দুই স্বর্ণে জাতীয় কারাতেতে ইতিহাস গড়ল জামালপুর
জাতীয় পর্যায়ের জুনিয়র কারাতে প্রতিযোগিতায় প্রথমবারের মতো স্বর্ণপদক জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেছে জামালপুরের খেলোয়াড়রা। রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় জাতীয় জুনিয়র কারাতে প্রতিযোগিতায় দুটি স্বর্ণপদক জিতে জেলার ক্রীড়াঙ্গনে নতুন ইতিহাস গড়েছে তারা। পাশাপাশি একটি ইভেন্টে অংশ নিয়ে দুটি তাম্রপদকও অর্জন করেছে জামালপুরের আরেক খেলোয়াড়।
এই সাফল্যে আনন্দিত জেলার ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, জাতীয় পর্যায়ে এমন অর্জন জামালপুরের তরুণ খেলোয়াড়দের সামনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জন সম্ভব বলে আশা করছেন তাঁরা।
দুই দিনের প্রতিযোগিতায় জামালপুরের সাফল্য
গত ২৩ ও ২৪ অক্টোবর রাজধানীর মিরপুরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে দুই দিনব্যাপী দ্বিতীয় জাতীয় জুনিয়র কারাতে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের আয়োজনে দেশের বিভিন্ন এলাকার প্রতিযোগীরা এতে অংশ নেন।
প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় দিন, শনিবার, পৃথক দুটি বয়স শ্রেণিতে স্বর্ণপদক জেতেন জামালপুরের দুই খেলোয়াড়। তাঁদের এই অর্জন জেলার কারাতে অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। মার্শাল আর্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আতিক মোরশেদ জানান, জামালপুর জেলা থেকে মোট ২৬ জন খেলোয়াড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্য থেকে দুইজন স্বর্ণপদক এবং একজন দুটি তাম্রপদক অর্জন করেন।
কাতায় স্বর্ণ জিতেছে তাফহীম, কুমিতেতে আব্দুর রউফ
প্রতিযোগিতায় ১০ থেকে ১২ বছর বয়স শ্রেণির পুরুষ একক কাতা ইভেন্টে স্বর্ণপদক অর্জন করে তাফহীম আল হোসাইন। কাতা হলো কারাতের এমন একটি প্রতিযোগিতামূলক বিভাগ, যেখানে নির্দিষ্ট কৌশল, আঘাত ও প্রতিরক্ষার মুদ্রা ধারাবাহিকভাবে প্রদর্শন করতে হয়। অন্যদিকে, ১৬ থেকে ১৭ বছর বয়স শ্রেণির পুরুষ কুমিতে বিভাগে স্বর্ণপদক জেতে আব্দুর রউফ। কুমিতে হলো প্রতিপক্ষের সঙ্গে নিয়ম মেনে সরাসরি লড়াইভিত্তিক কারাতে প্রতিযোগিতা। দুই ভিন্ন বয়স শ্রেণি ও ইভেন্টে এই সাফল্য জামালপুরের খেলোয়াড়দের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। তরুণ বয়সেই জাতীয় পর্যায়ে এমন অর্জন তাঁদের ভবিষ্যৎ ক্রীড়াজীবনের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
আকিবুলের ঝুলিতে দুটি তাম্রপদক
স্বর্ণপদকের পাশাপাশি জামালপুরের হয়ে দুটি তাম্রপদক অর্জন করেছে আকিবুল ইসলাম বেলাল। ১৪ থেকে ১৫ বছর বয়স শ্রেণিতে কাতা ও কুমিতে—দুটি পৃথক ইভেন্টে অংশ নিয়ে এই সাফল্য পায় সে। একই প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন ইভেন্টে পদক অর্জনের মাধ্যমে জামালপুরের খেলোয়াড়রা নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন। জেলার ক্রীড়া সংগঠকেরা মনে করছেন, এই ফলাফল ভবিষ্যতে আরও বেশি তরুণকে কারাতে প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে উৎসাহিত করবে।
‘পুরো জামালপুর জেলার জন্য গর্বের বিষয়’
মার্শাল আর্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আতিক মোরশেদ বলেন, জাতীয় পর্যায়ের কারাতে প্রতিযোগিতায় জামালপুরের খেলোয়াড়দের এটিই প্রথম স্বর্ণপদক অর্জন। তাঁর মতে, এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং পুরো জেলার জন্য গর্বের বিষয়।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, পদক জয়ের মধ্য দিয়ে জাতীয় পর্যায়ে জামালপুরের কারাতের সাফল্যের যে যাত্রা শুরু হয়েছে, ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। এজন্য খেলোয়াড়দের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, প্রস্তুতি এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।
খেলোয়াড়দের পাশে থাকার আশ্বাস ক্রীড়া সংস্থার
জামালপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদুয়ানও খেলোয়াড়দের এই অর্জনে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, জাতীয় পর্যায়ে প্রথমবারের মতো স্বর্ণপদক পাওয়া জামালপুরের জন্য অত্যন্ত আনন্দের খবর। জেলা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষ থেকে কারাতে খেলোয়াড়দের নিয়মিত সহযোগিতা করা হয় জানিয়ে তিনি ভবিষ্যতেও তাঁদের উন্নয়ন ও সাফল্যের জন্য আরও পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার আশ্বাস দেন।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, তরুণ খেলোয়াড়দের পাশে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, আর্থিক সহযোগিতা ও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে জামালপুর থেকে আরও প্রতিভাবান কারাতেকা উঠে আসবে। এবারের সাফল্য সেই সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করেছে।
কালের আলো/এসএ/টিসি

আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]