খুঁজুন
                               
, ,
           

একটি বীজেই ১ হাজার ৪৩১ কেজির কুমড়া, বিশ্বরেকর্ড কৃষকের

ফিচার ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৭ অপরাহ্ণ
একটি বীজেই ১ হাজার ৪৩১ কেজির কুমড়া, বিশ্বরেকর্ড কৃষকের

একটি ছোট্ট বীজ থেকে জন্ম নেওয়া কুমড়ার ওজন ১ হাজার ৪৩১ কেজি! শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক রন ওয়ালেসের হাত ধরে বাস্তবেই ঘটেছে এমন ঘটনা। প্রায় ছয় মাসের যত্ন, উন্নত বীজ আর নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে চাষ করে বিশালাকার কুমড়া ফলিয়েছেন তিনি। সেই কুমড়ার ওজন ছাড়িয়ে গেছে ৩ হাজার পাউন্ডের সীমাও। এর মধ্য দিয়ে সবচেয়ে ভারী কুমড়া ফলানোর বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন এই কৃষক।

২০২৬ সালের ১০ অক্টোবর কুমড়াটির ওজন মাপা হয় ৩ হাজার ১৫৬ পাউন্ড, যা প্রায় ১ হাজার ৪৩১ কেজির সমান। এর আগে কোনো কুমড়ার ওজন ৩ হাজার পাউন্ডের সীমা অতিক্রম করেনি। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতিতে তাই নতুন ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছেন রন ওয়ালেস।

ছয় মাসের পরিচর্যায় বীজ থেকে দানবাকৃতি কুমড়া
যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ডের গ্রিন এলাকায় নিজের গ্রিনহাউসে গত ১৫ এপ্রিল কুমড়ার বীজ বুনেছিলেন ওয়ালেস। এরপর শুরু হয় নিয়মিত পরিচর্যা। পানি, তাপমাত্রা ও চাষের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করে তিনি কুমড়াটিকে বড় করে তোলেন। প্রায় ছয় মাস পর সেই ছোট্ট বীজ থেকেই জন্ম নেয় রেকর্ড গড়া কুমড়া।

১০ অক্টোবর ওয়ারেন শহরের ফ্রেরিকস ফার্মে অনুষ্ঠিত সাউদার্ন নিউ ইংল্যান্ড জায়ান্ট পাম্পকিন গ্রোয়ার্স প্রতিযোগিতায় কুমড়াটির ওজন নির্ধারণ করা হয়। বিশালাকার কুমড়া চাষিদের এই প্রতিযোগিতায় ওয়ালেসের সাফল্য উপস্থিত দর্শকদেরও বিস্মিত করে।

এক সপ্তাহেই ভাঙল বিশ্বরেকর্ড
বিশাল কুমড়া চাষে বিশ্বরেকর্ডের লড়াইয়ে এবার সময়ের ব্যবধান ছিল খুবই কম। ৩ অক্টোবর যুক্তরাজ্যের কৃষক ইয়ান প্যাটন ২ হাজার ৮৫৭ পাউন্ড ওজনের কুমড়া ফলিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন। কিন্তু মাত্র এক সপ্তাহ পরই সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে যান ওয়ালেস।

তার কুমড়াটি আগের রেকর্ডের চেয়ে প্রায় ৩০০ পাউন্ড বেশি ভারী। এত অল্প সময়ের ব্যবধানে দুবার বিশ্বরেকর্ড ভাঙার ঘটনা বিশালাকার কুমড়া চাষের প্রতিযোগিতায় নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে।

দিনে বাড়ছিল ২৭ কেজিরও বেশি ওজন
এত বিশাল কুমড়া ফলানো কেবল ভাগ্যের বিষয় নয়। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, উন্নত জিনগত বৈশিষ্ট্যের বীজ এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরিচর্যা। এ বছর গ্রিনহাউসে চাষ করায় পানি ও তাপমাত্রার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছিলেন ওয়ালেস।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, কুমড়াটির বৃদ্ধির সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিদিন প্রায় ৬০ পাউন্ড বা ২৭ কেজিরও বেশি ওজন বাড়ছিল। কোনো কোনো সপ্তাহে ওজন বেড়েছিল প্রায় ৫০০ পাউন্ড। অর্থাৎ, প্রতিদিনের সামান্য বৃদ্ধি জমতে জমতে একসময় কুমড়াটি পরিণত হয় বিশাল এক ফসলে।

উন্নত বীজের পাশাপাশি গ্রিনহাউসের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণকেও গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন ওয়ালেস। বিশালাকার কুমড়া চাষের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া কৃষকেরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও কৌশল পরস্পরের সঙ্গে ভাগ করে নেন। ওয়ালেসের সঙ্গে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ইয়ান প্যাটনেরও নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। মজার বিষয় হলো, গ্রিনহাউসে কুমড়া চাষের পরামর্শ প্রথম প্যাটনই তাকে দিয়েছিলেন।

কুমড়া পরিবহনেও ছিল বিশেষ আয়োজন
এত ওজনের কুমড়া চাষ করাই যেমন কঠিন, তেমনি সেটিকে নিরাপদে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নেওয়াও বড় চ্যালেঞ্জ। মাটি থেকে তুলতে ব্যবহার করা হয় বিশেষ হারনেস ও শক্ত দড়ি। পরিবহনের সময় যাতে কুমড়ার গায়ে আঘাত না লাগে, সে জন্য ভেজা চাদর, কম্বল ও প্লাস্টিকের আবরণে মুড়িয়ে বিশেষ প্যালেটে রাখা হয়। পরে ফ্ল্যাটবেড ট্রাকে করে সেটি প্রতিযোগিতাস্থলে নেওয়া হয়।

প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল প্রায় ২০টি বিশালাকার কুমড়া। নিজের কুমড়াটিকে অন্যগুলোর তুলনায় অনেক বড় দেখে ওয়ালেসের ধারণা হয়েছিল, এর ওজন ৩ হাজার পাউন্ড ছাড়াতে পারে। তবে ওজন মাপার আগে সঠিক পরিমাণটি তারও জানা ছিল না। যন্ত্রে ওজন ওঠার পর রেকর্ড নিশ্চিত হলে প্রতিযোগিতাস্থলে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।

এর আগেও একাধিকবার ইতিহাস গড়েছেন ওয়ালেস
বিশালাকার কুমড়া চাষে ওয়ালেসের সাফল্য এবারই প্রথম নয়। ২০০৬ সালে তিনি ১ হাজার ৫০২ পাউন্ড ওজনের কুমড়া ফলিয়ে প্রথমবারের মতো ১ হাজার ৫০০ পাউন্ডের সীমা অতিক্রম করেন। ২০১২ সালে তার ফলানো ২ হাজার ৯ পাউন্ডের কুমড়াও নতুন ইতিহাস গড়েছিল। এবার ৩ হাজার পাউন্ডের গণ্ডি পেরিয়ে নিজের সাফল্যকে নিয়ে গেলেন আরও উঁচুতে।

রেকর্ড গড়া কুমড়াটিকে বিভিন্ন উৎসবে প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। পরে সেটিকে বিশালাকার জ্যাক-ও-ল্যান্টার্নে রূপ দেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে। প্রদর্শনী শেষে কুমড়াটি কম্পোস্ট হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। তবে এর বীজ সংরক্ষণ করবেন ওয়ালেস। বিশ্বের বিভিন্ন কুমড়া চাষিদের সংগঠনকে সেই বীজ দেওয়া হবে, যাতে নিলামের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করা যায়।

আগামী বছর বিরতিতে থাকতে পারেন
একটি কুমড়া কতটা বড় হতে পারে, তার কোনো নির্দিষ্ট সীমা আছে কি না, তা নিয়ে নিশ্চিত নন ওয়ালেস। আপাতত আগামী বছর প্রতিযোগিতা থেকে বিরতি নেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন তিনি। এ সময় অন্য কৃষকেরা তার রেকর্ড ভাঙার চেষ্টা করবেন। কেউ সফল হলে আবার প্রতিযোগিতায় ফেরার কথা ভাববেন এই কৃষক।

ছোট্ট একটি বীজ থেকে দেড় টনের কাছাকাছি ওজনের কুমড়া—ওয়ালেসের এই অর্জন কৃষিতে ধৈর্য, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তির সম্ভাবনাকেই তুলে ধরে। এখন দেখার বিষয়, ৩ হাজার ১৫৬ পাউন্ডের এই রেকর্ড কত দিন অক্ষত থাকে, আর ভবিষ্যতে কোনো কৃষক কি না কুমড়ার ওজনকে আরও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারেন।

কালের আলো/এমএসআইপি/জেএন

প্রতিদিন ১ হাজার ৫০০ কোটি ঘণ্টা! সোশ্যাল মিডিয়ায় ডুবে আছে বিশ্ব

ফিচার ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১০ অপরাহ্ণ
প্রতিদিন ১ হাজার ৫০০ কোটি ঘণ্টা! সোশ্যাল মিডিয়ায় ডুবে আছে বিশ্ব

সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর ফোনের পর্দায় একবার চোখ বুলানো, কাজের ফাঁকে বন্ধুদের পোস্ট দেখা, অবসরে রিলস কিংবা ভিডিওতে ডুবে থাকা—আধুনিক জীবনের পরিচিত চিত্র এটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন শুধু মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম নয়; বিনোদন, খবর, নতুন পণ্য বা কনটেন্টের সন্ধান এবং ব্যবসারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশ্বজুড়ে এর বিস্তার কতটা গভীর, তা বোঝা যায় একটি পরিসংখ্যানে—পৃথিবীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৫৭৯ কোটি।

বিশ্বের মোট জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি মানুষ এখন কোনো না কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করছেন। একজন নিয়মিত ব্যবহারকারী মাসে গড়ে ছয়টির বেশি প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় থাকেন। অর্থাৎ, মানুষ শুধু একটি মাধ্যমে সীমাবদ্ধ নেই; প্রয়োজন ও পছন্দ অনুযায়ী ঘুরে বেড়াচ্ছেন এক প্ল্যাটফর্ম থেকে অন্য প্ল্যাটফর্মে। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব এখন ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে বিজ্ঞাপন, বিনোদন ও বৈশ্বিক ব্যবসা—সব ক্ষেত্রেই।

প্রতিদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় কতটা সময় যাচ্ছে?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি বাড়ছে সেখানে ব্যয় করা সময়ও। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে একজন ব্যক্তি গড়ে সপ্তাহে ১৮ ঘণ্টা ৩৬ মিনিট কাটাচ্ছেন। দৈনিক হিসাবে যা প্রায় ২ ঘণ্টা ৩৯ মিনিট।

এই সময়কে বিশ্বের সব ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে হিসাব করলে প্রতিদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যয় হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ কোটি ঘণ্টারও বেশি। সংখ্যাটি শুধু ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের জনপ্রিয়তা বোঝায় না; মানুষের মনোযোগ এখন কত বড় অর্থনৈতিক সম্পদে পরিণত হয়েছে, সেটিও তুলে ধরে।

এই বিপুল সময়ের একটি অংশ কাটে বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগে, কেউ খোঁজেন খবর, কেউ দেখেন বিনোদনমূলক ভিডিও, আবার অনেকে ব্যবহার করেন পড়াশোনা কিংবা পেশাগত কাজের জন্য। তবে প্রয়োজনীয় ব্যবহার আর অভ্যাসের বশে দীর্ঘ সময় স্ক্রল করার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। প্রতিদিন কতক্ষণ অনলাইনে থাকছেন, তার পাশাপাশি সেই সময় কীভাবে কাজে লাগছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

বিজ্ঞাপনের বাজারে মেটার দাপট
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিশাল ব্যবহারকারীভিত্তিকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে মেটা। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপের মতো প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি বিপুলসংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি করেছে বিজ্ঞাপনদাতাদের জন্য।

২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে মেটার এসব সেবার দৈনিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সম্মিলিত সংখ্যা ছিল ৩৫৬ কোটি। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা বেড়েছে ৪ শতাংশ। অর্থাৎ, বাজারে নতুন প্ল্যাটফর্মের আবির্ভাব হলেও মেটার সেবাগুলোর ব্যবহার এখনো বাড়ছে। শুধু ব্যবহারকারী নয়, বিজ্ঞাপনের বাজারেও প্রতিষ্ঠানটির আয় বেড়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, মেটার বিজ্ঞাপননির্ভর আয় আগের বছরের তুলনায় ৩৩ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ৬৩১ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে বিজ্ঞাপনপ্রতি গড় খরচ বেড়েছে ১২ শতাংশ।

ভিডিও কনটেন্টের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন লক্ষণীয়। ফেসবুকে ভিডিও দেখার সময় আগের বছরের তুলনায় ৮ শতাংশের বেশি বেড়েছে। অন্যদিকে ইনস্টাগ্রাম রিলসে ব্যবহারকারীদের কাটানো সময় বেড়েছে ১০ শতাংশ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিজ্ঞাপন ব্যবস্থার ব্যবহারও বাড়ছে; মেটার ৮০ লাখের বেশি বিজ্ঞাপনদাতা অন্তত একটি এআই বিজ্ঞাপন টুল ব্যবহার করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই প্রবণতা দেখায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুধু মানুষের উপস্থিতি বাড়ানোই নয়, তাঁদের মনোযোগ ধরে রাখাও প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় লক্ষ্য। ভিডিও সুপারিশ, কনটেন্টের ক্রম নির্ধারণ এবং ব্যক্তিভেদে বিজ্ঞাপন দেখানোর মতো প্রযুক্তি সেই প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করছে।

স্ন্যাপচ্যাট ও রেডিটের বাড়তি গতি
বাজারে মেটার প্রভাব থাকলেও অন্য প্ল্যাটফর্মগুলোও নিজেদের ব্যবহারকারী ও আয়ের পরিধি বাড়াচ্ছে। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে স্ন্যাপচ্যাটের দৈনিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৮ কোটি ৩০ লাখে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ শতাংশ বেশি। মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা পৌঁছেছে ৯৫ কোটি ৬০ লাখে। একই সময়ে প্ল্যাটফর্মটির আয় বেড়ে হয়েছে ১৫৩ কোটি ডলার, যা প্রায় ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।

অন্যদিকে অনলাইন ফোরামভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম রেডিটের প্রবৃদ্ধিও নজর কেড়েছে। এর দৈনিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৬৮ লাখে। একই সময়ে রাজস্ব বেড়েছে ৬৯ শতাংশ, যার পরিমাণ ৬৬ কোটি ৩০ লাখ ডলার। এর মধ্যে বিজ্ঞাপন থেকে আয় হয়েছে ৬২ কোটি ৫০ লাখ ডলার—আগের বছরের তুলনায় ৭৪ শতাংশ বেশি।

স্ন্যাপচ্যাট ও রেডিটের এই পরিসংখ্যানের তাৎপর্য হলো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বাজারে সাফল্য কেবল মোট ব্যবহারকারীর সংখ্যার ওপর নির্ভর করছে না। নির্দিষ্ট ধরনের কনটেন্ট, ব্যবহারকারীর আগ্রহ এবং বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে সেই ব্যবহারকারীদের গুরুত্বও আয় বাড়ানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে।

নতুন সিনেমা, গান কিংবা পণ্যের খোঁজ—সবখানেই সোশ্যাল মিডিয়া
একসময় নতুন সিনেমা, টেলিভিশন অনুষ্ঠান কিংবা গানের খবর পেতে মানুষ নির্ভর করতেন টেলিভিশন, সংবাদপত্র বা পরিচিতজনের পরামর্শের ওপর। এখন সেই জায়গার বড় অংশ দখল করেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। কোনো শিল্পীর নতুন গান, আলোচিত সিনেমার দৃশ্য কিংবা নতুন পণ্যের প্রচারণা মুহূর্তেই পৌঁছে যাচ্ছে বিপুলসংখ্যক মানুষের কাছে।

প্রতিবেদনে উদ্ধৃত ডেলয়েটের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন অনুষ্ঠান, শিল্পী বা কনটেন্টের নিয়মিত ভক্তদের ৫২ শতাংশ জানিয়েছেন, নতুন টিভি শো, সিনেমা, গান, গেম কিংবা ইভেন্ট সম্পর্কে জানার প্রধান মাধ্যম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। জেন-জি বা তরুণ প্রজন্মের ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ৭৩ শতাংশ।

অর্থাৎ, নতুন কিছু আবিষ্কারের ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। ব্যবহারকারীরা বন্ধুদের শেয়ার করা পোস্ট, নির্মাতাদের ভিডিও, ট্রেন্ডিং বিষয় কিংবা অ্যালগরিদমের সুপারিশ থেকে নতুন কনটেন্টের সন্ধান পাচ্ছেন। একইভাবে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও সম্ভাব্য ক্রেতাদের কাছে পৌঁছাতে এই মাধ্যমকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

পছন্দ সোশ্যাল মিডিয়ায়, কেনাকাটা অন্য জায়গায়
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো পণ্য বা কনটেন্টের সন্ধান পাওয়া মানেই যে ব্যবহারকারী সেখানেই তাঁর কাজ শেষ করছেন, তা নয়। অনেকেই আগ্রহী হওয়ার পর বিস্তারিত জানতে, ভিডিও দেখতে কিংবা কেনাকাটা করতে অন্য ওয়েবসাইট বা অ্যাপে চলে যান।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা সমীক্ষা অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন কোনো কনটেন্ট বা পণ্যের সন্ধান পাওয়ার পর প্রায় ৪৪ শতাংশ মানুষ সেটি দেখতে বা কিনতে অন্য প্ল্যাটফর্মে যান। জেন-জির ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ৬০ শতাংশ।

এখানেই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য তৈরি হচ্ছে নতুন চ্যালেঞ্জ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা গেলেও সেই আগ্রহকে সরাসরি কেনাকাটায় রূপ দেওয়া সব সময় সহজ হয় না। ব্যবহারকারীকে শেষ পর্যন্ত পণ্য কেনা, ভিডিও দেখা কিংবা সেবা গ্রহণের জন্য অন্য প্ল্যাটফর্মে যেতে হতে পারে। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে এখন শুধু কতজন বিজ্ঞাপন দেখলেন বা পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানালেন, সেটিই বড় বিষয় নয়; সেই আগ্রহ বাস্তব সিদ্ধান্তে কতটা রূপ নিচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

সামনে আরও বড় হচ্ছে ডিজিটাল প্রতিযোগিতা
বিশ্বজুড়ে ৫৭৯ কোটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর পরিসংখ্যান ডিজিটাল জীবনের ব্যাপকতা তুলে ধরে। তবে এই সংখ্যার পাশাপাশি ব্যবহারকারীর সময়, মনোযোগ এবং পছন্দের পরিবর্তনও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে প্ল্যাটফর্মগুলো নতুন কনটেন্ট ও প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের ধরে রাখতে চাইছে, অন্যদিকে বিজ্ঞাপনদাতারা তাঁদের কাছে পৌঁছানোর আরও কার্যকর উপায় খুঁজছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তাই এখন আর নিছক অবসর কাটানোর জায়গা নয়। এটি তথ্য পাওয়ার মাধ্যম, বিনোদনের জগৎ, ব্যবসার বাজার এবং মানুষের মনোযোগ ঘিরে গড়ে ওঠা বিশাল অর্থনৈতিক ক্ষেত্র। আগামী দিনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক কনটেন্টের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হতে পারে।

তবে ব্যবহারকারীর জন্য সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো, ডিজিটাল সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি নিজের সময় ও মনোযোগের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা। কারণ, পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ একই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থাকলেও প্রত্যেকের কাছে নিজের সময়ের মূল্য আলাদা।

কালের আলো/এএএন/জেএন

প্রখর স্মৃতিশক্তির রহস্য কী, ৮০ পেরোনো মানুষদের নিয়ে গবেষণা

ফিচার ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫৯ অপরাহ্ণ
প্রখর স্মৃতিশক্তির রহস্য কী, ৮০ পেরোনো মানুষদের নিয়ে গবেষণা

বয়স ৮০ পেরিয়েছে, অথচ কয়েক দশক আগের ঘটনা এখনো স্পষ্ট মনে করতে পারেন—এমন মানুষের দেখা মেলে। তাঁরা অনায়াসে স্মরণ করতে পারেন বহু বছর আগের অভিজ্ঞতা, পরিচিত মানুষের নাম কিংবা জীবনের নানা স্মরণীয় মুহূর্ত। অথচ একই বয়সী অনেকের ক্ষেত্রে দৈনন্দিন ছোটখাটো বিষয় মনে রাখাও কঠিন হয়ে পড়ে। বয়স বাড়ার পরও কারও স্মৃতিশক্তি এত ভালো থাকে কেন?

এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোর গবেষকেরা। অসাধারণ স্মৃতিশক্তির অধিকারী ৮০ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তিদের তাঁরা বলছেন ‘সুপারএজারস’। গবেষণায় উঠে এসেছে, ভালো স্মৃতিশক্তির পেছনে শুধু বংশগত বৈশিষ্ট্য নয়, জীবনযাপন ও সামাজিক সম্পর্কের মতো বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

২৩১ জন বয়স্ক মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ
গবেষকেরা বিভিন্ন দেশ ও জাতির ৮০ বছর বা তার বেশি বয়সী ১৪২ জন সুপারএজারের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। তুলনার জন্য নেওয়া হয়েছিল একই বয়সসীমার ৮৯ জন বয়স্ক মানুষকে, যাঁদের স্মৃতি ও জ্ঞানীয় সক্ষমতা বয়স অনুযায়ী গড়পড়তা।

গবেষণায় আলঝেইমারস রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত জিনগত বৈশিষ্ট্য এবং পারিবারিক ইতিহাসও বিবেচনায় নেওয়া হয়। দেখা যায়, সুপারএজারদের মধ্যে আলঝেইমারসের বংশগত ঝুঁকি তুলনামূলক দলের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম নয়। অর্থাৎ, অসাধারণ স্মৃতিশক্তি কেবল ভালো জিনের ফল—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সামাজিকভাবে সক্রিয় থাকেন তাঁরা
সুপারএজারদের জীবনযাপনের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো সামাজিক যোগাযোগে সক্রিয় থাকা। গবেষক দলের আগের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এই ব্যক্তিদের প্রায় ৮৩ শতাংশ সামাজিকভাবে সক্রিয়। তাঁরা ঘরের বাইরে যান, অন্য মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করেন এবং দৈনন্দিন জীবনে চলাফেরা বজায় রাখেন।

নিয়মিত হাঁটা ও শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকার সঙ্গে মস্তিষ্কের সুস্থতার সম্পর্ক রয়েছে। শরীরচর্চা রক্তসঞ্চালন ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তবে শুধু হাঁটলেই স্মৃতিশক্তি অসাধারণ হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং শারীরিক সক্রিয়তা দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

পরিবার ও বন্ধুর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক
সুপারএজারদের আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক নিয়ে সন্তুষ্টি। পরিবার, বন্ধু ও পরিচিত মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ তাঁদের জীবনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

অন্যদের সঙ্গে কথা বলা, অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সময় মানুষকে মনোযোগ দিতে হয়, তথ্য মনে রাখতে হয় এবং নানা বিষয়ে চিন্তা করতে হয়। এসব কার্যক্রম মানসিকভাবে সক্রিয় থাকতে সহায়তা করতে পারে। গবেষণায় সামাজিক সম্পর্কের সঙ্গে ভালো জ্ঞানীয় স্বাস্থ্যের যোগসূত্রের কথাও উঠে এসেছে।

তবে সামাজিকভাবে সক্রিয় থাকা আর প্রখর স্মৃতিশক্তির মধ্যে সম্পর্ক থাকলেই একটিই অন্যটির সরাসরি কারণ—এমনটা বলা যায় না। এ বিষয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই কি একমাত্র কারণ?
মজার বিষয় হলো, সব সুপারএজার যে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের প্রতিটি নিয়ম মেনে চলেন, তা নয়। তাঁদের কারও কারও মধ্যে ধূমপান বা মদ্যপানের মতো ক্ষতিকর অভ্যাসও দেখা গেছে। গবেষকদের ধারণা, কিছু ক্ষেত্রে জিনগত বৈশিষ্ট্যসহ একাধিক জৈবিক কারণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে এ ধরনের উদাহরণ থেকে ক্ষতিকর অভ্যাসকে নিরাপদ মনে করার সুযোগ নেই। ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। স্মৃতিশক্তি ও সামগ্রিক সুস্থতা ধরে রাখতে নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম, পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাবার, সামাজিক যোগাযোগ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

বয়স বাড়লেই কি স্মৃতিশক্তি কমে যায়?
বয়স বাড়ার সঙ্গে স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাভাবনার গতিতে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। কিন্তু সবার ক্ষেত্রে তা একই রকম হয় না। কারও স্মৃতিশক্তি দীর্ঘদিন ভালো থাকে, আবার কারও ক্ষেত্রে তুলনামূলক দ্রুত পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। এর পেছনে জিনগত বৈশিষ্ট্য, শারীরিক স্বাস্থ্য, জীবনযাপন ও পরিবেশসহ নানা বিষয় কাজ করতে পারে।

গবেষণার মূল বার্তা হলো, বয়স বাড়ার পরও মস্তিষ্কের সুস্থতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে জীবনযাপন ও সামাজিক যোগাযোগের গুরুত্ব রয়েছে। নিয়মিত হাঁটা, পরিচিত মানুষের সঙ্গে সময় কাটানো, নতুন কিছু শেখা এবং দৈনন্দিন কাজে সক্রিয় থাকা সুস্থ বার্ধক্যের সহায়ক হতে পারে।

তবে স্মৃতিশক্তি হঠাৎ কমে গেলে, পরিচিত পথ চিনতে সমস্যা হলে কিংবা দৈনন্দিন কাজকর্মে ভুলে যাওয়ার প্রভাব পড়তে শুরু করলে বিষয়টিকে স্বাভাবিক বার্ধক্য ভেবে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। এ ধরনের পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

কালের আলো/এএইচ/জেএন

বেনামাজি বন্ধুকে ‘জাহান্নামি’ বলা যাবে? যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪৯ অপরাহ্ণ
বেনামাজি বন্ধুকে ‘জাহান্নামি’ বলা যাবে? যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

নামাজ পড়েন না—এমন কোনো বন্ধুকে কি সরাসরি ‘জাহান্নামি’ বলা জায়েজ? কে জান্নাতে যাবেন আর কে জাহান্নামে, তা কি দুনিয়ায় বসে নির্ধারণ করা সম্ভব? এমন প্রশ্নের উত্তরে ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ গুরুত্ব দিয়েছেন মানুষের ভালো গুণের স্বীকৃতি, সুন্দর আচরণ এবং দাওয়াতের কৌশলের ওপর। তাঁর মতে, কেউ নামাজ নিয়মিত আদায় না করলেও তার সততা, সত্যবাদিতা, সুন্দর ব্যবহার ও পরোপকারের মতো গুণগুলোকে অস্বীকার করা উচিত নয়।

সম্প্রতি একটি ইসলামি আলোচনা অনুষ্ঠানে এক তরুণ নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এ বিষয়ে পরামর্শ চান। তিনি জানান, ক্যাম্পাসে তাঁর কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু রয়েছেন, যাঁরা নিয়মিত নামাজ আদায় করেন না। তবে মানুষ হিসেবে তাঁরা ভালো। তাঁদের একজন একদিন তাঁকে প্রশ্ন করেন, ‘তুই এত ধর্ম মানিস, তাহলে কি আমি জাহান্নামে যাব?’ বন্ধুর এমন প্রশ্নের জবাবে কীভাবে ইসলামের বক্তব্য তুলে ধরা যায়, তা জানতে চান তিনি।

ভালো গুণের স্বীকৃতি দেওয়ার পরামর্শ
জবাবে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, কোনো ব্যক্তির মধ্যে ভালো গুণ থাকলে তার স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। কেউ নিয়মিত ধর্মীয় অনুশীলন না করলেও তিনি সৎ, সত্যবাদী, সুন্দর আচরণের অধিকারী ও পরোপকারী হতে পারেন। এসব গুণের প্রশংসা করতে কার্পণ্য করা উচিত নয়।

তিনি কোরআনের শিক্ষার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, মানুষের মধ্যে সততা ও আমানতদারির মতো গুণ থাকলে তা স্বীকার করতে হবে। কেউ বেনামাজি বা ধর্মীয় অনুশীলনে পিছিয়ে থাকলেও তার ভালো কাজের স্বীকৃতি দেওয়া জরুরি। কারণ, মানুষের ভালো গুণকে সম্মান করার মধ্য দিয়েই তার সঙ্গে সুন্দর সম্পর্ক বজায় রাখা এবং দ্বীনের পথে আহ্বান জানানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

কে জান্নাতে যাবেন, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না
শায়খ আহমাদুল্লাহর বক্তব্য অনুযায়ী, কেউ নামাজ পড়েন বলেই নিশ্চিতভাবে জান্নাতে যাবেন—এমন নিশ্চয়তা নেই। একইভাবে কোনো ব্যক্তি নামাজ আদায় করেন না বলে তাঁকে নিশ্চিতভাবে জাহান্নামি বলাও উচিত নয়। শেষ পর্যন্ত কে জান্নাতে যাবেন আর কে জাহান্নামে যাবেন, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আল্লাহর।

তিনি বোঝান, মানুষের জীবনের শেষ পরিণতি সম্পর্কে দুনিয়ায় বসে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না। কেউ দীর্ঘদিন ভালো কাজ করলেও শেষ পর্যন্ত পথভ্রষ্ট হতে পারেন; আবার কেউ পাপের জীবন থেকে ফিরে এসে তওবা করে সৎপথে চলতে পারেন। তাই নিজের ইবাদত নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভোগা কিংবা অন্যের পরিণতি সম্পর্কে চূড়ান্ত মন্তব্য করা সমীচীন নয়।

শুধু নামাজ নয়, মানুষের সঙ্গে আচরণও গুরুত্বপূর্ণ
আলোচনায় শায়খ আহমাদুল্লাহ আরও বলেন, নামাজ-রোজার পাশাপাশি মানুষের সঙ্গে আচরণ, লেনদেনে সততা এবং নৈতিকতার বিষয়গুলোও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেউ নামাজ আদায় করেও যদি মানুষকে ঠকান, মিথ্যা বলেন, প্রতারণা করেন কিংবা অবৈধ উপার্জনে জড়িত থাকেন, তাহলে শুধু নামাজ আদায় করাকেই জান্নাতের নিশ্চয়তা হিসেবে ধরে নেওয়া যায় না।

অন্যদিকে, ধর্মীয় অনুশীলনে পিছিয়ে থাকা কোনো ব্যক্তির মধ্যে সততা, ভালো ব্যবহার ও পরোপকারের মতো গুণ থাকলে সেগুলোর প্রশংসা করা উচিত। তবে ভালো মানুষ হওয়ার এসব গুণকে নামাজের বিকল্প হিসেবে দেখারও সুযোগ নেই। বরং ভালো কাজের স্বীকৃতি দিয়ে তাঁকে ধর্মীয় দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করা যেতে পারে।

সম্পর্ক বজায় রেখেই দাওয়াত দেওয়ার আহ্বান
বেনামাজি বন্ধুর সঙ্গে কীভাবে কথা বলা উচিত, সে বিষয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহ সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণের ওপর জোর দেন। তাঁর পরামর্শ, বন্ধুকে অপমান বা তিরস্কার না করে সুন্দরভাবে বোঝানো যেতে পারে যে, তার মধ্যে ভালো গুণ রয়েছে; ধর্মীয় অনুশীলনের ক্ষেত্রেও সে আরও এগিয়ে যেতে পারে।

কেউ নামাজ পড়েন না বলে তাঁর সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করা কিংবা সৌজন্য না দেখানোই ইসলামের শিক্ষা—এমন ধারণা থেকেও বিরত থাকা প্রয়োজন। আদর্শের জায়গায় নিজের বিশ্বাস অটুট রেখে আচরণে সৌন্দর্য প্রকাশ করতে হবে। এতে অন্যকে ইসলামের পথে আহ্বান জানানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

শায়খ আহমাদুল্লাহর বক্তব্যের মূল কথা হলো, কারও ধর্মীয় অনুশীলনের ঘাটতি দেখে তার চূড়ান্ত পরিণতি নির্ধারণ না করে ভালো গুণের স্বীকৃতি দেওয়া, নিজের আমল নিয়ে সচেতন থাকা এবং সুন্দর আচরণের মাধ্যমে অন্যকে সৎপথে আহ্বান জানানোই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

কালের আলো/এএএন/জেএন