প্রশ্ন সামনে

ধর্ম ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০১ অপরাহ্ণ
ঘরে কোরআন, আচরণে কতটা? নৈতিকতার প্রশ্ন সামনে

ঘরে যত্ন করে রাখা হয় পবিত্র কোরআন। রমজানে বাড়ে তিলাওয়াত, সন্তানদের শেখানো হয় সূরা, ধর্মীয় আয়োজনেও থাকে কোরআন পাঠ। কিন্তু দৈনন্দিন জীবনে সত্যবাদিতা, ন্যায়বিচার, আমানতদারি ও মানুষের অধিকার রক্ষায় কোরআনের শিক্ষা কতটা প্রতিফলিত হচ্ছে—এ প্রশ্ন সামনে এনেছেন মুহিবুল হাসান রাফি। তাঁর মতে, কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক শুধু তিলাওয়াত বা মুখস্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; এর শিক্ষা ব্যক্তি, পরিবার ও সামাজিক জীবনের আচরণেও বাস্তবায়ন করা জরুরি।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি কোরআনের শিক্ষার সঙ্গে মানুষের দৈনন্দিন আচরণের সম্পর্ক তুলে ধরেন। সেখানে ধর্মীয় চর্চার পাশাপাশি ব্যক্তিগত সততা, সামাজিক দায়িত্ববোধ, অনলাইন আচরণ এবং সন্তানদের নৈতিক শিক্ষা দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কোরআন শুধু তিলাওয়াত নয়, জীবন পরিচালনার নির্দেশনা
পবিত্র কোরআন মানুষের জীবন পরিচালনার পথনির্দেশক। সুরা আল-ইসরার ৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই এই কোরআন এমন পথ দেখায়, যা সর্বাধিক সরল।’ আয়াতটির আলোকে নিবন্ধে বলা হয়েছে, কোরআনের শিক্ষা মানুষের চিন্তা, সিদ্ধান্ত ও কর্মে প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন।

কোরআন কতবার পড়া হলো কিংবা কতটি সূরা মুখস্থ করা হলো, শুধু তা দিয়ে কোরআনের সঙ্গে সম্পর্কের পূর্ণতা নির্ধারণ করা যায় না। এর শিক্ষা বাস্তব জীবনে কতটা অনুসরণ করা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। সত্য বলা, প্রতিশ্রুতি রক্ষা, অন্যের অধিকার নিশ্চিত করা এবং অন্যায় থেকে বিরত থাকার মধ্য দিয়েও কোরআনের নির্দেশনা অনুসরণের প্রকাশ ঘটে।

ব্যক্তিগত সততা ও লেনদেনে কোরআনের শিক্ষা
সমাজে ধর্মীয় পরিচয় ও দৈনন্দিন আচরণের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখার বিষয়টি নিবন্ধে বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। নামাজ ও তিলাওয়াতের পাশাপাশি ব্যবসায় সততা, সঠিক ওজন দেওয়া, কর্মীর ন্যায্য পাওনা পরিশোধ এবং দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা বজায় রাখাও ধর্মীয় নৈতিকতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনের সুরা আন-নাহলের ৯০ নম্বর আয়াত উল্লেখ করা হয়েছে। এ আয়াতে আল্লাহ ন্যায়বিচার, সদাচরণ ও আত্মীয়স্বজনকে দান করার নির্দেশ দিয়েছেন। নিবন্ধের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব নির্দেশনা বাস্তব জীবনে অনুসরণের মধ্য দিয়েই ধর্মীয় শিক্ষার ব্যবহারিক দিক প্রকাশ পায়।

একজন ব্যবসায়ী সঠিক ওজন দিচ্ছেন কি না, একজন নিয়োগকর্তা কর্মীর ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে দিচ্ছেন কি না কিংবা একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি নিজের কর্তব্য সততার সঙ্গে পালন করছেন কি না—এসব বিষয়কে কোরআনের নৈতিক শিক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত করে দেখা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মানতে হবে কোরআনের নির্দেশনা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাইহীন তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া, গুজব প্রচার, ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং মতভিন্নতা থেকে বিদ্বেষ তৈরি হওয়ার বিষয়টিও নিবন্ধে তুলে ধরা হয়েছে। লেখকের মতে, কোরআনের নৈতিক নির্দেশনা শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা ব্যক্তিগত জীবনের জন্য নয়; অনলাইনেও তা সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

পবিত্র কোরআনের সুরা আল-হুজুরাতের ৬ নম্বর আয়াতে কোনো সংবাদ এলে তা যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সূরার ১১ ও ১২ নম্বর আয়াতে উপহাস, অপমান, কুধারণা ও পরনিন্দা থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা রয়েছে।

এ নির্দেশনার আলোকে কোনো খবর যাচাই না করে শেয়ার করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাউকে অপমান করা কিংবা অন্যের সম্মানহানি হয় এমন বক্তব্য ছড়িয়ে দেওয়ার আগে সতর্ক হওয়া জরুরি। ধর্মীয় বিষয় নিয়ে পোস্ট করলেও আচরণে শালীনতা ও সত্যনিষ্ঠা বজায় রাখা প্রয়োজন।

অর্থ বুঝে কোরআন পড়ার ওপর গুরুত্ব
কোরআন তিলাওয়াত ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তবে এর অর্থ ও শিক্ষা বোঝার চেষ্টাও জরুরি। নিবন্ধে বলা হয়েছে, শুধু উচ্চারণে সীমাবদ্ধ না থেকে কোরআনের বক্তব্য নিয়ে চিন্তা করা, নির্ভরযোগ্য তাফসির পড়া এবং শেখা বিষয়গুলো বাস্তব জীবনে প্রয়োগের অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।

পবিত্র কোরআনের সুরা মুহাম্মাদের ২৪ নম্বর আয়াতে প্রশ্ন করা হয়েছে, তারা কি কোরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে না? এ আয়াত কোরআনের বক্তব্য নিয়ে গভীরভাবে ভাবার গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়।

প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় তিলাওয়াতের পাশাপাশি আয়াতের অর্থ বোঝা এবং একটি শিক্ষা নিজের জীবনে প্রয়োগ করার চেষ্টা করা যেতে পারে। কোনো আয়াতের শিক্ষা যদি মানুষকে মিথ্যা বলা থেকে বিরত রাখে, রাগ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে কিংবা অন্যের অধিকার ফিরিয়ে দিতে উদ্বুদ্ধ করে, তবে কোরআন পাঠের প্রভাব তার আচরণেও প্রকাশ পায়।

পরিবারেই শুরু হতে পারে কোরআনের শিক্ষার চর্চা
সন্তানদের কোরআন শেখানোর পাশাপাশি এর নৈতিক শিক্ষা বোঝানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে নিবন্ধে। সত্যবাদিতা, প্রতিশ্রুতি রক্ষা, বাবা-মায়ের সঙ্গে সদাচরণ এবং অন্যের অধিকার সম্মান করার মতো বিষয়গুলো পরিবার থেকেই শেখানো সম্ভব।

এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের আচরণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সন্তান যদি পরিবারের বড়দের সত্য বলতে, কথা রাখতে এবং অন্যের প্রতি সম্মান দেখাতে দেখে, তাহলে সে এসব মূল্যবোধ বাস্তবে শেখার সুযোগ পায়। ফলে কোরআনের শিক্ষা শুধু বই বা মুখস্থ পাঠের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পারিবারিক জীবনের অংশ হয়ে উঠতে পারে।

কোরআন শেখা ও শেখানোর গুরুত্ব
কোরআন শেখা ও শেখানোর ফজিলত সম্পর্কে সহিহ বুখারিতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে কোরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়।’সূত্র: সহিহ বুখারি, হাদিস ৫০২৭।

হাদিসটি কোরআন শেখা ও অন্যকে শেখানোর গুরুত্ব তুলে ধরে। নিবন্ধে এ শিক্ষার সঙ্গে কোরআন বোঝা ও তা অনুসরণের প্রয়োজনীয়তাও যুক্ত করা হয়েছে। কোরআনের শিক্ষা নিজের জীবনে ধারণ করা এবং যথাযথভাবে অন্যের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা ব্যক্তিগত ও সামাজিক নৈতিকতা বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে।

কোরআনের শিক্ষা জীবনে বাস্তবায়নের আহ্বান
নিবন্ধে কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ককে নিয়মিত আত্মসমালোচনা ও সংশোধনের একটি সুযোগ হিসেবে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে। মানুষ ভুল করতে পারে, তবে ভুল বুঝতে পারা, সংশোধনের চেষ্টা করা এবং নৈতিক জীবনযাপনের দিকে এগিয়ে যাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

কোরআন ঘরে রাখা এবং নিয়মিত তিলাওয়াত করা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় চর্চা। তবে সত্যবাদিতা, ন্যায়বিচার, আমানতদারি, পারিবারিক দায়িত্ব পালন ও মানুষের অধিকার রক্ষার মতো বিষয়েও এর শিক্ষা অনুসরণ করা প্রয়োজন।

লেখাটির মূল বক্তব্য হলো, কোরআনের প্রতি সম্মান শুধু সংরক্ষণ ও তিলাওয়াতের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জীবনের সিদ্ধান্ত, কথাবার্তা ও আচরণেও প্রতিফলিত হওয়া উচিত। ব্যক্তিগত জীবন থেকে পরিবার, কর্মক্ষেত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সব জায়গায় কোরআনের নৈতিক নির্দেশনা অনুসরণের মধ্য দিয়েই এর শিক্ষা বাস্তব জীবনে আরও অর্থবহ হয়ে উঠতে পারে।

কালের আলো/এসএ/জেএন