খুঁজুন
                               
, ,
           

দুই স্বর্ণে জাতীয় কারাতেতে ইতিহাস গড়ল জামালপুর

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০৪ অপরাহ্ণ
দুই স্বর্ণে জাতীয় কারাতেতে ইতিহাস গড়ল জামালপুর

জাতীয় পর্যায়ের জুনিয়র কারাতে প্রতিযোগিতায় প্রথমবারের মতো স্বর্ণপদক জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেছে জামালপুরের খেলোয়াড়রা। রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় জাতীয় জুনিয়র কারাতে প্রতিযোগিতায় দুটি স্বর্ণপদক জিতে জেলার ক্রীড়াঙ্গনে নতুন ইতিহাস গড়েছে তারা। পাশাপাশি একটি ইভেন্টে অংশ নিয়ে দুটি তাম্রপদকও অর্জন করেছে জামালপুরের আরেক খেলোয়াড়।

এই সাফল্যে আনন্দিত জেলার ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, জাতীয় পর্যায়ে এমন অর্জন জামালপুরের তরুণ খেলোয়াড়দের সামনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জন সম্ভব বলে আশা করছেন তাঁরা।

দুই দিনের প্রতিযোগিতায় জামালপুরের সাফল্য
গত ২৩ ও ২৪ অক্টোবর রাজধানীর মিরপুরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে দুই দিনব্যাপী দ্বিতীয় জাতীয় জুনিয়র কারাতে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের আয়োজনে দেশের বিভিন্ন এলাকার প্রতিযোগীরা এতে অংশ নেন।

প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় দিন, শনিবার, পৃথক দুটি বয়স শ্রেণিতে স্বর্ণপদক জেতেন জামালপুরের দুই খেলোয়াড়। তাঁদের এই অর্জন জেলার কারাতে অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। মার্শাল আর্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আতিক মোরশেদ জানান, জামালপুর জেলা থেকে মোট ২৬ জন খেলোয়াড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্য থেকে দুইজন স্বর্ণপদক এবং একজন দুটি তাম্রপদক অর্জন করেন।

কাতায় স্বর্ণ জিতেছে তাফহীম, কুমিতেতে আব্দুর রউফ
প্রতিযোগিতায় ১০ থেকে ১২ বছর বয়স শ্রেণির পুরুষ একক কাতা ইভেন্টে স্বর্ণপদক অর্জন করে তাফহীম আল হোসাইন। কাতা হলো কারাতের এমন একটি প্রতিযোগিতামূলক বিভাগ, যেখানে নির্দিষ্ট কৌশল, আঘাত ও প্রতিরক্ষার মুদ্রা ধারাবাহিকভাবে প্রদর্শন করতে হয়। অন্যদিকে, ১৬ থেকে ১৭ বছর বয়স শ্রেণির পুরুষ কুমিতে বিভাগে স্বর্ণপদক জেতে আব্দুর রউফ। কুমিতে হলো প্রতিপক্ষের সঙ্গে নিয়ম মেনে সরাসরি লড়াইভিত্তিক কারাতে প্রতিযোগিতা। দুই ভিন্ন বয়স শ্রেণি ও ইভেন্টে এই সাফল্য জামালপুরের খেলোয়াড়দের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। তরুণ বয়সেই জাতীয় পর্যায়ে এমন অর্জন তাঁদের ভবিষ্যৎ ক্রীড়াজীবনের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

আকিবুলের ঝুলিতে দুটি তাম্রপদক
স্বর্ণপদকের পাশাপাশি জামালপুরের হয়ে দুটি তাম্রপদক অর্জন করেছে আকিবুল ইসলাম বেলাল। ১৪ থেকে ১৫ বছর বয়স শ্রেণিতে কাতা ও কুমিতে—দুটি পৃথক ইভেন্টে অংশ নিয়ে এই সাফল্য পায় সে। একই প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন ইভেন্টে পদক অর্জনের মাধ্যমে জামালপুরের খেলোয়াড়রা নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন। জেলার ক্রীড়া সংগঠকেরা মনে করছেন, এই ফলাফল ভবিষ্যতে আরও বেশি তরুণকে কারাতে প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে উৎসাহিত করবে।

‘পুরো জামালপুর জেলার জন্য গর্বের বিষয়’
মার্শাল আর্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আতিক মোরশেদ বলেন, জাতীয় পর্যায়ের কারাতে প্রতিযোগিতায় জামালপুরের খেলোয়াড়দের এটিই প্রথম স্বর্ণপদক অর্জন। তাঁর মতে, এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং পুরো জেলার জন্য গর্বের বিষয়।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, পদক জয়ের মধ্য দিয়ে জাতীয় পর্যায়ে জামালপুরের কারাতের সাফল্যের যে যাত্রা শুরু হয়েছে, ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। এজন্য খেলোয়াড়দের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, প্রস্তুতি এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।

খেলোয়াড়দের পাশে থাকার আশ্বাস ক্রীড়া সংস্থার
জামালপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদুয়ানও খেলোয়াড়দের এই অর্জনে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, জাতীয় পর্যায়ে প্রথমবারের মতো স্বর্ণপদক পাওয়া জামালপুরের জন্য অত্যন্ত আনন্দের খবর। জেলা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষ থেকে কারাতে খেলোয়াড়দের নিয়মিত সহযোগিতা করা হয় জানিয়ে তিনি ভবিষ্যতেও তাঁদের উন্নয়ন ও সাফল্যের জন্য আরও পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার আশ্বাস দেন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, তরুণ খেলোয়াড়দের পাশে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, আর্থিক সহযোগিতা ও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে জামালপুর থেকে আরও প্রতিভাবান কারাতেকা উঠে আসবে। এবারের সাফল্য সেই সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করেছে।

কালের আলো/এসএ/টিসি

 

নেত্রকোনায় হারিয়ে যাওয়ার পথে ঐতিহ্যের শীতল পাটি

নেত্রকোনা সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০৩ অপরাহ্ণ
নেত্রকোনায় হারিয়ে যাওয়ার পথে ঐতিহ্যের শীতল পাটি

প্রচণ্ড গরমে স্বস্তির পরশ বুলিয়ে দেওয়া শীতল পাটি একসময় ছিল বাংলার ঘরোয়া জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অতিথি আপ্যায়ন থেকে শুরু করে অবসর কাটানো—সব ক্ষেত্রেই ছিল এর কদর। প্রাকৃতিক উপকরণে তৈরি এই পাটি শুধু দৈনন্দিন ব্যবহারের সামগ্রী নয়, বরং বাংলার লোকশিল্প ও ঐতিহ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে সময়ের পরিবর্তন, সস্তা প্লাস্টিকের পণ্যের বিস্তার, কাঁচামালের সংকট এবং পর্যাপ্ত পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে নেত্রকোনার ঐতিহ্যবাহী শীতল পাটি শিল্প এখন অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে।

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার তেতুলিয়া ইউনিয়নের কেন্দুয়া, জৈনপুর, ভাটাপাড়া ও হাতনী গ্রাম এবং পার্শ্ববর্তী সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামে একসময় শীতল পাটি তৈরির ব্যাপক প্রচলন ছিল। স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব এলাকার প্রায় ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ পরিবার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই হস্তশিল্পের সঙ্গে যুক্ত। বংশপরম্পরায় চলে আসা এই পেশার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন স্থানীয় কারিগররা। পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের কাছ থেকে কাজ শিখে নতুন প্রজন্মের অনেকেই একসময় এই শিল্পে যুক্ত হতেন। কিন্তু বর্তমানে কাজের পরিমাণ ও আয় কমে যাওয়ায় অনেক পরিবারই পেশাটি ছেড়ে অন্য কাজের দিকে ঝুঁকছে।

শীতল পাটি তৈরির প্রধান কাঁচামাল স্থানীয়ভাবে মুক্তা বা মুর্তা গাছ নামে পরিচিত একধরনের উদ্ভিদ। কোথাও কোথাও এটি পাটিবেত নামেও পরিচিত। সাধারণত নদী-খাল ও জলাধারের আশপাশের আর্দ্র জমিতে এসব গাছ জন্মে। কারিগররা মুর্তা গাছ সংগ্রহ করে প্রথমে সেদ্ধ করেন। এরপর দক্ষ হাতে গাছের অংশ ছিলে সরু ও মিহি বেত তৈরি করা হয়। সেই বেত শুকিয়ে ও প্রস্তুত করে ধৈর্য এবং নিপুণতার সঙ্গে বুনে তৈরি করা হয় শীতল পাটি। প্রতিটি ধাপে প্রয়োজন হয় অভিজ্ঞতা, সময় ও শ্রম। কারিগরদের হাতের কাজের ওপর নির্ভর করে পাটির নকশা, সৌন্দর্য ও মান।

প্রাকৃতিক উপকরণে তৈরি হওয়ায় শীতল পাটির রয়েছে আলাদা আবেদন। কিন্তু কাঁচামাল সংগ্রহের সুযোগ কমে যাওয়ায় আগের মতো উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কারিগরদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি শীতল পাটি তৈরির পর তা বিক্রি করতে তিন থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্ত দাম পাওয়া যেতে পারে। তবে দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতার সংখ্যা কম। ফলে নিশ্চিত ক্রেতা বা অর্ডার না পেলে অনেক কারিগরই শীতল পাটি তৈরি করতে চান না। অন্যদিকে, তুলনামূলক কম দামের জামদানি পাটি তৈরি করে থাকেন তাঁরা। এসব পাটির দাম সাধারণত এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকার মধ্যে। চাহিদা কিছুটা থাকায় কারিগররা নিয়মিত এই পাটি তৈরির চেষ্টা করেন।

কেন্দুয়া গ্রামের প্রশান্ত কর জানান, তাঁদের পরিবারে বহু প্রজন্ম ধরে শীতল পাটি বোনার কাজ চলে আসছে। একসময় গ্রামের প্রায় প্রতিটি পরিবারই এই পেশায় যুক্ত ছিল। তখন এই কাজ করে ভালো আয় করা সম্ভব হতো। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি বদলে গেছে।

তিনি বলেন, আগে শীতল পাটি তৈরি করে তাঁরা লাভবান হতেন। এখন অনেকটা ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্যই কাজটি করছেন। বাপ-দাদারা এই পেশায় ছিলেন বলে তাঁরাও এখনো এটি আঁকড়ে আছেন। শীতল পাটি তৈরির সঙ্গে যুক্ত নারীরা জানিয়েছেন, একসময় নারী-পুরুষ সবাই মিলে এই কাজ করতেন। বর্তমানে পাটি বোনার কাজে নারীদের অংশগ্রহণ বেশি। তবে কাঁচামালের অভাব তাঁদের কাজের বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেন্দুয়া গ্রামের শুনকা বনিক, প্রমিলা করসহ স্থানীয় কয়েকজন নারী কারিগর জানান, পর্যাপ্ত জমি ও জলাশয়ের অভাবে মুর্তা গাছের চাষ কমে যাচ্ছে। ফলে প্রয়োজনীয় বেত সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। যাঁদের নিজেদের বাড়িতে মুর্তা গাছ রয়েছে, তাঁরা তুলনামূলক বেশি লাভ করতে পারছেন। অন্যদের কাঁচামাল সংগ্রহ করতে বাড়তি খরচ বহন করতে হয়। তাঁদের মতে, বাজারে সস্তা প্লাস্টিকের পাটি ও চীনে তৈরি ম্যাটের সহজলভ্যতা প্রাকৃতিক শীতল পাটির চাহিদা কমিয়ে দিয়েছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

মানুষের মতো কথা বলে ময়না, কীভাবে সম্ভব এই বিস্ময়?

ফিচার ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৭ অপরাহ্ণ
মানুষের মতো কথা বলে ময়না, কীভাবে সম্ভব এই বিস্ময়?

‘কেমন আছো?’, ‘কে রে?’ কিংবা ‘ভাত খাইছ?’—পরিচিত মানুষের মুখে শোনা এমন কথা হুবহু নকল করতে পারে ময়না। কখনো তার কণ্ঠস্বর এতটাই মানুষের মতো শোনায় যে মনে হয়, পাখিটি বুঝি সত্যিই মানুষের ভাষা বুঝতে পারে। কিন্তু কীভাবে সম্ভব এই বিস্ময়? মানুষের মতো স্বর তৈরি করতে ময়নার শরীরে রয়েছে বিশেষ শব্দযন্ত্র, আর মস্তিষ্কে রয়েছে শোনা শব্দ শেখা ও অনুকরণ করার ক্ষমতা।

ময়নার মানুষের মতো কথা বলার রহস্য লুকিয়ে আছে মূলত তিনটি বিষয়ে—বিশেষ শব্দ তৈরির অঙ্গ, শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যবস্থা এবং শব্দ শেখার ক্ষমতা। এই তিনের সমন্বয়েই মানুষের কণ্ঠস্বরের কাছাকাছি শব্দ তৈরি করতে পারে পাখিটি।

মানুষের স্বরযন্ত্র নয়, ময়নার আছে সিরিংক্স
মানুষের কথা বলার সময় ফুসফুস থেকে বের হওয়া বাতাস স্বরযন্ত্রের স্বরতন্ত্রীকে কাঁপিয়ে শব্দ তৈরি করে। এরপর মুখ, জিহ্বা ও ঠোঁটের নড়াচড়ায় সেই শব্দ বিভিন্ন বর্ণ ও কথায় রূপ নেয়।

পাখির ক্ষেত্রেও শব্দ তৈরির জন্য বিশেষ অঙ্গ রয়েছে। এর নাম সিরিংক্স (Syrinx)। এটি শ্বাসনালির নিচের দিকে, যেখানে শ্বাসনালি দুই ভাগ হয়ে ফুসফুসের দিকে গেছে, সেখানে অবস্থিত। সিরিংক্সের সূক্ষ্ম পর্দা ও পেশির সাহায্যে পাখি বিভিন্ন ধরনের শব্দ তৈরি করতে পারে।

কিছু পাখির সিরিংক্সের দুই পাশ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে। ফলে তারা জটিল সুর ও একাধিক শব্দের সমন্বয় তৈরি করতে সক্ষম হয়। মানুষের মতো শব্দ হুবহু নকল করার ক্ষেত্রে এই বিশেষ শব্দযন্ত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কীভাবে মানুষের কণ্ঠস্বর নকল করে?
শুধু সিরিংক্স থাকলেই মানুষের কথা নকল করা সম্ভব নয়। শব্দকে মানুষের কথার কাছাকাছি নিয়ে আসতে মুখগহ্বর, জিহ্বা ও ঠোঁটের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। এসবের পরিবর্তনে শব্দের বৈশিষ্ট্য বদলে যায়। ফলে ময়নার তৈরি শব্দ মানুষের উচ্চারিত শব্দের মতো শোনাতে পারে।

পাখির শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যবস্থাও এতে সহায়তা করে। ফুসফুসের সঙ্গে যুক্ত বায়ুথলি শ্বাসপ্রশ্বাসের প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে এবং শব্দ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় বায়ুপ্রবাহ বজায় রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে ময়না একাধিক শব্দ বা বাক্যের মতো শোনায় এমন ধ্বনি তৈরি করতে পারে।

তবে মানুষের কণ্ঠস্বর নকল করার ক্ষমতা সব পাখির সমান নয়। ময়না বিশেষভাবে পরিচিত তার স্পষ্ট ও বৈচিত্র্যময় শব্দ অনুকরণের জন্য।

শুনে শুনেই শেখে নতুন শব্দ
ময়নার কথা বলার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো তার ভোকাল লার্নিং বা শব্দ শুনে শেখার ক্ষমতা। সব প্রাণী অন্যের শব্দ শুনে তা অনুশীলনের মাধ্যমে অনুকরণ করতে পারে না। ময়নার মতো কিছু পাখি আশপাশের শব্দ শুনে সেগুলো মনে রাখতে এবং নিজের কণ্ঠে পুনরায় তৈরি করতে পারে।

একটি ময়না বারবার মানুষের কথা শুনলে সেই শব্দের ধরন আয়ত্ত করার চেষ্টা করতে পারে। অনুশীলনের মাধ্যমে তার উচ্চারণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। মানুষের সঙ্গে দীর্ঘ সময় বসবাস করলে বাড়ির সদস্যদের মুখে শোনা শব্দ বা বাক্যও তার অনুকরণের অংশ হয়ে উঠতে পারে।

এ ক্ষেত্রে সামাজিক পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ। বন্য পরিবেশে ময়না অন্য পাখির সঙ্গে যোগাযোগ করে। মানুষের সংস্পর্শে থাকলে তার শোনার অভিজ্ঞতায় মানুষের কণ্ঠস্বরও যুক্ত হয়। তবে প্রতিটি ময়না সমান দক্ষতায় কথা নকল করতে পারে না; ব্যক্তিভেদে এই ক্ষমতার পার্থক্য রয়েছে।

মানুষের কথা বললেও কি অর্থ বোঝে ময়না?
ময়না যখন মানুষের মতো করে কোনো বাক্য বলে, তখন মনে হতে পারে সে বাক্যটির অর্থও বুঝতে পারছে। কিন্তু শব্দ নকল করা আর মানুষের মতো ভাষা বোঝা এক বিষয় নয়।

কোনো নির্দিষ্ট শব্দের সঙ্গে বিশেষ পরিস্থিতির সম্পর্ক ময়না শিখতে পারে। যেমন, কোনো পরিস্থিতিতে বারবার একই শব্দ শুনলে পরে সে সেই শব্দটি পুনরাবৃত্তি করতে পারে। তবে মানুষের ভাষার ব্যাকরণ, বিমূর্ত ধারণা ও বাক্যের পূর্ণ অর্থ বোঝার ক্ষমতা রয়েছে—এমন সিদ্ধান্ত শুধু কথা নকল করার ভিত্তিতে দেওয়া যায় না।

অর্থাৎ ময়নার অসাধারণ দক্ষতা হলো মানুষের কণ্ঠস্বরের অনুকরণ। তার এই ক্ষমতা পাখির শব্দ শেখার প্রক্রিয়া ও মস্তিষ্কের কার্যক্রম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দেয়।

ময়নার বিস্ময়কর ক্ষমতা যেন বন্দিত্বের কারণ না হয়
মানুষের কথা নকল করতে পারে বলে ময়না দীর্ঘদিন ধরেই মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে। কিন্তু এই আকর্ষণ কখনো বন্য পাখিকে খাঁচায় বন্দী করার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অথচ ময়না সামাজিক পাখি; বন্য পরিবেশে চলাফেরা, খাবার সংগ্রহ, অন্য পাখির সঙ্গে যোগাযোগ এবং নিরাপদ আশ্রয় তার স্বাভাবিক জীবনের অংশ।

বন্য পাখি ধরে পোষ মানানোর পরিবর্তে তাদের প্রাকৃতিক পরিবেশে নিরাপদে থাকতে দেওয়াই দায়িত্বশীল আচরণ। বাংলাদেশে বন্য প্রাণী সংরক্ষণসংক্রান্ত আইন ও বিধিনিষেধ মেনে চলাও জরুরি।

একটি ছোট্ট পাখির মানুষের মতো শব্দ তৈরির পেছনে রয়েছে জটিল শারীরিক গঠন ও শেখার অসাধারণ ক্ষমতা। সিরিংক্স শব্দ তৈরি করে, মুখগহ্বর সেই শব্দকে বদলে দেয়, আর মস্তিষ্ক শোনা শব্দ অনুকরণ করতে সাহায্য করে। এই সমন্বয়ই ময়নাকে করে তুলেছে পাখিজগতের অন্যতম বিস্ময়কর শব্দ-অনুকরণকারী। তথ্যসূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট

কালের আলো/এসএ/জেএন

মুখ ঢেকে তর্ক, ভিএআরে লাল কার্ড দেখলেন নেইমার

ক্রীড়া ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৫ অপরাহ্ণ
মুখ ঢেকে তর্ক, ভিএআরে লাল কার্ড দেখলেন নেইমার

ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমারের মাঠের বাইরের বিতর্ক এবার নতুন মাত্রা পেল। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে মুখ ঢেকে কথা বলার ঘটনায় সরাসরি লাল কার্ড দেখেছেন সান্তোসের এই তারকা। বাহিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে এমন ঘটনার পর তাঁকে পরবর্তী দুই ম্যাচে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন।

মুখ ঢেকে তর্ক, নজরে আসে রেফারির
বাহিয়ার কাছে ১-০ গোলে হারের ম্যাচে প্রথমার্ধের বিরতির পর মাঠে ফেরার আগে প্রতিপক্ষের মিডফিল্ডার রদ্রিগো নেস্টরকে উদ্দেশ্য করে মন্তব্য করেন নেইমার। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। এ সময় মুখ ঢেকে কথা বলতে দেখা যায় সান্তোসের ১০ নম্বর জার্সিধারী এই ফুটবলারকে।

বাহিয়ার মিডফিল্ডার নেস্টর বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচ রেফারির নজরে আনেন। পরে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআরের সহায়তা নিয়ে নেইমারকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। ফলে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মাঠ ছাড়তে হয় ব্রাজিলিয়ান তারকাকে।

মুখ ঢেকে অপমানজনক কথা বলার বিরুদ্ধে নতুন নিয়ম
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ থেকে কার্যকর হওয়া নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিপক্ষের সঙ্গে তর্কের সময় কোনো খেলোয়াড় হাত বা অন্য কিছু দিয়ে মুখ ঢেকে কথা বললে তাঁকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হতে পারে। মাঠে অপমানজনক মন্তব্য আড়াল করে বলা ঠেকাতেই এই নিয়ম চালু করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।

এর পেছনে রয়েছে ফুটবলে বর্ণবাদী আচরণ নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্ক। বেনফিকার বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এক ম্যাচে আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় জানলুকা প্রেস্তিয়ানির বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ তুলেছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। এমন ঘটনার পর মাঠে মুখ ঢেকে অপমানজনক কথা বলার প্রবণতা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

আগেই হলুদ কার্ড দেখেছিলেন নেইমার
ম্যাচের প্রথমার্ধেই রদ্রিগো নেস্টরের সঙ্গে একটি ট্যাকলকে কেন্দ্র করে হলুদ কার্ড দেখেছিলেন নেইমার। সেটি ছিল চলতি মৌসুমে তাঁর তৃতীয় হলুদ কার্ড। পরে সরাসরি লাল কার্ড দেখায় নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি আরও জটিল হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তৃতীয় হলুদ কার্ডের কারণে একটি ম্যাচ এবং সরাসরি লাল কার্ডের কারণে আরও একটি ম্যাচ—মোট দুই ম্যাচে নিষিদ্ধ থাকতে হবে তাঁকে।

মাঠ ছাড়ার সময়ও উত্তেজনা
লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ার সময়ও রদ্রিগো নেস্টরের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে জড়িয়ে পড়েন নেইমার। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই সময়ও বাহিয়ার মিডফিল্ডারের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়ানোর চেষ্টা করেন তিনি। মাঠ ছাড়ার সময় ক্যামেরার সামনে এ ঘটনা নিয়ে কথা বলেন সান্তোস তারকা। তাঁর দাবি, নেস্টর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এমন আচরণ করেছেন।

তবে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে নেইমারের এই অভিযোগের বিষয়ে প্রতিবেদনে নেস্টরের কোনো বক্তব্য উল্লেখ করা হয়নি। বাহিয়ার কাছে হার এবং লাল কার্ড—দুই কারণেই ম্যাচটি সান্তোসের জন্য হতাশাজনক হয়ে উঠেছে। আর দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে নেইমারকে ছাড়াই মাঠে নামতে হবে দলটিকে।

কালের আলো/এসএ/এমএএইচ